ইদানীং সকালগুলোতে আমার এলার্ম ক্লক হিসেবে বিনা বেতনে চাকরী নিয়েছে দুটো উৎসাহী শালিক। তীব্র কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙ্গাচ্ছে প্রতিদিন এবং আমি খিস্তিখেউড়ে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে যাচ্ছি সূয্যিমামার। তবুও মামার বিকার নেই; নিয়মিত পূর্বে ওঠেন আর পশ্চিমে অস্ত যান। মাঝরাত্রির ঘামের কৃতিত্ব দিচ্ছি লোডশেডিংয়ের যা কিনা প্রত্যুষে উধাও হয় দোমড়ানো বেডশীটের শরীর থেকে; দুচোখ চুলকে সময়যাপনের দায় গায়েব করে দেবার দায়িত্ব দেয়া আছে শ্যাওলাধরা বাথরুমের উপরে। আড়মোড়া ভেঙ্গে শিরদাঁড়ার প্রত্যেকটা হাড় ভোঁতা আওয়াজে গতিময়তার আভাস দিলে খুশি হয়ে ওঠে দোমড়ানো সিগারেটের প্যাকেট কিংবা অমসৃণ লাইটার। মুখের বাসি গন্ধ আর পোড়া তামাকের তেতো ধোঁয়া মগজে বা যকৃতে তোলপাড় লাগিয়ে দিলে এলোমেলো পায়ে খোঁজ নেয়া যায় সুস্বাদু টুথপেষ্টের টিউব কিংবা মিনিয়েচার একটি ঝাড়ুর।
ডান বাম, উপর নিচ, ফ্লোরাইড কিংবা শাদা ফেনা ভাঙ্গাচোরা ছন্দে স্পর্শ ট্যাপের আমন্ত্রণ দ্যাখে আলস্যে। শীতল পানির ঝাপটায় অনিদ্রাসংক্রান্ত সমস্ত অনুযোগ লেজ তুলে পালায়। খোঁচা খোঁচা দাড়ির উপর আঙুল বুলিয়ে চেহারার মাপ নেয়াটা বাধ্যতামূলক হলেও আয়নাতে নিজের সাথে কথা বলি স্বেচ্ছায় সাধারণত। ঠিক যেমন আজকে বলবার পরিকল্পনা আছে,
"তোমার দৃষ্টি দেখে ভীষণ ভয় পাই..."
অতঃপর অট্টহাসি দেয়া বরাবরের মতো। অনুনাদে বাথরুম দমকে উঠলে ওতে চমকে গিয়ে শালিকরা পালায়। অবশ্য ওতে কোনরকম অপরাধবোধে ভোগা হয় নি কারণ শরতের বোনাস হিসেবে ওদের আমি দিয়েছি আধমুঠো বাসমতী চাল। ওরাও প্রতি সকালে ফিরে আসে আমার জানালায় অনুগত কর্মঠ চাকরীজীবিদের মতোন। বেসিনে কাটে না খুব বেশি সময়। যদিও প্রচলিত বিশ্বাসে হই বেশ কুৎসিতদর্শন কেউ তবুও দশ সেকেন্ডের বেশি আয়নায় নিজেকে দেখতে গেলেই নার্সিসাস বিষয়ক উপকথা স্মরণে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হই।
ভীষণ শত্রুতা আছে ক্যানো জানি ব্ল্যাক কফি আর চিনির মাঝে! একসাথে করে দিলে প্রত্যেকবার যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ছাড়ে আমার পাকস্থলীটাকে। একারণেই বহুদিন যাবৎ ওদের দেখা করাচ্ছি না; বরং কফি আর সিগারেটের শান্তিচুক্তিতে সুখে আছি। এতোক্ষণে গরম কালচে পানিটুকু গিলে নেই, দৃষ্টিতে সকালটা ঝকঝকে তকতকে হয়ে উঠলে কয়েক মিনিট বরাদ্দ করা থাকে ব্যালকনির জন্য; মৃতবৎ ক্যাক্টাস, ছলনাময়ী অর্কিড কিংবা পাশের দালানের শেডে বেড়ালের আদুরে লেজ সুখী দীর্ঘশ্বাসের গল্পটা দেখানোমাত্রই আমি কল্পনাপ্রবণ হই...
পৌষ আসতে দেরী বেশ, রোদ্দুরের সাথে বিশেষ সখ্যতা নেই। তবুও...
দ্বিপ্রহরের দ্বিধান্বিত প্রলাপগুলো এইমুহুর্তে একেকটা কবিতার লাইন হয়ে উঠছে চমৎকার!
-riz
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



