সরকার প্রধান হয়তো ভাবছেন, সরাকারের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ...জাতির জন্য কলংকজনক ঘটনা সরকারকে করতে পারে দুর্নামের সর্ম্পূণ ভাগিদার...এমন সমাধান দ্রুত করতে হবে যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে।
তেমনি হয়তো ভাবছেনে সরকার প্রধানের কাছের নেতা মন্ত্রী...সরকারের যাতে বদনাম না হয়, জনগণ যেন বিভ্রান্ত না হয়, ঝুঁকি নিয়েও নামতে হবে ফিল্ডে
বিরোধী দল এর নেতা নেত্রী হয়তো ভাবছেন, সরকার কোন ভুল করলেই হয়...চেপে ধরতে হবে।
মিডিয়ার লোকজন ভাবছেন , একটু ফাঁকফোঁকর পেলেই হয়, একটু ছবি পেলেই প্রচার করে দেবো, প্রতিবেদকের নাম ফুটবে, চ্যানেলের সুনাম হবে...নতুন নতুন তথ্য দরকার ঘটনার।
ব্লগাররা হয়তো ভাবছেন, সবার আগে নতুন তথ্য জানতে হবে, পোষ্ট করতে হবে অন্যের আগে, হিট বাড়বে ...অন্য ব্লগাররা জানবে।
ঘটনার আশেপাশের জনগণ ভাবছেন, নিজ পরিবারকে সেভ স্থানে সরাতে হবে..
দূরবর্তী দর্শক ভাবছেন, আসলে কি হলো জানতে হবে...চেয়ে থাকতে হবে টিভির পর্দায়, কল করতে হবে চেনা পরিসরে।
হয়তো এসবই বা কাছাকাছি কিছু ভেবেছেন ঠিক যে সময় কলংকজনক বিদ্রোহ বলা ঠিক হবে না ( হত্যা পক্রিয়া বিদ্রোহ হতে পারেনা) বলা উচিৎ আক্রোশ চলা কালে।
আর যারা ঘটনার ভেতরে বন্দী তখন তারা জীবন বাঁচাতে ব্যাস্ত, কেউ পালাতে, কেউ গোলাগুলির মাঝে থাকা প্রিয় জনের উৎকণ্ঠায় দিশেহারা ...
বিদ্রোহীরাও হয়তো নানান মতে বিভক্ত তখন, কেউ তাই পালানোর পথ খুঁজছে , কেউ ভীত , কেউ আবার রক্তে মাতোয়ারা আদি হত্যা খেলায়...
জনগণ অনেকে পক্ষে , অনেকে বিপক্ষে তখন বিদ্রোহীদের। সেনাবাহিনীর উপর কেনো জানি এক সুপ্ত ক্ষোভ সাধারণ জনগণের ...
কিন্তু সত্যি কেউ কি বুঝব সেই তাদের বর্তমান অবস্থা যারা স্বজন হারিয়েছে গত বুধবারে বিডিআর সদর দপ্তরের বিদ্রোহ জনিত ঘটনায়। বুঝবনা। বোঝা যায়না।
এ ধরনের অস্বাভাবিক অপঘাতে যারা মৃত্যু বরণ করে তাদের স্বজনদের কষ্ট বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। তাদের কাছে ঐসব কোন ইস্যু থাকেনা এই অপঘটনা বাস্তবতা হয়ে ওঠে বাকী জীবনের।
উক্ত ঘটনায় নিহত মেজর খালিদের বাসায় গিয়েছিলাম সকালে। ( আজ তিনটার খবরে জানলাম টিভি নিউজ হতে গণকবরে তার লাশ পাওয়া গেছে) । নিহতের স্ত্রী আমার বিসিএস ব্যাজমেট, আমার কলিগ।
বুধবার সকাল থেকে উৎকণ্ঠায় ছিলাম ঐ আপার জন্য। উৎকণ্ঠা কারন সে পরিচিত ( পরিচিত না হলে কি এত উৎকণ্ঠা হতো , এ এক কঠিন প্রশ্ন) , উনি ছুটিতে ছিলেণ, বাসায় ছিলেন ঐ সময়। মোবাইল এ কোন যোগাযোগ কেউ ই করতে পারিনি। কাল বিকালে মুক্ত হয়েছেন।
আমি তারপর ফোন করার সাহস যোগাতে পারিনি। একা যেতে সাহস যোগাতে পারিনি। আজ সকালে দলবলে তাই যাওয়ার সুযোগ পেতেই দৌড়েছি।
বিদ্রোহীরা তাদের বিডিআরস্থ বাসা তছনছ করে একাকার করেছে , মেজর খালিদের খবর তখনও জানে না। হয়তো বুঝেই গেছেন বাঁচার খবর পাবেন ই না। ভাবুন ১১/১২ বছরের মেয়েকে নিয়ে তার সে কি হতাশা, সে কি কান্না...স্বাধীন দেশের একজন সৈনিকের জীবনে , তার পরিবারের জন্য এ কেমন প্রাপ্তি।
বাসে লোকজন আলাপ করছিল , এত সেনা অফিসার হত্যার পরও বিডিআর বিদ্রোহের পে জনগণ , কারন সেনাবাহিনী গত দুই বছরে জনগণকে অনেক ভুগিয়েছে...খালি হত্যা করেই বিডিআর রা ধরা টা খেলো..
সত্যি ...এমন নৃশংস গনহত্যার পরা কোন দাবী উত্থাপন করা যায়না, কোন সাধুবাদ পাওয়া যায়না, কোন সহানুভূতি পাওয়া যায়না।
যারা মারা গেছে , সেখানে বিডিআর জওয়ানরাও কিন্তু আছে। সেটা কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা।
যাদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে তারা আর সব পরিচয়ের আগে কিন্তু একটি পরিবারের সদস্য। কারও পিতা, কারো সন্তান, কারও স্বামী, কারও বন্ধু।
হয়তো বিডিআর জওয়ানদের ক্ষোভ , দাবী , তাদের উপর অফিসারদের কারও কারও অত্যাচারের এবং সুযোগ বঞ্চিত হবার অভিযোগ অযৌক্তিক ছিলনা।
তাই বলে এভাবে হত্যা ... এতে বোঝা যায় এ দেশের মানুষের ভেতর মানবীয় গুনাবলীগুলো তিলে তিলে মরে যাচ্ছে। মানুষ হয়ে উঠছে এগ্রিসিভ।
এর কোন একক কারণ বলা কারও পে সম্ভব নয়। তবে একটা ভবিষ্যত বলা যায়--আমরা মানুষ হয়ে উঠছি অসহ্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



