আমার প্রিয় পোস্ট

সকাতরে ঐ কাদিছে সকলে শোন শোন পিতা

মেঘের দেশে পাহাড়ের দেশে (দার্জিলিং) - ৩

০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২১

শেয়ারঃ
0 0 0

পর্ব - ২
Click This Link

সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরালাম। ইয়া আল্লাহ। এ কি দেখলাম। এ কি বিষ্ময়। এ কোন দুনিয়া!

২৭ তারিখ সকালের রোদ্দুর আমাদের দূরের কাঞ্চনজঙ্গা দেখাল। হয়ত কাঞ্চনজঙ্গা ছিল না। তবে খুব উচু পাহাড়ের চূড়ায় বরফ এ সবই নজরে আসছিল। দার্জিলিং গিয়ে যে পাহাড়ই দেখি কাঞ্চনজঙ্গা মনে হয়! সকালের নাস্তা করে আমরা গেলাম কাছাকাছি কয়েকটি স্পট দেখতে।

গঙ্গামায়া পার্ক
প্রথমেই গঙ্গামায়া পার্ক। ঘুম পেরিয়ে নিচের দিকে গঙ্গামায়া পার্কে যেতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। সবচেয়ে দূরে এই স্পট বলে পাহাড়ী আকাবাকা পথ ধরে আমাদের টাটা সুমোর ড্রাইভার উমেশ আমাদের নিয়ে গেল। পাথুরে এই পার্ক ট্যুরিষ্ট আকর্ষনের জন্য নানাভাবে সাজান হয়েছে। পাথরের উপর দিয়ে ঝর্না বয়ে চলা এক দেখার মত ব্যপার। পাহাড়ের অনেক উপর থেকে বয়ে নামা ঝর্নার অতি ঠান্ডা পানির ধারা পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পাথরের উপর দিয়েও হাটাহাটি করা যায়। কোথাও কোথাও বাশ বা অন্য কিছু দিয়ে পানির পথ করে দেয়া। এ পার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ট্যুরিষ্টদের জন্য নেপালি ছেলেমেয়েরা নাচ-গান করতে থাকে। আরেকটি হচ্ছে বিশাল এক নেচারাল পাথর। এছাড়া নেপালী পোষাক পড়েও আপনি ছবি তুলতে পারেন।

রক গার্ডেন
গঙ্গামায়া পার্ক থেকে ফেরার পথে থামলাম রক গার্ডেন। আমার মনে হয় গঙ্গামায়া পার্কের আরেকটি এডিশন এই রক গার্ডেন। একই রকম পাথরে সাজান আর ঝর্নার পানির ধারা বয়ে চলা এক অপূর্ব এলাকা এই রক গার্ডেন। হিরন ভাই প্রথমে অনেক উপরে উঠল। তার সাহসে আমরাও উপরে উঠলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝর্নার পানি পড়ার সময় পাহাড়ের অনেক জায়গায় ছোট ছোট ঝর্নার মত হয়েছে। কত রকমভাবে যে ঝর্না তৈরী হয়ে আছে এখানে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সুন্দর বাধান রাস্তা আর ফুলের বাগান আপনার ক্লান্তি দূর করে দিবে।

জু ও মাউন্টেইন মিউজিয়াম
দার্জিলিং জু আমাদের ছোট্ট ফাইজার জন্য ছিল অনেক বিষ্ময়। এখানে প্রানীগুলো সব ছেড়ে দেয়া। দার্জিলিং একটি পাহাড়ী শহড়। পাহাড়কে ঠিক রেখেই যেভাবে সম্ভব হয়েছে শহড় বানিয়েছে। পাহাড়ের উপরেই জু। পাহাড়ের ঢালে বাউন্ডারী ওয়ালে ঘেরা খোলা জায়গায় হরিন, চিতা, পান্ডা, মোরগ, বাঘ, নেকড়ে, শিয়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের রয়েল বেঙ্গল টাইগার 'ইন্ডিয়ান টাইগার' নামে বন্দী আছে।

হিমালয় জয়ের বিভিন্ন ছবি আর ইতিহাস নিয়ে আছে একটি মিউজিয়াম। সুজন মেহেদী ভাইর (এককালে সা. ইনে নাম লিখিয়েছিল) খুব আগ্রহ এই বিষয়ে। আর তার প্রফেশনের কারনেও যা-ই দেখে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে। তিনি অনেক সময় নিয়ে সবগুলো ঘর দেখল।

তেনজিং রক আর টী গার্ডেন
তেনজিং হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন। ব্যাপারটা এমন না যে তিনি একদিন দড়ি নিয়ে হিমালয়ে হাটা দিয়েছিলেন। তার আগে অনেকদিন প্রাকটিস করেছেন। প্রায় ৫০ ফিট উচু এক পাথর স্তম্ভে চলেছে তার প্রাকটিস। সেই পাথরটিই হচ্ছে 'তেনজিং রক'।

তেনজিং রক পেরিয়ে আমরা গেলাম দার্জিলিং এর প্রথম চা বাগানে। এই বাগানেই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চা বাগান করা হয়েছিল সেই বৃটিশ আমলে। বাগানের পাশেই ট্যাক্স ফ্রী কিছু দোকান আছে। গাড়ী যে দোকানের সামনে পার্ক করবে আপনাকে সেই দোকান থেকেই চাপাতা কিনতে হবে।

এই দিনে আর কিছু না ঘুরে আমরা 'মহাকাল মার্কেটে' চলে আসলাম। তবে ফেরার পথে 'ম্যায় হু না' সিনেমার স্কুলের শ্যুটিং স্পট দেখলাম। মহাকাল মার্কেটেই আপনি পেয়ে যাবেন শালের এক বিশাল মার্কেট। কলাকেন্দ্র নামে এক দোকানে আপনি ফিক্সড রেটে শাল কিনতে পারবেন। ইনিই বাংলাদেশে শাল রপ্তানী করেন।

রাতে দার্জিলিং এর পথে ঘুরে ঘুরে ঠিক করলাম পরদিনের অনিন্দ সুন্দর এক স্থানে যাওয়ার। যার জন্য আমরা শুধু বাংলাদেশ না বিশ্বের সবচেয়ে দূরদেশের ট্যুরিষ্টরাও আসে।

(দার্জিলিং এর বাকি ইতিহাস আগামীকাল ইনশাল্লাহ)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): দার্জিলিং ;
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:২৮
নীল-দর্পণ বলেছেন: খুব ভাল লাগল। বাকীটুকুর অপেক্ষায় রইলাম
১৮ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:০৪

লেখক বলেছেন: তাই নাকি?

৩. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮
মিলটন বলেছেন: বাহ খুব সুন্দর মজা করেছেন। পরের পর্ব লিখুন প্লিজ।

ছবিতে যিনি আছেন ওটা কি আপনি? মানে আপনার ছবি?
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৪০

লেখক বলেছেন: জ্বীঈঈঈঈ

৪. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: আপনার জরিমানা হয়া গেসে ...
৫. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:০৭
জুল ভার্ন বলেছেন: বাহ! চমতকার বর্ণনা! পড়ে মনে হচ্ছে আমিও লেখকের সাথে দার্জিলিং বেড়াচ্ছি!!

পাথর আর ঝর্ণার পাশে দাঁড়ানো ভদ্রলোকের চেহারাটা যেমন সুন্দর, তেমন স্মার্ট!!!
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:০৯

লেখক বলেছেন: বাড়িয়ে বলার জন্য ধন্যবাদ।

৬. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: পড়তে ভালো লাগছে। চালিয়ে যান।
৭. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭
চাচামিঞা বলেছেন: চমৎকার লিখা.....যেতে মনে চাইছে.....।
৮. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩
হুমায়ুন বলেছেন: মুহিব ভাই কেমন আছেন।

দাজিলিং এর যাওয়ার, বিবরন, খরচ, সুবিধা-অসুবিধা, সময়, মজাদার খাবার, দর্শনীয় স্থান, প্রয়োজনীয় তথ্য ইত্যাদি লেখার সাথে দিলে খুবই উপকৃত হওয়া যাবে।
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১০

লেখক বলেছেন: পড়তে থাকুন। হয়ত সব ইনফো পেয়ে যাবেন।

৯. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩৬
পারভেজ বলেছেন: জোস।
হুমায়ুন বলেছেন: মুহিব ভাই কেমন আছেন।

দাজিলিং এর যাওয়ার, বিবরন, খরচ, সুবিধা-অসুবিধা, সময়, মজাদার খাবার, দর্শনীয় স্থান, প্রয়োজনীয় তথ্য ইত্যাদি লেখার সাথে দিলে খুবই উপকৃত হওয়া যাবে।
১১ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: পড়তে থাকুন। হয়ত সব ইনফো পেয়ে যাবেন।

১০. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮
সহেলী বলেছেন: বাকী অংশের অপেক্ষায় ।
১১. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৬
তানভির আহমেদ বলেছেন: আমি ভাই মোটামুটি সব দেখেছি। ফাটাফাটি এক্সপেরিয়েন্স।
১২. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:১১
মুহিব বলেছেন: সবাইকে ধন্যবাদ।
১৩. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫১
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: জীবন যখন শুকায়ে যায় করুনাধারায় এসো।
সকল মাধবী লুকায়ে যায়, গীত সুধারসে এসো।।
কর্ম যখন প্রবল-আকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারিধার
হৃদয়প্রান্তে, হে জীবননাথ, শান্ত চরনে এসো।।
আপনারে যবে করিয়া কৃপন কোনে পড়ে থাকে দীনহীন মন
দুয়ার খুলিয়া, হে উদার নাথ, রাজসমারোহে এসো।
বাসনা যখন বিপুল ধুলায় অন্ধ করিয়া অবীধে ভুলায়,
ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র, রুদ্র আলোকে এসো।।
০৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: এই প্রথম একটা ভাল কাজ করলা।

১৪. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
তারার হাসি বলেছেন:
আপনার পোস্ট পড়তে ভাল লাগছে, কিছু ছবি আপনার পোস্টগুলিতে শেয়ার করছি।

রক গার্ডেন


কাঞ্ছনজঙ্ঘা ...
০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২৭

লেখক বলেছেন: আমি এত সুন্দর করে ছবি তুলতে পারি নাই। ধন্যবাদ।

১৫. ০৬ ই মে, ২০০৯ রাত ৩:৩৪
প্রীটি সোনিয়া বলেছেন: অনেক ভাল লাগছে....তোমার অভিজ্ঞতা।
১৬. ০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৪৯
সুবিদ্ বলেছেন: আমার আবারো যেতে ইচ্ছা করছে

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৮৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে
বিরাজ সত্য সুন্দর।

জন্ম রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনায় ।

স্কুল শুরু করতে না করতেই আব্বার ট্রান্সফারের কারনে সিলেটের ছাতকে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ