somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুকালে তার বয়স ছিলো তিনশত ছেষট্টি দিন

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

:অপমিতের দিন ও রাত খাতা:


০.

দিনগুলো কেমন যেন স্থবির হয়ে গেছে.....

আমাদের জানালার চৌকাঠে একটা শেয়াল ডেকে উঠেছিলো সেদিন।মুগ্ধ কংকালঘাসবনে সারি সারি চাষ ছিলো আর ছিলো তপ্ত নিঃশ্বাস....
আমরা হলুদ পাতা হবার আগেই বাতাসের প্রকৃতি নির্ণয় করে নিয়েছিলাম।

ভাবতেই চোখ জলে ভিজে যায়..
এত কষ্ট কেন....

-১.
"একলা রাস্তায়
এক চিলতে রোদ্দুর....
সারাবেলা....বন্ধ জানালা..."
এলোমেলো গতকাল পেরিয়ে আজ আবার স্থবিরতার মুখোমুখি।বন্ধ জানালা অনবরত প্রচেষ্টা।কাজ হচ্ছে বলে মনে হয় না!
এখনকার পরিস্থিতি অবশ্য খানিক টা আলাদা... আবার একটা অব্যক্তেয় সময় পার করছি....সারাদিন হাঁড়িমুখ কাকতাড়ুয়া হয়ে ঘোরাফেরা...
কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে সব...একঘেয়ে....ক্লান্তিকর....

মৃতমাছির হাপিত্যেস ফুরিয়ে গেলে চায়ের গেলাসে পঞ্চমাত্রার সমীকরণ সৃষ্টি হয়..আমরা রোজ ঝড় বুকে বাড়ি ফিরে যেতাম..একদিন আমরা ই ঝড় হয়ে গেলাম....প্রলয় হলাম..প্রিয়তা হলাম...আর একদিন ঝড়ে হারিয়ে গেলাম......

-২.
মেঘ দেখলেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়।অবশ্য এই দেহাংশ টা অনেক আগ থেকেই খারাপ।সেই কবে শুনেছিলাম,আকাশের মন খারাপ হলে সে মেঘ জমায় তারপর বৃষ্টি ঝরিয়ে কাঁদে।তারপর থেকেই আকাশের মন খারাপ হলে সব দায় এসে পড়ে আমার কাঁধে!
ঈশ্বরপ্রদত্ত মস্তিষ্কে কার্যকরি কিছু নিউরণের ঘাটতি নিয়েই এসেছি আমি।ঈশ্বর খুব সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তখন....
অবশ্য আমার তাতে খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হয় নি।সত্যি বলতে এত কিছু শুধু আকাশের জন্য।
আকাশ গন্তব্যের ওপাশে নেমে আসলে লংড্রাইভ..রাতভর প্রেম..জিন্স টপস ..পাশের বাসা..চড়ুই ভাতি....
খুব অসহ্য হয়ে উঠে অভিনয়...চেনা মাদক....মাতাল হাওয়া....


যাকে আজীবন হাসাতে চেয়েছিলাম,তার হাসির কারণ হতে পারি নি একবারও!স্মৃতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে আশ্রয় পেতেছিলাম আকাশের বুকে।আকাশই আমার নিরব প্রেম,নিঃসঙ্গকালের সঙ্গী।
আলো আলো বিষন্নতা
রাত্রিজাগা স্মৃতি কথা
হারিয়ে গেলো গোপন অভিসার....


-৩.
ফিরিয়ে দিলে;তারপর...
ফিরে গেলে নিজেও!
আমিও ফিরে গেলাম সেই আগের ঠিকানায়।যেখানে বার বার স্বপ্নমাঝে হানা দেয় বীভৎস কষ্টগুলো।যেখানে বেঁচে থাকা মানেই যন্ত্রণা।

....তবুও আমারি সীমানা....সেতো তোর ছায়া.....
...আমাকে কেন জোছনা...চলে যদি যাবি স্বার্থপর.....


পিতৃমহলে বাধ্য আমি অবশেষে একদিন ভালোবেসে অবাধ্য হলাম।বাঁধনে জড়ালাম।হারালাম।কোথা থেকে যেন অজস্র স্বপ্ন,অপরিমেয় আস্থা আর নিশ্চিন্ত ভরসা এসে আমার এতদিনকার একান্ত নিজস্ব মন আর শরীরটাকে দখল করে দিব্যি সওদায় ব্যস্ত!ভরা শীতেও কোথায় যেন একটা কোকিল কুহুকুহু ডেকে উঠেছিলো সেই বিকেলে;আজ যার বয়স হলো তিনশত ছেষট্টি দিন.. ব্যস!এতটুকুই।তারপর খুব স্বার্থপর হয়ে গেলাম আমি।কিন্তু মোড় না ঘুরতেই অপমানে-আঘাতে স্বপ্নেরা মৃত লাশ..
আত্মসমর্পন বিসর্জনে গেলো।যাকে ভালোবাসি সে..তুমি আমাকে অপমানিত করলা;মেনে নিলাম..অপদস্ত করলা;মেনে নিলাম...
ভালোবাসার তানপুরা উপর্যুপরি ছিঁড়ে গেলে দেখি সব ছিনতাই হয়ে গেছে..যেভাবে আমাদের বুকপাঁজরে প্রতিদিন ছিনতাই হয় রোদ.... হাজার মুখের ভীড়ে তবু খুঁজে ফিরি একটি মুখ..রোজ বিকেলে আসা মানুষদের মাঝে একজন আলাদা চোখ...যদি ভুল করে পদব্রজ থামে আমার দ্বারে..বোবা দৃষ্টি ক্রমশঃ আকাশে হারাতে থাকে...
কি যে তৃষ্ণা.... দেখার...ছুঁয়ে যাওয়ার..কথা শোনার...কতোদিন দেখি না..

একদিন এলে শেষে।সেই স্নিগ্ধতা,সেই স্নেহ,পাগলামি,...
বলেছিলাম,অন্তত বলো,ভালোবাসি।শুধুই স্বীকৃতি..অযোগ্য আমায় বুঝিয়ে দিলে...
যতদূরেই থাকো রবে আমারি...হারিয়ে যেও না...
অন্তত জানি তুমি বুঝবে,এতটুকু লিখতেই হৃদপিন্ডের সব রক্তকণিকা আঙুলে ঝরছে!তবুও ভালোবাসা শাস্তি নিমগ্নতায়...
"তোমায় আমায় মিলেছি প্রিয়,শুধু চোখের জলের ব্যবধান টুকু রয়ে গেলো।"

-৪.
হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে মনে হয় বুক টা ফাঁকা...এখানেও এক নদী ছিলো;আজ বিরান চর... কোথাও একবিন্দু নির্মল বাতাস নেই।দমবন্ধ লাগে।ঘেমে নেয়ে উঠি পরিচিত বিছানায়।
প্রলয়ের জন্য কি আমি গুরুত্বপূর্ণ কেউ?লাশকাটা ঘরের দেউড়ি তে বসে রোজ ভাবি...আমার ঘুমের ব্যবচ্ছেদ কবে ফুরাবে..আমি হারাতে চাই নি..আজ হারাতে চাই..মৃত্যু হারাতে চাই... আমার ক্ষুব্ধ চেহারা,আমার চিৎকার তার জানা।আমার অক্ষম রাগের মুহুর্তগুলো,আমার অসহায় ক্ষোভ যখন আমার নিজের শরীরের চামড়া জ্বালাতে থাকে,যখন মনে হয় নিজের শরীরটাকে কুচিকুচি করে কেটে খুঁচিয়ে দেখি কোথায় এই যন্ত্রণা!!
আমি শুধু বাক্সে বাক্সে ভাগবাটোয়ারা।মাথায় ঝমঝম বেজে যায়..যুগলের কাতর শব্দ..আমি শব হয়ে ঘৃণায় বিবশ..অতঃপর আদিগন্ত ঘুম..শক্তিক্ষয়ের শপথ..
বিশ্বাসে বিশ্বাস নেই।প্রতিশোধ কিংবা আক্ষেপ হতে পারে এইসব।কার উপর প্রতিশোধ?নিজের বিশ্বাসহীনতার প্রতিশোধ?কিংবা ক্রমশঃ তৈরি হতে থাকা অবিশ্বাসের ফাঁদ;যেখান থেকে মুক্তি নেই।
বাঁচবার কোন কারণ নেই।আমি দড়ির সম্মোহনে দিন-রাত আচ্ছন্ন থাকি।আর বলি,আজ নয়,তবে যেকোন সময় দেখা হবে তোমাতে আমাতে,অন্তরঙ্গ আলাপ হবে একান্ত নির্জনে।আজ নয়,তবে যেকোন সময় খেলা সাঙ্গ হবে।
আমরা দুইদিগন্তে এভাবেই বিষাক্ত হয়ে উঠি..তবু একই আকাশতলে আছি তো...

-৫.
দিনযাপনের সব কিছু তোমার সাথে মনে মনে ভাগাভাগি।খুব সুন্দর আকাশ আর মেঘের ছোটাছুটি দেখলে মন চলে যায় তোমার ভাবনায়!তুমি থাকলে কি ভালোই না লাগতো!
বাহির বলে দুরে থাকুক..ভেতর বলে আসুক না...
রাস্তায় বড়বড় গাছে হরেক রকম ফুল ফোটে;মনে হয় তোমায় পাশে বসিয়ে দৃশ্য ভাগাভাগি করি।একা একা দেখি না তাই স্বার্থপরের মত।
ভেতর বলে দূরে থাকুক..বাহির বলে আসুক না....
কিংবা যখন আমার মন খারাপ থাকে,তোমায় ভাবি।
বলেছিলে তুমি আমায়..চলে যাবে দূরে..যেও না..
কেমনে ভুলিব তারে..পারিনা ভুলিতে পারি না.....


ধরো যদি হারাই কোনদিন
স্মৃতিগুলো সব জড়ায় পায়ে পায়ে
ধরো যদি পালাই কোন ছলনায়
খেয়ালি মেঘের মত নামহীন কোন ঠিকানায়...

রজনী পোহালো..তবু তুমি এলে না..এভাবে কি কাটবে বেলা...
সা নি দা নি সা নি দা নি..সা মা মা গা রে সা....
ও ও ও ও ভেঙে দিলে এই মন টা....

আর অল্প কয়েকটা দিন...কি করবো তারপর আমি?
সবক্ষেত্রেই চরম ব্যর্থ একজন আমি..কিছু দেবার ক্ষমতা নেই..
কিন্তু আশাবাদী হতে চাই।আর একটা বার চেষ্টা করতে চাই...
তবু এই দেয়ালের শরীরে যত ছেঁড়া রঙ ধুয়ে যাওয়া মানুষ...

মেঘ জানালা।


..................
+১.
চৈতন্যকথায় ঘাসপোকার বিবাদ জমে জমে দুটো দেয়াল।
+২.
জানালায় নামে আঁধার এক;অদ্ভুদ খেয়াল।
+৩.
বসে আছি একা কাঁচারোদ বিকেলে উদাস
বৃষ্টি শেষে..রুপালী আকাশ...

++০.
গ্লানি ক্ষমা করেছে অপরাধ;কাঠগড়ায় হলো ফাঁসির আদেশ।
আমি মরে আবার প্রলয় হব;গাঙচিল হব।

++++০.
২৭০২০৯২৭০২১০=৩৬৬।

আজ শুধু ইটালিক পাপ।পুরোনো পাপ।যা আগে পাপ ছিলো না।

=======================================

ছবি:ভুতুড়ে সময়ে..
ক্লিক:দীপ দ্য টাইম।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩২
২৯টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×