দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাময় জনপদ ঐতিহাসিক গৌড় নগরী আজো অবহেলিত। এখানে রয়েছে বহুসংখ্যক প্রাচীন ও ইতিহাসের আকর্ষণসমৃদ্ধ নিদর্শন। এসব নিদর্শন নামমাত্র সংরক্ষিত হলেও তা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। বরং এই নগরী এখন পণ্য পরিবহনকারী ভারি ভারি যানবাহনের দাপটে বিপন্ন অবস্থার শিকার। বর্তমানে এর প্রাচীনত্বই নষ্ট হয়নি, এর প্রত্বতাত্ত্বিক আকর্ষণও বিনষ্ট হতে বসেছে। বলা যায়, একটি প্রাচীন নগরীর ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ অরক্ষিতই রয়েছে।
গৌড় নগরীর বহু সংখ্যক প্রত্ন নির্দশনের অন্যতম ছোট সোনা মসজিদের নাম কমবেশি সকলের জানা হলেও তার অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। এর একবারে পেছন দিয়েই সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের মূল সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এর উপর দিয়ে দিনরাত ২০/২৫ টনের মালবাহি ট্রাক অবিরাম চলাচল করে। এর ফলে মসজিদের মূল ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক যুগে এর কী মাত্রার ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হয়নি। তবে যে কোন সময় এর অস্তিত্ব সমূলে বিপন্ন হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, তৎকালীন মালদহ জেলার গঙ্গা-মহানন্দা নদীর সাবেক সঙ্গমস্থলের কাছে গৌড় রাজ্য দীর্ঘকাল যাবত শক্তিশালি ও সমৃদ্ধ ছিল। এর সম্পদ ও প্রাচুর্যে ভারতবর্ষে দিল্লী ছাড়া এর কোন প্রতিদ্বনদ্বী ছিল না। শহরটি ছিল বিস্তীর্ণ ও জনবহুল। ধনবান, উচ্চ বংশোদ্ভূত পরিবার এবং শিক্ষিত ও পান্ডিত্যের জন্য খ্যাত লোকেরা ছিল এর অধিবাসী। একটা বিরাট স্থায়ী সেনাবাহিনীও রাখা হতো বলে ইতিহাস লেখকগণ উল্লেখ করেছেন। গৌড় নগরী এখন থেকে ৬শ' থেকে ৭শ' বছরের ইতিহাস বহন করে চলেছে। এখানে আছে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি মসজিদ স্থাপত্য, মাদরাসা, তোরণ ও অন্যান্য নিদর্শন। গৌড়ের বড় অংশটি পড়েছে ভারতীয় অংশে।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৌড় নগরীর অন্যতম স্থাপত্য দারসবাড়ি মসজিদের পরে সোনা মসজিদ হলো বৃহত্তম মসজিদ। তবে পার্থক্য হলো দারসবাড়ি মসজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় এর সৌন্দর্য লুপ্ত, আর ছোট সোনা মসজিদ সম্পূর্ণ কাঠামো নিয়ে বিদ্যমান থাকায় এর সৌন্দর্য দৃশ্যমান। প্রকৃতপক্ষে গৌড়-লক্ষ্মণাবতিতে যত মসজিদ বিদ্যমান অবস্থায় আছে এদের মধ্যে ছোট সোনা মসজিদই সবচেয়ে সুদৃশ্য এবং তৎকালীন মসজিদসমূহের প্রকৃতি নির্ধারক। ছোট সোনা মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় জামে মসজিদ এবং এতে যে সুলতান বা তার প্রতিনিধি জুম্মায় অংশগ্রহণ করতেন, তা এর রাজমঞ্চের অবস্থান থেকে প্রতীয়মান হয়। মসজিদটি কোতোয়ালি গেটের প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে শিবগঞ্জ কোতোয়ালি সড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। মসজিদের অবস্থান এবং এর সৌন্দর্যের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সত্য হলো যে এই অফিসটি কোন দর্শনার্থী বা তথ্য সংগ্রাহকের জন্য প্রায়ই খোলা থাকে না।
ছোট সোনা মসজিদের ইতিবৃত্ত : সুলতান হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) এই মসজিদটি গৌড়ের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী সড়কের পূর্ব পার্শ্বে এবং পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত একটি বিশাল দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এটা সাধারণভাবে ছোট সোনা মসজিদ নামে অভিহিত। পাথরের তৈরি ইট দিয়ে এটা তৈরি হয়। অট্টালিকাটি বাইরে দৈর্ঘে ৮২ ফুট ও প্রস্থে সাড়ে ৫২ ফুট। আয়তক্ষেত্রাকার এই ভবন প্রায় ২০ ফুট উঁচু। এর অভ্যন্তর ভাগের মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্যে ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৪০ফুট ৯ ইঞ্চি। সম্মুখে ৫টি খিলানযুক্ত দরজাসহ এই অভ্যন্তরভাগ তিনটি লম্বালম্বি খিলান পথে বিভক্ত। ছাদ ছয়টি পিলারের মাথায় অর্ধগোলাকার গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের সময় তিনটি গম্বুজ ও পশ্চিমের দেয়ালের কিছু অংশ ভূপাতিত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে (১৯০০ সালে) সরকার এগুলো পুনঃনির্মাণ করে এবং উপরিভাগ ও দেয়ালগুলো পরিষ্কার করা হয়। মসজিদটিতে ১২টি অর্ধ গোলাকার ও তিনটি পিরামিড আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। এসব গম্বুজের মধ্যভাগে ও এগুলোর ভিতরের দিকের গায়ের সর্বত্র শোভাবর্ধক গোলাপ খোদিত রয়েছে।
সোনা মসজিদের পূর্ব অংশে একটি তোরণ রয়েছে-যা সম্পূর্ণ পাথরের। এর বাইরে পাথরের আবরণে মন্ডিত বেশ ক'টি কবর রয়েছে। এগুলো ঠিক কাদের তা আজো অজ্ঞাত। তবে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণকারী রাজকীয় ব্যক্তিদের কবর এগুলো।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাময় জনপদ ঐতিহাসিক গৌড় নগরী আজো অবহেলিত। এখানে রয়েছে বহুসংখ্যক প্রাচীন ও ইতিহাসের আকর্ষণসমৃদ্ধ নিদর্শন। এসব নিদর্শন নামমাত্র সংরক্ষিত হলেও তা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। বরং এই নগরী এখন পণ্য পরিবহনকারী ভারি ভারি যানবাহনের দাপটে বিপন্ন অবস্থার শিকার। বর্তমানে এর প্রাচীনত্বই নষ্ট হয়নি, এর প্রত্বতাত্ত্বিক আকর্ষণও বিনষ্ট হতে বসেছে। বলা যায়, একটি প্রাচীন নগরীর ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ অরক্ষিতই রয়েছে।
গৌড় নগরীর বহু সংখ্যক প্রত্ন নির্দশনের অন্যতম ছোট সোনা মসজিদের নাম কমবেশি সকলের জানা হলেও তার অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। এর একবারে পেছন দিয়েই সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের মূল সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এর উপর দিয়ে দিনরাত ২০/২৫ টনের মালবাহি ট্রাক অবিরাম চলাচল করে। এর ফলে মসজিদের মূল ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক যুগে এর কী মাত্রার ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হয়নি। তবে যে কোন সময় এর অস্তিত্ব সমূলে বিপন্ন হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, তৎকালীন মালদহ জেলার গঙ্গা-মহানন্দা নদীর সাবেক সঙ্গমস্থলের কাছে গৌড় রাজ্য দীর্ঘকাল যাবত শক্তিশালি ও সমৃদ্ধ ছিল। এর সম্পদ ও প্রাচুর্যে ভারতবর্ষে দিল্লী ছাড়া এর কোন প্রতিদ্বনদ্বী ছিল না। শহরটি ছিল বিস্তীর্ণ ও জনবহুল। ধনবান, উচ্চ বংশোদ্ভূত পরিবার এবং শিক্ষিত ও পান্ডিত্যের জন্য খ্যাত লোকেরা ছিল এর অধিবাসী। একটা বিরাট স্থায়ী সেনাবাহিনীও রাখা হতো বলে ইতিহাস লেখকগণ উল্লেখ করেছেন। গৌড় নগরী এখন থেকে ৬শ' থেকে ৭শ' বছরের ইতিহাস বহন করে চলেছে। এখানে আছে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি মসজিদ স্থাপত্য, মাদরাসা, তোরণ ও অন্যান্য নিদর্শন। গৌড়ের বড় অংশটি পড়েছে ভারতীয় অংশে।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৌড় নগরীর অন্যতম স্থাপত্য দারসবাড়ি মসজিদের পরে সোনা মসজিদ হলো বৃহত্তম মসজিদ। তবে পার্থক্য হলো দারসবাড়ি মসজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় এর সৌন্দর্য লুপ্ত, আর ছোট সোনা মসজিদ সম্পূর্ণ কাঠামো নিয়ে বিদ্যমান থাকায় এর সৌন্দর্য দৃশ্যমান। প্রকৃতপক্ষে গৌড়-লক্ষ্মণাবতিতে যত মসজিদ বিদ্যমান অবস্থায় আছে এদের মধ্যে ছোট সোনা মসজিদই সবচেয়ে সুদৃশ্য এবং তৎকালীন মসজিদসমূহের প্রকৃতি নির্ধারক। ছোট সোনা মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় জামে মসজিদ এবং এতে যে সুলতান বা তার প্রতিনিধি জুম্মায় অংশগ্রহণ করতেন, তা এর রাজমঞ্চের অবস্থান থেকে প্রতীয়মান হয়। মসজিদটি কোতোয়ালি গেটের প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে শিবগঞ্জ কোতোয়ালি সড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। মসজিদের অবস্থান এবং এর সৌন্দর্যের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সত্য হলো যে এই অফিসটি কোন দর্শনার্থী বা তথ্য সংগ্রাহকের জন্য প্রায়ই খোলা থাকে না।
ছোট সোনা মসজিদের ইতিবৃত্ত : সুলতান হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) এই মসজিদটি গৌড়ের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী সড়কের পূর্ব পার্শ্বে এবং পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত একটি বিশাল দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এটা সাধারণভাবে ছোট সোনা মসজিদ নামে অভিহিত। পাথরের তৈরি ইট দিয়ে এটা তৈরি হয়। অট্টালিকাটি বাইরে দৈর্ঘে ৮২ ফুট ও প্রস্থে সাড়ে ৫২ ফুট। আয়তক্ষেত্রাকার এই ভবন প্রায় ২০ ফুট উঁচু। এর অভ্যন্তর ভাগের মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্যে ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৪০ফুট ৯ ইঞ্চি। সম্মুখে ৫টি খিলানযুক্ত দরজাসহ এই অভ্যন্তরভাগ তিনটি লম্বালম্বি খিলান পথে বিভক্ত। ছাদ ছয়টি পিলারের মাথায় অর্ধগোলাকার গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের সময় তিনটি গম্বুজ ও পশ্চিমের দেয়ালের কিছু অংশ ভূপাতিত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে (১৯০০ সালে) সরকার এগুলো পুনঃনির্মাণ করে এবং উপরিভাগ ও দেয়ালগুলো পরিষ্কার করা হয়। মসজিদটিতে ১২টি অর্ধ গোলাকার ও তিনটি পিরামিড আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। এসব গম্বুজের মধ্যভাগে ও এগুলোর ভিতরের দিকের গায়ের সর্বত্র শোভাবর্ধক গোলাপ খোদিত রয়েছে।
সোনা মসজিদের পূর্ব অংশে একটি তোরণ রয়েছে-যা সম্পূর্ণ পাথরের। এর বাইরে পাথরের আবরণে মন্ডিত বেশ ক'টি কবর রয়েছে। এগুলো ঠিক কাদের তা আজো অজ্ঞাত। তবে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণকারী রাজকীয় ব্যক্তিদের কবর এগুলো।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাময় জনপদ ঐতিহাসিক গৌড় নগরী আজো অবহেলিত। এখানে রয়েছে বহুসংখ্যক প্রাচীন ও ইতিহাসের আকর্ষণসমৃদ্ধ নিদর্শন। এসব নিদর্শন নামমাত্র সংরক্ষিত হলেও তা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। বরং এই নগরী এখন পণ্য পরিবহনকারী ভারি ভারি যানবাহনের দাপটে বিপন্ন অবস্থার শিকার। বর্তমানে এর প্রাচীনত্বই নষ্ট হয়নি, এর প্রত্বতাত্ত্বিক আকর্ষণও বিনষ্ট হতে বসেছে। বলা যায়, একটি প্রাচীন নগরীর ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ অরক্ষিতই রয়েছে।
গৌড় নগরীর বহু সংখ্যক প্রত্ন নির্দশনের অন্যতম ছোট সোনা মসজিদের নাম কমবেশি সকলের জানা হলেও তার অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। এর একবারে পেছন দিয়েই সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের মূল সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এর উপর দিয়ে দিনরাত ২০/২৫ টনের মালবাহি ট্রাক অবিরাম চলাচল করে। এর ফলে মসজিদের মূল ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক যুগে এর কী মাত্রার ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হয়নি। তবে যে কোন সময় এর অস্তিত্ব সমূলে বিপন্ন হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, তৎকালীন মালদহ জেলার গঙ্গা-মহানন্দা নদীর সাবেক সঙ্গমস্থলের কাছে গৌড় রাজ্য দীর্ঘকাল যাবত শক্তিশালি ও সমৃদ্ধ ছিল। এর সম্পদ ও প্রাচুর্যে ভারতবর্ষে দিল্লী ছাড়া এর কোন প্রতিদ্বনদ্বী ছিল না। শহরটি ছিল বিস্তীর্ণ ও জনবহুল। ধনবান, উচ্চ বংশোদ্ভূত পরিবার এবং শিক্ষিত ও পান্ডিত্যের জন্য খ্যাত লোকেরা ছিল এর অধিবাসী। একটা বিরাট স্থায়ী সেনাবাহিনীও রাখা হতো বলে ইতিহাস লেখকগণ উল্লেখ করেছেন। গৌড় নগরী এখন থেকে ৬শ' থেকে ৭শ' বছরের ইতিহাস বহন করে চলেছে। এখানে আছে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি মসজিদ স্থাপত্য, মাদরাসা, তোরণ ও অন্যান্য নিদর্শন। গৌড়ের বড় অংশটি পড়েছে ভারতীয় অংশে।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৌড় নগরীর অন্যতম স্থাপত্য দারসবাড়ি মসজিদের পরে সোনা মসজিদ হলো বৃহত্তম মসজিদ। তবে পার্থক্য হলো দারসবাড়ি মসজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় এর সৌন্দর্য লুপ্ত, আর ছোট সোনা মসজিদ সম্পূর্ণ কাঠামো নিয়ে বিদ্যমান থাকায় এর সৌন্দর্য দৃশ্যমান। প্রকৃতপক্ষে গৌড়-লক্ষ্মণাবতিতে যত মসজিদ বিদ্যমান অবস্থায় আছে এদের মধ্যে ছোট সোনা মসজিদই সবচেয়ে সুদৃশ্য এবং তৎকালীন মসজিদসমূহের প্রকৃতি নির্ধারক। ছোট সোনা মসজিদ একটি রাষ্ট্রীয় জামে মসজিদ এবং এতে যে সুলতান বা তার প্রতিনিধি জুম্মায় অংশগ্রহণ করতেন, তা এর রাজমঞ্চের অবস্থান থেকে প্রতীয়মান হয়। মসজিদটি কোতোয়ালি গেটের প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে শিবগঞ্জ কোতোয়ালি সড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। মসজিদের অবস্থান এবং এর সৌন্দর্যের কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সত্য হলো যে এই অফিসটি কোন দর্শনার্থী বা তথ্য সংগ্রাহকের জন্য প্রায়ই খোলা থাকে না।
ছোট সোনা মসজিদের ইতিবৃত্ত : সুলতান হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) এই মসজিদটি গৌড়ের সর্ব দক্ষিণ অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী সড়কের পূর্ব পার্শ্বে এবং পূর্ব পশ্চিমে বিস্তৃত একটি বিশাল দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এটা সাধারণভাবে ছোট সোনা মসজিদ নামে অভিহিত। পাথরের তৈরি ইট দিয়ে এটা তৈরি হয়। অট্টালিকাটি বাইরে দৈর্ঘে ৮২ ফুট ও প্রস্থে সাড়ে ৫২ ফুট। আয়তক্ষেত্রাকার এই ভবন প্রায় ২০ ফুট উঁচু। এর অভ্যন্তর ভাগের মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্যে ৭০ ফুট ৪ ইঞ্চি ও প্রস্থে ৪০ফুট ৯ ইঞ্চি। সম্মুখে ৫টি খিলানযুক্ত দরজাসহ এই অভ্যন্তরভাগ তিনটি লম্বালম্বি খিলান পথে বিভক্ত। ছাদ ছয়টি পিলারের মাথায় অর্ধগোলাকার গম্বুজ দিয়ে ঢাকা। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের সময় তিনটি গম্বুজ ও পশ্চিমের দেয়ালের কিছু অংশ ভূপাতিত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে (১৯০০ সালে) সরকার এগুলো পুনঃনির্মাণ করে এবং উপরিভাগ ও দেয়ালগুলো পরিষ্কার করা হয়। মসজিদটিতে ১২টি অর্ধ গোলাকার ও তিনটি পিরামিড আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। এসব গম্বুজের মধ্যভাগে ও এগুলোর ভিতরের দিকের গায়ের সর্বত্র শোভাবর্ধক গোলাপ খোদিত রয়েছে।
সোনা মসজিদের পূর্ব অংশে একটি তোরণ রয়েছে-যা সম্পূর্ণ পাথরের। এর বাইরে পাথরের আবরণে মন্ডিত বেশ ক'টি কবর রয়েছে। এগুলো ঠিক কাদের তা আজো অজ্ঞাত। তবে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণকারী রাজকীয় ব্যক্তিদের কবর এগুলো।
দেশের অন্যতম সেরা প্রত্ননির্দশন ছোট সোনা মসজিদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।