আমার প্রিয় পোস্ট
- জিমেইলের সেরা কিছু ফিচার যার জন্য জি-মেইল ব্যবহার করবেন (আর.এস.এস পড়ুন মেইল বক্স থেকে) - ১ - পাপী
- ভাস্কর্য বনাম মূর্তি: পাঠ ও পরিবেশনের রাজনৈতিক ব্যাকরণ - মুনীর উদ্দীন শামীম
- প্রথম আলোতে প্রকাশিত হল ই-সংকলন “ফিরে দেখা একাত্তরের” অসামান্য রিভিউ - ব্রিগেড সিক্সটিন
- একটি এক মিনিটের পাঁচালী ও বিভূতি বাবুর কর্পোরেট অপারেশন - লাল দরজা
- ডে কেয়ার সেন্টারে কাঁদছে আগামীর ন্যাশন বিল্ডার্স... - মুনিয়া
- 'নুনু কাটা' অনুষ্ঠানের জমকালো আয়োজন এবং বাঙ্গালী মুসলিম সংস্কৃতিতে পুরুষতন্ত্রের ধারাবাহিকতা. - মুনীর উদ্দীন শামীম
- নাসিমূল আহসানের নারীতত্ত্ব এবং নীতিমালা ভঙ্গের দায় নিয়ে আমার একখান পোস্ট - মুনীর উদ্দীন শামীম
- আয় করুন Google Adsense এর মাধ্যমে - গাজী মো: সাইফুল ইসলাম
- আজ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুদিন.....আজ আমার কষ্টের দিন..... - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যে মানব দেহের জন্যে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে - আলোতে লিখব
- তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ। সোনার পাথর বাটি ! - মনজুরুল হক
- টেকনোলজি কর্পোরেট শোষণের হাতিয়ার - মনজুরুল হক
- সাবধান, জামাত আপনার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করছে!!!!! - মুনীর উদ্দীন শামীম
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- মনুষ্যত্বহীন মানুষ যন্ত্রের গল্প - রাহিদুল সামান্না রকি
- আপনি কি জাননে? আজ প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল ! - প্রশাসন
- আহাম্মকের আমলনামা তথা হাবিল-কাবিল-সিবিল সমাচার - ফারুক ওয়াসিফ
- বিজ্ঞাপন ও নারী - ফাহমিদুল হক
- ইসরায়েলী দখলদারিত্বের ষাটতম বার্ষিকী: আমি আরব গেরিলাদের সমর্থন করি ২ - ফারুক ওয়াসিফ
- প্রিয় হুমায়ুন আজাদ: আজ যাকে খুব বেশি মনে পড়ে - মুনীর উদ্দীন শামীম
- নিকৃষ্ট সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রে ভারতবিরোধিতা এবং চালের রাজনীতি - অপ বাক
মিডিয়ার ভাষা বিকৃতিজাত গোলাম অথবা আলোকিত খচ্চর প্রজন্ম
০৭ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৪০
বাঙালির কাছে বাঙলা এখনো পুরোপুরি ‘শ্রদ্ধেয়’ হয়ে ওঠে নি। আড়াই শতাব্দি আগে তারা শ্রদ্ধা করেছে ফরাসিকে, গত দু-শো বছর ধ’রে শ্রদ্ধা ক’রে আসছে ইংরেজিকে : দুটিই সাম্রাজ্যবাদী রাজভাষা, যা
বাঙালির কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। বাঙলা শুধুই গ্লানি সঞ্চার করে। তাই আমাদেরকে বাংলা বলার সাথে চোস্ত কিছু ইংরেজি না মেশালে বলায় ভাব আসে না। তাই বাংলাদেশ জুড়ে পালে পালে প্রসবিত হয় উপনিবেশিক জন্তুদের উত্তরাধিকার চমৎকার খচ্চরগণ, যারা ভুল বাংলা ও ভুল ইংরেজি মিশিয়ে এক ধরনের বিকট অশ্লীল বমিজাগানো ভাষার জন্ম দিয়েছে। যাদের মুখের মধ্যে এমন একটা কিছু ঢুকে আছে, যে মুখ-জিহবা সহজে নাড়াচাড়া করা যায় না। যারা হেয়ার জেলে আমির খান সেজে ভাষাকেন্দ্রিক আধিপত্য প্রয়োগের সম্পর্ককে জারি রেখে বহুজাতিক কর্পোরেশনের খেদমৎগার মিডিয়া প্রভু নির্মিত গোলামির সংস্কৃতিকে বয়ে বেড়ায় রক্তে। চেতনায়। মাতৃভাষায়।
আমাদের একুশ আর একাত্তর, আমাদের সমগ্র স্বপ্ন আর বিশ্বাস আজ বেহাত হয়ে গেছে। যে ভাষার স্বপ্নে আর অহংকারে আমরা আমাদের মগজ আর জমিনকে স্বাধীন করেছিলাম, সে ভাষার সর্বত্র আজ বিকৃতির অনপনেয় কালিমা। মিডিয়া দানবদের কর্পোরেট ধান্দাবাজি আর গোলকায়ন মোড়কে পুঁজি-মুনাফার উপনিবেশ আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে এফ এম রেডিও, ডিজুস কালচার। তাই আমাদের শুনতে হয় : ডিয়ার লিইসোনার্স, আপনাড়া শুনছেন ড়েডিও ...ওক্কে, শুরু হলো একটি নতুন দিন। আর এই সঙ্গে তোমাদের যাদেড় হ্যাপি বার্থ ডে তাদেড় উইশ করে নিচ্ছি...ভেরি ভেরি ভেরি হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ। আর টেলিভিশনের পর্দায় একজন নাটক নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী (আলোকিত খচ্চর প্রজন্মের প্রতিভূ) যখন লেখেন,
-পুলা না মাইয়া হইছে দেইখা আইতে এ্যাত সময় লাগল?
--উস্তাদ আজান তো পরে নাই।
- আজান না পড়–ক। পুলা না মাইয়া বাচ্চাডার উপর-নিচে দেইখা আইলেই ত হয়।
তখন বমি পায় আমাদের। লজ্জায় ঘৃণায় নতমুখ হতে হতে একবিন্দু হয়ে যায় আমাদের শহীদ মিনার !
মানুষকে শিক্ষিত করার যে বাহাদুরি বুলি দিয়ে মিডিয়া তার মতাদর্শিক ও বাণিজ্যিক ফিকিরকে প্রতিনিয়ত আগ্রাসী করে তুলেছে, তার ধরনধারন, যাবতীয় অশ্লীল প্রকল্পসমূহের গোছা ধরে টান মারার সময় এসেছে। তাই আমরাও সচেষ্ট হই প্রতিনিয়ত চালাকবাক্স (সুশোভিত নাম টেলিভিশন) তার পর্দায় ঝুলিয়ে রাখা জগাখিচুড়ি মার্কা কিম্ভুতকিমাকার ভুলে ভরা বিকট এক ভাষা, যাকে ভাষাবোদ্ধাদের কেউ কেউ আদর করে ‘বাংলিশ’ বলে ডাকেন, তার মাজেজা উদ্ধারের। আমাদের টিভির অক্ষর সংযোজকেরা ভুলে যান ণত্ব-ষত্ব বিধানের ব্যাকরণ, ই-কার ঈ-কারের ব্যবহার বিধি। অন্যদিকে দার্শনিক ‘গ্লোবালাইজড(!)’ চলচ্চিত্র নির্মাতারা হিন্দির কঙ্কালে বাংলার শরীরে জন্ম দেন বান্দি (বাংলা+হিন্দি) নাটক ও সিনেমার, যার রমরমা কাটতি আমাদের চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতকে নিরাপদ করে তোলে !!! আর মোটাসোটা করে তোলে পেপসির বাজার, প্রসাধন সামগ্রীর রমরমা বাণিজ্য। অন্যদিকে একজন শিক্ষিত রসিক সম্পাদকের পত্রিকা জুড়ে লেখা হয়Ñ পৃয়, আফৃকা, কৃয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ ঋ-কার ও র-ফলা, ই-কার এবং ঈ-কার রসিক সম্পাদকের কাছে মূল্যহীন। চন্দ্রবিন্দুকে এ রসিক সম্পাদকের বউয়ের কপালের টিপ মনে হয়েছে যে, সুন্দর লাগলো না বলেই ফেলে দিলাম। চাদাবাজি, চাদপুর, সাড়াশি, পাচ শব্দগুলো প্রতিনিয়তই মুদ্রিত হতে থাকে ভাষাপ্রেমিক এ সম্পাদকের আশীর্বাদে। তারা ‘কাটাতার’ লিখেছে কাঁটাতার বোঝাতে। প্রশ্ন জাগেÑকাটা আর কাঁটা, হাঁসা আর হাসা কেমন করে এক হলো। ‘বিকৃত’ আর ‘বিক্রীত’ শব্দ দু’টির অর্থ আলাদা হয়ে গেল বানানের ভিন্নতার কারনেই, এ হুঁশ সম্পাদকের নেই৫।
বাংলা ভাষা যখন বাঙালির চোখে মুখে ঝুলিয়ে রাখে উপনিবেশিক বাবাদের থেকে পাওয়া হীনমন্যতার, ‘অপর’ হয়ে ওঠার তিক্ত সাধ, তখন তাকে তথাকথিত আধুনিকতার মোড়কে বন্দি করতে হয় নিজেকে। আর সে আয়োজন সারতে তাকে যেতে হয় বাংলিশের কাছে। বাঙালির এই হীনমন্যতাবোধের খবর চাউর হতেই বণিকেরা ছুটে আসেন। ভাষার মধ্যে এতোদিন যে ক্ষমতা আর ‘অপর’ হয়ে ওঠার বিস্তর কাহিনী ছিল, তার সাথে ঘটকালি হয় পয়সাপাতি, মুনাফার ব্যাপারস্যাপারের। পয়সাঅলা আয়েশি মধ্যবিত্তটি পয়সার উপস্থিতিকে জানান দিতে ভাষা বিকৃতির পথে নামে, সঙ্গে মিডিয়া বাবাতো আছেই। দশর্ক থেকে ভোক্তা হবার যে স্তরগুলো অতিক্রম করতে হয় আম-বাঙালিকে, সেখানে অজস্র ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে তাকে বিদেশী পণ্যমুখি হওয়ার হাতছানি দেয়া হয়। ব্যক্তির মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয় দিল মাঙ্গে মোর’র যাদু। আর আমরা সেই যাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে বাংলার পোঁদে লাথি মেরে ছুটছি ইংরেজির কাছে। ছুটছি হিন্দির কাছে। আশা করা যায় বাঙালির আধুনিক হওয়ার এই খায়েশ খুব তাড়াতাড়ি পরিপূর্ণতার দিকে যাবে আর ফূর্তিবাজি ‘ড়েডিও’ জকিরা নতুন নতুন শব্দে ভারি করে তুলবে বাংলা অভিধান। পাশাপাশি মিডিয়াপ্রভুরা ইংরেজি-বাংলার মিশেলে এমন সব শব্দকল্প তৈরি করবেন, যা বাঙালিকে বারবার ধলা মনিবদের শ্রদ্ধাভরে মনে করিয়ে দেবে, দীর্ঘকালের দাসত্বের কলঙ্ককে প্রলম্বিত করবে আর করবে...। আহ বাঙালি !!! জয় হোক একুশের। একাত্তরের।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৫২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নাসিমূল আহসান বলেছেন:
ভালো লাগলো । ধন্যবাদ।
প্রলাপ বলেছেন:
"আড়াই শতাব্দি আগে তারা শ্রদ্ধা করেছে ফরাসিকে"--- ফারসি হবে। ভাষা কিন্তু চলমান। শুদ্ধ বা অশুদ্ধ ভাষা বলে কিছু নেই, মনেরভাব প্রকাশ করতে পারলেই সেটা ভাষা। কিন্তু অধিক লোকের বোধগম্যতার জন্য আমরা একটি মান ভাষা ব্যবহার করি, যেটাকে আমরা শুদ্ধ বাংলা বলি। গণমাধ্যমে প্রচারিত অনুষ্ঠান সমূহে এই ভাষা ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত মনে হয়, কারণ তা সকলেই সহজে বুঝতে পারবে।
নাটক বা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আলাদা, সেখানে সংলাপ প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত যে কোন ভাষাতেই হতে পারে। সবার মুখে শুদ্ধ বাংলা ভাষা বিশ্বাসযোগ্য হবে না, কারণ বাস্তবে খুব কম লোকই সেই সবসময় সেই ভাষাতে কথা বলে। আঞ্চলিকে ভাষাকে অশুদ্ধ বলে অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ তা আসলে মান ভাষার মতই শুদ্ধ, বরং মান ভাষার চাইতেও প্রাকৃতিক।
অনেকেইসবচে ভাল ভাবে মনেরভাব প্রকাশ করতে পারে বাংলা ইংরেজি মিশ্রিত ভাষায়। তাদের ব্যবহৃত ভাষাকেও অবহেলা করার উপায় নেই। তবে সেই ভাষা অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মত বা সংবাদ পরিবেশনের মত আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যাবহৃত হবে কি না সেটাই প্রশ্ন।
(এই কমেন্ট লিখতে গিয়ে খেয়াল করলাম অনেক শব্দের শুদ্ধ বাংলা রূপের আগে ইংরেজি প্রতিশব্দ, বা আঞ্চলিক প্রতিশব্দ আগে মনে আসছে !!)
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন:
অসাধারন। মনের ভেতরে চেপে রাখা চাপা আর্তনাদগুলোকে ছাপার অক্ষরে দেখতে পেলাম। প্রিয়তে।
নষ্ট কবি বলেছেন:
ভালো লাগলো.......
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ব্লগে আরেকজন পোস্ট কলোনিয়াল ব্লগার পেয়ে ভালো লাগল।