somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্ম, ঈশ্বর ও জিবরাইলের বাহাস

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম, ঈশ্বর ও জিবরাইলের বাহাস

শিশির ভট্টাচার্য্য

সেই নাম না-জানা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি লোকটির গল্প দিয়ে শুরু করি যে কিনা রাতের বেলায় হারিকেন হাতে পথ চলছিল। অন্ধের হাতে হারিকেন দেখে অন্য এক পথচারী ঠাট্টা করাতে অন্ধ উত্তর দিয়েছিল: ‘আমি অন্ধ কিন্তু সবাইতো আর আমার মতো অন্ধ নন। তারা যেন আমার গায়ের উপর এসে না পড়েন সে জন্যেই হারিকেন হাতে নিয়েছি।’ বাতি না থাকলে অন্ধকারে অন্ধ আর চক্ষুষ্মানের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। একজন দৃষ্টিহীন, অন্যজনের দৃষ্টি আলোর অভাবে বিকল। আবার চোখ থাকলেই যে দিনের আলোতে সঠিক রাস্তায় যেতে পারবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ধরুন, আপনি মনের ভুলে অন্য রাস্তায় চলে গেলেন বা এমনও হতে পারে যে রাস্তাটা আপনি আদৌ চেনেনই না। হয়তো এমন কাউকে পথ দেখিয়ে দিতে বললেন যে নিজেই রাস্তাটা চেনে না। অথবা দুর্ভাগ্যবশত পথের হদিশ জানতে চাইলেন এমন কোন দুষ্ট লোকের কাছে যে কিনা ইচ্ছে করে আপনাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিল আপনার পথ হারানো দেখে মজা পাবার জন্যে।

মানুষ মাত্রেরই সীমাবদ্ধতা আছে শারিরীক, মানসিক, অর্থনৈতিক... হাজার রকম সীমাবদ্ধতা। সুতরাং মানুষ পথ হারায়। পুরো জাতিও পথ হারাতে পারে। পথ না হারানোর উপায় কি? নিজেকে যদি অন্ধ বলে স্থির করেন তবে প্রথমে নিজের অন্ধত্ব দূর করার উদ্যোগ নিন। যদি চক্ষুষ্মান হন হবে রাতের বেলায় টর্চ বা হারিকেন হাতে নিন। দিনে বা রাতে যদি পথ না চেনেন, তবে উপযুক্ত ব্যক্তিকে জিগ্যেস করুন। যেমন মহাভারতে অর্জুন জিগ্যেস করেছিলেন কৃষ্ণকে: ‘সীদন্তি মম গাত্রানি, মুখম চ পরিশুষ্কতে অর্থাৎ আমার সারা শরীর ঘামছে, মুখও শুকিয়ে যাচ্ছে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হে কৃষ্ণ, আমাকে পথ দেখাও।’ অর্জুন প্রশ্ন করেছিলেন বিস্তর। কৃষ্ণও একে একে সবিস্তার উত্তর দিয়েছিলেন। সাত শত শ্লোকব্যাপী চলেছিল এই প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই প্রশ্নোত্তরই ‘গীতা’।

ধর্ম কি? নিজ নিজ প্রকৃতি অনুসারে যার যা করা উচিত তাই তার ধর্ম। সাপের ধর্ম ছোবল মারা। সাপ যদি ছোবল না মারে তবে তাকে সাপ বলা মুস্কিল। মানুষ সাপের মতো বন্য সরীসৃপ নয়। মানুষ একটি জটিল সামাজিক প্রাণী। তাই মানুষের ধর্ম অত সোজাসাপটা নয়। প্রতিটি মানুষের ধর্ম আলাদা কারণ প্রতিটি মানুষের প্রকৃতি আলাদা। আমরা প্রত্যেকে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রীস্টান হতে পারি কিন্তু আমরা প্রত্যেকে এক এক রকম হিন্দু, এক এক রকম মুসলমান। আমাদের মধ্যে মিল আছে কিন্তু তবুও আমরা প্রত্যেকে আলাদা। আমাদের মস্তিস্ক আলাদা, ব্যক্তিত্ব আলাদা। আমাদের সবার গায়ের মাপ পর্যন্ত আলাদা। দর্জি দিয়ে আলাদা করে মাপ নিয়ে সেলাই করলে দেখা যাবে কোন দু’জন লোকের শার্ট বা প্যান্টের সাইজ ঠিক এক নয়। ঈশ্বর এক কিন্তু আমরা ঈশ্বরকে এক রকম করে দেখি না। আমরা আলাদা বলেই দেখি না। আমরা এক চাঁদ দেখি কিন্তু এক রকম দেখি না কারণ আমাদের প্রত্যেকের চোখের রেটিনার আকার আলাদা। সুতরাং তাতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি এক ভাবে পড়ে না।

সুতরাং আমার ধর্ম কি জানতে হবে আমাকেই, কারণ আমার ধর্ম একান্তভাবে আমারই। ধর্ম কি জানতে হলে প্রথমত মনের অন্ধত্ব দূর করতে হবে। কিন্তু অন্ধত্ব দূর করারইবা উপায় কি? অন্ধকার দূর করার উপায় কি? উপায় আলো জ্বালানো। মনের অন্ধত্ব দূর করার উপায় একটাই: জ্ঞান অর্জন। জ্ঞান কি? কি, কে, কেন, কিভাবে, কোথায়... ইত্যাকার ক-প্রশ্নের উত্তরই হচ্ছে জ্ঞান। জ্ঞান অর্জনের উপায়? তিন তি বিনা নাহি গতি, সরস্বতী, প্রস্তুতি, গুরুভক্তি। এখানে সরস্বতী হচ্ছে জ্ঞানপিপাসা। এটা জন্মগত। প্রত্যেকেরই কমবেশি রয়েছে। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের দীর্ঘ আর নিরলস প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু এর পরও জ্ঞান আসবে না যদি না উপযুক্ত গুরুর দেখা মিলে। আপনার প্রস্তুতি হচ্ছে খড়ের গাদা। গুরুভক্তি হচ্ছে মশালের আগুন। সামান্য আগুনের স্পর্শে বিশাল খড়ের গাদা জ্বলে উঠতে পারে। আবার একটিমাত্র চিকন খড়ও যদি ভেজা থাকে তবে শুধু ধোঁয়া ছড়ায়, আগুন জ্বলে না। আমি ‘গুরু’ বলতে ‘মন্ত্র দেয়া’ গুরু বা পীরবাবাদের কথা বলছি না। যে কেউ যে কারো গুরু হতে পারে। গুরুর অভাব নেই। গুরু মিলে লাখে লাখ, শিষ্য না মিলে এক। মহাভারতে একলব্যের কথা মনে আছে? দ্রোণাচার্য্য তাকে ধনুর্বিদ্যা শেখাতে সম্মত হননি। কিন্তু একলব্য দ্রোণাচার্য্যরে মূর্তির সামনে নিজে নিজে প্রস্তুতি নিয়েই অর্জুনের চেয়ে বড় ধনুর্ধরে পরিণত হয়েছিল।
আরেক গুরুর কথা বলি। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির একটি পোষা ময়নাপাখি ছিল। পোষা ময়নাটা কিভাবে যেন একটি শব্দ শিখেছিল: ‘মুক্তি’। সারাদিন ময়নার মুখে ‘মুক্তি’ শব্দটি শুনতে শুনতে সেই কয়েদির মনে একদিন মুক্তি পাবার আকাঙ্খা জেগে উঠলো। সুযোগও মিললো এক রাতে। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার সময় কয়েদি ভাবলো, আমিতো মুক্তি পেতে যাচ্ছি, এই পাখিটিকেও কেন খাঁচা থেকে মুক্ত করে দিই না কারণ সেইতো আমাকে মুক্তি পেতে অনুপ্রাণিত করেছে। এই ভেবে খাঁচার দরজা খুলে দিল কয়েদি। কিন্তু অবাক কাণ্ড! পাখি খাঁচা থেকে বের হয় না। খাঁচার ভিতরে ঘুরে ঘুরে সে আগের মতোই ‘মুক্তি’, ‘মুক্তি’ বলে চিৎকার করছে। কয়েদির সময় কম। সে পাখিটিকে জোর করে যেই খাঁচা থেকে বের করতে গেল অমনি পাখি তার হাতে ঠোকরাতে শুরু করলো। পাখি কোনমতেই খাঁচা থেকে বের হবে না। অগত্যা হাল ছেড়ে দিয়ে কয়েদি একা কারাগার থেকে বের হয়ে গেল। এই সামান্য ময়না পাখি মানুষ কয়েদিটির গুরু। বহু গুরু আছেন যাঁরা এই ময়না পাখিটির মতো শিষ্যদের যা শেখান নিজে তা বিশ্বাস করেন না বা পালন করেন না। তাতে অবশ্য কারও গুরু হওয়া আটকায় না এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান পেতে শিষ্যদেরও কোন অসুবিধা হয় না, যেমন হয়নি কয়েদিটির।

গুরু আর শিষ্যকে একে অপরের উপযুক্ত হতে হবে। কৃষ্ণ আর যুধিষ্ঠির হলে চলবে না। অর্জুনের জায়গায় যুধিষ্ঠির, দুর্যোধন বা ভীম হলে কেমন হতো কল্পনা করুন একবার। যুধিষ্ঠির খুব বেশি প্রশ্নই করবেন না কারণ তিনি নিজেই অনেক জানেন। তাঁর হাতে হারিকেন বা টর্চ আছে। তিনি পথের হদিশ জানেন। শিষ্যের মুখে যদি প্রশ্ন না থাকে তবে গুরুর মুখে গীতা আসার কোন কারণ নেই। দুর্যোধন হচ্ছে সেই অন্ধ লোকটির মতো যাকে বাতি দেখালেও সে সঠিক রাস্তা খুঁজে পাবে না। দুর্যোধন এমন কেন? এর পেছনে আছে তার পারিবারিক ইতিহাস। বাবা ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ, মা কান্দাহারের মেয়ে গান্ধারী (‘গান্ধার’ হচ্ছে কান্দাহারের পুরোনো নাম) ইচ্ছে করে অন্ধ। পাঠানদের বোকামীর অনেক গল্প আমরা শুনি। কিন্তু গান্ধারীও কম বোকা ছিলেন না। বিয়ের পর হস্তিনাপুর (এখনকার দিল্লী) এসে উনি যখন দেখলেন স্বামী অন্ধ, তখন নিজেও চোখের উপর পট্টি বেঁধে নিলেন সারা জীবনের জন্যে। অবশ্য এমনও হতে পারে আফগানিস্তান থেকে দিল্লী পর্যন্ত আসতে আসতে পাথুরে পাহাড়ে প্রতিফলিত হওয়া তীব্র রোদে কান্দাহার কুমারীর দৃষ্টিশক্তির বারোটা বেজে গিয়েছিল। কথাটি আমার নয়, সৈয়দ মুজতবা আলীর। তিনি একই পথে কাবুলে গিয়েছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমনটি লিখেছেন, যতদূর মনে পড়ে ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থে।

স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই অন্ধ হলে ছেলে-মেয়ে মানুষ হবে কি করে? এই দম্পতি আবার পরিবার পরিকল্পনায় আদৌ বিশ্বাস করতেন না। দুর্যোধনের বাবা-মা দু’জনে দু’ভাবে অন্ধ আবার তার উপর তার বাবা ধৃতরাষ্ট্রের মনে ছিল নিজের ভাই আর তার সন্তানদের প্রতি তীব্র হিংসা। হিংসা আর অন্ধত্বের সঙ্গমে শ’ খানেক বদমাস পুত্র-কন্যার জন্ম হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমি আজকালকার সেই সব বাবা-মা’র কথা ভাবছি যারা চান শুধু তাদের ছেলেমেয়েরাই জি.পি.এ. পাঁচ পাক, প্রথম-দ্বিতীয় হোক, বাকিদের গুলো যাক গোল্লায়। অন্যের ছেলে যদি গোল্লাই না পেল তবে আমার ছেলে প্রথম হয়ে মহিমা ছড়াবে কেমন করে? এই একবিংশ শতাব্দীর ভারতবর্ষেও (আমার কাছে ভারতবর্ষের সীমানা চট্টগ্রাম থেকে আফগানিস্তান) লক্ষ লক্ষ জন্মান্ধ-স্বেচ্ছান্ধ ধৃতরাষ্ট্র-গান্ধারীর ঘরে পালে পালে দুর্যোধন-দুঃশাসন সৃষ্টি হচ্ছে। তারা ‘ধৃতরাষ্ট্র’ কারণ রাষ্ট্র তাদের হাতে কঠিন হস্তে ‘ধৃত’ ; রাষ্ট্রকে তারা এমন ভাবে চেপে ধরে আছেন যে রাষ্ট্রের নাভিশ্বাস উঠছে। তাদের পত্নীরা ‘গান্ধারী’ কারণ গায়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গন্ধ মাখতেই তাদের বিশেষ আগ্রহ। ছেলে-মেয়ের জ্ঞান-অর্জনের প্রস্তুতির জন্যে কি রকম পরিবেশ দরকার সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এই ধৃতরাষ্ট্র-গান্ধারীদের। বাড়িতে ‘চেক বই’ ছাড়া আর কোন বই নেই অথচ তারা চান তাদের ছেলে-মেয়ে ‘মানুষ’ হোক। আমি বলছি না বই পড়া ছাড়া মানুষ হওয়া অসম্ভব। লালন ফকির কোন বই পড়তেন? কিন্তু বই যে সাক্ষর লোকের ক্ষেত্রে গুরুর কাজ করতে পারে সে কথা ভুলে গেলে চলবে কেন?

আসি মধ্যম পাণ্ডব ভীমের কথায়। ভীম অন্ধ নয় কিন্তু জ্ঞান অর্জনের উপযুক্ত প্রস্তুতি ভীমের নেই। কৃষ্ণ চাঁদ দেখাবেন ভীম তাকিয়ে থাকবে তাঁর আঙ্গুলের দিকে। হবে না। কৃষ্ণ আর অর্জুনের যুগলবন্দী ছাড়া গীতার সৃষ্টি হবে না। কৃষ্ণ আর অর্জুন একে অপরের জুড়ি, ইংরেজিতে বললে ‘কমপ্যাটিবল’। জ্ঞানচর্চা হচ্ছে কমপ্যাটিবল গুরু-শিষ্যের যুগলবন্দী। সব শিষ্য, সব গুরু এক রকম নয়। কেউ সাত্ত্বিক, কেউ রাজসিক, কেউ বা তামসিক। সাত্ত্বিক গুরুর সাথে তামসিক শিষ্যের যুগলবন্দী বেসুরা বাজবে।
জ্ঞান দুই উপায়ে লাভ করা যেতে পারে: বিশ্বাস ও সন্দেহ। গুরু বললেন, তোমার প্রশ্নের এই হচ্ছে উত্তর। আপনি বিশ্বাস করে বসে রইলেন। এটা ঠিক যে অনেক সময় বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় থাকে না। রাতের অন্ধকারে গল্পের সেই অন্ধ লোকটিকে যদি আমি বলি আপনার দশ গজ দূরে একটি কালো বিড়াল আছে তবে বিশ্বাস না করে তার উপায় কি? চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা-জিহ্বা-ত্বক এই পঞ্চেন্দ্রিয়ের ক্ষমতা সীমিত। মানবমস্তিষ্ক আদিম কাল থেকে তাই বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হয়েছে। বিশ্বাস করাটা আমার মতে মানুষের সহজাত একটি প্রবৃত্তি। তবে সব সমাজের সব মানুষ সমানভাবে বিশ্বাস-প্রবণ নয়। শিক্ষা আর তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতি বা অধোগতির ফলে সমাজ ও ব্যাক্তির বিশ্বাসপ্রবণতা কমতে বা বাড়তে পারে।

বিশ্বাস দিয়ে যে জ্ঞান অর্জিত হয় সেটা এক ধরণের জ্ঞান বটে কিন্তু তাতে অনেক খাদ আছে। ধরুন, খাঁটি সোনা আর ১০ ক্যারেটের সোনা বা গিল্টিকরা সোনার মধ্যে যে রকম পার্থক্য থাকে অনেকটা সেরকম। জ্ঞান হতে হবে যতটা সম্ভব নৈর্ব্যক্তিক (অর্থাৎ শুধু একক ব্যক্তির চোখ দিয়ে দেখা নয়, কোন বিশেষ গোষ্ঠীর চোখ দিয়ে দেখা নয়, কোন কিছুকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সামগ্রিকভাবে দেখা) এবং এ রকম জ্ঞান অর্জনের উপায় হচ্ছে ‘বৈজ্ঞানিক সন্দেহ’ বা যুক্তিসম্মতভাবে করা সন্দেহ। ক্রমাগত যুক্তিযুক্ত সন্দেহের এ্যাসিডে জ্ঞানরূপ স্বর্ণকে পরিশোধন করতে হবে। যুক্তিযুক্ত সন্দেহ থেকে মনে আসবে প্রশ্ন। আমি যা ভাবছি তা কি সঠিক? গুরু যা বলছেন তাতে কি নির্ভুল? গুরু মানুষ। তাঁরও ভুল হতে পারে। উপযুক্ত প্রশ্ন করা শিখতে হবে। উপযুক্ত প্রশ্নের মধ্যেই থাকে উত্তরের বীজ। উপযুক্ত প্রশ্ন তাই বিরল। আসাদ চৌধুরীর কবিতার পঙতি: ‘প্রশ্ন নেই, উত্তরে পাহাড়’।

অর্জুন কৃষ্ণের কোন কথা বিনা প্রশ্নে মেনে নেননি। তিনি ক্রমাগত সন্দেহ করেছেন। কৃষ্ণ প্রিয় শিষ্যের সন্দেহের অপনোদন করেছেন। গুরুর কাজই তাই। গুরুর মন্ত্রটি স্মরণ করুন:‘অজ্ঞানম্ তিমিরান্ধস্যম জ্ঞানাঞ্জন শলাকায়া চক্ষুরুন্মীলিতম যেন তস্মৈশ্রী গুরুবে নমঃ’ সেই কবে সাড়ে তিন বছর বয়সে দাদু ঈশ্বরচন্দ্র চক্রবর্তী শিখিয়েছিলেন। আজ তেতাল্লিশ বছর পর জানি না গুরুপ্রণামের মন্ত্রটা ঠিকঠাকমত ব্যাকরণ আর বানান মেনে লিখতে পারলাম কিনা। ভুল হলে ঈশ্বরের নাতিকে ক্ষমা করবেন। মন্ত্রের অর্থটা মোটামুটি এই: ‘যিনি জ্ঞানরূপ কাজলের কাঠি দিয়ে (শিষ্যের) চোখ খুলে দিয়ে তার মনের অন্ধকাররূপ অজ্ঞান দূর করেন সেই গুরুকে প্রণাম’। কিন্তু গুরুর কাজলকাঠি কাজ করবে না যদি শিষ্য অর্জুনের মতো উপযুক্ত প্রশ্ন করতে না পারেন। অর্জুন করবেন নাই বা কেন। অর্জুনের প্রস্তুতিটি একবার খেয়াল করুন। সারা জীবন ধরে তিনি শুধু শিখেছেন, অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি কথা বলতেন কম, কাজ করতেন বেশি। তাঁর মতো এত দেশভ্রমন পঞ্চপাণ্ডবের আর কেউ করেননি। পাঁচ ভাইয়ের প্রত্যেকে এক এক মাস দ্রৌপদীর সাথে ঘর করতেন। দ্রৌপদী যদিও বিশেষভাবে অর্জুনকেই ভালোবাসতেন তবুও অর্জুনের সঙ্গে থাকার সুযোগ তার খুব বেশি হয়নি (অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি যে অর্জুনের প্রতি বিশেষ অনুরাগ থাকার পাপে মহাপ্রস্থানের পথে দ্রৌপদীর পতন হয়েছিল, স্বশরীরে স্বর্গে যেতে পারেননি তিনি। কি জ্বালা! যে রমণীর একটি মাত্র স্বামী তার একাধিক পুরুষকে ভালোবাসলে পাপ। কিন্তু যার পাঁচ পাঁচটি স্বামী তাঁর শুধু একজনকে ভালোবাসলে পাপ! ধর্মের বিচিত্র বিচার। এ প্রসঙ্গে একটু পরেই আবার আসবো)।

শিষ্যের কাজ উপযুক্ত প্রশ্ন করা আর গুরুর কাজ শিষ্যকে পথ দেখানো। পথ তিন প্রকার: জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ, ভক্তিযোগ। সবার সেরা হচ্ছে জ্ঞানযোগ। জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য, সে সমাজের ক্ষেত্রেই হোক, বা ব্যক্তির ক্ষেত্রেই হোক। জ্ঞানই ব্যক্তি ও সমাজের কর্ম স্থির করবে। কর্ম করতে করতেও জ্ঞান হতে পারে। প্রশ্ন হতে পারে: ব্যক্তি কোন কর্ম করবে? গীতার উত্তর : ব্যক্তি তার স্বধর্ম অনুসারে কাজ করবে। ‘স্বধর্মে মরণং শ্রেয়, পরোধর্ম ভয়াবহ।’ এই শ্লোকটির ভুল ব্যাখ্যা করা হয় অনেক সময়। এর মানে এই নয় যে কেউ ধর্মান্তরিত হতে পারবে না। হিন্দু, ইসলাম ইত্যাদি ধর্মের কথা বলা হচ্ছে না এখানে। গীতা যে যুগে রচিত হয়েছিল সে যুগে ‘ধর্ম’ কথাটি আজকে যে অর্থে আমরা শব্দটি ব্যবহার করি সে অর্থে ব্যবহৃত হতো না। সে যুগে ধর্মের অর্থ ছিল এ রকম: ব্যক্তির যা করা উচিত, যা না করলে দোষ অর্শায়, তাই হওয়া উচিত তার স্বধর্ম। প্রশ্ন হতে পারে, উচিত অনুচিত কে ঠিক করবে? ঠিক করবে ব্যক্তির জ্ঞান, পারিপার্শ্বিকতা, সময়। মহাভারতের যুগে যা উচিত ছিল তা আজকের যুগেও চলবে এমন কোন কথা নেই। সুভদ্রার যা উচিত, দ্রৌপদীর জন্যে তা অনুচিত। সুভদ্রা শুধু অর্জুনকে ভালোবাসবে, দ্রৌপদী পাঁচ ভাইয়ের সবাইকে ভালোবাসবে। উচিত-অনুচিতের বোধ যুগে যুগে বদলায়। আজকের যুগের সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত আইনটিও বহুকাল পরে একটি হাস্যকর আইন বলে মনে হতে পারে। মহাভারতের যুগে কুমারী কন্যার কাণীন পুত্র, নিজের স্ত্রীর গর্ভে অন্য পুরুষের সন্তান ক্ষেত্রজ পুত্র হিসেবে মায়ের স্বামীর সম্পত্তির সমান অধিকার পেতে পারতো। ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুর, পঞ্চপাণ্ডব এরা সবাই ক্ষেত্রজ পুত্র। এদের এক জনের জন্মদাতাও তাদের মায়ের বিয়ে করা স্বামী নন। আজকের যুগে এ রকম পুত্রের আইনী বা সামাজিক স্বীকৃতি নেই, অন্ততপক্ষে এখনও নেই।

অর্জুনের কাজ যুদ্ধ করা। তিনি ক্ষত্রিয় হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে নয়। তিনি অস্ত্রশিক্ষা করেছেন এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সেই শিক্ষাকে উপযুক্ত কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন। আমি কেন আমার গুরু, পিতামহ, শ্যালক-বন্ধু-আত্মীয়দের হত্যা করবো ভেবে অর্জুন যদি যুদ্ধ থেকে বিরত হতেন তবে তিনি স্বধর্ম থেকে বিচ্যুত হতেন। মহাভারতের যুদ্ধ মূলত ধর্মযুদ্ধ কারণ কৌরবেরা অন্যায়ভাবে পাণ্ডবদের রাজ্যচ্যুত করেছিল। ক্ষত্রিয়কে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই হবে। সে যুগে সেটাই ছিল ক্ষত্রিয়ের ধর্ম। কর্মের একটি শর্ত আছে: কর্ম হতে হবে নিষ্কাম অর্থাৎ কোন ফল কামনা করে কর্ম করা যাবে না। ‘কর্মন্যে অধিকার পার্থ মা ফলেসু কদাচন’ অর্থাৎ ‘ফলে নয়, কর্মেই শুধু তোমার অধিকার।’ এই শ্লোকটিরও ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয়, আমি যদি বেতন না পাই তবে চাকুরি করবো কেন? ব্যাংক যদি আমাকে সুদ না দেয় তবে ব্যাংকে টাকা জমা রাখবো কেন? আচ্ছা আপনি যখন আপনার ছেলে বা মেয়ের ভরণপোষণ করেন তখন কোন ফলের আশা করেন? ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে, চাকুরি করে বুড়ো বয়সে আপনাকে খাওয়াবে? আমি আপনাকে একটা হিসাব দিই। একটি ছেলে প্রতিষ্ঠিত হতে কমপক্ষে পঁচিশ বছর লাগে। মাসে ছেলের পেছনে কমপক্ষে ৫০০০ (আজকাল আরও অনেক অনেক বেশি) টাকা করে বছরে ৬০,০০০ টাকা খরচ। ২৫ বছরে এক ছেলের পেছনে খরচ ১৫ লক্ষ টাকা। ছেলের যখন ২৫ বছর বয়স তখন আপনার বয়স কমপক্ষে ৫৫। আপনি বাঁচবেন বড় জোর আর ১৫ বছর। এই ১৫ বছর ধরে যদি ছেলে আপনাকে মাসে ৫০০০ করে ফেরতও দেয় তবু আপনার সন্তান খাতে নীট ক্ষতি ৬ লক্ষ টাকা। মুদ্রাস্ফীতির কথা না হয় বাদই দিলাম। মেয়েদের আগে বিয়ে হয়ে যায় বলে মেয়ে-সন্তানখাতে ক্ষতির পরিমাণ আসলে কম। আমার এক দাদু এক বার বলেছিলেন, ছেলে মানুষ না করে যদি কয়েকটি নারকেল গাছ লাগাতাম তবে অনেক বেশি লাভে থাকতাম। সুতরাং নিজের ছেলে-মেয়ে মানুষ করে এক ধরনের নিষ্কাম কর্মই করছেন আপনি। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থাকার কারণে এই কর্মটি যে আসলে নিষ্কাম তা আপনার মনেও থাকে না। আপনার ঘরের সামনের রাস্তা সাফ করা থেকে শুরু করে, প্রতিবেশীকে সাহায্য করা, আপনার গ্রামের একটি বা দু’টি গরীব ছেলের লেখাপড়ার খরচ দেয়া এ সবই নিষ্কাম কর্ম যদি আপনি কোন জাগতিক লাভের আশায় এগুলো না করে থাকেন। আপনার তিল কর্মকে যখনই তাল হিসেবে লোকের কাছে তুলে ধরবেন তখনই তা আর নিষ্কাম কর্ম থাকবে না।

নিষ্কাম কর্মের ব্যাপারে আপনি নীরব থাকবেন কারণ নিষ্কাম কর্ম হচ্ছে ঈশ্বরের সাথে আপনার লেনদেন, বাইরের লোক যেন তা না জানে। ঈশ্বর বা ধর্ম হচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার, অনেকটা অন্তর্বাসের মতো, বাইরে বের করতে নেই। যারা ধর্মকর্ম দেখিয়ে দেখিয়ে করে তারা আসলে সুপারম্যানের মতো প্যান্টের উপর জাঙ্গিয়া পরে থাকে। সুতরাং ডান হাতে দান কর যেন নাহি জানে বাম। অন্যে বলতে গেলেও আপনি তাদের বাধা দেবেন। উপকার স্বীকার না করলেও রাগ করবেন না। নিষ্কাম কর্মের মালিক যেহেতু ঈশ্বর সেহেতু মরণশীল মানুষ কি বললো বা না বললো তাতে কিছু যায় আসে না। ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে আপনি যখন কোন পশু ছেড়ে দেন তখন আপনি নিজেই নিশ্চয়ই সেটাকে কেটে খাবেন না। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মতো পুকুরচুরির টাকা দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় নিজের বাপের নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা নিষ্কাম কর্ম নয়, ‘অতিকাম’ কর্ম। সমাজে বহু সাধারণ লোক দিনের পর দিন নিষ্কাম কর্ম করে যাচ্ছেন। আমাদের দেখার ক্ষমতা নেই বলে তাদের কাজ আমরা দেখতে পাই না। প্রবাদ আছে: ‘সত্যিকারের বীর হচ্ছে তারাই যাদের কথা লোকে জানে না।’ সবাই যদি সকাম কর্ম করতো বা আমাদের অনেকের মতো ১১০ভাগ ধান্দাবাজ হতো তবে কবেই মানব সমাজ উচ্ছন্নে যেতো।

এক রাজা একবার রাজ্যভ্রমণে বের হয়েছেন। অতিবৃদ্ধ এক ব্যক্তির সাথে রাজার দেখা হলো রাস্তায়। বৃদ্ধটি তখন রাস্তার পাশে ফলের গাছ লাগাতে ব্যস্ত। রাজা বললেন, ‘আপনিতো আর ক’দিন পরেই এই পৃথিবী ছেড়ে যাবেন। এখন কার জন্যে আবার এ গাছ লাগাচ্ছেন? তার উপর গাছ লাগাচ্ছেন আপনি সরকারী রাস্তায়। এর ফলতো আপনার বংশধরেরাও ভোগ করতে পারবে না!’ বৃদ্ধ উত্তর দিলেন, ‘মহারাজ, আমার মৃত্যুর পরও মানব সমাজ থাকবে। তাদের কাউকে এ গাছ ছায়া দেবে, ফল দেবে। নাই বা হলো তারা আমার বংশধর! এই নশ্বর পৃথিবীতে বংশ ক’দিন থাকে মহারাজ? কোন ধর্মের কোন মহাপুরুষই তো তাঁদের বংশধর রেখে যাননি। তাঁরা যদি তাঁদের মতো করে মহৎ কর্ম করে গিয়ে থাকতে পারেন তবে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমিও আমার মতো করে ভালো কাজ করে যাবো না কেন যতক্ষণ জীবন আছে?’ বৃদ্ধের উত্তরে মহখুশি হয়ে রাজা বৃদ্ধকে একটি স্বর্ণমুদ্রা উপহার দিলেন। বৃদ্ধ হেসে বললো ‘মহারাজ, আমার লাগানো গাছ আমার জীবৎকালেই আমাকে একটি স্বর্ণমুদ্রা দিল। দেখুন, কোন কাজই নিষ্ফল নয়।’ নিষ্কাম কর্ম আর নিষ্ফল কর্ম এক নয়। গীতায় নিষ্কাম কর্ম করতে বলা হয়েছে এই অর্থে যে আপনার সব কাজ যেন শুধু আপনার নিজের লাভের উদ্দেশ্যে না হয়। নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্যে আমাদের কাজ করতে হয়। নিষ্কাম কর্ম ভেবে আপনি যদি সে কাজে পারিশ্রমিক না নেন তবে তা হবে অধর্ম। কারণ তাহলে আপনি আপনার সংসার ধর্ম পালন করতে পারবেন না। দুই ধর্মের সংঘাত হলে কোনটি পালন করতে হবে আপনার জ্ঞান তা আপনাকে বলে দেবে যদি না আপনি দুর্যোধনের মতো অন্ধ হন। হাজার রকম নিষ্কাম কর্ম আমরা করতে পারি। আমরা সমাজের জন্যে কাজ করতে পারি, দেশের জন্যে কাজ করতে পারি। তবে শর্ত একটাই: সেই কাজগুলো যেন শতকরা একশত ভাগ নিষ্কাম হয়। লোকে বাহাবা দেবে বলে যেন আমরা সমাজসেবা না করি।

আসি ভক্তিযোগের কথায়। ভক্ত আর চামচার মধ্যে তফাৎ আছে। নেতাদের চামচা থাকে, ভক্ত থাকে না। ভক্তি হচ্ছে নিজেকে সমর্পণ। গভীর বোধের ব্যাপার এই ভক্তি। সবার পক্ষে ভক্ত হওয়া সম্ভব নয়। আমার অস্তিত্ব বহু কিছুর উপর নির্ভরশীল। আসছে মুহূর্তে আমি বেঁচে থাকবো কিনা জানি না। আমার জন্ম-মৃত্যু কে নিয়ন্ত্রণ করেন তার কিছুই আমি জানি না। মানুষ যুগে যুগে এ ব্যাপারগুলো জানতে চেয়েছে এবং জানতে না পেরে ধরে নিয়েছে যে আদিভৌতিক কোন শক্তি মানুষের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন সমাজে ও ভাষায় এই শক্তির বিভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে। যেহেতু এই শক্তি আদৌ আছে কি নেই তা জানা মানবমস্তিস্কের ক্ষমতার বাইরে সেহেতু মানুষ দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছে। ঐ যে বলেছিলাম মানুষ কোন কোন ক্ষেত্রে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ঈশ্বরের রূপ দেখার কোন উপায় নেই তাই তার রূপ মানুষ কল্পনা করেছে, এক এক দেশে, এক এক যুগে এক এক রকম ভাবে। কোথাও তিনি নাড়ুগোপাল, কোথাও তিনি ত্রিভঙ্গ বংশীধারী, কোথাও তিনি দাঁড়িপাল্লা হাতে আসনে বসে থাকা সুবিচারক। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়: ‘আমি আপন মনের মাধুরি মিশায়ে তোমারে করেছি রচনা’। এই কাল্পনিক ঈশ্বরের কাছে সর্বস্ব সমর্পণই হচ্ছে ভক্তি। এর জন্যে যে মন দরকার তা বেশির ভাগ মানুষের নেই। কেমন হবে ভক্তের মন? রাধা একবার কৃষ্ণের কাছে এই বলে অনুযোগ করলেন যে তিনি রাধার চেয়ে নিজের বাঁশিটিকেই বেশি ভালোবাসেন। কৃষ্ণ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন: ‘কেন বাসবো না। এই বাঁশির নিজের বলে কিছু নেই। আমি যেমন ভাবে ফু দিই বাঁশি তেমনভাবে বাজে। তুমিতো কখনই এই বাঁশির মতো নিজেকে আমার কাছে সমর্পন করোনি। তুমি কেবলই অনুযোগ করো, কেন আমি তোমার কাছে আসি না। বাঁশি শুধু অপেক্ষা করে কখন আমি ফু দেবো।’ এই হচ্ছে ভক্তের মন। ভক্ত বলবে: ‘আমার যা কিছু অর্জন, আমার প্রতি মূহূর্তের বেঁচে থাকা  প্রভূ সব তোমার জন্যে।’ এই ভক্তিযোগ ইসলাম, খ্রীষ্টান সব ধর্মেই আছে। কোরানের সুরা (ফাতেহা)র কথাটি মনে করুন। সত্যেন দত্তের অনুবাদ: ‘দ্যুলোকে-ভূলোকে সবারে ছাড়িয়া তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া...’ এই চরণে লুটানোর কাজটি সহজ নয়। সবচেয়ে কঠিন পথ এই ভক্তিযোগ। কঠিন এ কারণে যে জ্ঞান অর্জন করা যায়, কর্ম অন্যকে দেখে শেখা যায়। ভক্তি শেখানো যায় না। ভক্তি মন থেকে আসে, জোর করে হয় না। কার মনে ভক্তি আসবে তাও ঈশ্বরই ঠিক করেন। রামকৃষ্ণদেব বলতেন ‘ফল পাকলে আপনি মাটিতে পড়বে’। লাথি দিয়ে কাঁঠাল পাকানো যায় না।

ফরাসি দেশে জোয়ান অব আর্ক নামে এক অশিক্ষিতা, গরু-ভেড়া চড়ানো গ্রামের মেয়ে সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে মধ্যযুগে একবার ফ্রান্সকে ইংল্যান্ডের দখল থেকে মুক্ত করেছিল। এই মেয়েটি যখন পাহাড়ে ভেড়া চড়াত তখন ফেরেশতা জিব্রাইল প্রায়ই এসে তাকে বলতো: ‘তোমার সৈন্যদের পোষাক পড়া উচিত, ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা উচিত।’ জোয়ান জিব্রাইলের কথা বিশ্বাস করতো না। একদিন বিরক্ত হয়ে জোয়ান উত্তর দিল: ‘আচ্ছা, তোমার ঈশ্বর আর লোক পায় না। এত এত সেনাধ্যক্ষরা রয়েছেন। তাদের কাউকে দিয়ে এ কাজটি করালেইতো পারেন। আমি অশিক্ষিতা, বাচ্চা মেয়ে, যুদ্ধের আমি কি বুঝি?’ জিব্রাইল তখন বললো: ‘দেখো, কোন সেনাপতিকে দিয়ে এ কাজ করালে তো তাতে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ পাবে না। লোকে বলবে, সেনাপতির কাজ যুদ্ধ করা এবং তিনি তা করেছেন। এতে ঈশ্বরের কি এমন ভূমিকা আছে!’ এটা গল্প হতে পারে কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছায় যে অসম্ভব সাধন হতে পারে ভক্তের মনে এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। যীশু যখন বলেন, ‘মেয়েটি মরেনি, সে শুয়ে আছে’ তখন মরা মেয়ে উঠে বসে। কারণ, ঈশ্বর ভক্তের কথা মিথ্যা হতে দিতে পারেন না। ভক্ত আর ঈশ্বরের সম্পর্কটা পারস্পরিক এবং অতি গভীর। ঈশ্বর তাঁর ভক্তের উপর ভরসা করেন কারণ ভক্ত তাঁর হয়ে নানা কাজ করে দেয়। ভক্তও ঈশ্বরের উপর ভরসা করতে পারেন যদি ভক্তি সে পর্যায়ের হয়। সেই গোয়ালিনীর কথা মনে নেই যে হরিনাম নিতে নিতে যমুনা পার হতো? গোয়ালিনীর পিছন পিছন যমুনা পার হতে গিয়ে অবিশ্বাসী পণ্ডিত ডুবে মরেছিল কারণ সে হরিনাম করছিল বটে কিন্তু মনে ভক্তি ছিল না, ছিল সন্দেহ। পণ্ডিত ছিল জ্ঞানযোগী। সে ভক্তিযোগে নদী পার হতে গিয়ে বেঘোরে মারা গেল। গোয়ালিনীর জন্যে ভক্তিযোগ, পণ্ডিতের জন্যে জ্ঞানযোগ। এক জনের রাস্তায় অন্য জন চলা ঠিক নয়।

ফিরে আসি ধর্মের প্রসঙ্গে। হিন্দিতে বলে: ‘ধর্মেভি হীনা, পশুভি সমানা।’ যার ধর্ম নেই সে পশুর সমান। ‘ধর্ম’ শব্দটি এখানেও হিন্দু, ইসলাম বা খ্রীস্টান ধর্ম বোঝাচ্ছে না। মানুষ মাত্রেরই যা করা উচিত তাই তার ধর্ম। কি উচিত তা শেখাবে জ্ঞান, পুর্বসুরীদের অভিজ্ঞতা, গুরুর উপদেশ। মিথ্যা কথা বলাও ধর্ম হতে পারে আবার সত্য কথা বলাও অধর্ম হতে পারে। ধর্ম দুই প্রকার: সাধারণ ধর্ম আর সুক্ষ্ম ধর্ম। অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে ধর্মের দু’টি স্তর রয়েছে: উপরিস্তর আর অন্তর্লীন স্তর। সাধারণ ধর্মে মিথ্যা কথা বলা পাপ। সুক্ষ্ম ধর্মে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা না বললেও পাপ হতে পারে। দস্যুদের ধাওয়া খেয়ে এক বণিক প্রাণভয়ে কোন এক ঋষির আশ্রমে ঢুকে পড়েছিল। ঋষি তখন আশ্রমের বাইরে উপাসনায় ব্যস্ত। দস্যুরা এসে ঋষিকে জিগ্যেস করলো তাদের শিকার আশ্রমে ঢুকেছে কিনা। ঋষি চুপ করে রইলেন। ঋষির মৌনতাকে সম্মতির লক্ষণ ধরে নিয়ে আশ্রমের ভিতরে ঢুকে বণিকের সর্বস্ব হরণ করার পর দস্যুরা তাকে হত্যা করলো। মৃত্যুর পর ঋষিকে পাঠানো হলো সোজা নরকে। ঋষিতো অবাক হয়ে ঈশ্বরকে ‘শো কজ’ করে বসলেন: ‘আমিতো সারাজীবন জপতপ করেছি, কখনও মিথ্যাকথাটুকুও বলিনি!’ ঈশ্বর বললেন: ‘বাপু, ঐ মিথ্যাটুকু না বলার জন্যেইতো তোমার নরকবাস হলো’। সেই ঋষি ধর্মের উপরিস্তরের খবর রাখতেন কিন্তু ধর্মের অন্তর্লীন স্তর বোঝার মতো জ্ঞান তাঁর ছিল না বলে ধর্ম পালন করেও তাঁকে নরকগামী হতে হলো।

জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে ধর্ম থেকে চ্যুত হতে পারি আমরা অনেক সময়। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে যথাসাধ্য ধর্ম পালন করা। কৃষ্ণও সব সময় তাঁর প্রতিজ্ঞা রাখতে পারেননি। তিনি বলেছিলেন, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অস্ত্র ধারণ করবেন না। কিন্তু সেই তিনিই ভীষ্মের উপর মহা রেগে গিয়ে রথের চাকা খুলে তাঁকে মারতে গিয়েছিলেন। যুধিষ্ঠীরকে দিয়ে তিনি মিথ্যা বলিয়েছিলেন দ্রোণকে হত্যা করার জন্যে। সুদর্শন চক্র দিয়ে সূর্যকে ঢেকে অকালে রাত নামিয়েছিলেন যাতে অর্জুন জয়দ্রথকে হত্যা করতে পারে। জয়দ্রথের পিতা বৃদ্ধক্ষত্র আগাম অভিশাপ দিয়েছিলেন এই বলে যে তাঁর ছেলের মাথা যে ব্যক্তি মাটিতে ফেলবে সে ব্যক্তির মাথাও সহস্র খণ্ডে বিভক্ত হবে। অর্জুনের ওভারবাউন্ডারী তীরে জয়দ্রথের মাথা গিয়ে পড়লো বহু দূরের সামন্তঞ্চক তীর্থে উপাসনা করতে থাকা বৃদ্ধক্ষত্রের কোলে এবং সেখান থেকে মাটিতে। বৃদ্ধক্ষত্রের মাথাটি সাথে সাথে সহস্র খণ্ডে বিভক্ত হলো। বৃদ্ধক্ষত্রের এখানে অপরাধটা কি ছিল? আপন ভাগিনেয় অভিমন্যুকে যখন অন্যায়ভাবে মারা হয় তখন কৃষ্ণ ব্যাপারটা জানতেন কিন্তু তিনি ইচ্ছে করেই অর্জুনকে যুদ্ধক্ষেত্রে দূরে কোথাও নিয়ে যান। দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্রকে যখন অশ্বত্থামা গং রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করে তখন কৃষ্ণ ব্যাপারটা জেনেও নিবারণের কোন চেষ্টাই করেননি। সুতরাং ধর্মপালনের ব্যাপারটা ভগবানের দিক থেকেও খুব একটা মসৃণ ছিল না সব সময়। তবু সব মিলিয়ে যদি আমরা দেখি তবে বলতে হবে যে সাধুর পরিত্রাণ আর দুস্কৃতির বিনাশ করার কাজটি শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতে সুচারু রূপেই সম্পন্ন করেছেন।

‘যা আপনাকে ধারণ করে তাই ধর্ম।’ এই সংজ্ঞাটিও সুন্দর। মানুষ যদি ধর্ম রক্ষা করে তবে ধর্মও তাকে রক্ষা করবে। এ প্রসঙ্গে একটি গল্প বলি। এক রাজার রাজ্যে এক বাজার ছিল যাতে কোন পণ্য অবিক্রিত থাকতো না। যদি কোন পণ্য বিক্রি না হতো কোন দিন তবে রাজা নিজেই তা কিনে নিতেন। এক সন্ধ্যেবেলা রাজবাড়িতে এক শিল্পি এসে হাজির। শিল্পির হাতে একটি মূর্তি। মূর্তিটি অলক্ষ্মীর। শিল্পির অভিযোগ: ‘লোকে বলে, রাজার বাজারে সব বিক্রি হয়। কথাটা যদি সত্যিই হবে তবে আমার অলক্ষ্মির মূর্তিটি আজ কেউ কিনল না কেন?’ সভাসদেরা রাজাকে অনেক বারন করলেন কিন্তু রাজা কারও কথা শুনলেন না। শিল্পির সম্মানী চুকিয়ে দিয়ে মূর্তিটিকে তিনি রাজবাড়ির মন্দিরে অন্য দেবমূর্তির পাশে রেখে দিলেন। এই রাজা ছিলেন খুবই প্রজাবৎসল। প্রায়ই রাতের বেলা তিনি নগর পরিভ্রমণে বের হতেন হজরত ওমর বা সম্রাট আকবরের মতো। সেদিন রাতে রাজা লক্ষ্য করলেন এক অপূর্ব সুন্দরী নারী নগরের প্রবেশদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। কৌতুহলী হয়ে রাজা সেই নারীর নিকটবর্তী হয়ে তাঁর পরিচয় জিগ্যেস করলেন। নারী বললেন, ‘আমি তোমার রাজ্যের লক্ষ্মী। এতদিন তোমার এখানে ভালোই ছিলাম কিন্তু আজ তোমার রাজ্য ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ তুমি আজ সন্ধ্যায় অলক্ষ্মীকে কিনে এনে আমার পাশে প্রতিষ্ঠা করেছো। লক্ষ্মী আর অলক্ষ্মী এক মন্দিরে, এক রাজ্যে থাকতে পারে না!’ রাজা কোন প্রত্যুত্তর দিলেন না। লক্ষ্মী নিষ্ক্রান্ত হলেন। এর পরে রাজা দেখেন, এক অপুর্ব সুন্দর পুরুষ বের হয়ে যাচ্ছেন নগর থেকে। তার চার হাতের একটিতে শঙ্খ, অন্যটিতে পদ্ম, তৃতীয়টিতে গদা আর বাকিটিতে চক্র। রাজা বুঝলেন ইনি নারায়ণ। রাজাকে কিছু বলতে হলো না। নারায়ণ নিজেই বললেন যে লক্ষ্মী যেখানে নেই নারায়ণও সেখানে থাকতে পারেন না (খুবই ‘পত্নীব্রত’ এই দেবতা!)। এর পর মা দূর্গা তার সব সাঙ্গোপাঙ্গ সহ বের হয়ে গেলেন। চলে গেলেন আরও যত সব দেবতা ছিলেন তারা সবাই। রাজা কাউকে বাধা দিলেন না। সবার শেষে দেখা গেল এক দেবতা খুবই ইতস্তত ভাব করে বের হচ্ছেন। বোঝাই যাচ্ছিল, তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, যাবেন কি থাকবেন। কাছে গিয়ে রাজা পরিচয় জিগ্যেস করাতে দেবতা জানালেন যে তিনি ধর্ম। রাজা বললেন: ‘আপনি কেন যাবেন? সব দেবতা চলে গেলেন, আমি কাউকে বাধা দিইনি। কিন্তু আমিতো আমার ধর্ম রক্ষা করেছি। আমি বলেছিলাম, বাজারের যা কিছু অবিক্রিত থাকবে আমি সব কিনবো। আমি তা করেছি এবং যেহেতু পণ্যটি ছিল একটি দেবীমূর্তি সেহেতু আমি সেটিকে মন্দিরে স্থান দিয়েছি। না, আপনার যাওয়া হবে না। আপনি সোজা ফেরৎ যান মন্দিরে।’ আপনারা হয়তো ভাবছেন, সাধারণ এক রাজা আবার দেবতাকে এভাবে হুকুম দিয়ে কথা বলে কি করে! কথা শুধু নয়, ভগবানের বুকে লাথি পর্যন্ত মেরেছিল ভৃগুমুনি। নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার পঙতি: ‘আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন।’ হিন্দু ধর্মে দেবতা হলেই মাথা কিনে নেয়া যায় না। ধার্মিক মানুষও দেবতাকে হুকুম এমনকি অভিশাপ দে
২০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×