somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তগদ্য: বৃষ্টিতে ভেজার লজ্জা এবং গাছটির নাম রাত্রি নয়-- গায়ত্রী

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১.
দুটি ছাতা। পরস্পর হেঁটে যাচ্ছে ওরা। একটা নীল। অন্যটা গোলাপি। মাঝখানে ধূলিমাখা এক টুকরো ছায়ার আলতা। ছায়াটি পরস্পরের। আমি দাঁড়িয়ে আছি ট্রাফিকপয়েন্টে। হাত নাড়ছি শাদা। পাগল মত্ততায়। আমার মাথার উপর শাদামেঘের ছাতা ছিঁড়েছে রৌদ্রের দংশনে। সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বৃষ্টির বাস, ট্রাক আর রিক্শা সকল।
ওরা ছায়ার ভিতর থেকে আলাদা করতে পারে নি ছাতার বাচালতা। আর আমি হাত নাড়ছি...

০২.
কেউ বাহিরে ডাক দেয়, নাহয় সেই আগের ঘণ্টাটিতে কঠোর প্রচেষ্টা তৈরি করতে কেবল একটি পাত্র ভেঙে পড়ে।
পত্র, একটি হাতে একটি মুক্ত হাত, প্রায় উলম্বের সঙ্গে কোনো উত্তর রহিত একটি বাষ্পীয়ভবন। সুতরাং পাতলা জামাকাপড়ের দিকে হাত কেটে ফেলতে আবির্ভূত।
কেউ বা নিজের উষ্ণতায় সেখানে অবস্থান করে।

০৩.
কার অবনত চুলে হাত রেখে সে হতে চায় কিছু। একটি হাত বিলি কেটে যায় শ্রাবণের বালিয়াড়িতে। দুইটি নখ উৎ পেতে থাকে একরাশ নতচোখের তলে। তার চুলে তবু বয় স্নেহের প্লাবন।
আমি হেঁটেছি একটি ঝিলের পাশে। আমার চুল ভিজে গেছে কাঠফাটা রোদের চুম্বনে; কখনো বা ধূলির দংশনে হয়েছে একফালি পরিত্যক্ত তে। আমি সেই ধূলি আর রোদের সজন-- তুমি ভালো আছো জানতে চাইলেই যে চুল ছড়িয়ে দেয়।

আমি বিদেহিমোহে ধূলির প্রার্থনায় রত আদিগন্ত অভিমান।

০৪.
পুনরায় বৃষ্টি পড়ছিলো, উজ্জ্বল রোদের সঙ্গে বাতির একটি সম্পর্ক যে অন্তর্ধান করতে পারে তাদের মুখ কেবল অবগুণ্ঠিত। ইহাই মেঝের সঙ্গে সেই ত্বকচ্ছাপ রহিত বিবর্ণ গান।

০৫.
একটি সাপ অভিমানে ফুঁসে উঠে পাথুরে দেয়ালে। তারপর লজ্জাবতীলতার বুকের উপর দিয়ে সে নতমুখে হেঁটে বয়ে গেলো অপসৃয়মাণ, একটি গর্তের দিকে।

সে কি তবে ভাবছে, আগামিকাল সকাল হবে?

০৬.
বারান্দায় সে চা উৎসবে বিবসন একটি অগ্নি এবং একটি নদী থেকে দারুন জল ধরতে এসে পণ্ডিত। এবং কবিতায় স্নাতকোত্তর হলেন।
আমদানিকৃত পুষ্পটির স্বত্বাধিকারী একজন ব্রোথেল চালক।

০৭.
উল্টোদাহের একটি ইঙ্গিত বয়ে বেড়ায় সে শাদাশার্টের নিচে। নষ্ট ফুল একটা সারাদিন ঝরে পড়ে আছে গাছটির নিচে। দুয়েকটা প্রজাপতি পরিণত স্বপ্ন নিয়ে উড়ে গেছে কণ্টকের বনে। তারপরও ঝরাফুল মাটির সম্পর্ককে অস্বীকার করতে পারে নি।
একটি কাঁটা বাঁকা হয়ে বিঁধেছে শার্টের তলে। কাঁটাটির বয়স তিনমাস।

এবং কাঁটাটি নশ্বর।

০৮.
কে করে? তারার চেয়ে কম পরিবর্তন করি। এবং ধীর, বৈশাখছেঁড়া ধীরচোখ আমার কাছে। আমার অবিন্যস্ত গাল, পাঁচমাস প্রশংসা আগে নিযুক্ত করে সুতরাং একটি এর জন্য রাখেন। আহা, মিষ্টি, প্রশংসা করতে মুক্ত এবং আমার মুখমণ্ডলের জন্য খুব বদলানো হয় না, এইটি ছিলো প্রথম ব্যর্থতা, আর তা প্রেমকে মিথ্যা এবং ভঙ্গুর প্রমাণ করেছিলো।

০৯.
ঝাঁপতাল বাজে তার বুকের ভিতর। দুইহাতে দুইটি দেয়াল সে ঠেলে ধরে আছে। বিপ্রতীপ চাপ হয় না চাঁপাবন। একদিন সে বৃষ্টিতে ভিজেছিলো বলে নিজের দংশনে নিজেই রাঙিয়েছে ওষ্ঠাধর। প্রতিবার বৃষ্টিতে সে রঙিন ওষ্ঠাধরে ছোঁয়ায় শব্দের বিষ।

কবিতার উচ্চারণে থামে না উচ্চকিত কামনার ঝড়।

১০.
আহা, মিষ্টি ভালোবাসাতে মুক্তি নেই এবং যানযট সপ্তবহর! যদিও আমি তার জন্যে হাঁটার শব্দ শুনি না, নদী নীরব হিশেবে ফুল মূলের নিচে নেচেছি এবং এইসব বিভিন্ন মেয়াদে পরিবর্তন করা হয়।

১১.
দুইটি ফানুস উড়ে গিয়ে বসে একটি ঘুড্ডিগাছে। গাছের একটি কনিষ্ঠডালে যে পাখিটি বেঁধেছে ঘর-- তার কাছে সিঁদুর নেই। তাই সিঁথিপথে ক্ষুর চালিয়েছে গ্রামের সবচেয়ে মায়াবী নাপিত। নাম মধু পারামাণিক। এইটা নরসুন্দরের গ্রাম। আমের বাগানে চৈত্র চিরদিন।

পাখিটি ভাবে স্বপ্ন আর বর্তমানের কথা।

১২.
শব্দের বিষ এক গ্লাস সে ছড়িয়ে দিয়েছে ঘাসে। সবুজ ধানি জমিতে। ধানতে চিরসবুজ থাকলে পাশকেটে চলে যেতে হয়। সোনারঙ ধান কামনা করে যুবতি রোদের ছোঁয়া।

না, কোনো বিষই জমা থাকে না।

১৩.
কালো বাকল। মেটেহলুদ পাতা। গাছটির নাম জানার আগে তার কোমলতায় আমি হাত রাখতে পারি নি রাতের সমুদয় অধিকারে। তার শিকড়ে ছিলো তামার ঘ্রাণ। বাকলের তলে বাদামি শরীর বাইনমাছের একষট্টি আর তিনটা চাতুরি নিয়ে সোনারঙ মেখেছিলো। আমি জানি না, তার দুইটি ডাল বারংবার কেনো ঝুলে পড়ছিলো নর্দমার অন্ধকারে।

গাছটির নাম রাত্রি নয়-- গায়ত্রী।

-----------------------------------------------------------------------------
রচনাকাল: ২৯-০৩-০৪.
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:১৬
৩৫টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×