১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব |
ভূমিকা সংক্ষেপ :
কাজ করলেই সম্পদ বাড়বে। ইসলাম এ দর্শনকে স্বীকার করার সাথে আরো কিছু অভ্যন্তরীণ উপায় সংযুক্ত করে। এগুলো দ্বারা সরাসরি সম্পদ বাড়ে না তবে এসব সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক কার্যকরণ। ইসলামে সম্পদ বৃদ্ধির মৌলিক পথ ১টি। আর তাহ’ল- হালাল পথ। হালাল পথে সম্পদ বৃদ্ধির বহু উপায় ইসলামে রয়েছে। নিম্নে তার কতিপয় উপায় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার আজ হলো চতুর্থ পর্ব ...
৬. শুকরিয়া জ্ঞাপন করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হ’লে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দিব, আর অকৃতজ্ঞ হ’লে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর’ {ইবরাহীম ১৪/৭}।
৭. কর্যে হাসানা প্রদান করা :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ বেশী এবং তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার’ {হাদীদ ৫৭/১৮}।
আল্লাহ আরো বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্যে এটা বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ কৃতজ্ঞ সহনশীল’ {তাগাবুন ৬৪/১৭}।
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণদান করে? অনন্তর তিনি তাকে দ্বিগুণ বহুগুণ বর্ধিত করেন এবং আল্লাহই সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তারই দিকে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে’ {বাক্বারাহ ২/২৪৫}।
আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে যে আল্লাহকে দিবে উত্তম ঋণ? তাহ’লে তিনি বহুগুণে একে তার জন্য বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার’ {হাদীদ ৫৭/১১}।
৮. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা :
আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করলে আল্লাহ সম্পদ বাড়িয়ে দেন। এ মর্মে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
‘যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন- একটি শস্য বীজ, তা হ’তে উৎপন্ন হ’ল সাতটি শীষ, প্রত্যেক শীষে উৎপন্ন হ’ল শত শস্য এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ হচ্ছেন বিপুলদাতা, মহাজ্ঞানী’ {বাক্বারাহ ২/২৬১}।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বল, আমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তার রিযক বর্ধিত করেন এবং সীমিত পরিমাণে দেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দিবেন। তিনি শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা’ {সাবা ৩৪/৩৯}।
হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে বস্ত্ত বৈধ করেছেন ও খরচ করতে আদেশ দিয়েছেন তা তোমরা যখনই খরচ কর না কেন তিনি দুনিয়াতে তার প্রতিফল দিবেন এবং আখেরাতেও প্রতিদান দিবেন। যেমন হাদীছে এসেছে,
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘বান্দাগণ যখন প্রভাত করে তখন দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তার মধ্যে একজন বলেন, হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি তোমার পথে ব্যয় করে তাকে উত্তম প্রতিদান দাও। অপরজন বলেন, কৃপণের মাল ধ্বংস কর’।*১*
ইনশাআল্লাহ চলবে ...
রচনাঃ
মুহাম্মাদ আবু তাহের
এম. ফিল. গবেষক,
আল-হাদীছ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
*১*. ছহীহ বুখারী, ১ম খন্ড (ভারত : মাকতাবুল ইত্তিহাদ, তা.বি.), পৃঃ ৪১১।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

