প্রাণখুলে হাসতে পারো,
তবে দূর্ভাষীদের শনাক্তকরণ চলছে ইদানীং; তোমাদের প্রবল অনাস্থা-জ্ঞাপনেও বদলাবে না কিছুই। যেমনটা বদলায়নি ঘোলাটে মেঘাচ্ছন্ন নাগরিক আকাশ কিংবা কুৎসিততম কর্দমাক্ত রাস্তাগুলো; এছাড়াও লোকমুখে শুনেছি শহুরে মেঘেরা খুব স্থিরচিত্তের অধিকারী। অথচ দ্যাখো! কি দারুণ সবকিছু রং হারাচ্ছে, তবুও কারো কোনো অভিযোগ নেই। ক্লীবদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তা নয় ঠিক, তবে স্বজনেরা এইভাবে প্রাগৈতিহাসিক ফটো-এলবামের ছবিগুলোর মত শাদাকালো হয়ে উঠলেই বিপত্তি।
পাত্তা দিচ্ছো না, তাই কি?
এই তো আজ সন্ধ্যেবেলায় এক শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সেলুনে গেলাম চুল কাটাতে; ওখানে শুভ্র তুষারপাত হচ্ছিল আর নরসুন্দরেরা হিরণ্ময় চিমটে হাতে দাঁড়িয়েছিল অপেক্ষামান। আমি শেষমেশ ঘাড়ের উপরের অংশটা ন্যাড়া করেই বের হলাম। একমনে বাতাস চিবাচ্ছি, অমনি চারপাশ প্রাচীন চলচ্চিত্রের মতোন শাদাকালো হয়ে গ্যালো! উদভ্রান্ত আমাকে এক সহৃদয় ছায়া সঠিক পথটা বাতলে দিলে হাজির হলাম শ্যাওলাগন্ধী কাঁচাবাজারের প্রান্তে। দেখি সেরদরে বিক্রি হচ্ছে রঙিন চশমা আর ডজনদরে আইরিস, খানিক মেদ আর হাজারকয়েক নিউরনের বিনিময়ে এক ঝুড়ি চশমা কিনে খোপে ফেরার পথে আকাশপানে চেয়ে দিব্যি দেখতে পেলাম তোমরা স্থবির মেঘের উপরে বসে ল্যাজ গুটিয়ে সবক'টা দাঁত কেলিয়ে হাসছো ভীষণ।
চোখ খোলা থাকলেও হাত-পা বাধা রয়েছে এখন, তাই কিনা এটা লিখছি। শেষ হলেই ভাঁজ করে উড়োজাহাজ বানিয়ে ওদিকে তাক করে ছুঁড়ে দেবো। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে নেতিয়ে না গেলে আমি নিশ্চিত, ঠিকঠাক পৌঁছে যাবে।
-রিজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




