৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা - (WHO – World Health Organization) এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই উপলক্ষে এই দিন কে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে আসছে ১৯৫০ সাল থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য সেবার বা উন্নয়নের কোনো এক অধ্যায়কে নিয়ে কাজ করে। সচেতনতা সৃষ্টি থেকে শুরু করে, সরকারী পর্যায়ে কিভাবে পরিবর্তন আনা যায় – এসব বিষয় সামনে তুলে ধরে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস কাদের জন্য?
সবার জন্যই – চিকিৎসক, মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ – আমাদের সবার জন্যই এর দিবস। কেননা শুধু মাত্র এক অংশের সচেতনতা বৃদ্ধি করে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনা সৃষ্টি করা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১১ এর উপপাদ্য বিষয় -
জীবানুনাশকের অকার্যকারিতা ও এর বিশ্বব্যপী বিস্তার -
সহজ ভাষায় বললে দাঁড়ায় – এন্টিবায়োটিক এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট কমিয়ে আনা এবং বিশ্বব্যপী ইনফেকশাস রোগ কমিয়ে আনা।
এন্টিবায়োটিক কি?
এন্টিবায়োটিক এমন ধরনের ঔষধ যা জীবানুর বিরুদ্ধে কাজ করে - তবে বিশেষ এন্টিবায়োটিক বিশেষ জীবানুর বিরুদ্ধে কাজ করে - এক জীবানুর বিরুদ্ধে যেমন সব এন্টিবায়োটিক কাজ করে না, তেমনি সব জিবানুর বিরুদ্ধে এক এন্টিবায়োটিক কাজ করে না!!
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা জীবানুনাশক এর অকার্যকারিতা বলতে কি বুঝায়?
এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স – বলতে বুঝায় এন্টিবায়োটিক এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনো বিশেষ জীবানুর জন্য, কিন্তু হয়তো ঔষধ এর গুনাবলী ঠিক রয়েছে এবং তা সঠিক ভাবে সংরক্ষন ও করা হয়েছে - কিন্তু সব ঠিক থাকার পরও যে জীবানুর বিপক্ষে এর কাজ করার কথা সেটা আর করতে পারছে না!
কেন?
ব্যপারটা হঠাৎ কিছুটা অদ্ভুত বা অবাস্তব মনে হতে পারে, ঔষধ-এর সকল গুণাবলী ঠিক থাকা সত্ত্বেও সেটা কিভাবে অকার্যকর হয়ে উঠতে পারে!
আর এর পিছনে আমাদের কিছু ছোট ছোট ভুলই দায়ী - আমাদের ছোট ভুল গুলোর জন্য আমরা একটা বড় ধরনের ভয়ংকর বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
* এন্টিবায়োটিক ডোজ সম্পূর্ন না করে বন্ধ করে দেয়া
* প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা
* সঠিক এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা এই সকল কারনে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট তৈরি হতে পারে।
কিভাবে হয়?
যখন ঠিক ভাবে এন্টি বায়োটিক এর ব্যবহার হয় না (তথা সঠিক ডোজ না হওয়া বা সঠিক এন্টিবায়োটিক এর ব্যবহার না হওয়া বা প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এন্টিবায়োটিক এর ব্যবহার হওয়া) তখন জীবানু সেই এন্টিবায়োটিক এর জন্য এমন কিছু পরিবর্তন নিজের মাঝে আনে সেজন্য আর সেই এন্টিবায়োটিক আর ঐ জীবানু-র জন্য কার্যকরী থাকে না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে একটা বা এক জন মানুষের শরীরে কিছু জীবানুতে এই পরিবর্তন আসার জন্য একটা এলাকার সকল জীবানুতে কেন পরিবর্তন আসবে?
কেননা, যেই জীবানু নিজের মাঝে তথা নিজের জেনেটিক কোড এ পরিবর্তন এনে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যায়, সেই জীবানু বিভিন্ন ভাবে অন্য জীবানুর মাঝে এই জেনেটিক কোডিং ছড়িয়ে দিতে পারে! কখনো কখনো আশে পাশের জীবানুকে সরাসরি একটা এক্সট্রা জেনেটিক অংশ হিসেবে কোডিং ছড়িয়ে দিতে পারে। আর কখনো বা পরিবেশ এ একটা এক্সট্রা জেনেটিক কোড ছড়িয়ে দিতে পারে, পরবর্তীতে পরিবেশ এর অন্যান্য জীবানু সেই কোডিং গ্রহন করে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারে!
আমাদের করনীয় কি?
WHO এর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১১ অনুযায়ী -
* ডাক্তারের ব্যবস্থা পত্রে উল্লেখিত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন
* ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন কোনো এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়েছে কিনা
* সর্দি-কাশি এবং আধিকাংশ ডায়রিয়া চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়না, এর জন্য তরল পানীয় ও বিশ্রামই যথেষ্ট
* অতীতে অসুস্থতার জন্য দেয়া এন্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।
আসুন নিজেরা সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি! কেননা আমাদের সচেতনতাই পারে এন্টিবায়োটিক এর যথেচ্ছ ব্যবহার রোধ করতে এবং এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট রোধ করতে!
…………………………………………………………………
ফেসবুক-এ আপডেট পেতে ফলো করুন – Dr. N. H. Sarja
টুইটার-র আপডেট পেতে ফলো করুন - @n_h_sarja (Dr.N.H.Sarja) স্বাস্থ্য ব্লগ - http://drsarja.wordpress.com/
…………………………………………………………………
কোনো প্রশ্ন বা সাজেশান থাকলে এখানে কিংবা ফেসবুক পেজ বা টুইটারে করতে পারবেন!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



