আমার প্রিয় পোস্ট

কোরান বনাম বিজ্ঞান, আপ্তবাক্যের কোটেশন না নিজের বয়ান

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫০

শেয়ারঃ
0 0 0

আমরা প্রায়ই ব্লগে কোরানকে বিজ্ঞানের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে লেখা পোষ্টের ছড়াছড়ি দেখি। অনেকে বিরক্ত হন, বিজ্ঞানকে যারা নিজের জীবন পেশার সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলেছেন বা করবেন বলে ভাবেন তাদের মধ্যে একধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়। বিজ্ঞান ফেলে দিবে না কোরান ফেলে দিবে এমন মুখোমুখি অবস্হায় দাঁড় করিয়ে দেবার জন্য তাঁদের এই অস্বস্তিবোধ। যারা ইসলামী রাজনীতি করেন, ভালবাসেন তাঁরা মনে একধরণের শান্তি আসে যে যাক বিজ্ঞানের উপরে খুব এক চোট নেয়া গেছে, যদিও সেই "বিজ্ঞান"ই আবার তাদের নিজস্ব জীবনযাত্রা লাইফ ষ্টাইলের প্রতিটা পরতে পরতে স্পষ্ট প্রকাশিত হয়ে থাকতে আমরা দেখি। বেখবর এঁরা নিজেকে সান্ত্বনা দেন এই ভেবে, "বিজ্ঞান" যাই নতুন কিছু করুক, জানুক জানাক - কোরান শরীফে তা আগেই নাকি সব লিখা আছে - কাজেই কোরানের বিপরীতের ঐ "বিজ্ঞান"কঐ আবার সাথে নিয়ে নিজ জীবন স্টাইলে জীবন্ত করে ফুটিয়ে রাখতে, ধারণ করতে কোন সমস্যা তাঁরা বোধ করেন না। অবশ্য বাড়তি পাওনা আছে, চারিদিকে একএকজন সবজান্তা ডঃ শমসের আলীও খাঁড়া হতে থাকে।

এই নির্বোধ পরিস্হিতিতে "কোরান বনাম বিজ্ঞান" ধরণের আলোচনায় প্রবেশ করা খুবই কঠিন। যা বলা দরকার তা বলবার আগে সব পক্ষের সকলের বুঝবার মত একটা পরিবেশ, মন ও চিন্তার প্রাক প্রস্তুতির অভাব - এক বিরাট সমস্যা। ফলে এই সমস্যা একটা হাল করতে মন ও চিন্তার প্রাক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো করে নিয়ে মন ও চিন্তাকে তৈরি করে নেয়া - কোদালী কাজ হলেও তা থেকে শুরু করা দরকার - এই ভাবনা থেকে Click This Link এই পোষ্টে কিছু বক্তব্য রেখেছিলাম। কাজ অনেক, কিন্তু কোথাও না কোথাও থেকে তো শুরু করতে হবে - এই ভেবে এটা করেছিলাম। কিন্তু লক্ষ্য করলাম ওটা বেশি পাঠকের নজর কাড়তে পারে নাই। মূল কারণ, পোষ্টের শিরোনাম ও উপস্হাপনটা ছিল বড়ই গন্ডগোলে। শিরোনাম "কোরআন এগিয়ে না বিজ্ঞান এগিয়ে" - বলার এই ঢংটা লক্ষণীয়; মানে "এগিয়ে" কথাটা ব্যবহারের ভিতর লেখক আগে মেনে নিয়েছেন চিন্তা, জ্ঞান আগায়, এগিয়ে চলে; ওর মধ্যে একটা অগ্রগতি বদল আছে।
এতে কোন সমস্যা নাই কেউ কোরান শরীফ পড়ে কি বুঝল, এখনকার দ্বীন-দুনিয়াদারিতে যা সব সমস্যায় আমরা দুনিয়ায় আছি তাতে সেই পাঠক মানুষের কর্তব্য প্রকল্প ও সংকল্প দাঁড় করাতে চিন্তাকে "এগিয়ে" নিতে একটা নতুন বয়ান হাজির করতেই পারে, মানবকুলের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ ইঙ্গিত তাতে থাকতেই পারে।

বিপরীতে "বিজ্ঞানে" "এগিয়ে" চলা একটা খুবই সাধারণ কথা, কারণ "বিজ্ঞান" এগিয়েই একমাত্র চলতে পারে। "বিজ্ঞান" কর্পোরেট পুঁজির খপ্পড়ে পড়ে খাবি খেলেও এই কম্প্রোমাইজের মধ্যেও ওর একটা "এগিয়ে" চলা আছে; সবসময়ে বেপুথে, কুপথের আঁকাবাকা পথে যায় বা ঝোঁক আছে বটে তবু ওটা এক ধরণের "এগিয়ে" চলা।

কিন্তু আসলেই কী পোষ্ট লেখক কোরান "এগিয়ে" চলে এই ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে "বিজ্ঞানের" এগিয়ে চলার সাথে পাল্লা দিতে গেছেন? এটাই মুখ্য প্রশ্ন।

এর জবাব হলো একটা বড় না, একেবারেই না। মানুষের কর্তব্য প্রকল্প ও সংকল্প দাঁড় করাতে নিজের চিন্তাকে "এগিয়ে" নিতে একটা নতুন বয়ান হাজির করার ক্ষমতা আমরা ওখানে পাইনা। আমরা দেখি সেই ষ্টেরিও টাইপ, উদ্ধৃতির আপ্তবাক্যর ভিতরে তিনি আটকে আছেন।
কোন গ্রন্হ তা সে ঐশী বা কোন জ্ঞানীর যাই হোক - গ্রহ্নের দায়ীত্ত্ব এটা নয় যে আপনার সামনে উপস্হিত দুনিয়া পরিস্হিতি জেনে কোন বয়ান খাড়া করে; কোন ব্লগপোষ্ট রচনা করে দেয়। এটা আপনি - কর্তা, আল্লার খলিফা প্রতিনিধি হয়ে আপনার কর্তব্য হলো, ঐসব গ্রন্হ পড়ে সহায়তা নিয়ে আর কষ্টকর দুনিয়াদারি করে সে অভিজ্ঞতা নির্যাস থেকে নতুন বয়ান খাঁড়া করা, আমাদের দুনিয়া হেফাজত করার কাজে যোগ্যতা দেখানো, এযুগে আমাদের কর্তব্যকাজের প্রকল্প, সংকল্প দাঁড় করানো।

লেখক এই যোগ্যতা - না শিরোনামে না লেখার বিষয়বস্তুতে হাজির দেখাতে পারেননি বলেই ঐ ব্লগপোষ্ট ঐশী গ্রন্হগুলোর প্রাণহীন কোটেশন হয়েই ম্লান থেকে গেছে। স্বভাবতই তা পাঠকের মনের আকাঙ্খা মিটবার কোন উপাদান হতে পারেনি।

এই পরিস্হিতিতে আমার লেখা মন্তব্যকে এখানে আবার ঝেড়ে মুছে উপস্হাপন করছি।

বিজ্ঞান জ্ঞান আহরণের একটা পদ্ধতি মাত্র জ্ঞানের কোন শাখা নয়:

কোরান বনাম বিজ্ঞান - এইভাবে উপস্হাপনটা পপুলার বটে কিন্তু সিরিয়াস আলোচনার প্রবেশ করতে চাইলে একেবারই মৌলিকভাবে ভুল উপস্হাপন।

বিজ্ঞান মূলত একটা পদ্ধতি, চিন্তা ও জ্ঞানচর্চায় আহরণ, অন্বেষণ সিদ্ধান্তে আসার একটা পদ্ধতি; বিজ্ঞান নিজে কোন জ্ঞানের ফ্যাকাল্টি বা জ্ঞান অনুসন্ধানে কোন বিষয়(subject) বা এর শাখা নয়।

আমরা যা যা কিছু নিয়ে জ্ঞান অনুসন্ধান করি না কেন এসব জ্ঞানের মূল বিষয়, মৌলিক বিষয় দর্শন - অর্থাৎ এর কোন না কোন শাখা অথবা তা খোদ দর্শনই সেখানে বিষয় (subject)।
অন্যভাবে বললে, সব জ্ঞানের জ্ঞান হলো দর্শন এবং সেই জ্ঞানের ইতিহাসকে, মানে কাকে আমরা জানব সেই অর্থে, আমরা প্রথমে মোটা দুই দাগে দর্শনকে ভাগ করতে পারি: প্রকৃতি (nature) ও সমাজ (Society) ; অর্থাৎ প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানের ইতিহাস (History of natural Science) এবং সমাজ বিষয়ক জ্ঞানের ইতিহাস (History of Social Science)। এটা দুই ভাগ বললাম বটে কিন্তু এটা আসলে দুই দিক থেকে দেখার কারণে ভাগ; প্রকৃতির দিক থেকে না সমাজের দিক থেকে - দর্শন বা দর্শনের ইতিহাসকে দেখব সেই ভাগ।

প্রকৃতি বিষয়ের মধ্যে জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থ, রসায়ন, গণিত, বায়োলজি, ভূগোল, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি ও এর সব শাখা-প্রশাখা এর অন্তর্গত। অন্যদিকে সমাজ বিষয়ের মধ্যে কলা বা চারুবিদ্যা, ভাষা-সাহিত্য, লজিক, নৃতত্ত্ব, অর্থনীতি ইত্যাদি ও এর সব শাখা-প্রশাখা এর অন্তর্গত।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে,
১. সমাজ বিষয়ক জ্ঞানের সে তালিকা দিলাম ওগুলো সবই মানুষের দলবদ্ধ হয়ে সমাজে বসবাসকে কেন্দ্র করে এবং সমাজবদ্ধ মানুষের বিভিন্ন দিক নিয়ে তা একএকটা বিষয় হয়েছে।
২. চিকিৎসাশাস্ত্র প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানের অংশ বা ভাগে ফেলেছি, চিকিৎসাশাস্ত্র যা নিয়ে কারবার করে তা মানুষের শরীর কিন্তু মানুষের যে সমাজ আর সমাজে তার যে প্রকাশ এর সবই সমাজ বিষয়ক জ্ঞানের অংশ। বিপরীতে অর্থনীতিকে দেখুন, সমাজ বিষয়ক জ্ঞানের অংশ সে কিন্তু তা বুঝতে কোথাও কোথাও গণিতের সাহায্য লাগতে পারে।
৩. এখন সমস্যা হলো, খোদ মানুষকে যদি বিষয় বানাতে চাই তবে তা কোন গোত্রে পড়বে, প্রাকৃতিক না সামাজিক কোন ভাগে? কারণ মনে রাখতে হবে, মানুষ প্রাকৃতিক এবং সামাজিক দুটোই। তাহলে সামগ্রিকভাবে মানুষকে ব্যাখ্যা করতে হলে প্রকৃতি বিষয়ক এবং সমাজ বিষয়ক এই দুই জ্ঞানেরই উর্ধে একটা জ্ঞানের বিষয় লাগবে; যে জ্ঞানের উপর দাড়িয়ে সমাজ ও প্রকৃতি দুদিক থেকেই মৌলিকভাবে মানুষকে ব্যাখ্যা করা যায়, জানা যায়।

এই মৌলিক জ্ঞানের বিষয়টাকে আমরা দর্শন বলি।

তাহলে যা নিয়ে এখানে কথা বলতে চেয়েছিলাম সেই ধর্ম ও বিজ্ঞান কোথায়? পাঠক হয়ত অস্হির হয়ে গেছেন এতক্ষণ এই দুই শব্দের ব্যবহার না দেখে। না আমি ভুলিনি, সেখানে নেবার জন্যই এত কথা আগে বলে নিলাম।

ধর্ম: যে যুগে ধর্মগুলো আবির্ভাব বা নাজিল হয়েছিল ওযুগে যেটাকে ধর্ম বলে জানি তা সে জ্ঞানের বিষয় বা ধর্মতাত্ত্বিক বিষয় যাই মনে করি না কেন - সেটারই এযুগে নবীযুগের পরে ওর নাম দর্শন। সারকথায়, দর্শনের আগের নাম ধর্ম।
আজকের দর্শনের জায়গায়, তখন সেই ভুমিকা রেখেছিল ধর্ম।

তাহলে সারকথায় এই পোষ্টের তর্ক হিসাবে বললে, জ্ঞানের বিষয় হিসাবে ধর্ম হলো দর্শন গোত্রের বিষয়।

বিজ্ঞান: উপরে দর্শন ও একে দুই দিক থেকে দেখা ভাগ প্রকৃতি ও সমাজ - জ্ঞানচর্চার এই সব বিষয়গুলোতে সব ক্ষেত্রেই জ্ঞান অন্বেষণের পদ্ধতির নাম বিজ্ঞান।
তবে একটা কথা আছে, বিজ্ঞান নিজে জ্ঞানের কোন শাখা নয়, জ্ঞান আহরণ অনুসন্ধানের পদ্ধতির নাম বিজ্ঞান হলেও - ব্যবহারিকভাবে কেবল প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞান চর্চার বিষয়কে বুঝাতে বিজ্ঞান(Science) শব্দ ব্যবহার করে ফেলি যেটা আমাদের একটা পপুলার ভুল অভ্যাস; আসলে বলতে চাই প্রকৃতি বিষয়ক বিজ্ঞান কিন্তু বলি বিজ্ঞান (Science)। এভাবে সংক্ষেপে বিজ্ঞান (Science) বলতে গিয়ে দুইটা বিপদ ঘটিয়েছি এক. সমাজ বিজ্ঞানও যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণে বিজ্ঞান - এটা ভুলে গেছি, বিজ্ঞানের খাতা থেকে একে বাদ দিয়ে ফেলেছি। দুই. বিজ্ঞান যে একটা জ্ঞানলাভের পদ্ধতি মাত্র তা ভুলে মনে করে বসে আছি বিজ্ঞান জ্ঞানের একটা বিষয় বা সাবজেক্ট।

এটা যে অসতর্কে করে ফেলি তা বুঝা যাবে যখন বলি, ব্যবহৃত হতে দেখি "সমাজ বিজ্ঞান" বা আমি "সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে" পড়ি। অর্থাৎ বিজ্ঞান মানেই প্রকৃতি বিজ্ঞান বা এর একচেটিয়া তা নয়, সমাজ বিজ্ঞানও সমভাবে বিজ্ঞান। কারণ বিজ্ঞান জ্ঞানলাভ, আহরণ, অনুসন্ধানের পদ্ধতির নাম; এবং জ্ঞান আহরণের পদ্ধতিগত মিলের কারণে, প্রকৃতি বা সমাজ উভয়কে জানার ক্ষেত্রে যা সমভাবে প্রযোজ্য, বিজ্ঞান একটা পদ্ধতি মাত্র।

তাহলে "কোরান বনাম বিজ্ঞান" - এই তর্ক তোলার মানে গিয়ে কোথায় দাঁড়ালো?
এই তুলনা অবিবেচক। বিজ্ঞান নিজে জ্ঞান বা জ্ঞানের কোন শাখা নয় কেবল সে জন্য একথা বলছি টা নয়; বিজ্ঞান বলতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ধরে বুঝে নিলেও - এটা অসামজ্ঞস্য তুলনা। ধর্মের তুলনা হলে হতে পারে দর্শনের সাথেই - সেয়ানে সেয়ানে।
নবী যুগ শেষ হয়ে গেছে মানে কী জ্ঞান হিসাবে আজ ধর্ম থেকে আমাদের কিছুই নেবার নাই? অবশ্যই আছে। এটাই তো চিন্তার এগিয়ে চলা।
এরপরেও কথা আছে। ধর্ম আবার দুভাবে নেওয়া যায়; ভক্তি বিশ্বাস ভরে, ওজুর আসনে বসে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে মহিমায় বিভোর হয়ে। আর হতে পারে, জ্ঞানের একটা বিষয় হিসাবে নিয়ে যেভাবে আমরা কোন দর্শন পর্যালোচনা করতে বসি। তর্কের শুরুতে এই বিষয়ে একটা এক ভাবনা, আন্ডারষ্ট্যান্ডিং থাকা দরকার।

যারা "কোরান বনাম বিজ্ঞান" - জাতীয় পোষ্ট দেন তাদের প্রতি তাকিয়ে আমার বলবার কথা হলো:
কোন গ্রন্হ তা সে ঐশী বা জ্ঞানীর যাই হোক - গ্রহ্নের দায়ীত্ত্ব এটা নয় যে আমাদের সামনে উপস্হিত দুনিয়া পরিস্হিতি জেনে কোন বয়ান খাড়া করে অথবা কোন ব্লগপোষ্ট রচনা করে দেয়। একাজে ঐশী গ্রন্হগুলোর প্রাণহীন কোটেশন হাজির করে কোন লাভ নাই। আপনি কী বুঝেছেন, তাতে গ্রন্হগুলোকে আবার জীবন্ত করেন আপনার বয়ানে, আপনার সমস্যা প্রয়োজন পরিস্হিতির কথা মনে রেখে - এটাই এখানে গুরুত্ত্বপূর্ণ; কোটেশনের প্রাণহীন কোন আপ্তবাক্য নয়। আপনি - কর্তা, আল্লার খলিফা প্রতিনিধি হয়ে আপনার কর্তব্য হলো, ঐসব গ্রন্হ পড়ে সহায়তা নিয়ে আর কষ্টকর দুনিয়াদারি করে নতুন বয়ান খাঁড়া করা, আমাদের দুনিয়া হেফাজত করার কাজে যোগ্যতা দেখানো, এযুগে আমাদের কর্তব্যকাজের প্রকল্প, সংকল্প দাঁড় করানো। এটাই আমাদের শেষ নবী মুহম্মদের আমাদের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ শিক্ষা ও দেখানো পথ। সেই জ্ঞান ও আলোর পথে নিজের কর্তব্য প্রকল্প সংকল্প দাঁড় করান।
তবে আবার উপস্হিত দুনিয়ায় বেপথে যারা হাটছে, লোভে পড়ে দুনিয়াকে ধ্বংস করার কাজে যারা ব্যস্ত এদের কাজকে সহায়তা ন্যায্যতা দেবার পক্ষে ঐশী গ্রন্হগুলোর কোটেশন হাজির করা নিজের সাথে আরও বড় অন্যায়, বেইনসাফি। এতে হয়ত কোন রাজতন্ত্র, কোন বুশ-ব্লেয়ার হয়ত সাময়িক টিকে যাবে, আমরাও হয়ত কোন সাংগঠনিক ভাতা রাহা খরচ পেয়ে বেঁচে থাকব - কিন্তু আমি নিশ্চিত এটা মুসা নবীর বা নবী মুহাম্মদের দেখান রাস্তা নয়, দুনিয়াকে রক্ষা, দেখভাল করে রাখার উপযুক্ত প্রতিনিধির কাজ নয়। আমাদের পরমের কাছে জবাবদিহীতার দায় আমরা কেউ এড়িয়ে যেতে পারব না।

শেষ কথা: দর্শন ধর্মকে পরাস্ত করতে পারলেও দুনিয়ায় আরও বহু যুগ ধর্ম বহাল তবিয়তে থেকে যাবে। কেন একথা বললাম সে কথা অন্য কোথাও আলোচনা করা যাবে।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কোরানবিজ্ঞান ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
তাজা কলম বলেছেন: দর্শন ধর্মকে পরাস্ত করতে পারলেও দুনিয়ায় আরও বহু যুগ ধর্ম বহাল তবিয়তে থেকে যাবে

সহমত।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তাজা কলম।

২. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০২
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: আপনার মন্তব্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলাম। ভালো লেগেছিল।

যারা কোরান আর বিজ্ঞানকে একে অপরের প্রতিদন্দী হিসাবে দাঁড় করিয়ে ফেলে তারা শুরুটাই করে বোকামী দিয়ে। এরা আসলে কোরানের আসল ম্যাসেজটাই ধরতে পারে না বলে আমার বিশ্বাস।

তারা একটা পোষ্ট দিবে অথচ সেই রিলেটেড ২/১ টা ব্যাখ্যা বা প্রশ্ন করলে অনায়াসে নাস্তিক পদবীও দিয়ে দিবে। দু:খজনক।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৩

লেখক বলেছেন:
নাস্তিক-আস্তিক বিতর্কে দুটোই অজ্ঞানতায় ভরা।
এনিয়ে আমাদের চিন্তার অনেক আবর্জনা সাফ করার কাজ অনেক বাকী আছে। আমাদেরকে অনেক বড় হয়ে ম্যাচিউর হয়ে উঠতে হবে।

তবে, বুশের ওয়ার এন্ড টেরর সেকুলারিষ্ট দিকে ঝান্ডা ঘুরানো ও ছলনার কারণে এর প্রভাবে আমাদের এদিকে নাস্তিক-আস্তিক খামোখা বিতর্ককে বাড়িয়ে তুলেছে। এটা এমন এক সময়ে এসেছে যখন একে মোকাবিলা করার জন্য সামাজিকভাবে আমরা একেবারেই তৈরি নই।
তবু যতদূর পারি আমাদের তৈরি হতে হবে, মোকাবিলা করতেই হবে।

৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১২
প্রচ্ছদ বলেছেন: পোষ্ট পর্যবেক্ষণে থাক্লো :)
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৭

লেখক বলেছেন: এর মানে কী আমাকে ওয়াচে রাখলেন?
আমি তো ভয় পাচ্ছি।

যাই হোক, কোন অসুবিধা নাই। আমি সবার ওয়াচে থাকতে পারলে তো ভালোই।

৪. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৫
প্রচ্ছদ বলেছেন:

অট:
কালকে দেখলাম একটা পোষ্টে আপনাকে নাস্তিক উপাধি দিচ্ছিলো কয়েকজন। তারা কি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল >>রিয়াজুল ইস্‌লাম
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: রিয়াজুল ইস্‌লাম যদি নিজেকে নাস্তিক না মনে করেন, আর কেউ যদি তাকে মনে করেন - এর দায় যে মনে করছে তাঁর।
রিয়াজুল ইস্‌লামের কিছু এসে যায় না তাতে।

৫. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৫
অলস ছেলে বলেছেন: মন দিয়ে পড়া শুরু করলাম। পরে আপাতত কোন মন্তব্য না করার আশাই রাখি। এই প্রসঙ্গে আপাতত চুপ থাকাই ভালো।
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: আপাতত চুপ কেন?
অলস ছেলের আলসেমি না অন্য কিছু?

৬. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৯
ত্রিভুজ বলেছেন: "কোরান বনাম বিজ্ঞান" টাইপ চিন্তাভাবনাটাই ভুল। কোরআনকে বিজ্ঞানের প্রতিদ্বন্ধী দাঁড় করানোটাই একটা বিরাট বড় বোকামী....
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৬

লেখক বলেছেন: কি করবেন তবু তো আমরা শমসের আলীদের সমাজে হাজির হতে দেখি।
অথচ সবচেয়ে আশ্চর্যের হলো, আমাদের জীবন্ত সমস্যাগুলো যেমন ধরেন টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যু তে কবি নীরব। এখানে এসে তার বুঝা কোরান শরীফ অথবা বিজ্ঞান কোনটাই আর কাজ করে না। এটাকে বলে বাদাম্যা পজিশন; এমন এক ভাববাদী অবস্হান যা মাটি স্পর্শ করে নাই।

সমাজ তৈরি না থাকলে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষকদের এই হাল হয়। বেশির ভাগই তাঁরা "বস্তুবাদীতার শিখড়ে থাকেন, ব্যতিক্রমী দুই একজন চরম এক ভাববাদী জগতে বিরাজ করেন। দুটো একসাথে কখনও তাঁরা ধরতে পারেন না।

৭. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৯
মুসতাইন জহির বলেছেন: বি কেয়াফুল, ভেরি টাফ জব...
১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৩

লেখক বলেছেন: কী করব বলেন, টাফ জব মনে করে তো ফেলে রাখছিলাম। কিন্তু কী করব, কোথাও না কোথাও থেকে তো শুরু করতে হবে। বলছেন যখন কেয়ারফুল থাকব।
চোখের সামনে হুদাই বিতর্কে আমরা ভাগ হয়ে যাব হতেই থাকব - এটা অসহনীয়। এরপর হয়ত কাউকে ফেরানোর সুযোগই থাকবে না।

সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসবেন এই আশা রাখছি। দোয়া করবেন।

৮. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৫
মজলুম বলেছেন:


কোরানে যারা বিজ্ঞানের মিল খোঁজে(আস্তিকেরা), আর কোরানে যারা বৈজ্ঞানের ভুল খোঁজে(নস্তিকেরা) ,
এই দুই গ্রুপ দেখলে আমার হাসি পায়।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১১

লেখক বলেছেন: হাসি পাবার মত ঘটনা অবশ্যই আছে। কিন্তু বেকুবি দিকগুলো যদি বাদ রাখি তবে কিছু কথা বলা যায়। বিজ্ঞান অর্থাৎ প্রকৃতি বিজ্ঞান এর কর্মপরিধি বা যা এর কায়কারবারের ক্ষেত্র এর মধ্যে মানুষের বা দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নসমুহের উত্তর পাওয়া যাবে না; খুঁজারও কোন কারণ নাই। কারণ, তা প্রকৃতি বিজ্ঞান এর কর্মপরিধির বাইরে।

যেমন মানুষের জন্য ধর্ম দরকার কেন বা হয়েছিল কেন?
এই প্রশ্নটাকেই যদি ধরি, তবে এর উত্তর প্রকৃতি বিজ্ঞান এরিয়ার মধ্যে পাওয়া যাবে না এমনকি সমাজ বিজ্ঞানের মধ্যেও না; তবে চেষ্টা করা যেতে পারে। আর সেই প্রচেষ্টা শেষে যখন মনে হবে একটা উত্তর পেয়েছি তখন দেখা যাবে উত্তরটা এসেছে দর্শনের বা ধর্মের মধ্য থেকে, অর্থাৎ আমরা দর্শনে প্রবেশ করে এর উত্তর পেতে পারি। আমাদের অনেকের মনে হতে পারে দর্শন বা ধর্মের সাথে সমাজ বিজ্ঞানের সম্পর্কটা ঘনিষ্ট, এখান থেকে দর্শন বা ধর্মে তাড়াতাড়ি যাওয়াও যায়; সেই তুলনায় প্রকৃতি বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক প্রায় নাই, সম্ভবত একেবারেই নাই। এই কথাটা একদম ঠিক না। জাফর ইকবাল নিয়ে আমার আগের পোষ্টের শেষে ফুটনোটে একটা প্রশ্ন তুলেছিলাম ধর্মের সাথে গণিতের সম্পর্ক কী? গণিতে মনোযোগী হলে আমাদের কচি মনগুলো ধর্মের কূপমন্ডুকতা থেকে বের হতে পারবে - এই অলীক ধারণাকে সচেতন করতে প্রশ্নটা করেছিলাম। এখন সেই প্রশ্ন রিভাইজ করে আবার করছি, দর্শন বা ধর্মের সাথে গণিতের সম্পর্ক কী? উত্তর এখন বিস্তারে যাব না। পাঠক নিজে চিন্তা করলে অনেকেই অনেক কিছু বলতে পারেন। এখন এখানে আর এক প্রশ্নের ভিতর দিয়ে ইঙ্গিতে কিছু বলে শেষ করব।
বিজ্ঞানে অর্থাৎ প্রকৃতি বিজ্ঞানে ক্লোন বানানোর কথা আপনারা শুনেছেন; বাছুরের ক্লোন ইত্যাদি। মানুষের ক্লোনও বানানো কী ঠিক হবে? এই প্রশ্নের উত্তর প্রকৃতি বিজ্ঞান কেন সমাজ বিজ্ঞানও দিতে পারবে না। এমনকি এটা প্রেসিডেন্ট বুশের (প্রশ্নটা বুশের আমলে উঠেছিল তাই বুশের কথা বললাম) কাছ থেকে নেয়াও ঠিক হবে না। কারণ এটা জীব প্রাণ জগত দুনিয়ার জন্য একটা মৌলিক প্রশ্ন, দার্শনিক প্রশ্ন। এধরণের প্রশ্নের মেজর গাইড লাইন মৌলিক দিক নির্দেশনা আমরা একমাত্র পেতে পারি দর্শন ও ধর্মে।
কাজেই বিজ্ঞান তা প্রকৃতি বিজ্ঞান কী সমাজ বিজ্ঞান যাই হোক এর মেজর গাইড লাইন মৌলিক দিক নির্দেশনামূলক উত্তরগুলো দর্শন ও ধর্ম ঠিক করে দেয় এরপর ছেড়ে দেয়; পরবর্তীতে, আমরা ওর খুটুনাটি চৌষট্টি পর্বে বিস্তারে যেতে থাকি নানান বিজ্ঞান শাখা প্রশাখায় বা এ্যপ্লায়েড বিজ্ঞান নাম দিয়ে ছড়িয়ে পড়ি। তবে সেই কাজেও বিজ্ঞান যদি আবার কোন মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয় -সেসবের উত্তর দর্শন ও ধর্ম থেকে পেতে হবে। এখন বিজ্ঞান খুটুনাটি চৌষট্টি পর্বে বিস্তারে যেতে নানান শাখা প্রশাখায় কোথায় কি করলো তা মৌলিক বিষয় না হলে সেখবর দর্শন ও ধর্ম রাখে না; রাখার দরকার নাই তাই। কিন্তু জীব প্রাণ জগত দুনিয়ার জন্য কোন মৌলিক প্রশ্ন, যেমন মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক কী - এসব গভীর দার্শনিক প্রশ্নের খবর, উত্তর একমাত্র দর্শন ও ধর্ম দিতে পারে; বিজ্ঞান সে দিক নির্দেশনামূলক উত্তরের মধ্যে নিজের কাজ করে।

কথাগুলো বললাম দর্শন ও ধর্ম বা সুনির্দিষ্ট করে কোরানের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক কী এটা সংক্ষেপে বলার জন্য।

অনেকে দর্শনের পাশাপাশি ধর্ম শব্দ কেন রাখলাম আবার, বিশেষ করে কোরানের কথা উল্লেখ করলাম - এজন্য একটু অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। অস্বস্তির কিছু নাই। নবীজ্ঞান যুগের শেষ নবী মুহম্মদের ইসলামে এমন কিছু প্রস্তাবনা আছে যা আজকের দিনের বহু দার্শনিক প্রশ্নের মীমাংসা যোগাতে পারে এবং তা সেযুগেই করা। সব ধর্মের ক্ষেত্রেই কমবেশি একথা খাটে। কাজেই জ্ঞানের জগতে যদি দর্শন শ্রদ্ধার পাত্র বিষয় হতে পারে তবে ধর্ম বিশেষত ইসলাম আমাদের কাছে সেই গুরুত্ত্ব তাৎপর্য না পাবার, শ্রদ্ধার বিষয় না হবার কোনই কারণ নাই।
আপনাদের মত আমিও জানি, ধর্মের বিরুদ্ধে ব্যবহারিক দিক থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কাল পর্বে অনেক অভিযোগ আমাদের জানা আছে, সেগুলো সত্যিও বটে, আমাদের অনেক খারাপ অভিজ্ঞতাও আছে আমরা তা জানি কিন্তু সেসব এখানে আমার বক্তব্যের বিষয় নয়; আমি এগুলোকে পাশে সরিয়ে রেখে আমার কথাগুলো আমি বলতে চাই। আশা করি পাঠক বুঝবেন, কেন আমি জ্ঞানের জায়গায় দাঁড়িয়ে ধর্মের পক্ষে ও প্রসঙ্গে কথাগুলো বলছি। আবার একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ইসলাম সম্পর্কে এখানে কথা বলা মানেই আমি কালকে "আমার ইসলাম শ্রেষ্ঠ" ইসলামের ঝান্ডা তুলে কাউকে বাকি সবার গলা কাটতে বের হতে বলছি বা প্ররোচিত করছি না। আবার উল্টো দিকে ইসলাম আমাদের সংস্কৃতিতে আছে বলে আমাদের হীনমন্বতাবোধেরও কোন কারণ নাই।

সারকথায়, জ্ঞানচর্চার জগতে দর্শন বলতে আমরা যা বুঝি ধর্মের ফাউন্ডেশন উপরেই তা দাঁড়ানো। আমাদের কথা বললে, এভাবে যেসব ধর্মের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমাদের জনগোষ্ঠি, সংস্কৃতি আজকের এ'যায়গায় এসেছে - ওগুলোর নাম ধর্ম বলে ওর দার্শনিক মর্যাদা, গুরুত্ত্ব তাৎপর্যকে আমরা যেন অবজ্ঞা না করি। ধর্ম প্রসঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গি যেন আমরা বজায় রাখতে পারি, সে পরামর্শ থেকেই এতকথার অবতারণা করলাম।

প্রসঙ্গত: পাঠক লক্ষ্য করবেন, আমি কোরানের আয়াতে বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি খবর খুজতে পরামর্শ রাখিনি।

মজলুম@ আপনার মন্তব্যের জবাব দেবার উছিলায় অনেক কথা বলার সুযোগ নিতে হলো, যেগুলো মূল পোষ্টে লিখতে পারি নাই।

৯. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৭
মজলুম বলেছেন:


দর্শন ধর্মকে পরাস্ত করতে পারলেও দুনিয়ায় আরও বহু যুগ ধর্ম বহাল তবিয়তে থেকে যাবে। কেন একথা বললাম সে কথা অন্য কোথাও আলোচনা করা যাবে।


আমিও তাই বলি, আপনার কাছে অনুরোধ রইলো এটা নিয়ে পরের পোষ্টে আলোচনা করবেন। ধন্যবাদ।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৫

লেখক বলেছেন: ঠিকই ধরেছেন সেকানে যাবার জন্যই এত আয়োজন করে নিতে হচ্ছে। পরের কোন পোষ্টে সেখানে যাব।
তবে তার আগে আরও অনেক কথা বলব এখানে। ১৩ নম্বর মন্তব্যের জবাবে চোখ রাখবেন।
ভাল থাকবেন মজলুম।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অলস ছেলে। এবার প্লাস দিতে আসার জন্য।

১১. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৬
রিয়াজুল ইস্‌লাম বলেছেন: @প্রচ্ছদ:

না আমার প্রশ্নের উত্তর পাই নি। গোঁজামিল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিজের মত করে চিন্তা করতে এদের কষ্ট হয়।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৩

লেখক বলেছেন: বড় কোন চিন্তায় প্রবেশ করতে চাইলে ওর প্রথম শর্ত হলো, চিন্তাকে স্বাধীন রাখতে হবে, কোথাও কোন খুটায় যেন তা আটকে না পড়ে; সেদিকে সে যেতে চায় যেতে দিতে হবে - এভাবে চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে আগে।
এখানে কোন ধরণের অসততা করলে ঐ কসরতের কোন ভবিষ্যত নাই। পন্ডশ্রম।

১২. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৭
মুসতাইন জহির বলেছেন: দর্শন 'ধর্ম'কে পরাস্ত করেছে, কথাটা বলে আপনি নিশ্চয় ধর্মের মধ্যে স্থিত বা জাগ্রত চৈতন্যকে ধর্মতাত্ত্বিক বলয় বা প্রকরণ-এর বাইরে চিন্তা নিজের 'বিষয়' ও প্রক্রিয়ায় ভিন্নতর স্তরে উন্নিত করার সাফল্যের কথা বুঝাতে চাচ্ছেন।

সেটা না হলে দর্শনের দিক থেকে চিন্তার নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিযাত্রা হিসেবে এ দুয়ের অন্তর্গত সম্পর্কটা ঠিক থাকে না। কারণ খোদ চৈতন্যের নিজেকে ব্যক্ত করার নানান রূপ ও স্বরূপের মধ্যে আপনার কর্তাসত্তার উদ্বোধন ঘটছে। নিজেকে নিজের পরাস্ত করার কিছু নাই।

বীজ থেকে যে সুপ্ত প্রকাশ গাছে বাস্তবনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত হয়, হবার পথে তার যে নানানমাত্রিক বিভিন্নতার ভিতর দিয়ে যাত্রা সম্পন্ন হয়, তাকে আলাদা আলাদাভাবে দেখা যায়-- তবে তাকে খন্ডিতভাবে সমগ্রতার বাইবে নিয়ে গেলে নিশ্চয় সত্তা হিসেবে তার উপস্থিতিকেই বিলিন করে দেওয়া হবে। একমাত্র বিচ্ছিন্ন করলেই বিজয় এর কথা আসে। সঙ্গে সঙ্গে আরো নানান কিছু...
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৭

লেখক বলেছেন: বিগ থ্যাঙ্কু মুসতাইন।
আমি আপনার সাথে একমত থেকেও পরাস্ত শব্দটা ব্যবহার করেছি নানান চিন্তা করে, আপাত জটিলতা কমাতে।

চিন্তার ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় ধর্ম এর আগের রূপ, দর্শন ওর পরের রূপ; চিন্তার জায়গা থেকে শুরু করলে এটা সহজেই লিখা যেত। কিন্তু এই লেখা আমি চিন্তার ইতিহাসের জায়গা থেকে বলা শুরু করিনি, করতে পারিনি প্রসঙ্গের কারণে। ব্লগ পাঠকের মনের প্রশ্নের কথা খেয়াল রেখে আমি লিখছিলাম। ফলে ধীরে ধীরে ওখানে যেতে চেয়েছিলাম, যেতাম। আপাতত আপাত ধারণাটাই রাখতে চেয়েছিলাম।
এক্ষেত্রে আট নম্বর মন্তব্যের জবাবের দিকে খেয়াল রাখলেই বুঝতে পারবেন।

তবু আপনার মন্তব্যে জবাবের উছিলায় প্রসঙ্গ পেয়ে পাঠককে এখন বলে রাখতে চাই, মানুষের চিন্তার ঐতিহাসিক অভিযাত্রার দিক থেকে দেখলে -ধর্ম ও দর্শন- চিন্তারই আগের আর পরের রূপ।

কিন্তু মুসতাইন লক্ষ্য করবেন,
সারা পশ্চিম নিজেদের ইতিহাসের গতিপথে দর্শন ধর্মকে পরাস্ত করেছে - এই পরাস্ত ভাবনার উপরেই সভ্যতা হয়ে আছে বলে দাবী করছে। প্রধান ধারার এই ভাবনা আপতিক অর্থাৎ আপাত দৃষ্টিতে যা নজরে পড়েছে তাকেই সত্যি ভাবা হয়েছে; ফলে স্বভাবই তা মিথ্যাও বটে। আমি সেই আপতিকতা ভাবনাকে ভাঙ্গার চেয়ে, ধর্ম এরপরেও থেকে যাচ্ছে সে কথার দিকেই বেশি নজর ঢালতে চেয়েছি।

মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

১৩. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৮
মুসতাইন জহির বলেছেন: 'পরাস্ত' কথাটার মধ্যে রেনেসাঁর যুগে ইওরোপের ইতিহাসের রাজনীতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। সেই ইতিহাসের ফয়সালাকে দর্শনের নির্বিশেষ সিদ্ধান্ত করা যায় না। প্রদ্ধতিগতভাবেই তা বিপত্তির সৃষ্টি করবে।

সেখানে যে অনুমান, পাটাতন ও প্রকরণনিক বিষয়গুলোকে সাব্যস্ত ধরে নেওয়া হয়েছিল তার উৎপত্তি, বিকাশ ও পরিণতির দিক থেকেই শুধু নয় খোদ বিশ্ব ইতিহাসের বিশেষ ও নির্বিশেষ হয়ে ওঠার গুণগত বৈশিষ্ট্যের নিরিখেই আজকাল প্রশ্নগুলো সামনে চলে আসেছে।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন: এই রেনেসাঁ কথাটাই আমি খুঁজছিলাম। আমাদের চিন্তার প্রধান ধারা পশ্চিমকে রেনেসাঁ হিসাবেই কেবল চিনে এসেছে। এই আপাত চিন্তার ভিতরেই এখানে আপাতত আমি থাকতে চেয়েছিলাম। বহু আগের কোন এক পোষ্টে অবশ্য থাকিনি। যাই হোক আপনার উছিলায় এখন এই গুমোড় আর রাখলাম না বটে কিন্তু আমার বিশ্বাস আমাকে এনিয়ে আরও বিস্তারে পরের কোন পোষ্টে কথা বলতে হবে।

১৪. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৬
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: আপ্নার পোস্টে দাড়ানোর জায়গা পায়া খুশি হৈলাম।

যেহেতু বিজ্ঞান জ্ঞান আহরনের একটা পদ্ধতি মাত্র, জ্ঞানের কোনো শাখা না, সুতরাং কেবল এগিয়ে-, চলতে পারে। মানে হইলো না এগোলে পরে বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান থাকেনা।

সওয়াল: জ্ঞানের কোনো শাখা কি না এগিয়ে চলতে পারে?
জবাব (কি এরকম হৈতে পারে): জ্ঞানের নানা শাখা'কে পদ্ধতি এগিয়ে নেয় সেইটাই বিজ্ঞান?

ধন্দে পইরা গেলাম।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্দের কিছু নাই।
প্রধান সমস্যা ধর্মকে জ্ঞানের বিষয় হিসাবে দেখার সামাজিক অভ্যাস খাড়া হওয়ার আগেই আমরা ধর্মের নিকুচি করতে কর্তব্যজ্ঞান ঠাউরে ফেলেছি। ফল হয়েছে এই, এতে না ধর্মের মহিমায় আপ্লুত হওয়ার বাইরেও কোন দেখার চোখ তৈরি হয়েছে, না ধর্মকে জ্ঞানের বিষয় হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছি, না ধর্মের নিকুচি হয়েছে।

আর নীট ফলাফল: পুরা সমাজ মোটা দাগে দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে। কোন পক্ষই কারও কথা শুনার অবস্হায় নাই, পরস্পর পরস্পরকে উৎখাতের এক নির্মম প্রচেষ্টাই যেন এর সমাধান - এই ভাব দিনকে দিন সমাজে গেড়ে বসছে।
আমাদের মানুষকে এইসব আত্মধ্বংসী চিন্তা থেকে বাইরে আনা যায় কিনা তা পরখ করার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।

আপনার সওয়াল,
ওটা যদি জ্ঞান বা ওর কোন শাখা হয়ে থাকে তবে আগে মেনে নিতেই হবে - জ্ঞানের সম্ভাবনা অফুরন্ত। বরং সে সম্ভাবনা জায়গা খুলে না রাখলে তা আর জ্ঞান থাকবে না।
আপনার উত্তরের মধ্যে জটলা আছে। জটলাটা হলো, পদ্ধতির কারণে জ্ঞানের বিস্তার ঘটে, আগিয়ে নেয় - এটা সত্যি না।

আপনার ধন্দের উৎসটা হলো, বিজ্ঞান শব্দে।
কোথাও বিজ্ঞান শব্দটা আছে এমন বাক্য থাকলে আগে নিশ্চিত হইয়া নিবেন, বিজ্ঞান শব্দটা ওখানে কি অর্থে ব্যবহার হয়েছে, ১. জানার পদ্ধতি অর্থে নাকি ২. প্রকৃতি বিজ্ঞান (History of natural Science) বুঝানো হয়েছে।
পপুলারলি প্রায় সব জায়গায় দ্বিতীয় অর্থে বিজ্ঞান শব্দটা আপনি দেখে থাকবেন।

প্রকৃতি বিজ্ঞান মানে হলো, প্রকৃতিকে জানার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
আবার, প্রকৃতি বিজ্ঞান মানে হলো, প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান

উপরে বাক্যে ব্যবহার দেখেন, প্রথমটা হইল পদ্ধতি আর দ্বিতীয়টা হইল বিষয়ে জ্ঞান।

এবার আপনি যে উদ্ধৃতি বাক্যটা আনছেন,
"যেহেতু বিজ্ঞান জ্ঞান আহরনের একটা পদ্ধতি মাত্র, জ্ঞানের কোনো শাখা না, সুতরাং কেবল এগিয়ে-ই, চলতে পারে। মানে হইলো না এগোলে পরে বিজ্ঞান আর বিজ্ঞান থাকেনা" --

এখানে বাক্যের শুরুতে প্রথম যে "বিজ্ঞান" এর মানে হলো পদ্ধতি।
বাক্যের শেষে যে দুই "বিজ্ঞান" দেখছেন, এর মানে হলো জ্ঞান; যেমন প্রকৃতি বা সমাজ বিষয়ক জ্ঞান।

আশা করি এবার পরিস্কার করতে পেরেছি।

১৫. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২০
প্রচ্ছদ বলেছেন: আপনাকে নয়; পোস্টকে পর্যবেক্ষনে নিয়েছি কারণ পোস্টপরবর্তি আলোচনাগুলো দেখতে চাচ্ছিলাম।

.........................
.........................
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রচ্ছদ। আমি বুঝতে পেরেছি।

১৬. ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৪
নাজনীন১ বলেছেন: দর্শনই হলো সকল জ্ঞান। একমত।

কিন্তু আপনি যে ধর্মকে দর্শন থেকে আলাদা করে দিলেন, সেখানে এসে তো দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। আমি তো মনে করি ধর্মের জ্ঞানটাও দর্শন, সেটা ধর্ম যতদিন থাকবে তার সাথের জ্ঞানও মানে দর্শনও ততদিন থাকবে। তবে হ্যাঁ, দর্শনেরও কিছু শ্রেণীবিভাগ আছে। একই লব্ধজ্ঞান থেকে বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দর্শনও বিভিন্নরকম হয়। যাই হোক, পরের পোস্টের জন্যই অপেক্ষা করি।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: পোষ্ট ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ নাজনীন১।

উপরে ৮, ১২, ১৩ নম্বর মন্তব্যে আমার জবাব একটু কষ্ট করে দেখবেন। একটা আপাত ভাগ রেখেছিলাম পরে কথা তুলব বলে। মুসতাইনের জোড়াজুড়িতে তা ভেঙ্গে দিলাম। যদিও এনিয়ে পরে কোথাও আরও কথা বলতে হবে আমাকে।

আপনি ঠিকই ধরেছেন। আশা করি এখন দ্বন্দ্ব থাকবে না।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনি একে পাগলা তার উপর জগাই।
পাগলাদের কথা আমি সবসময় ঠিক বলে মানি। সুস্হ লোক নানান স্বার্থের পাল্লায় পরে ঠিক-বেঠিক ঠিকঠাক বলতে পারে না, লুকোচুরি করে।
ধন্যবাদ পাগলা জগাই।

১৮. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৭
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:

ইন্টারেস্টিং লেখা... পরবর্তীতে কি নিয়ে আসছেন তা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আবদুল ওয়াহিদ।
পরের লেখা বুঝবার পূর্বশর্ত হলো, এ লেখাকে ঠিকঠাক ধরতে পারা।
ভাল থাকবেন।

১৯. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: সেইটাই। ওই সময় ন্যাচারাল সায়েন্সের কথা মাথায় আছিল্না।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩০

লেখক বলেছেন: কথাটা আংশিক সত্য।

এই পুরা পোষ্টে সারাক্ষণ জ্ঞান জ্ঞান করেই চালিয়ে দিলাম। তাহলে শিক্ষা আবার কী জিনিষ? শিক্ষার সাথে জ্ঞানের সম্পর্ক কী? এর আগে জ্ঞান আর শিক্ষার তফাৎ কী - এসব প্রসঙ্গে জানতে হবে।

মনে রাখবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টি, সাইন্স ফ্যাকাল্টি বলে ভাগের রেওয়াজ কিন্তু এখনও বর্তমান। এই তো আশির দশকের শুরুতে কেবল "সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ" এর ব্যবহার সঙ্গোপনে দেখা গেল। কিন্তু ভবনের নামে কলা ভবনই রয়ে গেল।
ফলে "ওই সময়" বলতে কোন সময় বুঝবেন তা জানা, বুঝবার ব্যাপার আছে।

২০. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০২
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: কিন্তু স্যার!
এ যুগে (মানে নবীযুগের পরে) ধর্মের জায়গা যে দর্শন নিছে, এইটা ঠিক করে কে? দর্শনের কথা যখন আপনে বলেন, আপনে মূলত পাশ্চাত্য দর্শনের কথা বলেন। সে কোন 'ধর্ম'রে দর্শন কয়, ধর্ম নিজে যা- তারে, নাকি সে নিজে 'ধর্ম'রে নিজের মতো কইরা সংজ্ঞা দেয় আগে? দেয়।
আপনে যখন বলেন- এখন দর্শনের যা কাজ, সেই নবীযুগে কর্ছে 'ধর্ম'। আর এখন করবে দর্শন, এইটা তো পাশ্চাত্য দর্শন (মানে 'দর্শন) নিজে ঠিক করে।

এমনকি জনাব মুসতাইন জহির যে তর্ক তোলেন -'দর্শন 'ধর্ম'কে পরাস্ত করেছে' এবং সেই 'পরাস্ত' করন হইলো য়ুরোপিয় জাগরনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত দর্শনের নির্বিশেষ সিদ্ধান্ত বলে মানতে আপত্তি করেন জনাব জহির, কারন যে দর্শন এর কথা আপনে বলেন তারে পাশ্চাত্যের দর্শনের বাইরের বিষয় বইলা মনে করেন তিনি। কিন্তু আমার মনে লয় আপনে য়ুরোপীয় জাগরন কালের পরবর্তী দর্শনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাই বলছেন। বলছেন- মানুষের চিন্তার ঐতিহাসিক অভিযাত্রার দিক থেকে দেখলে -ধর্ম ও দর্শন- চিন্তারই আগের আর পরের রূপ।
তাইলে পরে এর বাইরে (য়ুরোপিয় জাগরনের চিন্তার) দর্শনের কোনো নির্বিশেষ সিদ্ধান্তে কি আপনার আগ্রহ আছে ?
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৫

লেখক বলেছেন: "কিন্তু আমার মনে লয় আপনে য়ুরোপীয় জাগরন কালের পরবর্তী দর্শনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথাই বলছেন" -

হ্যাঁ আমি তো তাই-ই বলছি। এতে সমস্যা কী? এটা নিয়া আপনি আর মুসতাইন মিইলা এত ঝুলাঝুলি শুরু করছেন কেন?

আপনি যা যা জানেন তার সবই কী এক লেখা বা এক পোষ্টের মধ্যে বলতে পারেন, না বলেন? আপনি আমি কত জানি সেটা গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। যা জানি তা নিয়ে পাঠকের কাছে পৌছাবো কেমন করে সেটা আলাদা সমস্যা, আলাদা বিষয়; আপনি কত বেশি জানেন তা এক্ষেত্রে সহায়তা নাও করতে পারে। জানা আর জানানোর কৌশল ও ষ্টাইল এক কথা নয়। কিভাবে জানাতে চান তারও একটা পাঠক-ষ্টাডির ব্যাপার আছে।

এছাড়া পোষ্ট লেখা কোন গ্রন্হ লেখা নয় যে আপনি আপনার কথা লেখার জন্য ধাপে ধাপে চ্যাপ্টার ধরে লিখতে পারেন - পুরা বই সমগ্র বানাইতে পারেন।
আবার পোষ্ট যাদের জন্য লিখছেন সেই পাঠক, ও কোনদিক থেকে আপনি পাঠককে নিয়ে প্রসঙ্গে প্রবেশ করতে চান - এসব হাজারো চিন্তা ভাবনার ব্যাপার আছে। আপনারা আমাকে যেভাবে বলায় লইলেন, মানুষের চিন্তার ঐতিহাসিক অভিযাত্রার দিক থেকে দেখলে -ধর্ম ও দর্শন- চিন্তারই আগের আর পরের রূপ। - এভাবে বইলা মেজরিটি পাঠককে আমি কী বললাম বুঝাতে পারি নাই, আমি জানি; বেশির ভাগ পাঠক এখানে মুসতাইন ও আপনি কী আপত্তি করছেন আমিই বা কী এত কথা খরচ করছি - তা নিয়ে আন্ধারে আছে। এই জন্যই বলছি জানা আর জানানোর পথ এক নয়।

এই সমস্যা সহজেই মিটানো যেত আপনারা যদি আমার প্রতি একটু সদয় হতেন।

প্রথমে জিগাই লইতেন, কেন "পরাস্ত" লিখছি শুধু এইটা প্রশ্ন করে বসে যেতেন। আমাকে ডিফেন্ড করার সুযোগ দিতেন। আমার জবাবটা শুনার জন্য একটু ধৈর্য ধরতেন। এরপর আমি কী করে ডিফেন্ড করি এটা দেইখ্যা পর আপনাদের কলম ধরতেন। কিন্তু আপনারা আগেই ধরে নিলেন আমার জবাব নাই বা আমার ভুল হইতেছে।

আপনি পত্রিকায় লেখা মানুষ, আপনার তো "জানা জিনিষ জানানোর সমস্যা কী" তা বুঝবার পারার কথা।

২১. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৫
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: তবে যে তাগিদ আপ্নারে এই পোস্ট লিখ্তে বাধ্য কর্ছে সেইটা মনে লয় আমি ধর্তে পার্ছি। আমার মনে হয় পাশ্চাত্য দর্শন এই অনবীর জমানায় ধর্মের কি ভূমিকা ঠিক কর্ছে সেই তর্কে না গিয়াও আপ্নে আপ্নার কথা বল্তে পার্তেন। অবশ্য ওই দর্শনের জায়গায় দাড়াইয়া কথা বলার জরুরত যদি আপ্নের থাকে সেইটা ভিন্ন কথা।

আপ্নে মূলত এইটাই বল্তে চাচ্ছেন যে, কোন গ্রন্হ তা সে ঐশী বা কোন জ্ঞানীর যাই হোক - গ্রহনের দায়ীত্ত্ব এটা নয় যে আপনার সামনে উপস্হিত দুনিয়া পরিস্হিতি জেনে কোন বয়ান খাড়া করে; কোন ব্লগপোষ্ট রচনা করে দেয়। এটা আপনি - কর্তা, আল্লার খলিফা প্রতিনিধি হয়ে আপনার কর্তব্য হলো, ঐসব গ্রন্হ পড়ে সহায়তা নিয়ে আর কষ্টকর দুনিয়াদারি করে সে অভিজ্ঞতা নির্যাস থেকে নতুন বয়ান খাঁড়া করা, আমাদের দুনিয়া হেফাজত করার কাজে যোগ্যতা দেখানো, এযুগে আমাদের কর্তব্যকাজের প্রকল্প, সংকল্প দাঁড় করানো।

এইটার জন্য তো আমাগো দর্শনের সার্টিফিকেট নেয়া লাগে না। 'ইসলাম' যে মানুষদের 'ঐশী' গ্রন্থ দেয় সেই মানুষ কিন্তু দুনিয়ার মানুষ। খলিফা হিসাবে যার দায়িত্ব নিজের মানে দুনিয়ার হেফাজত করা। দুনিয়া মানে বর্তমান মানুষের অনেকাগের দুনিয়া না। বর্তমানের দুনিয়া। তো ইসলামের দাবী তো এইটাই যে মানুষ তার সময়ে দাড়াইয়া তার দুনিয়াদারির অভিজ্ঞতা থেইকা নিজের কাজের ধরনাধরন ঠিক কইরা নেবে। সময় সংকল্প প্রকল্প সবই মানুষের নিজের সময়ের মধ্যে হইতে বাধ্য। যে বিজ্ঞান প্রক্রিয়ার চেয়ে তার ঐশি গন্থ এগিয়ে না পিছিয়ে সেইটার তুলনা করে, সে মূলত তার ঐশি গ্রন্থের তাগিদ শোনে নাই।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: এই প্রসঙ্গটা ধরতে আপনারা বড়ই দেরি করলেন!
শিরোনামের দিকে তাকালেও অনেক আগেই তো তা বুঝতে পারার কথা। অথচ এতক্ষণ তর্ক অন্যদিকে করে সময় নষ্ট করলেন।

কোরান শরীফ থেকে যায়গা-বে-যায়গা কোটেশন মারা খুবই সহজ একটা কাজ। নিস্প্রাণ এই কাজে মানুষের বিরক্তি ও আরও বিভক্তি উৎপাদন করা যায় সহজেই। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত ফেলেছেন ওখান থেকে কিছুই নিবার নাই, তাদের।
অথচ দরকার হলো, কোরানের জ্ঞান, ইসলামের জ্ঞান নিজের বাস্তবের কষ্টকর ঘাম ফেলা আহার সংস্হানের যোগাড়ের দুনিয়াদারির জীবনে ট্রানশ্লেট করে হাজির করা। এজন্য নিস্প্রাণ গ্রন্হ আউরানো বন্ধ করে নিজের যুগের বয়ান খাড়া করার দিকে মনোযোগ দিতে বলেছি। ইসলাম বুঝে কোরান শরীফ পরে আত্মস্হ করে কী শিখছি তা নিজের বয়ানে তৈরি করে দেখাতে বলেছি। ওতে ধরা পড়বে নিজের ক্ষমতা কিছু হইছে না হয়নি।
এটাই আপনার ভাষায় আপনি যেমন বুঝেছেন, " 'ইসলাম' যে মানুষদের 'ঐশী' গ্রন্থ দেয় সেই মানুষ কিন্তু দুনিয়ার মানুষ। খলিফা হিসাবে যার দায়িত্ব নিজের মানে দুনিয়ার হেফাজত করা। দুনিয়া মানে বর্তমান মানুষের অনেকাগের দুনিয়া না। বর্তমানের দুনিয়া। তো ইসলামের দাবী তো এইটাই যে মানুষ তার সময়ে দাড়াইয়া তার দুনিয়াদারির অভিজ্ঞতা থেইকা নিজের কাজের ধরনাধরন ঠিক কইরা নেবে। সময় সংকল্প প্রকল্প সবই মানুষের নিজের সময়ের মধ্যে হইতে বাধ্য"।
আপনি সঠিক ধরতে পেরেছেন। আমি এখানে আমাদের ইসলাম কত মহান সেই মহিমা বুঝাতে বসিনি। আমরা যদি "দুনিয়ার হেফাজত করার" কর্তব্য বুঝি এবং এ থেকে আমাদের কালের প্রকল্প সংকল্প কী তা বুঝতে চাই তবে আমাদের এখনকার জলজ্যান্ত সমস্যা জলবায়ু বা আমাদের আরও কাছের টিপাইমুখ, তিস্তা ইত্যাদি দিকে নজর করতে হবে। এটা ভারত করছে বলে ইসলামী জোশে এর বিরোধীতা প্রশ্ন নয়, নদীর পানি আটকায়ে দিলে আমাদের জীবনযাত্রা দুনিয়াদারি বহুত কঠিন হয়ে যাবে শুধু সে কারণেও নয়, বরং আরও গভীরের মৌলিক প্রশ্ন, প্রকৃতির সাথে আমাদের সম্পর্ক কী, আমাদের কৃষি মানে কী - এধরণের বহু প্রশ্নে মৌলিক অবস্হান, মৌলিক নীতিমালা আমাদের সকলকে অআকখ এর মত শিখিয়ে এককাট্টা হয়ে দাঁড় করাতে হবে। এই শক্তির সামনে ভারত বা চীন বা যে কোন উপস্হিত শাসক শ্রেণী ম্লান হয়ে যাবে, সবদেশের জন গণের একটা ঐক্যের জায়গায় আমাদের পৌছাতে পারবো। একাজ অনেক লম্বা; যার প্রথম পদক্ষেপ হলো, দেশে ইসলাম আর আধুনিক বলে মোটা দাগে আমাদের সমাজ ভাগ হয়ে শক্তিহীন হয়ে আছে - এর মুখোমুখি হওয়া ও চিন্তার ক্ষমতা দিয়ে একে নিরসন করা। স্রেফ কোটেশন আউড়ে বা ইসলামের প্রতি ভালবাসা জোরে একাজ সম্ভব নয়। নিজস্ব বয়ান লাগবে যা থেকে কার্যকর নিজের কর্তব্যকর্ম, প্রকল্প সংকল্প জানা যায়, সকলকে ঐক্যের জায়গায় আনা সম্ভব হয়।
ঐশী বা কোন গ্রহ্নের দায়ীত্ত্ব এটা নয় যে আমাদের সামনে উপস্হিত দুনিয়া পরিস্হিতি জেনে নিজেই আমাদের জন্য কোন বয়ান খাড়া করে দেয়।

২২. ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: বেজার হন ক্যানো? আমি কি কোনোভাবে একথা বলছি- ঐশী বা কোন গ্রহ্নের দায়ীত্ত্ব এটা যে আমাদের সামনে উপস্হিত দুনিয়া পরিস্হিতি জেনে নিজেই আমাদের জন্য কোন বয়ান খাড়া করে দেয় । কই নাই।

আমি তো এর উল্টাটাই কইলাম।

তবে দর্শন মানে পাশ্চাত্য দর্শনের চোখে ধর্ম বিচার করার তাগিদ আমার নাই-
কারন দুইখান-

এক. বাংলাদেশে যে কারনে গনিত কিংবা বিজ্ঞান নামের বিষয়াশয়কে- যা কিছু ধর্ম নামের বা প্রসঙ্গের, তার বিরুদ্ধে দাড় করানো হয়; সেই কারন এই না যে- দাড় করনেওয়ালারা ধর্মকে স্থবির বিষয় হিসাবে জানে এবং সেকারনে পাশ্চাত্যের দর্শনরে এই অনবী যুগের ধর্ম বইলা ইমান রাখে। কিংবা সেই কারন এই না যে, এরা 'আধুনিকতার' ওপর ইমান রাখে, আমল করে। এর কারন আলাদা। খুব সহজ কারন আছে।

দুই. বাংলাদেশে যে কারনে ইসলাম বিজ্ঞানের চেয়ে এগিয়ে না পিছিয়ে সেই বাটখারা নিয়া সর্বজনাব শমসেররা হাজির হয়; সেই কারন এইটা না যে, এই হাজেরান ইসলামরে এমন করে যে এই ইসলামের কিতাব আইসা তাগো সব সমস্যা সমাধান কইরা দেবে, তাগো দুনিয়াদারির কাজ আনজাম দেবে। এই কারন আলাদা। তাও খুব সহজ কারন।

সুতরাং আপনে যখন বাংলাদেশের 'আধুনিকতা'র কিংবা 'ধর্মের' কারবারিদের সাথে 'বিজ্ঞান আর ধর্মের এগিয়ে চলার ধরন ধারন' বিষয়ে আলোচনা করতে যান, তখন আসলে আপনে এই মুশকিলের চুড়ান্ত জায়গার কথা বলতে পারেন না। এই বিজ্ঞান আর ধর্মের আগানো পেছানো বাংলাদেশের (যেই দ্যাশের জনবিভক্তি নিয়া আপনে চিন্তিত) আধুনিক আর ধার্মিকদের কারবারের সামনের আড়াল মাত্র। এইডা তাদের আলাদা হওয়ার ভিত্তি না। সেই ভিত্তি অন্য কিছু।

তবে এই যে বিষয় দিয়া এরা নিজেদের ফারাক করে, এইটার আলাপালোচনাও তো জরুরি। বহুত জরুরি। যে কারনেই নানা দিকের ছোটোখাটো প্রশ্ন গুলা তুললাম। কিন্তু বেজার হইলো মুশকিল স্যার!

(এমনিতেই গতকাইল সুফি-বৈষ্ণব-বাউল জাতীয় নানা আগ্রাসনের কবল থেইকা নদীয়া আর লালনের স্বাতন্ত্র্য আর মৌলিকত্ব বিষয়ক আলাপ কইরা ইমন ভাই'র কাছ থেইকা প্যারানয়েড উপাধি পাইছি! )
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৩০

লেখক বলেছেন: আমি বেজার হই নাই। হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমার জানা ছিল না যে আপনি এত অসহিষ্ণু। তাই বেশ আশ্চর্য হয়েছি।

দর্শন ধর্মকে পরাস্ত করতে পারলেও দুনিয়ায় আরও বহু যুগ ধর্ম বহাল তবিয়তে থেকে যাবে। কেন একথা বললাম সে কথা অন্য কোথাও আলোচনা করা যাবে। - যারা ধর্মহীন একটা সমাজের কল্পনা করে তাঁরা এভাবে ভাবে; আপনি আমি চাই বা না চাই। এদেরকে অর্থাৎ এভাবে যারা চিন্তা করে তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই পোষ্টের শেষে এটা লিখেছিলাম; এবং বলেছিলাম এটা নিয়ে আলোচনা করব।
অর্থাৎ পরিস্কার করে বলেছিলাম, "কেন একথা বললাম সে কথা অন্য কোথাও আলোচনা করা যাবে"। এর পরেও আপনি এই কথার ভিতরে কী মারাত্মক ভুল হয়েছে তা আমাকে বুঝাতে তিন তিন বার একই মন্তব্য বলে চলেছেন। এর মাঝে মুসতাইনের ১২, ১৩ মন্তব্যের জবাবে আমার কথা আরও স্পষ্ট বলে রেখেছিলাম, সেটা দেখতেও আপনার কোন আগ্রহ নাই। আপনি কেন এমন আচরণ করছেন, বারবার তাগিদ নিয়ে হাজির হচ্ছেন, আমি জানি না তবে বুঝার চেষ্টায় আছি।

বক্সিং খেলার একটা নিয়ম হলো, খেলার সময় দুই পক্ষই কোমরে যে বেল্ট পরে ওর একটা তাৎপর্য সংক্রান্ত। ঐ বেল্ট টা আসলে একটা চিহ্ন হিসাবেও কাজ করে। কীসের? না, কেউ কাউকে তলপেটে ঘুষি দিতে পারবে না - এটাই খেলার নিয়ম; এখন কতদূর হলে ওটা তলপেট মানা হবে সেই বিতর্ক এড়ানোর জন্য বলা হয়, "বিলো দ্যা বেল্ট" হিট করা যাবে না।

আপনার আচরণ আমার কাছে "বিলো দ্যা বেল্ট হিট" করে জিতার চেষ্টা মনে হয়েছে। সে জন্য আশ্চর্য হয়েছি। আপনার সম্পর্ক আমার যতটুকু ধারণা এর বাইরের ঘটনা এটা তাই।

পাঁচ পাতার পোষ্টের শেষে দুলাইনে যেটা নিয়ে আমি পরে কথা বলব বলেছি, এরপর, মন্তব্যের জবাবেও ব্যাখ্যা করেছি - তবু আপনার নজর কাড়তে পারিনি, আপনাকে থামাতে পারিনি।

এখন যাকগা সেকথা, ঐ প্রসঙ্গে পরে পোষ্ট দিব বলেছি, পোষ্ট দিলে তখন এরপর আবার কথা বলব। এনিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। ও প্রসঙ্গ এই পোষ্টে এখানেই শেষ করতে আপনার সহায়তা কামনা করছি।

২৩. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১২
হাসিব মীর বলেছেন: খুবই ভালো আলোচনা। আমার কিছু চিন্তা এই পোস্টে


Click This Link
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৩৩

লেখক বলেছেন: আলোচনা ভালো বলছেন কেন, ঠিক জানি না। তবে আমার এই পোষ্টের কথা আপনাকে বুঝাতে পেরেছি বলে মনে হয়নি; আপনার পোষ্ট দেখে এটাই আমি বুঝেছি।

২৪. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০১
ফাহরুখ খান বলেছেন: ওরে না রে
এত ভারি ভারি কথা শুনে তো মাথা ঘুরে
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৩৪

লেখক বলেছেন: আসলেই তাই মাথা ঘুরানো ঠিক না।

২৫. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০৩
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: আমি অসহিষ্ণুতা দেখাইলাম কখন। আপনের তাগিদরে তো আমি বিনাবাক্যে মাইনা নিলাম। এই তাগিদ আমারও, বহুদিনের। এমনকি পাশ্চাত্য দর্শনের বাটখারা আর ধর্মকে পরাস্ত করা বিষয়ক জনাব মুসতাইন জহিরের তর্কও তো আমি তুলি নাই। কেবল আপনের নজর দাবি কইরা তুইলা রাখছি। শেষে এসে আমি শুধু আপনে যে বক্তব্যে পৌছতে চান সেইটা নিজের মতো কইরা নিজের ভাষায় জানাইছি।

অসহিষ্ণুতা দেখাইলাম কখন?

মহা মুস্কিল তো স্যার!
আমি অসহিষ্ণু জানতে পাইরা ভালো লাগতেছে। পয়লা শুনলাম তো! পয়লা জিনিসের মজা অন্যরকম।

তয় আপনেরে সহযোগিতা করা হইলো।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরজু, একটু ধৈর্য রাখবেন। আসব আমরা আবার।

২৬. ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৩
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: আর একখান কথা-
আমি আপনের-আমাদের আলাপসালাপে হালকা কইরা নিজের কথাখান কইয়া চইলা যাই, আর যদি কোনো প্রশ্ন থাকে সেইটা জানায়া যাই। বক্সিং খেলতে কিংবা জিততে আসি না। সুতরাং কার কোথায় তলপেট সেইটা মাথায় থাকেনা। আন্তরিকভাবে দু:খিত।

কথা দিলাম। আপনাকে অসহযোগিতা করা হবে না।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

ঠিক আছে।

২৭. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৬
মেটালিফেরাস বলেছেন: বুঝি না এত সহজ বিষয়কে কেন আপনারা জটিল করে তোলেন! জটিল করা দেখলেই আমার ভয় হয়। ভয়টা মজ্জাগত বলতে পারেন। শাসকশ্রেণী বরাবরই জনসাধরণের কাছে সেই বিষয়কে জটিল করে তোলে, যে বিষয় দিয়ে তারা শোষণ করতে চায়।

ধর্ম বনাম বিজ্ঞান/ ধর্ম বনাম মার্কসবাদ/ মার্কসবাদ বনাম বিজ্ঞান/ ধর্ম ইক্যুয়ালটু দর্শন...
এই কথাগুলির মাজেজা আমার কাছে খুব সরল। প্রাচীন বা প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়কে জায়েজকরণ।

ধন্যবাদ পি মুন্সী।

আপাতত.....
১৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেটালিফেরাস, আপনি এ'লেখা তাহলে পড়েছেন। আমি চেয়েছিলাম আপনি পড়েন। আপাতত এতেই আমি খুশি।

২৮. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৪
সবাক বলেছেন:
কবে যে ধর্ম গ্রন্থগুলোর ভুড়ি কমে আসবে!!
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১১

লেখক বলেছেন: ধর্ম সম্বন্ধে এমন মনোভাবটা পুনর্বিবেচনার দরকার আছে।
এ প্রসঙ্গে আমার নিবেদন আগামীতে লিখব। ধর্ম কী, কেন মানুষ ধর্মের দরকার বোধ করে - এই মৌলিকদিকগুলো বুঝা দরকার আছে।
আমি প্রস্তাব করবে এবিষয়ে এত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত না নেই।

আর একটা কথা, আমরা যদি ধর্ম অপ্রয়োজনীয় জিনিষ এই সিদ্ধান্তে পৌছে গিয়ে থাকি, ধর্মহীন একটা সমাজের কল্পনা এঁকেও ফেলতে পারি - তবুও ধর্মীয় গ্রন্হগুলো অন্তত A Collection Old Scripts - এই প্রত্নতাত্ত্বিক বিবেচনায় যে কোন বুদ্ধিমান মানুষের কাছে কদর পাওয়ার কথা; কারণ আমাদের নিজের সম্পর্কে জানার এখনও বহুকিছু বাকি আছে। কাজেই আমার আবেদন অনেক কিছু দিক বিবেচনা পর তবেই আমরা ধর্ম সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

২৯. ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৩
শুভ রহমান বলেছেন: বিজ্ঞান মানে দেখার একটা পদ্ধতি। প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানকে বিজ্ঞান আর সমাজ বিষয়ক জ্ঞানগুলোকে আমরা আলাদা ভাবেই দেখতে অভ্যস্ত, বিষয়দুইটা আসলে একই পদ্ধতির। আপনার বক্তব্যের সাথে আমি একমত।

এই লেখাটার সাথে সাথে আপনি নিজেকে দায়ব্দ্ধ করে ফেললেন এ বিষয়ক আরো কয়েকটি লেখার জন্য।

রেনেসা যেভাবে মধ্যযুগে ইউরোপে (প্রকৃতি) বিজ্ঞানে বিপ্লব, সামন্তবাদ হতে পুঁজিবাদের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল, সেভাবেই কি দর্শন সমাজ ও প্রকৃতিবিজ্ঞানকে এগিয়ে দেয়?

দর্শন কি? এই ধারণাটা ব্যাখ্যা করতে হবে। বিস্তৃতভাবে।

ধর্মকে কি আমরা পুরোপুরি দর্শনের মাঝে ফেলতে পারি?

কিভাবে বর্তমানের জন্য ধর্ম হতে ভক্তির অংশ ব্যাতীত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান পেতে পারি? উদাহরণ সহ বলবেন।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন: "রেনেসা যেভাবে মধ্যযুগে ইউরোপে (প্রকৃতি) বিজ্ঞানে বিপ্লব, সামন্তবাদ হতে পুঁজিবাদের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল, সেভাবেই কি দর্শন সমাজ ও প্রকৃতিবিজ্ঞানকে এগিয়ে দেয়?" - আপনার লেখার এঅংশ পড়ে নিচের কথাগুলো লিখছি।

প্রথম কথা, "রেনেসা" মানে পৃথিবীর সব সভ্যতাগুলোয় বা এদের সবার উপরের কোন "নবজাগরণ" নয়, সবার উপর তা প্রযোজ্য করা যায় এমন জ্ঞানও তা নয়। সব সভ্যতা সংস্কৃতিই স্বীয় অভিজ্ঞতায় ভরপুর, সমক্ষমতা সম্পন্ন পোটেনশিয়াল; কোনটা বিকশিত হবার, ক্ষমতা দেখাবার সুযোগ পরিস্হিতি পেয়েছে, সবখানে বৈশ্বিক প্রভাবও ফেলতে, রাখতে পেরেছে আবার, এর ফলে তা অন্যদের অবিকাশের, ক্ষতির কারণও বটে, ওদের সুযোগ, সম্ভাবনা যেটুকু ছিল তাও হারিয়েছে; নষ্ট করে দেয়া, বাধা হয়ে দাড়ানো - এসব ঘটেছে; কলোনিয়ালিজমের কথাই চিন্তা করুন; আমরা তো কেবল "রেনেসাঁ" দেখিনি বা প্রভাব পাইনি আমরা তা পেয়েছিলাম যখন আমাদের কলোনী সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাকা হয়েছিল। ফলে কেবল "রেনেসা" দেখে আপ্লুত হব কলোনী সম্পর্কের মধ্যে ছিলাম টের পাব না, গোনায় ধরব না - এটা একচোখে দেখা, অর্দ্ধেক সত্য দেখা। এবং সিদ্ধান্তে যাবার চেষ্টা করা।

পশ্চিমের অভিজ্ঞতা, ওর অর্জন - ওর মত করে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ, মানব ইতিহাসের গুরুত্ত্বপূর্ণ ধাপ বলে তা স্বীকারও করতে হবে, কিন্তু ভুলেও যেন তা সার্বজনীন এবং একমাত্র, দুনিয়ায় সব সংস্কৃতির জন্য প্রযোজ্য - এভাবে আগেই ধরে নেয়া না হয়। তাহলে আমাদের, দুনিয়ার সব সম্ভাবনার সমাপ্তি ঘটবে সেখানেই।

পশ্চিমের "রেনেসা" ক্রিশচানিটিকেই একমাত্র হাতের কাছে পেয়েছে, তাকেই এবং তা থেকেই - এই পটভুমি থেকেই উঠে এসেছে। ঘোষণা করেছে, ধর্মের পর্যালোচনার নাকি সমাপ্ত হয়ে গেছে - ওরা নাকি দর্শনের যুগে প্রবেশ করে ফেলেছে।
এখানে "ধর্মের" এই শব্দটা বদলে আপনাকে আসলে পড়তে হবে "ক্রিশচানিটির"। পুবের সিন্ধু নদের তীরের হিন্দু সভ্যতা সংস্কৃতি এবং সর্বশেষ সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারী ও অবদান রাখা ইসলাম - এর সম্পর্ক কোন ধারণা, অভিজ্ঞতা, এর অবদান, ক্ষমতা সম্পর্কে কিছু না জেনেই "রেনেসা" নবজাগরণের দাবী করে হাজির হয়েছিল, ধর্মের পর্যালোচনার সমাপ্ত করে ফেলেছে - বলে দাবী করেছিল। এই দাবীর প্রতি কোন ক্রিটিক না করে "রেনেসা"কে ("রেনেসা" যেমন সত্য তার সমান সত্য হলো "রেনেসা" দেশের কলোনীয়ালিজম) হজম করে ফেলা আত্মঘাতি, বেকুবি। ওদের সুরে ও চোখের অভ্যস্হতায় আমরা সিদ্ধান্ত আসতে পারি না যে আমাদের সভ্যতা, ধর্ম, সংস্কৃতিগুলো সব মধ্যযুগীয়, কালো অন্ধকার। আমরা তো খুজেই দেখিনি, জানি না, আমাদের সভ্যতা, ধর্ম, সংস্কৃতিগুলো কী আছে কী নেই বা কেন এমন আছে!

আবার ওদিকে ক্রিশচানিটি থেকে "রেনেসা" করতে গিয়ে ওরা এমন কী হারিয়ে ফেলল যে আমাদের কৃষ্ণ পারভারটেড ইসকনের কৃষ্ণ হয়ে (রেনেসার পরে আরও তিনশ বছরের চর্চা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পশ্চিমের সর্বোচ্চ বিকশিত রিফাইনড রূপ হলো আমেরিকা) আমেরিকায় বাজার হয়ে বসতে পারল? ওদের কী নাই? মনের অশান্তিটা কিসের? এগুলো ভেবে দেখতে হবে।

এখন আমাদের দায়িত্ত্ব কেবল আমাদের ধর্মগুলোর পর্যালোচনাই নয়, পশ্চিমের রেনেসা-সহ সবদাবীর পর্যালোচনা দাড় করানো, একাজের উপযুক্ত ক্রিটিক হয়ে নিজেদের গড়ে তোলা। কাজটা কঠিন তবে ডিটারমিনেশন থাকলে খুবই সম্ভব। এবং তা আগামীদিনের দুনিয়ার একমাত্র আলোর পথ, সবার জন্য সে আলো হয়ে উঠা।
তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ও সতর্ক থাকতে হবে, এটা পশ্চিম অর্জন পায়ে দলে উপেক্ষায় পাশে ফেলে রাখার কাজ নয়, লক্ষ্যও নয়, তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া বা প্রতিশোধপরায়নতাও নয় বরং এর উর্ধে উত্তরণ, টপকে যাওয়া - কাউকে পথে ফেলে না রেখে, সাথে রেখে সামনের আলো দেখানো।


এত কথা বলে ফেললাম এজন্য যে আমার শঙ্কা হয়েছে যে আপনি সম্ভবত শতচ্ছিন্ন "রেনেসা"কে গন্তব্য মেনে আটকে আছেন। বিনয়ের সাথে একথা আপনাকে জানাচ্ছি।

এবার এখানে শেষ করার আগের কিছু কথা:

ধর্মতাত্ত্বিকতার বিপদ, সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কঠোর সচেতন থাকতে হবে; কিন্তু এর মানে এই না যে ওকে শত্রুজ্ঞান করে শত্রু বা প্রধান শত্রু বানিয়ে ফেলতে হবে - এটা কুবিদ্যা। ভক্তির অর্থ বুঝে সাথে রাখা যাবে, অত খড়্গহস্ত হবার দরকার নাই।

এসব নিয়ে লেখার প্রসঙ্গের শেষ নাই। আমার দীনতা, সীমাবদ্ধতারও শেষ নাই। "পর্যটক" নামের সামহয়ারের এক নিকে এর অনেক কিছু আলোচনা এক সময় হতে দেখা গিয়েছিল, ওটাও দেখতে পরামর্শ রেখে শেষ করছি। ভালো থাকবেন।

৩০. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪০
শুভ রহমান বলেছেন: আরেকটা প্রশ্ন, দর্শনের মাঝে কি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করা যায়- বিজ্ঞান কি দর্শনের অংশ? না কি উল্টোটা?
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:০৮

লেখক বলেছেন: আপনার আগের মন্তব্যে তো আপনি নিজেই লিখেছেন, -" বিজ্ঞান মানে দেখার একটা পদ্ধতি। প্রকৃতি বিষয়ক জ্ঞানকে বিজ্ঞান আর সমাজ বিষয়ক জ্ঞানগুলোকে আমরা আলাদা ভাবেই দেখতে অভ্যস্ত, বিষয়দুইটা আসলে একই পদ্ধতির" - তাহলে এখন আবার এর বিরোধীতা করার দরকার নাই। বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি একটা পদ্ধতি মাত্র - নিজে জ্ঞানের কোন শাখা নয়। এই হোল মুল কথা।

এরপরের গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হলো, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি মানে কী? তথ্য সংগ্রহ, পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত (লজিক), প্রমাণ - প্রকৃতি বিজ্ঞানের বেলায় এটা যত সহজে বুঝা যায় - সমাজ বিজ্ঞান বা দর্শনের বেলায় ততটা সহজে নয়।
তবে আমি যদি বলে "গণিত মানে আসলে লজিক, লজিক্যাল ফ্রেম"। আপনার বিজ্ঞানপ্রেমী মন আঁতকে উঠতে পারে, অস্বস্তিতেও পড়তে পারে।
কিন্তু কোন রিয়েল বা আসল ঘটনার রিয়েল ভেরিয়েবলগুলোকে xyz বা abc বা mnp বা βμ - এসব নানান প্রতীকে বিমুর্ত বা এ্যাবষ্ট্রাক্ট করে নিয়ে এরপর এদের অর্থাৎ abstract ভেরিয়েবল (সাথে কিছু কনষ্টান্টও) - এদের আন্তঃসম্পর্ক বুঝার চেষ্টা করা, সমীকরণ বা mathematical expression এ তা প্রকাশ করা, তত্ত্ব, সূত্র ইত্যাদি - এই হলো গণিতের কাজ।
এখন রিয়েল ঘটনার রিয়েল ভেরিয়েবলগুলোকে abstract করে নিবার পর সেই রিয়েল ঘটনাটা প্রকৃতি বিজ্ঞানের নাকি সমাজ বিজ্ঞানের - এনিয়ে তর্ক তুলা বৃথা, বেকুবি - গণিতেরও কিছু যায় আসে না তাতে; গণিত জানতেও চায় না। গণিত এভাবে প্রকৃতি বিজ্ঞানের পাড়ায় থেকেও সে পাড়া ছেড়ে সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন - চিন্তার এসব পাড়ায় চলাচল করতে পারে।
আবার ভেরিয়েবলগুলো (সাথে কিছু কনষ্টান্টও) - এদের আন্তঃসম্পর্ক মানে কী? এর সাথে লজিক বা তর্কবিদ্যারই বা সম্পর্ক, তফাৎ কী? গণিত এখানে এসে লজিক হয়ে যেতে বাধ্য। সমাজ বিজ্ঞানে এসে লজিক আর একটু এগিয়ে rationale বা যুক্তিবুদ্ধির ব্যাপার হয়ে যায়।

এখানেই শেষ না। আপনার বিজ্ঞানপ্রেমী মন বড় জোড় rationale বা যুক্তিবুদ্ধির ব্যাপারগুলো মানতে রাজি ও উৎসাহী হতে পারে এর পরে আর না - কারণ আপনি বিজ্ঞান বলতে কেবল ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, বায়লজি বড় জোড় ম্যাথের প্রকৃতি বিজ্ঞান - জ্ঞানের এই সীমিত করে ফেলা একচেটিয়াকে বুঝেন। নিজেকে সীমিত করে ফেলেছেন এখানে। সমাজ বিজ্ঞানের ওখানে জায়গা নাই, দর্শন অনেক দূরের বিষয়।
এই বিশাল সমস্যার কারণ, এই ছক বাধা চলতে গিয়ে আপনার ইন্দ্রিয়-হানি ঘটে গেছে। ছোট বেলায় যদিও পড়েছিলেন নিশ্চয়, পাঁচে পঞ্চইন্দ্রিয় - মানুষের পাঁচটা ইন্দ্রিয় থাকে, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক (স্পর্শ)। কিন্তু "বিজ্ঞান" করতে গিয়ে আমরা এখন এক-ইন্দ্রিয় - এক বিশেষ জীব হয়ে গেছি; কেবল চোখ ব্যবহার করতে করতে অনেকেই আমরা "চোখে দেখা বিজ্ঞানে" নিজেকে ছোট সংকীর্ণ করে নামিয়ে এনেছি। একমাত্র এতেই অভ্যস্হ, বাকি সব ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার ভুলে গেছি, ওগুলো আমাদের এখনও আছে না নাই মরে গেছে টের পাই না।
"চোখে দেখা বিজ্ঞানে" কথাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ - ওর সাথে দর্শন কথাটার সীমাবদ্ধতা টের পাওয়া যায়। কারণ দর্শন কথাটা ইঙ্গিত করে যে ওটাও দেখা ইন্দ্রিয়ে ভরসায় দাঁড়ানো একটা জ্ঞান। ফলে ফিলোসফি বা দর্শনকে "দর্শন" বলব না অন্য কোন শব্দে বদলে নেবার দরকার অনুভব করব - সে প্রশ্ন আছে।

কেবল চোখে দেখাদেখির ভরসায় বিজ্ঞান - প্রকৃতি বিজ্ঞানের সাথে খুড়িয়ে হলেও চলতে পারে হয়ত কিন্তু সমাজ বিজ্ঞান বা দর্শনের জগতে তা অসম্ভব।
এটাই লজিক, rationale বা যুক্তিবুদ্ধিরও প্রধান সমস্যা হয়ে আছে। মানুষকে অর্থাৎ যে জানছে - তাঁকে যদি শুধু লজিক্যাল বা rationale being বা সত্ত্বা জ্ঞান করা হয় - তাহলে মানুষ হলো কমপিউটার বা রোবটের মত একটা যন্ত্র যেখানে ভিতরে একটা লজিক বোর্ড (মাদারবোর্ড) ঢুকানো আছে - আর ঐ লজিক্যাল কনক্লুশান, যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে মানুষ চলছে - এমন একটা ধারণায় আমরা পৌছাব; যেন বাইরের বস্তুগত দুনিয়া এখানে চোখের রেটিনা দিয়ে ইনপুট দিচ্ছে আর লজিক বোর্ড হয়ে যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে মানুষ চলছে।
কিন্তু মানুষ তা নয়। তাঁর রক্তমাংসের বস্তুগত জীবন আছে, আছে স্পর্শ, গন্ধ, বর্ণ, শ্রুতি ইত্যাদি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা আছে - এটা শুধু চোখের রেটিনায় আছড়ে পড়া দৃশ্য নয়, সারা শরীর দিয়ে প্রকৃতির সাথে লেপটে থাকা সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সংবেদনশীল অনুভব আছে এবং এছাড়াও সবার উপরে আছে সক্রিয় তৎপরতায় এ্যক্ট-রিএক্ট। ওখানে কোথায় এক কোণে লজিক বোর্ডও একটা আছে ঠিকই কিন্তু ওটাই সব নয়।
তাই মানুষ জানে তা জ্ঞান বিজ্ঞান হয়ে উঠে কেবল লজিক, rationality এর যুক্তিবুদ্ধির জন্য নয়, তার একদিকে আছে সারা শরীর দিয়ে প্রকৃতির সাথে লেপটে থাকা সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সংবেদনশীল অনুভব আর সর্বোপরি আছে সক্রিয় তৎপরতায় এ্যক্ট-রিএক্টের মাধ্যমে। এভাবে আমরা সব জ্ঞানের জ্ঞানে দর্শন বা সে অর্থে ধর্মে পৌছাতে পারি।

শুধু লজিক বা মানুষের লজিক্যাল ফ্যাকাল্টি দিয়ে দর্শনে যাওয়া যাবে না।

আপনার প্রশ্নের জবাব কতদূর পৌছাতে পারলাম জানি না। স্বল্পজায়গার সঙ্কট সবসময় থাকবে। তবে সুনির্দিষ্ট করে বললে আবার চেষ্টা করে দেখব।

৩১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৭
শুভ রহমান বলেছেন: আসলে আমার প্রশ্ন গুলো ছিলো আপনার এই পোস্টের ভিত্তিতে আরো কিছু বিষয়, যা হয়তো আপনি পরবর্তীতে নতুন পোস্টে আলোচনা করবেন। আশা করি নি যে এত বড় মন্তব্য আপনি করবেন। মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ। তবে বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।

রেনেসা নিয়ে কিংবা মধ্যযুগে ইউরোপ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমি কিছুই জানি না, সুতরাং তার পর্যালোচনা তো আরো অনেক দূরে। আমি ভাবছিলাম দর্শন কিভাবে সমাজকে প্রভাবিত করতে পারে তা নিয়ে। আমার প্রশ্নের সাথে আপনার আলোচনার প্রসঙ্গের মিল খুঁজে পেলাম না। পরবর্তীতে হয়তো ইতিহাস পড়লে এই ক্রিটিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজে দেবে।

শেষের প্রশ্নটার মন্তব্য বুঝতে পেরেছি মনে হয়।

মানুষের সৃজনশীলতার বিষয়গুলো - সাহিত্য, সঙ্গীত, ভাষ্কর্য, চিত্রকলা ইত্যাদি কোন জায়গায় পড়বে?
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার এই মন্তব্যের জবাব ঐদিনই লিখেছিলাম, কিন্তু পোষ্ট করার আগে সেফ না করেই রাখায় গোলযোগে সেটা হারিয়ে যায়। ফলে হতাশ হয়ে আর লেকা হয়ে উঠেনি, সরি।

ওখানে - জ্ঞান আর শিক্ষা (knowledge বনাম education) - এই দুইয়ের তফাৎ নিয়ে কিছু কথা লিখেছিলাম। আবার কোথায় লিখব পরে।

আপনার মন্তব্য পড়ে এখন মনে হচ্ছে আমি কিছু ভুল বুঝেছি। আপনার রেঁনেসা শব্দের ব্যবহার দেখে ভেবেছিলাম বিষয় আপনার নূন্যতম কিছু জানা, ফলে ঐ ধারণা আপনার আছে ধরে নিয়ে কথা শুরু করেছিলাম, এতে আপনার বুঝবার সমস্যা করেছি।

সাহিত্য, সঙ্গীত, ভাষ্কর্য, চিত্রকলা ইত্যাদি - প্রসঙ্গে:
আগে মুল পোষ্টে বলেছিলাম, যেসব ঘটনার কর্তা সরসরি মানুষ, এগুলো সবই সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয় বা জ্ঞানের ফ্যাকালটির অংশ। মোটা দাগের এই অংশে সাহিত্য, সঙ্গীত, ভাষ্কর্য, চিত্রকলা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, জ্ঞানচর্চা যতদিন কারখানা, শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতায় চলতে পেরেছিল ততদিন ওর নাম জ্ঞান; এরপর কারখানা, শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা ও হাত ধরাধরি করে হাটা, শিল্প যখন জ্ঞানের ক্লায়েন্ট হতে শুরু করে যার এক পর্যায়ে জ্ঞান যখন শিল্পের ভাড়া খাটা অধীনস্ত কর্মচারি হয়ে যায় এরপর থেকে বলা যায় জ্ঞান নাম বদলে হয়ে গেছে শিক্ষা। শিক্ষা মানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা - শিল্প মেশিন ও অফিস চালানোর জন্য দক্ষতা, দক্ষশ্রম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

জ্ঞানের শাখায় বিভাজন, পুনঃবিভাজনগুলো আবার ঐ আমলেই ঘটেছে। মানুষের সৃজনশীলতার বিষয়গুলো - সঙ্গীত, ভাষ্কর্য, চিত্রকলা - এগুলো এককথায় ফাইন আর্টস বলে একটা নাম আছে। কারুকলা বলে শব্দটার কারু অর্থাৎ - করা ও গড়া - কারিগর জাতীয় বিষয় থাকলে কারুবিদ্যা বলি; আর মনের সৃষ্টি এই সৃজনশীলতা-গুলোকে কলাবিদ্যা বলি।
সাহিত্য বলতে ভাষার ষ্টাডি না বুঝান হয় হলে তবে তা কলাবিদ্যার অংশ হবে; আর ভাষার ষ্টাডি মৌলিকভাবে দর্শনের বিষয় হয়ে দাড়াতে চাইবে।

আজ এখানেই শেষ করছি।

৩২. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: ওহীর জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সমন্বয়

"সাধারণ ভাবে বিজ্ঞান সব কিছুর ব্যাখ্যা করে "কী" প্রশ্নের দ্বারা। বিজ্ঞান "কিভাবে" প্রশ্নেরো ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু "কেন" প্রশ্নের জবাব বিজ্ঞানের কাছে নেই। এই বিরাট মহাশূন্য কে কেন কিভাবে সৃষ্টি করেছেন? এটা কি ব্যাখ্যাতীত? এখানে "কিভাবে" প্রশ্নের জবাবের কাছাকাছি আমরা পোছাতে পারি। কিন্তু "কেন" প্রশ্নের জবাব ওহীর জ্ঞান ছাড়া আমরা পেতে পারিনা। এই প্রশ্নের জবাব আমরা ইসলামের কাছ থেকে লাভ করবো। এটাই বাস্তবতা। এভাবে বিজ্ঞান ও ইসলাম বা বিজ্ঞানময় ইসলাম থেকে "কেন ও কিভাবে" এই দুই ধরণের ধারণা নিয়ে পূর্ণাংগ জ্ঞানী হতে হবে।""সাধারণ ভাবে বিজ্ঞান সব কিছুর ব্যাখ্যা করে "কী" প্রশ্নের দ্বারা। বিজ্ঞান "কিভাবে" প্রশ্নেরো ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু "কেন" প্রশ্নের জবাব বিজ্ঞানের কাছে নেই। এই বিরাট মহাশূন্য কে কেন কিভাবে সৃষ্টি করেছেন? এটা কি ব্যাখ্যাতীত? এখানে "কিভাবে" প্রশ্নের জবাবের কাছাকাছি আমরা পোছাতে পারি। কিন্তু "কেন" প্রশ্নের জবাব ওহীর জ্ঞান ছাড়া আমরা পেতে পারিনা। এই প্রশ্নের জবাব আমরা ইসলামের কাছ থেকে লাভ করবো। এটাই বাস্তবতা। এভাবে বিজ্ঞান ও ইসলাম বা বিজ্ঞানময় ইসলাম থেকে "কেন ও কিভাবে" এই দুই ধরণের ধারণা নিয়ে পূর্ণাংগ জ্ঞানী হতে হবে।"

মাহাথির মুহাম্মাদ এর এই ব্যাখ্যাটা আমার অনেক পছন্দ। তাই কোট করলাম এখানে ..... :-)
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনার কাছ থেকে মাহাথিরের বক্তব্য জানলাম, আমার জানা ছিল না।
আমি মাহাথিরের মত বিখ্যাত লোক নই। বরং একেবারেই অখ্যাত।

আমি যেটা বুঝি, "কেন" - এই উত্তর না থাকা পর্যন্ত "কী" বলে অনেক কিছু বলা সম্ভব - এটা অসম্পূর্ণ, ফলে তাতে কোন লাভ হয়না। কেন সহ উত্তর দিলেই একমাত্র "কী" বলে যা বলা হয়েছে তার মানে হতে পারে - ওটা জ্ঞান হতে পারে - এটাই মানি।
আমি যদি বলি আপনি কী? আপনি একটা গাছ; - এটা "কী" দিয়ে বলা উত্তর। এখন কেন আমি বলছি, "আপনি গাছ" - "কেন" দিয়ে এই উত্তর বুঝিয়ে, প্রতিষ্ঠা করে না বলতে পারলে, "কী" দিয়ে দেয়া উত্তর অর্থহীন কথকথা মাত্র। "কেন" উত্তর যদি বুঝবার মত মানে হতে পারে তবেই একমাত্র "কী" বলে দেয়া উত্তর অর্থপূর্ণ হয়ে উঠে, নইলে নয়।
ফলে শেষ বিচারে "কী" আর "কেন" আলাদা নয়, অথবা বলা যায় "কী" - এর "কেন" বিনা আলাদা অস্তিত্ত্ব হতে পারে না। একটা প্রতিষ্ঠিত "কেন" ছাড়া, "কী" অর্থহীন প্রলাপ।

জ্ঞান ধরার মানসিক প্রস্তুতি, চর্চা লাগে; এক দীর্ঘ অনুশীলন, লেগে থাকা, অভ্যস্ততা লাগে। চাতক পাখি পানি খেতে চায় কিন্তু যে কোন পানি হলে চলবে না। যখন মেঘ বৃষ্টি হয়ে নামবে কেবল তখনই সে বৃষ্টির পানি মাটি ছোয়ার আগে ধরে খাবে, নইলে নয়। অন্য কোন পানি খাওয়া যাবে না। এর আগে পর্যন্ত পিপাসার আকাঙ্খা তীব্র করে প্রস্তুতি নিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে কাটিয়ে দিতে হবে।

জ্ঞানও সেরকম অধ্যাবসায়ের সাথে প্রস্তুতি নিয়ে এক আকাঙ্খায় বসতে হয়। তবেই জ্ঞান ধরা দিতে পারে, ধরা পরতে পারে। জানা সম্ভব হতে পারে।
এখন জ্ঞান ওহী হয়ে বিশেষ মানুষের মধ্যে নাজিল হয়েছে না বিশেষ চাতক স্বভাবে কারণে ঐ মানুষের কাছে জ্ঞান ধরা দিয়েছে - এনিয়ে যারা বিতর্কে মেতে থাকতে চায় তাঁরা থাকুক। আমার আগ্রহ কিন্তু একাগ্রচিত্তে কেবল ঐ জ্ঞানের প্রতি।
খেয়াল করেছেন নিশ্চয় ওহী কেবল রক্তমাংসের মানুষের মধ্যেই ভর করে নাজিল হতে পারে, অন্য কোনভাবে কারও মধ্যে, জগতের অন্য কোথাও নয়। কেবল মানুষ। প্রকৃতির জীব জড় প্রজাতির মধ্যে কেবল মানুষ, মানুষের উপর নির্ধারিত এই দায়িত্ত্ব, কর্তব্য উসুল বর্তেছে। মানুষের এই বিশেষতা একদিকে সম্মানের অপরদিকে এএক সীমাহীন দায়দায়িত্ত্বের।
ওদিকে জ্ঞানের নেমে এসে ধরা দেয়া বা ওহী নাজেল হওয়া একবারই ঘটা, একক কোন ঘটনা নয়। বারবার এটা ঘটতে হবে। চাতক পাখির মত একবার মাত্র পিপাসা মিটলেই চলবে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওকে পিপাসা জারি রাখতেই হয়। সেই অর্থে জ্ঞান একবার ধরা পরার পরও সে সবসময় অধরা, যার কোন শেষ নাই, জ্ঞানেরও শেষ নাই। তবুও মানুষকে সেই অধরাকে যতটুকু পাওয়া যায় বারবার তা ধরতে যেতেই হবে।
শেষ নবী মুহাম্মদ বলে গেছেন নবীর যুগ শেষ। তাহলে আমাদের, দুনিয়ার উপায় হবে কী? ওহী না থাকলেও অধরাকে ধরতে যাওয়া বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না। নিজ যোগ্যতায় আত্মজ্ঞানী, পুরানো সব জ্ঞান অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে সাবালক হয়ে মানুষকেই সেই কাজ করে যেতে হবে। মানুষের অপার, অসীম সম্ভাবনা জারি রাখতে হবে।

মানুষ আবার একের মধ্যে দুই। এক নিজে জীব, জীবের জীবন সাথে আবার অন্যদিকে সে একইসঙ্গে সবার, নিজের বাইরের সব অপর এর সাথে সে সম্পর্কিত হয়ে পরম হয়ে আছে সে; জীব ও পরম - এই দুই একসাথে অবিভাজ্য এককে সে রক্তমাংসের মানুষ হয়ে সে বেঁচে আছে; দুই কর্তব্যের এক অপার, অফুরন্ত সম্ভাবনার নাম মানুষ।

শেষ কথা: ওহীর জ্ঞান ও বিজ্ঞানে - উভয়ে যদি মৌলিক অর্থে জ্ঞান হয়ে থাকে তবে আর ওদেরকে আলাদা সত্ত্বা ভেবে "সমন্বয়" করার প্রশ্নই নাই।

৩৩. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০১
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন: দুইবার পেস্ট হয়েছে , খেয়াল করিনি ! দুঃখিত :-(
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ বুঝেছি, অসুবিধা নাই।
ভাল থাকবেন।

৩৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৮
মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেছেন: আমার তো মনে হয়, বিজ্ঞান ও কোরআন একে অপরের পরিপূরক এবং বিজ্ঞানকে কোরআন বুঝতে বব্যহার করা উচিত্।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
আমার মনে হয়, "বিজ্ঞান" ছাড়াই কোরআন বুঝতে পারা উচিত্।

৩৫. ২৭ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১:২৫
স্তব্ধতা' বলেছেন: "কোরান বনাম বিজ্ঞান" - এই তর্ক তোলার মানে গিয়ে কোথায় দাঁড়ালো?
এই তুলনা অবিবেচক।''............সহমত।

কিন্তু আমি আপনার মতো দর্শনের পোষাকে ধর্মকে দেখতে রাজী নই। পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে দিতে রাজী নই।কেন নই? আমার কাছে দর্শন এবং ধর্ম দুটোকে পরিষ্কার ভাবে আলাদা মনে হয়।আবার নবী পূর্ব যুগের আগে দর্শনই পরে ধর্ম এটাও মানতে পারলামনা।মানুষের সামাজিক ইতিহাস বলে, ধর্মের ইতিহাস নবী পূর্ব যুগেও ছিলো।পূর্বের প্যাগান সমাজ বা তারও পূর্বে মানুষ যখন সমাজ বদ্ধ হয়ে বসবাস করতে লাগলো, বিভিন্ন ক্ল্যান বা সম্প্রদায় গুলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির যে 'আরাধনা' করতো তার সাথে ধর্মের তফাৎ সামান্যই। তফাৎ হিসেবে ধর্মে পরবর্তীতে জীবন বিধান দেয়া হযেছে যেটি আগে ছিলোনা ।পূর্বের 'আরাধনা' ও পরের 'ধর্ম' দু'টোতেই সুপার ন্যাচারাল এজেন্ট এর উপস্থিতি বিদ্যমান।এবং এই এজেন্ট এর অলৌকিক শক্তির উপর আস্থার উৎস মানুষের প্রকৃতিকে না-জানা, তার অজানা রূপের প্রতি ভীতি-ভক্তি এবং অমীমাংসিত অনেক প্রশ্ন।লক্ষ্য করুন শেষ অংশটা, 'অমীমাংসিত অনেক প্রশ্ন'....এখানে ধর্ম ভক্তি দ্বারা আত্মসমর্পিত আর দর্শন পর্যবেক্ষক এবং অনুসন্ধিৎসু।

ধর্মের অনেক আগে এমন কি মানুষ সামাজিক ভাবে বসবাস করার আগেও ছিলো।যে ক্ল্যান টি 'সিংহ' (ক্ল্যান গুলো সাধারণত পশুর নাম দিয়েই হতো) নাম নিয়ে পরিচিত ছিলো, সেই 'সিংহ' কে কেউ আগে 'পর্যবেক্ষণ' করেছে, তারপর তার বৈশিষ্ট্য গুলো তালিকাবদ্ধ করেছে, তারপর তাকে (মানুষকে) বলতে হয়েছে যে এই বৈশিষ্ট্য গুলি কোন বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান থাকলে তাকে 'সিংহ' বলা যাবে।এখানেই আসে মানুষের প্রিমিটিভ এপিস্টেমলজিক্যাল পজিশন ও প্রকৃতির অন্যান্য এজেন্টের অনটোলজিক্যাল পজিশন, তত্ত্বের উৎপত্তি ও দর্শন মাতার আবির্ভাব, যার সন্তানেরা এখন অনেক বিস্তৃত। এবং এভাবে দর্শনের বিস্তৃত শাখা গুলোর ন্যায় ধর্ম নিজেই একটা শাখা হয়ে থাকে।ধর্ম সেখানে ভক্তির মাধ্যমে প্রকৃতির কাছে বা তার সুপার ন্যাচারাল এজেন্টের কাছে আত্মসমর্পিত, অপর দিকে এপিষ্টেমলজীক্যালী দর্শন সেখানে কৌতুহলী, তার আত্মসমর্পণের উপায় নেই, বরং সিষ্টেমেটিক এ্যানালাইসিস এর মাধ্যমে কৌতুহলের অনটোলজিক্যাল পজিশন বোঝার জন্য তার যাতনা।এই যাতনার হয়তো শেষ নেই, কিন্ত ধর্মের সাথে এই যাতনাই তাকে আলাদা করে রাখে। তাই ধর্মকে আমার দর্শনের অনুজপ্রতিম একটি শাখাই মনে হয়।
২৮ শে জুলাই, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২০

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: " আবার নবী পূর্ব যুগের আগে দর্শনই পরে ধর্ম এটাও মানতে পারলাম না" -

এটা আমি কোথাও বলোনি আমি নিশ্চিত। তবে উল্টা মানে করে এমন একটা ধারণা আছে।

আপনি আমার মত,
১। দর্শনের পোষাকে ধর্মকে দেখতে রাজী নন।
২। পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে দিতে রাজী নন।
৩। আপনার কাছে দর্শন এবং ধর্ম দুটোকে পরিষ্কার ভাবে আলাদা।

আমার কথা,
আসলে কোন জ্ঞান আপনি কার বরাতে প্রকাশ করবেন বা প্রকাশিত হবে - এটাই মুল বিবেচ্য বিষয়।

জ্ঞান গায়েবী বরাতে নাজেল না আপনি নিজেই রেফারেন্স বা বরাত - এই বরাত ভিত্তিতে ধর্ম ও দর্শনের মধ্যে একটা ফারাক টানতে পারেন।

কিন্তু যেভাবেই করেন, গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখানে উভয়ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ হলো জ্ঞান। এছাড়া আরও একটা দিক হলো, জ্ঞানের বিষয় অর্থাৎ কী প্রসঙ্গে জ্ঞান সেই ডিল করার বিষয় উভয়ক্ষেত্রে কিন্তু একই। সেই কমন বিষয়টার (subject) হলো, মৌলিকদিক থেকে বললে- মানুষের সাথে অন্য মানুষের সম্পর্ক কী এবং মানুষের সাথে অবশিষ্ট প্রকৃতির সম্পর্ক কী?
ধর্ম ও দর্শন উভয়েই এর জবাব কী দিচ্ছে তা বিচার করলে দেখা যাবে উভয়ের জবাবে প্রচুর মিল সেইসাথে ভিন্নতাও আছে। কিন্তু সেটা এখানে গুরুত্ত্বপূর্ণ নয়। কারণ, শুধু ধর্ম ও দর্শনের জবাবের মধ্যেই কেবল ভিন্নতা আছে তা নয়, একই দর্শনের জগতের মধ্যেও নানান জবাব আছে এবং থাকতে পারে। বরং গুরুত্ত্বপূর্ণ ভিন্নতা হলো, বরাত বা রেফারেন্স। এক্ষেত্রে গায়েবী নাজেলী বরাত হলে আমরা বলছি ওটা ধর্ম আর নিজেই আমরা নিজে বরাত হলে (পশ্চিমে) এটাকে বলছে দর্শন।

ধর্ম ও দর্শনের এই যে তফাৎ আছে বলে বের করলাম, এটাও আসলে বেশ ঠুনকো। ঘটনা হলো জানলাম নিজে, বরাত আমি নিজে অর্থাৎ নিজের চিন্তাশক্তি, বিচার বিবেচনা বোধ থেকে পাওয়া জ্ঞান কিন্তু প্রকাশ করলাম গায়েবী নাজেলী বরাতে - এমনও তো হতে পারে? সেক্ষেত্রে আসলে কী কোন তফাত থাকল?
ভেবে দেখবেন।

আরও কথা আছে, শিরোনামে বলব, এখানে এখন ব্যাখ্যা করতে পারব না।
মনে হতে পারে, নবী নাজেলী আল্লাহর বরাতে যা বললাম বা যে জ্ঞান পেলাম সে কালাম কোথা থেকে আসে সে উত্তর দেবার সুবিধার জন্যই কী আল্লার ধারণা থেকে যায়? না তা নয়। উপরে, ধর্ম ও দর্শনের সাবজেক্ট ম্যাটার এক বলে বলেছিলাম, মানুষের সাথে অন্য মানুষের সম্পর্ক কী এবং মানুষের সাথে অবশিষ্ট প্রকৃতির সম্পর্ক কী - এটাই ওদের কমন সাবজেক্ট ম্যাটার।

মানুষ-প্রকৃতি ও মানুষ-মানুষ এর সম্পর্ক কী ধর্ম তা ব্যাখ্যার প্রয়োজনে উভয়ের মাঝে, সে অর্থে সব সম্পর্কের মধ্যখানে - আল্লা সেই মেডিয়েটর, মধ্যস্হতাকারী যা মানুষ- মানুষ অথবা মানুষ-প্রকৃতির মধ্যে সম্পর্ক রচনা করে। মানুষের অপর বোধের একটা সুবিধা পায়, আরাম শান্তি লাগে।

একটা ফুটনোট:
ধর্ম শব্দটার অনেক অর্থ হয় যেমন, Religion অর্থাৎ একটা জীবন যাপন বিধান যেটা অনুসরণ করা হয়। আবার Theology বা study of religious theory অর্থে religion: এটাকে গায়েবী বরাত রেখে জ্ঞানচর্চা বলতে পারি। আমি এখানে ধর্ম বলতে এখানে গায়েবী বরাতের দিকটা অগুরুত্ত্বপূর্ণ রেখে জ্ঞান বা জ্ঞানচর্চা অর্থে মানে করে কথা বলেছি। ফলে সেদিক থেকে পড়লে আমার পরতি সুবিচার হবে।

যদিও আবার আমাদের এদিকের ভুগোলে ধর্ম বলতে ন্যায়, কর্তব্য বা ইনসাফ বুঝানো হয়, যেগুলো গুরুত্ত্বপূর্ণও বটে। কিন্তু আমার এখনকার আলোচনার জন্য মুখ্য নয়।

৩৬. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৩
জামিনদার বলেছেন: কখন যানি পোষ্টটা প্রিয়তে রেখেছিলাম জানিনা।
আজ পড়লাম। ভাল লেগেছে।

আপনাদের এখন ব্লগে দেখিনা কেন???
২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: আমার সৌভাগ্য যে আপনি পড়েছেন আবার মন্তব্য লিখেছেন।
ধর্ম প্রসঙ্গে এই লেখাটার সম্পুর্ণতা দিতে আর এক পর্ব লেখার পরিকল্পনা ছিল, এখনও আছে। বিষয় হবে "ধর্ম কী?", "কেন মানুষের ধর্ম দরকার হয়" - ইত্যাদি।

একটু সময় করে উঠলেই লিখব।


ইদানিং আগের তুলনায় কম লিখি সত্য। অন্য কিছু লিখতে ব্যস্ত তাই। তবে এখানেও লিখি, লিখছি। আমার ধারণা পাঠকের আগ্রহ এখানে প্রণোদনার মত একটা ভুমিকা রাখে, যা আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়। সেটা কম ঘটছে।
ভাল থাকবেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২০৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই