আমার প্রিয় পোস্ট
- টাইম সাময়িকীর চোখে ২০১১ সালের সেরা দশ চলচ্চিত্র - কাঊসার রুশো
- বাংলাদেশে কোন ক্যামেরা কোথায় পাবেন এবং ক্যামেরা নিয়ে সকল ধরনের পরামর্শ - ফটো পাগল
- স্টিভেন পল জবস্ : বিশ্ব প্রযুক্তির এ মহানায়কের প্রতি সামহোয়্যার পরিবারের শ্রদ্ধার্ঘ : বিদায় বন্ধু... যেখানেই থাকো, ভালো থেকো... - আমিই রাকিব
- বুফে : ঢাকায় বুফের হালচাল এবং আমার অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার বিখ্যাত বুফে রেস্টুরেন্ট(বিস্তারিত) - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে কিছু তথ্য - কুটিমুটি
- যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে হলে... - জাহের ওয়াসিম
- " ঢাকার এবং ঢাকার বাইরের অনেক মজাদার খাবারের নাম ও লোকেশন (বাংলার মিনি ফুড ডিকশনারী) " - নাফিজ মুনতাসির
- “ঢাকার মজার কিছু খাবার দোকান এবং ঠিকানা” - নাফিজ মুনতাসির
- সামহয়ারইন ব্লগ সংকলনঃ টপ টেকি পোষ্ট!!
- ইসানুর
- ভিডিও ডাউনলোড করার ৫টি জনপ্রিয় ওয়েবটুলস, সম্পূর্ন ফ্রী… - তারেকবিডি
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- মানুষ - ফারহান দাউদ
- ১০ বিষয়ে সেরা ১০ ছবির তালিকা: মুভি প্রেমিকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য - শওকত হোসেন মাসুম
- নটরডেমিয়ানস ঃঃ ডাক দিয়েছে ফাদার পিশোতো - হযবরল
- আজ F-1 ভিসার কনফারমেশন পেলাম..... - ফাজিল
- জ়িম্যাট বই পত্তরের লিঙ্ক - ফিফথ্নিক
- মেমোরি প্রশিক্ষন - কিভাবে সব কিছু মনে রাখবেন - শ্রাবনের ফুল
- অদ্ভুতুড়ে: ব্ল্যাক ম্যাজিক - সব্যসাচী প্রসূন
- CCNA সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা - মাহমুদ সিএসই
- যারা আইবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য উপদেশনামা!! - নরাধম
- পছন্দের মুভির তালিকা
- বিডি আইডল
- আমার দেখা সেরা ১০ ছবি - শওকত হোসেন মাসুম
- আসুন নিজের ঘরের জন্য একটা ছোট আইপিএস বানাই (টেকিদের জন্য) - রাব্বি !
- আসুন আমরা Rapidshare থেকে Resume Support সহ Super Speed এ File Download করি... - অতিথি_পথিক_মানুষ
- তিনদিনে পিএইচপি শিখুন (১ম দিন) - মদন
- আমার প্রিয় পোস্টগুলো - বিবর্তনবাদী
- প্রিয় মুভির লিষ্ট - শূন্য আরণ্যক
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ই-লাইব্রেরি - ০০৭৭৭৭৭
- ই-বুক কালেকশনঃ পর্ব-৩ - বিডি আইডল
- যে বইগুলো পড়া দরকার ......সংশোধিত ও পরিবর্ধিত - সপ্নীল
- মুভি: সবার সেরা দশ ছবি দেখে নিন - শওকত হোসেন মাসুম
- সেরা ১০ চলচ্চিত্র: পরিচালকদের পছন্দ - শওকত হোসেন মাসুম
- অল্টারনেটিভ মুভি চয়েজ:: ৫ টি মাস্ট ওয়াচ নন-হলিউড মুভি - মেহরাব শাহরিয়ার
- জনপ্রিয় কিছু ওয়েব সাইট এর ঠিকানা.......... - গিফার
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
একটি ভ্রুনহত্যার গল্প এবং আমার নিজের প্রতি ঘৃণাবোধ...(কাল রাতে করা এই পোস্টটি সামুর বাগে খেয়ে ফেলায় আবার রিপোস্ট করতে হলো)
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২২
আমি আজকাল প্রায় সকালেই দেরী করে ঘুম থেকে উঠি।আজও দিবানিদ্রাতেই থাকার প্রাণপন প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলাম।কিন্তু ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো নোকিয়া ফোনের কড়কড় রিংটোনে।সাধারণত এরকম ক্ষেত্রে আমি ঘুমের ভান করে পরে থাকি।কিন্তু আজকের ঘটনা ভিন্ন।কারণ ফোনটা করেছে মুনিয়া খালা।আমাকে যদি আমার দেখা পৃথিবীর দশজন ভালো মানুষের তালিকা করতে বলা হয় তাহলে আমি উনাকে এই তালিকাতে রাখতে পারবোনা।আমার কাছে উনি কারো সাথেই তুলনীয় নন।খালা আমাকে এতটাই ভালোবাসেন যে আম্মা মাঝে মাঝে উনাকে বলেন,"মুনিয়া আমার ছেলেরে তুই নিয়ে যা,তোকে আমি দিয়ে দিলাম।" মজার ব্যাপার হলো উনি আমার আপন খালা না।বিভিন্ন লতায়-পাতায় পেঁচানো খালা।প্রকৃতির কি অদ্ভুত লীলা যার মনটা এত মায়া দিয়ে গাঁথা,তাকেই খোদা কখনো নিজের সন্তানের মা ডাক শুনতে দেননি।খালার প্রথম সন্তান মারা যাওয়ার পর কি কারণে যেন উনি আর কখনোই মা হতে পারেননি।খালার সেই সন্তানটি ছিলো ছেলে,যে পৃথিবীতে আসার পূর্বে নাম প্রাপ্ত হয়েছিলো অর্ক।এর কিছুদিন পর আমার জন্ম হলে এই খালাই আমাকে তার সন্তানের জন্য রাখা নামটি দেন।শুনেছি জন্মের পর মুনিয়া খালা আমাকে নিয়ে যান কিনা এটা ভেবে আম্মা বেশ ভয়ে ছিলেন।হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে আমার মাঝে খুঁজে পান বলেই প্রতিবার বাসা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন,"আব্বা গেলাম,তুমি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া কইরো।পড়াশোনা বাদ।"
আসল কথায় ফিরে আসি।আমি খালার ফোন ধরে সালাম দিতেই খালা কান্না কান্না কন্ঠে আমাকে অনেকগুলো কথা একসাথে বলতে লাগলেন।অস্পষ্টভাবে যা বললেন তাতে আমি যা বুঝলাম তা হলো,রিমি হাসপাতালে।আজকে ওর abortion করা হয়েছে।সমস্যা হয়েছে ওর জ্ঞান এখনো ফেরেনি।
রিমির পরিচয় দেয়া দরকার।রিমি আমার খালার পালিত কন্যা।ওকে দত্তক নেয়ার ঘটনাটা খুবই বিচিত্র।খালার সন্তান মারা যাওয়ার পর খালা একটু কেমন যেন হয়ে গিয়েছিলেন।তখন ঘরের কাজের জন্য একজন বুয়া রাখা হয়।বুয়ার মাসখানেক আগে একটা মেয়ে হয়েছিলো।খালা বুয়ার বাচ্চাকে নিজের খাটে শুইয়ে ঘুম পাড়াতেন,কোলে নিয়ে রাখতেন,এমনকি খাইয়েও দিতেন।খালু এই ব্যাপার নিয়ে মহা পেরেশান ছিলেন।আমার আম্মাকে প্রায় বলতেন "আপা বুয়ার বাচ্চার জন্য আমি আজকাল ঘুমাইতে পারিনা,আমাকে আপনার বোন সোফায় ঘুমাইতে বলে নিজে বাচ্চারে আমাদের খাটে রেখে দেয়।বলেনতো এইটা কিছু হইলো?"।
দুঃখজনকভাবে বুয়া কাজ করার দুইমাস পরে তার শরীরে লিউকিমিয়া ধরা পড়ে।খালা শুধু বুয়ার কন্যাসন্তানটির জন্য হলেও বুয়ার অনেক চিকিৎসা করিয়েছিলেন।কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। মৃত্যুর কয়েকঘন্টা আগে হঠাৎ করে বুয়া খুব হাসতে শুরু করে।একসময় খালার হাত ধরে বলে,"আপনে কিন্তু ওর মা আছেন,আপনারে কীরা দিয়া গেলাম"। আমার মমতাময়ী খালা এভাবেই রিমিকে পান। রিমি আর আমার বয়স প্রায় সমান।খুব বেশি হলে বছরখানেক ছোট হবে।ওর আপন মা মারা যাওয়ার পর খালা কখনো ওকে এতটুকু কষ্ট দিয়ে মানুষ করেননি।আমরা এবং খালার আত্নীয়স্বজনদেরকে খালা প্রথমেই বলে দিয়েছিলেন,উনাকে যদি কেউ আপন মনে করে তাহলে এই বাচ্চাকেও আপন ভেবে নিতে হবে।একবার আমার এক মামা কিছু একটা বলেছিলেন,মুনিয়া খালা চোখের পানি নাকের পানি এক করে তাকে ত্যাজ্য করেন।ওই মামা পরে রিমির জন্য ১০ কেজি চমচম কিনে খালার বাসায় রওনা হোন।খালা তো তার দরজা খুলেননা কোনভাবেই।পরে খালুজান অনেক কষ্টে খালাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মামার সাথে ভাব করায় দেন।খালা শর্ত দিছিলেন,মামা যেন তার বাসায় কখনো মিষ্টি ছাড়া না আসে।আমরাও মামার বদৌলতে প্রায়ই চমচম খেয়ে তৃপ্তিভরা ঢেঁকুর তুলতাম।উল্লেখ্য রিমির প্রিয় খাবার ছিলো চমচম।
সবই ঠিক ছিলো,শুধু সমস্যা ছিলো খালুজান।খালা মনে করতেন খালুজান রিমিকে আপন মেয়ের মত ভালোবাসেননা।যদিও রিমি কখনো অভিযোগ করেনি,বরং খালুর সাথে দেখতাম তার বেশ ভালোই ভাব।খালু তার এই পালক কন্যাকে কখনো একবারের জন্যও সামান্য ধমক দেয়নি।তবুও খালা রিমিকে নিয়ে খালুজানকে প্রায়ই বকাঝকা করতেন।
সেই রিমির চার মাস আগে আকদ হয়ে গেছে আর আজকে কি ভয়ঙ্কর কথা শুনলাম।আমি খালাকে হাসপাতালের নাম জেনে এখুনি আসছি কথা দিয়ে ফোন রাখলাম।এর এক ঘন্টা পর আমি মনোয়ারা হাসপাতালে রিমির কেবিনের পাশের খোলা বারান্দায় দাঁড়ানো।আমার পাশে রিমির জামাই মুখ কাঁচুমাঁচু করে বসে আছে।আমি তাকে মুখ গম্ভীর করে জিজ্ঞেস করলাম, abortion এর সিদ্ধান্ত কেন নিলো! উনি আমার দিকে অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে বললো, "এখনো তো ঘরে তুলে নেইনি।আম্মা বলছে অনুষ্ঠান করে বউ ঘরে নেবেন।তাই অনুষ্ঠানের আগে বাচ্চা হয়ে গেলে সমস্যা।এইজন্যই আর কি..."।আমি এহেন জবাব শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম।তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেও আর ইচ্ছা হলোনা।খালা আর খালুর পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম। খালা তখন অঝোরে কাঁদছে মেয়ের পাশে বসে।খালু খালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন চুপ করে।আমাকে দেখে খালা কাছে টেনে এনে বসালেন।তারপর কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, "তোমার খালুজানরে জিজ্ঞেস করো সে কেন কিছু করলোনা।এখন আমার সাথে আহলাদ দেখায় বলে মেয়ের কিছু হবেনা।কোনদিন এই লোক মেয়েটাকে নিজের মেয়ে ভাবেনাই।" খালু আস্তে আস্তে মাথা নাড়ায় বলে, "আমি কি করবো?তোমার মেয়ের জামাই এমন সিদ্ধান্ত নিলে ওদের মধ্যে আমি কি কিছু বলার হক রাখি?" খালা এবার রেগে গেলো, "তুমি আমার সামনে থেকে দূর হও।তোমার মুখ দেখাও পাপ"। খালু আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষন,তারপর কেবিনের বাহিরে হাঁটা দিলো।খালা আমাকে এরপর জিজ্ঞেস করলো,নাস্তা করছি নাকি।হালকা পাতলা কথা বললো।
এর একটু পর রিমির প্রথমবারের মত সেদিন জ্ঞান ফিরলো।খালা হন্তদন্ত হয়ে রিমির মাথার কাছে যেয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, "মা এখন কেমন লাগতেছে?ব্যাথা আছে?"। রিমি একটা কেমন অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে খালার দিকে তাকালো।তারপর খেব মৃদু কন্ঠে বললো, "আম্মু ভাইয়াকে অনেকদিন পর দেখলাম।ও তো বোনের কথা একবারও ভাবেনা।" আমি রিমির দিকে হাসি দিয়ে তাকিয়ে বললাম, "সময় পাইনারে।বাসাতেও আজকাল থাকিনা তেমন"। রিমির চোখ দিয়ে দেখলাম টপ টপ করে পানি পড়ছে।আমাকে কান্না কান্না গলায় বললো, "ভাইয়া জানিস ডাক্তার না মানা করছিলো বাচ্চাটাকে না মারতে,আমি সকালে আসলে ডাক্তার আমাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখায় আমার বাচ্চার ছোট্ট মুখখানা,তার হৃদপিন্ডের ধুক ধুক শুনায়।জানিস ভাইয়া অনেক ছোট্ট ছোট্ট হাত ছিলো।এমন কেন হলো রে?আমার বাচ্চাটা কি কোনদিন আমাকে মাফ করবেরে ভাইয়া?আমি অনেক কাঁদছিলাম যেন বাচ্চাটাকে না মারে,কিন্তু আমার কথা কেউ শুনেনাই।ভাইয়া আমার বাচ্চাটা এখন কই আছে বলতো?বেহেশতে না ভাইয়া?"
আমি চোখের পানি ঢাকার জন্য কেবিনের বাহিরে চলে আসি।পিছনে শুনলাম খালা অঝোরে কাঁদছে।বাহিরে এসে শার্টের কোনা দিয়ে চোখ মুছে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম অনেকক্ষণ।একটু স্বাভাবিক হলে পিছন ফিরে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পেলাম।আমার খালুজান হাসপাতালের করিডোরের আরেক পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।আমি উনার কাছে আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম।দেখলাম উনি রিমির আসল বাবা ফরিদ উদ্দিন সাহেবের কাঁধে হাত দিয়ে কান্নাভেজা চোখে এক গাদা কথা বলছেন। "বুঝলা ফরিদ আমার মেয়েটাকে যখন স্কুল থেকে নিয়ে আসতাম তখন প্রায় সে মিস্টির দোকানের দিকে তাকিয়ে থাকতো।প্রতিদিন আমরা মিস্টির দোকানে যেয়ে একসাথে চমচম খেতাম।ওর জন্য প্রতিরাতে চমচম কিনে আনতাম।ওর মা ঘুমায় থাকতো,তখন আমি ওকে কোলে করে নিয়ে বারান্দায় ঘুরতাম আর মিস্টি ভেঙ্গে ভেঙ্গে মুখে দিতাম।ও আমার কোলেই খেতে খেতে ঘুমায় পড়তো।আজকে আমার এই মামুনীটা এভাবে হাসপাতালে শুয়ে আছে আর আমি ওর জন্য কিছু করতে পারছিনা।" ফরিদ সাহেব মাথা নিচু করে খালুজানের পিঠে হাত বুলিয়ে দিইয়ে বললো, "কাইন্দেন না।আমাগো মাইয়ার কিছু হইবোনা।"
আমি এই দুই অশ্রসজল পিতার ভালোবাসার দৃশ্য কিছুক্ষণ দেখলাম।কিছু সময় মানুষ অনুভূতিহীন হয়ে যায়।আমারো ঠিক এই মুহূর্তে এমনটাই মনে হচ্ছিলো।কত কথা মনে পড়ে গেলো।আমার এস.এস.সি,এইচ.এস.সি পরীক্ষার সময় রিমি প্রতিদিন বাসায় এসে এটা-ওটা রান্না করতো।আমাকে বলতো, "আমার ভাইয়া হলো সবসময় ফাস্ট।তাই এখন পরীক্ষার জন্য ওর খাবারও হবে ফাস্টক্লাস।" আমি এসব ভাবতে ভাবতে মনে মনে বললাম , "বোনরে আমি কোনদিন ফাস্ট হইতে পারিনাই।কিন্তু তুই সবসময় বোন হিসেবে আমার কাছে ফাস্ট ছিলি"।
আরেকবার চোখে পানি মুছতে মুছতে খালার চিৎকার শুনতে পারলাম।আমি হুড়মুড় করে কেবিনের দিকে দৌড় দিলাম।দেখি রিমির শরীর কেমন কুঁকড়িয়ে যাচ্ছে।হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।ডাক্তার ডেকে আনা হলো।রিমির জামাই আফসার সাহেব ছুটাছুটি করতে থাকলেন।ডাক্তার সবাইকে রুম থেকে বাহিরে যেতে বললে আমরা কেবিনের বাহিরে জমায়েত হলাম।আমার খালা অঝোর ধারায় তখন কাঁদছে। "আমার মেয়েটার এমন সর্বনাশ হয়ে গেলো আমরা কিচ্ছু করতে পারলাম না।কেমন ছেলের কাছে বিয়ে দিলাম।আজকে বিয়ে বাঁচাতে মেয়েটাকে মনে হয় মেরেই ফেললাম।"...খালার এইসব কথা শুনে রিমির জামাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো।আমি উনাকে যেয়ে দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে লাগলাম, "বউ বলে কি রিমির সাথে যা ইচ্ছা করার অনুমতি পায়া গেছেন।ওরে মানুষ মনে হয়না?নিজের বাচ্চারে এভাবে মারতে ঘৃনা হলোনা?" আমি এই কথা বলে সোজা হাসপাতালের বাহিরে চলে আসলাম।আমার কিচ্ছু তখন ভালো লাগছিলোনা।কি অসহ্য এই মানব জীবন।আমরা মানুষগুলো দিন দিন কেমন যেন অমানুষ হয়ে যাচ্ছি।আজকে রিমির সাথে যা হয়েছে,সামাজিকতার দায়ে না জানি আর কত মেয়ের সাথে এমন হয়ে চলছে প্রতিদিন।
রাত আটটার দিকে রিমির কেবিনে আমরা সবাই।অতিরিক্ত রক্তপাতের জন্য ওর অবস্থা তখন মুমূর্ষ।সেই সময় পান খেতে খেতে আবির্ভাব ঘটে রিমির শ্বাশুরীর।উনি রিমির কপালে হাত দিয়ে বলেন, "এখুন কিমুন আছে মাইয়া?" খালা কটমট চোখে তাকিয়ে বলেন, "আমি যদি আগে জানতাম আপনারা আমার মেয়ের সাথে এই কাজ করবেন তাহলে..." ।রিমির শ্বাশুরী খালার দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে বলেন, "আমি কি জানতাম আপনার বাসায় আমার পোলা যায়া থাকে?আর মাইয়া তো বড় হইছিলো।তার বুদ্ধি থাকলেইতো পোয়াতি হওয়া লাগতোনা।আমার পোলাটাও যে বেকুব এইটাও খাটি সত্য।" রিমির আসল পিতা ফরিদ সাহেব মহিলার দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে বললো, "আমার স্যান্ডেলটা কিন্তু চামড়ার না প্লাস্টিকের।মুখে পড়লে দাগ যাইবোনা।আমি যদি বুজতাম আগে,আমার মাইয়ারে বিয়া বইতে দিতামনা।আপনার পোলারে থুতু দিয়া আসতাম।" রিমির শ্বাশুরী এই কথার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।তিনি সাথে উঠে উঠে দাঁড়িয়ে গজগজ করতে করতে হাঁটা দিলেন।পিছন থেকে তার ছেলে "আম্মা আম্মা" করে নপুংশকের মত হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে গেলো।
রাত্রি নয়টায় রিমির জ্ঞান কিছুটা ফিরে আসে।সে "আব্বু আব্বু" বলে ডাকা শুরু করে।খালুজান রিমির খাটের পাশে বসে শক্ত করে ওর হাত ধরে আছেন যেন কেউ তার মেয়েকে তার থেকে কেঁড়ে নিতে না পারে।রিমি খালুজানের আঙ্গুলগুলো আস্তে আস্তে দুর্বল ভাবে ধরে মৃদু কন্ঠে খালুকে আরো কাছে আসতে বললো।ওর দুর্বল গলার স্বর আমরা ঠিকই শুনতে পাচ্ছিলাম।কেমন যেন তীব্র হয়ে তা কানে বিঁধছে। "আব্বু তুমি যে আমাকে মার থেকে বেশি ভালোবাসো এটা আমি কিন্তু জানি।তোমার মনে আছে আমি যখন ছোট্ট কালে টাইফয়েড জ্বরে অজ্ঞান হয়ে ছিলাম,তখন তুমি সব কাজ রেখে সারাদিন আমাকে কোলে নিয়ে ঘুরেছিলে?যে ভালোবাসা তুমি আর আম্মু আমাকে দিছো আমি হাজার জনমেও এর ঋণ শোধ করতে পারবোনা।আমি মারা গেলে তুমি কিন্তু আম্মুর অনেক খেয়াল নিবা।তুমি আর ভাইয়া ছাড়া আম্মুজানের কেউ নাই।আর আব্বু আমার বাচ্চাটা খুব সুন্দর হইতো জানো।ওর তো বয়স দুই মাস হয়ে গেছিলো।আমার মনে হতো,ও হালকা নড়াচড়াও করতো।আমি ওর সাথে প্রতিদিন রাতে কত কথা বলছি।গতরাতে ও আমাকে স্বপ্নে বলছিলো আম্মু আমার হার্ট ধুকধুক করে।তুমি বেশি নড়াচড়া কইরোনা ঘুমের সময়।"
আমার খালাখালু অসহায় চোখে রিমির পাশে বসে তার কথা শুনছিলো।রিমি শ্বাস টেনে টেনে এতগুলো কথা অনেক কষ্ট করে কিভাবে বললো জানিনা।আমি নিজের চোখের পানি আটাকাতে পারছিলাম না।সবাই রিমিকে বলছিলো ও যেন চুপ করে থাকে।ওর কিচ্ছু হবেনা।কিন্তু আমি জানতাম,অনেক আগেই জানতাম এই নোংরা পৃথিবী ওর জন্য না।
আমার জানাটা মিথ্যা ছিলোনা।রাত তিনটায় রিমি মারা যায়।দিনটি ছিলো ১৯শে অক্টোবর,২০০৮।মারা যাওয়ার আগে সে শেষবার আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলো, "ভাইয়া আমার বাবুর কাছে যাচ্ছিরে"। আমি এখনও রিমিকে অনেক মনে করি।আমার বোনটা কোথায় আছে,কেমন আছে জানিনা।কিন্তু আমি সবসময় প্রার্থনা করি যেন আমার সকল পুণ্য ও আর ওর অনাগত সন্তানটি পায়।ওর স্বামীকে আমরা কখনো ক্ষমা করিনি।অবশ্য সেও রিমিকে কবর দেয়ার পর থেকে কখনো আর আমাদের সামনে মুখ দেখায়নি।শুনেছি ভদ্রলোক(?) এখন সুইডেনে আছে।আরেকটা বিয়ে যে করেছে এটা না বললেও চলে। আর আমার মুনিয়া খালা সারাদিন তার বাসার বারান্দায় বসে থাকেন।কারো সাথে তেমন কথা বলেননা।শুধু আমি বাসায় গেলে আমার হাত ধরে জিজ্ঞেস করেন,"তোরা সব এমন কেন?"।এরপর কান্নাকাটি করেন অনেক, যা আমি সহ্য করতে পারিনা বলে নিজেই দুফোঁটা চোখের জল ফেলে বাসা থেকে বের হয়ে আসি।পিছনে শুনতে পাই আমার খালু গম্ভীর কন্ঠে বলতে থাকেন, "কাইদোনা মুনিয়া।আমার মেয়েটা কষ্ট পাবে"।
[লিখায় বর্ণিত ভ্রুণহত্যার ঘটনাটি কল্পিত নয়।নামগুলো আর কিছু চরিত্র পালটে দিয়েছি।গল্পের রিমি মারা গেলেও বাস্তবের রিমি বেঁচে আছে।কিন্তু যে মানসিক যাতনার সে স্বীকার হয়েছে তাকে বেঁচে থাকা বলে কিনা বলতে পারছিনা।তার গুণধর স্বামীও তাই পার পেয়ে গেছেন এবং আপাতত ইউরোপে যাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছেন।Abortion এর জন্য আমাদের দেশে অনেক মায়ের মৃত্যু ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।আমার জানামতে ব্যাপারটা খুবই কমন।এই লেখাটা সেই মা আর তাদের অনাগত সন্তানের জন্য।আরো বলে নিচ্ছি গল্পতে বর্ণিত অর্ক আমি নই।অর্ক সেই মানুষটি যার থেকে পুরো ব্যাপারটি জানা গেছে।রিমি ও তার অনাগত সন্তানের জন্য সবাই আশা করি একবারের জন্য হলেও প্রার্থনা করবেন।লেখার সময় আমার নিজের প্রতি বেশ ঘৃণাবোধ হয়েছে।কারণ এই নোংরা সমাজের আমিও এক অংশ।] ******************************************************************** সবশেষে আমার কিছু একান্ত দুঃখবোধ ব্লগ সম্পর্কিত।কাল রাতে পোস্টের নিচের অংশে এডিট করতে গিয়ে ফিরে এসে দেখি আমার লিখা গায়েব হয়ে গেছে।এমনকি ড্রাফটেও নেই।আমি ব্লগে সমস্যা অংশে যেয়ে তাদের কাছে মেইল করলাম আমার পোস্টটি ফিরিয়ে আনার।দুপুর ১২টার দিকে তারা আমার পোস্ট ফিরিয়ে দেয় মন্তব্য সহ কিন্তু তা ছিলো সম্পূর্ণ পোস্টের অর্ধেক।বাকি অর্ধেক কোথায় গেল জানিনা।তাই আবার পোস্ট এডিট করতে গেলাম এবং বিরক্তিকর ভাবে আবার পোস্ট উধাও।এ ব্যাপারে তাদের কাছে সমাধান চেয়ে মেইল করলাম,কিন্তু তাজ্জব ব্যাপার তাদের কোন সাড়াশব্দ পেলামনা এই অব্দি।এভাবে এতগুলো মানুষের মন্তব্য এবং আমার লিখাটি উধাও হয়ে গেলো দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়েছি।আমি জানিনা ব্লগের মডারেটররা কেন এই সমস্যাগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখেন।আমি কাল রাতে করা আমার পোস্টটি ব্লগে প্রকাশ করতে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়েছি।পাক্কা দুঘন্টা লেগে গেছে লিখাটি ব্লগে আনতে।আমার জানা মতে বাংলা ব্লগের মধ্যে এই ব্লগের ব্যবহারকারী সর্বাধিক।কিন্তু এই যদি হয় ব্লগের হাল আর মডারেটরদের সেবার হাল,তাহলে আপনার আমার মত ব্লগাররা কেন এই ব্লগে আসবেন আর লিখা দিবেন?
আমি কালকে রাতে যারা পোস্টে মন্তব্য করেছেন তাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখিত।যারা আমাকে দোষারোপ করেছিলেন "অর্ক" মনে করে তাদের জন্য লিখার শেষ অংশে সারকথায় কিছু এডিট করে দিয়েছি।আমার এই পোস্টটি লিখার উদ্দেশ্য ছিলো ভ্রুণহত্যার ব্যাপারটি মানুষের সামনে তুলে আনা।বারবার পোস্ট মুছে যাওয়ায় বিরক্ত হয়েছেন তাদেরকে সামহোয়ার ইন ব্লগের মডারেটরদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করার নিতান্ত কাতর অনুরোধ জানাচ্ছি।ম্যাভেরিক ভাইয়ের ব্লগে গিয়েও একইরকম সমস্যা তার ক্ষেত্রেও হয়েছে বলে শুনেছি।
সবশেষে একটাই প্রশ্ন ব্লগের এহেন বাঘ ভালুক থেকে আমাদের বাঁচার উপায় কি বলতে পারেন?
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধিক!
বিডি আইডল বলেছেন:
আপনি ব্রাউজার কি ব্যবহার করেন?লেখা এডিট করতে চেয়ে (বিশেষ করে বড় লেখা এবং কমেন্ট বেশী থাকলে)...লাইভ এডিট না করাই ভালো...কপি করে ওর্য়াডে বা আরেকটি নতুন পোষ্ট লেখো পেজ খুলে এডিট করা ভালো...
মজিলা ব্যবহার করেন...ইন্টারনেট এক্স: এ সামু ব্লগ নানা রকম সমস্য করে
লেখক বলেছেন: আমি ক্রোম এবং ইন্টারনেট এক্স: ব্যবহার করি।এর আগে কখনো এমন সমস্যায় পড়িনি।আরো দু একজন দেখেছিলাম আমার মতই সমস্যায় পড়েছেন।
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন:
আমার জীবনে এত দীর্ঘ লেখা ব্লাগে পড়ি নাই।কিন্তু এটা পড়লাম।চোখে পানি এল।আপনার বর্ননা অসাধারন।এর জন্য ধন্যবাদ।কিন্তু আমারো বলতে ইচ্ছা করছে আমার টাচ প্যাড টা এখন এক্টিভ আর আমি বর্নান্ধ নই,লাল (-)রঙ দেখতে পাই।!!!!!আরে মিয়া আপনি যেমনে বর্ননা দিতাছিলেন আমি তো ইন্নানিল্লাহো পইড়া ফেলছিলাম!!যাক মনটা খারাপ হইলেও প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: লাল সবুজের জন্য এটি লেখা হয়নাই।একটা জঘন্য ভ্রুণহত্যা হয়েছে,আমি শুধু একটি প্রেক্ষাপট দাড় করিয়েছি ঘটনাকে প্রকাশ করার জন্য।তাই আপনার লাল সবুজ দেখার ক্ষমতা এবং তাতে প্রয়োগে কোন দুঃখ নেই ভাই।
ভালো থাকুন।
আরিফ থেকে আনা বলেছেন:
অনেকদিন পরে হৃদয় ছুয়ে যাওয়া লেখা পড়লাম সামুতে। হতবাক
লেখক বলেছেন: লিখার সময় অনেক কষ্ট হয়েছিলো।
মাহবুবুর রহমান বলেছেন:
আপনার লেখাটা পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।
লেখক বলেছেন: আমি লিখার সময় পারিনি।
কুয়াশায় ডাকা বলেছেন:
হতবাক ... আর কিছুই লিখতে পারলাম না...
লেখক বলেছেন: ঘটনাটা যখন শুনি আমিও হতবাক হয়েই ছিলাম।
বাকেরভাই বলেছেন:
আমার আর কিছুই বলার নেই ।
লেখক বলেছেন: কিইবা থাকে বলার!
আলাউদ্দীন বলেছেন:
চোখের পানি...
লেখক বলেছেন: এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ কিভাবে করা যায় ভাবছি।
আরাফাত রহমান বলেছেন:
পড়তে পড়তে গায়ের লোমগুলো শিহরিত হচ্ছিল।
লেখক বলেছেন: রিমির জন্য খারাপ লেগেছিলো।শুনেছি সে বাচ্চার ছবি আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখে কোনভাবেই Abortion করাতে রাজি হয়নি।
সায়েম খান বলেছেন:
আরে মিয়া আপনি তো আমার কথাই বুঝলেন না!!!!সরি আমি বুঝতে পারিনি!!!!!!যাক ভালো থাকুন
লেখক বলেছেন: হয়তো আজকাল তেমনভাবে কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা।ভালো থাকুন আপনিও।
ইমতিয়াজ জামিল বলেছেন:
এত এত সুন্দর করে লিখেছেন...কি বলবো খুজেই পাচ্ছি না...আর রিমির স্বামী শাশুরিদের কথা বলে ব্লগ নোংরা করতে চাই না...আশা করি লেখাটা পড়ে অনেক এই সম্পর্কে আরও সচেতন হবে ++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
ইমতিয়াজ জামিল বলেছেন:
ধুররররর !!! পড়ার আগে ব্লাগের নামও দেখি নাই....জটিল লেখছো ...অনেক অনেক ভাল হইছে.....আরও আরও ভাল লেখার প্রত্যাশা রইল লেখক বলেছেন: ভাইয়া আপনাকে ধন্যবাদ।আমার জন্য দোয়া করবেন।আপনার সাথে চীন সম্পর্কিত একটি ব্যাপারে কথা বলার দরকার ছিলো।ফেসবুকে আপনাকে ম্যাসেজ লিখবো একটু পর।
ভালো থাকবেন।
নিশ্চুপ নিরবতা বলেছেন:
"আর আব্বু আমার বাচ্চাটা খুব সুন্দর হইতো জানো।ওর তো বয়স দুই মাস হয়ে গেছিলো।আমার মনে হতো,ও হালকা নড়াচড়াও করতো।আমি ওর সাথে প্রতিদিন রাতে কত কথা বলছি।গতরাতে ও আমাকে স্বপ্নে বলছিলো আম্মু আমার হার্ট ধুকধুক করে।তুমি বেশি নড়াচড়া কইরোনা ঘুমের সময়।"চোখে পানি।
আপনাকে ধন্যবাদ এত কষ্ট করে এত বড় লেখা আমাদের উফার দেয়ার জন্য। বড় বড় পোষ্ট দেয়ার সুবাদে আমিও জানি কতটা কষ্ট হয়।
রিমি আপুর আত্মার শান্তির জন্য দোয়া।
সবশেষে: হৃদয় ছোঁয়া। অস্থিরতা বোধ করছি।
লেখক বলেছেন: পুরোপুরি সেই কষ্ট অনুভব করার সামর্থ্য কারো নেই শুধু রিমি ছাড়া।
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
লেখাটা অসাধারন লাগলো। কিছু কিছু জায়গায় হু আ প্রথম গল্পটার ওই মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেল। বাচ্চা এবরশন করার সময় বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মেয়েটা কিছু না বুঝে বলে বাবা, আমার বুকটা খালি খালি লাগছে কেন। অনেক মন খারাপ হয়ে গেল লেখাটা পড়ে। কিছু বলার ভাষা নেই। ভালো লিখেছেন। ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ঘটনাটা শুনতে এবং তা লিখতে আমার বেশ কষ্ট হয়েছিলো।এমন ঘটনা সচরাচর বেশ দেখা যায়।কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার পুরুষালী কাঠামোতে এর প্রতিবাদের কোন অস্ত্র নেই।তাইতো রিমিরা এভাবেই নির্যাতিত হয়।
আপনিও ভালো থাকুন।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
কষ্ট লাগলো!
লেখক বলেছেন: স্বাভাবিক।
ইমতিয়াজ জামিল বলেছেন:
মেসেজ পেলাম..তবে এফ বি তে না..মেইল এ..আমার এফ বি ব্লক////আমার সাথে মেসেন্জারে যোগাযোগ করতে পার..imtiaznavy@yahoo/gmail/hotmail.com
লেখক বলেছেন: জ্বী ভাইয়া ঠিক আছে।
লেখক বলেছেন: আমি নিতান্তই দুঃখিত।
অমানিশা বলেছেন:
আমি ভেবেছিলাম আমার মন্তব্যগুলি দৃষ্টিকটু হয়েছে । যাইহোক, সবগুলোই মুছে দেবেন ।
লেখক বলেছেন: আরে ব্যাপার না।আমি যে কি ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছি এই পোস্ট নিয়ে!
রাগ ইমন বলেছেন:
প্রিয়তে নিতে লগ ইন করলাম। মাঝে মাঝে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না । এইটা পড়ার পরেও যেই সব "থিওরিটিকাল পন্ডিত " বুলি কপচাইতে আসবে যে "বাংলাদেশে নারীদের আলাদা আইনী সহায়তা , বাড়তি প্রোটেকশন দরকার নাই। এইসব দেওয়া মানে নারীদের দুরবল করে রাখা । "- রিমির হয়ে ওদের গালে কয়টা জুতার বাড়ি দিয়েন দয়া করে ।
আমরা কবে কপালের দোষ দেওয়া বন্ধ করে , রিমির স্বামী আর শশুড় বাড়িকে এটেম্প টু মারডার কেস করতে শিখবো ? এইটাত হত্যাই !
লেখক বলেছেন: এদেশের নারীরা বরাবরই পুরুষের ইচ্ছা বা দাবীর কাছে পরাজিত।তাইতো নিজ রক্তে গড়া আঁধারকে বাচিয়ে রাখার অধিকারটাও তার পান না।
যদি সত্যিই পারতাম তবে রিমির সাথে অত্যাচারকারী প্রতিটি মানুষের মুখে জুতা মেরে আসতাম।
লেখক বলেছেন: ধিক।
জাকির হোসেন বিডি বলেছেন:
মিয়া, এই অফিসে বসেও কাদায়লেন !!
লেখক বলেছেন: হুমম।
মানবী বলেছেন:
ভয়ংকর কষ্টের ঘটনা! সেই ভয়ংকর কষ্টের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ক্ষোভ ও ঘৃনাবোধ করছি....আপনি নিজেকে অপরাধী ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন কেনো? সবাইতো রিমির স্বামী বা শাশুড়ির মতো বিবেকবর্জিত কীট নয়।
সম্ভব হলে এদের সত্যিকারের পরিচয় সহ পোস্ট করুন, এই পিশাচদের মুখোশ উন্মোচিত হোক। তা নাহলে হয়তো আরো কতো রিমি আর তাদের সন্তানদের এরা লাশ বানাবে।
যে মেরুদন্ডহীন কাপুরুষ নিজের সন্তানকে হত্যা করে, নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে, রিমিকে এমন লোকের ঘর করতে হয়নি- এটা ভালো হয়েছে।
পরম করুণাময় যেনো এই দুঃখী মেয়েটা আর তার সন্তানকে ওপারে শান্তিময় জীবন দান করেন।
পোস্টটির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পরম করুণাময় এমন পিশাচদের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করুক এই কামনা করি।যে মেরুদন্ডহীন কাপুরুষ তার নিজের স্বার্থে নিজ সন্তানকে হত্যা করতে দ্বিধা করেনা তাদের মানুষ বলে স্বীকার করিনা।
saamok বলেছেন:
ভরদুপুর, লাঞ্চটাইম শুরু হবে কিছুক্ষন পরই। সকাল থেকে এই পর্যন্ত সময়টা ভালই কাটছিল ... কিন্তু কেমন যেন একটা শূন্যতা অনুভব হচ্ছে এখন। সত্যিই ধিক এ সকল পশুদের।
লেখক বলেছেন: ধিক!
সপ্নীল বলেছেন:
নিন্দা জানানোর ভাষা পাচ্ছিনা সেই স্বামীরুপী পুরুষটাকে...এত সামান্য ব্যাপারে মানুষ এমন নির্বোধ আর নিস্ঠুর হতে পারে, এ লেখা না পড়লে বুঝতে পারতাম না।
লেখক বলেছেন: নিন্দা জানানোর ভাষা নাই.
রেজোওয়ানা বলেছেন:
রাগ ইমন বলেছেন:আমরা কবে কপালের দোষ দেওয়া বন্ধ করে , রিমির স্বামী আর শশুড় বাড়িকে এটেম্প টু মারডার কেস করতে শিখবো ? এইটাত হত্যাই !অনেক অনেক চমৎকার লিখেছেন।
পৃথিবীর আমি বলেছেন:
ক্ষমা করো।
লেখক বলেছেন: ক্ষমা করো।
নীরজন বলেছেন:
চোখের পানি ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে গেল.....................
লেখক বলেছেন: কষ্ট দেয়ার জন্য দু:খিত।
লেখক বলেছেন: ঘটনাটি আমার লিখতেও বেশ কষ্ট হয়েছিলো।
হিটলারের সাগরেদ বলেছেন:
মানুষ এখন ভোগ্য পন্য হয়ে গেছে। এখানে তার কোন মুল্য নেই। আপনার বোনের জন্য দোয়া করা ছাড়া আর আমার কিছু করার নেই। তবে দোয়া তার জন্য নয় আমার জন্য। যে আমরা এমন সমাজ গড়েছি যেখানে শুধু পশুর জন্ম হয়। আল্লাহ আপনার বোনের অসিলয় আমাদের মাফ করে দিক।ব্লগরে মডারেটররা ও এই ধরনের পশু সমাজেরই অংশ । তাই তারা পোষ্ট মুছলে আশ্চর্য় হবেননা।
লেখক বলেছেন: আমরা অতি খারাপ সময় পার করছি।মানুষ হয়তো আজকাল ভুলেই গেছে তার পরিচয়।
মডারেটর নয়,সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে এহেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বোধ করি।
আপনাকে ধন্যবাদ।
Neelpoddo বলেছেন:
এ ধরনের একটা লেখার জন্যে প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ।আপনার বোন এবং খালাকে সমবেদনা জানাবো এমন ভাষা আমার নেই।হয়তো কখনো বুঝবোনা তারা কতটা কষ্টের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন।শুধু এটুকু আশা করি সময়ের সাথে সব দু::খ হয়তো তারা একসময় ভুলে যাবেন।
নিজের উপরি ঘৃণা হয় যখনি ভাবি এসব মেরুদন্ডহীন পিশাচদের সাথে একই সমাজে বাস করি।
াবশেষে : মন ছুঁয়ে যাওয়া একটি লেখা।প্রিয়তে এবং +++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
দুর্লভ বলেছেন:
ব্লগে অনেকদিন পর এসে আপনার পোষ্টটার শিরোনাম দেখেই পড়তে ইচ্ছে হল। জানি না, কোন পুন্যের জন্য ব্লগের এত সব লেখার ভিড়ে এই লেখাটিই প্রথমে পড়লাম।রিমির অবস্থার কথা চিন্তা করতে করতে কখন যে চোখ ঝাপসা হয়ে গেলো, বুঝতে পারি নি। এরকম একটা ঘটনার কথা পড়েছিলাম যায়যায়দিনে। আর কতকাল রিমিদের মত মেয়ের জীবন এই নোংরা সমাজের কিছু পিশাচের কাছে হার মানবে?
ক্ষমা কর বিবেক আমার, আমিও এই ঘ্রন্য সমাজের এক অংশ....
লেখক বলেছেন: লিখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: লিখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হুমম।
যীশুমন বলেছেন:
ঘৃণা এই নোংরা সমাজের পিশাচদের
লেখক বলেছেন: ঘৃণা
শেলী বলেছেন:
এই সামাজিক নিয়মের জন্য আমার জানা এক মাই তার মেয়ের পেটের সন্তানকে অ্যাবরেশন করিয়েছেন। আমার জন্য তা ছিল মহা কষ্টের ঘটনা।
লেখক বলেছেন: সামাজিক নয়,অসামাজিক নিয়ম।
টক দঐ বলেছেন:
সমাজের হীন কার্যকলাপ দেখলে মাঝে মাঝে আমার নিজেরে বড়ই ছোট মনে হয়। কি সমাজে বাস করি!!তবুও সস্তি যে আমাদের দেশে তা কম হয়।
লেখক বলেছেন: সত্যিই আমাদের দেশে তা কম হয়?
নূরুল্লাহ তারীফ বলেছেন:
ভ্রুণ নয়, সঠিক শিরোনামটি হওয়া উচিত প্রাণ হত্যা। "ডাক্তার আমাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখায় আমার বাচ্চার ছোট্ট মুখখানা,তার হৃদপিন্ডের ধুক ধুক শুনায়।জানিস ভাইয়া অনেক ছোট্ট ছোট্ট হাত ছিলো।" প্রাণ হত্যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমাদের নৈতিকতাবোধ ভ্রুণ হত্যার চেয়েও নীচে নেমে গেছে। আমরা এখন প্রাণ হত্যা করতেও কুণ্ঠাবোধ করি না। আজ সে কথা মনে পড়ে- একটি মাত্র শাড়ী পাওয়ার লোভ দেখিয়ে আমাদের এলাকার নারীদেরকে Abortionকরানো হত।
রূম্মান বলেছেন:
ক্ষমা করো আল্লাহ
রিমি বেচে আছে জেনে ভাল লাগল। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
+++++++++++++++++++
গাজী মনির বলেছেন:
নিরুত্তর, নির্বাক। মন্তব্য করার মত ভাষা নেই।
নিভৃত নয়ন বলেছেন:
উনার সন্তান বেহেস্তে আছেন।এই টুকু পড়ার পর আর পড়তে পারলাম না।চোখ জলে ভরে গেছে।কিছুক্ষণ পড়ে পড়ব।
নিভৃত নয়ন বলেছেন:
কমেন্ট করেই আবার পড়লাম।অন্তত ভাল লাগল রিমই বেচে আছে।আমরা কি আসলেই দিন দিন অমানুষ হয়ে যাচ্ছি।আজ কাল অনেকেই নষ্ট সুখে মাতাল।সেই যুবক যুবতিরা কত সহজেই তাদের সন্তান কে হত্যা করে।
আর মুনিয়া খালার কষ্টের কথা কি বলব।আমার এক খালা(আপন না) তার পর পর চার সন্তান গর্ভে মারা গেছে।উনার কষ্ট,কান্নাকাটি এখন ও চোখের সামনে ভাসে।
কষ্টকর একটা লেখা।
আপনি ভাল থাকবেন।
জানতেএলাম বলেছেন:
আমার দ্বিতীয় সন্তান আমার স্ত্রীর পেটে আসার পর সে আমাকে বলেছিল সে বাচ্চা নষ্ট করতে চায় কারন সে চাকরি করতে আগ্রহি। বাচ্চা নিলে সে চাকরি করতে পারবে না , সমস্যা হবে ইত্যাদি। আমি তখন বলেছিলাম, বাচ্চা যখন পেটে এসেছে তখন নিতে হবে। না হলে আমাকেও ছারতে হবে সারা জীবনের জন্য। তখন বাধ্য হয়ে বাচ্চা রেখেছে । এমন পাপ আল্লাহ করাইনি বলে আল্লাহ কে ধন্যবাদ।
সকাল ও সারিকা বলেছেন:
হারামজাদা জামাইটারে জুতা দিয়া পিটাইতে মন চাইতেছে।
তানজীল বলেছেন:
কী লিখব, বুঝতেই পারছি না, আবোরশন করানোর এত যন্ত্রনা আমি জানতাম না, আমার আপন বোনের ২ বার এরকম করতে হয়েছে, তার পশুর থেকেও অধম স্বামি-শশুর-শাশুড়ি মিলে এটা করেছিল।আপনার লেখাটা পড়ার সময় বারবার আমার সেটাই মনে হচ্ছিল, কী যন্ত্রনাই না সে ভোগ করেছে, তার ফুলের মত চেহারা এমন হাল হয়েছে দেখলে খুব খারাপ লাগে, নিজেকেও ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয়, ভাই হয়ে বোনের জন্য কিছুই করতে পারিনি, আমার বোনের একটি ছেলেও আছে, ওর বাতজ্বর ছিল, হার্টে সমস্যা, ওর কন্সিভ করাটাও যেখানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে গর্ভপাত! আল্লাহ কী কারণে যে অকে বাঁচিয়ে রাখলেন জানি না, বড় অলৌকিক, ঐসব মানুষ রূপি জানোয়ারদের পিশে মারা উচিৎ, আমি মানুষ বলে এসব দেখে নিজের কাছে নিজেকেই বড় পাপী আর ঘৃণ্য মনে হয়।
লেখক বলেছেন: সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কোন উপায় নাই।আমরা মাঝে মাঝে কি করে যেন পশুর থেকেও নিচে নেমে যাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















ক্ষমা করো। ক্ষমা করো।
ধিক্ শশুর-জামাই নামের সেই কুলাংগারদের।