১ম পর্ব |
ভূমিকা সংক্ষেপ :
কাজ করলেই সম্পদ বাড়বে। ইসলাম এ দর্শনকে স্বীকার করার সাথে আরো কিছু অভ্যন্তরীণ উপায় সংযুক্ত করে। এগুলো দ্বারা সরাসরি সম্পদ বাড়ে না তবে এসব সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক কার্যকরণ। ইসলামে সম্পদ বৃদ্ধির মৌলিক পথ ১টি। আর তাহ’ল- হালাল পথ। হালাল পথে সম্পদ বৃদ্ধির বহু উপায় ইসলামে রয়েছে। নিম্নে তার কতিপয় উপায় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার আজ হলো দ্বিতীয় পর্ব ...
২. ক্ষমা চাওয়া :
আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের বারবার বললাম, তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা’ {নূহ ৭১/১০-১২}।
৩. তওবা করা :
তওবার অর্থ হচ্ছে পাপকে ঘৃণিত কর্ম জ্ঞান করে বর্জন করা। নিজ ভুলের জন্য লজ্জিত হওয়া, ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা এবং পুনরায় যথাসম্ভব নেক কার্যাবলীর মাধ্যমে পূর্বের ক্ষতিপূরণ করে নেয়া।
ইমাম নববী (রহঃ) এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, আলেমগণ বলেন, যাবতীয় পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। পাপ যদি আল্লাহ ও তাঁর বান্দার সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং কোন মানুষের সাথে সম্পৃক্ত না হয়, যেমন কোন মানুষের হক মারা ইত্যাদি। তাহ’লে এর তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা- (১) পাপ বর্জন করা (২) পাপের জন্য লজ্জিত হওয়া (৩) পুনরায় পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে কোন একটি বাদ পড়ে গেলে তওবা সঠিক হবে না।
আর পাপ যদি মানুষের (হক্বের) মধ্যে সম্পৃক্ত হয় তাহ’লে তার চারটি শর্ত রয়েছে। উল্লেখিত তিনটি শর্তের সঙ্গে চতুর্থ শর্ত হচ্ছে যে, হক্বদারের হক্ব আদায় করা। তা যদি সম্পদ হয় অথবা এরূপ কোন বস্ত্ত হয় তাহ’লে মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেওয়া। যদি শরী‘আতের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য এমন কিছু বলে থাকে তাহ’লে যাকে কথার দ্বারা আঘাত দেওয়া হয়েছে তাকে এমন সুযোগ দেওয়া যাতে সে শাস্তি দিতে পারে। অথবা সে তার কাছে ক্ষমার আবেদন করবে। যদি তা গীবত হয় তাহ’লে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।*১*
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে নিবিষ্ট হও। তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তিকে বর্ধিত করে দিবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না’ {হূদ ১১/৫২}।
আল্লাহ আদ জাতির উপর পাপের কারণে তাদের তিন বছর বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করেছিলেন। তারপর তাদেরকে ক্ষমার মাধ্যমে বৃষ্টি ও রিযকের জন্যে দো‘আ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।*২*
আল্লাহ বলেন,
‘আর এই উদ্দেশ্যে যে, তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, তৎপর তাঁর প্রতি নিবিষ্ট থাক, তিনি তোমাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দান করবেন নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত এবং প্রত্যেক অধিক আমলকারীকে অধিক ছওয়াব দিবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরাতেই থাক, তবে আমি তোমাদের জন্য কঠিন দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি’ {হূদ ১১/৩}।
ইনশাআল্লাহ চলবে ...
রচনাঃ
মুহাম্মাদ আবু তাহের
এম. ফিল. গবেষক,
আল-হাদীছ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
*১*. ইমাম নববী, বিয়াযুছ ছালেহীন (বৈরুত : দারুল জীল, ১৯৮৭ খৃঃ), পৃঃ ১১।
*২*. আলা-মুহাররারুল ওয়াজীয ফী তাফসীরুল কিতাবিল আযীয, ৩য় খন্ড, পৃঃ ১৮০।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

