সায়ানের কোন সমস্যা নেই। সে শুধু জানে তার তো প্রয়োজন নেই। তবুও চোখ তার ঠিকই লাল সালুর দিকে চলে যায়। এখানে এলেই চোখ যায়। তখন মন তার ভাবার চেষ্টা করে সাদা শুভ্র দাড়িতে একটা লোক বসে আছে। ধ্যান করছে, কোন কথা নেই তার মুখে। কোন চাহনি নেই। চাহনি নেই বলে রাগ ক্রোধের বালাই নেই। অনেকগুলি কৌতূহলী চোখ তাকে দেখছে, সামনে একটা পুকুর। সেখানে পানিতে ভাসছে লাল পদ্ম ফুল। আধ্যাত্মিক লোকটি ধ্যান করেই চলেছে, বহু বছর ধরে, সে ঐ পুকুর পারেই পাকুর গাছের নিচে পড়ে থাকে। সেই পাকুর গাছটি এখনও আছে, তার তলেই মাজার আর মাজারের উপরে ঝালর ওয়ালা লাল কাপড় এর আচ্ছাদন। কেউ নাম জানতো না বলে তার নাম দিয়েছিল ধ্যানা মিয়া। তার পা ছুঁয়ে এলে হাতের ব্যাথা ভাল হয়ে যায়, গায়ের ধূলো এনে লাগালে ভাল হয়ে যায় যুগ যুগের ঘা পাঁচড়া সব। সায়ানের ওসব বিশ্বাস না হলেও এসবই যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশ্বাস। হঠাৎ সায়ান দেখে সেই পুকুর এর ধারে দু’দল ব্যক্তিবর্গ পুকুর এর দখল নিয়ে মারামারি করছে। সেই প্রথম নাকি ধ্যান ভেঙেছিল ধ্যানা মিয়ার। চোখ খুলে মারামারি দেখে রেগ যান ধ্যানা; তার পর সবাই কে হাতে ইশারায় চলে যেতে বলেন। সকালে পুকুর টি দেখেতে পায় না কেউ আর, এক রাতেই ধ্যানা পীরের ক্রোধে জল শুকিয়ে ভরে যায় পুকুরটি, প্রতিটি পদ্ম ফুল হতে জেগে ওঠে এক একটা বড় বড় গাছ। সেই সব গাছই আজকের এই পার্ক এ নাকি দেখা যাচ্ছে। এসবই ধ্যানা মিয়ার ক্রোধের উপহার। পুকরের দখল নিতে আর কেউ কোনদিন আসেনি। ধ্যানার ধ্যানেও আর কোনদিন কোন বাধা পড়েনি।
পার্কটির সামনে ইংরেজী এল শেপের মত খানিকটা ফাঁকা জায়গা। এরই পশ্চিম পাশ দিয়ে ধ্যানার মাজারে প্রবেশের পথ, নকশা করা দেয়ালটা পার্ক আর মাজারকে পৃথক করে রেখেছে। এল শেপের অন্য প্রান্তে এককোনায় ছানা মিয়ার চায়ের দোকান। বেশ সুনাম ছানা মিয়ার চায়ের। অত্র এলাকার সকল কিশোর তরুণের আড্ডার হাতেখড়ি এই চায়ের দোকান আর পার্ক ঘিরেই শুরু হয়। এই রাস্তার মোড়টির আরেকটি বাড়তি সুবিধা আছে। সেটা উঠতি বয়সের ছেলেদের জন্য। এই রাস্তা ধরেই সকালে বিকেলে বড় রাস্তার গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের মেয়েগুলো যাতায়াত করে। কত যে প্রেমের শুরু এই স্থানেই আর কত যে পতনও এখানেই তার হদিস কেই বা রাখে। এত প্রাণ চঞ্চলতার মাঝে এখানে মারামারি আর খুন খারাবীর ইতিহাসও বেশ বড়। তবে ইদানীং পুরো বাংলাদেশের মত ছোটখাট মারামারি আর খুন টুন এখানেও কমেছে। সায়ান আগে এখানে খুব একটা দাঁড়াত না। ভার্সিটিতে ভর্তির পরই তার দাঁড়ানোর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত।
ডুবে যাওয়ার আগে সূর্য শেষবারের মত ভূবনের সাথে আলো বিনিময় করে নিচ্ছে। সেই পড়ন্ত বেলায় ছানা মিয়ার চায়ের দোকানের ডানে দাড়িয়ে আড্ডা রত পাঁচটি ছেলের মধ্যে আবীর নামের ছেলেটা পরপর দুটো অজ্ঞান পার্টির ঘটনা বলে গেলো। সব আড্ডাতেই কিছু লোক থাকে যারা কেবল বলতেই চায় আর অন্যরা বলার সুযোগই পায় না। তারা আবার সব জানে, যে বিষয়ই সামনে আসবে সে বিষয়ে তার অগাধ অভিজ্ঞতা।
.................................................
প্রকাশনীঃ শব্দশৈলী ( আরও পাওয়া যাবে মনন প্রকাশনীতে)
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



