somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধ্বংসের পাটাতনে (শেষ খন্ড)

২৩ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জঙ্গলের আবছায়ায় পেট খালি করে সে। আঃ! শান্তি! তখনই বেজে উঠে সুরটা- একটানা একঘেঁয়েভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদে মরে, “বৈদেশ গেলে আমি তোমার সংগ ছাড়ুম না রে- সংগ ছাড়ুম না।” হায়রে নিরঞ্জন- কেউ তার সংগ ছাড়ল না; না চন্দ্ররাত, না পুকুরপাড়, না বাঁশি- সঙ্গ ছাড়ল বনমালীর রাধিকা- যার জন্য এত সুর, এত কান্না, ইনিয়ে-বিনিয়ে বাঁশির রোদন; সাহা বাড়ির মাধবী। আহারে! কত রাত ধরে মেয়েটা কেবল শুনেই গেল, শুনেই গেল- রাধিকা হয়েছিল একদিন; গভীর রাতে ছুটে বেরিয়েছিল প্রায়। শেষরক্ষা হয়নি আর- মায়ের হাতে ধরা। সব্বোলাশ! উঠতি মেয়ে- বাঁশিতে পায়িছে। আল ঘলে লাখা যাবি লা। -তারও সপ্তাহ্ দুয়েক পরে পালকিতে চেপে মেয়েটা অন্যজনার। নিরঞ্জনের বিরাম নেই। -এ এক নেশা; এক মোহ- বাঁশির মোহ- রাতের মোহ- চাঁদের মোহ- খালিগায়ে কাঁপন ধরানো শিরশিরে বাতাসের মোহ। পুকুরের জল টলটল, ধারটাতে হাস্নাহেনার ঝাড়- এক উগ্র ধরণের মিষ্টি গন্ধে পরিবেশটা আরেকটু ভারী, আরেকটু স্বপ্নীল- এর কোনটাকে অস্বীকার করবে সে! হয়তো এর পুরোটাই স্বপ্ন- উগ্র ধরণের মিষ্টি স্বপ্ন; চোখে জ্বালা ধরানো চাঁদ, বুকে ব্যাথা জাগানো বাঁশি, গায়ে কাঁপন ধরানো ঝিরঝিরে হাওয়া, মস্তিষ্ক ভারী করে তোলা উগ্র ধরণের হাস্নাহেনা- চাঁদটা আরেকটু পষ্ট হলে বাঁশিটা আরেকটু করুণ, আরেকটু গভীর- সুরটা তাকে চেপে ধরে; বুকের গভীরতম সূক্ষ প্রদেশে নিজের অজান্তে লালন করে চলা একটি স্থির চিত্র ছিন্ন-ভিন্ন-বিদীর্ণ করে তোলে- একান্ত ব্যক্তিগত একটি। না! কিছুই হওয়া গেল না জীবনে- না কেষ্ট, না মধাব; অন্ততঃ গোষ্ঠের রাখাল হলেও- হায়রে কেষ্ট; বুকের ভেতর কি ব্যাথাটাই না ছিল তার- অনেক বেশি- বাঁশির সুরে ঝরে ঝরে পড়ত- ছুটে বেড়াত দিগবিদিগ- কিছুটা ভালবাসা সেখানে; রাধা কিভাবে সইবে এত! আর এখানে, কোন দূর পাড়াগাঁয়ে এক মধ্যবয়সী দোকানদারের ঘামে ভেজা লোমশ বুকের নিচে একজোড়া শক্ত বাহুর পিঞ্জরে বন্দী তার রাধা। লোকটা সব খেয়ে নিল তার- বুক-গলা-পেট-হাত-পাও- সব। লোকটা ঠোঁট খেল তার, বাতাবি লেবুর কোঁয়ার মত বাঁকা-বাঁকা ঢেউ খেলানো ঠোঁট দুটো; এমনকি কানদুটো- খাবেই তো। কান থাকলে মেয়েটা বাঁশি শুনবে, ঠোঁট থাকলে বলতে চাইবে, পা থাকলে ছুটে আসবে- এত করতে দেওয়া হবে কেন ওকে! জানে না সে; কিছুই না। নেশায় পেয়েছে ওকে; তীব্র নেশা। নেশায় পেয়েছে রসুলকেও- ধীরে ধীরে সে এগিয়ে চলে; জঙ্গল থেকে বেরিয়ে বিশাল ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে সাপের মত একেবেঁকে চলা আল ধরে- নিরঞ্জন তখনো আধামাইল দূরে; তবে, সুরটা- ওর বাঁশিটা; অনেক কাছে- বুকের ঠিক অন্তঃস্থলে- সে ক্রমাগতই এগিয়ে চলে। আরো কিছুটা; আকষ্মাৎ অন্যরূপ- তার ঠিক পিছন পিছন কে বা কারা! ভেজা ঘাসের উপর সমবেত পদশব্দ- থপথপ, খসখস; আরেকটা মৃদু গুঞ্জন- প্রচন্ড ভয়ে তার শিরদাঁড়া কেঁপে কেঁপে উঠে। পিছনে তাকিয়ে দেখার সাহস হয় না আর- ঝেড়ে দৌড় দিবে না কি? সহসাই তার জটিল ভাবনা-চিন্তার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পায় সে- কিছু বুঝে উঠার আগেই, ধপ্- কেউ একজন সজোরে মাথায় মেরে বসে তার। সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে এবং উঠে দাঁড়ানোর আগেই শক্ত কতগুলো হাত মাটিতে চেপে ধরে- চিৎ করে; এবার সে দেখতে পায় তাদের- চাঁদের রঙের পোষাক সবার; একই ধারার দাঁড়ি- এ যে হাজারখানা গফুর; হাতে তাদের লম্বা তলোয়ার- চাঁদের আলোয় চকচকিয়ে উঠে। এখানে রসুল কোরবানির গরুর মতন- চেয়ে চেয়ে দেখে; আকষ্মাৎ আর্তচিৎকার- প্রচন্ড রকমের; বাঁশির আওয়াজ ছাপিয়ে, আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে- তারা যেমন এসেছিল তেমনি চলে যায়।

অনেকটা ধ্বংসের পাটাতনে যখন অমানিশা; দৃশ্যটি চিতল মাছের মত ভুস্ করে রসুলের স্মৃতির পর্দায় ঘাঁই দিয়ে উঠে। একগাদা কিলবিলে শরীর, হাঁড়ে-হাঁড়ে ঠকঠক, পায়ে পায়ে থপথপ-। উপরে গোল একটা চাঁদ, নিচে মাতাল বাঁশির সুরÑ সবুজ ঘাসের বুকে একরাশ লাল রক্তের উষ্ণতায় তড়পাতে তড়পাতে তাদের কোনটাই উপভোগ করা হয়ে উঠেনা তার।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৪৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×