দার্জিলিং এর জন্য যখন শ্যামলী বাসের টিকেট কাটি তখনও জানি না টাকা কোথায় পাব? ২৫ মার্চ রাতের বাসের ২টা টিকেট কাটলাম শিলিগুড়ি পর্যন্ত। ভারতীয় এ্যাম্বাসীতে ভিসার লাইন দেখলে আবার ইচ্ছা চলেও যায়। তবুও সাহস করে এক ভোরে আমার বৌ-কে ভিসার লাইনে দাড় করালাম। কারন ফিমেলদের লাইন ছোট হয় আর স্ত্রী/স্বামী তার স্পাউসের পাসপোর্ট জমা দিতে পারে।
১২ মার্চ যখন ভিসা পেলাম তখনও ছুটি পাচ্ছি না। আর অফিসে মনে হচ্ছে ছুটি নেয়া মহা সমস্যা হবে। তবুও যাওয়ার ২ দিন আগে ছুটি কনফার্ম হল। আমার বৌ লীমাও ৩ দিনের ছুটি মেনেজ করে নিল। ২৫ মার্চ রাত ৮ টায় যখন মতিঝিল থেকে বাসে চাপলাম তখন ক্লান্তিতে বিদ্ধস্ত।ছুটিতে যাব বলে লক্ষি এক্সিকিউটিভের মত সব কাজ শেষ করে এসেছি। বাস ছাড়ার সময় লীমাকে বললাম, কেমন লাগছে দেশের বাইরে যেতে। ও উত্তর করল, কক্সবাজার যাওয়ার মত!!! ২ ঘন্টা লাগল শুধু গাবতলী যেতেই!
শ্যামলী বাসের আয়োজন ভাল হলেও আমাদের ভাগ্য ভাল ছিল না। তাই বাসের এসি নষ্ট হয়ে গেল সাভার পার হতেই। এসি বাসে এসি ছাড়া থাকার যে কত কস্ট! রংপুর পৌছে শ্যামলী বাস বদল করায় কিছুটা রেহাই। তবুও দূর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছিল না। কারন তিস্তা ব্রিজের সংস্কার কাজ চলায় রাস্তা বন্ধ।
আমরা যখন বুড়িমারী বর্ডারে পৌছলাম তখন বেলা প্রায় ১২টা। শ্যামলী পরিবহন বুড়িমারী কাউন্টারে রেস্ট নেয়ার অপূর্ব ব্যবস্থা করে রেখেছে। আর বর্ডারের যাবতীয় কাজ তারাই করে দেয়। ততক্ষনে আমরা ২ জন থেকে ৯ জনের একটা গ্রুপ হয়ে গেলাম। বাসেই আমরা পরিচিত হলাম চ্যানেল ওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার সুজন মেহেদী, এলিকোর জিয়া ভাই আর গ্রামীন ফোনের হিরন ভাইর সাথে। সাথে সব ভাবী আর জিয়া ভাইর পিচ্চি ফাইজা। বিডিআরের কড়া চেক পোস্ট আর বিএসএফের অমায়িক চেকিং পার হয়ে ওপারের কানেকটিং বাসে উঠলাম বেলা ২টায়। লীমাকে সহ এই আমার প্রথম দেশের বাইরে যাওয়া। শিলিগুড়িতে পৌছলাম ৪টার পর। ফেরার টিকেট কনফার্ম করে আমরা ৯ জন উঠলাম দার্জিলিং এর জন্য একটা টাটা সুমো জীপে।
আজ এতটুকুই। সামনের পর্বে লিখার চেষ্টা করব দার্জিলিং এর বাকি কথা। আমার এই ট্যুর কোন ভাবেই সুন্দর করে করা যেত না যদি না বাকিদের সাথে আমার পরিচয় না হত। তাদের কথাই সামনের পর্বে লিখব ইনশাল্লাহ।
* ছবিটি তিস্তা ব্রীজ থেকে তোলা তিস্তা নদীর

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

