আমার প্রিয় পোস্ট
- ফেস বুকে আপনার অবস্থান ? ইন্টারনেট, ফেসবুক, ফেসবুক আইডি DEACTIVATE - মিয়াবেপারী
- ক্ষমতাসীনদের হাতে সংখ্যালঘু নির্যাতন - সায়েমুজজ্জামান
- ধর্ম, নৈতিকতা এবং রাজনীতিতে সুনীতি - তাজা কলম
- রোহিঙ্গা: অবহেলিত, নির্যাতিত তবু অপরাজিত এক জনপদ - উম্মু আবদুল্লাহ
- পৃথিবীর সবচেয়ে সহজে যেকোন পেজের স্কীনশট নিন আর সেভ করুন PNG, JPG, RTF (Word), PDF, HTML ফরম্যাটে (ফ্রী) - আমি কুমিল্লার পোলা
- উফ!! কি বিভৎস,ওরা হামলে পড়ে ভয়ঙ্কর রূপে,এটাই কি ছাত্রলীগের আসল চেহারা? পাকিরা হার মেনেছে যাদের কাছে।

- রিপন উদ্দিন
- আল্লাহর সাথে নিজেদের তুলনা করায় আগামীকাল আইনপ্রতিমন্ত্রী কামরুলের বিরুদ্ধে মামলা - রাজমুকুট
- বিরোধী দলের চিফ হুইপ কে দিগম্বর করার ঘোষণা দিলো যুবলীগ। - জেনারেশন৭৫
- শিশুর বিকাশ ও শিশুর মনঃসামাজিক সমস্যা - ৪ - আহমেদ হেলাল ছোটন
- প্রধানমন্ত্রীর ডিগবাজিঃ ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলেছিলাম ৯৬ সালে !! - তীর্যক
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আওয়ামী লীগারদের কীর্তি - অর্থহীণ
- ভাসানী ও সোহরোয়ার্দী সংঘাত!! স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে-বিপক্ষে!! - টিংটিং
- পার্বত্য চট্টগ্রাম : ওয়েবে আমার বাংলাদেশ যেভাবে ধর্ষিত হচ্ছে প্রতিদিন - ফিউশন ফাইভ
- এডিসন বনাম ওয়েস্টিংহাউস : এসি ডিসির যুদ্ধ - উম্মু আবদুল্লাহ
- ‘মোসাদ::পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্হা - টেকি মামুন
- আওয়ামী লীগ ও রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন : কেউ ভোলে কেউ ভোলে না (পর্ব-২) - সুধাসদন
- জহির রায়হান অন্তর্ধান নাকি হত্যাকান্ড?-২ - ইবনে সালাম
- আওয়ামী লীগ ও রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন : কেউ ভোলে কেউ ভোলে না (পর্ব-১) - সুধাসদন
- তাবলীগ নিয়ে অজনপ্রিয় কয়েকটি কথা- - পাললিক মন
- ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন 'ভূমিকম্প অস্ত্র' পরীক্ষার কারণে হাইতিতে ভূমিকম্প ? - নিউজকাস্টার
- জুমলা টিউটোরিয়াল: সম্পূর্ণ - গৌতম রায়
- ইউরোপের মুসলিম অভিবাসীদের সাম্প্রতিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট এবং ইসলাম/মুসলিম বিষয়ে সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি - উম্মু আবদুল্লাহ
- প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর : এইবার ঘোড়ার ডিম ফুটিয়া বাচ্চা বের হইবে - মাহবুব মোর্শেদ
- বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করার আহ্বান এখন সমগ্র বিশ্ব / সকল বঙ্গালীর? - মাসুদ চৌধুরী
- ক্ষমতাসীনরা অসত্যের পাহাড় বানাচ্ছেন : বিপদ বাড়ছে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের - নিউজকাস্টার
- ১৯৭১ নিয়ে ইনডিয়ান মিডিয়ার আগ্রাসন - সাইফ সামির
- আল মাহমুদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে বালেগ হয়ে আসা জরুরি! - ফিউশন ফাইভ
- তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দুটো লিংক - সুধাসদন
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী এবং একজন স্বঘোষিত পর্নোষ্টার: জাতেমাতাল - একলা একজন
- বাবরি মসজিদঃমানুষের প্রান যেখানে ধর্মকে টিকিয়ে রাখে!(লিবারহাম রিপোর্ট ও ঘটনা প্রবাহ) - এ. এস. এম. রাহাত খান
- র্কনেল রশীদ সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সংশ্লষ্টি সকলরে নাম প্রকাশ করেছেন-উপস্থাপক জিল্লুর রহমান - ব্যাপারনা
- ধর্ম নিরপেক্ষ আওয়ামী লীগের ওয়েব সাইটে সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়া - লাল সাগর
- শেখ রেহানা ও আওয়ামীলীগের অর্থায়নে পরিচালিত আমারব্লগ এবং সুশান্ত বাবুর ইদুর বিড়াল খেলা - চিরসবুজ-মানব
- সাতই নভেম্বরঃ ফরহাদ মজহার - জলপাই দেশি
- জাফর ইকবাল বাঙালি জাতিকে কি দিয়াছেন? এই পোষ্ট আমি পাইয়াছি।
কিন্তু সাহায্য লাগবে - মোতাব্বির কাগু
- ইসলাম, সম্প্রদায় ও পরিচয় বিষয়ে দশটি নোক্তা - ফারুক ওয়াসিফ
- একটি ব্লগে বেয়াই মোশাররফ হোসেনকে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চক্রান্ত হয়েছিল - আয়াজ মাহমুদ
- সাজেদা চৌধুরীর এই অজ্ঞতা দুঃখজনক, বেদনাদায়ক - সাদাত হাসান
- Belated Happy Birthday to an unborn leader : শেখ হাসিনা - মেঘ
- বাংলাদেশী ওয়েব এড্রেস (অনলাইনে প্রতিদিন) - সিটিজি৪বিডি
- অনলাইনে প্রতিদিন ঃ বাংলা ভাষায় ইসলামিক ওয়েব সাইট/পোষ্ট সমুহ - সিটিজি৪বিডি
- ধ্বংসের পথে ইসরাইল - ইবনে সালাম
- ছাত্রলীগ কর্মী হলে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণ করা যায়??? - নির্বাসন
- প্রতিক্রিয়াশীল এলিটদের দুর্গে ফরহাদ মজহারের লুঙ্গি হামলা এবং তার ফল - মাহবুব মোর্শেদ
- ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বলতেছেন, সেখানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও নাকি লুঙ্গি পরে এসেছিলেন! - ফিউশন ফাইভ
- ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে : নাইমুল ইসলাম খান - নিউজকাস্টার
- বাহাত্তুরের সংবিধানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই : ফরহাদ মাজহার - নিউজকাস্টার
- আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব রক্ষার্থেই আরো কিছু নেতা অদূর ভবিষ্যতে এমন স্বীকারোক্তি দিবেঃ এটা পাতানো খেলা.......কারণ জলিল হাসিনার নির্দেশেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন! - চিরসবুজ-মানব
- বাহাত্তরের সংবিধান বহুবার ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে - কল্যাণকামী
- জাতি সংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের কূটনৈতিক প্রটোকল ভঙ্গ। - অন্তীম
- সিন্ডিকেট =চিনি ফারুক + অসাধু চিনি ব্যবসায়ী - আবু সাঈদ আহমেদ
- আওয়ামী লীগের জন্য অশনি সংকেত - ইরোর
- হাসিনাপ্পু - মগ্নতা
- পোষ্টে বা মন্তব্যে ছবি যুক্ত করার এর চেয়ে সহজ নিয়ম আর কি হইতে পারে?
- নির্জন রহমান
- ডায়াসে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্যাচালের ইতিহাস :: ক্লিওন থেকে মুয়াম্মার গাদ্দাফী - মেহরাব শাহরিয়ার
- ভারতজুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের একটি ভয়াবহ নমুনা - ফিউশন ফাইভ
- ভারতের ৬০ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা - ইবনে সালাম
- বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নৈতিকমান প্রশ্নবিদ্ধ - নিরপেক্ষ চিন্তা
- টিপাইমুখঃ ভারতের হাইড্রোপলিটিক্সের রেসের ঘোড়া.... নিজের ল্যাজে পা পড়ার পর ভারতও এখন প্রতিবাদী!!! - মনজুরুল হক
৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার সরকারী উদ্যোগ : কে,কী বলেন
১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:২৯
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির পক্ষ হতে সংবিধান পরিবর্তন ও ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রর্বতন করার কথা বলে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন গবেষক ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেন, এমন মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারকে অবশ্যই জনমতের কথা বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় ঐক্যমত ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে যে সংকট সৃষ্টি হবে তা দেশপ্রেমিক কোন নাগরিকের কাম্য নয়।
সুদীর্ঘ ৩৭ বছর পর দেশের দেশের সংবিধানের পরিবর্তনকে তারা অতীত আশ্রয়ী উল্লেখ করে বলেন, এটা হবে পশ্চাৎ ভ্রমণ। পাশ্চাত্যসহ বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পরিচয় একটি উদার গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ হিসেবে। সংবিধান পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ পরিচয় সংকটে পড়বে। বর্তমান সংবিধানে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার সাথে সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ’৭২-এর সংবিধান পুন:প্রবর্তন করা হলে সেগুলো বাদ পড়বে। ঐ সংবিধানে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক সমাজ কায়েমের মাধ্যমে সাম্যবাদ তথা কমিউনিজম চালুর কথা বলা ছিল। অথচ সমাজতন্ত্র আধুনিক বিশ্বে ব্যর্থ এবং নির্বাসিত একটি মতবাদ হিসেবে প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে তা আবার যুক্ত করা হলে, বিষয়টি হবে হাস্যকর, আর এ ফলে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্খাপনায় যে নৈরাজ্য ফের চালু হবে তা জনগণ মেনে নিবে না। সরকার এমন সিদ্ধান্ত দিলে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
ড. মাহবুব উল্লাহ্
বিশিষ্ট সমাজ উন্নয়ন গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, কিছু লোক প্রচারণা চালাচ্ছেন ১৯৭২ সালের সংবিধানকে সংশোধনের নামে কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে। তাদের জানা উচিত ১৯৭৫ সালের আগে স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমান চার বার সংবিধান সংশোধন করেছেন। শেষ বার তিনি চরম ফ্যাসিবাদী কায়দায় গণতন্ত্রকে বিদায় দিয়ে একদলীয় শাসক কায়েম করতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পরিবর্তন করেন। কোন প্রকার আলোচনার সুযোগ না দিয়ে তিনি মাত্র ১২ মিনিটে ফ্যাসিবাদী কায়দায় একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করেন। এতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকেও সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। বর্তমান সংবিধানে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতিফলন-‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’কে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন করলে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস’এর বদলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ পুন:প্রবর্তিত হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যদি এ কাজ বর্তমান সরকার করে, করুক, আমরাও দেখবো জনগণ বিষয়টিকে কী ভাবে নেয়। তিনি আরো উল্লেখ করেন সংবিধান পরিবর্তন ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সম্পর্কে তিনি ইতোপূর্বে জাতীয় পত্রপত্রিকায় একাধিক নিবìধ লিখেছেন আরো লিখেবেন। এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে তিনি মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
ড. শাহদীন মালিক
এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক জানান, সংবিধান পরিবর্তনের কথা সরকার বলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খার পরিবর্তন এবং সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর কমানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্য কোন বিষয়ে সংবিধানের কোন অংশে পরিবর্তন করতে চায় সে সম্পর্কে কোন সুনিদিষ্ট প্রস্তাব এখনো জাতির সামনে উপস্খাপন করেনি। আর প্রস্তাব পাওয়ার আগে মন্তব্য করব কি ভাবে? ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ’৭২-এর সংবিধানে হুবহু ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। সংবিধানের কোন অংশে ফিরে যেতে চায় তা সরকার পরিষ্কার করেনি। ৩৬ বছর পরে চাইলেই সংবিধানের সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়া স্বাধীনতার ভিত্তি। তিনি বলেন, সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে হবে তারা কী পরিবর্তন করতে চায়। আমি মনে করি এখানে দু’টি প্রশ্ন জড়িত। একটি, ধর্মনিরপেক্ষতায় কিভাবে ফিরে যাওয়া যাবে। অন্যটি, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান হওয়া উচিত কি না? আমি বলতে চাচ্ছি,সরকারের পক্ষ হতে আগে সুস্পষ্ট প্রস্তাব করতে হবে, তার আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক
সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, পাশ্চাত্যসহ বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় একটি উদার গণতান্ত্রিক মুসলিম দেশ হিসেবে। সংবিধান পরিবর্তন করে ১৯৭২ সালের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফিরে গেলে দেশ পরিচয় সংকটে পড়বে। এটা হবে আমাদের জন্য পশ্চাৎ ভ্রমণ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। ইচ্ছে করলে তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু এর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়াটা ঠিক হবে না। কারণ ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে কোনো রায় নেয়নি। জনগণের রায় ছাড়া এ কাজ করা ঠিক হবে না। সংবিধানে যেসব পরিবর্তন বর্তমান সরকার আনতে চাচ্ছেন তা ঘোষণা করতে হবে, এরপর সে ব্যাপারে জনগণের মেন্ডেট বা রায় নিতে হবে। এটা না করে সংবিধানে কোন মৌলিক পরিবর্তন করলে, জনগণ তা মেনে নিবে না। আর এটা করা ঠিকও হবে না।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সেক্যুলারিজমের দিকে আবার ফিরে যাওয়াটা জনগণ মেনে নেবে না। এতে করে রাষ্ট্রের মধ্যে একটা সংঘাত সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐকমত্যের দরকার। আর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংবিধান পরিবর্তন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার জনগণের মেন্ডেট। ১৯৭২ সালের সংবিধান পুন:প্রবর্তন করে ইসলামি রাজনীতি বìধ করে দেয়া হলে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে, তা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে বলে আমি মনে করি না।
ড. আসিফ নজরুল
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই সংবিধান সংশোধন হয়। উন্নত দেশে সংবিধান সংশোধন করা হয় জনকল্যাণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পদক্ষেপ হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনুন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে বারবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের আগে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও এরশাদসহ যারা সংবিধান সংশোধন করেছেন প্রত্যেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতাকে কুক্ষিগত বা অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য। আর এ জন্য সংবিধান সংশোধনের কথা উঠলেই জনমনে দুর্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, সরকার যদি নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে এবং ওই কমিটি জনমতের ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং সেই উদ্যোগ জনমত ও দেশের স্বার্থে করা হয় তা হলেই কেবল তা গ্রহণযোগ্য হবে। ’৭২-এর সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং পরে ‘আল্লাহর ওপর আস্খা ও বিশ্বাস’ ও ‘বিসমিলাহির রাহমানির রাহিম’ যোগ সবই রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে সে সময় সরকার সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে।
বদরুদ্দিন ওমর
শেখ মুজিবুর রহমানই ১৯৭২ সালের সংবিধানকে অকার্যকর করার জন্য সর্বপ্রথম বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ওই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করে তার চার স্তম্ভের অন্যতম গণতন্ত্র বিধ্বস্ত করেন। এই সংশোধনীর জোরে তিনি নিজেদের দল বাকশাল ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেন। সরকারি দু-একটি পত্রিকা বাদে সব পত্রপত্রিকা, এমনকি মাসিক পত্রিকা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেন এবং নিজের দল বাকশালের দরজা আনসার, মিলিটারি, পুলিশ ইত্যাদির জন্য উন্মুক্ত করে সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেন। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যে জিয়াউর রহমান সামরিক কর্তাব্যক্তি হিসেবে ক্ষমতায় বসেন তিনি ছিলেন শেখ সাহেবের ‘বাকশাল’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এদিক থেকে বলা চলে, শেখ সাহেব যে বীজ বপন করেছিলেন, জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন আমলেই তা প্রস্ফুটিত হয়েছিল।
বদরুদ্দীন উমরঃ ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আইনমন্ত্রীর ব্যগ্রতা
নাইমুল ইসলাম খান
দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদক জনাব নাইমুল ইসলাম খানও বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের সরাসরি ফিরে গেলে শুধু বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে না, ঐ দিকে হাঁটতে শুরু করলেই বিশৃঙ্খলা শুরু হবে এবং সে বিশৃঙ্খলা কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সে বিষয়টি কল্পনা করতে গেলে আমি শিহরিত হই ।
৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে : নাইমুল ইসলাম খান
ফরহাদ মজহার
বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার বলেছেন, যেহেতু এটিতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই , জনগণের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে এটি প্রণীত হয়নি সেহেতু এটিই প্রথম ভুল বা ক্রটি । নির্বাচনোত্তর কালে যাদেরকে সংবিধান প্রণয়ণের জন্যে পাঠানো হয়েছিল তারা স্বঘোষিতভাবে সংবিধান সভা শেষে সংবিধান তৈরী করেছে । অর্থাৎ কিভাবে একটি জাতিকে বিদেশী আধিপত্যের অধীন থেকে শাসন করতে হবে এটারই সমষ্টি হচ্ছে ১৯৭২ এর সংবিধান । আমি আবারও খুব স্পষ্টভাবে বলছি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণ সংবিধান প্রণয়ন করেনি । ৭২ সালে তো সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন করে কোনো সংবিধান সভা ডেকে সংবিধান করা হয়নি
বাংলাদেশের সংবিধান সভা ডাকা হয়েছিল ৪ মার্চে । আর এটি করা হয়েছিল ভারতে বসে । এর পরের সরকার ছিল আওয়ামী লীগের সরকার । তারা ছিল ভারতের দালাল মার্কা সরকার । জনগণের সরকার তারা কখনই ছিল না । ফলে তাদের নির্মিত সংবিধান কিভাবে জনগণের সংবিধান হয় ! এটি ছিল আওয়ামী লীগের সংবিধান । আর বাংলাদেশে গত ৩৮ বছরের ইতিহাসের লড়াই কিন্তু সেটাই ।
বাহাত্তুরের সংবিধানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই : ফরহাদ মাজহার
আ.স.ম রব
সংবিধানের মূলনীতির অন্যতম নীতি ‘গণতন্ত্র’কে রাতারাতি একদলীয় বাকশালে রূপান্তর, বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যা, সাংবিধানিক শাসনের আওতায় বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতি হিসাবে খন্দকার মোশতাকের শপথ গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত করাসহ এসবকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করলেই দেখা যায় ১৯৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোগত সহজাত সীমাবদ্ধতা ছাড়াও ১. সংসদের অভ্যন্তরীণ স্বনিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যহীনতা, ২. সংবিধানের ধারাবাহিকতা সুরক্ষার জন্য শক্তিহীনতা, ৩. সংবিধানের চার মূলনীতি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে বাধ্যবাধকতার অভাব, ৪. সংবিধান লঙ্ঘনের প্রতিরোধের প্রশ্নে বিচারবিভাগের শক্তিহীনতার সীমাবদ্ধতা ও ৫. এককেন্দ্রীক সরকার ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে নির্বাহি ব্যবস্থায় স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সীমাবদ্ধতায় বারবার ৭২ এর সংবিধান ব্যর্থ, অকার্যকর ও অসহায় প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনী ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম মৌলিক পরিবর্তন। স্বাধীনতাত্তোর ক্রম উত্তরণের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ সংশোধনী ছিল দেশ ও জাতির জন্য চরম আত্মঘাতী পদক্ষেপ। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং পরবর্তীসময়ে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজনীতিতে যে অশুভ ধারার সূচনা হয়েছিল তা থেকে জাতি আজো মুক্ত হতে পারেনি। এর দায় কতদিন বহন করতে হবে তাও আমাদের জানা নেই।
বাহাত্তরের সংবিধান বহুবার ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে : আ.স.ম. রব
প্রকাশ করা হয়েছে: রাজনৈতিক অঙ্গন বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সরকার চেষ্টার ত্রুটি করবে না । সরকারের আইনমন্ত্রী ৯ জানুয়ারি দৈনিক সমকাল পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মন্ত্রিত্বের জন্য তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। এ কাজ তিনি করেছেন এক মহৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। এ উদ্দেশ্যটি হল ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
সংবিধান নিয়ে চিন্তা করি না। ভালো মানুষ হতে গেলে নিজেকেই উদ্যোগী হতে হয়, সেই চেষ্টাতেই আছি।
মোহাইমেন বলেছেন:
যাদের কথা এখানে লিখলেন, তারা সংবিধানের কি বোঝে?(!!!) যারা বোঝে তাদের কথা লিখুন।(!!!) ১৯৭২ কেন, ১৯৪৭, ১৮৮০, যেখানে দরকার হয় সেখানে যাবো। আমাদের গাড়িতো উল্টোপথে চলে। লেখায় প্লাস। ধন্যবাদ।
দাম বলেছেন:
+
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমি বুঝি না, এই বিষয়টা নিয়া কি আসলেই সরকার কাজ করতেছে, নাকি কিছু ছাগু খামাকা চিক্কুর বাক্কুর লাগাইয়া দিছে!!!!! লেখক বলেছেন: পত্রপত্রিকা পড়েন তাহলে জানতে পাবেন সরকারের মন্ত্রীরা কে,কি বলছেন।
অমিত হাসান বলেছেন:
সবাই এগিয়ে যাবে আর আমরা সংবিধান সংশোধন করে ১৯৭২ সালে ফিরে গিয়ে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করবো। সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন আছে কিন্তু দরকার সময়পোযোগী সংশোধন।
লেখক বলেছেন: যথার্থ বলেছেন।
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন:
১ নং মন্তব্যে, "৭২'র সংবিধানে ফেরত যাইতে চাইলে প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ এর সবগুলোই পরিবর্তন করতে অইব"জানতে চাইছি প্রথমবার পরিবর্তন করার সময় কোন গনতান্ত্রিক সরকার গনভোট নিয়ে এ পরিবর্তন করেছিল কিনা?
ডিজিটালভূত বলেছেন:
ভালো লাগলো।
আওরঙ্গজেব বলেছেন:
প্রথম মন্তব্যের যুক্তি সত্য হলে খুশী হব। ইনশাল্লাহ, আল্লাহ বাংলাদেশকে রক্ষা করবেন।
ফজল বলেছেন:
জরুরী পোষ্ট।
সুবিদ্ বলেছেন:
হুবহু '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাবেনা এই সরকার......এটা যারা বোঝেনা তারা জেগে ঘুমায়........Click This Link
সুধাসদন বলেছেন:
প্রিয়তে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















আমি মনে করি সংবিধানের বিধান অনুসারে ৭২ এর সংবিধানে আর ফিইরা যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব না। অনেকে মনে করতে পারেন বর্তমান সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সংবিধান সংশোধন করতে পারব।
তাদের জন্য বলি, সংবিধানে কিছু ব্যতিক্রম বিধান আছে। অনুচ্ছেদ-১৪২ এ সংবিধান সংশোধনের বিধান বর্ণনা করা আছে। ঐ বিধান অনুসারে দুই তৃতীয়াংশ সংশোধনীতে সংবিধানের সকল বিধান পরিবর্তন করা যায় ৫টা ছাড়া।
১. প্রস্তাবনা
২. অনুচ্ছেদ ৮
৩. অনুচ্ছেদ ৪৮
৪. অনুচ্ছেদ ৫৬
৫. অনুচ্ছেদ ১৪২
এই বিধানগুলো পরিবর্তন করতে গণভোট লাগে।
৭২'র সংবিধানে ফেরত যাইতে চাইলে প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ এর সবগুলোই পরিবর্তন করতে অইব। এর মধ্যে অনুচ্ছেদ ৮ এর 'সর্ব শক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' বাদ দিয়া 'ধর্মনিরপেক্ষাতা' বসানোর ব্যাপার আছে। সেইক্ষেত্রে এদেশের জনগণ সংবিধান থেইকা সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিব কিনা হেইডা খুবই ভাইটাল বিষয়। মনে তো অয় না। সেক্ষেত্রে গণভোটে সরকার নাও জিততে পারে।