somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হলুদ

১৮ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হলুদ কাপুরুষতার রঙ হতে পারে, এটা শেখা হয়নি কখনই। অথচ সবক'টা প্রচ্ছন্ন বিকেল, সন্ধ্যে পরবর্তী বিষণ্ণ মফস্বল, মৃত্যুর তীব্র গন্ধ ছড়ানো হাসপাতালের বেড কিংবা ডিটারজেন্টের খালি মোড়ক আমাকে শিখিয়েছিলো অন্যকিছু। পরিষ্কার যে দেবশিশুটি নিত্য আমার অস্তিত্বে পেন্সিলে এঁকে যায়, সেদিন সহসা ইরেজার ঘষে দিলো। যখন...

আমাদের ঘোলাটে এই মফস্বলের কোনো এক নিস্তেজ প্রান্তে কয়েক যুগ পুরনো পুকুরটার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলো হুট করেই। অকস্মাৎ বালু এসে তার বুক ভরে দিলে দু'রাত পরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ সেখানে ঠোঁটপালকসমেত গজিয়ে উঠেছিল একঝাঁক চিল। তাদের তীব্র ডানা ঝাপটানোর শব্দে ঝিমাতে থাকা ষ্ট্রিটল্যাম্প হ্যাঁচকা টানে জেগে উঠে আওড়েছিল হলদে অভিযোগ; চোখ পিটপিট করে চেয়েছিল নেশালু রাত ওতে...

ভীষণ অখেলোয়াড়সুলভ, দুইশত ফুট উঁচু কংক্রীট বৃক্ষের বীজ বপনের কারিগর, চৌকোণা ছক এঁকে যাচ্ছিল ফ্লুরোসেন্ট আলোয় সেই জলাশয়ের মৃতদেহে দ্রুতবেগে। সহস্র ঠোকরেও টলে নাই সে, টলে নাই বিলুপ্তপ্রায় শকুনের মতোন সেইসব অধিবাসীর অভিশাপে, যারা পুরনো গন্ধ দুহাতে আঁকড়ে বেঁচেছিল। এহেন অ-নাগরিক কার্যকলাপে ত্যক্ত কিছু ঠোঁট বিস্বাদ চায়ের কাপে প্রস্তাব হানলে পুকুরটির সৎকারের, ওতে সায় দিয়েছিল কেউ কেউ। রাতের তৃতীয় প্রহরে পরিকল্পনামাফিক শোক পরিধান করে হাজিরা দিতে গেলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখা গিয়েছিলো মেটে রঙের এক জীর্ণ চৌকিদার এবং স্ট্রিটল্যাম্পের অভিযোগী মিটমিটে হলদে আলো। আর দুটো পাথুরে তরুণও দেখা গিয়েছিলো; অবশ্য ওরা শিখে গিয়েছিলো সিরিঞ্জ এবং শরীরের সহজ সমীকরণ, নিথর তুফান। শুধু ঐ পাখিদের দেখা যায় নি, পরবর্তী বিকেলে কিংবা অন্য কোন দিন। অবশ্য লোকমুখে শোনা যায়,
সেই চিলেরা এখন কাকের ছদ্মবেশে শহুরে আকাশে ওড়ে।

[হলুদ]

জুন ১০, ২০১১
রিজওয়ান

ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৩৩
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×