আমার প্রিয় পোস্ট
- অদূরপাল্লার বাসভ্রমণ: স্মৃতির হাবিজাবির কয়েকটি - নুশেরা
- স্মৃতি হন্তারক বৃস্টিতে থ্যাঁতলানো কয়েকজন আর উড়াল সেতু জুড়ে ধাবমান কদম - আকাশচুরি
- কালো ঝুটির পরী ... - ...অসমাপ্ত
- দশম পোস্টের মাইল ফলকে পৌঁছে আমার আত্মকথন - রাস্তার ছেলে
- din lipi - রাসেল ( ........)
- দেঁতো হাসি, নোবেল পুরষ্কার, ৩০ হাজার টাকা এবং একটি আত্মহত্যা - মনজুরুল হক
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৩৪ (দোতলার ল্যন্ডিং,মুখোমুখি দু'জন--আহসান হাবীব)] - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- এই চোখে তাকিও না আমি লুটপাট হয়ে যাবো- - রাসেল ( ........)
- বাউলের মূর্তি সরানোয় মুসলমানি সাফল্য: আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের পুনর্পাঠ, পর্ব ২ - ফাহমিদুল হক
- বাউলের মূর্তি সরানোয় মুসলমানি সাফল্য: আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের পুনর্পাঠ, পর্ব ১ - ফাহমিদুল হক
- ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক) - নাফিস ইফতেখার
- ব্লগীয় রাজনীতি নিয়ে কিছু কথা - অমি রহমান পিয়াল
- এবং বাংলা সীমান্তে: বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব, পর্ব ৫০) - ফাহমিদুল হক
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - একটি অহেতুক বিতর্কের জবাব - সু-শান্ত
- রাজাকার, জামাত এবং ইত্যাদি.... - অমি রহমান পিয়াল
- নিপীড়ক শিক্ষক এবং নীতিমালার যৌক্তিকতা: মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া - নুশেরা
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- কাঙ্গাল মুরশীদের হুরতত্ত্ব এবং কিছু কথা - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ধর্মে বিজ্ঞানঃ নিম গাছে আমের সন্ধান - নাস্তিকের ধর্মকথা
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- কলেজের দিনগুলো - নুশেরা
- ছোট্ট পাখি - লাভ বার্ড, আমার সামনে দেখা ঘটনা। - সুমাইয়াশফিক
- উইন্ডোজ এক্সপির জন্য ১০০+ শর্টকাট কমান্ড। - লুলুপাগলা
- ঘ্রাণসঙ্গম - ছন্নছাড়ার পেন্সিল
- পরবাসে পাকমন - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- আমরা সস্তায় ফ্ল্যাট কিনবো ভাবছিলাম - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- পাকমন পেয়ার - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- বর্ণ চোরা জামাতীদের ধর্ম বিকৃতি ও ভন্ডামি - সাঈফ শেরিফ
- মেধাহীন 'করপোরেট' মেরুকরণ, গড্ডালিকার নর্দমা, ডিজুস তারুণ্য - সাঈফ শেরিফ
- বাধ ভাঙার এই আওয়াজ বোধহয় কারো কাম্য ছিল না (উৎসর্গ :বিদায়ী ধূসরছায়া বৃন্দ) - আরিফ জেবতিক
- ঝিনুক নীরবে সহো... - মেঘ
- সাড়ে সাত হাজারের ভেলরি, আড়াই লাখের শফি সামি, আর দুই পয়সার আমরা.. - আরিফ জেবতিক
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - বাংলা উইকি থেকে - রাগিব
- প্রিয় বাংলাদেশ - দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া তোমাকে (১) - (উইকি কমন্স থেকে বাংলাদেশের ছবি) - রাগিব
মেঘবালিকার ছোঁয়ায় যেমন পূর্ণতা পায় আকাশ নীল, তোমার হাসির রৌদ্রছায়া, বুকের মাঝে শঙ্খচিল

ফেলে আসা ইশকুল:Texas A&M University
০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:২৯
আমেরিকার মাটিতে পা দিয়েছিলাম অগাস্ট মাসে। ডালাসের কাঠফাটা গরমে মনে হল আমাকে স্রেফ ওভেনে ঢুকিয়ে দেয়া হল।সেখান থেকে গ্রেহাউন্ডের বাসে করে কলেজস্টেশন। পুরা ৪০০ মাইল রাস্তা। বাস ভর্তি আমেরিকান ব্ল্যাকদের দেখে তো ভয়ে ভয়েই পুরা রাস্তা কাঁটা হয়ে ছিলাম।
বাস স্টপে রিসিভ করতে আসা আমার বন্ধুকে দেখে জানে পানি পেলাম। ওর ওখানেই উঠলাম প্রথমে।
কলেজস্টেশনে আসার পর মনে হয়েছে, ও হরি, এ যে আস্ত একটা গ্রাম। ইউনিভার্সিটি ছাড়া দেখার কিছুই নাই। তবে, এত বিশাল ইউনিভার্সিটি আগে দেখিও নাই, ৫২০০ একর জায়গা নিয়ে ৫০০০০ ছাত্রের এই বিশাল শিক্ষায়তন।
তখন আমি আমেরিকায় নতুন।যা দেখি তাই নতুন লাগে।
ম্যাকডোনালডস, ওয়ালমার্ট থেকে শুরু করে শর্টস পরা স্বর্ণকেশী বালিকা, আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল আমি একটা বড়সড় থিয়েটারে মুভি দেখছি।
টেক্সাস এ এন্ড এম নিয়ে একটু বলে নেই-১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখান থেকে ৩৩০০০০ ছাত্র পাস করে বেরিয়েছে। টেক্সাসের ইউ. টি-অস্টিন এর সাথে যত প্রতিযোগীতা এই ইউনিভার্সিটির।আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলেোর মধ্যে এটি ১৪তম অবস্থানে।এখানকার ছাত্রদের বলা হ্য় 'Aggies'। এদের স্লোগান হচ্ছে, Gig'em Aggies। অর্থ অনেকটা এরকম,"ওদের গেঁথে ফেল"।
এখানে আসার পরপরই গ্রাজুয়েট ওরিয়েন্টেশন বলে একটা ব্যাপার হ্য়। তো সেদিন সকাল সকাল মান্জা মেরে গেলাম।ফলও পেলাম হাতে হাতে। লিফটে ওঠার সময় এক আমেরিকান রূপসীকে কায়দা করে নড করতেই সে আমার নাম-ধাম জিগগেস করে বসল।রেজিস্ট্রেশন করে বুথ থেকে বেরিয়ে আসতেই দেখি সেও অপেক্ষা করছে আমার জন্য।বোকা বোকা ভাব নিয়ে বললাম, আমি তো এখানে কাউকে চিনি না, তোমার সাথে একটু থাকি? সম্মতি দিতেই আমাকে আর পায় কে? তার উপর আমি তুলা রাশির ছেলে, রূপসী কন্যার কথায় মরতেও রাজি।
অনুষ্ঠান শুরু হতে না হতেই দেখি বিশাল এক কুকুর নিয়ে দুই ক্যাডেট হাজির। আমি তো অবাক, ডগ স্কোয়াড এখানে কেন?তারপর শুনি, এই কুকুর নাকি এদের মাস্কট।কোন ক্লাসে যদি এটা ঢুকে ঘেউ ঘেউ করে, তাহলে সেদিনের মত ক্লাস ছুটি।তারপর আমি অনেকদিন ক্লাসে বসে মনে মনে চেয়েছি, কুকুরটা আসে না কেন? বিড়ালের সাথে বোধহয় আমার মিল আছে, তাই শিকে ছেঁড়ে নি কখনো।
এরপর শেখানো হল, How to be an aggie in 10 minuites? সবাই মিলে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি আর সাথে Whoop… Whoop বলে তারস্বরে চিৎকার। আমার কাছে ওদের এইসব ট্রাডিশন একটু হাস্যকর লাগছিল।
যা হোক, আমি তো লটকে গেলাম সেই বালিকার সাথে, পুরা সুপার গ্লুর মত।বালিকা আবার নিরামিষভোজী, কাজেই মজার খাবারগুলেো ফেলে রেখে আমাকে খেতে হল 'ভেজী'(নাকি, ভিজা!!) স্যান্ডউইচ।
ওরিয়েন্টেশনের সময় ওয়েলকাম পার্টি হয়। অরেলিয়া বলল, তুমি কি কোন নাচের পার্টনার ঠিক করেছ? আমি ভেতো বাঙালি, আসতে না আসতেই পার্টনার পাব কোথায়। সেটা ওকে বলতেই ভারি খুশী হয়ে বলল, তাহলে পার্টিতে আমরা একসাথে আসব, কেমন? আসলে ও নিজেও এখানে নতুন, ক্যালিফোর্ণিয়া থেকে মাত্র এসেছে।
সারাদিনই প্রোগ্রাম ছিল। বিকালের দিকে বালিকা বললো, আমি যদি পরে ওর সাথে দেখা করতে চাই, ফোন করে বুশ লাইব্রেরীর সামনে গেলেই চলবে।আমি ধর্মঘটিত ছ্যাঁকা খাওয়া পাবলিক, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডরাই।শেষকালে এই ক্যাথলিক বালিকার জালেই যদি আটকাই, তাহলে আমার হৃদয়বালিকার দোষ কি ছিল?যা হোক, সেদিনকার মত ঘটনার এখানেই সমাপ্তি।
প্রথম দিন ক্লাসে গিয়ে দেখি আমি ছাড়া কোন বঙ্গসন্তান নাই। ক্লাস শুরু হওয়ার পর এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি রূপসী টেক্সান কন্যারা সংক্ষিপ্ততম শর্টস পরে হাতে স্টারবাকস এর কফি নিয়ে অবলীলায় সামনের চেয়ারে পা তুলে দিয়ে লেকচার শুনছে।অনেকদিন বুয়েটে ছিলাম, সারাজীবন স্যারদের ধমক খেতেই অভ্যস্ত।(টিচার হওয়ার পর অবশ্য সাহস করে দু-একজনকে ধমকও দিয়েছি) কাজেই, একটু অবাক হলাম।।যাইহোক, বুঝলাম, এটাই আমেরিকান কালচার।বুয়েটের ঝাড়ি-টাড়ি এখানে চলে না। যেহেতু, স্যারদের এখানে নাম ধরেই ডাকতে হয়, সেব্যাপারে লজ্জা পেয়েও লাভ নাই, আমেরিকান বন্ধুদের কাছে বেকুব সাজতে হবে।
আইডি কার্ডের জন্য ছবি তোলার পর নিজেকেই চিনতে পারলাম না। গরমে ঘেমে মুখ-চোখের যে চেহারা হয়েছে তাতে নিজেই নিজেকে চিনতে পারছিলাম না।
প্রথম দিনেই বন্ধু জুটে গেল। বিশালদেহী এক জাম্বিয়ান, এনটেকে মুলেংগা।পরিচয়ের একটু পরেই পিঠে প্রমাণ সাইজ পিঠ-চাপড়ানি খেয়ে আমি তো পালাতে পারলে বাঁচি। এই অবস্হা থেকে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসল আরেক টেক্সান বালিকা, ক্যানডিস।আমার ছোটখাট চেহারা দেখে বোধহ্য় তার একটু দয়া হচ্ছিল। যাহোক, বন্ধুদের সাথে স্টারবাকসে কফি আর মাফিন খেয়ে প্রথম দিনের ক্লাসের ইতি।
বিকালে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম, বাংলাদেশ থেকে কতদূরে এসে পড়লাম!!পড়াশোনা করে কোন ঘন্টাটা হবে...ইত্যাদি ইত্যাদি।হঠাৎ এপার্টমেন্টের ফোনে কে যেন কল করলো। দেখি অরেলিয়া, সেই প্রথম দিনের পরিচিতা। ও একটু শহরটা ঘুরে দেখতে চায়, আমি রাজি থাকলে আমাকেও নিয়ে যাবে। আমি এদিকে মনে মনে অনুবাদ করে ইংরেজী বলি, বাঙালী উচ্চারণের কল্যাণে সেটারও অর্ধেকটাই টেক্সানরা বুঝে না।যা থাকে কপালে ভেবে রাজী হলাম।তাছাড়া আমার গাড়ী নাই,গাড়ী ছাড়া টেক্সাসে বেড়ানোর কথা চিন্তাই করা যায় না।
সেদিন ওর সাথে বুশ মিউজিয়াম, ব্রায়ান ডাউনটাউন(শুধু নামেই, আসলে পিচ্চি একটা জায়গা) আর শপিং মলটা দেখে ফেললাম।
রাতে বাড়ী ফিরে কার্পেটে শুয়ে শুয়ে(খাট কেনার পয়সা ছিল না) চিন্তা করলাম, অদ্ভূত মানুষের জীবন। ৫ দিন আগে পলাশী বাজারে রিক্সাআলার সাথে দামাদামি করছিলাম ভাড়া নিয়ে, আর আজকে কলেজস্টেশনে শপিং মলে ঘুরছি।আমার তখন অদ্ভূত অবস্থা, নিজের কোন সেলফোন নাই, বাসার সাথে বলতে গেলে যোগাযোগ বন্ধ।প্রতিদিন ক্লাস থেকে ফিরে কান্না পায়, মনে হয় সেমিস্টার শেষ হলেই বাংলাদেশে চলে যাব।শুধু ম্যাকডোনালডস খেয়ে আর কয়দিন থাকা যায়। বাইরের ঝাল-মসলাহীন খাবার খেতে অসহ্য লাগে।
খালি মনে হত, কত বছর ধরে আমি প্রিয় দেশটাকে দেখি না। কতদিন হাঁটি না আমি চেনা রাস্তায়, কতদিন দেখি না আমার প্রিয় মুখগুলো। প্রথম সেমিস্টার শেষ হতে হতে অবশ্য সবকিছুই ঠিক হয়ে গেল। আমি ইতোমধ্যে একবার দেশ থেকে ঘুরেও আসলাম।
প্রথম সেমিষ্টারে আমার ক্লাস ছিল ৩ টা। প্রথমদিনেই লক্ষ করলাম, ক্লাসে ইনডিয়ান আর চাইনীজদের সংখ্যাধিক্য।আগেই জানতাম, চাইনীজরা বেশী মিশুক না। আমি তো আসছি বুয়েট থেকে, গ্রুপ ফাইটে অভ্যস্ত।তাই শুরু থেকেই সম্ভাব্য গ্রুপমেট খুঁজতে লাগলাম। হাতেগোনা কয়েকটা আমেরিকান ছিল, ওদের কাছে পাত্তা না পেয়ে ক্লাসের একমাত্র তুর্কী তরুণীর দিকে মনোযোগ দিলাম। যদিও ওর পোশাক দেখে বুঝি নাই, ও মুসলমান। একদিন লবিতে পাকড়াও করে আন্দাজে ঢিল মারলাম, একিন, তুমি তো মুসলিম, তাই না? ও অবাক চোখে তাকিয়ে বললো, আমার নাম জান কি ভাবে? মনে মনে বললাম, খুকি, বাঙালীদের তো চিনো নাই। আর একদিন সময় পেলে তোমার বাবা-মার নামও বের করে ফেলতাম। কথা বলতে বলতে হঠাৎ সিগারেট ধরাল। আমি তো নন-স্মোকার। এইসব কড়া সিগারেটের গন্ধও সহ্য হয় না। কোনরকমে নাক-মুখ চেপে গ্রুপমেট হতে বললাম। রাজি হল।
পরের মিশন, একটা ভারতীয় ছেলে, অরূপ মহাপাত্র।উড়িষ্যার থেকে এসেছে।কথা বলে দেখলাম, বাঙলা বোঝে, বলতে পারে না।সহজেই রাজি হল।
একটা ক্লাস ছিল ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে।শিক্ষক মিসরীয়। প্রথমদিন ক্লাসে দেখলাম ২০/২১ জন ছেলেমেয়ে। ফাইনালের ১ মাস আগে সেটা গিয়ে দাঁড়াল ৬ জনে, আমাকে সহ। আমিও পালাই-পালাই করছিলাম। শেষ পর্যন্ত এনটেকের জন্যই টিকে গেলাম।
ক্লাস শুরু হওয়ার ২ সপ্তাহ পরই ছিল রমজান মাস। আমি সাধারণত সবগূলাই রাখি। কিন্তু ১৬ ঘন্টা রোজা রাখতে গিয়ে খবর হয়ে গেল। একে তো প্রচন্ড গরম(৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস), তার উপর আমার অ্যাপার্টমেন্ট অনেক দূরে।মাঝে মাঝেই ইফতারের সময় ক্লাস হত।তখন সবচেয়ে কষ্ট লাগত, 'স্নিকারস' দিয়ে ইফতার করতে।
এক মাস রোজা শেষে আসল ঈদ। বাবা-মা ছেড়ে এটাই আমার প্রথম ঈদ।স্বাভাবিক নিয়মেই মন খারাপ হল।এখানে বাঙালী কম্যুনিটির জনসংখ্যা খারাপ না। ঈদে সাধারণত কোন বাসায় সবাই জড়ো হ্য়। সবাই বাসা থেকে রান্না-বান্না করে নিয়ে আসে।আমি ব্যাচেলর বলে মাফ পাই নাই।বিরিয়ানী রাঁধতে হয়েছে।বিকেলে এখান থেকে ৪০ মাইল দূরের 'লেক কনরো' ঘুরতে গিয়েছিলাম, অসাধারণ একটা লেক। কিন্তু ওখানকার লোকজনের মুখ দেখে মনে হল, তারা জগতের ৮ম আশ্চর্য কিছু দেখছে। আমেরিকার গ্রামান্চলে আসলে ওরা বাইরের লোক দেখতে অভ্যস্ত না।
এবার, আমার বন্ধুদের কথায় ফিরে আসি। আমেরিকায় এত বছর থাকতে গিয়ে অনেকের সাথেই বন্ধুত্ব হয়েছে। অনেক অদ্ভূত কিসিমের মানুষজনের সাথে পরিচয় হয়েছে।এমনিই আমেরিকানরা মাথা পাগলা জাতি। কথা নাই, বার্তা নাই, ক্লাসের মধ্যে চিৎকার দিয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে তো এদের মাথা পুরা আউলা হয়ে যায়, আমি যে রাস্তায় থাকতাম সেটার একদম মাথায় বেশ কয়েকটা নাইটক্লাব। শুক্রবারে এত লোকজনের ভীড় হয় যে রাস্তায় গাড়ী নিয়ে বের হওয়া যায় না।গাড়ী বের করাও বিপদজনক, কারণ প্রায়ই ছেলে-মেয়েরা টলতে টলতে গাড়ীর সামনে এসে পড়ে। অবশ্য তাই বলে এদের খারাপ ভাবার মত কোন কারণ নাই। আমি এদের মধ্যে যে ভাল দিকগুলো দেখেছি তাতে এসব ব্যাপার অগ্রাহ্য করা যায়। এখানকার মেয়েরা অনেক পরোপকারী আর সৎ। আমাদের দেশের ডিজুস প্রজন্মের মেয়েদের চেয়ে এরা যে অনেক ভদ্র তাতে কোন সন্দেহ নাই।
অবশ্য প্রথমে আমার তেমন আমেরিকান বন্ধু ছিল না। কারণ, এরা নিজেদের মধ্যেই কথা কম বলে। আর পার্টিতে না গেলে বন্ধু পাওয়া কঠিন।আমি কট্টর না হলেও ধর্ম মেনে চলি, পার্টিতে গিয়ে তো আর 'কোক' খাওয়া যায় না, রঙিন পানিই খেতে হয়,তাই আমার যাওয়াও হয় না।অরেলিয়া মাঝে মাঝে ওয়াইন খায়, আমার সাথে মেশার পর সেটাও ছাড়ার চেষ্টা করছে।তাই, আমার তেমন অসুবিধা হ্য় না।
এদিকে নতুন সমস্যা দেখা দিল আমার তুর্কী বান্ধবী একিনকে নিয়ে, এমনিতে সে দিব্যি পর্ক আর বিয়ার খায়, পোশাক দেখে কেউ মুসলিম বলে ভুলেও ভাববে না, কিন্তু তুরস্ক-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরস্হায়ী করার জন্য সে হঠাৎ জোড়েসোড়ে চেষ্টা শুরু করল। আমি পড়লাম বিপদে, প্রথমে কিছু বুঝি নাই। এদের কালচার একটু অন্যরকম, দেখা হলেই চিৎকার দিয়ে জড়িয়ে ধরে, ছেলে-মেয়ে বিষয় না।সবই ঠিক ছিল, কিন্তু আমার জন্য যখন কয়েকদিন পর পর একিনের নিজের হাতে বানানো 'একমেক'(একরকম পিঠা) আসতে লাগল আমার জন্য, তখন একটু শংকিত হতে হল। তারপর একদিন সরাসরি বলে বসল। আমি 'পরে দেখা যাবে' টাইপ কথা বলে কাটিয়ে দিলাম।কারণ,আমার আম্মা যদি এরকম মিনিস্কার্ট পরা পুত্রবধু দেখেন, তখন তার মুখের চেহারা কেমন হবে ভাবতেই হাসি পেল। এমনিই উনি ভয়ে আছেন উনার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে।
একিন আমার গ্রুপমেট, একসাথে প্রজেক্টের কাজ করি। ও তুরস্ক থেকে আসার কয়েকদিনের মধ্যে ওর ছেলেবন্ধুর সাথে ওর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। একদিন বাসস্টপে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে ওর দুঃখের কাহিনী শুনিয়েছিল। কিছু বলতে হয় সেজন্যই আমিও ওকে সান্তনা-টান্তনা দিয়েছিলাম।সেটা যে বুমেরাং হয়ে আমার দিকেই ফিরে আসবে কে জানত?আমিতো মহা মুশকিলে পড়লাম। মার্কিন কন্যারা 'জেলাসি' তে বঙ্গকন্যার চেয়েও সরেস।অরেলিয়া জানলে যে ঘাড়ে আমার মাথাটা থাকবে না, বলাই বাহুল্য। এমনিতেই ও একটু অন্যরকম, মার্কিন ছেলেদের ঠিক বিশ্বাস করে না বলেই এই অধমের সাথে তার এত দহরম-মহরম। এখন এসব জানলে ঠিক সীজারের মত বলে উঠবে, "ব্রুটাস, তুমিও.....।" সে আমার সহ্য হবে না।
একদিন 'টাকো বেল' এ খেতে খেতে একিনকে সরাসরি সব বললাম।ফলাফল, আধখাওয়া 'বুরিটো' ফেলে একিনের সবেগে প্রস্হান।আমার একমেক খাওয়া চিরতরে বন্ধ হল। অবশ্য পরে এক মহানুভব গ্রীক ছেলের কল্যাণে (আলেকজান্ডারের জাতভাই কিনা!!) আমি এই বিব্রতকর পরিস্হিতি থেকে রক্ষা পেলাম।সে ফ্রাইডে নাইটে একিনকে দেখে এতই মুগ্ধ হল, শনিবার বিকালে দেখলাম দুজনে টকটকে লাল শেভী কর্ভেটে করে ডিনার খেতে যাচ্ছে। আমি মনে মনে বললাম,'আলহামদুলিল্লাহ'।
অবশ্য অরেলিয়ার সাথে আমার সেমি-রোমান্টিক এই বন্ধুত্ব বেশীদিন আর রোমান্টিকতায় ঢাকা থাকে নি। ও পড়ত পলিটিক্যাল সায়েন্সে, আর আমি প্রকৌশলে।কাজেই, ঘন ঘন দেখা করাও সম্ভব ছিল না। আর আমেরিকানদের তো জানেনই, সর্বদা নতুনত্ব পিয়াসী। কাজেই আমি ব্যাক টু দি প্যাভিলিয়ন।যদিও বন্ধুত্বটা টিকে গেল।
টেক্সাস ছেড়ে এসেছি বেশ কিছুদিন হয়ে গেল। এখনও আমার বন্ধু অরেলিয়া, একিন আর এনটেকেকে খুব মিস করি। অরেলিয়া শেষপর্যন্ত বিয়ে করেছে এক সুইসকে, একিনের মাস্টারস শেষের পথে আর এনটেকে গ্রাজুয়েশন করবে এই ডিসেম্বরে।আর আমি? নতুন রাজ্যে, নাম-না-জানা ইশকুলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নিবিড় বলেছেন:
ভালো লিখেছেন ....।প্লাস দিলাম .....আমি ও আমার বন্ধুরা আপনার লেখা পড়লাম...আমরাও টেক্সাস থাকি ..আজকে ঈদ..।আপনাকে ঈদ মোবারক
লেখক বলেছেন: আমার ঈদ কালকে। আপনাদেরও ঈদ মোবারক।
কঁাকন বলেছেন:
খোঁচা খুঁচিটা বাদ দেয়া যায় না
লেখক বলেছেন: লেখাটা আমার প্রিয়।কারো শত্রুতার জন্য কেন লেখাটা আমার ব্লগে থাকবে না, বলতে পারেন?তাই পোস্ট করলাম।থাকুক আমার অন্য লেখাগুলোর সাথে।
কঁাকন বলেছেন:
শিরোনাম এডিট করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনার মতকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে......
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
হুমম...পড়লাম। বিশাল অভিজ্ঞতা...আমেরিকা যাইবার মন চায়
লেখক বলেছেন: আমেরিকা পচা দেশ, এসে কি করবেন?
রাস্তার ছেলে বলেছেন:
@ব্রাদার কঁাকন, সেই 'অনিন্দিতা ০১' কিন্তু এখনও নিজের পরিচয়টা কাউকে দেয়নি! বলেছে কোন একভাবে সে সৈকতকে চেনে। তার উদ্দেশ্য মহৎ(!) হলে পরিচয় দেয় না কেন? আর আমাদের 'চেনা সৈকত'ও কিন্তু এই পোস্টটা মুছে আসলেই নিজেকে প্রশ্নবীদ্ধ করেছিল! সুতরাং এই পোস্টটা তাকে দিতেই হত! কাজেই ধন্যবাদ তার প্রাপ্য।এবার অনিন্দিতার অপেক্ষায় থাকলাম।
লেখক বলেছেন: অনিন্দিতা তো জাপানে। সাপ-ব্যাঙ খাচ্ছে।
দেশী ক্যাঙ্গারু বলেছেন:
এক নিঃশ্বাসে পুরোটা পড়লাম। নিয়মিত ঢু মারতে হবে এখন থেকে।
লেখক বলেছেন: কি করে পড়লেন এক নিঃশ্বাসে?
নুশেরা বলেছেন:
ভালই তো চান্সমতো পিঠাপুলি খেয়ে বেড়ালেন দেখি অচেনা সৈকত, দারুণ লেখেন আপনি, আর কতোবার এই কথাটা বলতে হবে?!?!?
লেখক বলেছেন: একমেক খেতে বেশী ভাল না। না পিঠা, না কেক। যদি আপনার মত লিখতে পারতাম তবে হত একটা কাজ।
বহ্নিশিখা বলেছেন:
যত বড় গল্প লিখেছেন আপনি!!!খুব সুন্দর হয়েছে।

















