মালয়েশিয়ান পরোটা নামে একটি কাচা পরোটা পাওয়া যেতো বছর দুয়েক আগে। সম্ভবত মালয়েশিয়া থেকে আসতো প্রথম দিকে। পরোটাগুলো ছিলো পুরু, ভাজার সময় তেল দিতে হতোনা, ফুলে উঠতো এবং বেশ সুস্বাদু। স্বাদ বদলাবার জন্য মাঝে মাঝে আমি কিনতাম।
তো বছর দুয়েক পর সেদিন একটা দোকানে একটি দেশী কোম্পানীর (গোল্ডেন হারভেষ্ট) ৫ টি পরোটার একটি প্যাকেট কিনলাম ৪৫ টাকায় (খেয়াল করবেন-প্রতিটির দাম পরলো ৯ টাকা)। ভাবলাম দেশী কোম্পানী , এদের পেট্রোনাইজ করা দরকার। খুশী মনে বউকে দিলাম ভাজি করতে।
মিনিট দশেক পর হাউ কাউ শুনে গেলাম রান্নাঘরে। বউ পরোটাগুলো পলি থেকে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো। সেগুলো এতো পাতলা (এতই পাতলা যে একটা জিনিষের উপমা দিতে মন চায় কিন্তু অনেক নাবালক ব্লগারের কথা ভেবে দিলাম না) যে তুলতে গেলে ছিড়ে যায়।
তবু আমি নাছোড় বান্দার মতো ডান বাম হাত মিলিয়ে কোনমতে একটা পরোটা মিনিমাম ক্ষতবিক্ষত করে তুলে দিলাম খোলায়। সাথে সাথে তা দুমরে মুচরে গেলো (যারা 'হেনরী রাইডার হ্যাগার্ডের' 'শী' এবং 'রিটার্ন অফ শী' পড়েছেন তারা এর নায়িকার পরিনতির কথা ভাবুন। ঠিক তেমনি হয়ে গেলো পরোটার চেহারা)। আমি তাড়াতাড়ি তেল ঢেলে দিলাম (তার মানে পর্যাপ্ত তেল দেয়া নেই)। এরপর কোনমতে ভেজে ৭/৮ কোণা বিশিষ্ট সে পরোটা খেলাম, গায়ে তার শত ছিদ্র।
এই হলো আমার দেশী কোম্পানীর পরোটা খাবার অভিজ্ঞতা। তো আমি সাধারন হোটেলের চে ৩ গুন দাম দিয়ে কষ্ট করে ভেজে, ক্ষতবিক্ষত পরোটা কেনো খাবো বলতে পারেন কেউ?
(কেউ আবার ভাববেন না যে আমি দেশী সব প্রডাক্টের বদনাম করছি। আমার অভিযোগ শুধু ঐ কোম্পানীর বিপক্ষে)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



