আমার প্রিয় পোস্ট

মানুষ এবং মানুষ সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়ে আমার দারুন আগ্রহ ……

গ্লোবাল ওয়ার্মিং অথবা বৈশ্বিক উষ্ণায়নঃ বাংলাদেশ কি করবে...?

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৯

শেয়ারঃ
0 0 0



মানুষ প্রকৃতির অংশ। প্রকৃতির সপ্রাণ সজীব অংশ মানুষ। প্রকৃতির যে সচেতন অংশ চিন্তা করার ক্ষমতা আছে বলে প্রকৃতিকে রক্ষা, তার লালন পালনের ভার হাতে তুলে নেয় — প্রকৃতির সেই সচেতন অংশ হলো মানুষ। সে হিসাবে মানুষ নিজেই তো প্রকৃতি। পুনরুৎপাদনের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ নিজেই বিনির্মাণ করে তার প্রকৃতির।

মনে মনে একটা দৃশ্য কল্পনা করার চেষ্টা করছিলাম। দুনিয়ার বুকে সব কিছু রয়ে গেল, যেমন আছে এই প্রকৃতি, তার সৌন্দর্য্য তার যাবতীয় সম্পদ। শুধু সেখানে নেই কোন মানুষের উপস্থিতি। সবুজ ঘাসের বুকে আর কোন অবোধ শিশু প্রজাপতির পিছু ছুটবে না!! অস্তমান সুর্যের গাঢ় রক্তিমে কোন মানব মানবী হাতে হাত রেখে হাটবে না!!! সন্দেহ নাই আঁতকে ওঠার মতো বিষয়। এই প্রকৃতি এই বিশ্বজগত মনুষ্যবিহীন হয়ে যাবে!! কি ভয়ংকর কথা।

গত অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখে মারা গেলেন ফরাসি নৃতাত্বিক সমাজবিদ ক্লদ লেভি স্ট্রস। কার্ল মার্ক্সের অনুসারী এই সমাজ বিজ্ঞানী বেঁচেছিলেন প্রায় ১০০ বছর। গতকাল লেভি-স্ট্রসের ১৯৫৫ সালে লেখা অটোবায়োগ্রাফি “Tristes Tropiques.”(বাংলা করলে দাঁড়ায় মন ভার করা বিষয়-আশয়)র একটা রিভিউ পড়ছিলাম। পড়তে গিয়ে ক্লদ লেভি স্ট্রসের এই কথাটায় চোখ আটকে গেল, "The world began without the human race and will certainly end without it,” ...মনুষ্য প্রজাতি ব্যতিরেকেই বিশ্বজগত তার যাত্রা শুরু করেছিল, এবং নিশ্চিত ভাবেই তার সমাপ্তি ঘটবে এটা (মনুষ্য প্রজাতি) ছাড়াই।...

ক্লদ লেভি স্ট্রসের আত্মজীবনী “Tristes Tropiques.”আমার এখনো পড়া হয় নি, ফলে কি ধরনের মন ভার করা টপিক সেখানে আছে, জানি না — কিন্ত তার আগেই মন খারাপ হয়ে গেল লেভি স্ট্রসের আরও কিছু মন্তব্যে। “What else has man done except blithely break down billions of structures and reduce them to a state in which they are no longer capable of integration?” “কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে লক্ষ-কোটি কাঠামোকে ভেঙেচুড়ে পুনরায় একীভুতকরণের সম্ভাবনারহিত অবস্থায় নিয়ে আসা ছাড়া, আর কোন কাজটা মানুষ করেছে? "

১৯৩৫ সালের দিকে ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন ক্লদ লেভি স্ট্রস। আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের শেকড়ের খোঁজে সে সময় আমাজনের গভীর অরণ্যে বেশ কয়েকটি নৃতাত্বিক অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত আমাজনের রেইন ফরেষ্টএ তিনি যে সব ভ্রমন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তা নিয়েই লিখা তার এই আত্মজীবনী। ‘বিশ্বজগতে মানুষ এমন কোন সুবিধাজনক অবস্থায় নাই, তার অস্তিত্বের কোন ধরনের উল্লেখযোগ্য চিহ্ন রেখে যাওয়া ব্যাতিরেকেই মানুষ একদিন দুনিয়া থেকে নির্মুল হয়ে যাবে... এই ছিল ক্লদ লেভি স্ট্রসের বিশ্ববীক্ষা।

দুনিয়া থেকে মানুষ নির্মুল হয়ে যাবে কিনা, এ আশঙ্কা সম্ভবতঃ নতুন কোন চিন্তা নয়। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে আনবিক বোমার ধ্বংশাত্মক ক্ষমতা আর তার পরে পরাশক্তি সমুহের ঠান্ডাস্নায়ুযুদ্ধের কালে এই বোধ বেশ তীব্র ভাবেই সামনে এসেছিল, মুর্খ মুঢ় মানব সন্তানেরা সত্যি সত্যি তাদের আত্মধ্বংশ ডেকে আনবে কিনা।

সামগ্রিক বিচারে এই আশঙ্কাও হয়তো চরম ছিল না, অন্ততঃ যুদ্ধ এলাকার বাইরের মানুষেরা ভাগ্যের কৃপা দাক্ষিণ্যে নিজদের নিরাপদ ভাবতে পারতো। অথবা শক্তিমত্তার ভারসাম্যে এগিয়ে থাকলে বিপদ এড়ানো গেলেও যেতে পারত। নির্মুল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক কোন পিছিয়ে থাকা জনপদ, মুছে যাক কোন শক্তিহীন দুর্বল জনগোষ্ঠীর নাম পৃথিবীর বুক থেকে। বিজয়ীদের জন্যই তো এ জগত সংসার, কে না জানে বীরভোগ্যা বসুন্ধরা...

অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে উঠছে সমগ্র বিশ্বঃ

অথচ বিপদের দিক থেকে উঁচু নিচু মানুষ কিংবা উন্নত অনুন্নত জনগোষ্ঠী নির্বিশেষে এক নতুন ধরনের সাম্যাবস্থা এনেছে সম্ভবতঃ Global warming (বৈশ্বিক উষ্ণায়ন)। অগ্রসর অথবা পিছিয়ে পড়া যে কোন জনসমষ্টির জন্যই সমান মাত্রার বিপদ নিয়ে সে হাজির। ভাগ্যের কৃপা অথবা শক্তিমান হওয়া কোনটাই যথেষ্ট নয় এই বিপদ থেকে নিজকে নিরাপদ ভাবতে। ক্রমশঃ নাগরিক সভ্যতার বিস্তৃতির প্রক্রিয়ায়- শক্তির জন্য অতিমাত্রায় ফসিল ফুয়েলের (জীবাশ্মজ্বালানী) উপর নির্ভরতা, শক্তির উৎস হিসাবে প্রাকৃতিক শক্তির (সুর্যের আলো, নদীর স্রোত, বায়ুপ্রবাহ) উপর নির্ভর না করা, সর্বোপরী শক্তির পুনঃপুনঃ ব্যবহারযোগ্যতা কে নিশ্চিত করতে পারার ব্যার্থতা প্রতিনিয়তই এই হুমকির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিবেশ প্রতিবেশকে হুমকির মধ্যে নামিয়ে এনে এও এক আত্মধ্বংশের প্রতিযোগিতা। প্রতিনিয়ত নিজেরাই লিখে চলছি নিজেদের মৃত্যু পরোয়ানা।

সারা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে, এই তাপমাত্রা বাড়ছে মুলতঃ পরিবেশে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা গ্রীনহাউস এফেক্টের জন্য। বলা হচ্ছে এই তাপমাত্রা যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মেরু অঞ্চলের জমাট বাধা বরফ আর উঁচু পর্বতগুলোকে ঢেকে রাখা বরফে। এই বরফগুলো গলে যাওয়ার হার বেড়ে গেলে বিভিন্ন উপকুলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, বিশাল এলাকা তলিয়ে যাবে পানির নিচে। বলা হচ্ছে গ্লোবাল টেম্পারেচার আর ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই সম্ভাব্য বিপদের মধ্যে দুনিয়ার ৩০ থেকে ৪০ ভাগ প্রজাতির ধ্বংশ, আগের চেয়ে ব্যাপক তীব্র এবং ভয়ঙ্কর তাপ প্রবাহ এবং খরার উপস্থিতি, বন্যা সাইক্লোন সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি আর সেই সাথে সমুদ্রের পানির উচ্চতা অন্ততঃ ১ মিটার বৃদ্ধি পাবে। এ সবের নিট ফলাফল, বিপন্ন হবে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন...

তো পরিবেশে কার্বন নিঃসরনের (Carbon emission) হার বেড়ে যাওয়ার থেকে শুরু এই বিপর্যয় যা নিঃশব্দ ঘাতকের মতো আমাদের ঘিরে ফেলছে — একটা বিষয় খুব পরিস্কার এখানে এই কার্বন এমিসনের জন্য দায়ী একমাত্র মানুষ... অন্য কেউ নয়। প্রকৃতিতে প্রতিনিয়ত মানুষই উগড়ে দিচ্ছে বিষাক্ত কার্বন...

এ হল খুবই সাধারন ভাবে কিছু নমুনা, যা তথ্য হিসাবে আমাদের মনে রাখা উচিত। মনে রাখতে হবে আধুনিক মানুষের জীবন যত প্রযুক্তি নির্ভর এবং জটিল হয়ে উঠছে কার্বন নিঃসরনের পরিমান ততো বাড়ছে। সভ্যতা, উন্নতি, ভোগ বলতে যে মানদন্ড আমরা নিজেরা নির্ধারন করেছি তার ঘেরাটোপের মধ্যে আমরা নিজদের আটকে ফেলেছি। আধুনিক সভ্যতা বলতে আমরা এখনও বুঝি পশ্চিমা মডেল, উন্নতি বলতে বুঝি প্রযুক্তি নির্ভরতা। অন্ধভাবে পশ্চিমকে অনুসরন করে যাওয়া।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং ইস্যুকে আমাদের ভাবতে হবে পরিবেশ নিয়ে আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টি ভঙ্গী কি — সেই আলোকে। আমরা আরও সভ্য আরও উন্নত হতে গিয়ে আমাদের প্রকৃতিকে কিভাবে ব্যাবহার করছি— যে কোন উপায়ে প্রকৃতিকে পদানত করে, তার উপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য এনে দানবীয় যে পদ্ধতিতে আমরা এ যাবত আমাদের প্রকৃতিকে ভোগ করেছি, আজ সময় এসেছে সে সব নিয়ে নতুন ভাবে চিন্তা ভাবনা করার। ষাট এবং সত্তরের দশক জুড়ে পশ্চিমাদের দেওয়া প্রেশক্রিপশন অনুযায়ী আমরা উন্নয়নের যে রীতি-নীতি অনুসরন করেছি- তার খেসারত কি আমরা নানা ভাবে দিচ্ছি না? সবুজ বিপ্লবের নামে যথেচ্ছ টিউবওয়েল বসিয়ে ভুগর্ভস্থ পানি তুলে এনে আমরা কি আর্সেনিক এর বিষ সৃষ্টি করি নাই? সব কিছুতে রাষায়নিক সার আর কীটনাশকের অবাধ ব্যাবহার আমাদের কে শিখিয়েছে...?

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য আমরা আসলে নিজেরাই দায়ী। এর জন্য প্রয়োজন পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। প্রয়োজন নিজস্ব উন্নয়ন মডেল দাড় করানো, বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত পশ্চিমা উন্নয়ন ব্যবস্থাপত্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য পরিত্যাগ করা। সচেতন থাকা, যাতে করে পশ্চিমা প্রযুক্তির রমরমা জৌলুশ যেন আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে না দেয়।

ক্লদ লেভি স্ট্রস সারাজীবন কাজ করেছেন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে প্রচলিত পৌরাণিক মিথ, লোকজ গল্পগাথা, যুগের পর যুগ চলে আসা নির্দিষ্ট অভ্যাস অথবা ভঙ্গী নিয়ে। প্রায় তিন দশক ধরে আমাজনের ইন্ডিয়ানদের জীবনাচরন ব্যাখা বিশ্লেষন করে দুনিয়ার যাবতীয় পৌরানিক কাহিনীগুলোর মধ্যে একটা সার্বজনীন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পেয়েছেন। পৌরানিক মিথ ও প্রথার মৌলিক ধারনাকে তিনি বিশ্লেষন করে আবিস্কার করেছেন তার অন্তর্নিহিত বিন্যাস, তার অভ্যন্তরীন প্যাটার্ণ। লোকজ স্থানীয় মিথ নিয়ে কাজ করার সময় ক্লদ লেভি স্ট্রসের মিথলজি হয়ে যায় মিথলজিক। যুক্তি দিয়ে বোঝা লোককল্প। ফলে নির্দ্বিধায় তিনি দাবী করেন আদিম সমাজ নিয়ে তার তাত্ত্বিক অবস্থান- আদিবাসী মানুষের মানস বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত ভাবেই পশ্চিমা সভ্যতার মানসের সমকক্ষ। যে কোন জাতিসত্ত্বার নিজস্ব চিন্তা সংস্কৃতি ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে যে ভাবনা প্রকাশ করে, পশ্চিমা যে কোন ভাবনার চেয়ে তা কোন অংশে কম নয়।

বাংলাদেশ কি করবে?

উপকুলীয় অঞ্চলের বদ্বীপ হিসাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির পরিমান যে কোন এলাকার চাইতে অনেক বেশি। আমাদের সমুদ্রের যা গড় উচ্চতা, তাতে সমুদ্রের পানির লেভেল ১মিটার বাড়লে দেশের একটা বিশাল অংশ স্রেফ সমুদ্রের বুকে বিলীন হয়ে যাবে। এই বিপর্যয় কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা হয়তো আমরা অনুমানও করতে পারছি না। আমরা সত্যিই জানি না কারা আমাদের সাহায্য করবে, এমনকি বিপদের সেই মুহুর্তে কোন ধরনের সাহায্য আমাদের জন্য যথেষ্ঠ বলে বিবেচিত হবে কিনা!!

তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসাবে আমাদের ক্ষমতার উপর আস্থা রাখি- নিজ-অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু করার এটাই সেরা সময়। আমাদের উচিত হবে কারও ভরসায় না থেকে নিজদের করনীয়গুলো স্থির করা ও সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া। আমাদের সমস্যাগুলোর প্রকৃতি নিয়ে ব্যপক আলোচনা, মতবিনিময় এবং জনমত গঠনের কাজ শুরু করা।

প্রকৃতির সপ্রাণ সচেতন অংশ হিসাবে প্রকৃতির সাথে আমাদের সম্পর্ক কিছুতেই খাদ্য খাদকের সম্পর্ক হতে পারে না। প্রকৃতিকে নষ্ট করে, জীব প্রজাতি ধ্বংশ করে আমরা কোন ধরনের উন্নয়নই চাইতে পারি না। পশ্চিমের অন্ধ অনুকরন না করে, বরং আমাদের উচিত হবে নিজের ফাঁদে আটকে পড়া পশ্চিমা সভ্যতার কৃত ভুলগুলো এড়িয়ে চলা।

ক্লদ লেভি স্ট্রসের উপর আস্থা থাকলে আমাদের বিশ্বাস করাই উচিত প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী তার নিজস্ব সংস্কৃতি আর জীবন যাপনের পদ্ধতির ভেতর দিয়ে যে মানসের ছবি ফুটিয়ে তোলে তা কোন অংশেই পশ্চিমা আধুনিক সভ্যতার অন্তঃর্নিহিত মানসের চেয়ে তুচ্ছ নয়। প্রত্যেক সংস্কৃতি তার নিজস্ব উদ্ভাসের ভেতর নিখিল ও জগতের একটা পরিপুর্ণ এবং স্বয়ম্ভু কাঠামোকে আত্মস্ত করে রাখে। প্রয়োগ ও সাফল্যের দিক থেকে সে কাঠামো বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির মতোই স্বয়ংসিদ্ধ।

*ছবির বিষয়বস্তু টারজান, WWF এর সৌজন্যে নেট থেকে পাওয়া।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গ্লোবাল ওয়ার্মিংউষ্ণায়নপ্রকৃতি মানুষক্লদ লেভি স্ট্রস ;
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৯
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: নিজগুনে মাফ করবেন। পোষ্ট পড়ি নাই।

বাংলাদেশ বইয়া বইয়া আঙ্গুল চুষব!
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৮

লেখক বলেছেন: মাফ করে দেওয়া গেল...

২. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৪
মুসতাইন জহির বলেছেন: আপনার ভাষা, টানটানগদ্য, ভেতরে টেনে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা এই সব গুণের মিশ্রণে লেকাটি তৈরি হয়েছে। সেটা প্রথমেই বলে নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ নামক বিষয়টা আষলে আমাদের একটু অন্যভাবে ভাবার দরকার আছে। সেটা নিয়ে কথা বলতে চাই। পরে আসছি। খাইয়া নেই।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩২

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি সামনে আরও অনেক কথা হবে।

৩. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৫
মনজুরুল হক বলেছেন:

মোস্ট ফার্টাইল ব্রিদিং প্লেস বলতে বাংলাদেশকেই বোঝায়। এখান জন্ম হারের আধিক্যই সম্ভবত এই বদনামের কারণ। আমরা এই অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে পুঁজি করে গ্লোবাল ওয়ামিং ঠেকাতে পারবনা, কিন্তু যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে মাত্র কয়েকজনের প্রসেশনের ফলাফল "কর্তৃপক্ষ" মানতে বাধ্য হয় সেখানে বাংলাদেশের বিপুল জনগণ এই ইস্যুতে ব্যাপক জনমত গড়ে সেই দাবি বিশ্ব মোড়দের কাছে পেশ করতে পারে।

যেহেতু ম্যান পাওয়ার আমাদের আছে, তাই সেই পাওয়ার ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে
গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে একটা নজির অন্তত স্থাপন করা যায়।

অন্য বিপদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু তাপমাত্রা আর ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লেই আমাদের গাচপালাগুলো মরতে শুরু করবে, কেননা আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশংকা জনক ভাবে নীচে নেমে গেছে!

আপনার এই পোস্টটি আমাদের এই বিষয়ের সচেতনার বাতিঘর হয়ে উঠুক।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩৮

লেখক বলেছেন: সবার অগোচরে একটা ভয়ঙ্কর বিপদ আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। এ এমন এক সমস্যা, যা ধনী কিংবা গরীব, সবল অথবা দুর্বল সবার জন্যই বিপদের।

আমাদের এ বিষয়ে সক্রিয় ও সচেতন হয়ে ওঠা উচিত।

৪. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৯
মনজুরুল হক বলেছেন:

মুনশিয়ানা, আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা ছিল। আপনি কি লগ অফ করেছেন? ঠিক আছে তাহলে কাল করা যাবে।
৫. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫০
মুসতাইন জহির বলেছেন: আপনার পোস্টে আশঙ্কা আর আকুতি এই দুইয়েরই মিশ্রণ ঘটেছে। সে বিষয়ে পরে আসছি।

প্রথমে বলে নেই, লেভি স্ট্রসের কথা। এই অসম্ভব সৃষ্টিশীল মেধাসম্পন্ন মানুষটি মারা গেছেন মাত্র মাস দুয়েক আগে। বাংলাদেশের কোথাও এই নিয়ে আলোচনা চোখে পড়ে নি। আমি জানি না আপনি জানেন কিনা, ইনি কিন্তু বেশ কিছুদিন বাংলাদেশেও ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছিলেন। সেটা ছাড়াও, যে কয়জন মানুষকে শিক্ষক মানা যায় তিনি তার মধ্যে অগ্রগণ্য।

পদ্ধতিগতভাবেই সেই ত্রিশের দশকে, তথাকথিত আধুনিকতা আর প্রগতিবাদী ইতিহাসের প্রতি গোড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন, যে কোনো জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আচার, জীবন যাপনের মধ্যে একটা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি সুসঙ্গত জ্ঞানগত কাঠামোর নিজস্ব অভিব্যাক্তি নিয়েই হাজির থাকে। সেটা তার ভাষা প্রকরণ, স্মৃতি, পুরাণ, ধর্ম ও নীতিবোধের মধ্যে আশ্রিত ও আচরিত হয়ে চলে। সেটার তুলনায় অন্য কোনো জীবণের ধরণকে যুক্তি বা টেকনোলজির জৌলুশে খাটো বা পশ্চাৎপদ বলা যায় না।

সে সব তো ছিলই; কিন্তু তিনি পদ্ধতিগত অনুপ্রেরণায় যে দিকটি অনুসরণ করতেন তার মধ্যে অন্যতম একটা দিক ছিল ভূতাত্ত্বিক সংগঠন। যেখানে নতুন পুরাতন, আগে পরে.. ইত্যকার ভেদ বা বিরোধ নাই। সেখানে লক্ষ লক্ষ বছরের একটা পুরোনো নুড়ি একই সাথে পাশাপাশি নতুন জমেওঠা পলিস্তরের সাথে মিলে যে অর্গানাইজেশন তৈরি করে তাতে নানা প্রজাতি জীব অনুজীব নিজস্ব প্রতিবেশের একটা সংঘবদ্ধ উপস্থিতি বজায় রাখতে কোনো অসুবিধা হয় না। কেউ কারো জন্য বাধা নয় বাড়তি নয়, অদরকারি কিংবা ফেলনাও নয়।

প্রকৃতির এই সহজাত সদ্ভাব, প্রতিবেশ ও পরিবেশের এই নিয়ম ক্রমেই উলট-পাটল হওয়া শুরু হয় আধুনিকতার তাণ্ডবে। একটা উদাহরণ দেই যেমন আধুনিক কৃষির প্রচলনে প্রধমেই ধরে নেওয়া হয় যে দুই একটি প্রজাতি ছাড়া বাকিগুলা অকেজো প্রজাতি আর মারাত্মক ক্ষতিকর পোকামাকড়ের ধারণা। এই ধারণায় প্রকৃতির বৃহদাংশই অকেজো আর ক্ষতিকরের বর্গভূক্ত হয়ে পড়ে। সেই থেকে চলছে নির্বিচার পেস্টিসাইড় আর হার্বিসাইড়... বিষ আর বিষ। আবার সেই ভাবনায় উপনিত হওয়ারও কুলজি আছে সেই দিকে এখানে যাব না। পরে কখনো আলাপ করা যাবে।

তবে এই বিষয়ের গোড়া ধরে নাড়া দিতে চেষ্টা করেও তাদের সময়কালে খুব একটা সাড়া পাননি যে দুজন মনীষী, আমি যাদের দর্শনের গুরুজ্ঞান করি, -- এডমুন্ড হুর্সেল(Edmund Husserl) ও মার্টিন হাইডেগার(Martin Heidegger)এর কথা উল্লেখ না করলেই নয়। প্রথম জন খোদ ''ক্রাইসিই অব ইওরোপীয়ান সাইন্স'' নামে একটা দীর্ঘ দার্শনিক অলোচনাই করেছিলেন। আর গুরু গুরু মহাত্মা হাইডেগার সারা জীবনই টেকনোলজিক্যাল ওয়ার্ল্ড এর মারাত্ম গলদ ও বিপদ নিয়ে লিখে গেছেন মূলত। বিশেষত, তাঁর ''কোশ্চেন কনসার্নিরং টেকনোলজি'' লেখাটা অন্তত এখন সকলেরই পাঠ্য হওয়া উচিত।

এই জগৎ থেকে আমাদের বের হতে হবে, একটা নতুন এথিক্স অব লাইফ নির্মাণ করতেই হবে। সেটা বোধ হয় এইসব বিপর্যয়ের ফলে আমরা টের পেতে শুরু করেছি। হায়! মানুষ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়ালেই কেবল পিছন ফিরে দেখে... না হলে ভবিষ্যৎ দ্রষ্টাদের 'দর্শন' আর 'ভাবালুতা' বলে তাচ্ছিল্য করে।

তো, সামগ্রিক বিষয়টাকে যেভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে তাও আবার একটা জবরজং টেকনোলজিকাল সমাধান দেবার চেষ্টা। সেটারই নাম করা হয়েছে মিটিগেশস আর এডাপটেশন। আপনি কি সেই দিকটা খেয়াল করেছেন? সেই জন্যই এই ভূমিকা টানলাম। যেমন কার্বন সিংক...। তার উপর বাংলাদেশকে বিভিন্ন এনজিও আর তথাকথিত কনসালটেন্টবাজরা বুঝাতে চাচ্ছে যে আমাদের একটা বিকট ক্ষতিগ্রস্ততার চেহারা দাঁড় করানো খুবই দরকার। যত বিকট আর বিভীষিকাময় হবে সেই চেহারা ততই আমরা দাম পাবো বেশি, সেই এক এলাহি কারবার। সবাইকে দেখি এর বিপদ সম্পর্কে সজাগ না থেকে টাকা পয়সার হিসাবে হুমড়ি খেয়ে পড়তে।

এই বিপদগুলো যেন আমরা না বাড়াই।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০১

লেখক বলেছেন: খুব ভাল লাগলো আপনার দীর্ঘ মন্তব্যে। আলোচনায় অংশ নেয়া এবং সক্রিয়তা দেখানোর জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। আরও ভাল লাগলো ক্লদ লেভি স্ট্রসের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল এ তথ্য জানতে পেরে। এটা আমার জানা ছিল না।

পরিবেশ বিপর্যয় থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য নতুন এথিক্স অব লাইফ নির্মাণের কাজটা আমাদের শুরু করতে হবে। এটাই আমাদের একমাত্র পথ।

এ কথা সত্য, এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ তেমন ভাবে চোখে পড়ছে না। বরং তার বদলে প্রচলিত ভাবনা চিন্তার মধ্যে ক্ষতিপুরন পাওয়া/আদায় করার কালচার চালু হচ্ছে।

এটা আমাদের কোন উপকারে আসবে বলে মনে হয় না। দুষনের যাবতীয় কারনসমুহ আমি যদি জারি রাখি, তবে অর্থ মুল্যে সেই ক্ষতিপুরন আমাদের কি সমাধান দিবে?

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: আমাদের কামালভাই আপনাকে অনুরোধ করেছেন, এবিষয়ে আরও লেখালেখি করতে।

আশা করি এ বিষয়ে আপনার সক্রিয়তা আমরা দেখতে পাবো।

৬. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৭
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: চমৎকার লাগলো লেখাটি। ক্লদ লেভি স্ট্রস-এর প্রসঙ্গ লেখাটি অধিকতর আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা, মানব-প্রজাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, আর বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে আমাদের সম্ভাব্য বিপদ-- সবকিছুই দারুণ এক স্বাদু গদ্যে স্পর্শ করেছেন আপনি। এ বিষয়ে আমরা হয়তো নতুন করে কথাবার্থা শুরু করতে পারি-- এ লেখাটিই তার সূচনা হোক।

এ বিষয়ে আমার জ্ঞান সামান্য। আপনাদের কাছে শিখে নিতে চাই বরং। ওপরে মুসতাইন জহিরের মন্তব্যটি অসাধারণ লাগলো। মনে হলো-- এ বিষয়ে কথা শেষ হয়নি, আরো কিছু বলার আছে তাঁর। আপনার কাছ থেকে কি একটা লেখা পেতে পারি এ বিষয়ে@ মুসতাইন জহির?
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, কামাল ভাইকে, মন্তব্য করা এবং আগামী আলোচনায় অংশ গ্রহনের আগ্রহ দেখানোর জন্য।

এ বিষয়ে কথা আসলেই শেষ হয় নাই, বরং দীর্ঘ আলোচনা শুরু করার এটা একটা মুখবন্ধ মাত্র। সমস্যার গভীরতা, সমাধানের গতি-প্রকৃতি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক কথাই বলতে হবে। এটা আমাদের অস্তিত্বের সংকট, ফলে এটার গুরুত্ব অনেক বেশি।

এ যাবৎ চলে আসা পশ্চিমা উন্নয়নের কৃৎকৌশল কে অন্ধ ভাবে অনুসরন করার বিপদ থেকে আমাদের সচেতন হবার এটাই সময়। লেভি স্ট্রস এই কাল পর্বে আমাদের পথ দেখাতে পারে ব্লে আমার বিশ্বাস।

৭. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৮
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: লেখাটা পড়লাম। অন্যভাবে বললে লেখাটাই পড়িয়ে নিল। এর উপর কিছু পড়াশোনা করা হয়েছিল, টানটা ছিল।
বাঙলাদেশ যদি আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সমাধানে না যেতে পারে তবে বিরাট সমস্যায় পড়বে। বিপুল জনসঙখ্যা খাদ্যের অভাবে পড়বে, গৃহযুদ্ধ-ও ঘটতে পারে! প্রাকৃতিক ভারসাম্য তো আগেই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এব্যাপারে আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা তো নেই; আবার সরকার-ও উদাস-বদনের। যে সমুদ্র সীমানা আমাদের সম্পদ হতে পারতো, সেটাই একদিন হয়তো মরণের ফাঁদ হবে!
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২২

লেখক বলেছেন: আমাদের হাতে সময় মোটেই নাই, বিপর্যয় মোকাবেলায় আমাদের কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত দিনযাপনের অনেক অভ্যাস থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।

অনেক ধন্যবাদ আশরাফ মাহমুদকে।

৮. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৬
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: মুনশিয়ানা প্রিয় পোষ্টে যাওয়াটাতো অবধারিতই করে দিল লেখাটা। আমি বরং মূল প্রসঙ্গের সাথে কিছু নোকতা যুক্ত করি। প্রথমেই টার্মগত একটা অনুরোধ, নৃবিজ্ঞানের পড়াশুনা বলে নৃতাত্ত্বিক শব্দটির বদলে নৃবৈজ্ঞানিক/ নৃবিজ্ঞান এই শব্দগুচ্ছো ব্যবহারের অনুরোধ থাকলো।

লেভী স্ট্রস বিশ্লেষণে কাঠামোবাদী সন্দেহ নেই। পরবর্তীতে তাঁর বৈশ্বিক কাঠামোবাদের নানান ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ, সমালোচনা হয়েছে উত্তর কাঠামোবাদীদের দ্বারা। কিন্তু এসবের মধ্যেও মানবজাতির সামগ্রিকতা তাদের পরস্পরের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্র্পক বুঝতে এবং ঘরের দুয়ারে এসে পড়া পরিবেশ বিপর্ষয়/ জলবায়ু পরিবর্তনকে অনুধাবন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়ই।

যে নোক্তাটা আমি এখানে যুক্ত করতে চাই আবারো তা হল, পরিবেশ বিপর্ষয়/ জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য সর্বোপরি একটি রাজনৈতিক ইস্যু। আর এই রাজনীতি মসনদের নয়, এই রাজনীতি অস্তিত্বের। ফলে আমাদের প্রতিপক্ষতা দুজনার সাথে,
১. উষ্ণায়িত হয়ে ওঠা প্রকৃতি
২. উষ্ণায়ন করে চলা রাষ্ট্র সমূহ

সর্বোপরি এটি পৃথিবীর ইস্যু, পৃথিবীর অস্তিত্বের ইস্যু, তাই আমাদেরও তাই সকলেরও।

এই বিষয়ক পোষ্টে আরো দীর্ঘ করার আশা রইল। ধন্যবাদ মুনশিয়ানা।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৬

লেখক বলেছেন: নিঃসন্দেহে এটা একটা রাজনোতিক ইস্যু, রাজনৈতিক তৎপরতার ভিতর দিয়েই আমাদের এটা অর্জন করতে হবে।

৯. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৬
লীনা দিলরূবা বলেছেন: উপকুলীয় অঞ্চলের বদ্বীপ হিসাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির পরিমান যে কোন এলাকার চাইতে অনেক বেশি। আমাদের সমুদ্রের যা গড় উচ্চতা, তাতে সমুদ্রের পানির লেভেল ১মিটার বাড়লে দেশের একটা বিশাল অংশ স্রেফ সমুদ্রের বুকে বিলীন হয়ে যাবে। এই বিপর্যয় কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা হয়তো আমরা অনুমানও করতে পারছি না। আমরা সত্যিই জানি না কারা আমাদের সাহায্য করবে, এমনকি বিপদের সেই মুহুর্তে কোন ধরনের সাহায্য আমাদের জন্য যথেষ্ঠ বলে বিবেচিত হবে কিনা!!


কী ভয়ঙ্কর কথা!
আমাদেরতো এই মূহুর্তেই নিজেদের রক্ষা করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। কোথায় যেন পড়েছিলাম এন্টার্কটিকায় বরফ গলার মাত্রা এভাবে অব্যাহত থাকলে আমাদের বরিশাল সবার আগে ডুবে যাবে।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২১

লেখক বলেছেন: পরিবেশের বিপর্যয়ের প্রধানতম শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। সে দিক থেকে আমরা একটা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। বাংলাদেশের উপকুলীয় অঞ্চলের জন্য এই ঝুঁকি তো একটু বেশিই।

১০. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৭
আইরিন সুলতানা বলেছেন: বাংলাদেশ কি করবে?

যেখানে অনেক উন্নয়নশীল দেশই এই বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত অর্থে খানিকটা উদাসীন, নিজ স্বার্থেই...শিল্পায়নের আগ্রাসনের কারণে, সেখানে বাংলাদেশের মত মধ্যবিত্ত/দরিদ্র দেশ কী করবে ? তবে আমরা উচ্চমাত্রায় শিল্পায়ন নির্ভর হয়ে যাইনি এখনো, তারপরও কিন্তু শিল্পকারখানার বর্জ্য আমাদের নদীগুলোকে দূষিত করছে। এর বাইরে রয়েছে ব্যবসায়িক কারণে চর দখলের মত নদী দখল, অবৈধ স্থাপনা....গতবছর সরকার নদীসংলগ্ন অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙ্গেছে, তবে বর্তমান হালচাল কী সেই অবস্থা জানিনা এখনো । হিসেব মতে , অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গা হলেও এরা একটু একটু করে পুরনো আসর ঠিকই জমিয়ে ফেলে।

বনায়ন ছাড়া জলবায়ুর পরির্তন তো সম্ভব নয়, সম্ভব নয় পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। সিডর এ সুন্দরবন বলতে গেলে ন্যাড়া হয়ে গেল, পত্রিকা পড়ে যতটুকু জানা যায়, এখনো কিন্তু সিডরের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে সুন্দরবন। সুন্দরবন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট টিম নিয়োগ করা হয়েছিল কিনা জানিনা, তবে এরকমটি হলে ভালো হতো...... ঝড়-ঝাপটা কিন্তু সামনে আরো আসছে ....! সুন্দরবন যদি দূর্বল থেকে যায় তো আমাদের কে সামলাবে এরপর?

চুরি ! গাছের ছাল চুরি...ডাল চুরি...পুরো গাছই গোড়া থেকে কেটে সাবাড় !!! ফলে প্রয়োজনীয় বৃক্ষের বদলে আশেপাশে দ্রুত আগাছা জন্ম নিয়ে বনের স্বাভাবিক স্তরগুলো বিঘ্নিত হচ্ছে। তার উপর আছে বনের আশেপাশের নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভূমি দখল!

শীতে অতিথি পাখির আগমনের স্বতস্ফূর্ততা কী এখনো আগের মত আছে?

টিভিতে অনেক গানের চিত্রায়ন হয় বড় বড় সেতুর নীচে , ধু ধু চর-বালুর উপর! সামান্য দূরে শীর্ণ নদীর মত কিছু একটা দেখা যায় কেবল !

বাংলাদেশ আয়তনে খুব বিশাল নয়, কেবল যথাযথ চেয়ার-টেবিলগুলো সৎ, কঠোর ও দ্বায়িত্বশীল হতে হবে।

পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। এই বিষয়ে আমার অবশ্য এতোটা ব্যকরণিক জ্ঞান নেই, তবে পত্রপত্রিকার খবর পড়ে যেটা বুঝেছি, সেটাই আপনার পোস্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বলার চেষ্টা করেছি কেবল।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৩

লেখক বলেছেন: কার্বন নিঃসরন ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা পরিবেশ বিপর্যয়, যার সহজ শিকার হতে পারে বাংলাদেশ। এ সম্পর্কে করণীয় কি তা নিয়ে যেমন আমাদের ভাবতে হবে। একই সাথে আমাদের আভ্যন্তরীন যে দূষন, তা কমিয়ে আনা/বন্ধ করার উপায় নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে।

কার্বন নিঃসরনের জন্য আমরা উন্নত দেশগুলিকে দায়ী করতেই পারি, কিন্ত তার জন্য আমাদের নিজস্ব দুষনগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। এক্ষেত্রে আমি আপনার অবস্থানের সাথে একমত।

বনায়ন নিঃসন্দেহে কার্বন নিঃসরন কমানোর সেরা উপায়। তবে অপরিকল্পিত ভাবে বনায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার পরিনাম ভাল নাও হতে পারে। কিছু কিছু গাছ আছে যেমন ইউক্যলিপটাস এগুলো মাটির গভীর থেকে প্রচুর পানি শোষন করে, মাটির বাঁধন আলগা করে দেয়। ভুমিক্ষয় ভুমিধ্বশ বাড়িয়ে তোলে।

বান্দরবানে আমার নিজের চোখে দেখা সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম কিছু প্লানটেশনের চিত্র। আমাদের স্স্থানীয় গাছপালার পরিবর্তে সেখানে লাগানো হয়েছে একাশিয়া ধরনের গাছ- ইউক্যালিপটাস। এটা প্রাণ বৈচিত্র রক্ষার ধারনার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ নয়। স্থানীয় ভাবে যে পশু পাখি কীট পতঙ্গের জীব জগত আমাদের চারপাশে রয়েছে, বন জঙ্গলের গাছপালার ওপর তারা নির্ভরশীল। বিজাতীয় কোন উদ্ভিদ লাগালে তা এই জীবজগতের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে- এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

ইতিমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক এলাকায় ইউ এন এর অর্থায়নে রাবার চাষের যে প্লান্টেশন করা হয়েছে, স্থানীয় পাহাড়িরা তা পরিবেশের বিপর্যয় হিসাবে দেখেন এবং তার বিরোধিতা করেন।

আপনার সাথে আবারও সহমত পোষন করছি, আমাদের আসলেই কিছু দ্বায়ীত্ববান লোকের প্রয়োজন, আমাদের এই ক্রান্তিযুগ পেরিয়ে যাওয়ার জন্য। অনেক ধন্যবাদ।

১১. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
তাজা কলম বলেছেন: সহমত।

আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। এবং এই মূহূর্তেই সচেতন সবাইকে নিতে হবে কার্যকরী পদক্ষেপ।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৫

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, তাজা কলম...

১২. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৮
পি মুন্সী বলেছেন: লেখাটা আন্তরিক ভাবেই ভাল লাগল।
গত রাত্রেই দেখেছিলাম, তিন চারটা মন্তব্য ছিল, সাড়া দেখে একটু ভয়ে মনমরাও ছিলাম। ভাবলাম অন্যদের মন্তব্য দেখে নিয়ে এরপর যোগদান করব।

জলবায়ু প্রসঙ্গে আলোচনা উস্কে দেবার জন্য নিঃসন্দেহে একটা ভাল প্রারম্ভিক লেখা, তুলনায় অংশগ্রহণ কম। কিন্তু আমাদের অনেকদূর যেতে হবে। ফলে আরও ব্যপক অংশগ্রহণ সচেতনা জরুরী। সবার আলোচনায় দেখলাম এই টোনটাই মুখ্য, তাই সাহস করে কিছু কথা বলছি।

আমার মনে হয় সে হিসাবে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব দিয়ে এটা আমাদের ভাবা উচিত। লেভীষ্ট্রাস ইত্যাদি ভারী প্রসঙ্গ নিয়ে আমরা পরে কথা তুলি। আগে ঘটনার ভয়াবহতা জানাই, জেনে নেই। এখানে যাদের অংশগ্রহণ দেখতে পাচ্ছি, সকলেই সে দিকে চেষ্টা করতে পারি। কারণ এটা একটা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ ইস্যু, আমাদের মরা বাঁচার ইস্যু বলে আমি মনে করি।

মডারেটরদেরকেও অনুরোধ করব বিষয়টার গুরুত্ত্ব অনুভব করে কিভাবে এই প্রসঙ্গটাকে সবার নজরে নেয়া যায় তা ভেবে দেখতে। আমার চোখে, সামহয়ারইনকে একটা সামাজিক ব্লগীং নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করতে এটা একটা ভাল প্রথম সুযোগ হতে পারে। ব্লগাররাও বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখবেন আশা করি।
সকলকে শুভেচ্ছা।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৪

লেখক বলেছেন: পি মুন্সীর সাথে একমত, বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে ব্লগে আরও লেখা আসা উচিত। অধিক সংখ্যক ব্লগারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতার বিষয়ে সচেতনতা অনেক জরুরী।

নিঃসন্দেহে এটা একটা খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ ইস্যু, আমাদের মরা বাঁচার ইস্যু বলে আমিও মনে করি। আশা করি ব্লগাররাও বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখবেন।

১৩. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৬
মুসতাইন জহির বলেছেন: @মুনশিয়ানা এবং@ আ. মো. কামাল আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ। হ্যঁ, অনেক কথা বলার ছিল, আরো কিছু কথা পড়ার জন্য ফুরসত করে উঠতে চাইছি। আশা করি পারব। সামনের দুইটা মাস একটু বেশি ব্যস্ততায় থাকতে হবে; ফলে কুলিয়ে উঠতে পারব কিনা সেই সন্দেহে আছি। আলাদা আলোচনায় না পারলেও টুকরো টুকরো অংশগ্রহণ থাকবে।

দায়টা নিজেই অনুভব করছিলাম, অপনাদের উৎসাহে একটু বাড়তি দায়িত্ব অনুভূত হচ্ছে। 'জীবন ও প্রকৃতি' বা প্রকৃতি যে প্রকৃত সংসার সেই দিকটা নিয়ে, ইতিহাসে অভিজ্ঞতায় দেখা-শিখা জীবনের প্রকাশ ও অভিব্যক্তিকে পর্যালোচনা করার তাগিদ যে পাটাতন থেকে শুরু করা আমি যথার্থ জ্ঞান করি--সেই সব বিষয়ে নিশ্চয় আপনাদের সাথে ভাবনাগুলো শেয়ার করব। সেখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে 'ভারি' জিনিষ চলে আসবে, @পি মুন্সী যা এড়িয়ে যেতে বলছেন। সেটাও নিশ্চয় বিবেচনার দরকার।

@ আইরিন সুলতানা যেমন একটি উদ্যোগ বা সমাধানের পথ বাৎলেছেন। বনায়ন। সেটা অবশ্যই দরকারি। কিন্তু পাশাপাশি আমাদের এই দিকটাও খেয়াল রাখা দরকার আসলে বনায়নের নামে কি ধরণের পাছপালা লাগানো হবে। আমি কয়েকদিন আগে প্রতিমন্ত্রী হাসান মাহমুদকে উপকূলে গাছলাগানোর কথা, যাকে সাধারণত সবাই ''বনায়ন'' বলে থাকে তার জন্য ফর্মুলা দিতে শুনছিলাম। সত্যি বলতে কি এইদিকগুলোর প্রতি অসর্তকতা মারাত্ম বিপদ ডেকে আনতে পারে। হাসান মাহমুদের কথাটা আপাত অর্থে বেশ লাগসই। কিন্তু তিনি যে বিশেষ প্রজাতির গাছ লাগানোর কথা বলছিলেন (জানি না এটা ইতোমধ্যে সরকারীভাবে গৃহীত নীতি কিনা!) সেটা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড় একটা প্রজাতি। দাবি করা হচ্ছে এটা কার্বন সিংকার প্রজাতি।

এগুলোর সাথে বিশ্বের বড়বড় কর্পোরেশনের বিপুল মুনাফা কামানোর পরিকল্পনা জড়িত। এটা এখনও পরিক্ষীত বা পরিবেশের দিক থেকে নিরাপদ কিনা, কিনা আমার জানা নাই। কিন্তু এই যে বিপদ বা আমাদের বিপর্যস্ততা--এই আতঙ্ক কে পুজিঁ করে মুনাফা কামানোটাও একটা বড় ধরণের আগ্রাসী তৎপরতা হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল। অনেকে একে 'শক ক্যাপিটালিজম' বলে থাকেন। এটা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। শুধু পাছ লাগানোর কথা বা প্লানটেশন মাত্রই আমাদের জন্য ভাল হবে এটা ঠিক নয়। অথচ এডাপটেশনের মধ্যে এগুলই প্রধান পরিকলপনা। স্থানীয় জ্ঞান ও অভিযোজন ক্ষমতার ব্যবহার ও উৎকর্ষ সাধনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে না।

তাছাড়া, গাছ লাগিয়ে বনায়ন হয় না। বন একটা প্রাকৃতিক সংগঠন। অনেকটা ন্যাচারাল সিলেকশনের ভিতর দিয়ে দীর্ঘকাল ব্যাপী গড়ে ওঠে। মানুষ বড়জোর ওখান থেকে শিখে একটা অনুকরণ করতে পারে। এটা বেশ লম্বা আলোচনার বিষয়। আবার। এলিয়েন বা অনেক ক্ষেত্রে প্রিডেটর স্পেসিস লাগানোর ফলে উল্টো পরিবেশ ও ভূপ্রকৃতির জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশে যা হয়েছেও। সেটাও নজরে রাখা দরকার।

দেখুন জ্বলবায়ুর উষ্ণতা সার্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের একটা দিক মাত্র। সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক যে বনায়ন, তা হয়তো হবে না, আর বিজাতীয় বা রাক্ষুশে ধরনের গাছ নিয়ে আমাদের অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা আছে সন্দেহ নাই, কিন্তু আমরা যদি সচেতন ভাবে স্থানীয় জাতের গাছ লাগাতে পারি, তবে আমাদের প্রতিনিয়ত ধ্বংশ হতে থাকা বনভুমির ক্ষতি অনেকটাই পুরন করা সম্ভব। সেটাও আমাদের একটা বড় উপকারে আসবে।

তবে আপনার মুল পয়েন্টটা গুরুত্বপুর্ণ, জ্বলবায়ুর উষ্ণতা সার্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের একটা দিক মাত্র। সামগ্রিক ভাবে আমাদের আলোচনার জায়গা উচিত পরিবেশ এবং তার ব্যাবহার নিয়ে আমাদের অবস্থান কি?

১৪. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৭
জানা বলেছেন:

ঠিক এই সময়ে খুব দরকারী একটা লেখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ মুনশিয়ানা। চমৎকার উপস্থাপন।

ইতিমধ্যে এই ব্লগেই বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু লেখা পড়বার সুযোগ হয়েছে এবং লেখাগুলোর একটি তালিকাও আমি তৈরী করেছি সম্মিলিত বিশেষ ভাবনার সংগ্রহ হিসেবে। আরেকটি যুক্ত হলো। লেখাটি কালই পড়েছি, বিশেষ ব্যস্ততায় ফিরে আসতে দেরী হলো। বিনয় নয়, সত্যিকার অর্থেই বিষয়টি নিয়ে আমার জানা-জানি খুব সীমিত। তবে, আজ না হয় কাল 'পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়া'র আশংকাময় অর্থ যে এতে নিহিত তা বুঝতে পারি। দেশ মায়ের আশ্রয় কেউই হারাতে চায় না।

প্রিয় স্বদেশের আসন্ন দুঃসময় নিয়ে শঙ্কা কেবল গাঢ় হচ্ছে মনে। এরই মধ্যে অনেকটা আশার কথা, বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ভাবনার বিস্তৃতি, এর আগা-গোড়া বিশ্লেষণ এবং এর প্রকৃত ভয়াবহতা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরী হচ্ছে। আমাদের জানা-অজানায় অনেক কিছু যুক্ত হচ্ছে যা আমাদের অন্তত বিশ্ব জুড়ে নিজেদের সমস্যা নিয়ে জোরেসোরে নিজেদের কথা বলার সাহস ও আত্নবিশ্বাস যোগাবে।

আমাদের সবার স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ এবং বিশদ আলোচনায় 'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' এর ফলে উপকুলীয় অঞ্চলের বদ্বীপ হিসাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির উচ্চতা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ/সচেতন করে তোলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: জানাকে অনেক ধন্যবাদ, আলোচনায় আগ্রহ দেখানো এবং মন্তব্য করার জন্য। কোপেনহেগেন সম্মেলন শেষে সামগ্রিক ভাবে সারা বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে কে কি ভাবছে, তার একটা মুল্যায়ন করাটা ভীষন জরুরী হয়ে পড়েছে। কারন বাংলাদেশ এটা অন্যতম প্রধান দেশ, যাদের ঝুঁকির পরিমান অনেক বেশী।

এ ব্যাপারে সবাই কে সজাগ/সচেতন হয়ে ওঠার জন্য আহবান জানাচ্ছি।

১৫. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৯
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: যদিও আমি পরিবেশ বিদ বা সেরকম জ্ঞানী কেউ না তবু এটা নিয়ে আমার একটু দ্বীমত আছে।

যেমন মাটির নীচে সুপ্ত যে পরিমান আছে সেগুলো একসময় মাটির উপরেই ছিলো যখন পৃথিবীর পরিবেশ জীবন সংকুল ছিলো না। কিন্তু জীবনের স হায়ক পরিবেশ যখন হওয়া শুরু করে তখন দেখা গুলো কার্ব গুলো বিভিন্ন যৌগ গঠন করে এবং এভাবেই জীবনের উদ্ভব হয় হয়তো সেকারনেই পৃথিবীর সকল প্রানী বা প্রানের মুল গঠন কার্বনিক। যাই হোক, মানুষের যাত্রা শুরু হতে শুরু হতে করলো এবং যে গ্যাস মাটির নীচে প্রক্রিয়াজাত হয়ে আছে তা এক সময় গাছ বা জৈবিক পদার্থ হিসাবে মাটির উপরেও ছিলো। রেনেসার যুগের সময় একটা কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পরে সালফারের গ্যাস, নাইট্রাসের গ্যাস এমোনিয়া টাইপ ইত্যাদি সবগুলোর এমিশন বাড়তে থাকে।

মেইন সমস্যা হলো গ্লেসিয়ার নিয়ে। সব গলে যাচ্ছে। আসলেই তাই। ওজোন স্তর ফুটো হওয়া শুরু করছে দক্ষিন গোলার্ধে!

কিন্তু এখানে কিছু ব্যপার উল্লেখ করা হয়নি। দক্ষিন গোলার্ধে ওজোন স্তরে ফুটো হবার পাশাপাশি উত্তর গোলার্ধে ওজোন স্তরের ঘনত্ব একটু বেশী যদিও এটা হঠাৎ ধরা পড়ায় বলা সম্ভব হচ্ছে না কবে থেকে। আবার উত্তর গোলার্ধের বরফ গেলেও দক্ষিন গোলার্ধের বরফ বাড়ছে এবং তা সেন্টার থেকে উর্ধ্বমূখি। তবে বাড়ার হারের সাথে গলনের হারটা কমপেয়ার করা হয় নাই, তবে সেটা নিশ্চয়ই কম আর তাই বলেই সাগরের উচ্চতা বাড়ছে। তবে এটা ঠিক বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ৫০ বছরের মতো তেলের মজুদ আছে আর গ্যাস হয়তো ১০-২০ বছর। এর পর আর জৈব জ্বালানীর দিকে ঝুকবার চান্স নাই। তখন আমাদেরকে বাধ্য হয়ে অন্য টেকনোলজীতে মুভ করতে হবে। কিন্তু পৃথিবীর সব বরফ গলতে হয়তো ২০৬০ বা ৭০ যার ১০-২০ বছর আগেই গ্যাস বা তেল শেষ। তখন বাকি যেসব টেকনোলজী আছে সেগুলোতে কার্ন এমিশন নাই বললেই চলে। এখনি ইউরোপে ব্যাটারী চালিত গাড়ি বা মোটরবাইক ধুমায় চলছে।

আমার হিসাব টা কি বুঝতে পেরেছেন? যদি বুঝতে পারেন তাহলে আপনাকে আমি আরো কিছউ থিওরী বলবো যেগুলো অসাধারন এবং অনেক চেনা জানা ব্যপার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে!


বাকিটা জন গনের উপর
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৭

লেখক বলেছেন: আমিও যে এবিষয়ে খুব জ্ঞানী তা বলা যাবে না। সাধারন ভাবে উষ্ণায়ন জনিত বিপর্যয়ের বিষয়টা বুঝতে ও তার প্রতিকার হিসাবে আমাদের কার কি ভুমিকা রাখা উচিত এটা নিয়ে একটা সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য হিসাবে এই পোষ্টের অবতারনা।

তবে আপনি যেভাবে বলছেন, উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে সম্ভবতঃ কার্বন নয়, দশ্চিন্তাটা কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান কিছু গ্যাস নিয়ে। যে গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি ভুমন্ডলে যে বলয়ের সৃষ্টি করে তা ভুপৃষ্ঠকে অতিরিক্ত উতপ্ত করে তোলে।

তবে আপনার যে কোন থিউরী নিশ্চয়ই আমরা শুনতে পারি। এবিষয়ে আমাদের প্রচুর মত বিনিময় প্রয়োজন, যাতে আমাদের এই টিকে থাকার লড়াইয়ে আমারা জয়ী হতে পারি।

১৬. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৯
খারেজি বলেছেন:
অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম।

মানুষের দশা ওই ছাগলটার মতই আসলেই, যার অর্থনীতি অস্তিত্বটাকেই বিপর্যস্ত করে।

ছাগলঅর্থনীতি মুর্দাবাদ, প্রাণ বেঁচে থাকুক।
০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৮

লেখক বলেছেন: প্রাণ বেঁচে থাকুক... অনেক ধন্যবাদ খারেজিকে।

১৭. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৭
মনজুরুল হক বলেছেন:

কয়েকটি মন্তব্যে দেখলাম কার্বন নিঃসরণের ব্যাপারটিকে লঘু করে দেখা হচ্ছে, তা হোক, সমস্যা সেটি নয়। সমস্যা কেবলই আমাদের। আমরা আন্দাজ করতে পারি আগামী কিছুদিনের মধ্যে উন্নত বিশ্ব বিকল্প জ্বালানী, বিকল্প উষ্ণতারোধ ইত্যাদি করে ফেলবে, কিন্তু সেই করে ফেলার আগেই তো আমরা শেষ! তারা যে পরিমান টাকা খরচ করে উন্নয়নের জজবা গড়ে, সেই পরিমান টাকা খরচ করে সেই উন্নয়নের ব্যাকফায়ার থেকে বাঁচারও পদ্ধতি বার করে, কিন্তু আমাদের তো সেই টেকনোলজি নেই! আমরা তো এখনো সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি নির্ভর! আমাদের বাঁচাবে কে?

পাঁচ কোটি টাকা, পাঁচ ব্যারেল পেট্রোল, পাঁচটি সফটওয়্যর একসাথে হাড়িতে জ্বাল দিলেও তো এক দানা ভাত পয়দা হবেনা, তখন? আমার একতৃতীয়াংশ ভূভাগ জলের তলে গেলে ২০/২৫ কোটি মানুষ যে জমিতে ঘর তুলবে, তখন ধান লাগাবার জমি কোথায় পাব?
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: শুধু আমরা কেন মনজুভাই, উন্নত বিশ্বের মানুষও প্রকৃতি নির্ভর। প্রযুক্তি নিজে তো আমাদের পেট ভরাতে পারবে না! আপনি ঠিকই বলেছেন -পাঁচ কোটি টাকা, পাঁচ ব্যারেল পেট্রোল, পাঁচটি সফটওয়্যর একসাথে হাড়িতে জ্বাল দিলেও তো এক দানা ভাত পয়দা হবেনা...!!!

১৮. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৭
পি মুন্সী বলেছেন: অন্যমনস্ক শরৎ@ একটা অফসাইডে, একটা কথা বলার দরকার মনে হচ্ছে।
"নৃতাত্ত্বিক শব্দটির বদলে নৃবৈজ্ঞানিক/ নৃবিজ্ঞান" - বলার জন্য ঝুলাঝুলি কেন করছেন আমি বুঝতে চাই। এটা নিয়ে একটা আলাদা পোষ্ট দিলে আমরা সেখানে কথা বলতে পারি।
যদিও অনেক কিছুকে বিজ্ঞান বলা না বলা নিয়ে অস্বস্তির ঘটনা জলবায়ু প্রসঙ্গে সরাসরি নয়, তবে পটভুমির মধ্যে আছে এবং আসবে।
১৯. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৮
পি মুন্সী বলেছেন: অন্যমনস্ক শরৎ বলছেন, "এই রাজনীতি অস্তিত্বের। ফলে আমাদের প্রতিপক্ষতা দুজনার সাথে,
১. উষ্ণায়িত হয়ে ওঠা প্রকৃতি
২. উষ্ণায়ন করে চলা রাষ্ট্র সমূহ" ...

খুবই ভাল পয়েন্ট এই রাজনীতি অস্তিত্ত্বের।

কিন্তু "প্রতিপক্ষের" ব্যাপারে আমি একটু সন্ধিহান। প্রথম প্রতিপক্ষ "উষ্ণায়িত হয়ে ওঠা প্রকৃতি" - এটার মানে কী?
প্রকৃতির উষ্ণায়িত হয়ে যাওয়াটা প্রতিপক্ষ কেন? নাকি মানুষের চোখে বিরূপ প্রকৃতিই প্রতিপক্ষ ? শরৎ এর কথা পরিস্কার শুনতে পেলে ভাল হত। কথাগুলো একেবারে ফান্ডামেন্টাল, এর উপরে ভর করেই আমরা সমস্যা ও প্রতিপক্ষ চিনব - ফলে বড় গুরুত্ত্ব বহন করে।
২০. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪
পি মুন্সী বলেছেন: লেখক মুনশিয়ানা বলছেন, "আমাদের স্স্থানীয় গাছপালার পরিবর্তে সেখানে লাগানো হয়েছে একাশিয়া ধরনের গাছ- ইউক্যালিপটাস। এটা প্রাণ বৈচিত্র রক্ষার ধারণার সাথে সঙ্গতিপুর্ণ নয়"। কথাটা ঠিক; তবে কথাটা উঠেছে বলে আমি একে আরও বিস্তারের সুযোগ নিব।

ইউক্যালিপটাস গাছের সমস্যা হলো এটা প্রচুর পানিগ্রাহী, শুষে নিয়ে বেছে থাকে এমন গাছ; ফলে আশে পাশে আর কোন প্রজাতি গাছপালা বৃক্ষ যেন পানি না পায় এর ব্যবস্হা করতে এই গাছের জুড়ি নাই।

তবু ইউক্যালিপটাস প্রকৃতিরই প্রজাতি গাছ যেহেতু প্রকৃতিতে এটা কী পরিমাণ ও কী পরিবেশে কোথায় থাকবে, আশেপাশে আর কোন বিপরীত প্রজাতি থেকে এর নেতি-প্রভাবের একটা ভারসাম্য আনবে - এসব বিচারে প্রকৃতিতে একটা প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে সে ছিল। কিন্তু সেই পরিবেশ সম্পর্ক না জেনে, খবর না রেখে কেবল ইউক্যালিপটাসের প্রতি নগদ অর্থকরীর সম্ভবনার লোভে ওকে উঠিয়ে ভারসাম্য পরিস্হিতি থেকে বিচ্যুত করে এক নতুন জমিতে বেশুমার লাগিয়ে ফেলা শুরু হয়েছিল, এখনও চলছে; গাছ লাগিয়ে উন্নয়ন মাপার খাতায় এটা উন্নতি অবশ্যই; কিন্তু আসলেই কী উন্নয়ন? না কী খোদ উন্নয়ন ধারণাটাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে?

শিল্প শেষ করে পরে সত্তরের দশকে কৃষিকেও নতুন বিনিয়োগ-মুনাফার আর এক নরক বানাতে সবুজ-বিপ্লব আওয়াজে এই নারকীয় ঘটনাই ঘটেছিল, তবে থামে নাই চলছে এখনও।
এশিয়ার মত আফ্রিকায়ও বেশুমার এই গাছ লাগানোর একটা হিড়িক উঠেছিল তখন থেকেই। আমাদের দেবদারু বা বাঁশ জাতীয় গাছ - এর শিরদাড়া খাড়া থাকে বলে ঘরবাড়ির খুটি বানাতে দরকারি মনে করা হয়। ঘরবাড়ির খুটি বানানোর দিক থেকে ইউক্যালিপটাস গাছেরও এই বৈশিষ্ট থাকাই কাল হয়েছে; লোভী বিনিয়োগ-মুনাফার কারবারীরা কেবল একদিকটারই প্রেমে পড়েছে ফলে ওদিকে যে এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে গেছে, সেখবর কারও নেবার দরকার পড়েনি।

কথাটা বিস্তারে বললাম এজন্য যে এটা কেবল ইউক্যালিপটাস গাছের বিষয় নয় - প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক বিষয়ক ভাবনা ও লোভের এক সাধারণ চিত্র।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: বনায়ন আমাদের প্রয়োজন, নিঃসন্দেহে। তবে আমাদের উচিত প্রকৃতি পরিবেশের সাথে মানানসই গাছ লাগানো। নির্বিচার গাছ লাগানো কোন সমাধান হতে পারে না।

২১. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০০
পি মুন্সী বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন বলছেন, " ৫০ বছরের মতো তেলের মজুদ আছে আর গ্যাস হয়তো ১০-২০ বছর। এর পর আর জৈব জ্বালানীর দিকে ঝুকবার চান্স নাই" - এটা কী ভরসার কথা বললেন? আমি বুঝি নাই। তবে মনে হচ্ছে যাঁড় পালার মত এক তরিকা।
ষাঁড় দুভাবে পালা যায়; গোয়ালে রেখে খড় ভুষি যোগাড় করে দিয়ে। আর দ্বিতীয়টা হলো, কাঁচা বাজারে ষাঁড় ছেড়ে দিয়ে, দোকানদারদের সাজানো পসরা আর মারধর গুতা খেয়েও ষাঁড় বড় হতে পারে। আমার মনে হচ্ছে উনি দ্বিতীয়টার কথা বলছেন।
জীবাস্ম জ্বালানী ফুরিয়ে যাবে ফলে কার্বন নিঃসরণও আর থাকবে না; না রবে বাঁশ না রবে বাঁশি। ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে এরপর আমরা তা দেখতে আসার জন্য বেঁচে থাকলে হয়।

"ইউরোপে ব্যাটারী চালিত গাড়ি বা মোটরবাইক ধুমায় চলছে" -

ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় একটা গল্প আমার এখনও প্রায়ই মনে হয়। আধা শহুরে হয়ে উঠছে, খাওয়ার চাল আর গ্রামের জমি থেকে আসে না শহরে কিনে খেতে হয় - এরকম এক সময়ের ঐ জীবনে শহুরে স্কুলের বন্ধুদের সাথে তর্ক হচ্ছিল; বিষয় কৃষকের গুরুত্ত্ব। আমাদের দেখতে অভ্যস্হ প্রায় সব পরিবারেরই গ্রামের সাথে সম্পর্ক খুব একটা নাই, শেষ হতে বসেছে। এঅবস্হায় দূরে গ্রামের কৃষক আমাদের জন্য চাল উৎপাদন করে যাচ্ছে - একথা ঐবয়সে বুঝতে পারা এক বিরাট জ্ঞানের কথা। তো আমরা প্রায় সবাই একমত যে কৃষি বা কৃষকের গুরুত্ত্ব কী। কিন্তু বাধ সাধলো বা বলা যায় আসরে ছন্দ পতন ঘটলো, আমাদেরই এক সহপাঠি বন্ধুর কথায়। যতদূর মনে পরে সে আমাদের অনেকের চেয়ে বেশি দিনের, প্রজন্মের শহুরে পরিবার থেকে আসা। সে বলল, কৃষক চাল না উৎপাদন করলে কী এসে যায় "আমরা রেশনের দোকান থেকে চাল কিনব!"

তো, আপনার ধুমায়ে চলা "ব্যাটারী চালিত গাড়ি" - পৃথিবীর সব গাড়ী ব্যাটারীতে চালু করে দিলে আয়ু শেষে সেই পরিত্যাক্ত ব্যাটারীগুলোর পরিমাণ আন্দাজ করবেন, কোন ভাগাড়ে ফেলবেন, সেই ভাগাড় হতে কোন দেশ রাজি হবে ....... , আচ্ছা এগুলো বাদ থাক।
ব্যাটারী চার্জ করতে যে এনার্জি লাগবে সেটার উৎস কী হবে? এটা আমাদের জানাবেন।

লাইফ ষ্টাইলের সাথে ভোগ, উৎপাদন, শিল্প, টেকনোলজীর সম্পর্ক কী - এই বিশাল সমীকরণ আগে ভেবে দেখতে হবে। নইলে টেকনোলজীর মাহাত্ম বুঝা যাবে না।
২২. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১১
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: @পি মুন্সী ভাই, দারুন লিখেছেন, এরকম আলোচনাই তো চাই। আসলে আমি আমার অনেক কথাতেই ফাক রেখেছিলাম যাতে কেউ আসুক এগিয়ে, যাতে করে কিছু কথা শেয়ার করতে পারি যা বস্তবে ইমপ্লিমেন্ট বেশ ভালো বাহবেই করা যায়।

আমি ভাই টেকনিক্যাল লাইনে পড়া লেখা করছি তাই আমি ডাইরেক্টলি কথা বলি আপনাকে, যদিও সামনে পরীক্ষা থাকায় আমি আপনাকে সঠিক পরিসংখ্যান বা স্পেসিফিক পরিসংখ্যান দিতে পারবো না।
জীবাস্ম জ্বালানী ফুরিয়ে যাবে ফলে কার্বন নিঃসরণও আর থাকবে না; না রবে বাঁশ না রবে বাঁশি। ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হয়ে এরপর আমরা তা দেখতে আসার জন্য বেঁচে থাকলে হয়।

বাংলাদেশেই কইছু দিন আগে সেমিনার হয়ে ছিলো যেখানে এই বিকল্প জ্বালানী খোজবার জন্য বেশ আলোচনা হয়েছিলো সেখানে একটা পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে এভাবে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়তে থাকলে ২০৭১ সাল নাগাদ ১৭% অংশ পানির তলে চলে যাবে বাংলাদেশের এবং আর অনেক বিস্তৃত এলাকায় লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়বে। তবে তার আরো কিছু দিন আগে মনে হয় এমআইটি বা আমেরিকার কোনো এক রিসার্চ সেন্টার থেকে বলা হয়েছিলো যে মধ্যপ্রাচ্যে আর নাইজেরিয়ায় যে পরিমানে গ্যাস তোলা হয় এভাবে চলতে থাকলে এবং বর্তমান তেল কনজাম্পশন যদি এমনেই চলতে থাকে তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ ইহাও ফুট্টুস। রাশিয়ায় প্রচুর গ্যাস আছে যা দিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটা দেশে সাপ্লাই দেয়া, তবে ওরা সেরকম প্রজেকশন না করলেও ওভারঅল ভূতাত্ত্বিক এনালাইসিস করে অনুমান করা যায় গ্যাস খুব দ্রুত ডিপ্লিট হয় হতে পারে উহা আরো ১০-২০ বছর।তার পর যে টেকনোলজি গুলো দাড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ উতপাদনের জন্য সেটা হলো উইন্ডমিল, সৌর বিদ্যুৎ এবং সবচেয়ে বড় ক্যান্ডিডেট নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট। এছাড়াও আরো কিছু ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে এবং ইউরোপের কয়েকটা ল্যাবে ভেবে দেখা হচ্ছে সাগরের স্রোত এবং এ্যান্টিম্যাটার টেকনোলজি (কমপ্রেসড মেগা ফুয়েল) দিয়ে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। ইউরোপের অনেক দেশ এখন যে পরিমান পাওয়ার উৎপাদন করে নিউক্লিয়ার সেটা চিন্তা করলে আপনার ঘুম হারাম হয়ে যাবে। আর আপনি যদি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট সম্পর্কে আরো ডিটেলস জানতে চান তাহলে একটু জার্নাল টাইপ লেখা পড়তে পারেন:

১) নিউক্লিয়ার এ্যানর্জি: চেনা জানা কিছু অজানা কথা-1
২) নিউক্লিয়ার এ্যানর্জি: চেনা জানা কিছু অজানা কথা-2

যদিও এর পয়েস্ট ম্যানেজম্যান্ট এর কমপ্লিকেশন এর প্রকৌশল গত সমাধান এবং কিছউ পরীক্ষিত তবে মার্কেটে আসেনি এমন কইছু রিফাইনম্যান্ট নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু সময়ের অভাবে লিখতে পারিনি। তবে এটা ঠিক বাংলাদেশে একটু গবেষনার ভালো সুযোগ থাকলে বাংলাদেশে সেই মেধা আছে যেটা দিয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার নিয়ে কাজ করা যায় তবে দুর্নীতিটাই বড় ভয়।

তো, আপনার ধুমায়ে চলা "ব্যাটারী চালিত গাড়ি" - পৃথিবীর সব গাড়ী ব্যাটারীতে চালু করে দিলে আয়ু শেষে সেই পরিত্যাক্ত ব্যাটারীগুলোর পরিমাণ আন্দাজ করবেন, কোন ভাগাড়ে ফেলবেন, সেই ভাগাড় হতে কোন দেশ রাজি হবে ....... , আচ্ছা এগুলো বাদ থাক।

আমি ভাই খুবই আশাবাদী এবং প্রচন্ড নিরীক্ষাধর্মী লোক। একটা উদাহরন দেই সিএনজী গ্যাস কমপ্রেশনে বা এলপিজি দিয়ে বড় কোনো হর্সপাওয়ার লোডের জেনারেটর চলবে সেটা ২০০০ সালের আগে খুব বেশী লোক চিন্তা করেনি বাংলাদেশে। এর কিছুদইন পর আমাদের ভার্সিটির ডীন আর তার হাতে গড়া ভার্সিটির এনার্জী ইনস্টিউট টি একটা সম্মেলন করে যদিও সেখানে উপস্হিত ছিলাম আমরা ছাত্র স হ হাতে গোনা মোটে ২৫ জনের মতো, সেখানে তারা দেখান আসলে সমস্যাটা কি হয় এবং কিভাবে তারা সেটা দূর করে বিদ্যূত বা জ্বালানী উৎপাদন করেছেন। তার কয়েকবছর সরকার দেশীয় প্রযুক্তির দইকে না তাকিয়ে নাজমূল হুদা ভাই ভূড়ি উচা করে টেকনোলজী কেনায় জার্মানী থেকে আর গাড়ী আনায় ভারত থেকে। আর এখন রাস্তাঘাটে দেখবেন ট্রাকও চলে।

আরেকটা উদাহরন দেই, ২০০০ এর আগেও টেকনাফে বসে ইন্টারনেট পাওয়াটা ছোলিম চিন্তার ফসল। কিন্তু এখন যতদূর জানি বাংলাদেশ সরকারের উইথআউট কোনো ইনভেস্ট এ বেসরকারী পর্যায়ে আপনি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া এরশাদের মতো ইন্টারনেট আছে দেশ জুড়িয়া টাইপ স্লোগান দিতে পারবেন। সবচেয়ে বড় উদাহরন জিপির জিপিসিআইসি অপারেশনটার নাম বলা যেতে পারে।

আপনারা যেই ইনভেস্ট বা যেই টেকনোলজির কতাহ বলছেন, সেটা শুনলে হাসি পায়, কারন বাংলাদেশ সরকার আগে উদ্যোগ নিক, টাকাও সমস্যা হবে না, টেকনোলজিও না। খালি দুঃখ লাগে দেশের অনেককে দিয়ে এইসব হার্ডকোর টেকনোলজি ডেভেলপ করাতে পারতো, কিন্তু সরকার সেগুলো করে না।

লাইফস স্টাইল ভোগবাদী পন্য এসব কিন্তু ইন্জ্ঞিনিয়ারদের ওয়ার্ড না, তাদের কাছে শুধু এটা জিজ্ঞেস করবেন,' তুমি পারবা কিনা? কবে নাগাদ এইটা চালু করবা?'

দেখেন সে কি বলে, আর টাকা পয়সা.....'টাকা দিবো ফুরাডান!'

আমি আরও বেশি আলোচনার এক্সপেক্ট করছি!
২৩. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: তবে তার আরো কিছু দিন আগে মনে হয় এমআইটি বা আমেরিকার কোনো এক রিসার্চ সেন্টার থেকে বলা হয়েছিলো যে মধ্যপ্রাচ্যে আর নাইজেরিয়ায় যে পরিমানে গ্যাস তোলা হয় এভাবে চলতে থাকলে এবং বর্তমান তেল কনজাম্পশন যদি এমনেই চলতে থাকে তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ ইহাও ফুট্টুস।


একটু ভুল হইছে, এখানে গ্যাসের জায়গায় তৈল হবে! বান্দরের বাশের সেই তৈল না, জ্বালানী লুব্রিকেন্ট!
২৪. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৭
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: একটা কথা ভুলে গেছি বাংলাদেশে এখন যেই ফুয়েল সেল গুলা ইউজ করা হয় বা ব্যাব হার করা হয় সেগুলোর বেশিরভাগ জানি রিসাইকেল বা রিস্টোর সম্ভব। আপনি যদি রহিমাআফরোজ থেকে ব্যাটারি কেনে দেখবেন তারাই এমন এক স্কীম দেয়। আর ব্যাটারী ব্যাব হার করলেই যে বর্জ্য হবে এটা আসলে পুরোনো কথা। একটু নতুন কিছউ বলেন, কারন কালকে র পন্যের যে সমস্যা থাকে, আজকে সেটা থাকবে না। প্রকৌশল বিজ্ঞান এক জায়গায় কখনোই বসে নেই!
২৫. ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৫
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: আমরা আমাদের কাজটুকু করতে পারি, তবে ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার আমরা হবোই :(

তাই বলে বসে থাকা যাবে না, আমরা সচেতন না হলে সম্পদশালী দেশ গুলো ও সচেতন হবে না ।

এই ইস্যুতে লেখা আরো প্রয়োজন
ধন্যবাদ আপনাকে
০৯ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০১

লেখক বলেছেন: আমি নিশ্চিত, এই ইস্যুতে আগামী দিনগুলোতে আমাদের কথাবার্তা আলাপ আলোচনা আরও বাড়বে।কারন উষ্ণায়ন নিয়ে আমরা বিরাট ঝুকির মধ্যে আছি।

পরিবেশের বিপর্যয় রোধ করতে না পারলে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।

২৬. ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৩
পি মুন্সী বলেছেন: উদাসী স্বপ্ন @,

আপনার লম্বা লম্বা মন্তব্য তিনটা কষ্ট করে হলেও পড়লাম। এটাও বুঝলাম, প্রকৃতির দুই জানু চেপে ভোগের উপকরণ কে কত ভাল বের করতে পারে - এইসব তথাকথিত "প্রযুক্তিবিদ" আসলে পুঁজির ভাড়া খাটা কীট। টেকনোলজি বুঝা এদের কর্ম না।

আপনি কে? আপনার ও প্রকৃতির সম্পর্ক কী? কে কার জানু চেপে ফসল বা ভোগ বের করে আনছে - এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর না জানলে টেকনোলজি, ভোগ মানে কী - কিছু বুঝা যাবে না।

বউকে বাচ্চা পয়দার যন্ত্র মনে করে বছরে বছরে বাচ্চা চাই তাঁর - এমন বাতিক অনেক মর্দ্দের আছে; এভাবে শেষে বউ মারা গেলে হয়ত আর একটা বউও সে পাবে; কিন্তু আপনি যে প্রকৃতির অংশ, যে প্রকৃতি আছে বলেই আপনি আছেন - এটা একটাই। আর একটা বউ পাবার মত কোন ঘটনা এখানে নাই।
এই উদাহরণে বউ এর সাথে মর্দ্দের সম্পর্ক যেভাবে ধরে নেয়া আছে প্রকৃতিকে দেখার ক্ষেত্রে আপনার সেই একই দৃষ্টিভঙ্গী। আপনি এই প্রকৃতি ধ্বংশী অর্থাৎ আত্মধ্বংশী কাজের মহা বিজয়ী তৎপরতায় নিজেকে একজন দাইমা ভুমিকায় দেখেন যে বেশি বেশি আর সফলভাবে বাচ্চা বের করে আনার কারিগর। মর্দ্দ যেমন ব্উয়ের সাথে তার সম্পর্ক কী বলতে পারে না, দেখেও না, ওর লোভ কেবল ভোগ, ফসল বা বাচ্চার দিকে নজর, ঠিক তেমনি আপনি দাইমা বা তথাকথিত ইন্জ্ঞিনিয়ার" - প্রকৃতির সাথে আপনাদের সম্পর্ক কী তা দেখতে পান না।
আপনি যে দাইমা তা আপনি নিজেই ভাল সামআপ করে বলেছেন, "লাইফস স্টাইল ভোগবাদী পন্য এসব কিন্তু ইন্জ্ঞিনিয়ারদের ওয়ার্ড না, তাদের কাছে শুধু এটা জিজ্ঞেস করবেন,' তুমি পারবা কিনা? কবে নাগাদ এইটা চালু করবা?'
দেখেন সে কি বলে, আর টাকা পয়সা.....'টাকা দিবো ফুরাডান!"

ফলে আমি আগে আপনাকে বলেছিলাম, "লাইফ ষ্টাইলের সাথে ভোগ, উৎপাদন, শিল্প, টেকনোলজীর সম্পর্ক কী - এই বিশাল সমীকরণ আগে ভেবে দেখতে হবে। নইলে টেকনোলজীর মাহাত্ম বুঝা যাবে না"। - একথা কী আপনি বুঝতে পারবেন?
২৭. ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০৮
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ভাই পি মুন্সি, আমি কি কইলাম আপনে কি কইলেন_ মনে হয় বেজায় চটে গেছেন যখন টেকনিক্যাল দিকে আমি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলাম। আপনার মতো মৌলবাদী টাইপের লোকের কাছে আমি অন্তত একটা ম্যানার্স আশা করেছিলাম। আর জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ বিজ্ঞান এ দুটোর সাথে যে টেকনোলজিক্যাল লজিক আর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র গুলো কতো অতোপ্রতোভবে জড়িত সেটা মনে হয় আপনাকে বুঝানো সমভব না।

আপনি এখানে পাল্টা কোনো যুক্তি পারেননি যেটা খন্ডাতে গিয়ে একটা মুক্ত আলোচনার আসর বসতে পারতো সেখানে আমরা এল নিনো, গ্রীন হাউজের ফলে কার্ব ডাই অক্সাইডের পরিমান এবং এটা কিভাবে রিজল্ভ করা যায়, এবং আরো একটা নতুন থিওরী নিয়ে কথা বলা যেতো সেটা হলো পোলশিফ্ট আর এখন যেভাবে ১ মিলিমিটারের খুব সম্ভবত নয় ভাগের এক ভাগ হারে যে পরিমান পানি বাড়ছে প্রতিবছর সোভবে আমরা কি কি চ্যালেন্জ্ঞ এবং আমাদের হাতে থাকা অপশন নিয়ে খুব ভালো আলোচনাও করতে পারতাম এবং আসলেই বা এই জটিল পরিস্হিতিটা যে সাময়িক সেটা কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায় মার্জিনাল টাইমলাইন, সেটা সম্পর্কে কথা বলার পথও রুদ্ধ করে দিলেন।

হয়তোবা এমন তার্কিক হাতের সামনে পেলে তার চেহারার মানচিত্র পাল্টাতেই আমি পছন্দ করি!

ভালো থাকেন এবং প্রেশার চেক করেন! আপনার সাধ্য নেই এই আলোচনা এগিয়ে নেয়ার!
১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৯

লেখক বলেছেন: ভুল জায়গায় এসে পড়েছেন ভাইটু... এখানে আপাতত মাথার শক্ত খুলির শক্তি আমরা পরীক্ষা করছি না।

২৮. ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫১
মেটালিফেরাস বলেছেন:

@উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: ভাই পি মুন্সি, আমি কি কইলাম আপনে কি কইলেন_ মনে হয় বেজায় চটে গেছেন যখন টেকনিক্যাল দিকে আমি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলাম। আপনার মতো মৌলবাদী টাইপের লোকের কাছে আমি অন্তত একটা ম্যানার্স আশা করেছিলাম। আর জলবায়ু পরিবর্তন আর পরিবেশ বিজ্ঞান এ দুটোর সাথে যে টেকনোলজিক্যাল লজিক আর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র গুলো কতো অতোপ্রতোভবে জড়িত সেটা মনে হয় আপনাকে বুঝানো সমভব না।

এইখানে কোথায় পি মুন্সী চটে গেল তা বোঝা গেল না, অথচ উদাসী চটে যাওয়া দেখেও তার কাছে ম্যানারর্স আশা করছিলেন! আজব তামশা যাই হোক।

তার পর উদাসী বলছেন: হয়তোবা এমন তার্কিক হাতের সামনে পেলে তার চেহারার মানচিত্র পাল্টাতেই আমি পছন্দ করি!

কি ভয়ংকর কথা! তার্কিক পেলেই যদি আপনি চেহারার মানচিত্র পাল্টাতে পছন্দ করেন তাহলে টেকনোলজিক্যাল পড়াশুনার আর দরকার কি? ধলা সামছু বা কালা জাহাঙ্গীররে ছুট্টি কইরা দিয়া মাঠে নাইমা যান, হেকমত যেহেতু আছে তরক্কি খারাপ হবে না।

আপনাকে একটা অনুরোধ করি উদাসী স্বপ্ন। বাপের টাকায়/দেশের টাকায় বিদেশেপড়তাছেন, পড়েন। খামাখা কারো চেহারার মানচিত্র পাল্টানির খায়েশ দেখাইয়েন না। এইটা ব্লগীয় ভাষা না। লজিকে না পাইরা মানচিত্র নিয়া টানানির চেয়ে ব্লগে যে আউল ফাউল বাগাড়াম্বর কইরা বেড়ান সেইটাতেই থাকেন। এই ধরণের শক্ত বিষয়ে আর মাথা ঘামাইতে আইসেন না। নরম কিছু থাকলে সেইখানে নাক ডুবাইয়া বইসা থাকেন, আর নিজের পোলশিফ্ট, কারিগরি জ্ঞান, ব্যাটারি ত্বত্ত্ব নিয়া দুরে গিয়া মরেন। বলা তো যায় না কখন আবার নিজের মানচিত্র কেউ ঠুস কইরা পাল্টাইয়া দেয়....
২৯. ১০ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:২৯
স্বপ্নকথক বলেছেন: খাইচে...বিশ্ব নিয়া কথা কৈতে গিয়া পোস্টই দেখি গরম হৈ গেলো!!
৩০. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৪
পাপতাড়ুয়া বলেছেন: আপনি এইটা কি কর্লেন রে ভাই??এই ক্যাচাইল্লা দুনিয়ায় আসার কুনো দরকার ছিলো?

যাক গা,আইয়া যহন পড়ছেন,পাপীর পাপমুক্ত একখান হেপ্পি বার্ডে লন।:):):)
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: আপনার পাপমুক্ত হেপ্পি বার্ডের জন্য এক টেরাক ধইন্যা...

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: অসংখ্য কৃতজ্ঞতা রুনা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব আনন্দে থাকুন...

৩২. ১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩১
রুখসানা তাজীন বলেছেন: শুভ জন্মদিন।

সুন্দর এবং দরকারি আলোচনাসমেত পোস্ট প্রিয়তে।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ তাজিন, অনেক শুভেচ্ছা। ভাল থাকবেন।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১৪

লেখক বলেছেন: আরে কঁাকন ভাই যে, অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

৩৪. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৩
কৌশিক বলেছেন: আপনার পোস্টটা পড়েছি আগেই। কিন্তু নেটবিযুক্ত থাকায় ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও কোনো মন্তব্য করতে পারি নাই।

ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়া আমাদের কি আসলে কিছু করার আছে? আমি কনফিউজড পৃথিবীর তাবৎ রাঘববোয়ালদের তো কোনো সমস্যা হইতেছে না, সমস্যার চুড়ান্তরূপটা তো দেখতে হবে বাংলাদেশেকেই।

কেন মোড়ল দেশগুলা আমাদের জন্য কার্বন এমিশনের মাত্রা কমাবে?
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়া আমাদের কিছু করা বা না করার কোন চয়েশ নাই... এটা আমাদের বাঁচা মরার প্রশ্ন।

আমরা বিশ্বাস করি বিবেকবান মানুষ পৃথিবীর সর্বত্রই রয়েছে, যারা মানবতার স্বপক্ষে সবসময়ই সোচ্চার। এই মানুষদের সাথে আমাদের গলার আওয়াজ মেলাতে হবে, যারা বাধ্য করবে মোড়ল দেশগুলোর কর্ণধারদের এই সমস্যার সমাধান করার।

সমস্যার চুড়ান্তরূপটা বাংলাদেশেকে দেখতে হলেও পৃথিবীর কোন দেশই নিরাপদ নয়। এটা এমনই একটা বিপর্যয়, চুড়ান্ত বিচারে যা থেকে কোন দেশেরই রেহাই নেই।

মোড়ল দেশগুলির সচেতন নাগরিকেরা তা জানে, তারা জানে জনমতের দাবীর বিরুদ্ধে তাদের সরকার যেতে পারে না। জনদাবীর মুখে কার্বন এমিশনের মাত্রা নিয়ে সরকারকে একটা পজেটিভ সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। গত কোপেনহেগেনের সম্মেলনে বরাক ওবামার আচরনে সেটাই ধরা পড়েছে।

৩৫. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন: শুভ জন্মদিন
(এট্টু লেট করে ফেলছি মনে হচ্চে!! )
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: খুব বেশি দেরী হয় নাই... বোহেমিয়ানকে অনেক ধন্যবাদ।

৩৬. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০১
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: দেরী করে আসলাম। কেবল পোস্ট না, মন্তব্য বা আলোচনা থেকেও জানা গেল আরও অনেক কিছু।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে দেখে ভাল লাগলো, মাসুম ভাই... অনেক ধন্যবাদ।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

লেখক বলেছেন: পড়লাম, অনেক ধন্যবাদ।

৩৮. ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১
শাহনাজ খান বলেছেন: আপনার লেখা পড়ে জানলাম অনেক কিছু, ধন্যবাদ।
১৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

৩৯. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৫
ফারহান দাউদ বলেছেন: বিশ্লেষণে যাচ্ছি না, ঐ বিদ্যাও নেই। তবে আজকাল মনে হয়, দুনিয়ার ৯৫ ভাগ লোক মহামূর্খ, আর বাকি ৫ ভাগ বুঝেও কেয়ার করে না, নিজে বাঁচলেই খুশি,সেদিক থেকে তারাও মূর্খ।
৪০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৭
অজন্তা তাজরীন বলেছেন: খুবই ভাববার একটি বিষয়!! আমাদের প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের জন্য আমরা প্রকৃতির সৃষ্ট সেরা জীবরাই দায়ী।এর দায়ভার আমাদের সবার।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৯৪৭৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ ধরনী পরে- সকলে আমরা সকলের জন্য- প্রত্যেকে আমরা পরের তরে-
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই