somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথিতযশা সাহিত্যিক আবদুল হকের ডায়েরীর পাতায় ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট ট্র্যাজেডি

০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথিতযশা সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক , কথা-সাহিত্যিক , নাট্যকার আবদুল হক ‘ষ্মৃতি সঞ্চয়’ নামে একটি ডায়েরী লিখেছিলেন তাতে তার মনোভঙ্গির একটি নিবিড় পরিচয় আমরা পাই । ধর্মনিরপেক্ষতা , ইহজাগতিক চেতনা, জাতীয়তাবোধ, শোষণ ও পীড়নমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রতি অঙ্গীকার, আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উদার মনোভঙ্গি এবং সর্বোপরি মানবিকতার আদর্শই ছিল আবদুল হকের পাথেয় । তাই তার ‘ষ্মৃতি সঞ্চয় ’ আমাদের ইতিহাসের এক গভীর সত্যনিষ্ঠ ও অসামান্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে । উল্লেখ্য, ‘ষ্মৃতি সঞ্চয়’ ’৭২-’৭৫ সময়পর্বের নির্বাচিত অংশ সাপ্তাহিক ২০০০ এর ইদুল ফিতর সংখ্যায় ছাপা হয় । এ গ্রন্থের ’৭৫ সালের ১৫-২৩ আগষ্ট তারিখের ডায়েরীর পাতায় উঠে এসেছে ১৫ আগষ্ট নির্মম হত্যাজজ্ঞ প্রসঙ্গ । আবদুল হক লিখেছেনঃ

উঠতে কিছু দেরী হয়েছিল । তখন সাতটার কাছাকাছি । শওকত এসে জানালো শেখ সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে । ‘বল কি !!!’ তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠলাম । কয়েক মুহুর্ত পরে শওকত আবার এসে জানালো , না শেখ সাহেবকে হত্যা করা হয়নি , ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে । খন্দকার মোস্তাক নতুন প্রেসিডেন্ট । রেডিওটা অন করেছিলাম । ৭টার খবরের সময় পার হয়ে গেল , কিন্তু শুধু কোরআন তেলাওয়াত । তারপর শেখ সাহেবকে হত্যা এবং অভ্যুথানের সংবাদ । রাত্রিশেষে মেশিন গান চালনার শব্দ শুনেছিলাম কিছুক্ষন ঘুমের ঘোরে । প্রথম মনে হয়েছিল অন্যদিক থেকে । কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল সামান্য একটু । ভেবেছিলাম হয়তো মনের ভুল ।

শেখ সাহেবের একটা ব্যক্তিত্ত্ব ছিল ও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ছিল । এই দিয়ে তিনি মোটামুটি জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রেখেছিলেন । সে ব্যক্তিত্ত্ব এবং ভাবমূর্তি অপসারিত হলো । বহু শিক্ষিত এবং গ্রামবাসী শুধু শেখ সাহেবকে বুঝতো আর কাউকে বুঝতো না । তারা ব্যাপারটিকে ভালভাবে গ্রহণ করবে না । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে ।

শেখ সাহেব সার্বভৌম বাংলাদেশের স্রষ্টা ছিলেন । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ রাষ্ট্রের জন্য একটা স্থান সৃষ্টি করেছিলেন । তিনি ছিলেন এ রাষ্ট্রের প্রতীক । সেই প্রতীক অপসারিত হলো । সেই সঙ্গে আহত হলো এ জাতির আত্মবিশ্বাস । স্বতন্ত্র সার্বভৌম সত্তায় আত্মবিশ্বাস ।

বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে তার নাম কিছুতেই বাদ দেওয়া যাবে না । নাম ষ্মৃতি নিয়ে তিনি বারংবার এদেশের ইতিহাসে আবির্ভুত হবেন ।

মনে হয় বেশিরভাগ লোকই শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত , তাকে সপরিবারে হত্যা করায় খুশি । তার অর্থ , যে ব্যক্তিটি দায়ী শুধু তাকে নয় , তার পরিবারের শিশুবৃদ্ধ নারীসহ সবাইকে হত্যা করা দোষের কিছু নয় । রাজনৈতিক মূল্যবোধ এখন এই পর্যায়ে । তাহলে ভবিষ্যতে দরকার হলে যেকোনো শাসককে একইভাবে অপসারিত করাটাও লোকে বাঞ্চনীয় মনে করতে পারে । ফলে এ ধরণের হত্যা ঐতিহ্যে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ।

মধ্যযুগে সার্বভৌম বঙ্গদেশেই এরকম ব্যাপার বারংবার ঘটেছে । রক্ষীবাহিনী পাকিস্তানপন্থী বা উগ্র চীনপন্থীদের হত্যা করেছিল এটা যদি খারাপ হয় , তাহলে বাংলদেশের স্রষ্টাকে সপরিবারে হত্যা করাকে ভালো প্রমান করা যায় কিরূপে ? রাজনৈতিক মুল্যবোধ, অতিতের ইতিহাস, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা , সার্বভৌম বাংলাদেশের উদ্ভব আর তার নিয়তি , অতীত আর ভবিষ্যত, দূর্যোগময় উত্তুঙ্গ -তরঙ্গ সংকুল পৃথিবী এ সম্বন্ধে অধিকাংশ মানুষ কিছুই ভাবছে না । বর্তমানের কাটা তো অপসারিত হলো , এই শুধু মনে করছে ।

বাংলদেশের ইতিহাস, বাংলদেশের বিকাশ শুধু যে অকস্মাৎ মোড় ফিরলো তাই নয় তার অগ্রগতিতে একটা বিকৃতি এলো, অস্বাভাবিকতা প্রবেশ করলো । হয়তো দীর্ঘদিন বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস কেউ লিখবে না , লিখতে সাহসী হবে না । বাংলদেশের ইতিহাসে অর্থাৎ ইতিহাস লেখায় বিকৃতির সম্ভাবনাই এখন বেশী ।




৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×