রাহী (ছদ্মনাম): নাদুস নুদুস কিউট একটা বাচ্চা। প্লেতে পড়ার বয়স তার। বইখাতা নিয়ে মজা করে করে মুখে মুখে রাইমস পড়বে, বন্ধুদের সাথে খেলা করবে। এই ত। অথচ মা দিয়েছে তাকে কেজী তে। আর সব বাচ্চারা যখন বোর্ডের লেখা গটগট করে লিখে চিৎকার শুরু করে ম্যাডাম লেখা হয়েছে রাহী তখন পেন্সিল নিয়ে চুপ-চাপ বসে থাকে। এদিক সেদিক একটু দুষ্টুমী করে। ম্যাডামরা কাছে এলে তাদের হাত দিয়ে ইশারা করে তার খা্তায় লিখে দিতে। আমাকে প্রথম দিন এরকম করলে ভাবলাম কথা হয়ত কম বলে। দাড়িয়ে থেকে বোর্ডের লেখা তোলাতাম। কিছুদিন পরে দেখি ফাঁক পেলে দুষ্টুমী ঠিকই করে কিন্তু পড়াশুনায় তার অনীহা। ধরতে পারছে না বলেই এই অবস্থা। ওর মাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন কেজীতে দিয়েছে, কিছুই ত পারে না। মা একটি হাসি দিয়ে বলে যা পারে লিখুক, সামনের বছর আবার কেজীতেই রাখবো!
রুমি (ছদ্মনাম): বাচ্চাটাকে এতদিন রেগুলার কোচিংয়ে শুধু অ, আ, ক, খ লিখতে দেখেছি। আজকে জানলাম প্লেতে পড়ে। স্বর বর্ণ বাচ্চারা শিখে মা র কাছে, অ, আ লিখবে মা র কাছে, অথচ এখনকার বাচ্চারা নাকি বাসায় লিখতে চায় না তাই মা'রা কোচিংয়ে দেন অ, আ লেখার জন্যে।
রেগুলার কোচিং এর সাথে বিভিন্ন স্কুলের ওয়ানের ভর্তি কোচিং ও শুরু হয়েছে। আজ দেখলাম রুমি ওয়ানের ভর্তির জন্যে কোচিং করা বাচ্চাদের সাথে বসেছে। এইটুকু বাচ্চা কি বুঝে আর কি লিখবে। মা-বাবা কি বুঝে দেয় বুঝি না!
নামকরা একটি স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে পড়া একটি স্টুডেন্টের স্বপ্ন থাকে। তবে সে স্বপ্নটা যদি স্টুডেন্ট নিজে দেখে এবং অভিভাবক তা পূরনে সাহায্য করে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। সমস্যাটা তখনই হয় যখন বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে নামকরা স্কুল-কলেজ আর তা পূরন করতে হয় বাচ্চাদের। অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ আপনাদের বাচ্চাদের ভাল আপনারা সব সময়-ই চান, জানি কিন্তু কিন্তু দয়া করে নিজেদের স্ট্যাটাসের জন্যে তাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দিয়ে অযথা কষ্ট দেবেন না.....প্লিজ !!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



