somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা মানুষ হয়ে উঠছি অসহ্য // যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রথম পরিচিয় তারা একটা পরিবারের সদস্য।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকার প্রধান হয়তো ভাবছেন, সরাকারের জন্য বিশাল এক চ্যালেঞ্জ...জাতির জন্য কলংকজনক ঘটনা সরকারকে করতে পারে দুর্নামের সর্ম্পূণ ভাগিদার...এমন সমাধান দ্রুত করতে হবে যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙে।

তেমনি হয়তো ভাবছেনে সরকার প্রধানের কাছের নেতা মন্ত্রী...সরকারের যাতে বদনাম না হয়, জনগণ যেন বিভ্রান্ত না হয়, ঝুঁকি নিয়েও নামতে হবে ফিল্ডে

বিরোধী দল এর নেতা নেত্রী হয়তো ভাবছেন, সরকার কোন ভুল করলেই হয়...চেপে ধরতে হবে।

মিডিয়ার লোকজন ভাবছেন , একটু ফাঁকফোঁকর পেলেই হয়, একটু ছবি পেলেই প্রচার করে দেবো, প্রতিবেদকের নাম ফুটবে, চ্যানেলের সুনাম হবে...নতুন নতুন তথ্য দরকার ঘটনার।

ব্লগাররা হয়তো ভাবছেন, সবার আগে নতুন তথ্য জানতে হবে, পোষ্ট করতে হবে অন্যের আগে, হিট বাড়বে ...অন্য ব্লগাররা জানবে।

ঘটনার আশেপাশের জনগণ ভাবছেন, নিজ পরিবারকে সেভ স্থানে সরাতে হবে..

দূরবর্তী দর্শক ভাবছেন, আসলে কি হলো জানতে হবে...চেয়ে থাকতে হবে টিভির পর্দায়, কল করতে হবে চেনা পরিসরে।

হয়তো এসবই বা কাছাকাছি কিছু ভেবেছেন ঠিক যে সময় কলংকজনক বিদ্রোহ বলা ঠিক হবে না ( হত্যা পক্রিয়া বিদ্রোহ হতে পারেনা) বলা উচিৎ আক্রোশ চলা কালে।
আর যারা ঘটনার ভেতরে বন্দী তখন তারা জীবন বাঁচাতে ব্যাস্ত, কেউ পালাতে, কেউ গোলাগুলির মাঝে থাকা প্রিয় জনের উৎকণ্ঠায় দিশেহারা ...
বিদ্রোহীরাও হয়তো নানান মতে বিভক্ত তখন, কেউ তাই পালানোর পথ খুঁজছে , কেউ ভীত , কেউ আবার রক্তে মাতোয়ারা আদি হত্যা খেলায়...

জনগণ অনেকে পক্ষে , অনেকে বিপক্ষে তখন বিদ্রোহীদের। সেনাবাহিনীর উপর কেনো জানি এক সুপ্ত ক্ষোভ সাধারণ জনগণের ...

কিন্তু সত্যি কেউ কি বুঝব সেই তাদের বর্তমান অবস্থা যারা স্বজন হারিয়েছে গত বুধবারে বিডিআর সদর দপ্তরের বিদ্রোহ জনিত ঘটনায়। বুঝবনা। বোঝা যায়না।

এ ধরনের অস্বাভাবিক অপঘাতে যারা মৃত্যু বরণ করে তাদের স্বজনদের কষ্ট বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। তাদের কাছে ঐসব কোন ইস্যু থাকেনা এই অপঘটনা বাস্তবতা হয়ে ওঠে বাকী জীবনের।

উক্ত ঘটনায় নিহত মেজর খালিদের বাসায় গিয়েছিলাম সকালে। ( আজ তিনটার খবরে জানলাম টিভি নিউজ হতে গণকবরে তার লাশ পাওয়া গেছে) । নিহতের স্ত্রী আমার বিসিএস ব্যাজমেট, আমার কলিগ।
বুধবার সকাল থেকে উৎকণ্ঠায় ছিলাম ঐ আপার জন্য। উৎকণ্ঠা কারন সে পরিচিত ( পরিচিত না হলে কি এত উৎকণ্ঠা হতো , এ এক কঠিন প্রশ্ন) , উনি ছুটিতে ছিলেণ, বাসায় ছিলেন ঐ সময়। মোবাইল এ কোন যোগাযোগ কেউ ই করতে পারিনি। কাল বিকালে মুক্ত হয়েছেন।
আমি তারপর ফোন করার সাহস যোগাতে পারিনি। একা যেতে সাহস যোগাতে পারিনি। আজ সকালে দলবলে তাই যাওয়ার সুযোগ পেতেই দৌড়েছি।
বিদ্রোহীরা তাদের বিডিআরস্থ বাসা তছনছ করে একাকার করেছে , মেজর খালিদের খবর তখনও জানে না। হয়তো বুঝেই গেছেন বাঁচার খবর পাবেন ই না। ভাবুন ১১/১২ বছরের মেয়েকে নিয়ে তার সে কি হতাশা, সে কি কান্না...স্বাধীন দেশের একজন সৈনিকের জীবনে , তার পরিবারের জন্য এ কেমন প্রাপ্তি।


বাসে লোকজন আলাপ করছিল , এত সেনা অফিসার হত্যার পরও বিডিআর বিদ্রোহের পে জনগণ , কারন সেনাবাহিনী গত দুই বছরে জনগণকে অনেক ভুগিয়েছে...খালি হত্যা করেই বিডিআর রা ধরা টা খেলো..

সত্যি ...এমন নৃশংস গনহত্যার পরা কোন দাবী উত্থাপন করা যায়না, কোন সাধুবাদ পাওয়া যায়না, কোন সহানুভূতি পাওয়া যায়না।

যারা মারা গেছে , সেখানে বিডিআর জওয়ানরাও কিন্তু আছে। সেটা কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা।
যাদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে তারা আর সব পরিচয়ের আগে কিন্তু একটি পরিবারের সদস্য। কারও পিতা, কারো সন্তান, কারও স্বামী, কারও বন্ধু।

হয়তো বিডিআর জওয়ানদের ক্ষোভ , দাবী , তাদের উপর অফিসারদের কারও কারও অত্যাচারের এবং সুযোগ বঞ্চিত হবার অভিযোগ অযৌক্তিক ছিলনা।
তাই বলে এভাবে হত্যা ... এতে বোঝা যায় এ দেশের মানুষের ভেতর মানবীয় গুনাবলীগুলো তিলে তিলে মরে যাচ্ছে। মানুষ হয়ে উঠছে এগ্রিসিভ।
এর কোন একক কারণ বলা কারও পে সম্ভব নয়। তবে একটা ভবিষ্যত বলা যায়--আমরা মানুষ হয়ে উঠছি অসহ্য।


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৫
৬১টি মন্তব্য ১২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×