০.০১
ন্যাড়া কড়ইয়ের ঘাড়বাঁকা উঁচু ডালের যেখানে কাকের সংসার আর ইলেকট্রিসিটির তার সোজা ডানে বায়ে ঝুলছে;তার পাশের মৃত পাতার কার্নিশ হতে জোছনার প্রতিবিম্ব নিয়ে শিশির ফোঁটা টা সবেগে নেমে আসে বালিকার উদোম তলপেটের কেন্দ্রে।আগে থেকে জমে থাকা কুয়াশার ভেতর প্রতিবিম্ব বিলীন হয়ে গেলে বালিকা কিছু উষ্ণতা হারায়।তাপ সঞ্চালনের সূত্র মেনে সবার আগে চোখের ঘুম ধেয়ে নামলে বালিকা দেখে,মিটমিটে আলো টার পেছনে বুট দু'জোড়া খটখট শব্দে নিরবতা ভাঙছে।বামহাতের প্রভাবনে সালোয়ারের খুঁট আর কামিজের ঝুল তলপেট ঢেকে গেলে ডান হাত চটের আচ্ছাদনে আনে শরীর।
বুট জোড়া কাছাকাছি এসে বালিকার বন্ধ নিঃশ্বাসের গায়ে গালি ছুঁড়ে..শালি কি ঘুমায় নাকি?
০.০২
বিদ্যুত চলে গেলে একে একে নিভে যায় পোর্চের বাতি,সাথে বাগানের-বাথরুমের-গেটের গুলো ও...।ছিটকিনি খুলে বেড়ালপায়ে বালিকা সিঁড়ি ভাঙে।ছাদঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা টিকটিকি ডেকে উঠলে পা থেমে যায় একবার।তারপর খোলা ছাদ।ঝাপসা চাঁদের গা হতে কুয়াশা রা নেমে এসে চুল ছুঁয়ে বুকের ফাঁকে ঢুকে পড়লে কেঁপে উঠে।কিছু জোছনা উড়ে এসে ভীড় জমায় চোখের পাপড়ির ডগায়।ষাট ফিট নিচ থেকে রজনীগন্ধার পেলবতা নাকের ভেতর ঢুকে পড়লে নিরুপায় বালিকা জোছনা খেতে শুরু করে।
পাশের দেয়ালে ফিসফাস উঠে..শালি এত রাতে ছাদে ক্যান?
০.০৩
বুটজোড়া ক্রমশঃ উল্টোদিকে সরে গেলে রিকশার টুংটাঙে মিশিয়ে চেপে রাখা শ্বাস ছাড়ে বালিকা।আরোহিনী দু'জন পরিচিত।কড়া লিপিষ্টিক মেখে হাস্যরতা রা বালিকার চোখে উপহাস আর বিস্ময় ছড়িয়ে বুটজোড়ার দিকে হারিয়ে যায়।হাত দশেক দূরে লুঙ্গি উঁচিয়ে একজনের সৃষ্ট প্রশ্রাব পতনশব্দ ওপাশের চটের নিচে স্ত্রীদেহে উপগত লোকটির গমনাগমন রহিত করে।চক্কর শেষে রিকশা ফিরে এলে আরোহিনী রা মোড়ের রাস্তাবিভাজকে আসন গাড়ে।গামছা কাঁধে নিয়ে অন্ধকার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে একজন কালোরঙ মানুষ।একটু পরে এক আরোহিনী কালোরঙের সাথে গলির ভেতর ঢুকে পড়লে অপরজন রিকশাচালকের কোলে পা তুলে দেয়।
০.০৪
প্রিয় গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে বালিকা চোখ ফেলে ওপাশের রাস্তায়।দু'জন পুলিশ একটি বস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে আবার হাঁটে ধরে।উল্টোদিক থেকে একটি রিকশা সোজা ছুটে যায় সামনের দিকে।ফুটপাথের দেয়ালঘেঁষে একজন দাঁড়ালে কাছাকাছি দুটো বস্তা নড়ে উঠে।রিকশা টা ফিরে আসে।বালিকা আর আগ্রহ বোধ করে না।পাতাবাহারের গোড়ায় পাথর সাজিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে পাতার বাহার।বালিকা হঠাৎ চাঁদের দিকে চোখ তুললে দেয়ালের ছায়ায় নড়ে উঠে দুটো ঘনছায়া।বালিকা নতুন গানের সুর ধরে.....
০.০৫
চটের তলে মাথা ঢুকিয়ে আবার নিঃশ্বাস চেপে পড়ে থাকে বালিকা।ওপাশে দ্রুত হারিয়ে যাওয়া রিকশা আর পার্শ্ববর্তী উপগতের প্রশ্বাস ছাপিয়ে ফিরে আসতে থাকে বুট জোড়া রা।পশ্চাতদেশে ডগার গুঁতো খেয়ে বালিকা কেঁপে উঠলে কাকের বাসায় কোলাহল জাগে।বুটের মালিক রা কাক কে যৌনিক করে তোলে নিমেষেই...
সবগুলা আইজ পলাইলো কই?একটারে ও দেখলাম না...
বালিকা পশ্চাতে আরো একটি গুঁতো হজম করে।
এইটা দ্যাখ..ডাঙর আছে....
০.০৬
ঘেরা দেয়ালের শেষমাথায় চেপে বসলে বালিকার পিঠ দৃশ্যমান থাকে শুধু।রাস্তা-নিচের বাগান-টব-চাঁদ ঘুরে বালিকার দৃষ্টি আটকা পড়ে শেষমাথার অন্ধকারে।গানের সুর গুলো বদলাতে থাকে।হাহাকার ক্রমশঃ ঘনীভূত হতে থাকে সুর কথার পরতে পরতে...চোখ ঝাপসা হলে বালিকা দৃষ্টি সরিয়ে রাখে আবার ফুটপাথে..পুলিশ দু'জন আবার বস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করছে...
দেয়ালের ছায়ায় ফিসফাস করে দু'জন..
কেউ জেগে নেই..ধরবি নাকি?
বডি টা দ্যাখ..খারাপ না...আজ মামা মাস্তি হবে খুব...
০.০৭
টিমটিমে আলো টা নিভে গেলে বালিকা বুটজোড়ার মালিক দের নুয়ে পড়তে দেখে।পরক্ষণে,চট হারিয়ে বালিকা সালোয়ারের খুঁট আর কামিজের ঝুলের যুগপৎ অসহযোগিতায় উন্মুক্ত তলপেট নিয়ে দৃশ্যমান হয়ে উঠে।একজন হাত ধরে টান দিলে গলা চিরে আসা বালিকার কাতরতা পতনশীল কুয়াশায় মুখ থুবড়ে পড়ে।ওপাশের চট ফেড়ে প্রশ্রাবপতনশব্দ সৃষ্টিকারীর মাথা বেরিয়ে পুনরায় পাশ ফিরে শোয়।
বুটের মালিক ধমকে উঠে...চুপ শালি...
০.০৮
হাহাকারের ভারে নতমুখি বালিকার পিঠে চাঁদের আলোর তির্যকপতনে দুটো ছায়া জমে।জমাট ছায়ায় হাতের স্পর্শে বালিকা কেঁপে উঠলে ঢমক হয়ে উঠে ছায়ার ফিসফাস।ঘাড় পেঁচিয়ে ধরায় ভয়ার্ত চিৎকার কন্ঠনালি তে আটকে গেলে হেসে উঠে ছায়ামানবেরা।পাঁজাকোলা বালিকার পতন হয় টবের পাতাবাহারের পাশে।আটকে যাওয়া শব্দ বেরুবার পথ খুঁজলে ছায়া মানবের সজোর স্পর্শে বালিকার বাম গাল টকটকে হয়ে উঠে...
০.০৯
বালিকা তীব্র চেপে ধরে প্রায়ই উদোম নতুন বুক।বুটমালিকের শক্ত হাতের টানে বালিকার বাধা ভেঙে পড়লে যাঁতায় পিষ্ট হয়ে থাকে।নিচ থেকে অন্যজন পা জোড়া দুদিকে ঠেলে দিলে শব্দহীন কেঁদে উঠে।নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যাওয়া বুটমালিকের হ্যাঁচকা টানে বালিকার কোমর থেকে কয়েকভাগে সালোয়ার সরে পড়লে ন্যাড়া কড়ইয়ের মগডালে কাক ডকে উঠে।
০.১০
ছায়ামানবের টানে টপস ছিঁড়ে গেলে গলার ভেতর নতুন কান্না এসে পুরোনো আর্তনাদের সাথে পথ হারায়।বক্ষবন্ধনীর ভেতর প্রবেশ্যমান হাতজোড়ার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠে নাভীমূলে তীব্র আঘাত।বালিকা অজ্ঞান হবার আগেই তার কোমর থেকে নেমে যায় জিন্স ছায়ামানবের প্রবল টানে।
ঝাপসা চোখে উপরে তাকালে চাঁদের গায়ে মেঘ এসে পড়ায় বোধহয় ওপাশের রাস্তায় ডেকে উঠে একটা কাক।
০.১১
বালিকা সালোয়ার হারিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠতে উঠতে আর নিচে নামতে নামতে অবশেষে ত্রিশ ফুট উচ্চতায় স্থির ঝুলে থাকে।
========================================
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



