somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রতীতি"---আমার প্রথম উপন্যাস, পঞ্চম বই থেকে এক ঝলক....

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
........................................হয়তো কখনও যাবেই না সে পার্কের পশ্চিমে সরু পথ টা ধরে ধ্যানার মাজারে। ঢুকেও নি কখনও। দূর থেকে দেখেছে লাল সালুর তলে একটা পাকা কবর। চারপাশে আগর আর মোমবাতির জ্বলছেই অনবরত। হুলুস্থুল কান্ড। সে যাক না যাক শত শত মানুষ রোজ যাচ্ছে, সেখানে বিত্তবান বা বিত্তহীনদের নাম আলাদা করে বলা যাবে না। সবাই যাচ্ছে, কেউ সেজদা করছে লালসালুর ছায়ায়, কেউ রক্ষিত বাক্সে ফেলছে টাকা, কেউ নিচ্ছে খাদেম নামের এক জটাধরীর হাত থেকে তাবিজ কিংবা লাল হলুদ সূতা। রিকশা ওয়ালা রিকশা চালাতে চালাতে এক হাত উঁিচয়ে চুম খাওয়ার চেষ্টা করছে। ঐ যে-বিশ্বাসে মিলায় বস্তু। ওখানেই ভীরু মানুষের সমস্যা।
সায়ানের কোন সমস্যা নেই। সে শুধু জানে তার তো প্রয়োজন নেই। তবুও চোখ তার ঠিকই লাল সালুর দিকে চলে যায়। এখানে এলেই চোখ যায়। তখন মন তার ভাবার চেষ্টা করে সাদা শুভ্র দাড়িতে একটা লোক বসে আছে। ধ্যান করছে, কোন কথা নেই তার মুখে। কোন চাহনি নেই। চাহনি নেই বলে রাগ ক্রোধের বালাই নেই। অনেকগুলি কৌতূহলী চোখ তাকে দেখছে, সামনে একটা পুকুর। সেখানে পানিতে ভাসছে লাল পদ্ম ফুল। আধ্যাত্মিক লোকটি ধ্যান করেই চলেছে, বহু বছর ধরে, সে ঐ পুকুর পারেই পাকুর গাছের নিচে পড়ে থাকে। সেই পাকুর গাছটি এখনও আছে, তার তলেই মাজার আর মাজারের উপরে ঝালর ওয়ালা লাল কাপড় এর আচ্ছাদন। কেউ নাম জানতো না বলে তার নাম দিয়েছিল ধ্যানা মিয়া। তার পা ছুঁয়ে এলে হাতের ব্যাথা ভাল হয়ে যায়, গায়ের ধূলো এনে লাগালে ভাল হয়ে যায় যুগ যুগের ঘা পাঁচড়া সব। সায়ানের ওসব বিশ্বাস না হলেও এসবই যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশ্বাস। হঠাৎ সায়ান দেখে সেই পুকুর এর ধারে দু’দল ব্যক্তিবর্গ পুকুর এর দখল নিয়ে মারামারি করছে। সেই প্রথম নাকি ধ্যান ভেঙেছিল ধ্যানা মিয়ার। চোখ খুলে মারামারি দেখে রেগ যান ধ্যানা; তার পর সবাই কে হাতে ইশারায় চলে যেতে বলেন। সকালে পুকুর টি দেখেতে পায় না কেউ আর, এক রাতেই ধ্যানা পীরের ক্রোধে জল শুকিয়ে ভরে যায় পুকুরটি, প্রতিটি পদ্ম ফুল হতে জেগে ওঠে এক একটা বড় বড় গাছ। সেই সব গাছই আজকের এই পার্ক এ নাকি দেখা যাচ্ছে। এসবই ধ্যানা মিয়ার ক্রোধের উপহার। পুকরের দখল নিতে আর কেউ কোনদিন আসেনি। ধ্যানার ধ্যানেও আর কোনদিন কোন বাধা পড়েনি।
পার্কটির সামনে ইংরেজী এল শেপের মত খানিকটা ফাঁকা জায়গা। এরই পশ্চিম পাশ দিয়ে ধ্যানার মাজারে প্রবেশের পথ, নকশা করা দেয়ালটা পার্ক আর মাজারকে পৃথক করে রেখেছে। এল শেপের অন্য প্রান্তে এককোনায় ছানা মিয়ার চায়ের দোকান। বেশ সুনাম ছানা মিয়ার চায়ের। অত্র এলাকার সকল কিশোর তরুণের আড্ডার হাতেখড়ি এই চায়ের দোকান আর পার্ক ঘিরেই শুরু হয়। এই রাস্তার মোড়টির আরেকটি বাড়তি সুবিধা আছে। সেটা উঠতি বয়সের ছেলেদের জন্য। এই রাস্তা ধরেই সকালে বিকেলে বড় রাস্তার গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের মেয়েগুলো যাতায়াত করে। কত যে প্রেমের শুরু এই স্থানেই আর কত যে পতনও এখানেই তার হদিস কেই বা রাখে। এত প্রাণ চঞ্চলতার মাঝে এখানে মারামারি আর খুন খারাবীর ইতিহাসও বেশ বড়। তবে ইদানীং পুরো বাংলাদেশের মত ছোটখাট মারামারি আর খুন টুন এখানেও কমেছে। সায়ান আগে এখানে খুব একটা দাঁড়াত না। ভার্সিটিতে ভর্তির পরই তার দাঁড়ানোর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত।
ডুবে যাওয়ার আগে সূর্য শেষবারের মত ভূবনের সাথে আলো বিনিময় করে নিচ্ছে। সেই পড়ন্ত বেলায় ছানা মিয়ার চায়ের দোকানের ডানে দাড়িয়ে আড্ডা রত পাঁচটি ছেলের মধ্যে আবীর নামের ছেলেটা পরপর দুটো অজ্ঞান পার্টির ঘটনা বলে গেলো। সব আড্ডাতেই কিছু লোক থাকে যারা কেবল বলতেই চায় আর অন্যরা বলার সুযোগই পায় না। তারা আবার সব জানে, যে বিষয়ই সামনে আসবে সে বিষয়ে তার অগাধ অভিজ্ঞতা।
.................................................

প্রকাশনীঃ শব্দশৈলী ( আরও পাওয়া যাবে মনন প্রকাশনীতে)
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০।
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×