ড. জেফ্রী ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস ইউনিভার্সিটির গণিতের অধ্যাপক। তার জন্ম ১৯৫৪ সালের ৩০শে জানুয়ারী। নটরডেম হাই স্কুলের (যা ছিল একটি ক্যাথলিক স্কুল) শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি প্রায়ই স্কুলের পাদ্রী, বাবা মা এবং তার সহপাঠীদের সাথে স্রষ্টার অস্তিত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু তিনি কোন সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে আঠারো বছর বয়সে সম্পূর্ণ নাস্তিক হয়ে যান এবং নাস্তিক হিসেবে পরবর্তী প্রায় দশ বছর পার করে দেন। কিন্তু এখানে একটা মজার ঘটনা বলে রাখা ভালো যে তিনি সম্পূর্ণরূপে নাস্তিক হবার কিছু পূর্বে বা পরে ঘুমের মাঝে একটি স্বপ্ন প্রায়ই দেখতেন। স্বপ্নটি ছিল এইরূপঃ
"একটি ছোট্ট ঘর যাতে কোন আসবাবপত্র নাই, জীর্ণ সাদা দেয়ালেও কিছু নেই। পুরো মেঝে লাল সাদা কার্পেট দিয়ে ঢাকা। সেখানে একটি ছোট্ট জানালা ছিল, অনেকটা বেসমেন্টের জানালার মত উপরের দিকে, আমাদের মুখ বরাবর। সম্পূর্ণ ঘরটি জানালার আলোয় আলোকিত। আমরা ছিলাম সারিবদ্ধভাবে দাড়ানো, আমি ছিলাম তৃতীয় সারিতে। ঘরটিতে কোন মহিলা মানুষ ছিল না, আমরা সবাই আমাদের হাটুর উপর ভর দিয়ে বসে ছিলাম জানালার দিকে মুখ করে। আমি তাদের কাউকে চিনতে পারি নাই। সম্ভবত আমি অন্য কোন দেশে ছিলাম। আমরা একসাথে মেঝেতে মাথা ঠেকালাম। চারিদিকে নিশ্চুপ নিস্তব্ধ। আমরা আবার সবাই একসাথে হাটু গেড়ে বসলাম। যখন আমি একটু সামনের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম দেখতে পেলাম যে আমরা আমাদের সামনের একজনকে অনুসরণ করছি। সে ছিল জানালার নিচে আমাদের সামনে মাঝ বরাবর। আমি শুধুমাত্র তার পিছন দিক দেখতে পাচ্ছিলাম। তার গায়ে ছিল লম্বা গাউন, মাথায় লাল নকশাখচিত স্কার্ফ। ঠিক ঐ মুহুর্তে আমি জেগে উঠতাম। " তার নাস্তিক জীবণে প্রায়শই তিনি এই স্বপ্নটা দেখতেন এবং এটাতে তিনি খুব একটা বিব্রত হতেন না বরঞ্চ যখনই তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠতেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি বোধ করতেন।
ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোতে তার প্রথম লেকচারের দিন মাহমুদ কান্দাল নামে এক সউদী মুসলিমের সাথে তার পরিচয় হয় এবং খুব শীঘ্রই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই কান্দালের পরিবারের সাথে তার পরিচয় এবং পরিবারের এক সদস্যের কাছ থেকে তিনি উপহার হিসেবে পান পবিত্র কুরআন শরীফের একট কপি। শুরু হয় তার কুরআনের সাথে পথচলা। কুরআন পড়তে গিয়ে তার অভিজ্ঞতা তার নিজের ভাষায় এইরূপঃ
"You cannot simply read the Qur’an, not if you take it seriously. You either have surrendered to it already or you fight it. It attacks tenaciously, directly, personally; it debates, criticizes, shames, and challenges. From the outset it draws the line of battle, and I was on the other side.I was at a severe disadvantage, for it became clear that the Author knew me better than I knew myself."
ইসলামের প্রতি তার দূর্বলতা ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আশির দশকের প্রথম দিকে ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোতে খুব বেশী মুসলিম শিক্ষার্থী ছিল না। একটা গীর্জার বেসমেন্টে মুসলিম শিক্ষার্থীরা একসাথে সালাত আদায় করতো। তিনি একদিন সাহস করে সেখানে গেলেন। মসজিদের ইমাম গাস্সান সহ বেশ কয়েকজনের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর তিনি সেদিনই কলেমা শাহাদাৎ উচ্চারণ করে ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিলেন। তারপরের ঘটনা আরো চমৎকার। ইসলাম গ্রহণের দুইদিন পর তার প্রথম জুম্মার সালাতের শেষ বৈঠকে তিনি যখন বসে ছিলেন তখন তার দৃষ্টি যায় গাস্সানের দিকে। সে তখন সালাতের ইমামতি করছিল। তার গায়ে ছিল লম্বা গাউন আর মাথায় লাল কারুকাজ করা স্কার্ফ। সবার সামনে মাঝ বরাবর জানালার নীচে বসা। পুরো ঘর জানালার আলোয় আলোকিত। জায়গাটা যেন তার বহু আগে থেকে চেনা। ঠিক তখনই তার মনে পড়ে সেই স্বপ্নের কথা যা তিনি বহুবার দেখেছেন তার নাস্তিক জীবণে। এটা কিভাবে সম্ভব! ভয়ের একটা হিম শীতল স্রোত তার সারা দেহে বয়ে চলে। তার মনে প্রশ্ন জাগে এটা কি সত্যি। তার দুচোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে, নেমে আসে অশ্রু।
বিঃদ্রঃ
The Deen Show ধারণকৃত ড. জেফ্রী ল্যাং এর সাক্ষাৎকার দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
পাঠকদের আমি অনুরোধ করছি তার Struggling to Surrender বইটি পড়ার জন্য। পুরো বইটি পড়া সম্ভব না হলে শুধুমাত্র প্রথম অধ্যায়টি পড়ে দেখুন। বইটির লিন্ক আমি তথ্যসূ্ত্রে দিয়েছি।
তথ্যসূ্ত্রঃ
Struggling to Surrender: Some Impressions of an American Convert to Islam Jeffery Lang
www.salaam.co.uk/themeofthemonth/june02_index.php?l=42
http://www.facebook.com/pages/Dr-Jeffrey-Lang/177691972274030?sk=info
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



