আমার প্রিয় পোস্ট

বাক্সে লাশ নাই

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৪

শেয়ারঃ
0 1 0

এই পোষ্ট অন্যের পোষ্টে Click This Link করা আমার মন্তব্যের সংকলন। "বাক্সে লাশ নাই" বলে হাসিনা, সেলিম ও জলিলের সংসদে দেয়া বক্তব্য নিয়ে আমরা রাজনীতি তোলপাড় করার মাতাল প্রচেষ্টা আমরা দেখেছি। এটা তাই নিয়ে।
ওই পোষ্টে জাতীয়তাবাদী শুভকে আমার নতুন প্রজন্মের একজন মনে হয়েছে। ইতিহাসে পাঠের জন্য ওর আকুতি আমাকে নাড়া দিয়েছিল। অনেক দেরী ওখানে প্রবেশ করায় ওখানে করা আমার মন্তব্য দুটো এখানে পাঠক সবার পড়বার জন্য আবার সংকলিত করে দিলাম।
______
শুভ,
আপনার উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে প্রত্যক্ষদর্শী ফ্যাক্টস সংগ্রহ।
কারণ, আপনি হাসিনা, সেলিম, জলিলের সংসদে দেয়া বক্তব্য শুনে আরও অনেকের মত মন এলোমেলো করে ফেলেছেন মনে হচ্ছে।

আমি বিএনপি, আওয়ামী লীগ কোনটাই করিনি কখনও। কিন্তু জিয়ার লাশ দেখতে গিয়েছিলাম; লাশ ঢাকায় আনার পর এখন যেটা প্রধানমন্ত্রীর অফিস, এর উঠার সিড়ির সামনে গাড়ি বারান্দা মতন জায়গায় সেখানে প্রথম লাশের বাক্স রাখা হয়েছিল এবং সে বাক্স পর্যন্ত জনগণের যাওয়ার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র; আমার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু মেননের ছাত্র সংগঠন করত। তাঁর একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ কথা ছিল আজও মনে হয়। ও বলত যেকানে দল বা নির্দলের গণজমায়েত বা পাবলিক জমায়েতে গেলে - জনগণের প্রতিক্রিয়া কাছ থেকে জানা বুঝার একটা সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে সে আর আমি জিয়ার লাশ দেখতে গিয়েছিলাম। ঠিক একইভাবে এর দুসপ্তাহ আগে শেখ হাসিনা সভাপতি হয়ে ভারত থেকে দেশে প্রথম ফিরেছিলেন এক কালবৈশাখীর ঝড়ো বিকেলে, সেখানেও গিয়েছিলাম। একইভাবে ২৪ মার্চ ১৯৮২ এরশাদের সামরিক ক্ষমতা দখলের দিন সকালে বঙ্গভবন, গুলিস্তানের আশেপাশে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
আমরা গিয়েছিলাম, জিয়ার লাশ যখন প্রথম ঢাকার পৌছায় তার পরে তবে জানাজার আগে। আমার যতটুকু মনে পরছে আমরা গিয়েছিলাম সন্ধ্যার দিকে, জানাজা পরদিন হয়। মোট কথা আমরা জানাজায় যোগ দিতে যাইনি, এখনকার প্রধানমন্ত্রীর অফিস আগেই যেখানে লাশ রাখা হয়েছিল - সেখানে গিয়ে দেখেছিলাম। ঐ অফিস তখন সংসদ সদস্য ও সংসদ সংশ্লিষ্ট সরকারী সামরিক বেসামরিক অফিসার - এদের বাসস্হান হিসাবে ব্যবহৃত হত। পরে, সম্ভবত এরশাদের আমলের শেষের দিকে, পুরা বিল্ডিং সংস্কার করে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের আজকের রূপ দেয়া হয়। এরও আগে শেখের আমলে আবার ওটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সংসদ ভবন। নতুন সংসদ ভবন ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের নিয়ে প্রথম চালু হয়।
তো আমারা পৌছাতে পৌছাতে কৌতুহলী মানুষের ভীর এত বেড়ে যায় যে লাশের বাক্স পর্যন্ত পৌছানোর জন্য এক লাইনে লাইন করে দেয়া হয়েছিল। আমরা লাইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম ফার্মগেট থেকে।
লাশের বাক্স খোলা ছিল না। নিক ক্যামেরাম্যান যেভাবে বলেছেন, "ব্রাশ ফায়ারে একটা চোখ সহ মূখের একাংশ উড়ে গিয়েছিল" - এরকমই একটা ব্যাখ্যা শুনেছিলাম। ওখানে তাই বাক্স খুলে কাউকে দেখতে দেয়া হয় নাই। তবে খালেদা বা পরিবারের লোকজনের সামনে খোলা হয়েছিল কিনা আমার জানা নাই। পরিবার, নিকট আত্মীয়স্বজনের লাশ দেখার বিষয় - এগুলো পাবলিকের সামনে বাক্স উন্মুক্তে এনে রাখার আগেই শেষ করা হয়েছিল।

আমি হাসিনা, সেলিম, জলিলের সংসদে দেয়া বক্তব্য শুনে অস্বস্তিবোধ করেছি।
১. আমাদের পল্টনের বক্তৃতায় যে পলিটিক্যাল গিমিকের ভাষা শুনে থাকি তা সংসদের বক্তৃতায় শুনব না - এটাই আশা করি। মাঠের বক্তৃতায় জনগণকে উত্তেজিত করতে, জমায়েত জমাতে অনেক পলিটিক্যাল গিমিকের ব্যবহার দরকার হতে পারে, কিন্তু সংসদে এটা চিন্তা করতে পারি না। সংসদ আইন প্রণয়নের রাষ্ট্রের সরকারী জায়গা, সরকারী পদপদবী ধারণ করে সবাই সেখানে আসে; ফলে সেটা শতভাগ অফিসিয়াল এবং এর রেকর্ড রাখাও হয়। ফলে অফিসিয়াল কাজকর্মের মর্যাদা রাখার একটা বিষয় সবাই খেয়াল রাখবে এটা আমরা আশা করি।
আমাদের স্বল্পআয়ের অভাবগ্রস্হ পরিবারগুলোতে দুই জা জায়ে, যে ঝগড়ার ভাষায় বিভিন্ন প্রসঙ্গে অমার্জিত অপরিশীলিত কথা বলতে দেখি এবং তা আমাদের দেখাশুনার অভিজ্ঞতা আছে - এগুলো সংসদের অফিসিয়াল কাজকর্মেও হতে দেখব এটা অপ্রত্যাশিত, অমার্জিত অপরাধ; বক্তার কী ধরণের টেষ্ট তাই কেবল ওখান থেকে বুঝা যায়; আমাদের রাজনীতি কী ধরণের ও কীভাবে নীচতা, তর্কে লিপ্ত হয় এটা তার একটা ব্যাপারও বটে।

২. জিয়াউর রহমান মারা গিয়েছেন। এটা একটা ফ্যাক্টস। যেকোন নৃশংসভাবে মৃত্যু সহমর্মিতা আশা করে। আমাদের ব্যক্তিগত চরম শত্রু, এমনকি দেশের শত্রুও হলেও তাঁর নৃশংসভাবে মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করা মানবিক বা স্বাভাবিক নয় বরং একটা সিরিয়াস রোগ, pathology এর বিষয়।

ফ্যাক্টস হলো, জিয়ার নৃশংসভাবে মৃত্যু ঘটেছে, এরপর আরো দুই জনের আর্মী অফিসারের সাথে তেরপলে জড়িয়ে একই খননে মাটিচাপা দেয়া হয়, কবর হয়েছে বলতে পারলাম না, দুঃখিত। এরপর কমপক্ষে আটচল্লিশ ঘন্টা পর লাশ খুঁজাখুজি করে বের করে তোলা হয় এবং ঢাকায় পাঠাতে কমপক্ষে আরও চব্বিশ ঘন্টা যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ার পরে লাশ বিকৃত, গলিত হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। এরপর জিয়ার লাশ বাক্সে যদি কয়েকটা ছিন্নভিন্ন পোষাক, হাড়গোড় বা একটা চুল বা কিছুই না থেকে - তাও হতে পারে। কিন্তু এথেকে খুশির বিষয় বা ডিএনএ চ্যালেঞ্জের বিষয় বের করে আনা - একটা প্যাথোলজিক্যাল সমস্যা, মানসিক অসুস্হতা। লাশ বা টুকরা কিছু অংশ - যাই থাক বাক্সটা এর প্রতীক মাত্র।
শেখ হাসিনার "বাক্সে কিছু নাই" বলার মানে কী? তিনি নিশ্চয় জিয়া মরেনই নাই এটা বলছেন না। তবু তিনি যা বলতে চাচ্ছেন ওর সবটাই ইঙ্গিতে। সম্ভবত বলতে চাচ্ছেন জিয়া এতই খারাপ মানুষ ছিলেন যে তাঁর নৃশংস মৃত্যু হয়েছে এবং লাশটাও ঠিকঠাক মত হয়ে এককাট্টা পাওয়া যায় নাই - এরকম কিছু একটা।
কেউ খারাপ মানুষ হলেই তাঁর মরার পর লাশ পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে - এরকম কোন কো-রিলেশন নাই আমরা সবাই বুঝি; তবে আমরা এটাও বুঝি এর অর্থ কী। পরিবারে স্বল্পআয়ের বৌ-জা'য়ের সংসারে ছোটখাট মালামাল নিয়ে রেষারেষি থাকে, তাতে খোটা দেয়া, খামোখা নিচা দেখানোর জন্য জা'য়েরা পরস্পরকে এমন কাজ করে থাকে। এতে বৌ-জা'য়ের মনের ঝাল মিটে হয়ত, এর বাইরে অমানবিকতার চাষাবাদ, নিজের কুটিল নিচা মনের প্রকাশ ঘটানো ছাড়া কোন লাভালাভ হয় না। তবে নিঃসন্দেহে এধরণের কটু কথা ঘটনার এক অমানবিক উপস্হাপন।
কারও মৃত্যুর পর স্বজনরা তাঁর লাশ পায়নি এটা শুনলে আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি - এটা সমাজের রেওয়াজ; তবে আমরা আলগা করে মানবিকতা চর্চা জারী করতে চাই এজন্য সহমর্মী হয়ে উঠি তা নয়। বরং আমরা নিজেকে ঐ স্বজনের জায়গায়, কী খোদ ঐ লাশের জায়গায় বসাই - এর পর ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠি; তাই সহমর্মীতা, একাত্মতা চলে আসে মনে - এজন্য অপর এর বিষয়ে এই ইন্দ্রিয়-অনুভুতিটাকে ঘুরিয়ে মানবিকতা বলছি। যে অপরে বিশ্বাস করে না সে সমাজের জন্য বিপদজনক - সবছাপিয়ে বরং খোটা দেবার জন্য এই সুন্দর সুযোগ, এটাই কেবল যখন মাথায় আসে সেটা আমাদের রাজনীতি, সমাজ সবার জন্যই বিপর্যয়কর।

শত্রুর সঙ্গে শত্রুতা তাঁর মৃত্যু-লাশ হবার পরই খতম। এরপর ঐ লাশের বিকৃতি নিয়ে - তা সে এরপর তাকে আবার খুচিয়ে খুচিয়ে মারার মত কাজ করে কাউকে যদি মনের শান্তি পেতে হয় - খোটা দিবার হাতিয়ার বানাতে হয় তবে বুঝতে হবে সেটা তখন একটা গভীর প্যাথোলজিক্যাল সমস্যা, মনের অসুখ। সমাজ সংস্কৃতির জন্য এএক মারাত্মক ক্ষতিকর অসুস্হতা।

শুভের পোষ্টের আলোচনায় একটা জিনিষ সবাই মিস করছেন। খেয়াল করেছেন নিশ্চয় লাশ দেখতে যেতে যাদেরকে পেয়েছি, বলেছি - "কৌতুহলী জনগণ", এরা প্রায় ৯৫ ভাগ সাধারণ মানুষ, কোন দলীয় পরিচয় নয়।
কারণ, এর বিগত ৪৮ ঘন্টা দেশ সেনাবাহিনী দুইভাগে বিভক্ত হয়ে ফেনীর শুভপুর ব্রীজের দুপারে পরস্পরের প্রতি অস্ত্র তাক করে বসেছিল। ফলে জনগণের মধ্যে একটা গভীর উৎকন্ঠা কাজ করছিল। খবর সংগ্রহ, কোথায় কী ঘটছে জানা - মানুষ নিজের জান, পরিবার, সমাজ রাষ্ট্র নিয়ে এক বিরাট উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছিল সবাই। এই ফ্যাক্টরটা সবাইকে গোনায় ধরতে বলব। এই উৎকন্ঠা, উদ্বেগই পরে জিয়ার প্রতি সহানুভুতি হিসাবে হাজির হয়ে যায়। কারণ শেষ বিচারে মানুষ স্হিতিশীলতার পক্ষে চলে যায়, যারা অশান্তি সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে চলে যায়। বিশেষত অশান্তির শেষে সফল ও সামাজিক অর্থে ভাল ফলাফল দেখা না যায়।
এই প্রসঙ্গ এখানেই শেষ করে দ্বিতীয় প্রসঙ্গে যাচ্ছি।
__
শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলা

প্রসঙ্গটা শুভের পোষ্টে নিক লুৎফুল কাদের তুলেছিলেন, তাকে বলেছিলাম:
মুজিব ৭মার্চের ভাষণের শেষে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলেছিলেন - এনিয়ে অনেকে শেখ মুজিবকে গায়ে কালি লাগিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। আমরা অনেকে অনেক জেনুইন কারণে শেখ মুজিবকে অপছন্দ করি হয়ত কিন্তু নিচা দেখানোর চেষ্টা বিশেষত "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" স্মরণ করিয়ে দিয়ে - এটা বেকুবি; সেইসাথে এটা এক মারাত্মক অন্যায়, অবিবেচক ইতিহাস পাঠ। বই উল্টো করে ধরে পড়া শুরু করার মতই এক সমস্যা। অনেকে মনে করেন শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাইনি এটা তার অকাট্য প্রমাণ। এটাও ১০০ ভাগ ভুল পাঠ।

আমাদের মনে রাখতে হবে,
১. শেখ মুজিব তখন ফ্রেবুয়ারীর শেষ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সাথে নিয়মিত ফরমাল আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
২. শেখ মুজিব লীগাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে অনুষ্টিত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে আহুত নির্বাচনে আইনীভাবে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ও বাই ডিফল্ট প্রধানমন্ত্রী, যাকে বলে Priminister Elect তিনি। নির্বাচনের সরকারী ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেছে, কেবল শপথ নেবার অভিষেক, আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
৩. আমরা সেই ১৯৬৯ থেকেই আন্দোলন আইনী পথে অর্থাৎ মাস-মুভমেন্ট, সশস্ত্র আন্দোলনের পথে নয় - এই লাইনে আগাচ্ছিলাম; মাঝের নির্বাচন ওটাও সেই গণআন্দোলনের অংশ। এটাই, শেখ মুজিব যে আইনী বৈধতায় বাংলার একছত্র, অবিস্মাদিত নির্বাচিত প্রতিনিধি - তা আইনী প্রমাণ করে রাখা গেছিল। ফলে এই আইনী লাইনের গণঅভ্যূত্থান, আন্দোলনের সুযোগের সর্বশেষ ধাপের পৌছানোর আগে, আলোচনা তিনি চান না অথবা তিনি পাকিস্তাই মানেন না - এটা তিনি বলতে - মুখে কখনই ফরমালি বলতে পারেন না। এটা আত্মঘাতি হত।
৪. সব খেলার একটা নিয়ম থাকে। আইনী লাইনের গণঅভ্যূত্থান, আন্দোলনের খেলার নিয়ম হলো, যদিও সব পক্ষ, জনগণ সবাই জানে পাকিস্তান আর নাই - কিন্তু এটা শেষ হবে কী করে এটা গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শেখ মুজিব "পাকিস্তান মানেন না" একথা তিনি নিজে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলেও আইনী কারণ, খেলার নিয়মের কারণে, বলা যাবে না; এটা বলা মানে আত্মঘাতি; কারণ এটা বলার পরদিন তিনি আবার ঐ রাষ্ট্রের প্রধানের সাথে কোন আলাপ আলোচনায় যেতে পারেন না। আলোচনার জন্য ভাব ধরা সমস্ত খোলা পথ শেখ মুজিবই বন্ধ করে দিলেন এই অজুহাত, দায় সবই তাঁর উপর আসবে; শেখ মুজিব মানে আমরা সবাই, যার আঙ্গুলের ডগায় জনগণের ইচ্ছার সম্মিলিত প্রকাশ ঘটে গেছে। তাঁকে গ্রেফতার, এমনকী ফাঁসিতে লটকে দেবার আইনী সুযোগ ইয়াহিয়ার হাতে আমরা তুলে দিতে পারি না।
৫. এইজন্য বেষ্ট পথ হলো ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। ঐ ঘোষণা একদিকে স্বাধীনতার ডাক, আলাদা হবার ডাক - যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া, প্রতিরোধ গড়ার ডাক - সবই আছে। আবার আইনী দিক থেকে দেখলে শেষে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলার কারণে এই বক্তৃতা লিগালী কাভার্ড; তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগে উপস্হিত পাকিস্তান আইনে গ্রেফতার, ফাঁসী দেবার - এসব প্রক্রিয়ার কোন সুযোগ নাই। আবার ইতিহাসে প্রমাণ হয়ে থাকল আলাপ আলোচনার পথে সমাধানের পথ exhaust করার শেষ পর্যন্ত সুযোগ তিনি রেখেছিলেন। এএক দূর্দান্ত দূরদর্শী ঐতিহাসিক ভাষণ।
৬. এক কথায় ৭ই মার্চের ভাষণ ঐসময়েরই উপস্হিত রিয়েলিটিরই প্রতিচ্ছবি। ২৫ মার্চের রাতে নির্মম আক্রমণের পর ঐ লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (LFO) - এই আইনী খেলার নিয়ম ভাঙ্গার দায়দায়িত্ত্ব ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর কাঁধে বর্তায়। আইনী খেলার নিয়মের পরিসমাপ্তি ছিল ওটা। ভগ্ন দূর্দশাগ্রস্হ নিপীড়ক পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি আমাদেরও কোন আইনী, রাজনৈতিক দায় থাকল না। সত্যিকার অর্থেই আমরা তখন সেদিন থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও এর জন্য আমাদের অপরিসীম মূল্য চুকাতে হয়েছিল। অসংখ্য সাধারণ মানুষ, পিলখানার বিডিআর, সেনা ইপিআর ইউনিট, পুলিশ ব্যারাকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাচার নৃশংসতা, নির্মমতা, হত্যায় আমাদের মানুষকে বলি হয়ে গিয়ে সে মূল্য চুকাতে হয়েছিল।
৭. গণ-আন্দোলন সংগ্রামের বিপরীতে সশস্ত্র আন্দোলনের পথে আগানোর পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন - যে খেলার যে নিয়ম। এই পথে হাতে অস্ত্র তুলে নেবার সময় থেকেই ঘোষণা দিয়ে বলা যায় এবং বলা উচিতও যে উপস্হিত রাষ্ট্র, সরকার সেনাবাহিনী আমি মানি না। অর্থাৎ এখানে রাষ্ট্র ভাঙ্গার ঘোষণা আগে দিয়েই আন্দোলন শুরু করা সম্ভব এবং তাই করা হয়।
৮. আন্দোলনের যে দুই পথের কথা বললাম - এটা ভাবা বেকুবি হবে যদি ভাবি কোন পথ বেশি ভাল। এটা ভাল মন্দের প্রশ্ন নয়; স্রেফ বাস্তবতা বিবেচনা ও আন্দোলনের কৌশল বা ষ্ট্রাটেজির প্রশ্ন। উপস্হিত বাস্তবতায় কোন পথে ফল বেশী, লক্ষ্যে পৌছানো সহজ, সম্ভব - তার সুচারু বিবেচনা কৌশল। তবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিছু ভুল ত্রুটি, বড় বড় খামতি সেখানে অবশ্যই সাথে আছে, তা থাকা সত্ত্বেও এর একটা ইউনিক বৈশিষ্ট হলো, এখানে দুই পথকেই পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে ব্যবহার করে সফলতায় নেয়া গিয়েছিল।

শেষ কথা বাংলাদেশ ইজ এ রিয়েলিটি। ইতিহাসে পাঠে অবিচার মানে নিজের সাথে অবিচার, বিপথগামী হওয়া; যার পরিণতি নিজের ভুলে আজ এবং আগামীতে নিজের জন্য গর্ত খুড়ে রাখা।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): জিয়াউর রহমানশেখ হাসিনাশেখ মুজিব ;
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৮
রোহান বলেছেন: কমেন্ট দুইটার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ....
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কু রোহান। আমাদের যা কিছু গৌরবের তা নিয়ে বিভেদের ভারে নুব্জ নয়, শিড়দাড়া খাঁড়া করে দাড়াতে হবে। সামনে অনেক বিপদ।

২. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৬
জুল ভার্ন বলেছেন: আবেগের বশবর্তী নাহয়ে যুক্তি সংগত ভাবে খুব সুন্দর করে লিখেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে। +
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: ইতিহাস পাঠ থেকে শিখা আর দলবাজী - এক জিনিষ নয়।
আবার দলবাজী - সে তো রাজনীতিই নয়; রাজনীতির নামে কলঙ্ক।

দলবাজীর পরাধীন মন ইতিহাস পড়তে সে অকর্মন্ন, অক্ষম।

৩. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৫৪
বিবেক হীন বলেছেন: হাসিনা এবং খালেদা, মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শেখ মুজিবের মৃত্যুদিনে খালেদার জাকজমকের সাথে বিতর্কিত জন্মদিন পালন করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৪

লেখক বলেছেন: হাসিনা খালেদা ওরা ওদের মত যা মনে চায় করুক। কেউ ডুবে মরতে চাইলে আপনি কী ঠেকায় রাখতে পারবেন, না কী নিজে ওর সাথে ডুববেন?

নিজের চিন্তাকে স্বাধীন রাখুন। ইতিহাসবোধ জাগাতে ইতিহাস কী করে পাঠ করতে হয় তা আমাদের রপ্ত করতে হবে। ইতিহাসের আবর্জনায় অনেক বিভেদ আমাদের আছে, আগামীতেও অনেক উপাদান দেখব।
কিন্তু আমাদের যা কিছু গৌরবের তা নিয়ে বিভেদের ভারে নুব্জ নয়, শিড়দাড়া খাঁড়া করে দাড়াতে হবে। সামনে অনেক বিপদ।

৪. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১০
প্রতিবিপ্লবী বলেছেন: আমি তো আপনার ফ্যান হয়ে গেলাম
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন: ভাল লাগছে শুনে, লাগারই কথা।
কিন্তু একটা শর্ত আছে: নিজ চিন্তাকে সবসময় স্বাধীন রাখতে হবে।

আমিও আমার এমন পাঠকের ফ্যান হতে খুবই পছন্দ করব, নিঃসন্দেহে।

৫. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১১
রাফাত সাদাত বলেছেন: হাসিনা একটা সাইকো।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৬

লেখক বলেছেন: ব্যক্তি শেখ হাসিনা নিয়ে আমার আগ্রহ নাই। আমাদের রাজনীতি থেকে রোগী, রোগের বিষয় হয়ে উঠা থেকে মুক্ত করতে হবে। আমাদেরকে এক সচেতন পলিটিক্যাল কমিউনিটি হয়ে শিরদাড়া খাঁড়া করে দাঁড়াতে হবে।

আমাদের চরম কোন শত্রু মারা গেছে ওর কবরও হয়ে গেছে - এমন যদি হয়।
এখন এরপরেও যদি ঐ কবরের উপর দাড়িয়ে আমরা যদি লাফালাফি আস্ফালন করি সেটা আমাদের মানসিক রোগের প্রকাশ; আমাদের মানবিকবোধকে টুটি চেপে মেরে ফেলা।
আমাদের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধও যে কোন কবরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শিখায়।

৬. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১২
জিপিএস বলেছেন: রাজনীতিক বিরোধিতা প্যথলজিকাল ঘৃণা প্রকাশ ছাড়া জায়গা পাচ্ছেনা কেন ভাবতে হবে। কোনো দ্বন্দ্ব-বিরোধ যদি প্যাথলজিতে উপনিত হয়, তাহলে সংঘাত-সহিংসতা ছাড়া, মেরে কটে দফারফা করা ছাড়া সেই বিশেষ অবস্থার আর কোনা প্রস্থান অবশিষ্ট থাকে না।

কে জানে কি হয়.....
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮

লেখক বলেছেন: যে কোন প্রকারে জিঘাংসার রোগগ্রস্হ রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের জাগ্রত ইতিহাসবোধ - একমাত্র প্রতিশোধক।

কবর বাই নেচার একটা প্রতীক, কোন মানুষ সেখানে নেই; মাটি ছাড়া ওখানে কিছু নাই। মানুষ অনেক আগেই মারা যায়, দুনিয়াতে থাকতেই। এরপর তার আর কবরে থাকার প্রশ্ন আসে না।

হাসিনা এসব প্রশ্ন তুলে যাকে আমরা কেউ হয়ত অপছন্দ করি তার কবর নিতে অসুস্হ কথাবার্তা তোলার বিকৃত স্বভাব সমাজে পয়দা করতে চাচ্ছেন। অনেকেই শেখ মুজিবকে অপছন্দ করতে পারেন। তাই বলে কী আমরা তাঁর কবরকে অশ্রদ্ধা করতে দিব? সমাজে এসব অসুস্হ রেওয়াজ চালু হতে দিব? আজ হাসিনা বলছেন, কাল বিএনপির কোন কর্মী হাসিনার কোন প্রিয়জন সম্পর্কে একথা বলবে - আর আমরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখব, কিংবা জিঘাংসার হাততালি দিব?

৭. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৩
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: অহেতুক আবেগবিবর্জিত লেখা, পড়ে ভাল লাগল। এই দুটো ব্যাপার নিয়ে আমি যেভাবে চিন্তা করি, কিন্তু লেখনীর কমজোরীর কারনে প্রকাশ করতে অক্ষম, আপনি সেটাই এখানে প্রকাশ করে দিলেন।
ধন্যবাদ, অনেক অনেক।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০২

লেখক বলেছেন: ওমা জানেন না! আমি তো আপনার হয়েই লিখেছি।

এক লেখা - সবার লেখা - সবার প্রতিধ্বনি।

ভাল থাকবেন।

৮. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৮
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: আবারো অনেক ধন্যবাদ পি মুন্সি সাহেব। সারকথা এটাই হওয়া উচিত- যাদের কে নিয়ে আজকের প্রধান রাজনীতি দল রাজনীতি করছে কাউকে টেনে উপরে তোলার কারন নাই; যে কারনেই হোক তাদের জীবনাবসান ঘটেছে। এখন আমাদের উচিত সামনের দিকে তাকানো, দেশকে কিভাবে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া যায়- একটা সমন্বিত প্রয়াস।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শুভ। এই পোষ্টের কৃতিত্ত্ব একান্তই আপনার। আপনার উদ্যোগেই আমি সহায়ক মাত্র। এখানে আলাদা করে পোষ্ট করেছি কেবল এক্সপোজার বাড়ানোর জন্য।

৯. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩২
বিবেক হীন বলেছেন: পৃথিবীতে আমাদের মত আর কোন জাতি আছে কিনা জানিনা। এত বিভেদ, এত বিতর্ক। বিভেদ ভরা ইতিহাস যদি আমাদের পেছন থেকে টেনে ধরে রাখে, সামনে আগাব কিভাবে? আমরা সত্যিই খুব দূর্ভাগা জাতি। আমাদের আশেপাশের প্রতিবেশী দেশগুলো রকেটের বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপ, আমাদের মতই দেশ, তাদের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৪০০ ও ৪০০০ ডলার। আর আমাদের আয় মনে হয় ৬৯০ ডলারের মত। দেশের চরম নৈরাজ্যকর এবং হতাশার হাত থেকে বাঁচতে অসংখ মেধাবী ছেলেমেয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। এসব আমাদের নেত্রীদ্বয়ের চোখে পড়েনা।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: হতাশ হবার কিছু নাই। সব রাজনৈতিক জনগোষ্ঠির মধ্যে বিভিন্ন বিভেদ, বিভিন্ন স্বার্থ এরকমই জড়াজড়ি করে থাকে। কিছু হয় ইতিহাস কিছু আর্বজনা।

এই পোষ্টেই দেখেন না আমরা চাইলে কত কিছু পারি, আমাদের সু-মানবিকবোধগুলোকে কিভাবে স হজের একত্রে গাথতে পারি, এক মালা হয়ে উঠতে পারি! নেতা নেত্রী আসবে যাবে, বর্তমানের এরাই শেষ কথা নয়; কারণ আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

১০. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭
নবজাগরণ বলেছেন: কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো , আওমীলীগ কেন শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলাটা মূল ভাষণ থেকে এডিট করে প্রচার করে ? তাদের কীসের ভয়?

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪

লেখক বলেছেন: প্রথমত একটা কথা বলে রাখি, বাংলাদেশে আগামী দিনে বিপ্লব, সমাজের গুরুত্ত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন কখনই সম্ভব হবে না যদি শেখ মুজিব আমাদের জন্য কী ছিলেন - এটার মুল্যায়নে কোন শঠতা থাকে।

আমি নিশ্চিত আগামী বিপ্লব পর্যন্ত শেখ মুজিব, জনগণের মুক্তির যুদ্ধ, সংগ্রাম, প্রতিরোধের লড়াই ততদিন পর্যন্ত আমাদের সাথে পাশে পাশে প্রতিটা মুহুর্ত থাকবেই।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমার এই ছবিতে আমি আওয়ামী লীগকে দেখতে পাই না - যতদিন যাচ্ছে এটাই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শেখ মুজিব মানে আজ ভোটের বাক্স, আঁতাতের ক্ষমতা।

আমরা কী ভুলতে পারি শেখ মুজিব হয়ে ছিলেন আমাদের সক্রিয় সচেতন রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতীক - একথাগুলো বলছি ৭১ এর আগে পরে তাঁর নানান দোষ ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও; এসব দোষত্রুটিতে আমাদের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতীক একটুকুও ম্লান হয় নাই। ইতিহাসে এমন প্রতীক, নূর হয়ে উঠার ঘটনা খুবই রেয়ার, ক্ষণজন্মা এক ঝলক। শেখ মুজিব আঙ্গুল তুলে শত্রুদের শাসাচ্ছেন আর আমাদের সবার সংকল্প, রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতীক ঐ আঙ্গুলের ডগায় বসে আরামে দোল খাচ্ছে।
ওখানে শেখ মুজিব আর জনগণ এক অবিভাজ্য একক।
এটা রক্তের বা বিষয়আশয়ের সম্পর্ক নয়, বহু বহু উর্ধে আমাদের এই স্পিরিচুয়াল সম্পর্ক

এর তাৎপর্য আওয়ামী লীগ বুঝে নাই। বহু আগেই পথে ধুলায় ফেলে লুটিয়ে পায়ে মাড়িয়ে ফেলেছে। শেখ মুজিব বিক্রির দোকানীর কাছে শেখ মুজিব আর জনগণ এক অবিভাজ্য এককের তাৎপর্য কী খুঁজব?
এই আওয়ামী লীগ শেখ মুজিব কী বুঝবে? শেখ মুজিব মানে জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছা সে তো অনেক দূরের ব্যাপার।
চোরের মন খালি পুলিশ পুলিশ করে। শেখ মুজিব কেন "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলে ঐতিহাসিক ভাষণ শেষ করেছিলেন - টেপ শুনে অবুঝ চোরের তো ভড়কে যাবারই কথা।

আমি আগামী দিনের আমাদের সমাজের বিপ্লবী বদলের স্বপ্ন দেখা মানুষ; আমাদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি, পলিটিক্যাল কমিউনিটি হয়ে জগত সভায় একদিন আসন নিবেই - আমি নিশ্চিত। এটা আমার অর্থহীন কামনা হয়, বাস্তবে এটা সম্ভব বলে আমি জানি। তাই আমি আমাদের ইতিহাসে এমন প্রতীক, নূর হয়ে উঠার ঘটনা খুবই রেয়ার, ক্ষণজন্মা এক ঝলক - আবার ধরতে চাই । নেতা শেখ মুজিব আর জনগণ এক অবিভাজ্য এককের দুর্লভ ঘটনা আমাকে তাই সবসময় সাথে রাখতেই হবে, নইলে পথ চলব কী করে!

১১. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭
মিলটন বলেছেন: এর পর আসলে, বলার আর কিছু থাকে না। মানুষের উচিত বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে সত্য ও সঠিকটা নিজে বোঝা এবং অন্যকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বোঝানো। ধমক, হুমকি, গালাগালি এখন একটা রেওয়াজে পরিনত হয়ে গেছে। আর আমাদের মধ্যে ভর করেছে, একে অপরের সাথে তুলনা করা। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখা উচিত, কেউ কখনও কারো স্থান দখল করতে পারে না। কারো কৃতী দিয়ে অন্য কারো কৃতী ঢাকা যায় না। নিজ নিজ কৃতী জ্বল জ্বল করবেই। ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ। + দিলাম। যদিও এটা দিয়ে সব বিচার হয় না।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: "কারো কৃতী দিয়ে অন্য কারো কৃতী ঢাকা যায় না" - একদম ঠিক কথা। তার চেয়েও বড় কথা, আমরা ইতিহাস পাঠ শিখে কিভাবে কোন কৃতীকে মূল্যায়ন করছি, ধুলায় লুটাচ্ছি, বুকে তুলে নিচ্ছি।

কারণ, এটা ঠিক করে দেয় আমরা কে কোন কৃতী হতে চাই।
ধন্যবাদ মিলটন।

১২. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৯
অলস ছেলে বলেছেন: ভালো লেগেছে লেখাটা। সত্যিই ভালো লেগেছে। কিন্তু সরল মনে নিরপেক্ষ চিন্তার লোক দুর্লভ প্রজাতি হয়ে গেছে আমাদের মাঝে। বেশিরভাগই মুনাফিক ধরণের, সুবিধা না হইলে ছাতা সটান উল্টাদিকে ধরতেও একমুহুর্ত দেরি করি না আমরা বেশিরভাগেই। একদম পরিস্কার। সুতরাং এই নিরাশাবাদীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ছাড়া আপাতত কোন শুভ আশা দিতে পারলাম না।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন: দুর্লভ প্রজাতি আপনাদের সহগামীতায় সহজলভ্য প্রজাতি হয়ে উঠতে বাধ্য।

১৩. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৯
হাজারি বলেছেন: আপনি মহান......ইউ আর গ্রেট.....।

আমার খুব ভালো লেগেছে...।
ভালো থাকুন সতত.....।

নেতিবাচক হওয়া যে কোন জনের জন্যই খারাপ.........।এটা ভালো কোন ফল বয়ে আনতে পারে না...।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৬

লেখক বলেছেন: আপনি যে নেতি পথ, বিচারবোধ দেখাবেন মনে রাখতে হবে ঐ একই পথে আপনাকেও বিচার করা হবে। - এটাই মুল কথা।

আপাত স্বর্ণলাভের লোভে এই সরল কথাটা আমাদের মনে থাকে না। ভেবে বসি এইদিনই শেষ দিন।

অনেক ধন্যবাদ সজল হাজারি।

১৪. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
নষ্ট ছেলে বলেছেন: বঙ্গবন্ধু আর জিয়াকে নিয়ে এত মাতামাতি বিরক্ত লাগে।
আপনার লেখা ভাল লেগেছে +
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নষ্ট ছেলে।
মনে হয় কোন গোলযোগে আপনার একই মন্তব্য দুবার এসেছে। তাই পরেরটা মুছে দিলাম।

১৫. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৮
নাজনীন১ বলেছেন: আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু মেননের ছাত্র সংগঠন করত। তাঁর একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ কথা ছিল আজও মনে হয়। ও বলত যেকানে দল বা নির্দলের গণজমায়েত বা পাবলিক জমায়েতে গেলে - জনগণের প্রতিক্রিয়া কাছ থেকে জানা বুঝার একটা সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে সে আর আমি জিয়ার লাশ দেখতে গিয়েছিলাম। ঠিক একইভাবে এর দুসপ্তাহ আগে শেখ হাসিনা সভাপতি হয়ে ভারত থেকে দেশে প্রথম ফিরেছিলেন এক কালবৈশাখীর ঝড়ো বিকেলে, সেখানেও গিয়েছিলাম। একইভাবে ২৪ মার্চ ১৯৮২ এরশাদের সামরিক ক্ষমতা দখলের দিন সকালে বঙ্গভবন, গুলিস্তানের আশেপাশে ঘুরতে গিয়েছিলাম।


------- এবার জনগনের কি ধরণের মনোভাব বুঝেছিলেন ঐ তিন সময়ে সেটাও সুন্দরভাবে লিখে ফেলেন , এটা নিয়েও তো কম রাজনীতি হচ্ছে না। আমরা সে আসল সেন্টিমেন্টগুলোও জানতে চাই। নিরপেক্ষ ইতিহাস পাঠের অংশ হিসেবেই জানতে চাচ্ছি, এর মধ্যে কোন দলীয় রাজনীতি নেই। আজকাল ইতিহাসের যে পরিমাণ টানা-হ্যাঁচড়া দেখতে পাই তাতে সত্যিই হতাশ। আপনাদেরকে দেখলে আমাদের আগ্রহ বাড়ে, আশান্বিত হই।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নাজনীন১।

ইতিহাস পাঠের অংশ হিসেবেই কি করে তা পাঠ করতে হবে তা আমাদের জানতে হবে। আমি নিশ্চিত আমাদের সেই ইতিহাসবোধ রাজনীতিতে দলবাজীর নোংরা আবর্জনা কটু কথা থেকে আমাদের মুক্ত করবে।

১৬. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৭
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন: বাংলাদেশ ইজ এ রিয়েলিটি। ---একমত।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা।

১৭. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০৭
ও.জামান বলেছেন: জানতে ইচ্ছা করছে কেন হঠাৎ করে হাসিনা তথা বাকশালীরা আজ জিয়ার কবর জিয়ার লাশের পেছনে লেগেছে? কি আছে জিয়ার কবরে? কেন এই অশ্লীলতা?

আসলে এটা একটা নোংরা রাজনৈতিক কৌশল। শেখ হাসিনা খুব ভালো করেই জানতেন যে, জিয়ার লাশ নিয়ে কথা বললে বিরোধী দল তার বাবার লাশ নিয়ে কথা বলবে। তার পরও তিনি এটা করেছেন। জেনেশুনে ইচ্ছে করেই তিনি পিতার লাশের অসম্মান হতে দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করার জন্য পিতার লাশের অবমাননাও করা যায় তাহলে?

সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামীলীগ প্রধান তার কুট কৌশলে সফল। অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে তিনি তার ভারত সফরে দেশের জন্য সর্বনাশা চুক্তির বিষয়টিকে আলোচনার বাইরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। যে সময় বিরোধী দলের "টিপাইমুখ", "সমূদ্রে গ্যাসব্লক ইজারা", "ট্রানজিট" এবং "সীমান্তে হত্যা" বিষয়ে সোচ্চার হবার কথা সে সময়ে তারা পাতা ফাঁদে পা দিয়ে দিকভ্রান্ত হলো। তারাও মুজিবের লাশ নিয়ে নোংরামো করতে শুরু করলো ।

মুজিব এবং জিয়া দুজনেই এদেশের স্বাধীনতার জন্য অবদান রেখেছেন। একজন আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি করেছেন; অন্যজন মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এদের লাশ নিয়ে যারা কটুক্তি করে তারা রাজাকারেরও অধম, তা সে হাসিনাই হোক আর খালেদাই হোক (যদিও আমার জানা মতে খালেদা এখনো মুজিবের লাশ নিয়ে কোন কটুক্তি করেন নি)।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৯

লেখক বলেছেন: আপনার দেওয়া লিঙ্কে গিয়েছিলাম। আগে খবরটা আগে কখনও দেখিনি, চোখে পড়েনি। পড়ার পর দশ মিনিট কিছু করি নাই, হতবুদ্ধি আমি দুনিয়ার কিছু না ছুয়ে বসে থাকার চেষ্টা করেছি। সামনে চায়ের কাপ জুড়িয়ে কখন ঠান্ডা হয়ে গেছে টের পায়নি।


সত্যিই হাসিনা সফল।
লাশ নিয়ে সমাজে মানবিকবোধ খুনের সংস্কৃতি, মহৌৎসব চালু করার জন্য নিশ্চয় শেখ হাসিনার ক্যারিয়ারে তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আগামী ইতিহাস বলবে আহা কী মহান কেরিয়ারের অধিকারী ছিলেন তিনি।

টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবরে শেখ মুজিব নাই। কবরে মাটি ছাড়া কিছু থাকে না, আমরা জানি। উনি তো কবেই সেই পনেরই আগষ্ট সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আমাদের জ্বলজ্বলে স্মৃতি চিহ্ন হয়ে আছে ওখানে ঐ কবর। কবর মাত্রই স্মৃতি চিহ্ন। যে কোন কারও কবর প্রিয়জনের কাছে স্মৃতিচিহ্ন, স্মৃতিধাম। ভিতরে কিছু নাই, কিচ্ছু নাই একদম ফাঁকা কিন্তু পার্থিব সবকিছুর উর্ধে এক স্মৃতি সম্পর্ক আছে, পার্থিব কোনকিছু দিয়ে এই স্মৃতিকে ধরাছুয়া যায় না।

টুঙ্গিপাড়ার স্মৃতিচিহ্ন সম্পর্কে উনি শেখ হাসিনার বাবা হয়ে পারেন তাতে আমার খুবই কম কিছু যায় আসে। কিন্তু জনগণের সাথে শেখ মুজিবের বন্ধন স্পিরিটের, ফলে তা স্পিরিচুয়াল। কোন রক্তসম্পর্কের বন্ধনের অনেক অনেক উর্ধে, শেখ হাসিনার বোধগম্যতা একে ছুঁতে পারে না। এই সম্পর্ককে অপমান করার ক্ষমতা আমরা কেউ কখনও শেখ হাসিনাকে দিতে পারি না। দিব না।

সমাজে এসব মূঢতা কখনও কখনও কুয়াশা হয়ে ছেয়ে যায়। কাকে দোষারোপ করব?
তবু সবাইকে আশ্বাস দেই, মানি - এই কুয়াশা কাটবেই। আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। সামনে অনেক বিপদ।

১৮. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২০
সাজিদ বলেছেন: আদালত কতৃক স্বীকৃত রং হেডেড একজন নেত্রী একটা অসুস্হ কমেন্ট করলো আর চামচারা দাবি করছে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। এ প্রসংগে শেখ সেলিমের কমেন্টতো আরও আক্রমনাত্নক। উনি নাকি বাক্স তুলে নদীতে ফেলে দিবেন। আগেরবার ব্রিজ তুলে ফেলে দিয়েছিল এবার কবর তুলে ফেলে দিতে চাচ্ছে।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৯

লেখক বলেছেন: কবর মাত্রই স্মৃতি চিহ্ন। যে কোন কারও কবর প্রিয়জনের কাছে স্মৃতিচিহ্ন, স্মৃতিধাম। ভিতরে কিছু নাই, কিচ্ছু নাই একদম ফাঁকা কিন্তু পার্থিব সবকিছুর উর্ধে এক স্মৃতি সম্পর্ক আছে, পার্থিব কোনকিছু দিয়ে এই স্মৃতিকে ধরাছুয়া যায় না।

স্মৃতি-সম্পর্ক আছে কী নাই - ডিএনএ টেষ্ট করে প্রমাণ করে এমন মুরোদ শেখ সেলিম কেন বিজ্ঞানের নাই, কোনদিন হবেও না। কোন পারিষদ, শেখ সেলিমের এটা বুঝার কথা না। মানুষের মানবিক গুণ, অনুভুতির বাইরে এরা জিঘাংসা ক্যারিয়ার।

১৯. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৯
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
দাদা, আপনি কি আসলেই আবেগবিবর্জিতভাবে এই লেখাটা লিখেছেন। মনে হয় না। আবেগ না থাকলে কেউ এতো চমৎকার লেখা লিখতে পারে না।
এই আবেগটাই দরকার। এটাই সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
আশা করি বুঝদার রাজনৈতিক জনগোষ্টী হয়ে উঠার আকাঙ্খা সফল হবে।

ভালো থাকুন।।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: ঠিক ধরেছেন, কিন্তু সব গুমোড় ফাঁস করে দিলেন।

দরজার বাইরে জুতা খুলে রাখার মত আবেগ বাইরে রেখে চিন্তা করি, করতে বসেছিলাম। কিন্তু লিখেছি আবেগ দিয়ে, চেষ্টা করেছি নাম না জানা অসংখ্য পাঠকের কথা ভেবে - এক লেখা সবার লেখা হতে।

ভাল থাকবেন।

২০. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৬
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
আমার অবাক লাগে এইসব কিভাবে রাজনীতি'র ভাষা হতে পারে।
তারপরও যেহেতু বার বার হয়েছে- ধরে নিয়েছি, এটা বোধহয় রাজনীতি।
এটা মাথা থেকে বের করতে পারছি না।
আপনার কাছে কি কোন সমাধান আছে?

এই লেখাটা বরাবরের মতো উপাদেয়।

ধন্যবাদ।।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৭

লেখক বলেছেন: ইতিহাস কী করে পাঠ করতে হয় তা শিখে চর্চা রাজনীতিকে সদর রাস্তায় আনা সম্ভব। সামাজিক চিন্তায় এটা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এর প্রতিরোধে দলবাজী, দলবাজীর নেতা সহ বিদায় নেবে। আমাদের সামাজিক ইতিহাসবোধ এদের পরাজিত করবেই।

দেখুন আমাদের এই প্রতিক্রিয়া, প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং তুলবেই- আমি নিশ্চিত।

২১. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২২
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনার জিমেইল ঠিকানাই একটা মেইল পাঠিয়েছি, এখনই একটা রিপ্লাই পেলে খুবই উপকৃত হয় । দয়াকরে, একটু দেখুন ।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৫১

লেখক বলেছেন: সরি, আজ সকাল থেকেই মেল দেখা হয় নাই।
এখনই দেখে একটা জবাব পাঠিয়ে দিয়েছি।

২২. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪৬
লুৎফুল কাদের বলেছেন: ধন্যবাদ পি মুন্সী.
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেই মনে মনে খুঁজছিলাম।
ভিজিট করা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

২৩. ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
ও.জামান বলেছেন: আমার পোস্টটা মডারেটরগণ মুছে দিয়েছেন। আপনার এখান থেকে কিছু তথ্য কপি করছি।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন: আমি ঠিক বুঝি নাই।
আপনার কোন পোষ্ট মুছেছে আর এখান থেকেই বা কী কপি করলেন।

২৪. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০২
মনজুরুল হক বলেছেন:
নিবিষ্ট মনে পড়লাম। খতিয়ান-টতিয়ান খুঁজে দেখলাম এই উপ মহাদেশেগুলোর তথাকথিত গণতন্ত্রে এটি বেশ মানানসই! কবর, মনুমেন্ট, মাজার, আশ্রম সবই তাদের নোংরা রাজনীতির উপাদান। কে কি ভাবে কতটা কার্যকর ভাবে সেটির ব্যবহার করতে পারে তারই উপর তাদের বুৎপত্তি নির্ভর করে! কাঁচা টাকার উভয় পিঠ!!
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১২

লেখক বলেছেন: আপনার কথা ঠিক হয়ত।
"কবর, মনুমেন্ট, মাজার, আশ্রম সবই তাদের নোংরা রাজনীতির উপাদান"- এটা বাস্তবতা।
কিন্তু নোংরা রাজনীতির উপাদান না বানালেও কবর, মনুমেন্ট, মাজার, আশ্রম সমাজে থেকে যাবে ঠিক যেমন স্মৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচে না, মানুষ স্মৃতি হাতছাড়া করতে চায় না সেরকম।

বেঁচে থাকার জন্য মানুষের স্মৃতিকে সাথে রাখতে হবে, সমাজে তাই এগুলো থাকবে। নোংরা রাজনীতির অংশ মরে গেলেও রাজনীতিতেও কিঞ্চিত-আর্ধেক তা থেকে যাবে সমাজে মানুষের সাথে তা থাকবে বলে।

২৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৪
ও.জামান বলেছেন: "জিয়ার লাশ নিয়ে কেন এই টানা টানি? জেনেশুনে ইচ্ছে করেই কি হাসিনা তার পিতার লাশের অসম্মান হতে দিয়েছেন?" শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ৬/২/২০১০ সন্ধায়। সেখানে জিয়ার লাশ নিয়ে যারা অশালিন মন্তব্য করেছেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ২ জুন ১৯৮১ তে ইত্তেফাকের নিউজ কপিপেস্ট করেছিলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম দিয়েছিলাম। এবং কেন শেখ হাসিনা এই জঘন্য কাজটি করলেন তা ব্যখ্যা করেছিলাম।

ঐ ব্যাখ্যার অংশটুকু আপনার এই পোস্টে কমেন্ট আকারে দিয়েছিলাম (১৭ নং মন্তব্য)।

আমার সেই পোস্টটি গতকার রাতে মডারেটরগণ মুছে দিয়েছেন। আমি কোন খারাপ শব্দ ব্যবহার করিনি। কাউকে আক্রমণও করিনি। শুধু সত্য কথাগুলো রেফারেন্স সহ তুলে ধরেছিলাম। তারপরও....

যাই হোক ওটা সেভ করা ছিলো না। ফলে আপনার এখানে করা ১৭ নং কমেণ্টটা কপি করে নিয়ে সেভ করলাম। ভবিষ্যতে অন্য কোন ব্লগে আবার পোস্ট করবো।

আমার একটা পোস্টে (বিজয় দিবস: কিছু একান্ত স্মৃতি ও অনুভূতি) আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভালো লাগলো। ওখানে আপনার মন্তব্যের পর আমি আরো কিছু তথ্য যোগ করবো। মনে হচ্ছে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা মানুষকে বোঝার চেষ্টা করে।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ও জামান।

২৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩১
রাগ ইমন বলেছেন: কদর্য এই ভাষা গুলো রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ।

সাধারণ মানুষের মনযোগ আসল সমস্যা কিংবা সমস্যার মূল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অতি উৎকৃষ্ট ।

আজকাল এই ধরনের মন্তব্য শুনলে সবার আগে চেক করি , দেশের কোন সমস্যাটা সরকার এই মুহুর্তে সামলাতে পারছে না ।
-----------------------------

যাক গে,

আমি একটা জিনিস বুঝি না । লাশ কবরে আছে কি নাই সেইটা তো কোন বিষয় না , জিয়াকে নিয়ে যদি কোন কথা ২০১০ সালে বলতেই হয় তাহলে সবার আগে আসা দরকার ,

" জিয়া হত্যার বিচার চাই।"

মুজিবের মতন জিয়া হত্যার প্রতিটা ডিটেইল মানুষের সামনে আসা দরকার । বি এন পি কখনোই এই দাবীটা জোরে শোরে কেন তুলে না , এইটা আজও বোধগম্য হইলো না ।

ব্লগেও এই ব্যাপারে পোস্টের বন্যা হয় না যদিও জিয়াকে নিয়ে কোন রকম সমালোচনার সাথে সাথে গালি ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার লোকের অভাব নাই।

আজব না?

যেই মানুষটাকে ভালোবেসে যাকে তাকে শূলে চড়াইতে রাজি যারা , তাঁর হত্যার বিচার তারা চায় না । চিৎকার করে চায় না । মিছিলে মিটিং এ চায় না। পত্রিকায় , টিভিতে চায় না । ব্লগে ব্লগে , পোস্টে পোস্টে চায় না ।

আমি আশা করেছিলাম , মুজিব হত্যার রায় শেষ হলে , জিয়া হত্যার জোর দাবী নিয়ে তাদের কোন সাহায্য পাব। ভাব গতিক দেখে তো মনে হচ্ছে , ব্লগে " জিয়া হত্যার বিচার চাই" আন্দোলন শুরু করলে রাগ ইমন বেইল পাবে না ।

বি এন পি দাবী করুক আর না করুক, বাংলাদেশের সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে আমি জোর দাবী জানাই,

" জিয়া হত্যার বিচার চাই । এই হত্যার সাথে জড়িত সকল ব্যক্তির ফাঁসি চাই। হত্যার ভয়াবহ ডিটেইলস গুলা জনসমক্ষে প্রকাশিত হোক ।"
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রাগ ইমন।
"সাধারণ মানুষের মনযোগ আসল সমস্যা কিংবা সমস্যার মূল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অতি উৎকৃষ্ট" - একদম ঠিক বলেছেন।

আমি সেদিকে কথা নিয়ে যাবার সুযোগ পাইনি, আপনি বলে দিয়েছেন।

মুজিব হত্যার রায় শেষ করা হয়েছে এমন একটা ধারণা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বটে কিন্তু আমি মনে করি না তা সত্যি। সেই অর্থে জিয়া হত্যার বিচারও একটা তো হয়েছেই। এর চেয়ে বেশী "হত্যার ভয়াবহ ডিটেইলস গুলা জনসমক্ষে কখনই প্রকাশিত" হবে বলেও মনে করি না।
এর প্রধান সমস্যা হলো,
বাইরে থেকে দেখে আমাদের পপুলার ধারণায় আমরা তো মেতে আছি এটা একটা মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা লড়াই মনে করে। আর ওদিকে যারা দুনিয়াকে সাইজ করে, আইএমএফ পর্যন্ত - তারা এর আড়ালে তাদের কাজ এরশাদকে সামনে রেখে করে নিয়েছে। আমরা তো এখনও মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক চিন্তার বাইরে কোন কিছুকে দেখতে, ব্যাখ্যা করতে শিখিনি।
এটা নিশ্চয় সহজেই বুঝা সম্ভব যে, আইএমএফ এর মধ্যে দুনিয়ার যেসব স্বার্থ কায়কারবার করে করে-খাচ্ছে সেটা মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিতর্ক দিয়ে চলে না। কিন্তু সেটা আমাদের কে বুঝাবে?

২৭. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৩
শাহেরীন বলেছেন: ভাল লাগল।।
প্রিয়তে ও ++++++++++++
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২

লেখক বলেছেন: আপনাকে ভাল লাগাতে পেরেছি জেনে ভাল লাগছে।
অনেক ধন্যবাদ শাহেরীন।

২৮. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৯
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন: ++++++
জিয়ার লাশ নিয়ে হাসিনা-সেলিমদের কথাবার্তা নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ । "মানুষ মরে যায়। মানুষ নিয়ে মানুষের কুৎসিত রাজনীতিই শুধু মরে না "(তসলিমা নাসরিন )

জিয়া পরিবারকে লাশ দেখতে দেয়া হয়েছিল কিনা মনে নেই তবে আমার তারেকের আবদার আমার কানে আজো বাজে' আব্বুকে একটু দেখতে দাও' ।



১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: মানুষ নিজেই ঠিক করে দেয় অন্যেরা তাকে কিভাবে দেখবে।

অনেক ধন্যবাদ মানিক।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দাসত্ব।

৩০. ২১ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২৫
সুবিদ্ বলেছেন: মিস করেছিলাম লেখাটি।

মানসিকতার দৈন্য দেখে লজ্জাই লাগে...

যেকানে দল বা নির্দলের গণজমায়েত বা পাবলিক জমায়েতে গেলে - জনগণের প্রতিক্রিয়া কাছ থেকে জানা বুঝার একটা সুযোগ পাওয়া যায়---সহমত, এসব কারনে আমিও গনজমায়েতে যাওয়ার চেষ্টা করি সম্ভব হলে।
২৫ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ৩:২৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ সুবিদ,
আমার একটা মনের কথা ধরতে পেরেছেন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১১৩৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য সকলকে স্বাগতম।
কোন পুরানো পোষ্টেও নির্দ্বিধায় মন্তব্য করতে পারেন; সাড়া পাবেন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই