আমার প্রিয় পোস্ট
- ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ানদের জোচ্চুরি
(আসুন কিছু হিন্দি গানের অর্জিনাল ভার্সন শুনি) - আলআমিন মিরাজ
- স্মৃতি ১৯৭১ (শেষ পর্ব) - সুরঞ্জনা
- ফিরে দেখা ২০১০ : বছরজুড়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে যা কিছু আলোচিত-সমালোচিত... - ফিউশন ফাইভ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সব বই ডাউনলোড করুন - মো: হারুন-অর-রশিদ
- সামহোয়্যারইন ব্লগ : সপ্তাহের নির্বাচিত পোস্ট (১৬ আগস্ট - ২২ আগস্ট) - ফিউশন ফাইভ
- এবার প্রেসের কাজে বাংলা লিখুন ইউনিকোডেই একদম সরাসরি ফটোশপ (মেহেদী ভাইয়ের নতুন পোস্ট) - টেকি মামুন
- পলিটিক্স কে পলিটিক্স ছাড়া কোনো সুশীল তরীকায় মোকাবেলা করা যায় না! - কৌশিক
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমগ্র রচনাবলী অনলাইনে - বংশী নদীর পাড়ে
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান - অরূপ
- গুগলের বই ডাউনলোড - মানিক হাসান
- কিভাবে আপনার উইন্ডোজের গতি বাড়াবেন? - কমপিউটার জগৎ
- যে কারনে পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলাম (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও নির্যাতিত সকল সূর্য-সন্তানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা সহ) - মিরাজ
- চলমান পুঁজিবাদী সংকট থেকে উত্তরণ ( - দিনমজুর
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- জিএম শস্যের ভালো মন্দ - দিনমজুর
অধ্যাপক জাফর ইকবাল: ব্যক্তির সামাজিক ভুমিকার প্রশ্নে
০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫০
অধ্যাপক জাফর ইকবালকে নিয়ে সমাজে বিশেষত এই ব্লগে আলোচনা সমালোচনার শেষ নাই। তাঁর সম্পর্কে কথা উঠলে আমরা সহজেই দুটো বড় ভাগে ভাগ হয়ে কথা বলতে দেখি। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। আসলে ভেবেছি মূলত সমাজে ব্যক্তির ভুমিকা কী হতে পারে তা নিয়ে। সমাজে ব্যক্তির ভুমিকা অর্থাৎ ব্যক্তি যে কাজটা করে সমাজের কথা ভেবে, নিজের লাভ লোকসান টাকাপয়সা কামানো ওখানে একেবারেই গৌণ; পুরানো দিনের ভাষায় বললে, যখন আমাদের সমাজে এনজিওর দৌরাত্ম শুরু হয়নি তখন, আমরা বলতাম দাতব্য বা জনহিতৈষীমূলক কাজ। মূলত এগুলো ভলিনটিয়ারি কাজ, এনজিও আবির্ভাবের আগে আমাদের সমাজে এগুলো তাই ছিল, এখন এনজিও এলোমেলো করে দিয়েছে তবু তারপরেও এখনও অনেক কিছু জীবিত সচল আছে।
এসব সামাজিক জনহিতৈষীমূলক কাজকে আবার দুইভাগে ভাগ করে দেখতে পারি: সরাসরি রাজনীতি বা রাজনৈতিক কাজ ও সামাজিক কাজ। সামাজিক কাজ মানে জনসচেতনতামূলক, যেমন ডা. ইব্রাহিমের ডায়াবেটিক সচেতনতা আন্দোলন, লাইব্রেরি বা বই পড়া, স্বাস্হ্য আন্দোলন, বাচ্চাদের টীকা খাওয়ানো ইত্যাদি।
অনেকের ধারণা হতে পারে রাজনীতি বা রাজনৈতিক কাজের সাথে তুলনায় সামাজিক কাজগুলো নিরামিশ ধরণের এর কোন রাজনৈতিক মানে নাই। কথা ঠিক সত্যি না; সব কাজেরই একটা রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকে, সে হিসাবে সামাজিক কাজেরও একটা রাজনৈতিক মানে, চাইলে ওর রাজনৈতিক রংও জানা সম্ভব; তা সত্ত্বেও এগুলো অপ্রত্যক্ষ, সামাজিক গঠনমূলক কাজের দিকটাই ওখানে মুখ্য পরিচয়।
এখন ব্যক্তি ভলিনটারিলী সামাজিক ভুমিকা রাখতে রাজনৈতিক বা সামাজিক যেকোনটা বেছে নিতে পারেন, আমরা তাই হতে দেখি। অনেকের ধারণা, সমাজে রাজনৈতিক ভুমিকাটা সামাজিক ভুমিকামূলক কাজের চেয়ে বেশি অবদানমূলক। এধারণা সত্যি না। সমাজের প্রয়োজনের দিক থেকে কোনটার চেয়ে কোনটা খাটো না, একেবারেই না। তবে রাজনৈতিক কাজের প্রভাবটা যতটা ঢাকঢোল পিটিয়ে হাজির হয়, সামাজিক কাজের প্রভাবটা যেন ততটাই সঙ্গোপনে সমাজের গঠন তন্তুতে হাজির থাকে, টের পেতে চাইলেই কেবল বুঝা সম্ভব।
তবে আমাদের সমাজে একই ব্যক্তির ভিতরে এই দুই ভুমিকাও দেখি এবং দুই ভুমিকাকে আলাদা আলাদা করে চেনাও সম্ভব।
সমাজে ব্যক্তির ভুমিকা নিয়ে এই আলাপের আলোকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে নিয়ে আমার নিচের কথাগুলো সাজিয়েছি।
________
অধ্যাপক জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন বিদেশে শিক্ষা, চাকরি সহ নানা কিছু অর্জনের পর দেশে ফিরেছেন। সচরাচর ঘটে না এমন একটা ঘটনা বটে এটা। সমাজে ব্যক্তির ভুমিকা কী হতে পারে বা কী ভুমিকায় তিনি নিজেকে নিজের সমাজে দেখেন -
এ নিয়ে তিনি কী তখন ভেবেছিলেন আমরা একেবারে স্পষ্ট না জানলেও এটা আজ পরিস্কার যে সে ভাবনা বড় অগোছাল রেখেছিলেন তিনি। অথচ দেশে ফিরে তাকে সবার আগে ঠান্ডা মাথায় নিজের সাথে বসে ঠিক করতে হত তিনি ঠিক কী করতে চান, কি পরিচয় তিনি সমাজকে দিতে চান: সামাজিক গঠনমূলক কাজের কর্মী, না রাজনৈতিক কাজের কর্মী।
তিনি এমনভাবে দুটোই করতে গিয়েছেন যে বিবাদের শুরু এখান থেকেই।
যদিও দুটোই একসাথে করা সম্ভব, যদি যোগ্য কর্তা হন।
আজকে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি, সামাজিক গঠনমূলক কাজে তিনি যতটা স্বীকৃত, গ্রহণীয়, আদরণীয়, রাজনৈতিক কাজের জন্য ঠিক বিপরীতে তিনি নিজেকে বিতর্কিত, ম্লান করে ফেলেছেন।
সম্ভবত গোলমালের প্রধান কারণ হলো, রাজনীতিকে জ্ঞানের বিষয় হিসাবে সিরিয়াসলি একে তাঁর কখনই নেয়া হয় নাই। এটা তাঁর দোষের নয়, কারণ রাজনীতি তাঁর চর্চা বা পেশার বিষয় নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আধাখেচড়া রাজনৈতিক ভুমিকা রাখতে গিয়ে সামাজিক গঠনমূলক কাজে যে পরিচয় তিনি গড়ে ছিলেন তাতেই কাদা মাখিয়ে ফেলেছেন।
আবার, রাজনীতি আর দলবাজি যে এক জিনিষ নয় - এই ফারাক বজায় রাখতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, একেবারেই সতর্ক নন তিনি।। যদিও আবার তিনি ব্যাপারটা একেবারেই বুঝতেন না তা নয় বলেই আমার মনে হয়।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনী্তির নামে খাঁটি দলবাজি ও পেটিস্বার্থের লড়াই চলে, আমরা সবাই জানি; শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করতে গিয়ে এব্যাপারে অসতর্কতার কারণে এমন ফ্যারে তিনি আটকে যান যে ও থেকে বের হতে গিয়ে কখন নিজের গায়ে বাজে রং লাগিয়ে বসে আছেন তিনি টেরও পাননি। তাঁর ব্যবহারিক সমস্যার শুরু এখান থেকে।
পত্রিকার কলাম তিনি লিখতেই পারেন তবে ওর বিষয় রাজনীতি - এটা বেমানান। কারণ রাজনীতিকে তিনি সিরিয়াস জ্ঞানের বিষয় হিসাবে কবুল করেন নি, সবাইকে করতেই হবে এমনও কোন কথা নাই। যে বিষয় নিয়ে যথেষ্ট ভাবেন নি, তৈরি নন, একে হাল্কা করে নিতে গেলে হিতে-বিপরীত হবারই কথা; ওর আঁচে, তার সামাজিক পরিচয় কাজের সঞ্চয় ধুলায় লুটানোরই কথা । দুঃখজনকভাবে তাই হয়েছে।
এটা আরও বেশি বিপদজনক হয়ে গেছে কারণ, আমাদের সমাজ গঠনের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ এমন বহু বহু রাজনৈতিক বিষয়, আমরা না চাইলেও, সেগুলো অমীমাংসিত হয়ে আছে, ফলে সমাজ বড় বড় ধরণের বিভক্তিতে ডুবে আছে, সোজা লাইন টেনে এটা ভাগ হয়ে আছে। এই পরিস্হিতিতে কেউ যদি টের পায় তিনি রাজনীতিকে জ্ঞানের বিষয় হিসাবে সিরিয়াসলি নেননি, সবাইকে নিতে হবে এমনও কোন কারণ নাই - তাহলে রাজনৈতিক উঁকি দেওয়া কোন কাজ, পদক্ষেপ মারাত্মক হতে বাধ্য। কারণ, ওনার চিন্তা ও নিজের সামাজিক ভুমিকা সম্পর্কে ভাবনা, মানসিক প্রস্তুতি - এই পরিস্হিতির সাথে সামজ্ঞস্যপূর্ণ নয় বলে তাঁর এসব ফাঁদ এড়িয়ে নিজের সামাজিক ভুমিকায় মনোনিবেশ, কাজের জায়গা বের করে নেওয়া হত বুদ্ধিমানের কাজ। অথচ এই বৈপরীত্য নিয়েও তিনি হাটতে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের বিশেষ পরিস্হিতিতে সামাজিক ভুমিকা রাখতে ও কার্যকর নিজের শ্রম অনুযায়ী সফলতা পেতে গেলে (যেমন গণিত আন্দোলন) রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে হবে, আর না হলে রাজনীতিকে সিরিয়াস জ্ঞানের হিসাবে গ্রহণ করতে হবে; আমাদের মারাত্মক বিভক্ত সমাজে, মাঝামাঝি কোন পথ নাই, সমাজ রাখে নাই।
এজন্য যতদিন যাচ্ছে তিনি নিজেকে ম্লান করে ফেলছেন; আমরাও তাঁর সম্পর্কে আমাদের ভাল লাগা বোধগুলো ধরে রাখতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। শুধু আপনার পোষ্টেই নয়, জাফর ইকবালের প্রসঙ্গ উঠলেই আমাদের সবার এই দশা হয়।
এটা আজও অপরিস্কার এ থেকে আমরা মুক্তি পাব কিনা।
মানুষের সামাজিক কাজ, ভুমিকা আমাদের সমাজে রাজনৈতিক ভুমিকার চেয়েও বিশাল গুরুত্ত্বপূর্ণ হতে পারে - একথা কী আমরা তাকে বুঝাতে পারব? আমার জানা নাই!
ফুটনোট: এত জিনিষ থাকতে গণিত কেন তিনি বেছে নিলেন? কেন মনে হলো, গণিতে নতুন প্রজন্মকে আগ্রহী করা দরকার?
আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন, ধর্ম মানুষকে কুপমন্ডুক করে রেখেছে; এই কুপমন্ডুকতা মুক্ত করতে বিজ্ঞানের জুড়ি নাই। তাই সেখান থেকে ভাবনায় মিলিয়ে সমাজকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে তাগিদ অনুভব করেন।
সাধারণভাবে বললে সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ভাবনা চিন্তায়, বিজ্ঞানে আগ্রহী করার প্ররোচিত করার খুবই দরকার আছে, এছাড়া মুখস্ত বিদ্যার কালচার থেকে বের করে আনাও দরকার। এসবের প্রভাব হবে নিঃসন্দেহে খুবই ইতিবাচক।
কিন্তু একাজের উদ্যোক্তাদের যদি মনে হয়ে থাকে তাদের এই উদ্যোগের মুল লক্ষ্য হোল এই যে, সমাজকে ধর্ম বা ধর্মের কুপমন্ডুকতা মুক্ত করতে তাঁরা একাজ হাতে নিয়েছেন; ধর্মের বিপরীতে এজন্য বিজ্ঞানকে খাড়া করতে চান তাঁরা - ফলে তাদের শ্রমের অগ্রগতি মাপবেন এখান থেকেই - তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তাঁরা যে বড় রকমের হতাশ হবেন এটা আগেই বলা যায়। আমি স্পষ্ট জানি না এই ধরণের ভাবনা বা rationale তে তাঁরা ভুগছেন কি না? না ভুগলে সবচেয়ে ভাল; তাদের অবদান সমাজে অগ্রগতি আনবে, অবশ্যই। আমি তাদের প্রশংসা করি।
আর যদি সে ধরণের ভাবনা বা rationale তে ভুগেন তবে, জ্ঞানের জগতে ধর্ম ও গণিতের সম্পর্ক কী এসম্পর্ক কিভাবে কতটুকু তা টানা সম্ভব, নাকি আদৌ তা সম্ভব নয় একটা আর একটার পিঠে দাড়িয়ে আছে তাই - এসব বিষয়ে আগে ভাবনা চিন্তা করতে বলব। এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান হাতে পাবার আগে ওসব ভাবনা আপাতত তুলে রাখাই ভাল। ওসব ভাবনা বা rationale না টানতে পারলেও তো সামাজিক কাজ করা যায় এবং তা সমাজের জন্য বিশাল গুরুত্তপূর্ণও বটে।
[এই লেখার মাঝের কিছু অংশ আগে অন্য এক পোষ্টের মন্তব্য হিসাবে লিখেছিলাম।]
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সমাজ, ব্যাক্তি সামাজিক, রাজনৈতিক, জাফরইকবাল ;
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিবেকের কথা বলেছেন:
অধ্যাপক হিসাবে তার Publications কেমন?লেখক বলেছেন: Publications কেমন সেটা এই আলোচনার প্রসঙ্গ নয়।
দয়া করে একটু বুঝবার চেষ্টা করেন। এটা কেবল জাফর ইকবাল বলে নয় আমরা সামাজিকভাবে এসব সমস্যায় আছি। সমস্যা বুঝাটা জরুরী। ব্যক্তি জাফর ইকবালও সে বিচারে বিষয় নয়।
Publications বিষয় নিয়ে আমরা আবার কোথাও আসর বসাব।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন। তবে আমার মনে হয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই তাঁর এই দেশে আবির্ভাব ঘটেছে। অন্তত তাঁর কাজকর্মে তারই প্রতিফলন বেশি দেখা যায়। আর বিদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসাকে যারা দেশপ্রেম ভাবে তাদের চিন্তা ভাবনায় দৈনতার ছাপ স্পষ্ট। অনেক বিদেশি লোককেও আমরা বাংলাদেশে কাজ করতে দেখি। তার মানে এই না যে তারা এই দেশের প্রেমে পড়ে এখানে কাজ করতে এসেছেন।
লেখক বলেছেন: আপনার অনেক রাগ জমা আছে বুঝতে পারছি।
আমি লিখিনি, কিন্তু আপনি এনেছেন, দেখছি "দেশপ্রেম বিষয়ক চিন্তা"র কথা। এটা আমার প্রসঙ্গ নয়।
আর মানুষকে ফেরেস্তার আসনে বসিয়ে ভাবা কী ঠিক হবে! মানুষ তো মানুষই, দোষেগুণে।
দয়া করে একটু বুঝবার চেষ্টা করেন। এটা কেবল জাফর ইকবাল বলে নয় আমরা সামাজিকভাবে এসব সমস্যায় আছি। সমস্যা বুঝাটা জরুরী। এক ব্যক্তি জাফর ইকবাল সে বিচারে বিষয় নয়।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
হুমম ইন্টারেস্টিং এনালাইসিস। তাঁর rationale মর্ডাণ তাই সাইন্টিফিক তাই সেক্যুলারিস্ট তাই লিবারাল ডেমোক্রেটিক কিন্তু প্র্যাকটিস ও প্র্যাকসিস কখনোই শতভাগ তত্ত্ব মানে না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরৎ। আপনি সে অর্থে rationale এর মানে খুজেছেন এউ মানে আমি করিনি। এটা স্রেফ লজিক, একটা যুক্তি, লজিকের শেষপ্রান্তের কথা - এই সহজ সীমায় এই অর্থ করতে চেয়েছে।
আর দুঃখের কথা আপনাকে কী বলব, আমি মর্ডাণ নই হতেও চাইনা। অনেক ভারী শব্দ আপনি এনেছেন আমি ভারাক্রান্ত হতে চাই না।
কোন ষ্ট্রাকচার মেনে এগুলো লিখিনি। তবে যদি পেয়ে যান সে কৃতিত্ত্ব আপনার। ভাল থাকবেন।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
এই যে, বলতে না বলতেই একজন ননসেক্যুলার এর পলিটিক্যাল পজিশনালিটি প্রকাশিত হয়ে গেল। পোষ্টের মন্তব্য ক্রম দেখতে ইচ্ছে করছে। প্রিয়তে গেল।
লেখক বলেছেন: দেখতে থাকুন। দেখার জন্যই তো পোষ্ট। সাথে থাকুন।
বিশ্বশান্তি বলেছেন:
জাফর ইকবালের (মুরগী জাফর) অন্ধ ভক্তদের প্রতি অনুরোধ তার সম্পর্কে একটু খোজ-খবর নিয়ে ভাল করে জানুন। আমি কয়েকটি বছর উনার পাশে থেকে দেখেছি। যারা উনার বই পড়ে, নাটক দেখে ভক্ত হয়েছেন অথচ কোন দিন হয়তো উনার সাথে একটি কথাও বলেননি তারা যখন আমাদেরকে জাফর সম্পর্কে জ্ঞান দেন তখন অবাক হই।
লেখক বলেছেন: সবার আগে আপনাকে নিরস্ত্র হতে হবে। আপনার "মুরগী জাফর" শব্দটা আমার লেখার স্পিরিট, এই আসরের সাথে একেবারেই বেমানান। আমরা সবাই যে যার যেমন লাগে মন্তব্য করছি আপনি করুন আমি নিশ্চিত এই শব্দ ব্যবহার না করলেও আপনি যা বলতে চান বলতে পারবেন এবং আমরাও অবশ্যই টা বুঝতে পারব। সেই খাতিরে শব্দটা প্রত্যহার করে নেন।
সিউল রায়হান বলেছেন:
@ ত্রিভুজ:"আর বিদেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসাকে যারা দেশপ্রেম ভাবে তাদের চিন্তা ভাবনায় দৈনতার ছাপ স্পষ্ট।অনেক বিদেশি লোককেও আমরা বাংলাদেশে কাজ করতে দেখি। তার মানে এই না যে তারা এই দেশের প্রেমে পড়ে এখানে কাজ করতে এসেছেন"
- আপনারে কিছু বলার নাই...... আপনি কি ভার্সিটি স্টুডেন্ট ছিলেন অথবা আছেন ??? আমার মনে হয় না ছিলেন.... থাকলে এ কথা বলতেন না কারণ তখন আপনার সাথে অনেক প্রফেসরের পরিচয় হত যারা বাইরের দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন.....বাইরের দেশে পাওয়া সবরকম ফ্যাসিলিটি ছেড়ে টিচারদের দেশে ফিরে আসাতে আপনার মত মানুষরাই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা'র ছাড়া অন্য কিছু খুঁজে পেতে পারে
একজন বিদেশী লোকের চাকুরীসূত্রে বাংলাদেশে কাজ করা এবং একজন উচ্চ বেতনের চাকরী ছেড়ে ফিরে আসা প্রফেসরের মাঝে পার্থক্য কি সেটা আপনি বুঝতে পারবেন বলেও মনে হয়না..... আপনারে কি বলা উচিত বুঝলাম না... একদমই না.....
বেশিদূর যেতে হবে না.... আমাদের ডিপার্টমেন্টের মাসুদ হাসান স্যার কানাডায় গেলেন পোস্ট ডক্টরেট করতে.... উনি দেশে ফিরে এসেছিলেন কেন ??? অথবা পোস্ট ডক্টরেটের পরে আবার ফিরবেন কেন ??? সোহেল রহমান স্যার , কায়কোবাদ স্যার এনারা কেন দেশে ??? আপনার মন্তব্যটা জানতে চাই
যাই হোক, আপনারে কিছু বললে আপনার কাজ রিপোর্ট করা....... আপনাকে আমি এখন "গর্দভ ও কুয়োর ব্যাঙ ও ছাগল" বললাম..... যান, গিয়ে রিপোর্ট করেন
লেখক বলেছেন: ভাই সিঊল রায়হান, আমাকে মাফ করা যায় না।
বিদেশ থেকে আসা, দেশপ্রেম এগুলো নিয়ে আমি কথা বলিনি এগুলো প্রসঙ্গ নয়। একই কথা ত্রিভুজকে বলছি ।
আমি চাই না এই পোষ্ট আপনাদের এই অপ্রাসঙ্গিক ঝগড়ার যায়গা হোক। এরপর এনিয়ে আপনারা কেউই আর মন্তব্য করবেন না।
লেখক বলেছেন: আমি নিশ্চিত, পাঁচ বছর ছাত্র ছিলেন এজন্য নিশ্চয় লেখা দূর্বল বলছেন না। আপনার ভাল কিছু স্মৃতি নিশ্চয় আছে। এগুলোর গায়ে টোকা দিয়ে ফেললে মাফ করবেন। আমার এরকম কোন ইনটেনশন নাই।
তবু লেখা দূর্বল কেন বললেন আমার জানা হলো না।
হাসিব মীর বলেছেন:
সামাজিক গঠনমূলক কাজে তিনি যতটা স্বীকৃত, গ্রহণীয়, আদরণীয়, রাজনৈতিক কাজের জন্য ঠিক বিপরীতে তিনি নিজেকে বিতর্কিত, ম্লান করে ফেলেছেন।আমার মনে হয় সামাজিক গঠনমূলক কাজ রাজনৈতিক কাজের জন্য গ্রহনযোগ্যতা তৈরির একটা প্রক্রিয়া মাত্র।এইটা সুবিধাবাদী প্রক্রিয়া তা আমি বলবো না, বরং যথেস্ট কার্যকর প্রক্রিয়া। যে জায়গাটাতে জাফর ইকবালের সমস্যা তা হল তার এই সামাজিক কাজ যে রাজনীতির জন্য সেই রাজনীতিটাকে তিনি কখনো ক্রিটিকালি পর্যালোচনা করেন নাই।ফলে তার রাজনীতির সাথে এক্মত বা দ্বিমত হওয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিকাশ ঘটে নাই সমাজে। একই সাথে আমাদের চরম বিভক্ত সমাজে বিপরিত মতাদর্শকে আপনি কতটা সম্মান সহকারে একাদেমিক পর্যালোচনা করতে রাজি আছেন তাও গুরুত্বপুর্ন। এই পর্যালোচনা বাদেই যখন বিপরিত মতাদর্শকে যখন জাফর ইকবাল একেবারে খারিয করে দেন তখনি আমাদের কাছে মনে হয় তার গায়ে খুব সস্তা একটা রঙ লেগে গেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কম বেশি এটাই আমি বলতে চেয়েছি।
তবে, তাঁর রাজনৈতিক কোন সিরিয়াস ভাবনা আছে, জ্ঞানের বিষয় হিসাবে নিয়েছেন - এটা আমি মানি না। বরং তাঁর মত মানুষের একাজ তাকে সে পরিমাণ নীচুতে নিয়ে গেছে সেটা বুঝবার দশাতেই তিনি নাই। এটাই সবচেয়ে দুঃখের বিষয়।
বুদ্ধিমান মানুষ যা গভীরভাবে ভাবে নাই, চিন্তা করা হয় নাই তা নিজের ভিতরে রাখে, পাবলিকলি বলে নিজেকে খাটো করে না।
ত্রিভুজ বলেছেন:
@সিউল রায়হানএই দেশে MIT থেকে আসাও অনেক বড় বড় বিদেশি লোক কাজ করছেন। তারা তাদের নিজেদের দেশেও অনেক উচ্চ বেতনভুক্ত ছিলেন। আর জাফর ইকবালের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনটাই যে একটা চাকুরী নয় সেটা কিভাবে নিশ্চিত হলেন? আমি তো বলেছি, তিনি রাজনৈতিক মিশন নিয়েই এই দেশে এসেছেন। মাঝখান থেকে তরুন প্রজন্মের কাছে ভাল সাজার জন্য বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু তাঁর নিজের ব্যক্তিজীবনেই তার কোন প্রতিফলন দেখা যায় না।
ড. জাফর ইকবালের দায়বদ্ধতার নমুনা গত একবছরে আমরা ভালই দেখেছি। ড. জাফর ইকবাল যা করছেন সেটা দলপ্রেম থেকে করছেন, দেশ প্রেম থেকে নয়।
আর গালির বিষয়ে একটা কথা আগেও বলেছি আবারো বলি- জাফর ইকবালদের ভক্তদের ভেতরে যে কিছু মৌলিক বিষয়ের মিল আছে। এই বিষয়ে মাত্র দুইদিন আগেই আমার একটা পোস্টের ২৪ নং মন্তব্যের জবাবে বলেছিলাম - Click This Link
লেখক বলেছেন: " তিনি রাজনৈতিক মিশন নিয়েই এই দেশে এসেছেন" - সরি ত্রিভুজ আমাকে বলতেই হচ্ছে This is too much. এটা বলা ঠিক হয়নি, অগ্রহণযোগ্য। কমিউনিষ্টদের এককালের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মত শোনাল। এগুলোর দিন এখন শেষ হয়েছে।
আপনি রাগের ক্ষোভের মাথায়, যাকে পছন্দ করেন না সেকারণে তার কোন ভাল দিক থাকলে তার গায়ে কালি লাগিয়ে দিবেন - চিন্তার পদ্ধতি হিসাবে এটা খুবই খারাপ।
এতে আপনার কথা আর মানুষ সিরিয়াস ভাবে যাতে না নেয় সে পথ তৈরি করছেন।
"তাঁর নিজের ব্যক্তিজীবনেই তার কোন প্রতিফলন দেখা যায় না" - আপনি আমি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলনে কি পেরেছেন কী পারেন নি এটা দেখার কে? সে বিচারে বসার আহাম্মকি আমারা কেউ করতে পারি না। আমার বিচারের বিষয়ও তা নয়।
আর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন কথাই যদি বলেন তাহলে তো দেখা যায়, খেলায় দল গড়ার সময় এগার জন খেলোয়ার না খুঁজে এগারো জন ভাল কোচ খুঁজার মত পরামর্শ দিচ্ছেন আপনি।
সাপিয়েন্স বলেছেন:
আমরা আম জনতা কি এই ব্যক্তির প্রসঙ্গ থেকে একটু রেহাই পেতে পারি এখন? বই মেলার সময় না হয় আবার শুরু করবেন স্যারের পরামর্শ মত।
লেখক বলেছেন: ভাই আমার তো এখন মনে হচ্ছে ভুল পোষ্ট দিয়ে ফেলেছি, আমার কথা বুঝার লোকজনের বড়ই অভাব।
ভেবেছিলাম, "স্যারের পরামর্শ" শোনার ও শুনানোর সুযোগ পাব।
আমি ছাড়া সবাই ভাল বলেছেন:
আপনার লেখার পাঠক আমি।যেমন জোরালো ভাবে শুরু করেছেন মাঝখান থেকে অগোছালো মনে হয়েছে।নো রেটিং
লেখক বলেছেন: আমি আমার পাঠক হারাতে চাই না।
যেখান থেকে অগোছাল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে তা যদি একটু মনে করিয়ে দিতেন? আপনার ঋণ স্বীকার করতে চাই।
রেটিং দরকার নাই, মাইনাসও দিতে পারেন।
বিশ্বশান্তি বলেছেন:
শাবিতে উনার একটা ডাক নাম আছে। এটা কোন দলীয় নাম না। সবাই মজা করে (মুরগী জাফর ) বলে। তাই বলছিলাম। ঠিক আছে শব্ধটা ডিলিট করে দেন। আর এই কমেন্টটি ও ডিলিট করে দিবেন। ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: অনেক ভাল লাগল। আপনার সাহসের প্রশংসা করি।
একটা শব্দ ডিলিট করা যায় না টেকনিক্যাল কারণে। আর দরকার কী সবই থাক। আপনি যখন আপনার মনোভাব ব্যক্ত করতে পেরেছেন, সামলাতে পেরেছেন, আমি আপনাকে কি বলেছি তা ধরতে পেরেছেন - এটাই তো বিরাট বড় সাহস। সবাই পারে না। আপনার সাহসের প্রশংসা না করতে জানলে আমরাই আপনার চেয়ে খাটো হয়ে থাকব। তাই না!
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বিশ্বশান্তি, ভাল থাকবেন।
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
ঐ ব্যাটাকে সম্পূর্ণ ভুল ভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন।আপনি বললেন
অথচ দেশে ফিরে তাকে সবার আগে ঠান্ডা মাথায় নিজের সাথে বসে ঠিক করতে হত তিনি ঠিক কী করতে চান, কি পরিচয় তিনি সমাজকে দিতে চান: সামাজিক গঠনমূলক কাজের কর্মী, না রাজনৈতিক কাজের কর্মী।
এই ২ টার কোন একটাও ঐ ব্যাটা হতে চায়নি বলেই মনে হয়। বরং বলতে পারেন, একজন "সমাজ সচেতন, আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক" আর "পপ লেখক" হতেই চেয়েছেন। আপনার বিশ্লেষণ এ বাবদে সম্পূর্ণভাবেই ভুল।
আরো বললেন
পত্রিকার কলাম তিনি লিখতেই পারেন তবে ওর বিষয় রাজনীতি - এটা বেমানান। কারণ রাজনীতিকে তিনি সিরিয়াস জ্ঞানের বিষয় হিসাবে কবুল করেন নি, সবাইকে করতেই হবে এমনও কোন কথা নাই।
আবারো ভুল। তিনি রাজনীতি বিশ্লেষক হিসাবে এই লেখ গুলা লেখেন নাই, বরং ১.একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে, ২.ভার্সিটি শিক্ষক হিসাবে তাকে এবং সর্বোপরি ৩. ৭১ এর একজন হিসাবে যেসব রাজনীতির মুখোমুখি হয়েছেন, সেইটা নিয়েই লিখেছেন। এবং ৭১ নিয়ে তার কঠোর অবস্থানই অনেকটা তার বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
৭১ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলে তার ৩ টা জিনিস হয়েছে
১. ঐ সময়ের রাজাকার-আলবদর ইত্যাদি গনবিরোধী, গণহত্যাকারী বাহিনী এবং তাদের বর্তমান অভয়াশ্রম জামাত শিবিরের প্রতি তীব্র ঘৃণা
২. ৭১ এ নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন
৩. ধর্মের নামে যেসব পাপাচার হয় (যেমন বাংলাদেশের শোষণ আর ৭১) তার ঘোর বিরোধীতা।
আর লেখার শেষে এসে বোঝা গেল, তার কথিত ধর্মবিরোধীতাই আপনার তার প্রতি বিরাগের কারণ। তাকে ধর্ম বিষয়ে উৎসাহী হতে দেখা যায় না এটা ঠিক, কিন্তু তার যেসব কাজকে ধর্মবিরোধী মনে হয়, তার প্রায় সবই উপরোল্লিখিত ৩ নং পয়েন্ট প্রসূত।
ভুল বিশ্লেষণের কারণে লেখায় মাইনাস।
লেখক বলেছেন: আপনার মাইনাস আমাকে ভাল লেগেছে।
আমার কোন বিরাগ নাই, একটা মিক্সড ক্যারেকটারকে নানান দিক থেকে দেখার চেষ্টা করেছই মাত্র।
১৯৭১ এর সাথে ধর্মবিরোধীতার আদতে কোন সম্পর্ক নাই। একটা আবেগ দিয়ে ভাবতে বসলে অসতর্কে সে সময়ে তা মনে হত হয়ত। কিন্তু এখনও সেও অসতর্ক আবেগ ফিরে জাগাতে চাইলে এটা কোন অধ্যাপকের বিচারবুদ্ধির উপর উনার নিজনিজেই অনাস্হা আনার আনার মত একটা কাজ হবে।
একজন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর কাছেও ধর্মের বিরোধীতা কোন ইস্যু নয়।
এজন্য আরও স্পষ্ট করে বলেছিলাম এসবের আগে, ধর্ম আর গণিতের সম্পর্ক নিয়ে তাঁকে ভাবতে বলেছিলাম, ভেবে আমাদের কিছু জানাক - এটাই চাই।
নইলে আপনি ঠিকই বলেছেন তিনি অধ্যাপক নন আসলেই একজন "সাধারণ মানুষ"।
ত্রিভুজ বলেছেন:
@লেখকরাগ নয় মূলত.. তবে বিরক্ত বলতে পারেন। আর আপনার "অধ্যাপক জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন বিদেশে শিক্ষা, চাকরি সহ নানা কিছু অর্জনের পর দেশে ফিরেছেন। সচরাচর ঘটে না এমন একটা ঘটনা বটে এটা।" লাইনের কারণে আমার বক্তব্যে "দেশপ্রেম" ঢুকে গিয়েছে। একজন লোক বিদেশে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসাকে এত মহৎ কিছু ভাবার কারণ নাই, কারণ এমনটাই হওয়ার কথা। আর ড. জাফর ইকবালই দেশে ফিরে আসা একমাত্র ব্যক্তি নন। তাই 'সচরাচর ঘটে না এমন একটা ঘটনা বটে এটা' বলা মনে হয় ঠিক না। এমনটা বলেন তারাই যারা বিষয়টাকে তাঁর "দেশপ্রেম" হিসেবে দেখাতে চান।
আর আপনার বক্তব্যের সাথে একমত। আমরা আসলেই সামাজিক ভাবে এসব সমস্যায় আছি। ঐ প্রসঙ্গে একমত হওয়াতে কিছু বলিনি। যা বলার আপনিই সুন্দর করে বলে দিয়েছেন। (এই লেখার কিছু অংশ আরেকটা পোস্টে দেখেছিলাম যেখানে সহমত জানিয়ে এসেছি আগেই)।
লেখক বলেছেন: আমি চাই বা না চাই জাফর ইকবাল একজন অধ্যাপক। তাকে আমার অনেক বিষয়েই সাংঘাতিক অপছন্দের মনে হয়, বিশেষত যেটা তাঁর বিষয় নয়, যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করেন নি, রাজনীতি ছেলেখেলার বিষয় নয় অথচ তিনি তাকে হাল্কা ভাবে নিয়েছেন - এমন প্রসঙ্গের কাজ বা কথাগুলোর জন্য। আমরা যাদেরকে ব্লগে সুশীল বলে বুঝি সেই সুশীলদের পাল্লায় পরেও তিনি খুশি। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিচার সভায় (শুনানীতে) তিনি সুশীলদের সাথে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ত্ব করতে গিয়েছিলেন। এতে সুশীলরা যে তাঁকে নেংটা করে কাছা খুলে নিয়ে গেছে - সেখবর উনার নাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে কী তাঁর পরিচয়, উনি সুশীল এটাই? এবিষয়ে তাঁর কী জানা আছে, কী তাঁর অবস্হান - কোথাও কোন লেখা ভাবনা আমরা জানি না। এগুলোকে বলে পাবলিক নুইসেন্স, তাও আবার একজন অধ্যাপকের।
কিন্তু এরপরেও আমি তাকে অসম্মান করে নিজেকে দায়ী করার পক্ষপাতি নই।
সচরাচর মানে কী, আনইউজুয়াল। আমি বলিনি উনি একাই আনইউজুয়াল। উনার আগে, পরে অনেকেই ও আমলে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। কিন্তু সারকথা হলো এটা আনইউজুয়াল। ওনাকে আমার পছন্দ নয় বলে কী আমি একটা ফ্যাক্টস লুকাতে পারি? আর আমাকে তো এই বৈপরিত্যের মধ্যেই চরিত্রটাকে উপলব্দি করতে হবে। একটা দিক লুকিয়ে রাখলে বা বাদ দিলে অসততা ছাড়াও, আমিইবা কী বুঝলাম পাঠককেই বা কী বুঝাব?
কোন গভীর চিন্তার পূর্ব শর্ত হচ্ছে - এসব ব্যাপারে সৎ থাকা - এটা আমি মানি, আমার ওসুল।
আমার মনে হয়েছে আপনার অপছন্দের দিকটা আগে মাথায় গেথে নিয়ে এরপর কোন লেখা বিচারে বসেছেন আপনি। "দেশপ্রেম" শব্দটা আমি কোথাও ব্যবহার করিনি কিন্তু আপনার মাথায় গেথে আছে, আগে কোথাও দেখেছেন হয়তো সেজন্য।
"আমরা আসলেই সামাজিক ভাবে এসব সমস্যায় আছি"। প্রশ্ন এটা নয় যে একে কত বেশি রাগ ক্ষোভ দিয়ে প্রকাশ করতে পারি। প্রশ্ন হলো, এগুলোকে টপকে এক জায়গায় পৌছাব কেমন করে।
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
অফ টপিক মন্তব্য: ত্রিভুজের মন্তব্যে যথেষ্টই বিরক্ত হইলাম। মতে না মিললে "রাজনৈতিক মিশন নিয়ে এসেছেন" বলাটা ওনার অভ্যাস।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, আমিও একেবারেই পছন্দ করি নাই।
বিশ্বশান্তি বলেছেন:
জাফর ইকবালের মতে জামায়াত-শিবিরে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী আছে। উনাকে যদি জিজ্ঞেস করি,বিএনপি-জামায়াতের ৫ বছর +
ফকরুদ্দিনের ২ বছর +
আলীগের ১ বছর ==৮ বছরে
জামায়াত-শিবিরের কত জন সন্ত্রাসী ক্রসফায়ারে মারা গেছেন; তাহলে তিনি কি বলবেন। জাফর ভক্তরা আপাদত জবাব দিবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার এই প্রশ্নের উদ্রেক হওয়ার কোন কারণ দেখছি না।
"জামাত-শিবির ভাল কিনা" এটা জানা বা জানানো এখানকার প্রসঙ্গ নয়। পরে দেখা হবে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
@দি ফিউরিয়াস ওয়ান
মতে না মিললে "রাজনৈতিক মিশন নিয়ে এসেছে" টাই আমার আরো কিছু বক্তব্য দেখান।
আর আমরা যতদূর দেখেছি তাতে জাফর ইকবাল এবং তাঁর ভক্তদের এই রোগ আছে। আর জাফর ইকবাল দেশ নিয়ে খুব ভাবার ভান করে আসছেন বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু গত একবছরে তাঁর সেই ভাবনায় ছেদ পড়া দেখে যেকেউই বুঝতে পারবে তিনি কিসের মিশন নিয়ে এসেছেন।
@লেখক, আপনার লেখা থেকে অন্যদিকে সরে গিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখিত। আমার সবগুলো মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে অন্যদের জবাবগুলো চাইলে মুছে দিতে পারেন। এই বিষয় নিয়ে অন্যকোথাও অন্য কোন সময়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আপাতত এখানে এই বিষয়ে অফ গেলাম।
লেখক বলেছেন: "কিসের মিশন" - টাইপের কথাগুলা পল্টনের রাজনৈতিক গিমিক তৈরির, সেনসিটাইজ করে উত্তেজিত করার - ওটার ওখানে দরকার আছে, হয়ও।
কিন্তু মনে রাখতে হবে একাডেমিক জগতে যেখানে আমরা পরস্পরকে বুঝবার বুঝানোর চেষ্টা করি সেখানে "রাজনৈতিক গিমিক তৈরির শব্দের" কোন ভাত নাই; শুধু তাই নয় এটা কম চিন্তা করা মানুষের লক্ষণ, একাডেমিক জগতে যার গুরুত্ত্ব অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের, নিজেকে অযোগ্য ভাবে তুলে ধরা। ব্লগে আমরা যেখানে লিখে কথা বলছি সেখানে এই পদ্ধতি অবলম্বন নিজের বিরুদ্ধে লেখার মত।
আমি মনে করি ঠান্ডা মাথায় ভাবলে আপনি এই ক্রিটিক্যাল দিকটা বুঝবেন, মানবেন, নিজের চিন্তার শক্তি আমাদের দেখাতে পারবেন।
রাগ ক্ষোভ নয় আমাদের চিন্তার শক্তি দেখাতে পারতে হবে।
কোন কিছুই মুছার দরকার নাই। আপনি মুছতে বলেছেন, এটা যথেষ্ট। আশাকরি পাঠক সেটা বুঝতে পারবে।
সালাউদ্দীন খালেদ বলেছেন:
ভাল লিখেছেন
লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সালাউদ্দীন খালেদ।
মুরুববী বলেছেন:
আমিও তাইলে দুই এক কথা বলি।
@ত্রিভুজ:
আমার মনে হ্য় না আপ্নার এই ধারনা ঠিক যে উনি দেশে পলিটিকাল ইন্টেনশন নিয়ে ঢুকেছেন। লুক, মানুষের দেশে ফিরে আসার ওনেক কারন থাকতে পারে, সেটা হতে পারে পারিবারিক, দেশপ্রেম কিংবা অন্য কোন কারন। সেটা জাফর স্যার ই ভালো জানেন। বাইরের কেউ এই ব্যাপারে কোন স্টেটমেন্ট দিলে সেটা ঠিক ভাল শোনায় না। বাইরের কউ শুধু সম্ভাবনার কথা বলতে পারে, কিন্তু এতো কনফিডেন্টলি কোন কারন বলা ঠিক না। দেয়ার কুডবি প্ল্যান্টি অফ রিজনস বাহাইন্ড।
@সিউল:
ব্যাক্তি আক্রমন ভালো জিনিস না।
ত্রিভুজের প্রথম কমেন্ট টা কিন্তু ততোটা সংঘর্ষ পুর্ন ছিল না যতোটা আপনার টা ছিল। শোনেন ভার্সিটিতে পড়লেই সব খুব ভালো বোঝা যায় না। আর তাছাড়া আমি সিউর, আপ্নার থেকে বেশি পড়াশোনা করা (ভার্সিটিতে) ওনেকেই জাফর স্যার এর এন্টি। সো একটু ইমোশন কন্ট্রোল করে কাউকে পা্র্সোনাল এটাক করা উচিত।
@লেখক:
আপ্নার এনালাইসিস পুরোটা আমার কাছে যোক্তিক মনে না হলেও বেশির ভাগ ব্যাপারেই আমি একমত। ভালো এনালাইসিস। প্লাস।
লেখক বলেছেন: একেবারে মুরুববীর মত হাজির হয়েছেন। এমন ঠান্ডা মাথার লোকজন পেলে আলোচনা থেকে অনেক ভাল কিছু বের হত - আমি নিশ্চিত।
আপনি আমার অনেক কাজই করে দিয়েছেন "দুকথা" বলে। আপনাকে স্বাগতম।
আমার সাথে পুরাপুরি একমত হওয়ার দরকার কী? পরস্পরকে বুঝতে পারলেই হলো।
ভাল থাকবেন।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
ছাগুতে ভইরা গেলো চারিদিক! ইদানিং দেখি ছাগুদের বসাই দড়ি ছাড়াই ছাইরা দিছে!
লেখক বলেছেন: খুবই হাল্কা একটা মন্তব্য করলেন, চাবানি জিনিষ আবার চাবানোর মত। আপনার কাছে আরও কিছু আশা করি উদাসী স্বপ্ন! ভাল থাকবেন।
ত্রিভুজ বলেছেন:
ধন্যবাদ পি মুন্সী, আপনার সুন্দর পরার্শ মনে থাকবে। বস্তুত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা যাদের দ্বারা রাজনীতি ফায়দা উসুল হয়ে থাকে, তাদের বেলায় আলোচনা ঘুরেফিরে রাজনীতির দিকেই চলে যায়।পরবর্তী আলোচনা দেখার জন্য পোস্ট পর্যবেক্ষন রইলো। ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: আপনার স্পিরিট ভাল লেগেছে।
আপনি আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখে রাগ করলে তো এরকমই হবার কথা না? আসুন যার যার জায়গায় দাড়িয়ে ভাবি। বহু কাজ বাকি পড়ে আছে।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
লেখার লিটমাস টেস্ট আগেই হয়ে গেছে... তিনকোনা যখন লেখা নিয়ে আলু-ছানা করতে চায়, তখনই বোঝা যায়।
তবে পি মুন্সী গুদাম পুড়ে কয়লা হবার পরে পোঁ পোঁ করতে করতে এসে একখানা পোস্ট বিঁয়ানো দেখে আগ্রহী হয়ে পড়তে ঢুকেছি..
পুরোটা পড়তে গিয়ে কয়েকটা ছত্র পড়ে ভুরু কুঁচকে ভাবছিলাম আর স্ক্রল করছি.. তখনি দেখি পোস্ট লাদিময়...
এনিওয়েজ, গবেটমার্কা পোস্ট দেবার জন্য মাইনাছ..
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরিফুর রহমান।
আমি এবং আঁধার বলেছেন:
এই বিষয়ে আর কোনো ত্যানা পেচাবোনা ভাবসিলাম, আপনার নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে আবার এলাম,মানিকের একটা লাইন আমার খুব প্রিয়,
যার ব্যক্তিত্বের প্রভাব যত বেশি, তাকে তত বেশি পরের ইচ্ছায় চলিতে হয়, নেতার চেয়েও সে পরাধীন।[অহিংসা]
জাফর ইকবালেরও সেই দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয়েছে। আমাদের ব্যক্তি আর কর্মের মধ্যে যে দুইটা জীবনের আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে তা অনেকেই মানতে পারেন না। তার ক্ষেত্রে এটাই হয়েছে মূল সমস্যা।
স্বীকার করছি আমি নিজেও এই বেড়াজালের বাইরে এখনো বেরোতে পারিনি পুরোপুরি, তারপরেও যারা চেষ্টা করে তাদের সাথে শামিল হওয়াতেতো কোনো দোষ নেই। কাজেই যারা এখনো এর বাইরে বেরোতে পারেনি তাদের মনোভাবের সমালোচনা করা তো যেতেই পারে।
যেকোনো ব্যক্তির জীবদ্দশায় সমালোচনাই সমসাময়িকতাদোষে দুষ্ট হয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ তাই ভবিষ্যৎতের হাতেই তোলা থাকলো। অন্ততঃ যারা এর সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে জাফর ইকবালের সবকিছুই ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করছে সেটুকু প্রতিহত করা উচিত।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ভাল লাগলো আপনার মন্তব্য শুনে। আমি ভাবিনি এবিষয়ে আপনার এত কথা জমা আছে।
সমস্যা হলো, আমাদের সামাজিক অভ্যাসে এখনও কোন জিনিষ ক্রিটিক্যালি দেখার অভ্যাস গড়ে উঠে নাই। হয় আপনি ভাল নয় আপনি খারাপ।
অথচ ওর মধ্যে কোনকোন দিকটা ভাল, কোনকোন দিকগুলো ভাল না - কেন ভাল কেন ভাল না - এসবের কোন বালাই নাই। কারও হয়ত একটা খারাপ দিক কিছু চোখে পড়ল এতেই সিদ্ধান্ত চলে গেল ওটা খারাপ; এছাড়া মাথায় দলবাজির চিন্তা তো ভর করে আছেই। সবমিলিয়ে অন্ধের হস্তীদর্শনের অবস্হা, কখনও মনে হয় কুলার মত, কখনও থাম্বার মত।
যাই হোক কি আর করা, এর ভিতর দিয়েই আমাদের চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভাল থাকবেন।
মনজুরুল হক বলেছেন:
@ আরিফ, এ আপনি কি করলেন!
পোস্টের থিম ধরতে পারেন নি এটা মানতে পারলাম না। তাহলে শুধুমাত্র বিশেষ কারো অংশগ্রহণ কি ভাবে আপনার চিন্তার গতিধারা বদলে দিতে পারে? রিতিমত বিস্মিত হলাম!
আশা করি আপনি আবারও মন্তব্য করবেন, এবং তা এই পোস্ট বিষয়ে আপনার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই।
শুভকামনা।
লেখক বলেছেন: দেখা যাক আপনার আশা কি ফল দেয়।
বন্ধনহীন বলেছেন:
মনজুরুল হক, আমিও অবাক হলাম আপনি কার কাছে কি আশা করছেন দেখে। তার (আরিফ) চিন্তায় constructive কোন কিছু কোনদিন দেখেছিলেন?সরি, মুন্সীভাই এরকম একটা মন্তব্য লিখতে হলো।
লেখক বলেছেন: রবীন্দ্রনাথের দাঁড়ি আছে, ছাগলেরও দাঁড়ি দেখা যায় - অতএব রবীন্দ্রনাথ মানে ছাগল অথবা ছাগল মানে রবীন্দ্রনাথ মানে ছাগল।
যাদের চিন্তার স্তর এই লেবেল থেকে আর উত্তরিত হয় নাই - এমন লোকেরাও তো আমাদের সমাজেই আছে; ব্লগ সমাজেরই ছবি, অন্তত কমপিউটার চালাতে জানা একটা অংশের। কী আর করা সমাজ এদেরকে সাথে নিয়েই তো চলে!
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
লেখক বলেছেন: খুবই হাল্কা একটা মন্তব্য করলেন, চাবানি জিনিষ আবার চাবানোর মত। আপনার কাছে আরও কিছু আশা করি উদাসী স্বপ্ন! ভাল থাকবেন।স্যারকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বললে এর চেয়ে বেশী কিছু লিখতে ইচ্ছা করে না। মহৎ লোকের পিছে দুয়েকটা ছোলিম লাগলে তার কোনো ক্ষতি হয় না, ক্ষতি হয় ছোলিমের!
লেখক বলেছেন: ধর্ম সংক্রান্ত বই পুস্তক দুইভাবে পড়া যায়। এক. গভীর ভক্তির সাথে হাটু গেড়ে বা নিয়মমত বসার ভঙ্গিতে। অন্য একটা হলো, একটা জ্ঞানের বিষয় যে আসনে আমরা পড়তে বসি সেভাবে। জ্ঞানের বিষয় মানে ক্রিটিক বা পর্যালোচনার বিষয়: উল্টে পাল্টে সবদিক থেকে দেখে বুঝার বিষয়। এই আসরটা পর্যালোচনার; আপনি বোধহয় বুঝতে পারেননি।
এখন আমারই আপনার কাছে মাপ চাইতে হচ্ছে, ভক্তের মনে আঘাত দেবার জন্য। কোন ভক্তের মনে বা তাঁর ভক্তিকে আঘাত করা অবিবেচক কাজ বলে আমি মনে করি। না জেনে নিজের উসুলের বিরুদ্ধ কাজ করে ফেলেছি, আমাকে তাই ক্ষমা করবেন।
আপনার এই পোস্টে মূলত জাফর স্যারের বা এ ধরণের মানুষদের কি করণীয় সে ব্যাপারে কিছু চিন্তা দেখা যাচ্ছে। আর আপনি সামাজিক ভূমিকা এবং রাজনৈতিক ভূমিকা দুটো আলাদা ব্যাপার বোঝাতে চেয়েছেন। আপনার পোস্ট পড়ে আমি এতোটুকু বুঝেছি।
জাফর স্যারকে আমার কখনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে হয়নি বা উনার এরকম কোন লেখা আমার চোখে পড়েনি। হয়তো নজর এড়িয়ে গেছে। বরাবরই আমার উনাকে শুধু একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত শিক্ষক মনে হয়েছে আর রাজনৈতিক ব্যাপারে তার যে মন্তব্যগুলো বা কলাম দেখেছি সেটা আমার কেবল একজন নাগরিক হিসেবে যে ভাল লাগা বা খারাপ লাগা বা জনগণের একজন হিসেবে আমরা কি আশা করতে পারি আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে-- এটারই প্রতিফলন দেখেছি।
সামাজিক ভূমিকা হিসেবে তরুণদের মন-মানসিকতাকে তিনি অনেকটাই প্রভাবিত করতে পেরেছেন। তরুণদের একটা বিশাল অংশ মূলত তার লেখাগুলো পড়েই তার প্রতি ভক্ত হয়। গণিত আন্দোলনে তার জ্ঞানের চেয়ে জনপ্রিয় লেখক চেহারাটাই মূলত কাজে লাগে, এটা অনেকেই জানেন। আসল পরিশ্রমটা অন্যদের বেশী হয়।
আর তার বিরোধীরা মূলত তার কিছু লেখনীর কারণেই তার উপর বিরক্তি দেখায়, যেমন কারো অভিযোগ কিছু কছু লেখায় তিনি ধর্মকে খাটো করেছেন বা এমন কিছু সমালোচনা করেছেন যেটা থেকে মানুষ ধর্মের ব্যাপারে ভুল বোঝে। তরুণরাও তার থেকে ধর্ম সম্পর্কে শেখে। আমার মনে হয় যতটা না রাজনৈতিক কারণে তার চেয়ে বরং কিছু ধর্ম নিয়ে কথাই অন্যদেরকে সুযোগ দিয়েছে উনার ব্যাপারে সমালোচনা করার।
এক্ষেত্রে আমি দর্শক-শ্রোতা-পাঠক হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে যে কার কাছ থেকে আমি কি আশা করবো, কি শিখবো, কোন্ ব্যাপারে আমি কাকে গুরুত্ব দিব। সেক্ষেত্রে জাফর স্যারের কাছ থেকে আমি শুধু সমাজ সচেতনতার কিছু বিষয় ও বিজ্ঞান-গণিত শিক্ষার ব্যাপারটাই গ্রহণ করবো, আর কিছু নয়।
লেখক বলেছেন: আপনার সামআপ পড়ে আমি যারপরনাই খুশি হয়েছি।
আমি ভেবেছিলাম কোনাকুঞ্চি ধরে পাঠককে নিজের কথা বুঝানো মুশ্কিল। আপনি আমাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।
আপনি বলেছেন, "আপনার এই পোস্টে মূলত জাফর স্যারের বা এ ধরণের মানুষদের কি করণীয় সে ব্যাপারে কিছু চিন্তা দেখা যাচ্ছে"।
হ্যাঁ, একেবারে ঠিক তাই - এ ধরণের মানুষদের। আমার মূল্যায়ন তাঁদেরকে নিয়েই।
বুঝাতে চেয়েছি সামাজিক চরিত্রের কাজ রাজনীতির চেয়ে কোন অংশেই খাটো না। আমরাও যেন সচেতন হয়ে এগুলোর মূল্য দেই।
দেখেন, গরীব মানুষের জন্য ডায়াবেটিক চিকিৎসা পরামর্শ (এই রোগে নিরাময়ের একটা বড় অংশ তথ্য, রোগীকে খাদ্য পুষ্টি সম্পর্ক তথ্য দেয়া ও মটিভেট করা ) কী হতে পারে -স্রেফ এটাকে ব্রত করে ইব্রাহিম সাহেব সঙ্গোপনে কিন্তু সমাজের একেবারে গভীরে গেথে বসে আছেন।
ভারতের মত বিশাল পুরানো রাষ্ট্রেও এটা নাই। বড় হাসপাতালের কথা বলছি না; গরীবদের জন্য মাস স্কেলে কি সামাজিক ব্যবস্হা, প্রতিষ্ঠান গড়া যায় -সেটা যদি কেউ বুঝতে শিখতে চায় তবে এটা তার একটা বড় উদাহরণ। আমি বলছি না এটা আদর্শ প্রতিষ্ঠান - কিন্তু এই সামাজিক কাজটার গুরুত্ত্ব অবদান বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক নেতার চেয়ে কম নয়, কোন অংশে খাটোও নয়। আমাদের কি কখনও মনে হয় রাজনৈতিক ভাবে কিছু করেন নাই বলে ইব্রাহিম সাহেবের কাজটা খাটো? আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারকে কী মনে হয় উনি রাজনীতিক না, রাজনীতি বুঝেন না তাই তাঁর সামাজিক অবদান খাটো? তাহলে অধ্যাপক জাফর ইকবাল সাহেবকে তাঁর সামাজিক কাজের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিচয় পরিচিতি হাসিল করতেই হবে, রাজনীতিতে উঁকিঝুঁকি দিতেই হবে কেন?
এর মানে কিন্তু দাঁড়ায়, সামাজিক ভুমিকায় যা তিনি করছেন এটা যথেষ্ট ভাল, গৌরবের, সমাজ গঠনের জন্য দরকারী - এই আস্হা তাঁর নিজেরই নাই; নিজের শ্রম, অবদানের প্রতি নিজেই আস্হা রাখেন না: তাই কী তিনি হাল্কা করে সুপার ফিসিয়ালি রাজনীতিতে উঁকিঝুঁকি দিতে আসেন - এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যাই আমরা।
অনেকের মনে হতে পারে রাজনীতিতে তিনি আসতেন পারেন, তাতে ক্ষতি কী? অবশ্যই ক্ষতি নাই। কিন্তু একজন অধ্যাপক, সামাজিকভাবে বড় কাজ তিনি করতে চান বলে মনে হচ্ছে, সমাজের কাছে তাকে নিয়ে একটা প্রত্যাশা তিনি কিন্তু নিজেই তৈরি করে ফেলেছেন, তিনি নিজেই জানান দিয়েছেন তিনি আর গড়পরতা সাধারণ মানুষ নন; তিনি সামাজিক কাজ বুঝতে পারেন, দায়িত্ত্ব তাৎপর্য বুঝেন; এখন যদি তিনি মনে করেন রাজনীতিতে তিনি কোন একটা রাজনৈতিক দলের সাধারণ কর্মীর পর্যায়ের রাজনৈতিকতা, আচরণ, বক্তব্য দেখাবেন - এটা সার্কাসটিক হতে বাধ্য। যে সামাজিক আকাঙ্খা তিনি তৈরি করেছেন, এই পর্যায়ে, রাজনীতিকে তিনি সিরিয়াসলি নিয়েই, রাজনৈতিক চিন্তায় তাঁর অবদান নিয়ে হাজির হয়েই একমাত্র তিনি তাঁর সামজ্ঞস্যপূর্ণ রাজনৈতিক ভুমিকা দেখাতে পারেন, কোন সস্তা কারবারে নয়। রাজনীতি গভীর জ্ঞান ও অধ্যাবসায়ের বিষয়, হাল্কা করে উঁকিঝুঁকি দেবার বিষয় নয়, ছেলেখেলা তো নয়ই। রাজনৈতিক সংগঠন আর সামাজিক সংগঠনের মোটা দাগে ভাগটা হলো, প্রথমটার লক্ষ্য ক্ষমতা দখল; দ্বিতীয়টার এমন কোন লক্ষ্যই নাই। বাদবাকি অনেক কিছুতে হয়ত এই দুই ধরণের কাজে আমরা অনেক মিল খুজে পাব। সমাজে নিজের চিন্তার শাসন আধিপত্য ঘটানো ও ক্ষমতা দখল - এগুলোর হাল্কা কাজ হতে পারে না, করাও যায় না।
আমাদের সমাজের রাজনৈতিকতায় যেখানে বড় বড় মোটা দাগে আমরা বিভক্ত হয়ে আছি সেখানে সুপার ফিসিয়ালি রাজনীতিতে উঁকিঝুঁকি মারার তো আরই সুযোগ নাই। চিন্তার দিক থেকে একে একটা ঐক্যের দিকে টেনে তোলা একটা পর্বত প্রমাণ কাজ। এতে হাল্কা করে প্রবেশে হতে পারে একজন বিখ্যাত সিনেমার নায়ক যেমন হঠাৎ করে এমপি হয়ে যান বড় জোড় সেরকমই সার্কাসটিক, মুশিক প্রসব ধরণের কিছু একটা হতে পারে।
ফলে ইদানিং আমার সন্দেহ বাড়ছে, আসলেই কী অধ্যাপক জাফর ইকবাল সামাজিক কাজের গুরুত্ত্ব তাৎপর্য বুঝেন? আমি জানি না আগামিতে আমরা এর উত্তর কী পাব।
নাজনীন১ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আপনার উছিলায় আরও কিছু কথা বলে নিলাম। ভাল থাকবেন।
মিহির আহমেদ বলেছেন:
...রাজনীতি গভীর জ্ঞান ও অধ্যাবসায়ের বিষয়, হাল্কা করে উঁকিঝুঁকি দেবার বিষয় নয়, ছেলেখেলা তো নয়ই। রাজনৈতিক সংগঠন আর সামাজিক সংগঠনের মোটা দাগে ভাগটা হলো, প্রথমটার লক্ষ্য ক্ষমতা দখল; দ্বিতীয়টার এমন কোন লক্ষ্যই নাই।... এইটা একটা কথা কইলেন...? বাংলাদেশে বহুত মানুষ ক্ষমতা দখল করছে, বন্দুকের কথা যদি বাদও দেই, হাসিনা খালেদাও ক্ষমতা নিছে, আল্লায় দিলে তারেক জিয়া বা হাসিনার পোলা/ বইনেও ক্ষমতায় আইতে পারে...
এগোর কারো রাজনীতিতে গভীর জ্ঞান আছে, এমুন দাবীতো তারা নিজেরাও করে না।
লেখক বলেছেন: "রাজনীতিতে গভীর জ্ঞান আছে, এমুন দাবীতো তারা নিজেরাও করে না" - ঠিক বলেছেন। এটাই আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে বিপদের বিষয়।
এজন্য এটা শেষে দাতা-গোষ্ঠির হাত ধরে ক্ষমতা দখল হয়ে যায়। থ্যাঙ্কু।
তবে এতে আর একটা জিনিষ প্রকাশ পায়। আপনি, আমি কেমন তারই রিফ্লেকশন বা উল্টা আয়নার হলো আমাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধি। একমাত্র আমাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তাই এথেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।
মিহির আহমেদ বলেছেন:
তয় মুন্সী সাবের কপাল বালা, বাইচ্যা গেছেন উদাসী স্বপ্ন আপনারে মুরতাদ ঘোষনা করেন নাই।উদাসী স্বপ্নর উচিত আছিলো ব্লাসফেমি আইনে আপ্নার বিচার চাওয়া। উদাসীর পয়গম্বর জাফর স্যারের বিরুদ্ধে আপনি কলম ধরছেন, কত্ত বড় ছোলিম!!!
মাইনষের ঈমান আকিদার উপর এত্তবড় আঘাত?
লেখক বলেছেন: কি বলব ভেবে পাচ্ছি না।
তবে, কোন কোন জিনিষ আমরা যুক্তির বদলে ভালবাসা দিয়ে বুঝি। সময়ে ভালবাসা দিয়ে বুঝার দরকার আমরা এড়িয়ে যেতে বা ফেলতে পারি না।
স্বামী নেশাগ্রস্হ - দুটা পথে নারীরা এই পরিস্হিতিকে মোকাবোলা করে থাকে। এক. ত্যাগ করে যাওয়া। দুই. ভালবাসার তাকৎ ব্যবহার করা, যদি কাজ করে।
ঐ নারী সমাজের আমাদের কারও চেয়ে যুক্তিতে কম জানে না যে স্বামী বিপথগামী। কিন্তু সমাজের আমাদের সাথে তাঁর তফাৎ হলো, ওটাই তাঁর কাছে শেষ কথা নয়। কারণ, ভালবাসার দেখতে পুতুপুতু ব্যাপার মনে হলেও ওটা নিজেই আবার একটা শক্তিও। সেই শক্তিকেই পরখ ও ব্যবহার করার পথ সে গ্রহণ করে।
ভালোবাসার জোরের দাবিতে সে তাঁর প্রিয় জিনিষকে বদলে, পুণর্গঠিত করে ফেলতে পারে। অবশ্য সব সময় সব জিনিষ কাজ করে, ফল দেয় তা আমি বলছি না।
ফলে ত্যাগ করে যাওয়া অথবা ভালবাসা দিয়ে পুণর্গঠিত করে ফেলা - কোনটাকে আমি ফেলতে পারছি না।
কোনটাকে ভালবাসা দিয়ে বিচার করব আর কোনটাকে যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিচার করব - এটা মানুষের যার যার বিচার বোধের ব্যাপার হলেও কোনটা কোথায় কেন ব্যবহার করবে সে ব্যাপারে পরিস্কার থাকতে হবে।
এমনও তো হতে পারে ভালবাসার তাকতে "উদাসী স্বপ্ন" তাঁর প্রিয় জাফর স্যারকে বদলে নিবে - কে জানে? আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে।
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: প্লিজ হতবুদ্ধি, এটা ঠিক না। এটা করবেন না।
কার নাম নিয়ে বিকৃত করা ঠিক না একদমই বাজে কাজ, বিরত ও সংযত হন। একেবারেই গ্রহণীয় নয়।
আমাদের অপছন্দের লোক সমাজে অনেকেই আছেন এবং থাকবেনও। কিন্তু তাই বলে এই ষ্টাইলটা ফলো করা ঠিক না,ওতে ফলাফলে ঘৃণা ছাড়া কিছুই বের হবে না ওখান থেকে, কারও কোন কাজেও আসবে না; কেবল নিজেকে ছোট করবেন, খারাপ পরিচয় প্রকাশ করবেন।
কাউকে খারাপ লাগলে কেন খারাপ লাগছে সেটা বুঝার চেষ্টা করুন, সেটা লিখতে চেষ্টা করুন।
রফিকুল হক বলেছেন:
@মিহির, রাজনীতি বলতে যদি একটা জনসমষ্ঠির কল্যাণ, তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিনিধিত্ব, প্রায়োরিটি বেসিসে মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান,সেখানের প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা বোঝায় তবে সেই রাজনীতিতে গভীর জ্ঞান ও অধ্যাবসায়ের প্রয়োজন আছে বৈকি।এই ভাবে বুঝতে চাইলে দাতা-গোষ্ঠির হাত ধরে ক্ষমতা দখল আর রাজনীতি দুইটা সম্পূর্ন ভিন্ন জিনিষ।যাইহোক, আমার মনে হয় এখানে রাজনীতি বলতে সেটাই বোঝানো হয়েছে।আর পত্রিকায় একজন অধ্যাপকের কলামে আমরা সেই ধরনের রাজনৈতিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আশা করি, চায়ের দোকানের জটলা থেকে উঠে আশা কোন দলীয় শ্লোগান সেখানে বড়ই দৃষ্টিকটু ঠেকে,তার সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রফিকুল।
আপনি ঠিকই বলেছেন। ঠিক ধরেছেন।
তবু আমার মনে হয় মিহির আহমেদের কথাটার মধ্যে একটা rhetoric ভাব বা ছদ্ম-শব্দের আশ্রয়ে লেখা - এভাবে নেবার সুযোগ আছে।
আমার মনে হয়নি, আপনারা দুজন ভিন্ন অবস্হানে।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এক বিচার সভায় (শুনানীতে) তিনি সুশীলদের সাথে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ত্ব করতে গিয়েছিলেন। এতে সুশীলরা যে তাঁকে নেংটা করে কাছা খুলে নিয়ে গেছে - সেখবর উনার নাই। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোন এক সালিশে জাফর ইকবাল গিয়েছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হয়ে। বাংলাদেশে সুশীল সমাজের একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসাবে তিনি তো যেতেই পারেন, আপনার আপত্তির জায়গাটা আমি ঠিক ধরতে পারলাম না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তো অনেকেরই কোন ধরনের অথরিটির জায়গা নাই, তারপরও তো তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও আমি ডিটেলস জানিনা জাফর ইকবাল পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোন ব্লান্ডার বা কোন ঝামেলা করে ফেলেছেন কিনা।
আর একটু পরিস্কার করবেন কিভাবে সুশীলরা তাকে নেংটা করে কাছা খুলেছে?
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের "সুশীল সমাজ" সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন আগে শুনতে চাই। আসলে "সুশীল সমাজ" মানেই বা কী?
লেখক বলেছেন: এটা খারাপ দুষ্টামি। বাচাদের মুখে গালি শুনার মত, এটা কারই ভাল লাগে না, বরং লজ্জিত হই।
আমাদের বড় হতে হবে।
পান্থজন বলেছেন:
জাফর স্যারকে আমরাও গুরুত্ব দেই, উনার অবদান স্বীকার করি, তাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্ত তাকে পয়গম্বর বানানো খুবই নিন্মস্তরের বুদ্ধিজীবিতার লক্ষন। উদাসী স্বপ্নের কাঠাল পাতার লবনে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েই গেছে, আপছুস...
লেখক বলেছেন: আচ্ছা।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
যারা রাজনীতি করার পরিশ্রম, ঝুঁকি আর কোন দ্বায়-দ্বায়ীত্ব নেওয়া ছাড়াই রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকার সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে, বাংলাদেশে তারাই হলো সুশীল সমাজ। এরা মুলতঃ একশ্রেণীর সামাজিক ক্ষমতাধর ভাঁড়, জনগনের সঙ্গে এদের সম্পর্কটা অনেকটা পরগাছা ধরনের।
বিশেষতঃ অনির্বাচিত সরকারগুলোর আমলে তাদের তৎপরতা থাকে চোখে পড়ার মতোন।
তবে আমি একটু বাড়িয়ে বলে ফেলেছি হয়তো, জাফর ইকবালকে মনে হয় এই
লেখক বলেছেন: আপনি যেভাবে আগে বলেছেন, "পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে তো অনেকেরই কোন ধরনের অথরিটির জায়গা নাই তারপরও তো তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে" - সব সুশীল একাজ করছে বলে অধ্যাপক জাফর সাহেবেও যদি করতে চায় তাহলে কী দাঁড়ায় আপনিই বলেন। সুশীলদের তো তবু করে খাওয়ার জন্য কিছু "দোকান" "মোকাম" আড়তদারি আছে - যেগুলোর নামে তাদের বিভিন্ন জায়গায় দাওয়াতে যেতে হয়। অধ্যাপক জাফর সাহেবের তো এগুলা নাই। মাষ্টার মানুষ সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে চায় বলে আমরা জেনেছি - এর মধ্যে এগুলা কী?
এর মানে কী? মানে হইল পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে উনার কোন দোকানও নাই, দু'চারপাতা লেখা থাকলেও তা নাহয় বুঝতাম - উনি যে ব্যবহৃত হইছেন - সস্তা নাম খ্যাতির লোভে - সেইটা বুঝার অবস্হা তার লোপ পাইছে।
মুনশিয়ানা বলেছেন:
(আগের মন্তব্যের বাকী অংশ) তবে আমি একটু বাড়িয়ে বলে ফেলেছি হয়তো, জাফর ইকবালকে মনে হয় এই তথাকথিত সুশীলদের দলে ফেলা যায় না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মুনশিয়ানা, বুঝতে পেরেছি।
এ্যান্টি ভন্ড বলেছেন:
Bhai, Jafor Iqbal-er Janopriyotar akta karonanekei ullekh korena. Sheta holo, bakti jafor iqbal nije khub sharol ebong bhalo manush.Akjon khub bikkhato lok jakhon attonto sharol ebong bhalo manush hishebe appear koren, takhon manush khub shahojei take pasondo kore nay.
Apnar poster shathe shampurno oikkomot poshon korei kothgulo bollam.
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়তে বড়ই অসুবিধায় পড়ে নিজেই এখানে বাংলায় তা পাঠকদের জন্য লিখে দিচ্ছি।
=========
ভাই, জাফর ইকবালের জনপ্রিয়তার একটা কারণ অনেকেই উল্লেখ করে না। সেটা হলো, ব্যক্তি জাফর ইকবাল নিজে খুব সরল এবং ভাল মানুষ।
একজন খুব বিখ্যাত লোক যখন অন্তত সরল এবং ভাল মানুষ হিসাবে হাজির হন, তখন মানুষ খুব সহজেই তাকে পছন্দ করে নেয়।
আপনার পোষ্টের সাথে সম্পূর্ণ ঐক্যমত পোষণ করেই কথাগুলো বললাম।
=========
এইবার আপনর কথা বুঝতে পারলাম।
আপনি হয়ত ঠিকই বলছেন। ব্যক্তি মানুষ জাফর ইকবালকে আমার জানা হয় নাই, সাক্ষ্যাৎ হবার সুযোগ হয় নাই। তাই আপনার কথার উপরে ও বিষয়ে কিছু যোগ করতে পারছি না। কেবল এতটুকুই বলব,
সরল ভালো মানুষ একটা খুন করে বসলে ভালো মানুষটার চেয়ে আমাদের হয় সবচেয়ে বড় বিপদ; আমরা না খুনটাকে গ্রহণ করতে পারি, না সরল মানুষটাকে।
ভালো লিখেছেন, ব্যক্তিগত দিক আমার জানা ছিল না। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ফ্লাইওভার বলেছেন:
কমেন্টের মেলা বসেছে দেখছি
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ তাই দেখছি, আপনিই বোধহয় বাদ ছিলেন!
বাঙ্গাল বলেছেন:
সরল অংকের চিন্তায় বরাবরের মতই দ্বিধাগ্রস্ত উন্মাতাল পাঠকের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে আপনার পোষ্টের কমেন্টে। এই পাঠক সমাজ আপনার ক্ষুদ্র আলোচনার বেড়ায় বেশিক্ষন ঘুরপাক খাইতে মজাক পায় না। তারা সকল বেড়া ভাইঙ্গা গুড, ব্যাড বা আগ্লি ট্যাগ দিতে অধিক উতসাহি। স্যারকে নিয়া ২০০৯ সালে লিখা আমার একটি পোষ্টে শুধু বিজ্ঞান ও নিরপেক্ষ রাজনীতিতে অবদান নিয়া আলোচনা পাড়তে গিয়ে... সেইটা ধর্ম, ইইই বনাম সিএসই...ইত্যাকার বিষয়ে ব্যাপক ঘুরপাক খাইছিল। সেই সাথে প্রচুর প্লাস ও মাইনাসো উতপাদন করছিল।আপনার পোষ্টে আমার ধারনা তেমন সুস্পষ্ট না। আরেকটু দাবায়া লেখলে আরো ভাল বুঝতাম। তবে স্যারের মস্ত ভূলটা ভালই পিক করছেন। +
লেখক বলেছেন: "দাবায়" লেখা তো আপনারা অনেকেই করেছেন। আমি আর না করলে কিছু ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি বলেই আমার বিশ্বাস।
এ ধরণের কোন সামাজিক ব্যক্তিত্ত্বের ভাল-মন্দের মূল্যায়ন থেকে আমরা যেন কিছু শিখতে পারি - পাঠকের জন্য এটা অনেক বেশি কাজের বলে মনে হয় আমার কাছে। কারণ, ঘুরে ফিরে আমরা প্রত্যেকে তো আবার একএক জন সামাজিক ব্যক্তিত্ত্ব। ফলে আমাদের একএকটা আচরণ সামাজিক ভাবে উপরে তুলে অপরের জন্য শিক্ষণীয় হয় অথবা আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলে আগিয়ে যায়। গড়ার এই দিকটার প্রতি আমার আগ্রহ বেশি।
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
কি জানি, আপনার লেখায় সলিড কিছু খুজে পেলাম না। মনে হল, এক কথায় ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে বারবার বলতে চাইছেন কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই । আমার অজ্ঞতাও হতে পারে।আরেকটা কথা, গনিত একজন মানুষের জন্যেই উপকারী। যার গনিতের বেইস যত ভালো সে তত বেশী নতুন টেকনোলজি এডাপ্ট করতে পারবে দ্রুত। এইখানে ধর্মের বিপক্ষে গনিতকে দাড় করানোটা ঠিক হল না।
লেখক বলেছেন: আমি খুশি যে আপনার যা ফিলিং তা লিখে ফেলতে পেরেছেন। এটা আমার শুনতে কেমন লাগবে তা সেকেন্ডারী।
তবে আপনি নিজের "অজ্ঞতার" সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, আমি এটাকে জানা নাই বা ভেবে দেখেননি - এভাবেই নিব। কারণ, আমার কাছে "অজ্ঞতা" বড়ই কঠোর, কর্কশ শব্দ।
আমি ধর্মের সাথে গণিত কে দাঁড় করিয়েছি চিন্তা ভাবনা করেই। আপনার প্রতিক্রিয়া দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি আমরা ভাবনা কতটা সঠিক ছিল। কারণ আমি এটাই চেয়েছি, নাড়া দেবার আর কোন সহজ পথ দেখিনি তাই। আপনিই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এটা লিখে জানালেন, এজন্যও আমি খুশি।
দেখেন, আপনিও গণিতের সাথে কেবল টেকনোলজির সম্পর্কই দেখেছেন। গণিতর সাথে দর্শনের বা সেই অর্থে ধর্মের কোন সম্পর্ক আছে, কোন ঘোরতর সম্পর্ক - এটা বেশির ভাগ মানুষ বিশেষত যারা "বিজ্ঞানপ্রেমী" - তাঁরা দেখে না, তাদের ভাবনার বাইরের এটা। কোনদিন ভাবনার ভিতর ধরা পড়েনি, খটকা হয়েও ধরা পড়েনি।
"বিজ্ঞানপ্রেমী"দের চিন্তায় যে এই সমস্যা যে আছে এটা তাঁদের জানা নাই। তাই শকিং এর পথ নিয়েছি। মুল পোষ্টে আসলে লিখতে চেয়েছিলাম এভাবে - "অধ্যাপক জাফর ইকবাল যদি গণিত আর দর্শন বা সেই অর্থে ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে বেশি না দুপাতা আমাদের লিখে জানাতে পারতেন তবে ধর্মের কুপমন্ডুকতার বিরুদ্ধে তাঁর গণিতের সংগ্রামকে আমি স্বাগত জানাতে রাজি হতে পারতাম"। কিন্তু নানান চিন্তা করে একথা আর ওখানে লেখা হয় নাই।
আপনি আমাকে অভিযুক্ত করে লিখছেন, "এইখানে ধর্মের বিপক্ষে গনিতকে দাড় করানোটা ঠিক হল না"। কিন্তু আপনি খেয়াল করেন নাই - এটা আমি শুরু করি নাই। বরং অধ্যাপক জাফর ইকবালই এটা করেছেন। তাঁর গণিত আন্দোলন করে নবীন প্রজন্মের কাছ থেকে তিনি কী চাইছেন? "ধর্মের কুপমন্ডুকতা", ধর্ম একটা ফালতু জিনিষ, অকামের, ফলে পরিত্যাজ্য - এমন একটা ধারণার উপর ভর করে আধুনিক মন তৈরিতে তাঁর শ্রম ফসল হয়ে ফিরে আসুক এটাই তাঁর কামনা।
আমি এই ভাবনার ঘোরতর বিরোধী ও তা মারাত্মক আত্মঘাতি মনে করি। তাই তাঁর দেখানো পথেই কনফ্রন্ট করেছি। একই সঙ্গে পাঠককে এটাও জানিয়ে রেখেছি যে, ধর্ম বিষয়ক এই উদ্দেশ্য সাথে না জুড়ে দিয়েও গণিত আন্দোলন করা সম্ভব, হতে পারে এবং তা খুবই দরকার, সমাজের জন্য তা ভীষণ ইতিবাচক ফল আনবে - আমি দৃঢ ভাবে তা বিশ্বাস করি।
কিন্তু গণিতের সাথে ধর্মের বা ধর্মবিষয়ক চিন্তার সংঘাতে - গণিত দিয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে জেতার, বিজয় লাভের চেষ্টাকে আমি বেকুবি ছেলেমানুষি মনে করি। আমি আগে অনেকবার বলেছি, রাজনীতি, দর্শন, ধর্ম - এগুলো জ্ঞান লাভের গভীর অধ্যাবসায়ে বিষয় সাবজেক্ট; কোনভাবেই একে একটু আলগা ছুয়ে দেখলাম, সুপার ফিসিয়ালী কমনসেন্সে যা জানি তাতে অনেক জানা হয়ে আছে, ফলে এসব বিষয়ে একটু উকিঝুকি দিয়ে নিলেই যথেষ্ট, চলবে - ফলে এবার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করলাম, প্রচারে, মিশনে নেমে পড়লাম - এটা অবিবেচকই শুধু নয় চরমভাবে নিজেকে হেয় করে উপস্হাপন করার বেকুবি।
জ্ঞানের বিষয়ের সাথে তামাশা - আর যাই হোক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলভ বা মানের আচরণ হলো না - তা বলাই বাহুল্য; তা সে জ্ঞানের ফ্যাকাল্টি নিজের সাবজেক্ট নাও হতে পারে কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের শিক্ষকের জন্য অন্য ফ্যাকাল্টি সাবজেক্টের বিরুদ্ধে শ্রদ্ধা হারানো, হাল্কাভাবে এই জ্ঞানের বিষয়কে নেয়া রীতিমত এটা গর্হিত অপরাধ। উনি সাইন্স ফ্যাকাল্টির শিক্ষক এতে কোনই সমস্যা নাই, যে কোন সাবজেক্টের প্রতি ক্রশ করে তাঁর আগ্রহ অবশ্যই জাগতে পারে, জাগা উচিতও - কিন্তু ঐ বিষয়কে গভীরভাবে না জেনে মিশন হিসাবে নিয়ে প্রচারে নেমে পড়া - এটা মারাত্মক অপরাধ এবং নিজেকে খাটো, অপমান করাও বটে। সমাজে নুইসেন্স তৈরি করা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে কেউ আশা করে না। জ্ঞান খাবলাখাবলি করে নেবার বিষয় নয়, ওখানে স্হিরতা, গভীর অধ্যাবসায় একেবারে প্রাইমারি রিকুইজিট।
যা হোক আপনার উসিলায় অনেক কথা বলার সুযোগ নিয়ে ফেললাম। এখানে এখন নতুন করে ধর্ম ও গণিত বিষয়ে কথা শুরু করার সুযোগ কম। তাই আমারই অন্য এক পোষ্ট "কোরান বনাম বিজ্ঞান, আপ্তবাক্যের কোটেশন না নিজের বয়ান" - এই শিরোনামের লেখাটা দেখতে পরামর্শ দিব, আপনি আগ্রহী তে পারেন ভেবে, বিশেষত ওর শেষে শুভ রহমানের দুটো মন্তব্যে আমার জবাব দেখে নিতে বলব।
আপনি চাইলে সেখানেও আপনার কেমন লাগল সে মন্তব্য জুড়ে দিতে পারেন। পুরানো পোষ্ট হলেও আমি সাড়া দিব, আমি দেই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















