ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যরা নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভিজিএফ কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন ধরণের সভা করেই কেটেছে তাদের ক্ষমতার পাঁচ বছর। এতে জনগণ ও তাদের প্রত্যাশার জায়গাটুকু অনেকাংশে শূন্য রয়ে গেছে। ফলে অনেক নারী সদস্যই পুনরায় ভোটে যেতে রাজী নয়। অনেকে তাদের অভিজ্ঞতায় বলেন, এ পদটি নামকাওয়াস্তে। জনগণও নারী সদস্যদের নিস্ক্রিয়তায় তাদের ওপর দার”ন নাখোশ।
এ সবের পেছনে রয়েছে নারী সদস্যদের কাজ না দেওয়া, অবমূল্যায়ন করা, ঠিকমত বেতন-ভাতা না পাওয়া, রাজনৈতিক চাপ, সকল মহলের কম বেশি অসহযোগিতা, তাদের ক্ষমতা স£úর্কে ধারণা না থাকা ইত্যাদি। এছাড়াও নারী সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাও তাদের নিষ্ক্রিয়তার উল্লেখযোগ্য কারণ।
নারী সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, তাদের বেতন-ভাতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রত্যেক কাজে সরকারিভাবে নারী সদস্যদের আরো সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল ও জনমুখী করে তোলা সম্ভব। সরেজমিন পরিদর্শনে নারী সদস্য, পুর”ষ সদস্য, চেয়ারম্যান, এনজিও কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, জনগণের সাথে আলাপে এ তথ্য জানা যায়।
জনগণের প্রত্যাশা : ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় নারী সদস্যদের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে এ আগ্রহ ছিল গ্রামের নারীদের। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, গ্রামের নারীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে না। তাই তাদের প্রতিনিধি দরকার। এ জন্য আমরা নারী সদস্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তারা আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করেন। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, গ্রামের নারীরা আমাদের কাছে ন্যায় বিচার, রাস্তা-ঘাট তৈরি, বিভিন্ন ভাতা ও রিলিফ চেয়েছিল।
জনগণের কাছে প্রতিশ্র”তি : নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় জনগণের কাছে কী কী প্রতিশ্র”তি ছিল এ প্রশ্নের জবাবে সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা আক্তার বলেন, আমার বাবা এক সময় এ ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ জন্য আমাকে কারো কাছে কোনো প্রতিশ্র”তি দিতে হয়নি। একই ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, ভোটের সময় আমাকে কোনো দিন ঘর থেকেও বের হতে হয়নি এবং আমি বেরও হয়নি। আমার স্বামী সব করেছেন। তাই কোনো প্রতিশ্র”তি দিতে হয়েছে কী না তা আমি জানি না। তবে প্রত্যেক নারী সদস্যই জানিয়েছেন নির্বাচনের সময় ভিজিডি, ভিজিএফ, রিলিফ এসব ঠিকমত বন্টনের প্রতিশ্র”তি দিয়েছিলেন।
প্রত্যাশা ও প্রতিশ্র”তি পূরণ
নির্বাচনে নারী সদস্যদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও সদস্যদের প্রত্যাশা পূরণ বিষয়ে অনেক নারী সদস্যই জানান, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা জানান, পরিষদের বরাদ্দ কম এ জন্য তিনি জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, মানুষের তো দাবির শেষ নেই, আমরা এতো দাবি মিটাবো কিভাবে? অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার জানান, নারী সদস্যদের তিন ওয়ার্ডে কাজ করতে হয়, আর পুর”ষ সদস্য এক ওয়ার্ডে কাজ করতে হয়। এ জন্য আমরা সব কাজ করতে পারি না। তিনি গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আবদুল্লাহ নায়েব সড়কের কিছু অংশ ইটের কাজ ও বাকিটুকু মাটি ভরাটের কাজ করেছেন। এছাড়া কিছু জনগণকে ভিজিএফ, ও ভিজিডি কার্ড দিয়েছেন।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা জানান, তিনি কী কী কাজ করছেন তা জানেন না। রাস্তার কাজ, কার্ড, রিলিফ বিতরণ এসব তার স্বামীই করেন। তবে গ্রামের কোনো নারী তার কাছে কোনো দরকারে এলে তিনি খাবার দাবার ডাল-ভাত খাইয়ে দেন।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছার স্বামী আবদুস ছোবহান জানান, তার স্ত্রী গত ৪ বছরে দু-একটা কার্ড বিলি ছাড়া আর কোনো কাজ করতে পারেনি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা জানান , তিনি এ নাগাদ বেশ কয়েকটি রাস্তার ও ওয়াপদার বেড়ির কাজ করিয়েছেন।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে নারী সদস্যরা মানুষের জন্য তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি। অথবা করেননি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, সংসারের কাজকর্ম করতে হয়, তাই গ্রামের নারীদের নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা, গণশিক্ষা কিংবা কোনো সচেতনতামূলক আলোচনাও করেননি। তবে একই ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, আমি গণশিক্ষার জন্য আমার এলাকায় একটি সমিতি করেছি। এখানে মাঝে মাঝে আমি বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নারীদের সাথে কথা বলি।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আরো একটি কারণ হলো এলাকার মানুষের অসহযোগিতা। এ বিষয়ে সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, নলুয়ায় রাস্তার কাজ করাতে গেলে মাটি কাটার কোদালের প্রতি কোপে টাকা চায়।
ফেনী দাগনভূঁঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য শাহেনা আক্তার গত চার বছরে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কাজ করতে পারেননি বলে জানান। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি কেয়ার বাংলাদেশের ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বৃক্ষরোপন ও ২৫ হাজার টাকার একটি কালভার্টের কাজ করিয়েছেন।
প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবার কারণ :জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হবার কারণগুলো হলো- চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতা, স্থানীয় লোকজনের অসহযোগিতা। ফেনী দাগনভূঁঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শনের সময় নারী সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতার কারণে তারা কোনো কাজ করতে পারেননি। অধিকাংশ নারী সদস্য জানান, তারা গত বছরগুলোতে ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ড বিতরণ ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। জয়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য আলেয়া বেগম বলেন, চেয়ারম্যানরা আমাদের কোনো কাজ দেয় না। নিয়ম মোতাবেক আমাদের মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান করে ঠিকই কিšদ আমাদের কাজ দেয় না। চেয়ারম্যান সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে নেয়। আমি ডিগ্রি পাশ। এ কারণে চেয়ারম্যানের সাথে অনেক তর্ক বিতর্ক করে দুটি কাজ করিয়েছি।
নারী সদস্যদের কাজ করতে না পারার আরো একটা কারণ হলো স্থানীয় লোকজনের অসহযোগতা। এ বিষয়ে সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা জানান, তাকে নলুয়ায় কাজ করাতে গিয়ে টাকা দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি ওয়াপদার আউটার বেড়ির কাজ পেয়েও তা করাতে পারেননি। পরে তিনি সে কাজটি আরেকজনের কাছে ৫০ হাজার টাকা লাভে বিক্রি করে দেন। এছাড়াও রয়েছে স্থানীয় পুর”ষ প্রভাব। কাজ ভাগের সময় পুর”ষ সদস্যরা অনেক সময় প্রভাব খাটায়। তারা চান এলাকার সব রকম উন্নয়ন কাজ নিজেরা করতে। এতে করে তারা জনগণের সবরকম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ: ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান নারী সদস্যদের অনেকেই আগামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান না। আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণ হলো, নারী সদস্যদের ক্ষমতা না থাকা, কাজ করতে না পারা, স্থায়ী চাকরির সন্ধান ইত্যাদি।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা জানান, তিনি আগামিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। কেন করবেন না জানতে চাইলে বলেন, আমি গ্রাজুয়েট। আমি স্থায়ী কোনো কাজ করব। ভালো চাকরি করব। মে£^ারি করা তো কোনো চাকুরি না। বেতন ভাতাও কম। তাই আগামীতে আর নির্বাচন করব না।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম, ফয়জুন নাহারসহ আরো অনেকে বলেন, তারা আগামী বছরও নির্বাচন করবেন। এটি হচ্ছে স£§ানী দায়িত্ব। তাই তারা আগামীতেও নির্বাচন করবেন।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা বলেন, আর নির্বাচন করব না। এখানে থাকলে মান ইজ্জত থাকে না। মানুষ মনে করে আমরা মানুষের টাকা পয়সা, সব খেয়ে ফেলছি।
জায়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য কামর”ন নাগার পাখি ও শাহেনা আক্তার জানান, আগামীতে আর তারা ভোট করবেন না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণ হিসেবে তারা বলেন, আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই। দায়িত্ব বুঝে দেয় নাই। তাই এ ভোট করে লাভ নাই।
সরেজমিন পরিদর্শনে বিভিন্ন এলাকার নারী সদস্যরা জানান, তারা অনেকেই আগামীতে ভোট করবেন না। এ বিষয়ে সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে নারী সদস্যদের যে দায়িত্ব তা ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে আরো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। একই কথা বলেন বাটইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন আলাউদ্দিন।
নারী সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে প্রশাসন, এনজিও, সমাজের বিভিন্ন অংশের ভূমিকা : নারী সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে প্রশাসন ও সমাজের নানা শ্রেণীর মানুষের ভূমিকা নামেমাত্র। তবে এ ক্ষেত্রে এনজিওরা কিছু কাজ করলেও তা খুবই সীমিত। দু একটি এনজিও বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য চিকিৎসা এ সব বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে নারী সদস্যদের সহযোগী হিসেবে রাখছে। আবার নারী সদস্যদের নিয়ে কাজ করতে গেলে সমস্যায়ও পড়তে হয় বলে জানান, অনেক এনজিও কর্মী। উন্নয়ন সংস্থা অর্পনের চিফ এক্সিকিউটিভ আব্দুল কাদের হাজারী বলেন, নারী সদস্যরা আদতে তাদের কাজের ধারা, ক্ষমতা এবং কোনো নিয়মকানুন স£úর্কে জানে না। তাদের নিয়ে কাজ করা আসলেই সমস্যা।
একজন উন্নয়নকর্মী বলেন, নারী সদস্যরা যে কাজই কর”ক সততার সহিত করে। তবে তাদের নিয়ে কাজ করতে গেলে দেখা যায় যে কাজ করার আগে তার স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এলআইএফডি এর প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর জানান, নারী সদস্যরা কাজ কর্মে খুবই ধীর। এজন্য তাদের কোনো কাজে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী সদস্য : অধিকাংশ নারী সদস্যই দায়িত্ব পালনে সচেতন নয়। সরেজমিন আলাপে দেখা যায়, অনেকেই তাদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে তা জানেন না। সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান বলেন, নারী সদস্যদের কী কাজ করতে হবে তা ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে উল্লেখ নেই।
ভোট অনুযায়ী বরাদ্ধ পান কী না জানতে চাইলে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, বাজেটের কোথায় কী পরিমাণ বরাদ্ধ থাকে তা আমরা জানি না। তাছাড়া বাজেট মিটিংয়ে উপস্থিত থাকি ঠিকই তবে তা নামে মাত্র।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, ভোটের সময় কিংবা ভোটের পরও আমি কখনো বোর্ড অফিসে যাইনি। কখন কী কাজ করতে হবে, কাকে কার্ড দিতে হবে, না হবে, এসব সিদ্ধান্ত আমার স্বামীই নেন।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, নারীরা নামেমাত্র সদস্য। বোর্ড অফিসে মিটিংয়ে যাই। কিšদ অধিকাংশ নারী সদস্যরই স্বামীরা তাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে। এতে করে সকল সিদ্ধান্তই মূলতঃ নারীরা নিতে পারে না।
ইউপি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বিষয়ে অশ্বদিয়ার নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, গ্রামের সালিশ দরবারে আমরা থাকতে পারি না। কেনো থাকতে পারেন না এ বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামের বেশিরভাগ সালিশ রাতে হয়। রাতের বেলায় আমাদের সালিশে থাকতে সমস্যা হয়।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছা বলেন, মিটিংয়ে দাওয়াত পাই ঠিকই কিšদ সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। গত চার বছরে আমি পুর”ষ সদস্যদের সমান ভিজিএফ কার্ড পেলেও চেয়ারম্যান আমাকে তা দেয়নি। চেয়ারম্যান এসব কার্ড রেখে দিয়েছেন।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা জানান, আইনী বাধ্যবাধকতা আছে বলে আমাদের অনেক প্রকল্পের চেয়ারম্যান করে ঠিকই। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা পারিবারিক কোনো বাধা আসে কী না জানতে চাইলে প্রত্যেকেই জানান, রাজনৈতিক বা পারিবারিকভাবে তাদের কোনো বাধার মুখোমুখি হতে হয় না।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছা জানান, তারা মিটিংয়ে যান ঠিকই কিšদ তাদের আলোচনার সুযোগ থাকে কম। আবার কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলেও পুর”ষ সদস্যরা তা মেনে নেন না।
সোন্দলপুরের ইউপি সদস্য মুনাফ জানান, নারী সদস্যরা মিটিংয়ে বসে বিভিন্ন বিষয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। আমাদের ইউনিয়নে মিটিংয়েঅংশগ্রহণ কিংবা মতামত প্রদানে নারী সদস্যদের কোনো সমস্যা না থাকলেও অন্যান্য ইউনিয়নে বিভিন্ন সমস্যা আছে।
বাটইয়া ইউনিয়নের একজন নারী সদস্যের ছেলে আলাউদ্দিন বলেন, অনেক মিটিংয়ে নারীদের ডাকাও হয় না। পরে চৌকিদার দিয়ে খাতা পাঠিয়ে নারী সদস্যের সাইন নিয়ে যাওয়া হয়।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্যা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমি যখন ভোটে দাড়াই তখন একজন হুজুর বলেছে আমার কবরে গেলে জায়গা হবে না।
সামাজিকভাবে নারী সদস্যদের প্রতি কিছু বাধা থাকলেও এখন তা নেই। ধীরে ধীরে এসব বাধা কমে আসছে।
বেশিরভাগ নারী সদস্য জানিয়েছে বিভিন্ন কাজ কর্মে পুর”ষ সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী সদস্য বলেন, সালিশে আমাদের কথা এলাকার গণ্যমান্যরা শুনে না। কিছু কিছু পুর”ষ মে£^ার আমাদের পেছনে লেগে থাকে যাতে আমরা কাজ কর্ম ঠিকমত করতে না পারি।
ইউপি কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ : ইউপি কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য হলেও অনেক নারী সদস্য জানান, ইউপি কার্যক্রমে তাদের তেমন অংশগ্রহণ নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ নারী সদস্যরই কোনো অংশগ্রহণ থাকে না।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, নির্বাচিত নারী সদস্য হিসেবে আমাদের যে সব সুযোগ দেবার কথা ছিল সরকার তা দেয়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে সোন্দলপুর, অশ্বদিয়া, বাটইয়ার অনেক নারী সদস্যই জানান তাদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌস সুলতানা বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আমাদের রাখা হয় ঠিকই। কিšদ আমাদের মতো বা সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা থাকে না। কোনো প্রকল্প এলে চেয়ারম্যান আর মে£^াররা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।
তারপর কাগজপত্রে ঠিক রাখার জন্য আমাদের মিটিংয়ে ডাকে। কিšদ কে কী কাজ করবে তা পুর”ষ সদস্যরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বলেও তিনি বলেন।
নারী সদস্যদের যোগ্যতা :সরেজমিন আলাপে দেখা যায় অধিকাংশ নারী সদস্যই খুবই কম শিক্ষিত। সাত জন নারী সদস্যদের মধ্যে একজন বিএপাশ, দুজন এসএসসি পাশ, বাকিরা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ। অনেক সদস্যই শুধু স্বাক্ষর করতে পারেন। এতে করে অনেকে ঠিকমত অনেক দরকারি কাগজপত্রও পড়তে পারেন না।
নারী সদস্যদের কাজের আগ্রহ :প্রত্যেক নারী সদস্যই কাজ করতে চায়। কাজ করার ব্যাপারে প্রত্যেকের আগ্রহও আছে। সোন্দলপুর ইউপির নারী সদস্য তাহমিনা বলেন, আমরা তো ভোটে জিতে এখানে এসেছি। আমরা কাজ করতে চাই। নইলে আমরা আবার মানুষের কাছে কিভাবে যাব। কিšদ দেখা গেছে অনেক নারী সদস্যই তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি। যেটুকু কাজ করছে তা ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
রাজনৈতিক প্রভাব: নারী সদস্যদের বেলায়ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছার কাছ থেকে জানা যায়, তার স্বামী বিএনপি করেন এ জন্য গত সরকারের আমলে কোনো কাজ পাননি। কিšদ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আর পরিষদেও যান না। কিšদ তার স্বামী যেহেতু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাই তার স্বামী যে কোনো কাজ মন্ত্রীর থেকে পাশ করিয়ে আনে। আবার সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য পরানী বলেন, এলাকায় কাজ করতে গেলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটে। যে কোনো কাজ করতে গেলে স্থানীয় বিভিন্ন দলীয় লোকজনকে টাকা দিতে হয়। নইলে কাজ করা যায় না।
সরকারি প্রকল্প বন্টন: সরকারি প্রকল্প বন্টনে নারী সদস্যদের ঠকানো হয়। সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, সরকারি বরাদ্দ তেমন আসে না। যা আসে তা পর্যায়ক্রমে সদস্যদের ভাগ করে দেওয়া হয়।
কিšদ অধিকাংশ সদস্যদের ভাষ্য তাদের ঠিকমত বন্টন করে দেওয়া হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী মে£^ার বল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




