মুর্শেদুল আজাদ পলাশঃ২০০১ সালের নির্বাচনে জালিয়াতি, কারচুপি ও কালো টাকার কারনে নুরুল ইসলাম নাহিদ পরাজিত হন।গোলাপগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী পরিবার নির্বাচনে পরাজিত হবার পর হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।কিন্তু তিনি হতাশাগ্রস্ত হননি।তিনি বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া আরম্ভ শুরু করলেন।আমরাও তঁার সাথে যেতাম।এভাবে আমরা আমাদের হতাশা কাটিয়ে উটি।তিনি যেসব এলাকায় যেতেন সেসব এলাকার লোকদের সমস্যার কথা শুনতেন এবং তা নোট বইয়ে লিখে রাখতেন।আমি আমার ইউনিয়নের ৭/৮টি গ্রাম ছিল যেগুলতে কখনও যাইনি,কিন্তু তাঁর সাথে আমার প্রথম যাওয়া হয়েছিল।
২০০৩/০৪ সালে আমার উপজেলা বন্যাক্রান্ত হয়েছিল এবং সেটা প্রায় ২মাস স্থায়ী ছিল।আমাদের তৎকালীন এমপি জনাব লেচু মিয়া সাহেব এই ২মাস সিঙ্গাপুর, জাপান সহ বিভিন্ন দেশে ছিলেন।একবারের জন্যও তিনি এলাকায় আসেননি।কিন্তু নাহিদ ভাই এই ২মাস সমস্ত উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে কয়েকবার করে যান।তাঁর তেমন অর্থকড়ি ছিলনা।তাই তিনি যে ইউনিয়নে যেতেন সেই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সকল সমর্থক নিজেরা টাকা দিয়ে ত্রাণসামগ্রী কিনে নাহিদ ভাইকে দিয়ে বিতরণ করাতেন।আমার মনে আছে, সেই সময় তিনি একবার আমাদের পাশ্ববর্তী ইউনিয়নে এসেছিলেন।আমি সেখানে গিয়েছিলাম।সেখানে পানিবন্দী হয়ে ২০/২২টি পরিবার ছিল।তিনি কোমর পানি ভেঙে প্রায় ২৫/৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করে বন্যাদূর্গতদের মাঝে গিয়েছিলেন।তিনি বলেছিলেন,''আপনাদের এই অবর্নণীয় কষ্টের মাঝে আমি আপনাদের দেখতে এসেছি।আমি বড়লোক নই।আমার সাথে এই ৭০০টাকা আছে তা আপনারা নেন।এগুলো আপনাদের একটুও কাজে লাগলে আমি খুশি হব।''নাহিদ ভাই প্রায় আধা ঘন্টা কোমর পানির মধ্যে হেঁটে গেলেও সে সময় আমি তঁার সাথে যাইনি।এরকম জনদরদী নেতা আমাদের দেশে কয়জন আছে?
তিনি কোন সভায় আসলে পাবলিক বাসে চড়ে আসতেন।তিনি কোন গাড়ী রিজার্ভ করে আসতে পারতেন না।তা দেখে অন্যান্য দলের লোক হাসাহাসি করত এবং আমাদের বলত-তোমাদের নেতা গরীব।আমরা বলতাম- আমাদের গরীবই ভাল।তোমাদের নেতার মতো আমাদের নেতা চোর,কালবাজারী ও হেরোইন ব্যাবসায়ী নয়।
২০০৫ সালের দিকে আমাদের উপজেলা ছাত্রলীগের কমিঠি হয়।আমি এই কমিঠির একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।তিনি যখন আমাদের উপজেলায় আসতেন,আমরা তখন মোটরসাইকেলের ভর নিয়ে তাঁর সাথে থাকতাম।তিনি এগুলো পছন্দ করতেন না। কিন্তু অন্যান্য নেতারা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে চলাফেরা করতে খুব ভালবাসেন।
২০০৮ সালে বিজয়ী হবার পর শিক্ষামন্ত্রী হয়ে প্রথমবার যখন আমাদের উপজেলায় আসেন তখন তাঁকে এক সংবর্ধনা দেয়া হয়।তিনি বলেছিলেন-আমি আজ শিক্ষামন্ত্রী হয়েছি এটা সম্পূর্ণ আপনাদের অবদান।আমি আমার চেয়ারে বসার আগে প্রত্যেকদিন মনে মনে বলি,আমি এত সম্মান পাওয়ার অধিকারী ছিলাম না।এটা সম্পূর্ণ আমার এলাকার মানুষের জন্য হয়েছে।
বর্তমানে তিনি আমাদের উপজেলায় অনেক কাজ করে যাচ্ছেন।তাঁকে কোন কাজের জন্য বলে দিতে হয় না।কোন এলাকায়, কোন পাড়ায়, কোন মহল্লায় কিসের অভাব সমস্ত কিছু তাঁর নোট বইয়ে লেখা আছে।
আমি মনে মনে চিন্তা করি আমাদের ৩৩০জন এমপির মধ্যে যদি ৬০/৭০ জন এমপি নাহিদ ভাইয়ের মতো হতেন,সমগ্র বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে যেত।মহান আল্লাহ পাকের কাছে এই প্রার্থনা করি,তিনি যেন নুরুল ইসলাম নাহিদের সুস্বাস্থ্য দান করেন এবং বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এক একজন নুরুল ইসলাম সৃষ্টি করেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



