কোন পদাধিকার বলে শেখ রেহানা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিতে বসেছিলেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কুটনৈতিক মহলে। তারা একে স্বষ্টতই কুটনৈতিক শিষ্টাচারের (প্রটোকল) লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ভাষণের আগে তিনি আসন নেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের জন্য নির্ধারিত সারিতে। এখানেই দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পাশের আসনটিতে স্হান নিয়েছেন শেখ রেহানা। তার পরের আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি। অথচ প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিই নির্ধারিত থাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে বসার কথা জাতিসংঘে নিযুক্ত স্হায়ী প্রতিনিধির। কিন্তু নবনিযুক্ত স্হায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনকে এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছাকাছি কোথাও দেখা যায়নি। তাকে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীকে যখন ভাষণ দানের জন্য মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হলো; দেখা গেল তিনি কোথাও থেকে এসে কোনো প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া আসনটিতেই বসে পড়লেন। প্রধানমন্ত্রীর আসনে ড. মোমেনের এভাবে বসে পড়ায় বিব্রত ও লজ্জিত হয়েছে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মহলও।
একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ কুটনীতিক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় পর থেকেই যিনি দীর্ঘদিন জাতিসংঘে কুটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যিনি বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘ সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী আচরণের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, স্হায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন একেবারেই নবাগত। আগে কখনও তিনি কোনো কুটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেননি। এমন আচরণের মধ্য দিয়ে তিনি তার অজ্ঞতারই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। স্হায়ী মিশনের ফার্ষ্ট সেক্রেটারির কর্তব্য ছিল তাকে যথাযথভাবে ব্রিফ করা।
তিনি বলেন, জাতিসংঘে আমাদের স্হায়ী প্রতিনিধি নতুন, ওয়াশিংটনে আমাদের রাষ্ট্রদুত নতুন কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তো বহু আগে থেকেই নির্ধারিত। তার এই সফরের আগে কেন সব নতুন লোক পাঠানো হলো বোধগম্য নয়। শেখ রেহানার অবস্হান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ রেহানাকে যদি প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি রাখতেই হয়, তাকে যদি তার পাশের আসনে বসাতেই হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল তাকে বিশেষ উপদেষ্টা কিংবা যথোপযুক্ত কোনো পদে নিয়োগ দিয়ে সেখানে নিয়ে আসা। কোনো পদে না থাকায় শেখ রেহানার পরিচয় প্রধানমন্ত্রীর বোন ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু এই পরিচয়ে তিনি কোনো প্রটোকল পাওয়ার অধিকারী নন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



