বহুদিন গো-ও-ও-ল কইরা চেঁচানো হয় না আমার। আইজও হইলো না। তবে দৃশ্যটা কল্পনা করছি। এমন একটা জায়গা, পসিবলি হোস্টেল, যেখানে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল দুই দলেরই সমর্থক আছে। ৬৭ মিনিটে ডাটোলোর গোলে স্বাগতিকরা যখন ব্যবধান কমাইলো, সেই সময়টায় আর্জেন্টিনা সাপোর্টারগো গলা কত ডেসিবেলে উঠছিলো সেইটাই ভাবছি। এরপর ফ্যাবিয়ানোর গোলে সেইটা কত হারে পোতায়া গেলো সেইটা আর ভাবা হয় নাই। তখন আমি দ্বিতীয়বারের মতো মুষ্ঠি পাকায়া বাতাসে ঘুষাইছি। নিঃশব্দ এই অভিব্যক্তি শুধু গোল উদযাপনেরই ভঙ্গিমাই না, আমার অনুমান সত্যি হওয়ারও । ব্রাজিল এইবার গোল করবে- ইনটুইশনের সাফল্যে এই কাণ্ড করছি প্রথমবার। স্পোর্টস রিপোর্টার্স ইনটুইশন।
মনে পড়তাছে মামুনের কথা। আর্জেন্টিনার সাপোর্টার যে কতো পাগলা হইতারে, তা মোস্তফা মামুনরে না দেখলে বিশ্বাস হইবো না। আর উৎপল শুভ্র আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচ রিপোর্ট তারে দিয়াই লিখাইতো। ব্রাজিল ভক্ত শুভ্রদা আসলে মজা নিতো কিনা সেইটা বোঝার উপায় ছিলো না। কারণ মামুন ওয়াজ দ্য বেস্ট রিপোর্টার অব দ্য কাইন্ড, আর মনে কাঁনলেও কলমে সেটার প্রকাশ ছিলো না। আমরাই খালি ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে তারে স্বান্তনা দেওয়ার কথা ভাবতেও পারতাম না। মারধোর খাওয়ার ভয় ছিলো। সর্বশেষ কনফেডারেশন কাপ ফাইনালে একবার মামুনের জন্য মায়া লাগছিলো, আর লাগলো এইবার। তবে তাবৎ স্পোর্টস রিপোর্টারগো লাইগাও। কারণ এই ম্যাচ নিয়া তারা আসলে কি লিখবো!
পরিসংখ্যানগত বকাবাজি ছাড়া আসলেই কিছু লেখার নাই। ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতা ব্রাজিল তিন ম্যাচ হাতে রাইখাই দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করছে। একই যাত্রায় ভিন্ন ফলে আছে আর্জেন্টিনা। প্লে অফে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে দিয়েগো ম্যারাডোনা-লিওনেল মেসির দলের। আশঙ্কা আছে ‘৭০এর পর আবারও চূড়ান্ত পর্ব মিস করার। তবে এইসব নিতান্তই পরিসংখ্যানগত অনুমান। সবচেয়ে চমকপ্রদটা সম্ভবত সর্বশেষ আর্জেন্টিনা থিকা ব্রাজিল জিতা গেছিলো ১৯৭৬ সালে। জিকো আর লুলুর গোলে। একটা অবশ্য ফেরত দিছিলো ম্যারিও ক্যাম্পোস (সেই অপমান কিংবা কীর্তি দেখার সৌভাগ্য হয় নাই এই ম্যাচের বেশীরভাগ খেলোয়াড়ের। জানেত্তি আর ভেরনই জন্মাইছে শুধু তার আগে )। এই ক্যাম্পোসই ‘৭৮ সালে বিশ্বকাপ উপহার দিছিলেন আর্জেন্টিনারে। সেইবার এই রোজারিওতেই গোলশুন্য ড্র করছিলো দুইদল। (এইসব রেকর্ড আমি মিলানোর সুযোগ পাই নাই, ধারাভাষ্যকাররা যা বলাবলি করছে তাই মাথায় টুইকা রাখছিলাম)।
এইবার ম্যাচে আসি। সুপার ক্লাসিকো ট্যাগ দেওয়া হইলেও আমার কাছে এইটা ঢাকা লিগের ওয়ারী ওয়ান্ডারার্স ম্যাচ মনে হইছে। মেসি ওয়াজ রিয়েলি মেসি (messy)। একটা ফ্রি শট পাইলো, তাও বাম পায়ে- কিন্তু মারলো পোস্টের ১০০ হাত বাইরে। ব্যাস ওইটুকুই ওর জারিজুরি। ডুঙ্গা দায়িত্ব নিয়া ব্রাজিলরে ইউরোপিয়ান ফুটবল শিখাইছে। ডিফেন্স জমাট রাইখা আক্রমণ করো। নো সাম্বা। এতে ব্রাজিল জিতে ঠিকই। তবে তাতে নান্দনিকতা থাকে না কোনো। প্রথম গোল আসলো সেভাবেই। রিপোর্টার হয়তো লিখবো ম্যাচের ধারার বিরুদ্ধে। এলানোর এই ফ্রিকিকটার আগে আমার মনে পড়ছিলো ‘৯৪ বিশ্বকাপে ব্রাঙ্কোর সেই গোল। মন কইতাছিলো গোল হবে। লুইজাওরে কেউ গার্ড দেয় নাই। কোনাইচ্চা হেড, গোল। দ্বিতীয়টাও সেট পিস। এইবারও ব্যাক্কলের মতো খাড়ায়া আর্জেন্টাইন ডিফেন্স। ফ্যাবিয়ানোর দশ ম্যাচে দশম গোল।
ডুঙ্গার একটা থিওরি ভাল্লাগছে, সেইটা হইলো তুমি ইউরোপে যত টপই হও, যত টপ ক্লাবেই খেলো, ফর্ম নাই তো টিমে নাই। এই অজুহাতেই রোনালদিনিয়ো ম্যাচে নাই। কিন্তু কাকা আর রবিনিওরে কেনো নিছে এইটা পুরা ফার্স্ট হাফ ভাবছি। কাকা তাও উপ্তা খাইয়া পইড়া ফ্রি কিক আনে। রবিনিও কি করে! আর্জেন্টাইন বিগনেম গুলারে আর শেম না দিই।
আর্জেন্টিনা একটা গোল শোধাইছে একমাত্র সম্ভাব্য উপায়ে। দূরপাল্লার শট যেইটা হেড করার মতো সুযোগ থাকবো না ব্রাজিল ডিফেন্সের। গোলটা চমৎকার। সুপার কিপিং করা জুলিও সিজার হাত ছোয়াইলেও কাম হয় নাই। ব্রাজিলের বিপক্ষে এইটাই সম্ভবত ডাটোলোর অভিষেক ম্যাচ।
এই গোলের পর সম্ভাবনা নিয়া উত্তাল সবাই। আর্জেন্টিনার পক্ষে সম্ভব ম্যাচে ফেরত আসা। দুর্দান্ত খেলতে হবে। আমার মন বলছে ভিন্নটা। অলআউটে গেলেই কাউন্টার এটাকে গোল করবে ব্রাজিল। কাকা এইবার তারে দলে রাখার মাজেজা বুঝাইছে পত্রিকার ভাষায় ডিফেন্স চেরা পাসে। আর ফ্যাবিয়ানো যে কি মাল, সেইটা টের পাওয়াইছে অসাধারণ ফিনিশে।
কাহিনী মোটামুটি খতম। এই ম্যাচ ব্রাজিল জিতছে না আর্জেন্টিনা হারছে সেই হিসাবে আর না যাই। আমার দুঃখ একটাই। মেসিরে ফর্মে পাইলাম না। কারণটা কি হইতে পারে, অনেক ভাইবা সেইটাও আবিষ্কার করছি। ওর প্যান্টটা সাইজে বড় ছিলো। ঠ্যাঙ্গ বাইজা যায় খালি। থ্রি কোয়ার্টার আসলেই ফুটবলের জন্য উপযোগী না।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




