প্রণয়পুরাণ
=======
ছিলে তো পাথর খণ্ড, স্পর্শ করেছিমাত্র মুক্তা হয়েছ;
ফলে এত ব্যাকুলতা এই স্পর্শপাপ ... অন্তর্বৃক্ষে সুপ্তপাখি
কেঁদে ওঠে নির্জনতা হয়ে। অনুপাপ জাগে, জেগে কেঁপে কেঁপে
ওঠে ... তোমার কোমল ঘাসে লেপন করেছি হালকা শিশিরের জল;
পাথরপ্রতিম চোখে লোভদৃষ্টি ছুঁড়ে গেছি, কত বহুকাল!
একটি বিড়াল এসে আমাকে বিবৃত করে লেহনের সুখ ও আরাম___
ফলে আজ তোমার জীবন্ত চোখ চেটে যাচ্ছি অনর্গল
ইয়াজুজ-মাজুজের মতো। স্পর্শমাত্র ফুজিয়ামা, স্পর্শমাত্র লাভা ...
ছিলে তো সাধনাবস্তু, ধ্যানের আরক, স্পর্শমাত্র
প্রস্ফুটিত লোভ। আজও আমি স্পর্শলোভে কামাতুর
জিউসের মতো___ রূপে ও অরূপে বহুরূপী ... জ্যোৎস্নাদিঘিতে
এক পানকৌড়ি কবি; গোকুলের শ্যাম হয়ে
অনঙ্গ উপাধি ধরি বিশ্বভারতে। প্রতিটি শয়নকালে
রাজহংসকুমারীর মতো তোমার শরীর থেকে শয্যাময়, রাত্রিময়,
জ্যোৎস্না ঝরে পড়ে ... আমি সেই জ্যোৎস্নার ঘ্রাণ শুঁকে
হয়েছি প্রেমিক। যে তুমি প্রতিমাখণ্ডে নিষ্প্রাণ, ভালবেসে___
অসীম বাসনাবশে আমি তাকে রূপসী করেছি;
ঈশ্বরেরও ঈর্ষা হয়, জানি___
সামান্য প্রেমিক আমি, অসামান্য লোভে, প্রেমে ... সৃষ্টিপাপে পাপী।
বিবিধ দহন
========
ফেলে এসেছি লাল-নীল আলোর উৎসব, ছদ্মস্বপ্নপ্রণোদিত স্মৃতিদের বাড়ি ... পশ্চাদ্ভূমিতে জাগা নিয়রের গান, হিমকান্না, কাঠের গুঁড়িতে লিপ্ত কুড়ালের মতো মেঘপৃষ্ঠে কোপমারা চাঁদ ... ঢেউঢালা কল্লোলিত চন্দ্রাভাস নদী ... নদীগুলি মৃত ...
ফেলে এসেছি আনন্দের সাংকেতিক ঋতু ... প্রযত্ন-খোদিত যত মুখস্থ ঠিকানা, হংসস্নাত দিঘির দরদ ... এইসব গান ... জোনাকির যাজক গৌরব ...
ও নিদ্রালু চাঁদবোন, সে বড় অদ্ভুতগাঁও! মৌনতাবিমুগ্ধ ভোরে জেগে দেখি,
আশ্চর্য পাখির দেশ; বিবর্ণ রঙের প্রগল্ভতা ... আর সেই লোভদীপ্র
বিষমাখা ছুরি রক্তদৃশ্যে ঝলসিত, চিকচিক করে ... আমাদের আরও আরও
অভিমান ছিল ... অন্ধবিদ্যালয়গুলো অতশত আনন্দ বোঝেনি ;
মিথ্যাবাদী রাখালের কথা কারও অজানা ছিল না, তারা তবু
আগুন! আগুন! বলে দেশময় ছিটিয়েছে জল। তারপর ...
অনেক বছর গেলে, একদিন আগুনেই পুড়েছে সংসার ... আহা!
তবু এই আমাদের আনন্দ ঘোঁচেনি; আর এই বর্ণপাখির দেশে
বায়ান্নটি ডানা মেলে পাষাণের চোখজলে ভাসি ... এবং প্রচ্ছন্ন কথা ...
পাথরের দৃষ্টিসীমা বৃত্তায়িত করে যথারীতি মর্মান্তিক উড়ি ;
আমার গৌরব কীসে? সিঁড়িতে উঠেছি বটে! বরং
তাহাতে বাড়ে সিঁড়িরই গৌরব ... পৃথিবী সমাসে তৃপ্ত, আমি থাকি
ব্যাসবাক্যে মৃত ...
তা হলে বোনের কানে তথ্যপ্রপাতের ছলে বলা যায়, ওগো চাঁদবোন,
আজ এই হলুদচর্চিত রোদে, শুয়োরের মতো অন্ধকারে, ডানার যন্ত্রণা
ঢেলে বুঝে গেছি, বস্তুত___ ভাষার জন্য নীরবতা অধিক জরুরি!
পিপাসা সংক্রান্ত বহুল প্রচারিতব্য মৌনপত্র
==========================
বরেন্দ্রে পুঁতেছি দেহ, আহা এই প্রাণ আমি
নিঃশেষে ছিটিয়ে দেবো বঙ্গে, রাঢ়ে ... দূর সমতটে ...
তবু মাছের শহরে যেতে ইচ্ছে করে এবং কেননা যে,
আমিও আমিষ ভালবাসি; তবে কিনা, তাহাদের মতো
ধূর্ত আমিষ-শিকার টানে না আমাকে ... তবু পুনরায় একবার
মাছের শহরে যাবো, যেতে যেতে পেছনে তাকাবো, সেই
কালিদহে ... পুণ্ড্রনগরে; আর যত প্রত্নপ্রশ্ন পর্যাপ্ত হৃদয়
ছড়িয়ে-উড়িয়ে দেবো কোরোফিল দেশে ...সখা,
চাঁদে যে আগুন লাগে, তারও বেশি পুড়েছে হৃদয়! যদি
প্রাণও দাও, আমি এই মন দিয়ে দেবো না সহজে ...
সাকুল্যে আমিও আজ তিনশ' পঁয়ষট্টি কোটি রাত জেগে আছি
আর জেগে জেগে গড়িতেছি প্রাণ ... আহা! এই প্রাণ আমি
এবার ছিটিয়ে দেবো অনার্য ভূগোলে ...
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



