কবি ও কবিতা - ৫
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:১৯
ইউসুফের নির্যাতন
বনের অন্তরে যদি গেলা ভ্রাতৃগণ।
ইছুফক প্রহার করিতে হইলা মন।।
কোহ্ন ভাই করাঘাত অঙ্গেতে মারিল।
কেহো দুষ্ট বাণী বলি কর্ণ মোচরিল।।
কেহো মারিলেন্ত ঠেলা মারিয়া চাপড়।
একে একে কাড়ি লইল গায়ের কাপড়।।
কোহ্ন ভাই ক্রুদ্ধ হই মারে অনুরাগে।
আর ভাই নিকটে যায়ন্ত দয়াভাগে।।
সেহো ভাই ঠেলা দিয়া ফেলে একপাশ।
আর ভাই কাছে গেল হইয়া হতাশ।।
সেহো ভাই নিদয়া হৃদয় হইয়া মারে।
আর ভাই নিকটে জায়ন্ত বস্ত্র কাড়ে।।
কোহ্ন ভাই মায়া নাহি সবে মারে বেড়ি।
কান্দিতে লাগিলা তবে বাপ অনুস্মরি।।
হাহা পিতা তুমি মোর প্রাণের দুর্লভ।
তুমি জীবমানে মোর এতেক লাঘব।।
যার যথ আছে ক্রোধ সব উদ্ধারিল।
মন্দ ছন্দ বলি তানে বহুল মারিল।।
কোহ্ন ভাই বলে তার লইব পরাণ।
কোহো বিমরিষ মতি কেহো ক্রুদ্ধমান।।
জ্যেষ্ঠ ভাই বলে এহি নবীর সন্ততি।
প্রাণে মারিবারে তাক ন আইসে যুকতি।।
কবি পরিচিতিঃ
নামঃ শাহ্ মুহম্মদ সগীর
জন্মঃ আনুমানিক ১৪শ শতক।
মৃত্যুঃ আনুমানিক ১৫শ শতক।
বাঙলার মুসলমান কবিদের মধ্যে শাহ্ মুহম্মদ সগীর প্রাচীনতম। তাঁর কাব্যের নাম “ইউসুফ-জুলিখা”। সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪১০) কাব্যটি রচিত হয়। কবি ছিলেন সুলতানের একজন রাজকর্মচারী। কাব্যরস পরিবেশন অপেক্ষা ধর্মীয় প্রেরণা সৃষ্টির প্রতিই কবির অধিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সে যুগে দেশী ভাষায় রসাশ্রয়ী ধর্মকাহিনী রচনা করার মধ্যে কবির সৎসাহসের পরিচয় মেলে। বাইবেল-কুরআন কিংবা ফিরদৌসী-জামীর অনুসরণে কাহিনী-কাব্যটি কল্পিত হলেও তাতে বাংলাদেশ ও বাঙালী-জীবনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। “ইউসুফের নির্যাতন” কবিতাটির উৎস : মধ্যযুগের কাব্য-সংগ্রহ। সম্পাদনা: আহমদ শরীফ।
সহায়ক গ্রন্থঃ বাংলা সাহিত্যের কথা (২য় খন্ড): মুহম্মদ শহীদুল্লাহ; মুসলিম বাংলা সাহিত্য: মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: ওয়াকিল আহমদ।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কবি ও কবিতা বিভাগে ।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন:
+
মাহমুদুল হক ফয়েজ বলেছেন:
খুব ভালো লাগছে। আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এ থেকেই বুঝা যায়।খুবই ভালো পোষ্ট্
ধন্যবাদ।
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন:
মন্তব্যের জন্যে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের মন্তব্য পেয়ে খুব উৎসাহিত বোধ করছি। আর তাই পরবর্তী কিস্তি আজই পোস্ট করলাম। সবাই ভালো থাকুন।



















ভালো একটা কাজ করলেন ভাই। ধন্যবাদ।