somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়তু শিখুআন্টি

৩১ শে অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের পাশের বাসার শিখু আন্টি, অসাধারণ মানুষ। এই বাসায় এসেই শুনেছিলাম গৃহিনী হিসেবে যতটা অলক্ষী হওয়া যায় তিনি পুরোপুরি তাই। কথাগুলো বলেছিলেন আন্টি স্বয়ং! কিচ্ছু রান্নাবান্না জানেন না, ঘরদর খুবই অগোছালো করে রাখেন-- এতটাই বেশি অগোছালো যে আমার মা'কে প্রথম দেখায় বলেছিলেন, "ভাবী, আমার বাসায় যাবার আগে অ্যাভোমিল ট্যাবলেট সংগে করে নিয়ে যাবেন, নইলে অগোছালো দেখে বমি আটকাতে পারবেন না!" আমরা শুনে হাসতে হাসতে শেষ।

ক'দিন যাবার পর দেখা গেলো ঘটনা মোটেই এমন নয়। বাংলাদেশের মহিলারা যেখানে সাধারণত যা জানেন তার'চে কয়েকগুন বাড়িয়ে নিজের গল্প করেন, সেখানে আন্টি বরং নিজের সম্পর্কে বাড়িয়ে খারাপ বলতে আরো মজা পান। রান্নাবান্না তিনি বেশ ভালোই জানেন, তবে খুবই অসুস্থ থাকেন বলে চাচা (মানে তার স্বামী) এবং মেয়ে অনেক সাহায্য করেন, এটা ঠিক। ধীরে ধীরে যে ব্যাপারটা জেনে আমি সবচেয়ে অবাক হলাম তা হলো তার আশ্চর্য শিল্পী মন। তাদের পুরনো অ্যালবাম দেখতে গিয়ে কিছু মাঝারি সাইজের ভাস্কর্য দেখে জিগগেস করতেই তিনি লজ্জা লজ্জা মুখে বললেন, "এগুলো আমার করা"। আমি তো হা! কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া স্রেফ নিজের মনের মত করে কি চমৎকার করে যে সেই কাজগুলো করা হয়েছিলো!

বাংলাদেশের খুব বিখ্যাত একটা পরিবারের মেয়ে শিখুআন্টি। সেই নিয়ে কখনও এক বিন্দু অহংকার করতে তাকে কখনও দেখিনি। শুধু ভীষন সহজ-সরল আর পাগলাটে স্বভাব দেখে সমীকরণ মিলিয়েছি। আজকে সন্ধ্যায় খুব হৈ চৈ করে আমাদের বাসায় এসেছেন। হাতে অসাধারণ এক শিল্প! বরফের ভেতরে আস্ত ফুল এবং সেই বরফ চাকতির মাঝে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসানো। কি আশ্চর্য সুন্দর যে লাগছিলো! আমরা হা করে তাকিয়েই আছি, আর আন্টি বলে যাচ্ছেন, "হইছে, আর এমন করে দেখতে হবে না... সাধারণ ব্যাপার তো। ঈদের সময় আনা ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যেতো, তাই মাথায় বুদ্ধি এলো, একটা বাটিতে এরকম করে পানির মধ্যে রেখে বরফ বানিয়ে ফেললাম। মাঝখানে ফাঁকা রেখেছিলাম মোমবাতি বসাবো বলেই।"

নিজের বাসায় খুব একটা পাত্তা তিনি আজ পান নি, এরকম অনেক কিছু অহরহই করেন তো! তাই আমাদের কাছে রেখে গেছেন। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতে দেখতে ভাবছি, জয়তু শিখু আন্টি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৫৮
২৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×