somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবার দেখা হবে বস্। কোন এক কবিতার আসরে :) বা যুদ্ধক্ষেত্রে X(

২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলে স্বাধীনভাবে মন্তব্য করার এই জগতে মান-অভিমান থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কারন এত মানুষ এখানে, মত পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক। আর এ কারনে মান-অভিমান থাকাটাও খুব স্বাভাবিক।

আমার জীবনের যে থিম, সেই থিমে চলাতেই না আমার সার্থকতা। যদি কবি হই তো কবিতা লেখাতে, যদি নেট বিশারদ বা মোবাইল বিশারদ হই তো তার প্রকাশেই না "আমার আমি" কে প্রকাশ করা। আর তাই তো দেখা মেলে একজন রাগিব ভাই এর বা একজন সাজি আপুর।

আর তাই তো একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে কখনো আমরা ব্লগীয় মুক্তিযোদ্ধা। আবার ঢালাও রাজাকারের খেতাব পেয়ে এই আমরাই করি প্রতিবাদ। নিজের আদর্শ কে যখন দেখি অসন্মানিত তুমুলভাবে ঝাপিয়ে পড়ি কী-বোর্ডের উপর। নিজের জীবনের আদর্শেরই যদি সন্মান না রাখতে পারলাম তো এই লেখালেখির কি মূল্য?

তাই চলে তীক্ষ্ণ মন্তব্য। ব্লগীয় কাটাছেড়া। চলে কবিতার বিপরীতে কবিতা।পোস্টের বিপরীতে পোস্ট। বন্ধুর ব্যানে চলে হরতাল। প্রথমে মডারেটরদের অনুরোধ। কাজ না হলে হাতে তুলে নেই কী-বোর্ড। আবারো চলে তীক্ষ্ণ মন্তব্য। চলে ব্লগীয় কাটাছেড়া। আর এবারের উদ্দেশ্য মহামান্য মডারেটররা (মাথায় যে তাদের কিছুই নেই এটা প্রমান হওয়ার পর থামাথামি!! এই ব্যাপারে মহামান্য মডারেটররা অবশ্য আজীবনই চুপচাপ থেকে আমাদের স্বীয় প্রমানিত ধারনাকেই মেনে নিয়েছেন)। চলে কেপি টেস্ট B-), দালাল টেস্ট B-)। টেস্টে পজিটিভ হয়ে কেউ হন ছাগু;) কেউ বা হন আলু:D

খিস্তি-খেউর ও যে চলে না তা না। তবে সেইটাকে কে কিভাবে দেখেন জানি না, আমি কিন্তু পজিটিভলি দেখি। কারন গালাগালিটা তখনই চলে
যখন কেউ তার যুক্তির বুদ্ধি হারিয়ে হতভম্ব! চিন্তা করুন প্রতি আক্রমনে ধরাশায়ী কারো সেই প্রানান্ত চেষ্টার কথা। নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার, নিজের মাথাকে উচু করে রাখার শেষ প্রচেষ্টাটার কথা!! লড়ব তবু হারব না। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, আমি কিন্তু গালাগালিকে ভালো বলছি না। এটা না করাই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে এখানে কিন্তু সবাই সমান না। যেমন আছেন ঠান্ডা মাথার মানুষ তেমনি আছেন গরম মাথার মানুষ। যেমন আছেন যুক্তিবাদী তেমনি আছেন যুক্তিকে পরোয়া না করা মানুষ ও। সবাইকে নিয়েই তো পথ চলতে হবে। তাই অনেকের মাথা গরমের সেই মুহুর্ত গুলোকে খারাপ লাগলেও লড়াই করার এই শেষ পন্থার প্রানান্ত প্রচেষ্টাটিকে আমি বেশ উপভোগ করি।

তারপর......... কারো আচরনে কষ্ট পেয়ে হয়তো ভাবি, আর আসব না। জীবনে যদি কখনো আর আসি!! আসিও না কিছুদিন হয়তো। কিন্তু ভুলটা ধরা পরে এক সময়।

একজন "নাহিদ"এর দেয়া কষ্টে যখন চলে যাই তখন মনে থাকেনা একজন "ঝুমি", একজন "শাওন",একজন "স্বপ্ন বিলাসী", বা একজন "কিরিটি রায়" এর কথা।
মনে পড়েই। হয়তো একদিন আগে কি পরে। আর সাসপেন্সের শুরুটাও তখন থেকেই।

কি করা যায়? বিছানায় এপাশ-ওপাশ। তারপর দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে অন্য নিক বা ভিজিটর হিসেবে ব্লগে ঢোকা। আর যেই না চোখের সামনে পড়েছে ত্রিভুজ, এস্কিমো, রাশেদ বা বিবেক সত্যি!! আর যাবি কই!! শুরু হয় ব্লগীয় শত্রু নিধন!! চলে তীক্ষ্ণ মন্তব্য। ব্লগীয় কাটাছেড়া! চলে পোস্টের বিপরীতে পোস্ট!! যুক্তির বদলে যুক্তি!!

একটু আগের রাগ? আমরন অব্লগীয় অনশন?
কই যে গেলো? ধুর ছাতা!! ওইসব পুরান নিয়ে ভাবার টাইম আছে X(? তুমুল উৎসাহে আবার ঝাপিয়ে পড়ি কী-বোর্ডের উপর!!


আসলে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এখানে এসে রাগ করার অনেক উপকরন যেমন পেয়েছি তেমন পেয়েছি ভালবাসাও। সম্ভবত বার বার ফিরে আসি সেই ভালবাসা গুলোর টানেই।
আসলে নিজের অজান্তেই একটা অদৃশ্য অথচ প্রচন্ড ভালবাসা আর ভাল লাগার বন্ধনে আমরা আবদ্ধ হয়ে পড়ছি।

তা না হলে কেন পোস্ট দিয়ে অপেক্ষা করি আপনাদের মন্তব্যের? জানি সবাই সব লেখা পছন্দ করবেন না। জানি কারো কারো মন্তব্যে খুব রাগ হবে, হয়তো আবার চলে যেতেও মন চাইবে আবার।

তবু কেন এই অপেক্ষা?
অপেক্ষা কেন সবার সাথে অনুভুতিগুলো শেয়ার করার জন্য? অপেক্ষা কেন প্রিয় মানুষগুলোর মজার মন্তব্যের জন্য? অপেক্ষা কেন প্রিয় মানুষগুলোর ব্লগে মজার মন্তব্য করার জন্য?

আসলে ইন্টারনেটের এই ভার্চুয়াল জগতটা আমাদের দিয়েছে অনেক ধরনের মানুষ দেখার সুযোগ। আমরা যেমন পেয়েছি সমমনা, তেমনি পেয়েছি বিপরীতমনা মানুষও। পেয়েছি যেমন প্রতিপক্ষের চাছাছোলা তীক্ষ্ণ মন্তব্য তেমনি পেয়েছি অনেক অনেক ভালবাসাও। সবচাইতে বড় কথা, পেয়েছি নিজের চিন্তা-ভাবনাকে যাচাই করার সুযোগ, প্রকাশ করার সুযোগ। যেমন দেখেছি মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তিবাদী পোস্ট তেমনি দেখেছি পাল্টাপাল্টি যৌক্তিক-অযৌক্তিক মন্তব্যও। আবার কেউবা চান ভারতের সাথে মিশে যেতে!! Click This Link তাতেও সমান প্রতিবাদ। তাই স্বীকার করে নিতেই হয় কেউ কারো চাইতে এই দেশ কে কম ভালোবাসেন না। তাই স্যালুট না করে পারি না তখন এইসব ঝগড়ুদের (নিজেকে সহ বলছি)।
শুধু যে সিরিয়াস আলোচনাই চলে তা না, দেখেছি ছড়ায় ছড়ায় যুদ্ধও। একবার তো রাজামশাই এর সাথে সামীর সে কি যুদ্ধ!! যদিও যে মুকুট এর জন্য যুদ্ধ চামে চামে তা নিয়ে গেছে কৌশিক। Click This Link আর এদিকে আমাদের মত নিরিহ পাঠকদের হাসতে হাসতে জান শেষ :)


মোটামুটি এই রকম টক-ঝাল-মিষ্টিতে চলছে আমাদের ব্লগীয় জীবন। প্রায় ২ মাস কাটালাম ব্লগে। ব্লগীয় বয়স হিসেবে দেখলে নবজাতকই বলা যায়। অনেক অভিজ্ঞ ব্লগাররা আছেন এখানে। আছেন অনেক সফল আর সিনিয়ররা। যাদের সমান হতে গেলে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। কারো সাথে চলে তুমুল ঝগড়া ;)। কারো সাথে তুমুল ঠাট্টা B-)। ২/১ জায়গায় যে মান-অভিমান চলে না তাও না :P। সব কিছু মিলে ভালোই চলছে।

আজ একটা সহজ স্বীকারক্তি করতে আসা এখানে। অনেক অনেক যুদ্ধে জড়িয়েছি। অনেক অনেক প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করেছি। অহেতুক তীক্ষ্ণ শব্দবাণে যেমন নিজে হয়েছি জর্জরিত, তেমনি সুযোগে অন্যকে আহত-নিহত করার সুযোগও হাতছাড়া করিনি। তবে এতে কারো প্রতি সন্মান আর ভালবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। কোনদিন কমবেও না আশা করি। হয়তো জবাব দিতে গিয়ে নিজের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাই অধিকাংশ সময়ই। ক্ষমা করবেন সবাই। এটাই তো যুদ্ধের নিয়ম। না? যাদেরকে সব সময় কুশল জিজ্ঞাসা করা হয় তাদের তো বটেই, তারা সহ যাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তলোয়ার টা সব সময় খাপ থেকে বের করাই তাদের সব্বাইকে আমার স্যালুট :)

আবার দেখা হবে বস্। কোন এক কবিতার আসরে :) বা যুদ্ধক্ষেত্রে X(
সেই পর্যন্ত সবাইকে স্যালুট:)

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৮
৬৫টি মন্তব্য ৫৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×