আমার প্রিয় পোস্ট

অতীত খুড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি

প্রপোগান্ডা, স্টপ জেনোসাইড ও জহির রায়হান

১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

বাইরের মতো এই ব্লগেও স্বাধীনতাবিরোধি রাজাকার-বদর নন্দনরা মাঝে মাঝে জহির রায়হানকে অবলম্বন মানেন। অবশ্যই স্বার্থ আছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা নিয়ে কথা! একটি প্রচলিত ধারণা আছে তাদের মাঝে (বাপ-চাচারা বলছে, নেতারা বলছে) জহির রায়হান মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লিগের স্বেচ্ছাচারিতার একটা ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলেন। নাম স্টপ জেনোসাইড। আর এজন্যই যুদ্ধশেষে তাকে হাপিস করে দেয় বঙ্গবন্ধু সরকার। এসব অপপ্রচারের জবাব আগেই দেওয়া হয়েছে। তার চেয়ে বরং মূল ডকুমেন্টারিটি সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রশংসিত চলচিত্র হচ্ছে স্টপ জেনোসাইড। ১৯ মিনিটের এই ডকুমেন্টারিটি তখন পাকবাহিনীর গণহত্যার তাৎক্ষণিক ফুটেজ স্বল্পতার মধ্যেও অপূর্ব নির্মাণে তৈরি এক তীব্র প্রতিবাদ। চিত্রনাট্যে জহির রায়হানের সঙ্গী ছিলেন আরেক অসাধারণ নির্মাতা আলমগীর কবির (সূর্য্যকন্যা, ধীরে বহে মেঘনা ইত্যাদি)। আলমগীর কবির ইংরেজী ধারাবিবরণী লিখেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন এতে। আর ক্যামেরায় ছিলেন অরুণ রায়।

শুরুতে দেখা যায় গ্রামের এক হাসিখুশী চপল কিশোরী ঢেকিতে ধান ভানছে। তার আগে লেনিনের কিছু উদ্ধৃতি শোনা যায় নেপথ্যে। দৃশ্য বদলে যায় গুলির শব্দ আর গগনবিদারী আর্ত চিৎকারে। চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর এক নারকীয় দৃশ্য। শুধু লাশ আর লাশ। চোখ উপড়ানো, মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মগজ বেরিয়ে যাওয়া গুলিবিদ্ধ লাশ। সামনে, পেছনে, সারিসারি। সাউন্ডট্র্যাকে ব্রাশফায়ারের শব্দ। এরপর একটি প্রাচীর ধ্বসে পড়ে আর পর্দায় ভেসে ওঠে স্টপ জেনোসাইড লেখাটা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে পাকিস্তানীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই তুলে ধরেছেন জহির রায়হান স্টপ জেনোসাইডে। মাত্র তিনটি দৃশ্য দিয়ে সাজানো তা। প্রথম দৃশ্যে জাতিসংঘের সদর দপ্তর। সুশীল আলোচনা হচ্ছে সেখানে, গৎবাধা ভালো কথা। পরের দৃশ্য ভিয়েতনামে মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমানের গোলাবর্ষণ। নারী-পুরুষ-শিশুদের গণহত্যা। যুদ্ধাপরাধে বিচারাধীন এক মার্কিন লেফট্যানেন্টের পক্ষে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সাফাই। পরের দৃশ্যে সেই বাংলাদেশ। লাশের স্তুপ আর হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য। নেপথ্যে শোনা যায় জাতিসংঘের মানবাধিকার লঙঘনের ঘোষণা- তবে কি কেবল পরিহাস? মুক্তিযুদ্ধের এই ক্লাসিক ডকুমেন্টারিটি একাধিক পুরষ্কার জিতেছে বিভিন্ন চলচিত্র উৎসবে। তবে তার চেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়ে সোচ্চার হতে বাধ্য করে।

ইয়াহিয়া সরকার যুদ্ধের সময় একটি শ্বেতপত্র বের করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল আওয়ামী লিগ বাঙালীদের কনভিন্স করে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছে। তাদের শিকার বিহারী এবং অন্যান্য উর্দুভাষী সম্প্রদায়। তাদের নির্বিচার গণহত্যা ঠেকাতেই সেনাবাহিনী নাক গলাতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবাদে এক সাক্ষাতকারে জহির রায়হান প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানিয়েছেন কিভাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী মুভ্যি ক্যামেরা দিয়ে নিজেদের হত্যাকাণ্ডের ছবি তুলে, বিহারীদের দিয়ে লুটপাট করিয়ে তা এডিট করে বাঙালীদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।



দেখুন বিট্রেয়াল নামে পাকিস্তানীদের অপপ্রচারণার একটি তথ্যচিত্র যাতে সবদোষ তারা চাপিয়েছে আওয়ামী লিগের ঘাড়ে।



দেখুন জহির রায়হানের সাক্ষাতকার:






পড়ুন
জহির রায়হানের মৃত্যু রহস্য

 

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ৪৬১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২৫ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৪
comment by: অচেনা বাঙালি বলেছেন: "আওয়ামী লিগ বাঙালীদের কনভিন্স করে পশ্চিম পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছে। "

এইখানে পূর্ব পাকিস্তান হবে।
ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।
২. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪২
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ধন্যবাদ অচেনা, ঠিক করে দিলাম
৩. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৬
comment by: দ্বিতীয়নাম বলেছেন: ৫
৪. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৩২
comment by: মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: ধন্যবাদ এ লেখাটির জন্য....৫ দিলাম।
৫. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৭
comment by: কোবরা বলেছেন: ৫
৬. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৬
comment by: এস্কিমো বলেছেন: দারুন প্রমান। ধন্যবাদ।
৭. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:০৭
comment by: জামাল ভাস্কর বলেছেন: স্টপ জেনোসাইডের বিষয়টা আসলেই একটা অজ্ঞানতার ফসল...তয় জহির রায়হানের একটা ১৬মিমি ফিল্ম ক্যান তৎকালীন গভর্নমেন্ট আটকাইয়া দিছিলো প্রিন্ট করনের পর। শোনা যায় ঐ খানে কিছু বিতর্কিত ফুটেজ ছিলো...এক ক্যান মানে ১০ মিনিটের মতোন ফুটেজ...কিন্তু এই তথ্য নিয়া জহির রায়হান সাহেবেরও তেমন কোন বক্তব্য পরে পাওন যায় নাই...
৮. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩০
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এই শোনা যায় নিয়াই তো পাবলিক ভংচং করে। আমরা যা দেখা যায় তাই নিয়া কথা কই।
৯. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩১
comment by: প্রশ্নোত্তর বলেছেন: আমি বুঝিনা স্টপ জেনোসাইডরে এগো এতো ভয় কেন! করতে ভয় লাগে নাই! আব-জাব ভুজুং ভাজুং কইলেই মানুষ ভুইল্যা যাইবগা? হায়রে রাজাকারের জাত! কোন বাঙ্গালী ফ্যামিলি আছে মুক্তিযুদ্ধে অ্যাফেক্টেড অউ নাই? যাগো ঘরে জোয়ান পুরুষ আছিল এমন কয়ডা ঘর আছে যারা যুদ্ধে যায় নাই, বা যাওনের আগেই নিহত অয় নাই? এগো বংশধর আমরা, আমগো আইছে ইতিহাস হিগাইবার! হালারপুতেরা!
১০. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩২
comment by: মানুষ বলেছেন: আগেও দেখেছি। আবার দেখলাম। ধন্যবাদ।
১১. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৭
comment by: জল রঙ বলেছেন: বিপ্লব
১২. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
comment by: সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন: ধন্যবাদ পোস্টটির জন্য।
১৩. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৪৯
comment by: রাশেদ বলেছেন: ৫
১৪. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:০৬
comment by: লাইটহাউজ বলেছেন: ৫
১৫. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:২৯
comment by: নাজিম উদদীন বলেছেন: ধন্যবাদ এ লেখাটির জন্য....৫ দিলাম।
১৬. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
comment by: ঝরা পাতা বলেছেন: অনেকদিন পরে আবার সুযোগ হলো আপনার পোস্ট পড়ার। ধন্যবাদ এ প্রজন্মের যোদ্ধাকে।
১৭. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:১৭
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ৫
১৮. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
comment by: মাথামোটা বলেছেন: ৫

 



 


বন্ধুত্বে উদার, শত্রুতায় নির্মম : কিছু করার নাই, রাশির দোষ
........................
জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে মহানবীর (দঃ) সতর্কবাণী :

শেষ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৭০৪৬৬