somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস ...(২)

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস ...(১)-
Click This Link

দুর্গা পুজা, স্বরস্বতী পুজায় কখন অঞ্জলী দেয়া মিস হয়নি। অঞ্জলী দেবার আগ পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। জল পর্যন্ত খাওয়া যাবে না। ছোটবেলা থেকেই এটা পালন করি। এখনও পালন করি।

এখনও অঞ্জলী দেবার সময় খুব নিবিষ্ট চিত্তে হয়ত কিছু একটা চাই ঈশ্বরের কাছে। চাইবার সময় হয়ত বিশ্বাস করি যে আমি হয়ত এটা পাব। নিজের কাছে অনেক বার প্রশ্ন করেছি, কেন এটা বিশ্বাস করি? তারমানে আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী? অনেকদিন খুজেছি এই প্রশ্নর জবাব। এখনও পাইনি। শেষ পর্যন্ত যেটা মেনে নিয়েছি সেটা হলো আমি ট্রেডিশনটাকে পরিবর্তন করতে পারছি না।

আমি যখন খুব বিপদে পরি তখন কেন জানি না নিজের অজান্তেই সাহায্য চাই ঈশ্বরের কাছে। খুব আকুল হয়েই সাহায্য প্রার্থনা করি। হয়ত তখন নিজের কিছু করার থাকে না বলেই ট্রেডিশনালি সুপেরিওর বলে মানা হয় এমন একজনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। তিনি শুনেন কিনা অথবা শুনলেও কিছু করেন কিনা সেটা নিয়ে আমি কখনও ভাবি না। যখন কিছুই করার থাকে না, তখন কিছু একটা করা দরকার ভেবেই হয়ত কাজগুলো করি।

আমি কোন ধর্মই আসলে অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে পারি না। কোন ধর্ম বললাম এই কারনে যে আমরা ছোট থেকেই এক টেবিলে বাংলা কোরান, বাইবেন, গীতা দেখে অভ্যস্ত। আমি হিন্দু ধর্মের বই যত না পড়েছি তার চেয়ে বেশী পড়েছি কোরান, বাইবেল। কিন্তু খুব বেশীদিন পড়িনি, পড়ার আগ্রহ হয়নি, ছোটবেলায় সব ধরনের ধর্মগ্রন্থ আমার কাছে রুপকথার গল্প ছাড়া আর কিছু লাগত না। হয়ত কিছু কিছু ব্যাপার সত্যি। কিন্তু পরে মডারেট হতে হতে ,রঙ চড়তে চড়তে এগুলো আর সত্যি কাহিনী বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। অন্তত আমি পারি না। উদাহরন দিতে চাইলে ওনেক দিতে পারব, কিনতু আমি কোন উদাহরন দিতে চাচ্ছি না।

আরেকটা বড় ব্যাপার হচ্ছে, মৃত্যর পরের ব্যাপার টা। আমি কখনই মৃত্যর পরে কিছু আছে এইটাতে বিশ্বাসী না। এই ব্যাপার টা আমি কখনই মানতে পারব না মনে হয় । আমার মতে মৃত্য মানে হচ্ছে পরিপুর্ন ভাবে শেষ। যার পরে আর কোন কিছু থাকা সম্ভব না। স্বর্গ, নরক এগুলো ত অনেক পরের কথা। আমি অনেক জনের সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করতে যেতাম একসময়। কিন্ত হঠাৎ করেই আবিস্কার করলাম, আমার এই বিশ্বাস টা কেউ ই পছন্দ করছে না, আমাকে এমন ও শুনতে হয়েছে ,“তোর বিশ্বাস নিয়ে তুই থাক, আমার ধর্ম নষ্ট করতে আসিস না ।” তাই বহুদিন এসব আর কাউকে বলিনি, আজ আবার হঠাৎ করেই লিখলাম।

যারা এই মৃত্যুর পরের ব্যাপারটায় বিশ্বাস করে তাদের আমি শুধু ২টা প্রশ্ন করতাম।
১। মৃত্যুর পরে কে আবার ফিরে এসে এই স্বর্গ, নরক, বেহেশত এই যায়গাগুলোর বর্ননা দিয়েছিলেন? এইসব স্থানের বর্ননা এত নিখুত ভাবে তৈরী করা হয়েছে যেন কোন সিনেমার সেট। তাহলে এই বর্ননাগুলো কি কোন জীবিত মানুষের ই বানানো?
২। এই যে সবাই এত ‘আমি, আমি’ করে এই আমি জিনিষটা কি? আমি মরে গেলে এই আমি’র কি হবে? আমার অনুভুতি গুলোই যদি না থাকে তাহলে আমার মৃত্যুর পরে আমার শরীর নিয়ে যা ইচ্ছা করা হোক এই আমি নামক অনুভুতি টার কিছু যায় আসে কি?

এই দুটো প্রশ্ন আমি মন্দিরের গুরু, মসজিদের ইমাম সহ অনেকের কাছেই করেছি। কেউ আমার বিশ্বাস ফিরানোর মত কোন উত্তর দিতে পারেননি। বরং মন্দিরের গুরু আমাকে বলেছেন আমি যেন আরেকটু পড়ালেখা করে আসি এই বিষয়ে, আর মসজিদের ইমাম আমার দিকে এমন দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়েছিলেন, সেই দৃষ্টিতে লেখা ছিল, ‘আপনি বিধর্মী, আপনি এসব বুঝবেন না’। কিন্তু উনি সরাসরি আমাকে যেটা বলেছিলেন সেটা হল, ‘এইসব প্রস্নের উত্তর পাবার জন্যে আপনাকে ইসলামের অনুসারী হতে হবে।’

(চলবে ...)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০৬
৩০টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×