লেখায় ক্লান্তি। যাহা একটি সাম্প্রতিক প্রবণতা। ভাবিলাম, এই সুযোগে লেখাকে একটু ছুটি দিয়া পড়ায় কিঞ্চিত মনোনিবেশ করা যাক। দীর্ঘ দিন সিংহপুরে থাকি না না থাকি আগপাশ চিন্তা না করিয়া তাই সিংগাপুর লাইব্রেরীতে নিবন্ধন করিলাম কয়েক সপ্তাহ হইলো। ফলে ইউনি লাইব্রেরী ছাড়াও পুরা সিংগাপুরে ছড়িয়া থাকা সকল কমিউনিটি লাইব্রেরী বিশাল বই, ডিভিড, সিডির সংগ্রহে নির্বিবাধ আদান প্রদান সম্ভব হইবে।
২.
মূলত কোলম্যান বার্ক (যাকে পশ্চিমা দুনিয়ায় রুমিকে অমর করিয়া তোলার স্বীকৃতি দেওয়া হয়) এবং মাইকেল গ্রীনের এডিট করা একটা অসাধারন বই, ইলিউমিনেটেড প্রেয়ার বইটা অর্চাডের লাইব্রেরীতে দেখিয়া যারপর নাই আমোদিত হইয়া ছিলাম। তখুনই ঠিক করিলাম এই বইটি কিছুদিন বাড়িতে রাখিতে হইবে।
মাইকেল গ্রীন এর গ্রাফিক্সের কাজ, ইলাস্ট্রেশন অসাধারন। সেই কাজ লইয়াই ইলিউমিনেটেড প্রেয়ার বইটির পাতায় পাতায় অসাধারন কারুকাজ। সংগে বাওয়া মহিউদ্দীন নামের এক সিংহলী শিক্ষকের প্রার্থনা বিষয়ক কথোপকথন। কাহারো ইলাস্ট্রেশনের প্রতি আগ্রহ থাকিলে এই বইটি দেখা আবশ্যক।
৩.
এই মুহুর্তে যে বইখানি পড়িতেছি (একই সাথে অনেকগুলা প্যারালাল চলিতেছে, তবে প্রাথমিক পঠন এইখান) তাহার নাম 'কনটেমপ্লেশন অফ দি হলি মিস্ট্রিজ' (মূল বইয়ের নাম মাশাহিদ আল আসরার আল কুদ্দুসীয়া ওয়া মাতালী আল আনওয়ার আলা ইলাহিয়া)। লেখক মুরিশ স্পেনের আন্দালুসিয়া জন্ম নেওয়া সর্বকালের সেরা ইসলামী দার্শনিক যাহাকে সন্মান করিয়া শেইখ আল আকবার ডাকা হয় সেই ইবনুল আরাবী। তাহার প্রতি সালাম।
ইসলামীক মেটাফিজিক্সে ইবনুল আরাবীর সমকক্ষ দ্বিতীয়জন জন্মায় নাই। এই বইটিকে অনেকে বলেন ইবনুল আরাবীর প্রথম বই এবং ১১৯৪ সালের দিকে লিখিত। পড়িতে পড়িতে বইটার ভূমিকা হইতে কিছু আমি ইংরেজী ব্লগে সংযুক্ত করিলাম অদ্য ভোরে।
৪.
কেন উইলবার পশ্চিমা বিশ্বে নতুন চিন্তার ঝড় তুলিয়া দেন তার যে বইটির দ্বারা তাহার নাম ইন্ট্রিগ্রাল স্পিরিচুয়ালিটি। এই তত্বটিও তাহার। পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞান, যেমন ফলিত বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান সবকিছুই যেমন বিভিন্ন বিষয়ের ইন্ট্রিগ্রেশনে রূপ লইতেছে, স্পিরিচুয়ালিটির ক্ষেত্রে সেই ধারনাটির প্রয়োগ বিষয়ক প্রায় ৩০০ পেইজের কঠিন এই বইটিকে বলা হয় আমাদের সময়ে স্পিরিচুয়ালিটি বিষয়ে লেখা সবচে গুরুত্বপূর্ণ বই।
৫.
দি ডকট্রিন অফ হিন্দু মিস্ট্রিসিজম বইটা পাইলাম আজকেই। আনিয়া বিছানার পাশে রাখায়ি দিয়াছি। পাতা উল্টানো হয় নাই। লেখন শান্তিদেব।
৬.
মাইকেল গ্রীনের ইলাস্ট্রেশনের আমি বেজায় ভক্ত হইয়া উঠিয়াছে। নিজের আঁকা আঁকিতে তাহার প্রভাব স্পষ্ট ধরিতে পারতেছি। ইতোমধ্যে ভাবগুরুতে পরিণত হওয়া মাইকেল গ্রীনের কাজ সম্বলিত আরেকটি বই যাহা প্রায়শই ঘুমের আগে আমি উল্টাইতেছি তাহার নাম ইলিউমিনেটেড রুমি। কোলাজ ফ্যাশনে করা কাজগুলা অসাধারন। আমার কোলাজের প্রতি আগ্রহ অতি বাড়াইয়া দিয়াছেন। এই বইখানাও সংগ্রহে রাখিবার মতো। সংগে রুমির কবিতার অনুবাদক কোলম্যান বার্ক।
৭.
সাচিকো মুরাতার চাইনিজ গ্লিমস অফ সুফি লাইট একটা অন্যরকম স্কলারলি কাজ। তাও অফ ইসলামের মাধ্যেম সাচিকোর লেখার সাথে পরিচয়। ইসলামী ইতিহাসের একেবারে প্রথমদিককার চাইনীজ মুসলিমদের লেখনিতে সুফি ধারার ইসলামী টেক্সট লইয়া বইটি রচিত। যেটা উপাদেয় সেটা হইলো কিভাবে কনফুসিয়ান ও চাইনীজ টার্মিনোলজীতে ইসলামের ফিলোসফীকে ব্যাখ্যা করা হইয়াছে যা অত্যন্ত ইউনিভার্সাল একটা আবহ তৈরী করিয়াছে।
৮.
উডল্যান্ড লাইব্ররীতে জিউয়িশ মিস্ট্রিসিজমের তাকের ভিতরে কি করিয়া গুগলের সার্চ ইঞ্জিন বিষয়ক অতি টেকনিক্যাল একটি বই আসিলো তাহা জানি না। গুগল পেইজ রাংক এন্ড বিয়ন্ড নামের বইটি মূলত গানিতিক থিওরী সহ গুগল সার্চ ইঞ্জিনের খুটি নাটি এলগোরিদম বিষয়ক বই। গণিতের চর্চা একেবারেই হইতেছে না। প্লাস সার্চ ইঞ্জিনের প্রযুক্তি রহস্যের অলিগলি আগ্রহ রহিয়াছে বিধায় ইহাকে তুলিয়া লইয়াসিয়াছি। খটমটে বই। লিনিয়ার এ্যালজাব্রা, মার্কভ চেইন ইত্যাদি নানাবিধ থিওরীর আলোচনা। লেখন লাংভিল ও মেয়ের।
... আপাতত এই। আরো কিছু বই তুলিয়া আনিয়াছি। সেগুলোর কথা পরে জানাইয়া যাইবো।
'ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু।'
ইংরেজী ব্লগ ঠিকানা যেইখানে নিয়মিত:
ইনসপিরেশনস এন্ড ক্রিয়েটিভ থটস
প্রিয় শিল্পী মাইকেল গ্রীনের কাজ দেখা যাইবে এইখানে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



