মসজিদের ইমামদের নিয়েও রাজনীতি শুরু হয়েছে। সরকারের খাঁটি সমর্থক ইমামদের নিয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সমিতি নামে সরকার সমর্থক একটি মোর্চা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছে প্রাথমিক প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে গঠিত হবে কমিটি। আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাড়াও মহাজোটের সমমনা ইসলামিক ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা এ সমিতিতে স্থান পাবেন বলে সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, সরকার সমর্থক এ ইমাম সমিতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মসজিদভিত্তিক প্রচারণা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা চালানো হবে। জামায়াতপন্থী বলে অভিযোগ এনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ২৩ বছরের পুরনো সংগঠন জাতীয় ইমাম সমিতিকে বাদ দেয়া হয়েছে সরকারি কর্মকা- থেকে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় ইমাম সমিতি পুরনো সংগঠন হলেও তারা ছিল জোট সরকারের সুবিধাভোগী। সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব কাজী আবু হোরায়রার সঙ্গে জোট সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ছিল। তিনি বিশেষ মহলের আশীর্বাদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এ কারণে এ সমিতির কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের আস্থা নেই। এছাড়া তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের পরিচালক আবুল হায়াত মোহাম্মদ তারেক যায়যায়দিনকে বলেন, জাতীয় ইমাম সমিতি জোট সরকারের আশীর্বাদে পরিচালিত হতো। এ কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বিকল্প সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সমিতি চট্টগ্রামের কমিটি ঘোষণা করা হবে। তাদের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
দাতা সংস্থা ইউএনএসপির অর্থায়নে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত বুধবার জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় ইমাম সম্মেলন। মানবসম্পদ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল। ফাউন্ডেশনের বোর্ড অফ গভর্নর ও ইসলামিক ফ্রন্ট নেতা খন্দকার গোলাম মাওলা, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের চেয়ারম্যান মিজবাহুর রহমান চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত ১৫০ অতিথির মধ্যে প্রায় সবাই সরকার সমর্থিত প্রস্তাবিত ইমাম সমিতির নেতা। সম্মেলনে নতুন ইমাম সমিতির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা জানান, ইমামদের নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। জাতীয় ইমাম সমিতির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, এটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ইমামদের স্বার্থরক্ষণ ও মানবসেবার জন্য এ সমিতি গঠিত হয়। ব্যক্তিবিশেষের জন্য পুরো সমিতিকে রাজনীতিতে টেনে আনা ঠিক নয়। সারাদেশে এ সমিতির প্রায় দুই লাখ সদস্য রয়েছে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমিতির কমিটি আছে। এরপরও সরকারের এ সমিতিকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প সমিতি গঠন দুর্ভাগ্যজনক।
জাতীয় ইমাম সমিতি চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি কাজী জাফর আহমদ বলেন, সরকার শুধু শুধু তাদের প্রতিপক্ষ ভাবছে। ইমাম সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে জোট সরকারের অনেক মন্ত্রীর ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে হয়তো সরকার পুরো সমিতিকে জামায়াতপন্থী মনে করছে, যা অনভিপ্রেত।
সরকার সমর্থিত ইমাম সমিতির নেতারা জানান, জামায়াত ও ওহাবিদের নানামুখী ষড়যন্ত্র ও ইসলামের অপব্যাখ্যার জবাব দিতে ইমামদের বলিষ্ঠ ভূমিকা দরকার। মসজিদে মসজিদে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। এ কারণে বিকল্প সমিতির প্রয়োজন। প্রস্তাবিত এ সমিতির চট্টগ্রাম শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন কাজী শাকের আহমদ। তিনি এক সময় জাতীয় ইমাম সমিতির আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি ছিলেন। যায়যায়দিনকে তিনি বলেন, আগের ইমাম সমিতিতে জামায়াতি-ওহাবি আদর্শের লোকজন বেশি ছিল। এ কারণে সরকার সমর্থকদের নিয়ে নতুন কমিটি হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, সরকার সমর্থিত এ ইমাম সমিতি গঠন প্রক্রিয়া চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়েছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটি দুই-একদিনের মধ্যে গঠন করা হবে। জেলা কমিটিতে শাকের আহমদকে আহ্বায়ক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিকে সদস্য সচিব রাখা হবে। ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে চলবে এ সমিতির কর্মকান্ড । ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাবতীয় প্রকল্প এ সমিতির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
Click This Link
আওয়ামীলীগের ধর্মনিরপেক্ষতার খোলস দিন দিন বের হয়ে আসছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



