আমাদের ব্লগবাড়ি: ভালোবাসার একটি বছর
এইতো সেদিনের কথা ! অনেকটা কৌতূহলবশত ব্লগে একটা একাউন্ট খুলেছিলাম। ২/৪ টা কাগজে লিখতাম তাই ভাবছিলাম হয়তো প্রবন্ধ বা তথ্যভিত্তিক কিছু লিখবো ব্লগে। সেটাযে কী করে কবিতায় মোড় নিলো আমি আজো ভাবি...! এখন এই পরিবারেরই একজন হয়ে গেছি। লেখার আড়ালে যে মানুষগুলো আছেন তাদের সবাইকে বড় চেনাজানা আর আপন মনে হয় !
বাপ্পিদা (আমি ও আমরা) যখন দারদার কথা বলে তখন ভাবি কি দুষ্টুইনা হয়েছে ছেলেটা। আমাদের "লাপাডাস" ভাইপো ! ওর বাবার বোধহয় কোনো শত্রু নেই , অদ্ভুত ভালো একটা মানুষ ! শক্তিমান এই লেখকের 'শৈশবকথিকা'য় বেচেঁ আছে আমাদের নাটাইঘুড়ির দিনগুলো !
নাজনীনআপা অসম্ভব আন্তরিক একজন মানুষ। উনার হাসির শব্দ এখনো কানে লেগে আছে। আর সবার মতই আপার লেখা আমার ভীষণ প্রিয় বিশেষ করে একটি কবিতা 'গোলাপ ফোটাতে গিয়ে'।
দি ওয়ান এন্ড ওনলি-- কালপুরুষ ! আমাদের চিরসবুজ কালপুরুষদা। এই মানুষটির কাছে জীবন এখনো কতটা স্বচ্ছ আর বৈচিত্রময় ! অহর্নিশি যার ব্লগের পাতায় দেশ, প্রেম, প্রকৃতি ও পুজোর প্রদীপ জ্বলে।
সুলতানা শিরিন সাজি , ভাবুক কবি---যাকে ছাড়া সামু ব্লগ ভাবাই যায় না ! - আমি তাকে "সাজিপা" বলে ডাকি ! সুখি এই মানুষটি , কবিতায় স্বপ্ল দেখতে ভালোবাসেন ...। তার নামাজপাড়া কবিতাটির কথা বেশ মনে পড়ে।
প্রথমদিকে লীনা ফেরদৌসের 'ভালবাসার ছড়াছড়ি' আর সুখিমানুষের 'কথোপকথন' সিরিজ পড়ে খুব মজা পেতাম... ইন্নোসেন্ট টিন এজ প্রেম... আজকাল বুঝি হারিয়েই যাচ্ছে ঐসব... ডিজুসের যুগ বলে কথা !
মেহেদী ইকবাল রমির -- দৃঢ় কন্ঠ : কবিতার খাতায় কিংবা ব্লগের পাতায়!
আমাদের এই ব্লগবন্ধুটি মাঝে মাঝে হারিয়ে যান বৃন্দাবনে !
চিটি বেগম (হামিদা আক্তার) আমাদের চট্টলাকন্যা ! লাবনীপয়েন্টের সেই কর্নারের ব্যালকনি আর একজোড়া চেয়ার খুঁজে নেবো একদিন... হয়তো সেই কবিতার টানেই ! সমুদ্রবিলাসী মেঘ বেচেঁ থাকো ঝিনুকবুকে। মনে পড়ে 'বিপজ্জনকভাবে মাথার উপর ঝুলছে একজনের জন্মদিন' আবৃত্তি করতে আমার গলার স্কেল দ্বিগুণের বেশি উঠেছিলো !
যমুনাপাড়ের শতরূপা ! নারীও নদীর সাথে কথা কয়। যমুনাকে ভালোবেসে ভালোবেসে অদৃশ্য ঢেউ এর উথালিপাথালি যার কবিতায় ! যার মন্তব্যের ঘরে ভালোলাগা শতকপি হয়ে যায় ! তাতে দোষের কিছু নেই... শতর ভালোলাগা মানে আমাদেরও ভালোলাগা।
নিমগ্ল এক কবি। নির্ঝর নৈঃশব্দ্য ! স্বপ্ল দেখায় , ভাবায়। যার কবিতায় দেয়ালেরও মন আছে , গাছেদের চোখজুড়ে নামে নিঝুম ঘুম , রামধনু সিদূরপড়া মেঘবালিকারা রৌদ্রদিনেও অঝরে কাঁদে। অনবদ্য ড্রয়িং , সংখ্যাশিরোনাম আর শব্দজোড়ায় বোনা পঙতিমালা ------ এক ভিন্ন ঘরানার জন্ম দিয়েছেন কবি নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।
সবাক আমাদের অবাক করা ডানপিটে ছেলে। বখাটে ছেলেরা কি টেলেন্টেড হয় ? কবিতায় স্ফুলিঙ্গ , কথায় দুর্দান্ত , গল্পে ইমোশোনাল এই লেখক আমাদের অনেকেরই স্নেহভাজন।
একজন রিফাত হাসান ! তিনি বোধহয় জানেন না কতো ভালো কবিতা লিখেন। পাতায় নরমরোদের ছোঁয়া , বিকেলের হাতছানিতে চায়ের চুমুক... এমনি করেই তার পুরোনো স্কেচখাতা ভরে ওঠে অনবদ্য কবিতায় । ধোয়া ওঠা চা আর কাপ পিরিচের টুং টাং শব্দে লিখে ফেলেন এক একটি অনন্য কবিতা। তার রাজনীতি কলামের পাঠক সংখ্যাও কম নয়।
চায়ের কথা বলতেই হিমালয়৭৭৭ এর কথা মনে পড়ে গেলো। লেখা পোস্ট হবার তিরিশসেকেন্ডের মধ্যে যে মন্তব্যটি থাকতো সেটা হিমুর! খেলার সাথে কবিতার তুলনামূলক আলোচনাও করেন তিনি ! আজকাল আর খুব বেশি চোখে পড়ে না , হয়তো পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত ! ওর চা বিলাস নিয়ে একটা কবিতা লেখার ইচ্ছে আছে আমার।
দীপদা (কাকশালিখচড়াইগাঙচিল) ব্লগের এক জীবন্ত টেলিভিশন ! কখন যে কী ভেসে ওঠে তার ব্লগ পর্দায় তার কোনো গ্যারান্টি নেই। একটা নতুন হাড়ি তার মাথায় ভাঙবো বলে ঠিক করে রেখেছি। বৌদি, ক্ষমা করো আমায় !
মুক্তি মন্ডল : জীবনের সব দিক ছুঁয়ে যার কবিতা --মুক্তিদার কবিতার উপমায় হারিয়েছি বহুবার ...নাচের স্কুল , চশমার দোকান আরো কতো কী ! ... আমার কবিতা 'সেন্ট রিপসিমি'র শুরুটা হয়েছিলো দাদারই এক কবিতায় মন্তব্য করতে গিয়ে।
কবি আন্দালীব ! কবিতা লেখেন সরল অঙ্কের মতো। একবার খেই হারিয়ে ফেল্লেই পাঠক শেষ , তারপর কবিতায় ঘুরপাক । তার সুক্ষ্ণ আরবান-টাচ্ কবিতায় অন্যমাত্রা যোগ করে। নাম না থাকলেও যার লেখা চেনা যায় --- একবারেই। যদিও জানি জোনাকরোড বহুদুর , যার সীমানায় পৌছুতে অনেক দেরী হয়ে যাবে তাও প্রতিনিয়তই কবিতা লেখার প্রেরনা পাই এই কবির কাছে !
সুদীপ চৌধুরীর কবিতারা আনকোরা, একেবারে রাংতায়মোড়া ! যার ব্লগের পাতায় ফিরে ফিরে যাই কবিতার নেশায় !
প্রণবদার কবিতারা বরাবরই স্নিগ্ধ। মাঝে মাঝে ফণা তোলা সর্পিনীর ছায়াও পড়ে !।
জনপ্রিয় ব্লগার আশরাফ মাহমুদ। অসাধারণ তার লেখনিশক্তি । কবিতারা আজকাল বদলে যাচ্ছে। আমি তার কবিতায় এখনো পুরোনো অভিকে খুঁজে ফিরি। এটা হয়তো পাঠক হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতা।
অনিক আন্দালিব (ছন্নছাড়ার পেন্সিল) তার কোনো এক কবিতায় বলেছিলেন "এ শহরে রিকশাও রূপবতী" .....সেই ঢাকা শহর ,স্টেডিয়ামের আলোয় রূপবতী রিকশার রূপবান সাওয়ারী..সিমপ্লি মাইন্ডব্লোইং !
লাবণ্যপ্রভা গল্পকার , অসাধারন লিখেন তিনি। লাবণ্যদির ব্লগে যেতাম গল্পের খোঁজে। হয়তো গল্পকার নামটির জন্যে। অনেক কবিতার ভিড়ে তার অক্ষর আর রঙের বাণী হাজার মাইল পেরিয়ে পৌছে গেছে এক সহোদরার কানে...!
কবি অদৃশ্য এর ডটেড্ লাইনগুলোর মাঝে কিছু একটা আছে। অনুভূতিপ্রবণ তার সব কবিতা। নরম মনের মানুষ এই অদৃশ্য, তা ঢের বোঝা যায়।
সৈয়দ আফসার -- তারুণ্যদীপ্ত ঝকঝকে যার লেখনি।
কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু । ধ্যানমগ্ন এক যোগী। তিনি তো কেবলই কবি। শূন্যতার অপর নাম সুন্দরতা। ফরাজিকান্দির বুকে লেখা হরফনামা বোঝার সাধ্য আছে কজনার। আমার চক্ষু নাই।
তৃতীয় বাংলার কবি সাহিত্যিকদের প্রতি অনুরাগ কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারিনা। হয়তো জীবনের খুব সুন্দর একটা সময় বৃটেনে কাটিয়েছি বলে। এইতো সেদিনের কথা , শামীম আন্টির ( কবি শামীম আজাদ) ক্রিয়েটিভ রাইটিং ওয়াকর্শপে প্রথম লিখতে শুরু করেছিলাম। তখন ভাবনাগুলো ঘুরপাক খেতো দেয়াল থেকে পেইনটিং পর্যন্ত। ডানা ছিলো না আমার । তিনি জানালা খুলে দিলেন। ভাবনার গাঙচিলেরা ডানা মেলে উড়তে শুরু করলো। বৃটেনের মেঘলা আকাশে আমার প্রথম প্রেম -- কবিতা !
বৃটেনের কবি ব্লগারদের মাঝে...
মিল্টনরহমান -- যার কবিতা মনে অনন্তরেখা টেনে দিয়ে যায়।
কাব্যপ্রেমী এক রনিভাই আর ছড়াকার দিলু নাসেরের লেখার কথা উল্লেখ না করলেই নয়।
আরিয়ানার ফারইস্ট কাহিনিতে আমি ছিলাম একসময়... সেই শেরাঙ্গুন রোডের দোসা , অরচার্ডে শপিং , হংকং এর ফ্যাশন হাউস আর ব্যাংককের সারি সারি মোটরসাইকেলের স্মৃতিগাথা ঐসব দিনের কথা মনে পড়ে !
এই ডিজাইনার সাহেবার কাছে আমার কবিতা বড়ই জটিল বলে মনে হয়, কী আর করি !
নুশেরাবু আর আইরিন সুলতানা আলরাউন্ডার। গল্পে, প্রবন্ধে কিংবা স্রেফ আড্ডার আসরে দুজনই অনেক ধাপ এগিয়ে । কথাটা বিজ্ঞাপনের মতো শোনালেও ...আমি এক বিন্দুও বাড়িয়ে বলছিনা ! নুশেরার 'অটিজম' আর্টিক্যালটি একটি তথ্যভিত্তিক ও আমাদের বাঙালি সমাজের জন্যে খুবই সময়োপযোগী ! আইরিনের 'বীরাঙ্গনা' ইতিহাসের একটি দলিল।
যে রাধে সে চুলো বাধে। শতগুণে গুণান্নিতা আমাদের অপসরা । দেবশিশুদের স্বপ্লছবি আর রঙের খেলায় যার কেটে যায় বেলা। আমার সাজুগুজু বান্ধবী , গতবারের মতো এবার ঈদেও নিশ্চয়ই কোনো পায্যাল নিয়ে হাজির হবেন ব্লগের পর্দায়।
ভাস্কর চৌধুরী-- ভবেরহাটে পথভোলা এক পথিক। যিনি কাব্য জোছনা কুড়াতে গিয়ে পৌঁছে যান অজানা কোনো স্টেশনে। লিখেন কবিতার জন্যে কবিতা। অপূর্ব !
পারভেজ-- যার লেখা পড়ে অনুভূতি হয় অনেকটা এরকম-- প্রচণ্ডখরা রোদে হঠাৎ দমকা হাওয়ার সাথে এক পশলা বৃষ্টি।
আকাশচুরী-- ঈর্ষা হওয়ার মতো গল্প লিখেন যিনি। আউটস্ট্যান্ডিং !
শূন্য আরণ্যক-- টেকনো কিংবা ক্লাসিকাল-- আমি কান পেতে রই। 'সুজান ভেগা' থেকে শুরু করে বিটলস্ পর্যন্ত সবকিছুই আছে যার এ্যলবামে।সঙ্গীতানুরাগী এই ব্লগার কবিতাও লেখেন বেশ। তবে তাকে মাঝে মাঝে ভূত বলে মনে হয়। লগ ইন করেই থাকেন কিন্তু কোথাও তিনি নেই !
ব্লগের ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি-- ইমন জুবায়ের । কতোটা মেধা আর সময় যে দিয়েছেন তিনি এ কাজে । আমি স্যালুট করি এই মানুষটিকে যিনি সারা বিশ্ব এভাবে আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। ইটস্ এমেজিং !
ভাবুক তো ভাবুকই ....মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যান আবার ফিরে আসেন । তার পেইন্টিং পোস্টগুলো দারুন লাগতো !
অন্তিম --- ভাল লিখেন। মনোযোগী পাঠকও তিনি.. মোমবাতির আলোয় পাতা উল্টে দেখেন ...নতুন করে আবিষ্কার কবিতাকে..
আবু সালেহ ,তনুজা, তনুশ্রী,মেহবুবা, এস সুলতানা, কণা, মুক্তবয়ান , মাঝি, অন্যমনস্ক শরৎ, মরিয়ম ----- যাদের লেখা পড়তে ভাল লাগে।
বৃত্তবন্দী-- একমাত্র যার লেখা পড়ে বিচ্ছিড়ি লাগে !
রোবোট --- সত্যি কি ইমোশোনাল একজন মানুষ ?
অ রণ্য-- লেখক হিসেবে যতোটা ভালো, পাঠক হিসেবেও ততোটাই সচেতন।
কাঁকন -- দারুন মজার একজন মানুষ ! কাঁকনের পোস্ট ছাড়া সামু ব্লগ কেমন খালি খালি লাগে !
বেবি রহমান-- যার একটি নতুন কবিতার অপেক্ষায় আছি...
রহস্যময়ী কবি গায়ত্রী স্যানাল-- মা দূর্গা আপনার সহায় হোন।
রাহামনি বৃষ্টি --- কবিতার মেয়েই বটে !
সহেলী-- কাব্যিক এই মেয়েটি বন্ধুসুলভ বটে !
মিতুলদ্ত্ত, অশোক দাশ, ফকির ইলিয়াস, মুজীব মেহেদী, মজনু শাহ র মতো আরো অনেক শক্তিশালী লেখকদের ব্লগের সুবাদে এখানে যেভাবে পেয়েছি...এতো আমাদের পরম পাওয়া!
কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো রাশেদকে আজকাল আর তেমন দেখিনা। হারিয়ে গেছে সুরভিছায়া, রেটিং, রেলগাড়ি ঝমাঝম..... সহ আরো অনেকে। সৌখিন মানুষ রাজামশাই এখনো আছেন তার ফুলের বাগানের বাদশা হয়ে , রানার পেইন্টিং কালেকশান ভালই এগিয়ে চলেছে। শিবচরবাসীর ( ব্লগে সবচাইতে বড়নামধারী) ব্লগে আমার আজো যাওয়া হয়নি, আশা করি ভাল আছেন তিনি !
সৌম্যের ট্রেকিং আর হাইকিং এডভেণ্চারের গল্পগুলো পড়ে পড়ে ভাবি ---ঘর ছেড়ে পালাবো একদিন। চলে যাবো চিম্বুক , তাজিংডং কিংবা গারোপাহাড়ে; গারোকন্যা পারুল আর মুমু হবে আমার সই ! তখন পূর্ণিমারাতে পাহাড়ের ছাদে বসে ভাং খাবো আর নৈশগীতে গলা সাধবো....
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



