আমার প্রিয় পোস্ট
- সকল ব্লগারের ব্লগের লিংক (বিষয় :অনলাইন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং) - নিলআকাশেরদুঃখ
- ফ্রি ওয়েবসাইট আর অনলাইনে টাকা কামানোর রহস্য - হাসান
- বাঁক বদলের নির্বাচনে একাত্তরের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে- সৈয়দ শামসুল হক - নীলবকুল
- কারা কালী সাধক। (উৎসর্গ: রাঙা মীয়া।) - ইমন জুবায়ের
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- বঙ্গভঙ্গ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট - বিবর্তনবাদী
- অরুন্ধতী রায়ের স্বাক্ষাৎকার,ভাষ্কর্য বিবাদ,লালন উৎখাতের মচ্ছব,হাওয়ার ওপর তাওয়া গরম করে পিঠা ভাজা,এবং রাজনীতির মারেফত দর্শনের টেলিস্কোপে প্রকৃত শত্রু খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা - মনজুরুল হক
- শ্রীচৈতন্য দেব: যাঁর অন্তরে রাধা, বহিরঙ্গে কৃষ্ণ - ইমন জুবায়ের
- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল বাংলাদেশী আইন - রাজন সান
- হাদিসের নতুন ভার্সন করতে যাচ্ছে তুরষ্ক - সুশীল সমাজ
জামাত বিষয়ক মোকাবিলা ভাবনা: আল্লাহ'র নামে শেরেকি অথবা স্বৈরাচারিতা
১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:১৭
[একটা অন্যের পোষ্ট, Click This Link এটা আমি লিখলে কেমন হত, তার খসড়া।]
সন্ধ্যায় হলে ফিরছি, সুর্যসেন হলের দোতলা- তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই বিস্ময়। ১৭/১৮ বছরের এক ছেলে পরনে জোব্বা মাথায় টুপি- আমাকে দেখে হাতটা কপালে ছুইয়ে বললো- আস্লামালাইকুম ভাই।
অনেকটা হুমায়ুন আহমেদের নাটকের কৌতুক দৃশ্যের মতো- কিন্ত আমি মুগ্ধ হতে পারলাম না…… সারাদিন পরে আস্তানায় ফিরলাম, কিছু জরুরী কাজ সেরে- আবার সারা রাতের মত বাইরে যাব আড্ডা মারতে… এর মধ্যে এই উৎপাত কোথা থেকে। আমি ছেলেটাকে খুটিয়ে দেখছিলাম- মফঃস্বল থেকে আগত অল্প বয়সের এক সুদর্শন কিশোর, এই মুহুর্তে খুব শান্ত ভাবে ঘরের এককোণে দাঁড়িয়ে আমাকে লক্ষ্য করছে। চেহারায় তার চাঞ্চল্যের কোন লক্ষণ নাই, একহারা নরম হালকা পাতলা চেহারা- কোন সন্দেহ নাই এলটন জন উপস্থিত থাকলে ছেলেটার সাথে বন্ধুত্ব করতে খুবই আগ্রহী হতেন।
কিন্ত এলটন জনের রুচি তো আমার নয়- আমি তো সে রসে বঞ্চিত……।
সকাল থেকেই সেদিন ক্যাম্পাস জুড়ে তোলপাড়-- বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার, সাইন্স এনেক্স থেকে শুরু করে শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আউটডোর হয়ে বকশীবাজার পর্যন্ত পুরা এলাকা রণক্ষেত্র। সারা রাস্তায় অসংখ্য ছোট ছোট ইটের টুকরা, ভাঙ্গা গাছের ডাল, বিক্ষিপ্ত কিছু জুতা স্যান্ডেল- এখানে ওখানে ছড়ানো। সারা রাস্তা জুড়ে ছুটন্ত মানুষ, রাস্তা থেকে শহীদ মিনার, সিড়ির ধাপ পেরিয়ে-মিনারের লাল সুর্য পেরিয়ে এক পক্ষ ধাওয়া করে নিয়ে যাচ্ছে অপর পক্ষকে, আবার পিছু হটছে পালটা ধাওয়া খেয়ে।
শহীদ মিনারের দিকে যারা- তারা জোটবদ্ধ ছাত্রদের সংগ্রাম পরিষদ আর বকশীবাজারের দিকে যারা তারা ছাত্র শিবিরের কর্মী। ঘটনাকাল ৮৩র ফেব্রুয়ারীর ছাত্র আন্দোলনের কয়েকমাস পরের- সামরিক জান্তা বিরোধী আন্দোলন তখন মধ্য গগনে। শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে বেশ নিরীহ নির্দোষ গোছের একটা মিছিল বের করেছিল সেদিন শিবির এবং কলা ভবন পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যাবার হিম্মতও দেখাতে চেয়েছিল।
শিকারী বেড়ালের ইঁদুরের সাথে খেলা করার মতো কৌতুকের দৃষ্টিতে আমরা মিছিলটা লক্ষ্য করছিলাম, জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে, টি এস সি পেরিয়ে রোকেয়া হলের গেট পার হয়ে কলাভবনের দিকে যাওয়ার উদ্দ্যোগ নিতেই আমরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাড়িয়েছিলাম- ওক্কে, এনাফ ইজ এনাফ।
ঘন্টাখানেকের কিছু বেশি সময় লেগেছিল সেদিন শিবিরের পুলাপাইনরে আলিয়া মাদ্রাসার গেটের ভিতর ঢুকায়া দিয়ে আসতে। এর মধ্যে আহত জনা পঞ্চাশেক- আর ততোধিক আটক যুদ্ধ বন্দী হিসাবে।
সন্ধ্যায় হলে ফিরে সেদিনের যুদ্ধবন্ধী কিশোরকে আমি মুক্তি দিয়েছিলাম তার প্রতি এক ধরণের চমৎকৃত মনোভাব থেকে…… আমার মনে হচ্ছিল সারাদিনের লড়াইয়ে আমরা জিতেছি নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্যে কিন্ত দিনের শেষে এই নবীন কিশোরই জিতে গেল মনোবল আর নৈতিকতার লড়াইয়ে…… কার?
সেই থেকে মনে একটা প্রশ্ন তাড়া করে ফিরছিল। হতে পারে মাথা ভর্তি তার ভুল রাজনীতি- চেতনা জুড়ে তার অগনতান্ত্রিকতার দর্শন। তার রাজনৈতিকতার অভিমুখ মানুষের ক্ষমতাবিমুখ এবং জনগণের বিপক্ষে যুদ্ধ অপরাধে…… লড়াইয়ের ময়দানে আজ তার অবস্থান আমার বিপক্ষে- কিন্ত একই সাথে মনে হোল, তার এই ভুল পক্ষ বেছে নেবার প্রশ্নে আমার কী কোন দায় আছে? আমার ভাবনা কী সবদিক থেকে যথেষ্ট ভেবেছে, কোন দিক কী ভাবনার আড়ালে থেকে যাচ্ছে না তো? নইলে কেন এই ১৭\১৮ বছরের তরুণ কীসের আকর্ষণে আমার বিপক্ষে এই বয়সে দাড়িয়ে যাচ্ছে? এতে আমার কোন দায় থেকে যাচ্ছে কী?
সন্দেহ নাই আমাদের রাজনীতিতে জামায়াত একটা চরম বিপদজনক শক্তি- আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান অতি অবশ্যই গণবিরোধী এবং আজ পর্যন্ত জামায়াত ১৯৭১ সালে নেওয়া তার রাজনৈতিক অবস্থানের কোন ব্যাখা দেয় নাই- এটা সে আজকে কীভাবে দেখে? আজও ঠিক মনে করে না ভুল মনে করে!! আচ্ছা সুনির্দিষ্ট করে বলি। ২৫মার্চের রাত্রের নৃশংশতাকে সে কীভাবে এখন দেখে বা তখন দেখেছিল? তার অবস্থান কি? রাজারবাগ, পিলখানা, ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রগুলো, সংখ্যালঘুদের ঘন আবাসস্হল, সাধারণ নিরস্ত্র জনগণ - কেউ বাদ যায়নি এই গণহত্যার মাতম থেকে। নিজের জনগণের বিরুদ্ধে এই অস্ত্রধারণ, খোদ রাষ্ট্রেরই সংঘটিত অপরাধ কি জায়েজ?? এমনকি তা পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য হলেও?? দল হিশাবে ২৬ মার্চ বা এরপরে জামাত কী পাকিস্তান সরকার ও সামরিক বাহিনীর নৃশংস আচরণের বিরুদ্ধে নূন্যতম নিন্দা জানিয়ে একটা বিবৃতি দিতে পেরেছিল?
এসব প্রশ্নের কোন ব্যাখা জামায়াত আজ পর্যন্ত দেয় নাই-- না তাদের ঘোষনা পত্রে, না তাদের কোন প্রকাশিত পার্টির দলিলে বা মূল্যায়নে। জানিনা তাদের কর্মীরা এ বিষয়ে তাদের নেতাদের প্রশ্ন করেন কিনা আর করলেও কি ব্যাখা তারা দিয়ে থাকেন।
আমাদের দৃশ্যমান রাজনীতিতে জামায়াত সক্রিয় আছে এসব প্রশ্নের সদুত্তর ব্যতিরেকেই। আমাদের যাবতীয় ঘৃণা আর নিন্দাবাদের বিপরীতে। আর যাবতীয় অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে জারীকৃত আমাদের লড়াইয়ের এক অন্যতম প্রধান ফ্রন্ট- আমরা খুলেছি জামায়াতের বিরুদ্ধে। স্নায়ুযুদ্ধের কাল থেকে সাম্রাজ্যবাদের, আমেরিকার বিশ্বস্ত বন্ধু জামাত। কমিউনিষ্ট বা যেকোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমনের কাজে সবসময় ব্যবহৃত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে বিশ্বস্ত বন্ধু থেকেছে জামাত। স্নায়ুযুদ্ধের কাল শেষ হলে এমনকি আজকের পরিস্হিতিতেও এই সম্পর্কের বিশ্বস্ততায় কোন ফাটল ধরেছে বলে মনে হয় না।
কিন্তু এতসবকিছুর ব্যবহারিক পরিচয়ের পরেও আবার ভাবতে বসি, জামায়তে ইসলামী তো আবার একটা রাজনৈতিক মতবাদও বটে। রাজনৈতিক মতবাদ হলে এই রাজনীতিকে রাজনৈতিক মোকাবিলা একটা কাজও আমাদের আছে। রাজনৈতিক মোকাবিলা মানে একটা চিন্তাকে অগ্রসর চিন্তার সাহায্যে চিন্তার জগতেও পরাস্ত করতে হবে। আবার এসব করার ক্ষেত্রে যে জরুরী প্রশ্নটা আমাকে নাড়া দিয়ে যায়- তাহলে কোন রাজনৈতিক মতবাদকে পরাজিত করার জন্য তাকে প্রতিহত করা, তার কন্ঠরোধ করা, তাকে শারিরীক ভাবে আক্রমণ করা কোন যথেষ্ট ও একমাত্র কার্যকরী পদ্ধতি কিনা।
কোন চিন্তা বাস্তবায়নে বলপ্রয়োগের ভুমিকা অসামান্য। ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রাণভড়ে ভোট দিয়েও আমরা ক্ষমতায় যেতে পারিনি, শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আসনে বসাতে পারিনি, তবে আমাদের ক্ষমতার সপক্ষে একটা মতাদর্শগত আধিপত্ত্ব, নৈতিক ভিত্তি তৈরী করতে পেরেছিলাম মাত্র। পরে সশস্ত্র বলপ্রয়োগের ক্ষমতা যোগাড় ও অর্জন করে বাংলাদেশ হাসিল করেছিলাম। ফলে যেটা ভাবাদর্শগতভাবে অর্জন করার কাজ সেটা বলপ্রয়োগে অর্জন করা যাবে না, যেটা বলপ্রয়োগে অর্জন করার কাজ ওটা শুকনা কথার ভাবাদর্শগতভাবে অর্জন করা যাবে না, এটা বুঝি।
আমরা নিশ্চয় একমত হই যে, কোন ধরণের চিন্তা অথবা ভাবাদর্শ যে শরীরকে ঘিরে বাসা বাঁধে, ঐ ব্যক্তিকে শারিরীক ভাবে নির্মুল করে সেই ভাবাদর্শকে কি আমরা পরাজিত করতে পারবো? চিন্তাগত ভাবাদর্শকে পালটা ভাবাদর্শ দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছাড়া তাকে কি নাকচ করা যায়? জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যেককে আজ যদি আমরা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েও দেই- জামায়াত কি নির্মুল হয়ে যাবে? নেতাদের ফাঁসি দিয়ে জে এম বি’র রাজনীতি কি আমরা মুছে ফেলতে পেরেছি বলে মনে করি?
অথচ রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে জামায়াতের উত্থানের পর থেকে আমরা চেয়েছি তাকে শারিরীক ভাবে নির্মুল করতে, যেখানে যেভাবে সম্ভব তার তৎপরতাকে প্রতিহত করতে- আমরা চেয়েছি তাদের নেতাদের সামাজিক ভাবে লাঞ্ছিত করতে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করতে – ভেবেছি এভাবেই আমরা পার পাব। আর তাদের ভাবাদর্শের সমালোচনার নামে করেছি বিস্তর গালিগালাজ।
যা করিনি তা হলো তার ভাবাদর্শের রাজনৈতিক সমালোচনা- তার যুক্তির অসারতা প্রমাণ করে দেওয়া, তার নৈতিকতার যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা। রাজনৈতিক আদর্শ হিসাবে মুসলিম লীগ যাদুঘরে ঠাই নিয়েছে- কিন্ত আমরা খেয়াল করিনি একাজটা করার জন্য আমদের অগণতান্ত্রিক ভাবে কাউকে প্রতিহত কিংবা নির্মুল করতে হয়নি। ন্যাপ ও আওয়ামীলীগের পাল্টা ভাবাদর্শই তাকে রাজনৈতিক ভাবে নাকচ করে দিয়েছে। জামায়াতকেও এভাবে নাকচ করে দেওয়া সম্ভব- তার রাজনৈতিক ভাবাদর্শিক দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে দেওয়া যায়।
মুখে আমরা বলি জামায়াত ৭১ এর পরাজিত শক্তি- কিন্ত অন্তরে আমরা তা কতটুকু বিশ্বাস করি তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। আমরা জামায়াতকে রাজনৈতিক মোকাবোলার কাজটা করতে চাই না - সম্ভবতঃ এই আশংকা থেকে যে জামায়াতকে রাজনৈতিক ভাবে নাকচ করার মত শক্তিশালী রাজনৈতিক ভাবাদর্শ আমাদের নাই অথবা জামায়াতের রাজনীতি জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সামাজিক বাস্তবতা এখনও রয়ে গেছে। অথচ তরুণ সেই সব কর্মী যারা জামায়াতের রাজনীতির ভিতর তার মুক্তি খোঁজে আমাদের ভাবাদর্শিক সংগ্রাম তাঁকে বের করে আনার ক্ষেত্রে অনেক কার্যকর হতো। আমাদের মনে রাখতে হবে-সে কিন্ত আমাদের অপছন্দের হলেও একজন আদর্শিক কর্মী- ছাত্রদল বা লীগের কর্মীদের মতো দলবাজির রাজনীতি সে করে না। সে রাজনীতি করে কিতাব পড়ে। অতএব আমাদেরকে এর বিরুদ্ধে ভাবাদর্শিক লড়াইয়ে যেতেই হবে। যেমন ধরুন, জামাত বলছে, আল্লাহ এর আইন চাই। অথচ আল্লাহ এর আইন চাওয়ার দিন শেষ। কারণ, আল্লাহ এর আইন বা কালাম আসতে গেলে একজন নবীর মাধ্যমে আসবে যা আর সম্ভব নয়। নবী মুহাম্মদ মুস্তফা শেষ নবী - আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। ফলে জামাতের দাবীর আল্লাহ এর আইন মানে কী? জামাতের আইন? গোলাম আজম বা নিজামির আইন? এতো ভয়াবহ। আর আল্লাহ এর নামে গোপনে নিজের খায়েস চালিয়ে দেওয়া তো ভয়ানক ব্যাপার। ধর্মের দিক থেকে দেখলে শেরেকি গুনাহ, তাঁরা আল্লাহ এর শরিক হতে চায়! নাউজিবিল্লাহ! আবার রাজনীতির দিক থেকে দেখলে এক ভয়াবহ স্বৈরাচারী ক্ষমতা। কারণ কোন দলই বলতে পারে না তার দলের কথাই আইন। কারণ একটা নাগরিক রাষ্ট্র লাগবে, জনগণের সম্মতি লাগবে, ইনসাফ বা ন্যায় বিচারের প্রতিশ্রুতি ভিত্তিতেই না নাগরিক মানুষ ঐ রাষ্ট্রকে আইনি ক্ষমতা সম্মতি দেবে - রাষ্ট্র গঠিত হবে। এক আধটা দল বা তার নেতার কথায় আইন হতে পারে না, হবে একটা স্বৈরাচারী দানব।
৯/১১ এর পর ও প্রভাবে ইসলামের নামে নানান ধরণের রাজনৈতিক ধারা জেগে উঠেছে ও তৎপর আছে। মোটা দাগে এরা সবাই ১. খলিফা শাসন বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও ২. শরীয়া আইন এব্যাপারে একমত। এই ধারাগুলোর রাজনীতি মামুলি রাজাকার বা যুদ্ধপরাধী মামলা নয়। একে রাজাকার বা যুদ্ধপরাধী বলে চেনা বা চেনানোর শঠতা করা মানে ভাবাদর্শগতভাবে শত্রুকে খাটো করে দেখা আর বিপদকে আড়াল করা। এই ধারাগুলোর বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও লক্ষ্যের দিক থেকে এই দুটা ইস্যুতে সবাই একমত: খলিফা শাসন বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা ও শরীয়া আইন, যার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মোকাবোলা বা চ্যালেজ্ঞ করার মত ভাবাদর্শিক সংগ্রাম আমাদের করতে হবে। আধুনিকতা ধারার রাজনীতি মনে করছে একে রাজাকার বা যুদ্ধপরাধী বলে আমেরিকান ওয়ার অন টেররের কোলে বসে একে মোকাবোলা করে ফেলবে।
বাংলাদেশে সক্রিয় ইসলামিক দলগুলো সম্পর্কে আমদের ধারণাও পরিস্কার নয়। মোটা দাগে ধর্ম নিয়ে যে কোন রাজনৈতিক তৎপরতাকেই আমরা জামাতের নামে চালিয়ে দেই। জে এম বি’র রাজনীতিও জামাত কর্তৃক সৃষ্ট, ইসলামিক শাসনতন্ত্র বলতেও বুঝি জামায়াত- হরকাতুল জিহাদ বা হিজবুত তাহির বা তাহিরীর হলেও জামায়াত- লালনের মুর্তি উপড়ে ফেললেও জামায়াত- বিচারকদের ওপর বোমা মারলেও তা জামায়াত- ইসলামিক দল গুলো কোনটা কি পর্যায়ের র্যডিকেল-তার চরম পন্থার মাত্রা কি- কি তারা ভাবছে, বলছে আমাদের কোন জ্ঞান নাই……
জামায়াতের বিরোধিতায় আমাদের এই বালখিল্যতা প্রমাণ করে আমরা আমাদের মতাদর্শগত কাজ ও শত্রু সম্পর্কে কত কম ধারণা রাখি। আমাদের ঘৃণার বিপরীতে একজন জামায়াত কর্মী/সমর্থক তার নৈতিক মনোবল জড়ো করে আমাদের এই বালখিল্যতা থেকেই। সে জানে আমাদের অনেক সমালোচনাই গড্ডালিকায় গা ভাসানো, আমাদের অনেক মন্তব্যই ঢালাও।
আমাদের কারণেই ২০০৮সালেও বাংলাদেশে জামায়াত এজন্য পরাজিত শক্তি নয়। ইসলামি রাজনীতি যেমন বর্তমান গ্লোবাল রাজনৈতিক পরিস্হিতিকে যেমন ইসলামের সাথে খৃষ্টানদের ধর্মযুদ্ধ মনে করে, মুদ্রার অপর পিঠ হিসাবে বুশও ক্রসেড মনে করে - আধুনিকদের রাজনীতিকতা উভয় পক্ষের ধর্মযুদ্ধের ধারণাকেই পাকাপোক্ত করে। এগুলো থেকে সাবধান হবার সময় গড়িয়ে যাচ্ছে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জামাত ও স্বৈরাচারিতা ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মদন বলেছেন:
ভাল বিশ্লেষন...
লেখক বলেছেন: পড়ার ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ইয়র্কার বলেছেন:
লিংকের পোস্ট পড়ি নি, আপনারটা পড়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক চিন্তা, মানে আমি যদি পলিটিক্স করতাম তাহলে যেভাবে চিন্তা করতাম, অনেকটাই জামাতের মত। জামাতকে জামাতের নিয়মেই ধবংস করা সম্ভব। জামত অত্যন্ত দূরদর্শী এবং ঠান্ডা মাথার সংগঠন। তাদের চিন্তাধারার একটা উদাহরণ দেই। আপনি যে নরম ছেলেটাকে দেখে গলে গিয়েছিলেন, জামাত কখনোই তাকে ওই অবস্থায় ছাড়তো না। তাদের অপশন দুটো: ১) রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে তারা ছেলেটাকে মেরে ফেলতো, ২) রাজনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে তারা ছেলেটাকে 'যা তোকে ছেড়ে দিলাম' না বলে অনেক আদর করে ছেড়ে দিতো, কিছু বয়ানও দিতো, যাতে ছেলেটা তাদের দিকে ঝুঁকে।
আপনি যে মতাদর্শ দিয়ে মোকাবেলার কথা আজ বলছেন, তা জামাত ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বরের অনেক আগে থেকেই চিন্তা করেছিলো। এজন্য দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো। জামাতের পলিটিক্স চিন্তায়; প্ল্যানিংয়ে তারা আমলীগের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি নিখুঁত ও দূরদর্শী। ৭১এ তারা ক্যালকুলেশনে ভুল করেছিলো বলেই পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছিলো। অবশ্য তার বিপরীতটা করেও তাদের কোনো লাভ হতো না। শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রাইম মিনিস্টার হলে জামাতের লাভ কি? কিছুই না। অন্যদিকে বাংলাদেশ হারলে, যেটাই স্বাভাবিক ছিলো, জামাত একলাফে অনেকদূর এগিয়ে যেতো।
তারা যুদ্ধে হারার পরেও ঠিকই জিয়ার মতো কালপ্রিটগুলোকে সনাক্ত করতে পেরেছে, আওয়ামী লীগ ও মুজিবের দুর্বল দিকগুলো যথেষ্ট সঠিকভাবে আইডেনটিফাই করতে পেরেছে এবং তার সুযোগ নিয়েই তারা আজ স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাত আওয়ামী লীগ বা বিএনপির চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। তারা ধর্ম বেঁচে এবং তারা নিজেদের প্রয়োজনে দেশের পোন মারতে ছাড়ে না, এই কাজ দুটো আমলীগ বিএনপিও করে কম-বেশি।
জামাতের সমস্যা হলো, তাদের জনসমর্থন নেই। ৭১এর ঘটনার পরে তাদেরকে সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করে না, আওয়ামী লীগ সেই মুক্তিযুদ্ধ বেঁচে খায়, বিএনপি খায় এন্টি-আওয়ামী সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে। এই সুযোগে জামাত যেটা করে, তাদের একটা ভালো ইমেজ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে জনগণ তা দেখে বিভ্রান্ত হয়। ইনফ্যাক্ট তারা এই কাজটাতে আন্তরিকও হতে চায় হয়তো, তবে জনগণের ওপর তাদের আস্থা নেই।
তবে এভাবে চলতে থাকলে একসময় তাদের জনসমর্থনও বাড়বে। বাই এনি চান্স তারা যদি ক্ষমতায় যায়, তখন দেখবেন তাদের আসল রূপ। যে ছেলেটিকে আপনি ছেড়ে দিয়েছিলেন, আপনাকে বিপজ্জনক মনে করলেওই ছেলেটিই নির্বিকার চিত্তে আপনার রগ কেটে দিবে।
আমি জামাতি রাজনীতির মহাভক্ত। তাদের আদর্শের আমি বিরোধী; কিন্তু তাদের রাজনৈতিক চিন্তার আমি মহা ফ্যান। নিজে যদি কখনো পলিটিক্স করি, যে সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়, তাহলে আমি চোখ বুঁজে জামাতি নীতি ফলো করবো।
লেখক বলেছেন: যেটা ভাবাদর্শগতভাবে অর্জন করার কাজ সেটা বলপ্রয়োগে অর্জন করা যাবে না, যেটা বলপ্রয়োগে অর্জন করার কাজ ওটা শুকনা কথার ভাবাদর্শগতভাবে অর্জন করা যাবে না।
এটা মনে রাখলে অনেক দূর আগান যাবে।
কিন্তু আমার মনে হয় এ'পর্যন্ত কেবল আমরা বলপ্রয়োগে দিয়েই সব সমাধান খুজেছি। ভাবাদর্শের শক্তিকে আমরা এখনও জানিনি। অথচ এটা ভাবাদর্শের কাজ অনেক হাল্কা করে দিত। ভাবাদর্শের কাজ গুলো ভাবাদর্শগতভাবেই অর্জন সম্ভব।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
ভূপর্যটককে ধন্যবাদ চমৎকার লেখা উপহার দেবার জন্য।ইয়র্কারের সাথে সহমত।আমি নিজেও জামাতের সাংগঠনিক তত্ব ওদের বিরুদ্ধেই ব্যবহারের পক্ষপাতী।কারণ,এভাবেই আমরা এদের পরাজিত করতে পারব।জামাতকে আমার একধরনের আনঅফিসিয়াল সেনাবাহিনীর মত মনে হয় যাকে হারাতে হলে আমাদের প্রয়োজন হবে সুশিক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী ও আধুনিক সাংগঠনিক শক্তি।একই সাথে আমি অস্ত্র ব্যবহারেরও পক্ষপাতী।
লেখক বলেছেন: "একই সাথে আমি অস্ত্র ব্যবহারেরও পক্ষপাতী" - এটা কতটা আমরা ভেবে বলেছেন আমি নিশ্চিত নই। অস্ত্রের সাথে ন্যায্যতার সম্পর্ক আছে, আবার দেশের আইনের কনষ্টিটিউশনাল ল তে বিচার হবার সম্ভবনা তো আছেই।
আপনার অস্ত্র ধারণ অন্যকে অস্ত্র ধারণে বাধ্য করবে ও ন্যায্যতা দিবে। আবার দেশের প্রচলিত আইনের চোখে আপনি অস্ত্র হাতে নেয়া ও ব্যবহারের দায়ে ফৌজদারি অপরাধী গণ্য হবেন, ফাঁসির সাজাও শুনতে হতে পারে। জেএমবির শেখ আব্দুর রহমান ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের দায়ে আদালতে অভিযুক্ত হননি, হয়েছিলেন অস্ত্র হাতে নেয়া ও ব্যবহারের দায়ে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ফাঁসির দঁড়িতে লটকাতে হয়েছিল।
ফলে আপনার কথাটার একটা আবেগী মূল্য আমি বূঝতে পারলেও, আপনি আরও ভেবে কনসিকোয়েন্স গুলো বিচার করে দেখবেন বলে আমার বিশ্বাস।
তবে আমার এখনও মনে হয় ভাবাদর্শের শক্তি কত ক্ষমতাবান আপনার পরখ বা নজর করা হয়নি।
শঙ্খচীল বলেছেন:
সৈকত সাব, তুমি তো দেখি টিচার নামের কুলাংগার। তোমাগো মত টিচার গো লাইগায় শিক্ষাংগনে এত সন্ত্রাস। শিক্ষাংগনে সন্ত্রাস দুর করতে হইলে তুমাগো মত টিচারদের আগে সাইজ করতে হইবো। তুমি অস্ত্র ব্যভার করবা আর প্রতিপক্ষ কি ভেরেন্ডা ভাজবো ।
লেখক বলেছেন: আপনার ভাষা আপত্তিকর। তবু আপনি উইথড্র করছেন বলেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
আশা করি এ প্রসঙ্গ এখানেই শেষ করবেন।
রাগিব বলেছেন:
"শঙ্খচীল বলেছেন: শিক্ষাংগনে সন্ত্রাস দুর করতে হইলে তুমাগো মত টিচারদের আগে সাইজ করতে হইবো।"তো, আরেকটা ১৪ই ডিসেম্বরের তালিকাতে সৈকতকে যোগ করলেন নাকি? হাজার হলেও আপনার রাজনৈতিক গুরুদের হাতে গতবারের তালিকাটা প্রস্তুত হয়েছিলো, তার তত্ত্বাবধানে নতুন তালিকার কাজ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই?? আপনার ভাষাটাতো একেবারে ৭১এ পাঠানো কালোচিঠিগুলোর কপিক্যাট!! (ম্যানুয়াল থেকে কপি-পেস্ট মারা মনে হচ্ছে!)
ম্যাকলাভিং বলেছেন:
সাদা ছাগলকে জবেহ দেওনের সময় হইসে
লেখক বলেছেন: "জবেহ দেওয়ার" ধরণের কথা আসা করি না।
প্প্বপ্প্বেষপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্ম্লপ্প্ম্ম....... বলেছেন:
ঐবেটা শঙ্খচীল তোর শরম লজ্জা নাই....পুরা রামপাঠা
লেখক বলেছেন: ভাষা অস্বস্তিকর।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
দুইটা পোস্টই পড়লাম। আপনি বিশেষ যে দিকটা যোগ করেছেন তা হল, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ও সেই গতিপ্রক্রিয়ার প্রভাবে আমাদের মতো মুসলিম প্রধান দেশের স্থানীয় রাজনীতিতে কি ধরণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বা হতে পারে সেই দিকটা সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রেখে বিচারের চেষ্টা। এটা অবশ্যই করা দরকার। তাতে দ্বিমত করার কোনো প্রশ্নই আসে না।কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা এইসব ধারা ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মতাদর্শিক বিকাশ ও উন্খান, নানান বাঁক ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিস্থিতি এবং বিশ্বরাজনীতির বাস্তবতায় তাদের গৃহীত পন্থা ও কৌশলকে নির্মোহভাবে বিচার করতে চাই কিনা? সামগ্রিকভাবে বুঝার জন্য এমন কোন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারি কিনা যাতে আমাদের অপছন্দনীয়তা বা বিরোধের প্রশ্ন দ্ধারা বায়াসড না হয়ে সিদ্ধান্ত টানতে পারি। এছাড়াও প্রধান আর একটা দিক হল তথ্য ও ঘটনাকে যাচাই করার সমস্য, ভাষা না জানার ঘাটতি ও প্রপাগান্ডার সাথে মধ্যবিত্তের দীর্ঘদিনের অনিহা থেকে জন্ম নেওয়া চটজলদি মুখস্ত কিছু কথার উপর ভর করেই যে সমস্ত পপুলার উইজডম দাঁড়িয়ে আছে তাকেও মোকাবেলা করতে আমরা চাই কিনা? যদি চাই এবং প্রধানত সমস্ত কিছুর পেছনে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত আর মদদ খোজার বাতিক থেকে বেরুতে পারি তবেই একটা রাহা হতে পারে বলে আমার মনে হয়।
ইসলামী শরিয়া বা আল্লার আইনের যে রাজনৈতিক শ্লোগান ইসলামি ধারার দলগুলো দেয় তাকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আপনার চেষ্টাটি ভালো, কিন্তু অনেক বেশি সরলীকরণ করে ফেলেছেন বলেই আমার মনে হচ্ছে। এই দাবি দাওয়া গুলোর দার্শনিক বা ধর্মতাত্ত্বিক পাটাতন ও পরিমন্ডলকে ইসলামি চিন্তার ইতিহাসের মধ্যে থেকে বুঝার একটা প্রধান কর্তব্য থেকেই যায়। এটা নিছক জামাত বা নিজামী মুজাহিদের দাবিদাওয়া নয় বা কথটার মানে একটা দলের খেয়াল খুশিমত স্বেচ্ছাচারি আইন বানানোও নয়। সে দিকগুলা বিবেচনা করবেন।
তারপর কথা হল আপনি যে আস্থান থেকে প্রশ্ন করছেন বা ধরে নিচ্ছেন তারও তো একটা ক্রিটিক্যাল অবস্থান দরকার । আধুনিক রাষ্ট্রত্ত্ত্ব বা আইনশাস্ত্রের নিজের ন্যায্যতার রাজনৈতিক দার্শনিক সবগুলা তর্কেরও মিমাংসা হয়ে যায় নাই। আইনের সেক্যুলার প্রস্তাবনাও যে চুড়ান্ত দার্শনিক ন্যায্যতা প্রমান করে ফেলেছে তাও আমার কাছে মনে হয় না। প্রথাগত ধর্ম থেকে উপাদান সংগ্রহ বা ধর্মীয় উৎসই শুধু নয় প্রকরণগতভাবেও অনেক কিছুর মর্মের ভিতর ধর্মতাত্ত্বিকতা রয়ে গেছে। এইসব বিষয়ে সময়ান্তরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে।
আপনার উদ্যোগের জন্য আবারও ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: সব বিবেচনা কী এক পোষ্টে সম্ভব?
প্প্বপ্প্বেষপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্ম্লপ্প্ম্ম....... বলেছেন:
http://www.youtube.com/watch?v=uBCqpu2M3Rcআপনারা কেউ এই clip টে দেখছেন কিনা...জামাতের কান্ড কারখানা
দ্বীপবালক বলেছেন:
ভাল বিশ্লেষণ ধর্মী লিখা।
লেখক বলেছেন: খুব ভাল কথা।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
শঙ্খচীল@সন্ত্রাস আর যুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য কি সেটা তো আপনার পাকিস্তানী আর জামাতী পিতাদের ৭১ এ একবার দেখানো হয়েছে।আরেকবার দেখাবার সময় এসেছে মনে হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাইজ করা তো আপনাদের পুরনো অভ্যাস,সেই ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর থেকেই। এসব হুমকিতে যদি দেশের মানুষ ভয় পেত, তাহলে আপনাদের কি ৭১এ পরাজিত করতে পারতাম?
হলদে ডানা বলেছেন:
পড়লাম, অনেক কথাই বলার সুযোগ আছে লেখার প্রেক্ষিতে। শুধু বলবো- আদর্শের মোকাবেলা আদর্শ দিয়েই করতে হয়। শারীরিক মোকাবেলায় হয়তো সাময়িক জয় পাওয়া যায়, কিন্তু চুড়ান্তভাবে বিজয়ী হয় আদর্শ। পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে।
লেখক বলেছেন: "শারীরিক মোকাবেলায় হয়তো সাময়িক জয় পাওয়া যায়, কিন্তু চুড়ান্তভাবে বিজয়ী হয় আদর্শ। পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে" -- ভালো বলেছেন। তবে ভাবাদর্শগত মোকাবিলার অক্ষমতা থেকেই শারীরিক মোকাবেলার উপর ভরসা জন্মে।
এস্কিমো বলেছেন:
লেকচারতো ভালই মারলেন। ভন্ড না হলে বোধ হয় শিবির করা যায় না। রাজাকার, আলবদর আর বর্তমানের শিবিরের রগ কাটা, মরলে শহীদ বাঁচল গাজী - এগুলো কিভাবে মোকাবেলা করি, যদি একটু বলে দিতেন@হলদে ডানা
লেখক বলেছেন: বল প্রয়োগে সমাধান করার চেষ্টা আমি বললেও থামবে না, না বললেও থামবে না। এটা যারা করছে করবে ওদের কথা বাদ রাখেন।
যারা লিখতে পারি লিখছি তারা গালাগালি না করে যদি ভাবাদর্শগত লড়াই এর কাজটা বুঝতে সক্ষম হই - এই দিক থেকে এই পোষ্টটা নিলে এর সার্থকতা।
এস্কিমো বলেছেন:
গোলাম আজম বা নিজামির আইন? এতো ভয়াবহ। আর আল্লাহ এর নামে গোপনে নিজের খায়েস চালিয়ে দেওয়া তো ভয়ানক ব্যাপার। ধর্মের দিক থেকে দেখলে শেরেকি গুনাহ, তাঁরা আল্লাহ এর শরিক হতে চায়! নাউজিবিল্লাহ!- একমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
জাতেমাতাল বলেছেন:
জনাব ভুপর্যটক, আমার লিখার ছায়ায় আপনার লিখা পড়লাম। শেষের দিকে আপনার বিশ্লেষন আমার ভালো লেগেছে। জামায়াত কে অগনতান্ত্রিক ভাবে মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের অজান্তে আমরা রাজনীতিতে অগনতান্ত্রিকতা অনুশীলন করছি-- আমার এই মুল প্রতিপাদ্য আপনি এড়িয়ে গেছেন।এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য জানতে পারলে ভালো হতো। ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক যাই হোক, রাষ্ট্র বলপ্রয়োগের এবং এর ক্ষমতার উপর দাড়িয়ে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে গণতান্ত্রিক কোন ভাবাদর্শ প্রচার করতে গেলে তা করতে অন্য 'গণতান্ত্রিক"রা দেবে কী না এর সাথে বলপ্রয়োগের- ক্ষমতার একটা সম্পর্ক আছে।
আপাতত এগুলো মিলিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন।
আপনার "গণতান্ত্রিক" অনুশীলন বলতে বৃটেনের সমাজের কথা মাথায় রেখে কিছু আশা করা ভুল হবে।
শঙ্খচীল বলেছেন:
@ অচেনা সৈকত, আপনি যেহেতু জামাতের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করতে বলেছেন । সে কারনে আমি রাগের মাথায় সাইজের কথাটা বলেছি। এইটা কোন হুমকি বা এর সাথে ৭১ এর কোন সম্পর্ক নাই। আমি এই কথাটা উইথড্র করলাম। আপনার ও উচিত শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহারের কথাটি উইথড্র করা।
ভূপর্যটক বলেছেন:
শঙ্খচীল, সৈকত, ইয়র্কার, রাগিব প্প্বপ্প্বেষপ্প্ব্ত্রপ্প্বুপ্প্ম্লপ্প্ম্ম...... সহ সবাইকে বলছি, আমাকে মাফ করবেন। শঙ্কচীল সৈকতের মন্তব্য প্রসঙ্গ এখানেই শেষ করবেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আশা করছি না।
কানুপা বলেছেন:
খুব ভালো হইছে
লেখক বলেছেন: তাই!
আরিফুর রহমান বলেছেন:
আমার বিশ্লেষনে জামাতের চে হিজবুত বেশি বিপদজনক।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: কেন বেশি মনে হচ্ছে? কিছু ইঙ্গিত?
কিন্তু তারপরেও তো আমরা জামাত রাজাকার আর যুদ্ধপরাধ নিয়েই মেতে আছি, তাই না?
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
একটু আগেই একটা পোস্ট দিয়েছি এদের প্রতিরোধে আমার ব্যাক্তিগত মিশন নিয়ে। জামায়াত- শিবিরকে চিনি বলেই বলবো, তাদের ব্রেইন ওয়াশের শিকার আমাদের প্রজন্মটির জন্য আমরাও দায়ী। আমরা কোনো অর্থবহ প্রতিরোধ করিনি, কোন বিকল্প রাখিনি তাদের জন্য।
লেখক বলেছেন: খুব ভাল অনুভব। তো ভাবাদর্শগত লড়াই শুরু করুন।
মনজুরুল হক বলেছেন:
অপ্রাসঙ্গিক হলেও লেনিনের একটা গল্প টানিঃ একজন কৃষক লেনিনকে জিজ্ঞেস করল..' সমাজতন্ত্র মানে কি?' লেনিন খুব কম কথায় বললেন...এখন তুমি চার্চের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পার না,তখন পারবে। অর্থাৎ বলার স্বাধীনতা।
জামাত বা এই গোত্রভূক্ত ফ্যানাটিক দলগুলোর সুবিধে হলো..তারা মাছ হিসেবে পানিতে সাঁতার কাটছে! অর্থাৎ সামন্তবাদী সমাজ তাদের দর্শনের বড় বেনিফিশিয়ারী। তারা ধর্মবিশ্বাসধারী মানুষের রেডিমেড ক্ষীরের মধ্যে শুধু লবনটুকু দিচ্ছে, মিনিমাম একটৃ খাটনি করেই। আর জামাত বা ওই গোত্রের ফ্যানাটিকদের উচ্ছেদ করতে চাওয়া মুক্তবুদ্ধির বা মুক্তচিন্তার মানুষদের স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে চিন্তার লড়াই করে যেতে হচ্ছে।
আমি জানি না কি ভাবে কি হবে? তবে'হওয়ানোর' ইচ্ছাটা ধারাবাহিক রাখা অত্যন্ত জরুরী।
লেখক বলেছেন: বলেছেন: 'হওয়ানোর' টা কঠিন কিছু নয়। তবে চাইতে হবে।
আর যতদিন সমাজে অমানবিকতা থাকবে, ধর্ম থাকবে। ধর্ম কী তা বুঝতে চেষ্টা করুন। ধর্ম শুনলেই নাক সিটকানো, মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে একে মোকাবিলা করা যাবে না। চাই কী বায়তুল মোকার্রমে দু-চারটে বা সব জামাত কর্মী পিটিয়ে মেরে বা লাশের উপর নৃত্য করে জিঘাংসা আক্রোশ মিটবে, ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব বা জামাতের মত সংগঠন জন্মানোর শর্ত বিলীন হবে না। এমনকি কোন এক সকালে যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়ে গেলেও এসব যাবে না। ধর্মের পর্যালোচনা মোকাবোলার ভাবাদর্শগত কাজ এড়িয়ে কিছুই অর্জন করা যাবে না। ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ লাগবে, তবেই ধর্মের বয়ানে আমানবিক, অবিচারের বিরুদ্ধে ফরিয়াদ হিসাবে অসহায়ের আল্লাহর কাছে বিচার দাবি উঠা বন্ধ হবে। বিচার এই দুনিয়াতেই সম্ভব - তা করে দেখাতে হবে, করে আস্থা অর্জন করতে হবে। এর আগে পর্যন্ত ধর্ম আফিং এর সাময়িক বেদনানাশক ভুমিকার মত কাজ করে যাবে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














