somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক খানা সেমি রোমান্টিক গল্প

১১ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রনি ভাই,
এই গল্পটা আফনারে গিফোট করলাম।

কিঞ্চিৎ!

কিরে, কথা কছ না ক্যান? বিল উঠতিছে তো!
-না, তোর সাথে কোন কথা নাই।
ক্যা...ন কথা নাই?
-নাইতো নাই! আবার কি!
বললেই হলো? কিসের জন্য কথা নাই? ফাজিল!
- তুই ভালনা, এজন্য কথা নাই।
ওই, কে বলছে তোরে আমি ভালনা?
-তুই ফোন রাখ!
সুলতানা, ফাজিলের মতো কথা বলিস না। কথা শোন........
-বললাম না কথা বলবো না! তুই ভাল না! ফোন রাখ!
কিসের জন্য ভালনা বলবি তো? কি করছি তোর?
-কিছু করস নাই। এম্নিতেই কথা বলবো না।
সুলতানা, যা বলি শোন, তুই বিকেলে দেখা করবি।
-রঞ্জু, আমি কিন্তু ফোন রেখে দেবো। আমি দেখা করতে পারবো না।
১০০ বার পারবি। ১টা চড় দিলেই পারবি, ফাজিল! শোন, ৩ টার সময় দিলিপ স্যারের ওখানে যাবি, কথা আছে তোর সাথে। ঠিক ৩ টার সময় যেন দেখি!
-যদি না দ্যাখ তাইলে কি করবি? তোর সাহস ক্যামন জানিনা!
কি করমু শুনবি?
-শুনি...
এমন বাসা বাসবো জীবনে আর অন্য কোথাও যেতে পারবিনা।
-বাসবো মানে! ফাজিল! শোন রঞ্জু, বিকেলে বাসায় আসিস। সেই যে সম্বন্ধটার কথা বলছিলাম না; তারা বিকেলে আমারে দেখতে আসবে। ছেলের দুইটা সুন্দর বোনও আসবে। তুই সাজুগুজু কইরা আসিস। আমি নীল রংয়ের যে পাঞ্জাবীটা দিছিলাম ঐটা পইড়া আসিস।
-সত্য! সত্য সুলতানা! দুইটা বোন! দুইটাই আসবে! ওদের বয়স কত? লম্বা না খাটো? ফর্সাতো? পিছনটা ভারীতো...... সরি.. সরি.....সরি সুলতানা....... রাখি.........রাখি...........।


রঞ্জু সুলতানার বাসায় যায়নি। তার মন খুব খারাপ। মন খারাপ হলেই সে চিঠি লেখে। এখন লালদিঘির পাড়ে বসে সে সুলতানার বরাবর চিঠি লিখছে।

ডিয়ার সুলতানা,
তুই ওরকম বোকা হইছোস কিভাবে? আজকাল তোর মাথায় কোন কাজ করেনা? তুই জানাস না আমি তোরে ভালবাসি কি-না? সত্য ক, জানস না? আমি মুখ ফুইটা কইনাই সত্য কিন্তু এতবড় মেয়েরেও কি সব মুখ দিয়া বইলা বোঝান লাগবে? তোর মাথায় কি কোন বুদ্ধি নাই? তুই ক্যামেষ্ট্রিতে ফাস্ট ইয়ারে সেকেন্ড ইয়ারে পাস করছোস ক্যামনে? নকল টকল করস নাইতো?

তুই আমারে বিকেলে কোন জ্ঞানে বাসায় আসতে কও? যদি তোর বার্থডে পার্টি হতে সেইটা এক কথা। তোর জন্য ঘাস ফুল টাইপের ছোট খাটো কোন ফুল নিয়া আইসা অসহায়ের মতো কইতাম, “ বেকার মানুষতো তাই সস্তা ফুল নিয়া আসলাম। ’ তুই ফুল গুলো খোপায় তুলতে তুলতে বলতি, “ দেখি স্বকার হয়ে উনি কোন ফুল আনেন! ’
তুই সেইটা না কইরা তোরে ছেলে প দেখতে আসবে সেখানে আমারে পাঞ্জাবী পরে যাইতে কস! আসলেই তোর মাথায় কিচ্ছু নাই!

সুলতানা, বসন্তে লাল দিঘির পাড়ে কেমন বাতাস ভালইতো জান! আমি এই বাতাসে তোরে ম্যাসেস না লিখে কিভাবে টিকবো বলতো? বসন্তের এখনো কতগুলো দিন বাকী। এই দিনগুলোতে আমি একলা একলা কি করবো তুইই ক। বসে বসে মশা মারবো? ফাজিল মেয়ে!

শোন, তোর যেথায় ইচ্ছা যা, যাওয়ার আগে আমার বেড রুমের জানালাটা আটকে দিয়ে যাবি। তোর কথা মতো ঐ জানালাটা করছি। আমার জমানো ১৭০০ টাকা খরচ গেছে ওর পিছনে।
“রঞ্জু, বসস্ত আসতিছে, তোর এইখানে যদি একটা জানালা থাকতো রাতে হেভী মিষ্টি বাতাস আসত!’’ কত মিষ্টি কথা! ফাজিল, তুই গেলে সেই মিষ্টি বাতাস দিয়ে এখন কি করমু? আগে তো মনে হতো তুই জানালার পাশ থেকে হেটে যাচ্ছিস বলে বাতাস হচ্ছে আর এখনতো মনে হবে বোতল শয়তান মুখ বড় করে ‘ফুঁ’ দিচ্ছে। হাসিস না ফাজিল, বড় হইছোস ঠিকই, মাথায় কোন বুদ্ধি হয় নায়।’’


হঠাৎ সুলতানা ফোন করায় লেখা বন্ধ করতে হলো। রিসিভ করতেও ইচ্ছা করছেনা এই মুহুর্তে। তারপরও কি-না-কি ভেবে ফোন রিসিভ করলো।

বল!
-ঐ ফাজিল! কৈ তুই? লাল দিঘির পাড়ে? অভিমানে গেছে নাকি ম্যাসেজ লিখতে?
না, এম্নিতেই। কী বলবি বল ফাজিল!
-আমি ফাজিল না তুই ফাজিল? আমারে দিলিপ স্যারের কাছে আসতে বইলা তুই লালদিঘিতে গ্যাছস ক্যান?

রঞ্জু খাতা কলম গুছিয়ে দাড়ালো।
তুই কই সুলতানা?
আমিতো স্যারের কাছে সেই কখন থেকে বইসা আছি। জলদি আয়, দারুন খবর আছে। আজকে তোর বাসায় থাকবো কিন্তু।
রঞ্জু হাটা শুরু করল।
ক্যান কি হইছে?
অনেক কিছু হইছে। আমারে আর ঘরে উঠতে দেবেনা মনে হয়। বারান্দায় মেহমাদের বসা দেখে আমি পিছনের দরজা থেকে কাউরে না বইলা চইলা আসছি। হেভি হেভি অনেক কথা আছে, তুই জলদি আয়।

রঞ্জু ফোন রেখে আবার চিঠি লিখতে বসলো।
‘সুলতানা, আমারে মাফ কইরা দে। আমি ভুলে তোরে বোকা কইছি। তুইতো বোকা না। তোর মাথায় হেভী বুদ্ধি। তোর বুদ্ধিটারে আমি সেলূট করলাম।’

রঞ্জু কপালে হাত তুলে সুলতানা উদ্দেশ্যে সেলুট করল।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×