somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ধর্মবিশ্বাস ...আমার বিশ্বাস ...(১)

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগেই বলে রাখি আমার জন্ম এক হিন্দু পরিবারে। ছোট বেলা থেকেই আমি হিন্দু ধর্মের রীতি নীতির প্রতি বিশ্বাসী। আমার বাবা খুব একটা ধর্ম কর্ম করতেন না, এমনকি তিনি প্রধান প্রধান পুজা গুলোতেও অঞ্জলী দিতেন না। এবং আমাদেরকেও কখনো জোর করতেন না। কিন্তু আমার মা ধর্মে কর্মে খুব বিশ্বাসী। উনি মাঝে মাঝে কিছুটা জোর করতেন। তবে সেটা অনেক কম সময়েই । ছোটবেলায় বাবাকে খুব ভয় পেতাম, মাকে একদম ই ভয় পেতাম না। সুতরাং ধর্ম কর্ম সম্মন্ধে বাবার আদর্শ পাওয়াটাই আমার জন্যে খুব স্বাভাবিক।

আমরা বাবা, চাচা, আর ফুফু’রা পাশাপাশি বাসায় থাকতাম, এখনও থাকি। আমরা কাজিন রা মিলেই অনেকজন। তাই খেলাধুলার জন্যে বাসার বাইরে যাবার প্রয়োজন পড়ত না। বাইরের ছেলেপেলেদের সাথে খুব কম ই মেশা হয়েছে ছোট বেলায়। কিন্তু একটা জিনিষ খেয়াল করতাম। হিন্দু বলে বাইরের ছেলেপেলেরা মাঝে মাঝেই কটুক্তি করত। বিভিন্ন ধরনের ছড়া ছিল। সেগুলো আজো মনে আছে। ‘মালু’, ‘মালু’ যখন শুনতাম তখন কেন জানি একটা অসহায় বোধ তৈরী হত ভিতরে ভিতরে। কিন্তু কিছু বলার কোন উপায় ছিল না। সবাই যে বলত এরকম না, আমার এখনও মনে আছে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত দের মধ্যেই এই জিনিসটা বেশী। সেটা ভেবে নিজের মনে স্বান্তনা পেতাম যে এরা অশিক্ষিত, এদের বলায় কিছু যায় আসে না। কিন্তু অনেক শিক্ষিত লোক ও এই মানসিকতার অধিকারী, সেটা এখন বুঝতে পারি, সেকথা আরেকদিন বলা যাবে।

এভাবেই বড় হতে লাগলাম। ধর্মের নিয়ম কানুন, বিধি নিষেধ মানা হয় না, কিন্তু পুজা পার্বন আসলে খুব মজা লাগে। তখন মনে করতাম এটাই হয়ত ধর্মের একটা বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এখন বড় হয়ে বুঝতে পারি যে সেটা ছিল শুধু নিয়মিত পড়ালেখা, স্কুল এইসব থেকে অন্তত কিছুদিন এর জন্যে মুক্তি পাবার আনন্দ।

মা খুব আচার মানতেন। আচার মানে হল কিছু বিধি নিষেধ। যেমন, বিছানায় উঠে ভাত খাওয়া যাবে না, অপবিত্র হয়ে ঠাকুর ঘরে যাওয়া যাবে না, ঠাকুর এর মন্দির স্পর্শ করা যাবে না, চামচ দিয়ে খেলেও হাত ধুতে হবে, খাওয়ার পরে খাবারের যায়গাটা ভালো করে ধুতে হবে, এইসব। তার কাছে এইসব হচ্ছে ধর্মের অঙ্গ। বাবাকে কখনও এইসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে দেখিনি। আবার বিরোধীতা ও করতেন না। খুব সম্ভবত পারিবারিক কলহ এড়াতেই উনি এই কাজটা করতেন। আমরা মাঝে মাঝেই এইসব নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে মা’কে পালটা যুক্তি দেখাতে যেতাম। যেমন, চামচ দিয়ে খেলে যদি হাত ধুতে হয় তাহলে তো খাওয়ার পরে পুরো ঘর , এমনকি ঠাকুরের আসন পর্যন্ত ধোয়া উচিৎ। কিন্তু মা এইসব শুনবেন না, উনার কাছে উনার বিশ্বাস টাই বড়। শেষে আমরাও এসব মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু ধর্মের অঙ্গ হিসাবে কখনই মানি নি, মেনে নিয়েছিলাম পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অঙ্গ হিসাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
৪০টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×