মিরাজ, মানুষ, রাশেদ, রোদ্দূর মিছিল, নিরব কথা, তানভীর, তুষারমানব, মেহরাব শাহরিয়ার, আহমেদ শারফুদ্দীন, মুকুল, তানজিলা হক, জেবীন, মোসতফা মনির সৌরভ, মানবী, রাগ ইমন দিদি কে উৎসর্গ করলাম।
রাগুদি আগের পর্বের কমেন্টে একটা কবিতা লিখে দিয়েছিল। এত ভাল লেগেছে যে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।
"ঝমঝমে শ্রাবন যা পারেনি
তাই পেরে গেলো পৌষের রাত
ফোটায় ফোটায় ভিজিয়ে দিলো
আঁচলের সবটুকু , সকল আঘাত ।
এমন করেই সমাপ্তি আসে বুঝি !
নয় কোন গগনবিদারী হুংকারে ।
আসে সব শেষের অনতিক্রম্য বিধি
দু ফোটা বৃষ্টি হয়ে , চোখের নিভৃতচারে ! "
-- রাগ ইমন
ভুলে ভরা ডাইরি -৩
আজ সন্ধায় ছাদে একা একা পায়চারি করছিল পরী। অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিকে। পাখিদের ঘরে ফিরবার তাড়া। হয়তো ওই নাম না জানা পাখিটির জন্য পথচেয়ে বসে আছে কোন মায়াবী পাখি, তার দুই চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। শুধু পরীর জন্যই দুচোখে আকুলতা নিয়ে অপেক্ষা করার কেউ নেই আজ। এখন শুধুই এই অন্ধকার জীবনটাকে একা একা টেনে নিয়ে চলা। তাইতো এই অন্ধকারকেই তার এত আপন মনে হয়। এসময় মাঝে মাঝ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে পরীর, মনে হয় চিৎকার করে বলে আমাকে একটু মুক্তিদাও নীল, একবার একটু বুক ভরে নিঃসবাস নিতে দাও। একজনের বেঁচে থাকার জন্য আর কিবা বাকি থাকে যখন নিজের কাছেই নিজেকে পর হয়ে যেতে হয়।
তুমি একদিন বলেছিলে,
নারী, তুমি কখন হও মেঘ,
কখনো হও নদী।
যেমন পুরুষ হয় সমুদ্র,
অথবা পাহাড়ের মত।
কোন সমুদ্র বুকের
সুখের শেষ বাষ্প টুকু শুষে নিয়ে
তুমি হয়ে যাও মেঘ।
তাকে নিঃস্ব, রিক্ত করে দিয়ে
ঊড়ে যাও বিষাক্ত নীল ডানা মেলে।
কি মন্ত্রমুগ্ধের মত তোমার সে ছুঁটে চলা,
তোমার শির স্পর্শ করে আকাশ,
তোমার চোখের তারায় আগুন,
তোমার মনে তখন ঐ হিমাদ্রী স্পর্শ বাসনা।
একবারো ফিরে তাকাবার
সময় হয়না তোমার।
অগ্নীভূক পতঙ্গের মত
আছড়েপরো পাহাড়ের বুকে।
কিন্তু পাহাড়ের বুকে কোনদিন
ঠাঁই হয়না মেঘের।
সেদিন তোমার সকল কান্না
বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ে।
তারপর তুমি ধীর, শান্ত বহমান নদী
কচি ধানের সবুজ আঁচলে মেখে
আবার অতীতের পথ খুজে ফেরা
তোমার সৃষ্টিতে, তোমার সমুদ্রের।
সেদিন আমি বড় অবুঝ ছিলাম নীল। কি নিদারুন অবহেলায় আমি আমার সমুদ্রকে হারিয়েছি। তারপর কত পথ হাটলাম, আমি কেন আমার সমুদ্রকে পেলাম না। তোমাকে দুঃখ দিয়ে, আজ আমার শিরায় শিরায় বইছে নীল রঙ্গা বিষ। দয়া করো নীল, আমি এই জীবনটাকে আর বয়ে বেড়াতে পারি না।
এমন সময় পরীর মা এসে তার কাধে হাত রাখে। চমকে ওঠে পরী। পরীয়া মা বলে “তোর কাছে আজ দুপুরে একটা চিঠি এসেছে, তুই কি পড়বি?”
(আপনার কইলে আরোও চলবে না হলে এই পর্যন্তই শেষ)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



