গল্প: হাওয়াচুর
১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১:২২
অনিবার্য আগুনে পুড়ে যেতে চেয়েছিলাম একদিন। পুড়েছি প্রতিদিন, ভস্ম হই নি। একদিন জরাস›ধ হয়ে জন্মেছিলাম, জুড়ে দিলো যেজন-- তার নাম জরা নয়, অভিমান। আমি তার মুঠোর ভিতর দৃশ্যের পাথর, তার মুঠোভর্তি আমার চোখ।
মেঘদূত ভালো লাগে। অনেকবার পড়েছি। হয়েছি মনে মনে বিরহী যক্ষ। বুদ্ধদেবের অনুবাদ মূল সংস্কৃতির চেয়ে শক্ত। মাত্রা ঠিক রাখতেই বোধকরি তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। একদিন ভাবলাম, আমি নিজেই মেঘদূত অনুবাদ করবো।
তার সাথে আমার পরিচয় ছিলো না। অথচ আমরা পরস্পরকে চিনতাম। একদিন বলেই ফেললাম, আপনি আমাকে সংস্কৃত ভাষাটা শেখাবেন।
তার বিষয় সংস্কৃত। সে কারণ জানতে চাইলো।
মেঘদূত অনুবাদ করবো।
ঠিক আছে। ছয়মাস পর। আগে আমাকে ভালোভাবে শিখতে হবে।
সে চলে গেলো।
সতেরোদিন পর তাকে দেখলাম। জারুলবনে হেঁটে বেড়াচ্ছিলো। ডাক দিলাম, অ্যাই... আপনার সাথে কথা ছিলো...
না ফিরেই জবাব দিলো, ছয়মাস পর।
একদিন মিছিল নামলো। দাবী আদায়ের মিছিল। আমি তখন মিছিলের। প্রখর রৌদ্র আর স্লোগানের ভিতর তাকে খেয়াল করি নি। মিছিলে তারও পা চলছে, হাত উঠছে, হাত নামছে। আর আমাদের কণ্ঠের গান তখন নিবিড় স্লোগান।
যথারীতি ঝাপিয়ে পড়লো একপাল কুকুর, সনখ। রুখতে যখন গেছি-- আর মনে নেই...
আমি আর্তনাদ করছিলাম। আমার চেতনা আসছিলো, আবার চলে যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো আমার দুটো হাতই ভেঙে গেছে। হাড় ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। আমি বোধহয় হাতের জন্যে কাঁদছিলাম, না হাতের জন্যে নয়, বোধহয় কিভাবে কবিতা লিখবো, ছবি আঁকবো এইসব বকছিলাম।
সে এসে আমার বুকে হাত রাখলো, হাত রাখলো চুলে। বললো, তুমি বলবে, তোমার কবিতা আমি লিখে দেবো ইত্যাদি।
তার চোখে তখন আষাঢ়ের সকল বৃষ্টিপাত।
একদিন মেঘের একটি হাত নেমেছিলো আমার বুকের খরায়, আমার হিজিবিজি চুলের বনে...
মেঘের নাম অভিমান। অভিমান! তুমি কি আমার পুজো নিবে?
আমার জন্যে কেউ কোনোদিন কাঁদে নি। একজন একদিন কেঁদেছিলো-- আমাকে আমৃত্যু কাঁদাবে বলে।
আমার স্বপ্ন, আবেগ আর শূন্যতা ছাড়া কিছু নেই। আর তুমি অভিমান।
অভিমান, তোমাকে এখনো জানি না।
সে অবাক হলো, বললো, শূন্যতা!
হ্যাঁ, শূন্যতা যতোদিন মানুষকে ঘিরে থাকে মানুষ ততোদিনই সুন্দর থাকে।
মানে!
বুঝলে না? বুঝবে না জানতাম। মানে তুমি ধরা দিলে তো তোমাকে আর খুঁজে বেড়াবো না।
তুমি হাসলে এবার।
বললাম, শূন্যতা সুন্দর।
কী তাকাও?
তোমার চোখের ভিতর।
না।
কেনো?
আমার চোখে কী আছে?
স্বপ্নের বিষ।
অভিমান তোমাকে আমি বুঝি না, কিংবা তুমিও আমাকে...। বৃষ্টি এলে কি তুমিও পুড়ে যাও, আমি যেমন? আমি সোনালু ফুলকে রাধাচূড়া বলে ডাকি। আমি ডাহুক চিনি না, আমি পানকৌড়ি চিনি না...
তোমার কণ্ঠে ছিলো রুদ্রের গান, ...দিও তোমার মালাখানি...
তোমার কণ্ঠের গান দিগন্ত ছুঁয়ে আমার কাছেই ফিরছিলো। তুমি বললে, ছি! তুমি নিমগাছও চেনো না?
তুমিই বলো দোষ কি আমার একার? তুমি যে কোনোদিন চিনিয়ে দাও নি।
তিনদিন দেখা না হওয়ার সুন্দরতম কষ্টের কথা বুঝে না অভিমান। তার বিরহের ক্ষণ ছিলো বৃষ্টির কালে। তখন স›ধ্যা পেরিয়ে কেবল রাতের শুরু। সে জানলার গরাদে হাত রেখে দেখছিলো বর্ষার পূরবী। আর আমি নিরন্তর পুড়ে যাচ্ছিলাম বৃষ্টির আগুনে-- একা একা, একা একা।
আমি, সে, সে আর সে গাঁজা টানছিলাম আয়েস করে। আমাকে এইসবে কাজ করে না। মদেও না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি নিজেই মদ, নিজেই...
ওখানে পাঠ করলাম, আমার সদ্য লেখা পদ্যটা,
একজন হেঁটে চলে গেলে
অরণ্যের বুকে পড়ে থাকে শুধু প্রান্তর; আর কেউ থাকে না--
থাকে শুধু একজন: কোমল পাথর।
সে বললো, অরণ্যের বুকে প্রান্তর থাকে না।
প্রান্তর যে শূন্যতার রূপক-- তাকে তা আর বুঝাতে মন চাইলো না।
বললাম, ওকে বস্। প্রান্তর বাদ। হোক তবে পাতার মর্মর।
পথে অভিমানের সাথে দেখা। সে দাঁড়ালো-- আমার হাত থেকে পদ্যটা নিলো। নির্বিকার পড়ে গেলো। তারপর মুঠোর ভিতর আমার চোখদুটি নিয়ে ফুরিয়ে গেলো। ফুরিয়ে গেলো, ফুরিয়ে গেলো।
না, সে একবারও পেছন ফিরে তাকালো না।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গল্প ;
প্রকাশ করা হয়েছে: গল্প বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১২:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, পাঠ করার জন্যে।
শুভ কামনা।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
ধুন কি জিনিস?
লেখক বলেছেন: গাঞ্জা
লেখক বলেছেন: পাঠ করার জন্যে ধন্যবাদ, কবি।
এন এইচ আর বলেছেন:
দিনে দিনে আপনার লেখার ভক্ত হয়ে ্যাচ্চি.............চমৎকার লেখেন আপনি,,,,,,,,,,,,,,,,
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ বর্ষা
নম্রতা বলেছেন:
অভিমান আমাদের বন্ধু, ওকে লোকে নন্দিতা বলে ...বলে আরাধনা...ও কাঁদলে বর্ষাকদম ফোটে !ওর রঙ নীল.......... দূরে কোথাও ঈর্ষার রঙ লাল !লেখক বলেছেন:
দিগন্তে তাকিয়ে আছি। দিগন্তের রঙ লাল।
আর আমার রক্তের রঙ....
পাঠ করার জন্যে ধন্যবাদ, কবি।
লেখক বলেছেন:
আকাশ= শূন্যতা
অম্বর= শূন্যতা
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
শূন্যতার ফিলোসফিটা দারুণ...আমিও মাঝে মাঝে ওভাবে ভাবি, তবে এভাবে লেখতে পারি না। আর চার লাইনের কবিতাটা বেশ লাগলো!
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, বস্।
শুভবর্ষা
নম্রতা বলেছেন:
গঞ্জিকা সেবনে ধ্যানভঙ্গ হয় শূন্যতার !
লেখক বলেছেন: গঞ্জিকা কখনো আমাকে সেবন করতে পারে নাই।
শূন্যতা আমাকে ক্যাপচার করে আছে বিস্তারিত শরীর মন।
শুভবর্ষা, নম্রতাকবি।
লেখক বলেছেন: শুভবর্ষা, সোহানা
লেখক বলেছেন: প্রতিদিন খাইলে আমিও উড়ুম নিশ্চিত। মাঝে মাঝে খাইলে কাজ করে না।
লেখক বলেছেন: কেমন আছো দিদি
লেখক বলেছেন:
একজন হেঁটে চলে গেলে
অরণ্যের বুকে পড়ে থাকে শুধু প্রান্তর;
আর কেউ থাকে না--
থাকে শুধু একজন: কোমল পাথর।
________________________
ভালো আছেন, তারা?
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
চমৎকার ....
অদ্ভুত ধরনের লেখা, এমন ছন্দময় গল্প !মাঝে মাঝে মনে কবিতা পড়ছি না তো ?
একেবারেই ইউনিক একটা স্টাইল আপনার.....আপনি মনে বাংলাগদ্যের নতুন একটা ধারা সৃষ্টি করছেন ....
অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো .....
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক শুভেচ্ছা, দেবদূত
সবাক বলেছেন:
যা ব্যাটা ওড়ে যা
লেখক বলেছেন: আইচ্ছা
গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন:
বললাম, শূন্যতা সুন্দর।
লেখক বলেছেন: শূন্যতা সুন্দর
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ বর্ষা
লেখক বলেছেন:
শুভ বর্ষা
এইখানে লেখা একটাই। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ বর্ষা
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ বর্ষা
লেখক বলেছেন: আপনি ভালে আছেন, নীরজন?
তাসনীম বলেছেন:
বাহ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
শুভ বর্ষা
লেখক বলেছেন: সত্যিকারের শূন্যতাকে যারা কাজে লাগায় তাদের কাছে শূন্যতা বরাবরই সুন্দর, মম। শূন্যতা গতি তৈরি করে, শূন্যতাকে পূর্ণ করার জন্যে প্রতিনিয়ত আমরা পূর্ণতার দিকে ধাবিত হই।
কিন্তু পূর্ণতা মানুষকে জড় করে দেয়। পূর্ণ মানুষই বলতে পারে কেমন দম বন্ধ লাগে। তাই পূর্ণ মানুষ আবার শূন্য হয়। এটা একটা চক্র।
শুভ বর্ষা। অনেক ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: শুভ বর্ষা। অনেক ভালো থেকো, অভ্র।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
কলেজ জীবনে ৩-৪দিন সিগারেট খেয়েছিলাম, আর কোন অভিজ্ঞতা নেই।।। গাজা.....আহ!!!!!!!পুরো লেখাটাকে কবিতার থণ্ড খণ্ড কবিতার মত লাগল, ভাষার কারুকার্য আছে, কিন্তু কাহিনীর কারুকার্যকে উপেক্ষিত মনে হল।।।
লেখক বলেছেন:
হিমালয়, কেমন আছেন?
গাঞ্জা/সিগারেটের বেলায় আমার অভিজ্ঞতাও অনেকটা আপনার মতো।
আমার কাছে ভাষাটাই প্রধান। কাহিনি নির্মাণ করবে পাঠক। শূন্যস্থানগুলি পাঠকের জন্যেই। আমি আসলে প্রথাগত কিছু সৃষ্টি করতে চাই না। আমারটা মনে করেন কিছুই হলো না। তারপরও এটা আমার একান্ত নিজস্ব বলেই আনন্দ। হয়তো কোনোদিন হবে।
অনেকদিন পর আপনাকে দেখে ভালো লাগছে। আপনার লেখা পড়া হয়। আপনার স্বকীয়তা ভালো লাগে, কিন্তু আমি বিশ্লেষণাত্বক কমেন্ট দিতে পারি না বলে মন্তব্য করা হয় না।
শুভ বর্ষা।
লেখক বলেছেন: পাঠ করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ, কবি
লেখক বলেছেন: একজন একদিন কেঁদেছিলো--
লেখক বলেছেন: শুভ বর্ষাভোর, অপ্সরা।
নীরজন বলেছেন:
আপনাকেও বর্ষার শুভেচ্ছা.........আমি??
ভালো আছি.........এই যন্ত্র নগরে যতটুকু ভালো থাকা যায়......আছি.....
লেখক বলেছেন: অহর্নিশি ভালো থাকুক, নীরজন নীরজন।
নীরজন বলেছেন:
ও আচ্ছা............একটা কথা...........একটা কবিতা লিখেছি..........হয়েছে কিনা বলবেন???Click This Link
লেখক বলেছেন: অনেক সুন্দর কবিতা।
শুভ কামনা।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
লেখার কারুকাজ মুগ্ধ করলো।
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা আরাফাত ভাই
লেখক বলেছেন: তোর সঙ্গীতের উপর লেখাটা ব্লগে দিচ্ছিস না কেনো?
মিস য়্যু, টু
লেখক বলেছেন: অইটা তো দেখছি। ব্লগে দিলে কী সমস্যা। লেখাটা ভালো।
কৃষ্ণ তরুণ বলেছেন:
কি চমৎকার!
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা, শঙ্খমিত্রা
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, শূন্যতা সুন্দর।
শুভ বর্ষা
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
"পথিমধ্যে অভিমানের সাথে দেখা হলে সে পদ্যটা পড়ে চলে গেলো কিছুই না বলে।
না, সে একবারও পেছন ফিরে তাকালো না। "
পিছে ফিরে তাকালেই তো কষ্ট।
কষ্ট,কষ্ট আর কষ্ট!
আপনি জানেন কি আপনার লেখায় শব্দরা জীবন পায়?
ভালো থাকবেন........
লেখা চলুক নিরন্তর।
শুভেচ্ছা নৈঃশব্দ্য।
লেখক বলেছেন: সুপ্রভাত, সাজি
লেখক বলেছেন: শুভরাত্রি, কাঁকন
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা, সহেলী
সহেলী বলেছেন:
আমার জন্যে কেউ কোনোদিন কাঁদে নি। একজন একদিন কেঁদেছিলো-- আমাকে আমৃত্যু কাঁদাবে বলে। ........
.............. মনে হয় অনুরোধ করি এমন করে না লিখতে । এমন করে লিখলে পরে কোথায় যেন আঘাত করে ।
লেখক বলেছেন:
বললাম, শূন্যতা সুন্দর।
সহেলী সহেলী
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা
লেখক বলেছেন: শুভরাত্রি
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

























.jpg)

এবং
`আমার জন্যে কেউ কোনোদিন কাঁদে নি। একজন একদিন কেঁদেছিলো--
আমাকে আমৃত্যু কাঁদাবে বলে।'
লাইনগুলো খুবই ভালোলেগেছে,
আজমিশালীর বর্ষা সংখ্যায় আপনার লিখা পড়েছি, বর্ষা ভালোই মাখানো ছিল ও খানে....
ভালোথাকা হোক