আইডিয়ালে পড়ার সময় বিখ্যাত দেলোয়ার স্যার তার প্রথম ক্লাশে আমাদেরকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাসনের কথা বলেছিলেন।আমাদের বুঝিয়েছিলেন এত ছাত্র পাশ করে বের হবে এইচ.এস.সির পর,সবাই কি পারবে ভালো কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে।নটরডেমে ভর্তি হওয়ার পর আরেক বিখ্যাত স্যার জহরলাল সরকার প্রায় এমন কথাই বলেছিলেন।তাই এইচ.এস.সির পর খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।এ বিষয়ে আমার আগের লিখায় বলেছিলাম।এতজনের এত পরামর্শের পরও কেন যেন ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়তে ইচ্ছা করতোনা।বুয়েটে ভয়াবহ খারাপ ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে যখন টিকলাম না,তখন আমার ভুল বুঝতে পারলাম।এরপর খুলনা,রাজশাহী বি.আই.টি তে পরীক্ষা দিতে ঢাকার বাহিরে বাহিরে গিয়েছিলাম।কোথায় পড়বো,কই পড়লে ভালো হয়,এই সেই চিন্তা আর ভালো লাগতোনা।কি নিদারুণ যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা হয়েছিলো তা বলে বুঝানো যাবেনা!সঙ্গে ছিল আমার আরেক বন্ধু।তারও একই রকম অবস্থা।আমরা দুজন একসাথে সব জায়গায় পরীক্ষা দেয়া শুরু করি।সব জায়গায় একসাথে চান্সও পেলাম।অবশেষে সে ঢাকা মেডিকেলে আর আমি এম.আই.এস.টিতে ভর্তি হই।
এখনো মনে পড়ে খুলনা বি.আই.টিতে পরীক্ষা দেবার আগের দিন ১১ ডিসেম্বর আমার মামাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করি, “"মামা এম.আই.এস.টির ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনছেন?”"।মামা আমার সাথে মজা করে বললেন,আনেন নাই।সত্য বলার আগ পর্যন্ত ভয়াবহ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।এই মামার কৃতজ্ঞতা কখনো বলে বুঝাতে পারবোনা।এম.আই.এস.টি তে ভর্তির সময় যখন সকল ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেয়ার সময় হয় তখন মামা তার কাজকর্ম রেখে আমার সাথে খুয়েটে যান ভর্তি বাতিল করে সব কাগজপত্র ফেরত আনতে।আজ আমার এই পোস্ট লিখার আগে উনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।উনি না থাকলে হয়তো আমার এম.আই.এস.টিতে পড়া হতোনা।
শুরু হয় আমার ভার্সিটি জীবন।প্রথম যেদিন ক্লাশ করতে যাই আমি আর আমার কিছু বন্ধু মিলে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখি।রাস্তার মাঝে সারিবাধা গাছ,সবুজ ঘাসে ঢাকা ক্যাম্পাস ফিল্ডে আমরা হাটি আর ভাবি কেমন কাটবে আমাদের চার বছর এখানে?তবে সবুজ ক্যাম্পাস দেখে যতটা আনন্দ পেয়েছিলাম ততটাই দুঃখ পেলাম যখন আমাদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাশ শুরু হয়।শ্রদ্ধেয় ডঃ হায়দার স্যার যিনি বর্তমানে বিমান বাহিনীতে কর্মরত আছেন উনি আমাদেরকে একগাদা নিয়মকানুন বলতে থাকেন,এটা করা যাবে তো এটা যাবেনা।অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু দেখলে বাহির করে দেয়া হবে।হায়! কপাল,এখনো ঢুকতেই পারলাম না,অথচ বাহির হওয়ার কথা শুনতে পেলাম।সেলুকাস!
তারপর ক্লাশ,সেশনাল,রিপোর্ট লিখা এইসব আজেবাজে ঝামেলা।তিন সপ্তাহ যেতে না যেতেই ক্লাশ টেস্ট।আমার জীবনের প্রথম ক্লাশ টেস্ট দিয়েছিলাম সার্কিটে।স্যার সবার রোল ডেকে মার্ক বলে দিচ্ছিলেন।আমি পেয়েছিলাম ২০ এ ২।আহ! কি লজ্জা।শুরুতেই ফেল মেরে বড়ই আনন্দ পেয়েছিলাম।প্রথম বছর কিচ্ছু পড়াশোনা করিনাই।আমাদের মিলিটারী স্যার যারা আছেন তারা পরীক্ষায় নম্বর দেয়ার ব্যাপারে অনেকটা আইডিয়াল স্কুলের স্যারদের মত।আইডিয়ালে যারা পড়েছেন তারা ব্যাপারটা বুঝবেন।আমি শুনেছিলাম ভার্সিটি লেভেল এ নাকি পার্শিয়াল মার্কিং বলে একটা কথা আছে,এই জিনিসটা আমি চার বছরে উনাদের থেকে বুঝিনাই।একজন স্বনামধন্য(!?!) শিক্ষক একটা ম্যাথ কোর্সে খাতায় কাটাকাটি করার জন্য নাম্বার কম দিতেন।ধন্য আমি ধন্য এমন শিক্ষক পেয়ে।
যাই হোক প্রথম বছর শেষে ডিসেম্বরের দিকে যখন ভার্সিটিতে যাই খবর নিতে,কবে কি ক্লাস তখন আমাদের কোর্স এডভাইজার হায়দার স্যার আমাকে তার রুমে ডাকলেন।আমি উনাকে খুব ভয় পেতাম,শুধু আমি না সব ছাত্রই আসলে উনাকে কেন যেন খুব ভয় পেতো।স্যার জানতেন আমার লেভেল ১ এর ফলাফল খুবই খারাপ অবস্থা।তাই ডেকেছিলেন ঝাড়ি দিতে।আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন এমন খারাপ হচ্ছে।আমি স্যারকে বললাম, "স্যার আমার কলেজের বন্ধুরা বেশিরভাগ বুয়েটে পড়ে,ওরা অনেক ভাল পড়াশোনা করে,অনেক সুবিধা পায়।একারণে স্যার একটু মন খারাপ লাগে,পড়াশোনা ভালো লাগেনা”"।আমি জানিনা স্যারকে কিভাবে এমন কথা বলেছিলাম।কথাটা খুব সত্য ছিলো।এক সাথে যেই বন্ধুরা যাতায়াত করতাম,আড্ডা দিতাম,এক রকম ফলাফল,কেউ আমার থেকেও খারাপ ফল নিয়ে পাশ করে আমার থেকে ভালো জায়গায় পড়ছে এসব দেখে তখন মন খারাপ লাগতো।কিন্তু আমার তখন এটা মনে হয়নি যে দোষটাতো আমার।ওরা চান্স পেতে পরিশ্রম করেছিলো,কিন্তু আমি চান্স না পাওয়ার পর পরিশ্রম করি।যাই হোক,হায়দার স্যার তখন আমাকে কিছু কথা বললেন যা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।স্যার খুব সুন্দর ভাবে বললেন, “"দেখ আমি তো নিজেও বুয়েট থেকে পাশ করছি।কোথায় কেমন জানি।তুমি যেখানে পড়ছো এটা নতুন,কিন্তু তোমাকে তো কোন সুবিধা সেখান থেকে কম দেয়া হচ্ছেনা।পড়াশোনা তো তোমার কাছে।ভাল ফল করো,আমি তোমাকে বাহিরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের জন্য রিকমেন্ড করবো”"।স্যারের সেই কথাগুলো আমার জন্য ম্যাজিকের মত কাজ করলো।আমি ভাবলাম,যেখানে আছি সেখানে থেকেই পড়াশোনা করতে হবে।আমি তো এখন প্রাইভেটগুলাতেও থাকতে পারতাম।তখন কি হত?
এরপর আস্তে আস্তে আমার দিন কেটে যায়।এম.আই.এস.টির কঠিন নিয়মকানুনের মধ্যে কঠিন পড়াশোনা করে পাশ করে আজকাল মনে হয় আমি বেশ রোবট হয়ে গেছি।এমন মনে হবার কারণও আছে।আমার চার বছরের প্রকৌশল শিক্ষা জীবনে একটা ব্যবহারিকের জন্য বুয়েটে যেতে হতো।symbase,symflow নামে কিছু সফটয়্যার আছে যা বাংলাদেশে পাঁচটি কম্পিউটারে আছে এবং তা বুয়েটে অবস্থিত।কিংবদন্তি শিক্ষক মোহাম্মদ আলী স্যারের কল্যাণে যা সম্ভব হয়েছিলো।যতদূর মনে পড়ে উনি একটি ফরেন কোম্পানীর কোন একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান করে দিয়েছিলেন।উনাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় এর জন্য উনি কি দাবী করেন,তখন উনি বলেছিনে এই ল্যাবটা করে দেয়ার জন্য।আমি জানিনা এমন মহামানব এই দেশে কয়জন এসেছিলেন।আমি 4-2 তে থাকার সময় একটা power এর কোর্স করেছিলাম যা নিতেন উনার এক প্রাক্তন ছাত্র আমাদের মইন স্যার।স্যার একদিন ক্লাশে এসে আমাদেরকে অনেকগুলা ফটোকপি দিয়ে বললেন, “"এখানে যে লেখাগুলো দেখছো এগুলা মোহাম্মদ আলী স্যারের এম.এস.সির ক্লাসনোট।উনার মত প্রবাদপুরুষ কখনো আসেনি,হয়তো আসবেওনা।এগুলা পড়ো,কিছু শিখবা জীবনে"”।যাই হোক, বুয়েটে যখন Power System এর ল্যাবটি করতে যেতাম তখন আমার স্কুল কলেজের বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা হত।ওদের দেখে মনে হত,একেই তো বলে সজীব তারুন্য।কি মজায় না লাইফ কাটাচ্ছে।নিজেকে তাই রোবট রোবট লাগতো।
এখন হলজীবনের কথা কিছু বলি।আমি যদিও হলে কখনোই থাকিনি,কিন্তু ক্লাস শেষে টিটি খেলতে,ডিভিডি সংগ্রহ করতে অনেক সময় হলে কেটে যেতো।হলজীবনটা খুবই অসাধারণ ছিলো যারা হলে থাকতো তাদের জন্য।নিয়মকানুনের বালাই ছিলোনা,যে যা ইচ্ছা করতে পারতো।ক্লাস অনেক দেরি করে শেষ হলে টানা ক্লাসের ধকল সামলিয়ে আমার বাসায় যাওয়ার মত আর শক্তি থাকতোনা।হলে যেয়ে খাওয়াদাওয়া করে হয়তো মুভি নাহলে বন্ধুরা মিলে টিটি খেলা শুরু করে দিতাম।যারা হলে থাকতো তারা রাত্রে বেলায় হলের মাঠে শর্ট পিচ ক্রিকেট টুনার্মেন্ট চালু করেছিলো।আফসোস! আমি হলে ছিলামনা।ওসমানী হল ছিলো আমাদের সবার সকল বিদ্যাভান্ডারের উৎস।অন্য পাবলিকের হলের কথা জানিনা,কিন্তু আমাদের হলের পোলাপাইন বাসায় থাকা পোলাপাইনের থেকে অনেক বেশি পড়াশোনা করতো।তাই আমার মত দুর্বল ছাত্রদের জন্য হল ছিলো ক্লাসটেস্টের আগের দিনের সুষম আশ্রয়স্থল।
বাংলাদেশের খেলা হলে কেউ যদি সত্যিকার মজা পেতে চায় তাহলে অবশ্যি তাকে হলে আসতে হবে।পুরা খেলা জুড়ে অকথ্য গালাগাল,চিৎকার চেচামেচি,হইহই রব....আর বাংলাদেশ জিতলে তো মিছিল......কি চমৎকার না ছিলো দিনগুলো!
পুরো এম.আই.এস.টি জীবনে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিলো একটা সেতু।কেন তা বলছি।আমাদের ক্যাম্পাসের থেকে একটু বাহিরে গেলেই স্টাফ কলেজ পড়ে।তার বিপরীত পাশেই ছিলো খুব চমৎকার একটা লেকের মত জায়গা।লেকের পরিষ্কার পানির উপর রংধনুর মত বাঁকানো একটি সরু সেতু ছিলো।আমি প্রায় সময় ভাবতাম,ক্লাস শেষ হলে সেতুর উপর হেটে আসবো।কিন্তু সবসময় এতোটাই ক্লান্ত থাকতাম যে কখনো যাওয়া পড়েনি।আমাদের ক্যাম্পাস থেকে আরেকটু সামনে গেলেই পাওয়া যেত National Defence College.সেখানে দেখতাম বিভিন্ন দেশের সেনারা ট্রেনিং নিতে আসছে।একদিন এক নাইজেরিয়ান নেভি অফিসারের সাথে কথা হয়।জানলাম উনার ছোট্ট একটি মেয়ে আছে আর তার প্রিয় সংগীত উনার দেশের জাতীয় সংগীত।আমাকে বলেছিলো উনার রুমে যেয়ে গল্প করতে,এটা তার ভালো লাগবে।পরে কাজের চাপে আর যাওয়া হয়নি।সেই অফিসারের কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ে।কতটা সাদাসিদে একজন মানুষ, কিছু ব্যাপার ভেবে মিলাতে পারিনাই।আমাদের দেশের উনার সমপর্যায়ের কারো সাথে এদের চরিত্রগত পরিবর্তন চোখে পড়ার মত।
আমার এখনো মনে পড়ে ক্লাস ব্রেকে ক্যান্টিনে যাওয়ার রাস্তার কথা।সরু রাস্তা ধরে আমরা কয়েকজন হেটে যেতাম আর গল্প করতাম, পাশ করে কি হবে,কোথায় যাবো।আমাদের ক্যান্টিন ছিলো দুটো।একটা ডমিনাসের ক্যান্টিন,আরেকটি নরমাল ক্যান্টিন।আমি মূলতঃ নরমাল ক্যান্টিনেই যেতাম।সামান্য ওইটুকু খাবার সময়ে আমরা রাজনীতি,ক্লাসনীতির ঝড় বইয়ে দিতাম।মুঠোয় ভরা সিঙ্গারা,ঝাল(!)জিলাপী আর চা খেতে খেতে আলাপ করতাম দেশ কোথায় এগিয়ে যাচ্ছে।কখনো আবার প্লানিং করতাম eece day,ডিপার্টমেন্টের ম্যাগাজিন পত্রিকা নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায়।আবার কিছু আতেঁল বই নিয়ে পড়াশোনার গল্প করতো।সব মিলিয়ে জমজমাট আড্ডা।এম.আই.এস.টিতে পড়ার সময় মনে হত একবার পাশ করে বের হলে জীবনেও আর চেহারা দেখবোনা।মনে হত কবে এই কারাগার থেকে মুক্তি পাব।এখন মনে হয় জীবনটা তখন কি অনেক খারাপ ছিলো??
২০০৭ সালে এম.আই.এস.টি থেকে আমাদের ইলেকশন কমিশনে ভোটার লিস্টে কাজে সহায়তার জন্য পাঠানো হয়।সেটা ছিলো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।পাশ করার আগেই অফিসার স্কেলে বেতন পেয়েছিলাম।খাওয়া দাওয়া,ট্রান্সপোর্ট ফ্রি।তবে এটা বড় ব্যাপার ছিলোনা।আমাদের ভিসি স্যার একদিন আমাদের সবাইকে ডেকে বলেছিলেন,"তোমরা তরুণ ছেলেমেয়ে,তোমাদের এখন বয়স দেশের জন্য কিছু করা।তোমরা এই কাজে গেলে কি পাবে জানিনা!হয়তো অনেক পরিশ্রম করতে হবে,রাতজেগে কাজ করতে হবে,কিন্তু দেশের উপকার হবে।তোমাদের থেকে আমি অনেক আশা করি।আশা করি যেখানে পড়ছো তার সম্মান বজায় রাখবে"।যারা এসব বলার আগে কাজ করতে গাইগুই করছিলো তারা সবাই আটঘাট বেধে কাজে লেগে গেলো।স্যার যে বলেছিলেন পরিশ্রমের কথা সেটা কাজ করে আমরা হাড়ে মাংসে বুঝতে পেরেছিলাম।প্রথম দিন মানে ডিসেম্বরের ১ তারিখ আমি সকাল আটটায় আমার সেন্টারে যাই আর ফেরত আসি তার পরের দিন বিকাল চারটায়।এর মাঝে অবশ্যই আমার ঘুমের জন্য কোন সময় বরাদ্দ ছিলোনা।
আমার কাজ ছিলো আমার টীমকে লীড করা,সেন্টারগুলোতে কাজ ঠিকমত হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা।এডমিনিস্ট্রেটিভ কাজ,অনেককে ঝাড়ি দিতে হত।আমার টীমের অপারেটর যারা ছিলেন তাদের সবাই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।খুব বেশি কখনো গাইড করতে হয়নি।কিন্তু আইডি কার্ডের ছবি তুলার ব্যাপারে অনেক ঝামেলা হয়েছিলো।সবারই ভুল হত,আমি বারবার বুঝাতাম কিভাবে কাজ করতে হবে।মাঝে মাঝে মেজাজ গরম হয়ে যেত,বকা ঝকাও করেছি অনেক।কিন্তু আমি খুব সন্তুষ্ট ছিলাম ওদের কাজ দেখে।সরকারী কাজে নাকি অনেক গাফিলতি,ফাকিবাজী হয়।এই জিনিসটা ওদের থেকে পাইনাই।আমার ২ মাসের কর্মজীবনে দু একদিন ছাড়া কখনো এমন পাইনি যখন আমার কোন অপারেটর অনুপস্থিত ছিলো।সরকারী পর্যায়ের অনেক লোকের সাথে তখন দেখা হয়েছিলো এবং পুলিশ গোষ্ঠির সাথে বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে।এদের ডিউটি থাকতো সকাল ৮টার দিকে।অথচ এরা আসতো সকাল ১০-১১টা।একদিন এক মহিলা পুলিশকে বেশ ঝাড়ি দিয়েছিলাম।আমি তাকে জিজ্ঞেস করি সে ২ ঘন্টা দেরী করলো কেন।উত্তরে সে বললো, বাসা থেকে আসতে নাকি দেরী হয়ে যায়।রাস্তায় জাম(traffic jam) থাকে।তিক্ত কথা বাদ দেই।কমিশনার থেকে শুরু করে পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত সবাই কতটা দুর্নীতিবাজ হতে পারে তার অসাধারণ অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিলো।উল্লেখ্য ডিপজলের ওয়ার্ডেও আমার দায়িত্ব ছিলো।তখন সে পলাতক।আর তার বদলে তখন আমাকে ও নির্বাচনী কর্মে সহযোগিতা করছিলো যিনি তিনি ছিলেন কয়েকটি মামলার আসামী(একটি খুনের মামলাও ছিলো বোধ করি)।
শেষ বছরে থিসিস নামে একটি মহা যন্ত্রণা কাধে এসে পড়ে।সুপারভাইজর ছিলেন শ্রদ্ধেয় ডঃ কামরুল আহসান স্যার।আমি সত্যি ভাগ্যবান উনার মত অসাধারণ একজন শিক্ষকের অধীনে থিসিস করেছিলাম বলে।থিসিস ছিলো load forecasting নিয়ে।সমস্যা ছিলো স্যার আমাদেরকে একেবারে সময় দিতে পারতেন না।বুয়েটে স্যারের সাথে দেখা করতে গেলে হয়তো আধ ঘন্টা কথা বলা যেত।উনি আসলে অনেক ব্যস্ত মানুষ ছিলেন,কখনো স্যারকে দেখিনাই চুপ করে বসে থাকতে।আমরা যখন কিছু বানাতাম স্যার কখনো সেটা নিজের চোখে না দেখে বিশ্বাস করতেন না।স্যার নিজে implement করে দেখতেন সব কিছু,পড়ে আমাদেরকে অন্য কাজ দিতেন।আমার মনে পড়ে আমি আর আমার আরেক বন্ধু মিলে যেদিন Thermo Sensor বানিয়ে দেখলাম কাজ করছে তখন বিশাল আনন্দে হলে বন্ধুর রুমে দুইজন মিলে নাচানাচি করেছিলাম।জীবন প্রথম কিছু বানানোর অভিজ্ঞতা যে কি অসাধারণ সেটা যে না করেছে তাকে বুঝিয়ে বলা যাবেনা।
আজ আর লিখবোনা,ছোট্ট একটা গল্প বলে শেষ করবো।বুয়েটে একদিন থিসিস স্যারের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।তখন হঠাৎ খেয়াল করে দেখি আলাভোলা স্যার ডঃ নেওয়াজ একটি বাইসাইকেলে চেপে গেট দিয়ে বের হয়ে গেলেন।স্যার আমাদের দুটো কোর্স করিয়েছিলেন।পরে শুনলাম এটাই নাকি স্যারের একমাত্র বাহন।শুনে আমি অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে ভাবি,স্যারের মত মানুষ যিনি স্টেট থেকে ডক্টরেট করে এসেছেন,কতটা অনাড়ম্বর তার জীবন।আমাদের দেশের জন্য এমন মানুষ খুব বেশী দরকার।উনাদের জন্যই বোধহয় ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছিলেন, “"দশটা বিখ্যাত মানুষের দরকার নেই,দশটা খাঁটি মানুষ দরকার।”"
[আমার লিখায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখিত।আমি লেখক নই তাই গুছিয়ে লিখার অভ্যাস নাই।কেউ কষ্ট করে পড়ে থাকলে তাকে ধন্যবাদ।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



