মনে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মায়ের বলা গল্প মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। মনে হতো আমার চোখের সামনে দৃশ্য গুলো ভেসে উঠতো। দেশ, জন্মভূমি, বাংলা ভাষা, বিজয়ের মাস এই সব বিষয়ে আমার অনুভূতি কতটুকু পরিপূর্ন জানি না। মনে হয় অনেক ভালবাসি দেশকে, মনে-প্রানে ভালবাসি কিন্তু সত্যি কতটুকু ভালবাসি দেশকে জানি না। দেশকে নিয়ে কিছু লেখার যোগ্যতা নেই বলেই ইচ্ছা থাকার সত্বেও কখনো লিখিনি। লিখতে বসলেই মনে হয় কি করে সেই মাকে নিয়ে কিছু বলার সাহস রাখি যে মাকে কখনো কিছু দিতে পারিনি, আর হয়তো পারবোও না।
যখন বাংলাদেশ থেকে চলে আসি তখন অনেক অভিমান হয়েছিল মায়ের উপর, দেশের উপর সত্যি বলতে কি তখন হয়তো প্রথমে বুঝতে পেরেছিলাম দেশের মাটিতে প্রান থাকে যেমন মা-বাবার জন্য মন হাহাকার করে উঠে তার চেয়ে বেশি অনেক বেশি দেশের মাটির একটু পরশ পাবার জন্য মন হাহাকার করে উঠে। কাউকে বলতে গেলে লজ্জা হয়, যদি সে আমার ভালবাসা কে বিলাসিতা বলে! যদি বলে উঠে, এতো দুর থেকে দেশের কথা বলার অধিকার নেই! তবে তো কোনো ভাষা নেই প্রতিবাদ করার।
ভয় হয় আমি কি আমার মায়ের মতো আমার মেয়ের চোখের সামনে তুলে ধরতে পারবো সেই ভয়াবহ দিন গুলো আর তার পরের খুশির সেই মূহুর্ত...নাহ আমার মায়ের মতো এতোটা পারবো না আমি, কারন আমার মায়ের মতো আমি পিশাচদের হাত থেকে বেচে থাকার জন্য যুদ্ধ করিনি। আমি কি আমার মেয়েকে জানাতে পারবো আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, কি করে বিজয় এসেছিল, কি আছে এই ১৬ই ডিসেম্বর এ! আমি কী ওকে শেখাতে পারবো! জানিনা, কিছুই জানিনা,,,
তবু আশা বাঁধি বুকে আমার মেয়ের মনে আমি ও একেঁ দিব সেই দিনগুলো- সে ভালোবাসবে বাংলাদেশকে, বাংলাভাষাকে। শ্রদ্ধা করবে বিজয়ের মাসকে। শ্রদ্ধা করবে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ।
আমাদের বিজয়ের গৌরবময় দিনের কথা গেঁথে থাকবে যুগ যুগ ধরে আমাদের আগামীতে ।
এক নদী রক্ত পেরিয়ে
http://www.youtube.com/watch?v=nyl_GAHDLBc

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




