চায়ের কাপ থেকে লিকারের ব্যাগ উঠাতে উঠাতে স্বপ্নের ম্যাট্রিক্সে প্রবেশ করি, উপস্বপ্নদের গলি গলি ঘুড়ে বেড়াই। একটা অদ্ভুত দিনের কথা ভাবতে থাকি।
এমন একটা দিনের কথা ভাবি যেদিন আমাদের দেশে স্কুল কলেজ গুলোতে মেধা তালিকার ভিত্তিরে রোল কল করা হবে না, বরং এলফাবেটিক অর্ডারে উপস্থিতির হিসেব রাখা হবে। প্রতিদিন টেলিভিশনে মন্ত্রীদের মিথ্যা কথার অখাদ্য খবরের আগে জনগনের সংবাদ প্রাধান্য পাবে, একজন সাধারন দিনমজুরের সাফল্যের খবর সংবাদ পত্রের শিরোনাম হবে। টকশোর তুমুল বিতর্কের অনুষ্ঠান বন্ধ হবে, মুক্ত-মনা শোতে মানুষ তাদের স্বপ্ন ও ভালোবাসার গল্প বলবে।
চামুচ ডুবিয়ে চায়ের চিনি গুলতে গুলতে ভাবতে থাকি, এমন একটা দিঁনের কথা যেদিন সরকার ঘোষনা করবে সরকারি পে স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন পাবেন শিক্ষকরা। বেতের বদলে শিক্ষকরা ক্লাসরুমে ঢুকবেন লাইব্রেরী থেকে ধার করা বই নিয়ে। এমন একটি দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন সব চিড়িয়াখানা বন্ধ করে দেয়া হবে, রাষ্ট্রিয়ভাবে পশু-পাখি পালা নিষিদ্ধ করা হবে, পাখি শিকারের বিরুদ্ধে আইন হবে, পাখিগুলো ফিরে আসবে আবার আকাশে, আকাশে কোলাহল বাড়বে। অপেক্ষা আছি, কোনদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে, পাঠ্যপুস্তকে ক্লাস ফাইভ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারা সম্পর্কে পড়ানো হবে, বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে পড়ানো হবে, শিক্ষার্থীদের উপর তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া হবে।
অধীর হয়ে অপেক্ষায় আছি কবে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে "বিসমিল্লাহ" সরানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে মুসলমান বানানোর হাস্যকর প্রচেষ্টা বন্ধ হবে। ধর্ম মানুষের জন্য রাষ্ট্র একটি কাঠামো এর জন্য ধর্ম কেন বুঝে পাই না আজো। অপেক্ষায় আছি কবে তসলিমা নাসরিনের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে, সব নিষিদ্ধ বইয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, মানুষকে প্রকৃত স্বাধিনতা দেয়া হবে। এত যুদ্ধ স্বাধিনতার হল জন্য, এ কেমন স্বাধিনতা। মানুষের মনের ভাবকে ফিল্টার করে নেয়া হচ্ছে।
চা প্রায় শেষ হয়ে আসছে, স্বপ্নের কোন ইতি টানা সম্ভব হচ্ছে না। স্বপ্ন দেখছি এমন একটি দিনের যেদিন নিরবিচ্ছিন্ন স্বপ্ন দেখতে পারব, মানুষের প্রস্তাবিত স্বপ্নের খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে সংসদে, টি.এস.সি.-র আলোচনার আড্ডা থেকে জন্ম নিবে আগামির সব প্রতিভাবানরা, তবু খুন হবে, সন্ত্রাস, ধর্ষন, আনন্দোলন, বিক্ষোভ হবে কিন্তু মানুষের প্রবল প্রাণ শক্তি ক্রমাগত সংগ্রাম করবে। সংবর্ধনা সভাগুলো বাতিল করে সে টাকা দিয়ে খাদ্য কিনে দেয়া হবে মঙ্গা পিড়ীতদের।
সমাজে সম্পুর্ণ সাম্যতা আনা সম্ভব নয় এবং এতে সার্বিক মঙ্গল নেই, কিন্তু লোকাল বাস, চায়ের স্টলে, রাস্তায় মানুষের নির্লিপ্ত চোখে পরিবর্তন চাইছি। চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে হাটা শুরু করি। তখন স্বপ্নের ঘড়িতে বেজেছে "টু বি কনটিনিউড..."
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


