স্বনামধন্য সাংবাদিক কুলদিপ নায়ার বাবুর লেখায় পড়লাম যে, জিন্নাহ ‘ভারতমাতার অঙ্গচ্ছেদ করেছে’ - আরএসএস তাকে ক্ষমা করতে কোনোভাবে রাজি ছিল না। ভাবখানা এমন যে, ভারত জিন্নার বাবার তালুক ছিল। দুষ্টুলোক জিন্নাহ তাকে ভাগ করে ‘ ভারত ও পাকিস্থান ’ নামক দুইটি রাষ্ট্র দান করেছিলেন হিন্দু ও মুসলমান নামক অন্ধ, বোবা ও কালা মতের অনুসারিদের কাছে।
বইতে পড়েছি ব্রহ্ম জ্ঞান আছে যাহার তাহাকে ব্রাহ্মণ সম্মোধন করা হয়। সেই জ্ঞানীদের স্থান এখন দখল করেছে পদবিধারী। আমাদের বাংলা ভাষায় ‘অজ’ বলে একটা শব্দ আছে। গোটা বিশেক অর্থ পাওয়া যায় হরিচরণের ‘বঙ্গীয় শব্দকোষে অজ- এর সবগুলো অর্থ মনে নাই, শব্দের গুনের কারণে দুইটা অর্থ বলতে পারি। একটা হলো ‘ভগবান’ অন্যটি‘ছাগল। এখন ব্রাম্মণ বলতে উন্নাসিক, কালার্ড ও প্রেত উপাসক দোপায়াদের জিম্মায়। তাদের নাই কোন ব্রহ্ম জ্ঞান বা এমন কি এই জম্বুদ্বীপের প্রকৃতি জ্ঞান। আছে কেবল রাষ্ট্রীয়(ক্ষমতা)পিষ্ঠোপোষকতার অদৃশ্য সমর্থন যাহা ধংষ করতে পারমঙ্গম কিন্তু গড়তে নয়। ইতিহাস বলে ওদের এতো হট্টোগোল অরাজগতা কেবলই স্থানীয় উৎপাদন ও বাজার লুটের কারসাজির মহড়া বলিউডি উপাক্ষাণ মাত্র।
খ্রীষ্টান আমলের পরবর্তী ভারতের ১৯৪৭’র ডমিনিয়ণ প্রাপ্তীর পর ওদের সাম্প্রদায়ীক ও বর্ণবাদী (আর্যবাদী) আচরণ ভয়াবহ আকার ধারন করে। এখনতো ওরা খাপ ছাড়া আর্য তলোয়ার হিসাবে বিরাজ করছে ভূ-ভারতে। ওরা যে হিন্দু তালেবান সে কথা বলবার মতো ব্রাহ্মণ এখন ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না। এতো না হয় গেল গিবৎ চর্চা-প্রকৃত সংবাদ তাহলে কি ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ(বাজার দখলের লড়াই)-এর পরবর্তী যুদ্ধবাজদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক চেহারা কি ছিল ? আমরা তার কতটুকু না হয় জানি বা আনুমান করতে পারি ? গত শতাব্দীর ১৯৪৫ সালে যখন ইউরোপের বহুধা বিভক্ত পূঁজিবাদী ও সমাজবাদের নানা মুনির অনুসারি খ্রীষ্টান দেশগুলোর বাজার দখলের লড়াই শেষ হলো। তখনকার বিশ্বের ঠোঙ্গা শ্রেণীর দেশ(একদা গ্রেট)ব্রিটেন, জার্মান, ফ্রান্স, ইতালি ও রাশিয়াসহ ইউরোপের অর্থনীতি দেউলিয়া অবস্থায় বিরাজ করছিল। এশিয়ার পূর্বের তেলেসমাত জাপান এটোম বোমায় কুপোকাত।
একমাত্র থাকলো আটলানটিকের পশ্চিমে ও প্রশান্ত পূর্বে মোড়ল আমেরিকা। আর ছিল পরাধীন হিন্দুস্থান বা আমাদের এই উপমহাদেশ। জনারণ্যের দেশটার দখলদারিত্বের সীমানা পশ্চিমে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ মাল্টা থেকে আফ্রিকা, এশিয়ার পশ্চিম থেকে পূর্ব দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড, উপরে মালেশিয়া, ব্রুনাই ও পূবে চীনের সমদ্রের উপকূলীয় বন্দর এবং নগর কেন্দ্রগুলো। আর্থাৎ খ্রীষ্টান সম্রাজ্যবাদ ব্রিটিসদের দখলকৃত এলাকা সমূহ দেখভাল হতো হিন্দুস্থানের অর্থে ও নেটিভ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে।
যেহেতু আমাদের তখন ব্রহ্মজ্ঞানে জ্ঞানী কোন ব্রাহ্মণ টিকি বা টুপিধারী নেতা ছিলেন না। আর যারা ছিলেন তাদেরকে শাসকশ্রেণীর দাস-দালাল ছাড়া কিছুই মনে হয় না। তাদের একজনের বিরুদ্ধে আরএসএস-এর বিষাদগার অন্য কিছু নয়। অতীত প্রভুর পূঁজি ও বাজার রক্ষার্থে ভারতীয় জনসাধারণকে বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত করার অপচেষ্টা মাত্র। আর্য ব্রাহ্মণ নামধারী ভারতীয় দুই মালকে সতী সাজাবার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আদত ঘটনা কেউ বলতে পারে না শ্রেফ নেটিভ ইংরেজি শিক্ষার কারণে।
গত শতাব্দিতে ব্রিটিসরা ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্থানকে ডমিনিয়ণ দান করে তখন ব্রিটেন বলতেই বিশ্ব বাজারে দেউলিয়ার মোড়কে কাগুজে সিংহ ছাড়া কিছু নয়। আমাদের ‘ত্রি-অজ’দের সেই বিদ্যা ছিলনা যে, তিনজনে একজোট হয়ে দখলদার বিটিসদের প্রশ্ন করবে তোমরা কারা আমাদের ভূ-খন্ড দখল করে আছো ? বা ওদের পিটমোড়া দিয়ে বলবে বহু লুটপাট করেছ, এখন রানীর কাছে খবর পাঠাও, লুটে মাল ফেরত দাও অথবা ভারতমহাসাগওে দষ্কৃতি জলদস্যু পাঁচ লক্ষকে বলির জন্য বিষর্জণ দেওয়া হবে।
বর্তমানে জাতিসংঘে যেয়ে বলতে হতো না আমার ভেটো পাওয়ার কোথায় ? দূর্ভাগা হিন্দুস্থানীরা স্রেফ নেতৃত্বের অভাবে বিশ্ব মোড়ল হতে পারলো না। তাইতো বিশ্বের প্রকৃত মুক্তি হলো না সমাজে প্রগতির জন্য। তাই ঘরে ঘরে সংঘাত করে মূর্খদের বীর সাজতে দেখতে পাই টিকি, টুপি ও বালার আবরণে অতীত এবং বর্তমানে
সত্যিকথা বলতে কি এখনও সুযোগ আছে বিশ্ব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রনের। যে রাজনীতি এখন ভন্ড ব্রাহ্মণের বন্ধানীতি বর্জন করে, সরদারজীর পরামর্শে গত শতাব্দীর শেষ দশকে দ্বিতীয় দফা দেউলিয়ার পর। এই বন্ধানীতির প্রবক্তা ছিলেন মহান পন্ডিত(৫৪ধারা)নেহেরু এবং তার কণ্যাসহ চেলা চামুন্ডারা। যিনি ভারতের ডমিনিয়ণের দায়িত্ব পেয়েই গুজরাটের ইমোশনাল অজ-টাকে বলি দেন।
ব্রাহ্মণ নেহেরু গন্ধী বলি হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ভারতের সঞ্চিত(১৫শত কোটি রূপী)অর্থ ইংল্যান্ডে পৌঁছিয়ে দেন দিগম্বর অবস্থার হাত থেকে প্রভুকে রক্ষা করতে। বেচারা অহিংস ব্রাহ্মণ শ্রেফ গুজরাটি দেশী ভায়াকে নগদের কিয়দাংশ ভাগা দিতে মহাপন্ডিতকে অনুরোধ করেছিল। এতেই খুল্লখালাস হয়ে গেল ভারতের রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে অহিংস প্রচারকের জীবন কাহিনী। বেচারা !
তখন থেকে ভারতের বাজার ও পূঁজির নিয়ন্ত্রণ রক্ষিতার মর্যদায় জাপিত হতে থাকলো ‘সেকুলার এবং সমাজতন্ত্র’ নামক দেবত্ব বাণীর দোহাইতে। অদ্ভূত বিষয় হলো কাছাখোলা মালগুলো কখনও লেজ তুলে দেখল না জমত্তটা এ্যঁড়ে, দামড়া না কি বকনা ? বেদ বাক্যের মতো অনুসরণ করতে যেয়ে এই সকল চাটাম বাজদের দুই দুইবার দেউলিয়া হতে দেখা যাবে গত শতাব্দীর সত্তর ও নববই দশকে।
**আমার এই লেখাটি খুলনাজার্নালে পুর্বে প্রকাশিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



